রাজধানীতে বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েন নিম্ন আয়ের লোকজন
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত কয়েকদিন ধরে হালকা থেকে মাঝারি, কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। বুধবার সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ঈদে ঘরে ফেরা মানুষ বেশ ভোগান্তিতে পড়েন। থেমে থেমে বৃষ্টির এই ধারা চলবে আরও কয়েকদিন। আগামী চারদিন অর্থাৎ রোববার পর্যন্ত বৃষ্টি ঝরবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ বৃহস্পতিবার ঈদের দিনও নামবে বৃষ্টি।
পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে ঈদের পরও তিন-চার দিন বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ জানান, ঈদের দিন বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। দুপুরে আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যা বা রাতের দিকে ফের নামতে পারে বৃষ্টি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
শুক্রবার ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
শনিবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।
রোববার চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায়; ঢাকা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
কর্নেল (অব.) অলি আহমদ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
বেলা ১১টার দিকে নির্বাচন ভবনের সিইসির সভাকক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অলি আহমদের নামে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, একটি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হওয়ায় অপরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য ভোটার। তাদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এটি বৈধ ঘোষণা করেন।
নির্বাচন ভবনের সিইসির সভাকক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় বিএনপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, একটি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হওয়ায় অপরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদকক্ষে এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ভোটার কেবল সংসদ সদস্যরা। তাদের প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার আবারও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে ভারতের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দেশটির আদালত। এটি রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে না।
ভারতের একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ভারতের আদালতই নেবে। আদালতের প্রক্রিয়ায় মূলত যাচাই করা হবে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে যে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না।
আরেক ভারতীয় কর্মকর্তা বলেছেন, শেখ হাসিনা নিজেই চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। গত ৫ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে কবে দেশে ফিরতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ডিসেম্বরকে বিজয়ের মাস উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে চান।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর দল আওয়ামী লীগও নিষিদ্ধ রয়েছে।
ভারতের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধকে দিল্লি ও ঢাকার বর্তমান কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে সরে এসে বিষয়টির সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এর আগে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুরোধ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র বলেছিলেন, বিষয়টি নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে পাঠানো অনুরোধের সঙ্গে ২০১৩ সালের দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব আইনি নথি সংযুক্ত করা হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে ঢাকায় গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে প্রায় দুই বছর ধরে শেখ হাসিনা নয়াদিল্লির একটি গোপন স্থানে আশ্রয় ও নিরাপত্তায় রয়েছেন। গত ৫ আগস্ট রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশে ফেরার বিষয়ে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।
আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, ভারতে আশ্রয়ে থাকার সময়ও শেখ হাসিনা বাংলাদেশে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। মাঝে মাঝে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকও করেছেন। অবসর সময়ে নিয়মিত টেবিল টেনিস খেলেন বলেও তাঁরা জানান। ৭৮ বছর বয়সী এই নেত্রী বছরের শেষ দিকে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা করছেন বলেও তাঁরা দাবি করেন।
এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে’ দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ওই রায়কে ভিত্তি করেই ঢাকা তাঁর প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের ওপর চাপ দিয়ে আসছে।
তবে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ভারতে যদি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে আদালতীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওই রায়কে বিভিন্ন আইনি কারণে চ্যালেঞ্জ করা হবে। তাঁদের অন্যতম যুক্তি হবে, রায়টি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেওয়া হয়েছিল এবং তখন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস।
২০১৩ সালে ভারত ও বাংলাদেশ একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি সই করে। ওই চুক্তিতে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, দোষী সাব্যস্ত হওয়া অথবা আদালতের দেওয়া সাজা কার্যকর করার জন্য তাঁকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রত্যর্পণযোগ্য কোনো অপরাধের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের বিচারিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণের অনুরোধ গ্রহণ না করার কথা বলা হয়েছে। তবে হত্যা, অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার, হত্যায় প্ররোচনাসহ ১২ ধরনের অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না বলেও সেখানে উল্লেখ রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনও গুরুত্বপূর্ণ। ওই আইনে ভারত থেকে পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, প্রত্যর্পণসংক্রান্ত বিষয় দেখভালের জন্য ভারতের কনস্যুলার, পাসপোর্ট ও ভিসা বিভাগ নোডাল দপ্তর হিসেবে কাজ করে। সংশ্লিষ্ট প্রত্যর্পণ চুক্তি বা ব্যবস্থার বিষয়গুলো বিবেচনা করে ভারত সরকার প্রয়োজন মনে করলে মামলাটি তদন্তের জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে পারে।
তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অনুরোধকারী দেশের কাছে হস্তান্তরের মতো যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে, তাহলে তিনি তাঁর প্রতিবেদনে প্রত্যর্পণের সুপারিশ করতে পারেন। অন্যদিকে তদন্ত শেষে যদি ম্যাজিস্ট্রেট মনে করেন, বিদেশি দেশের অনুরোধের পক্ষে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট মামলা তৈরি হয়নি, তাহলে তিনি ওই পলাতক ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে পারেন।
ফলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ এখন শুধু দুই দেশের সরকারের কূটনৈতিক আলোচনার বিষয় নয়। শেষ পর্যন্ত ভারতের আদালতের আইনি প্রক্রিয়াই তাঁর প্রত্যর্পণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ছবি : সংগৃহীত
দুপুরের মধ্যে দেশের ৬ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব এলাকার নধীবন্দরকে ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অঞ্চলগুলো হলো- খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার।
পূর্বাভাসে বলা হয়, এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধনসহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, সকালে সড়কপথে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সকালে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। তিনি সড়কপথে যাবেন। সেখানে কটিয়াদি উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নে জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধনসহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন।’
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কিশোরগঞ্জে এটি তার প্রথম সফর।
মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু জানান, প্রধানমন্ত্রী রোববার কিশোরগঞ্জ থেকে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এবারে এই দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, ‘রুপালি মৎসে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১১টায় পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় ব্রক্ষপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। এরপর সাড়ে ১২টায় কটিয়াদি কার্ড হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন।
দুপুর ১টায় আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও জাতীয় মৎস্য পদক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আড়াইটায় শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটে সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেল ৪টায় পুরাতন কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিত-ভিক্ষু-পার্দীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মানি প্রদানের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন।’
সূত্র: বাসস
রাখাইনে ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা
মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আবারও 'বাঙালি' দাবি করে নতুন একটি বিবৃতি দিয়েছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ব্যক্তিদেরই ফেরত নেওয়া হবে বলে এতে বলা হয়েছে।
মিয়ানমারের দেওয়া ওই বিবৃতিতে রাখাইন রাজ্যের "নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে" বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে থাকা তিন লাখের কিছু বেশি 'বাস্তুচ্যুত' মানুষকে ফিরিয়ে নিতে ইচ্ছুক হওয়ার কথা যেমন বলা হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া তালিকায় যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে- তা নিয়ে আপত্তিও জানিয়েছে দেশটি। এছাড়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে 'বাঙালি' হিসেবে উল্লেখ করে মিয়ানমার দাবি করেছে, যে জাতিগত নামে (রোহিঙ্গা) তাদেরকে পরিচয় করানো হচ্ছে সেই নামে কোনো গোষ্ঠী দেশটিতে নেই।
মিয়ানমারের এই বিবৃতি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি বাংলাদেশ। তবে বিবৃতিটিকে পুরোনো কৌশলের পুনরাবৃত্তি হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বিবৃতিতে যে-সব ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তার মাধ্যমে কেবল নিজস্ব ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে মিয়ানমার। একইসঙ্গে, এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আবারও আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হলো বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।
বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে শনিবার একটি বিবৃতি দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যেখানে দাবি করা হয়েছে যে, এই ইস্যুতে গণমাধ্যমে "একপেশে, ভুল তথ্য ও অপতথ্য" প্রচার করা হচ্ছে। তাদের জাতিগত পরিচয় নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি দেশটির।
তারা বলছে, অন্যান্য দেশে যাওয়া ব্যক্তিদের "মিয়ানমারে কখনো না থাকা একটি জাতিগত পরিচয়" দিয়ে পরিচিত করা হচ্ছে। "বাংলাদেশের ক্যাম্পে থাকা সবাইকে মিয়ানমারের বলে প্রচার করা হচ্ছে। অন্যান্য দেশে যাওয়া ব্যক্তিদের- মিয়ানমারে কখনো না থাকা একটি জাতিগত পরিচয় দেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে," বিবৃতিতে উদ্বেগ জানিয়েছে মিয়ানমার। এছাড়া বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে সমাধানের বিষয় হলেও এটিকে আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মিয়ানমারের দাবি, ২০১৬ সালের অক্টোবর-নভেম্বর এবং ২০১৭ সালের অগাস্টে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে আরসা "সন্ত্রাসী গোষ্ঠী" পুলিশ ফাঁড়ি ও ব্যাটালিয়নে সমন্বিত হামলা চালায়। যার "প্রতিরক্ষামূলক জবাব" হিসেবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালায় দেশটির রাষ্ট্রীয় বাহিনী। আরসার হুমকির কারণে স্থানীয় জাতিগোষ্ঠীর মানুষ অন্য শহর ও গ্রামে চলে যায়, আর "বিপুল সংখ্যক বাঙালি" বাংলাদেশে পালিয়ে যায়।
মিয়ানমারের দাবি, আরসার হামলার আগে বুথিদং, মংডু ও রাথিডং টাউনশিপে সাত লাখ ৪০ হাজারের বেশি "বাঙালি" বসবাস করত। ঘটনার পর সেখানে দুই লাখের বেশি থেকে যায় এবং ৫ লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশে চলে যায়। এই হিসাবের ভিত্তিতে মিয়ানমারের দাবি, "রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত" — এই তথ্যটি সঠিক নয়।
বিবৃতি অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুতদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তিনটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করেছে মিয়ানমার। চুক্তি অনুযায়ী তিন দফায় তাদেরকে ফেরত নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও "একজনও" ফেরত যায়নি বলে দাবি করেছে নেপিদো। বাংলাদেশের দেওয়া আট লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকার মধ্যে ২০২৬ সালের ৩১শে জুলাই পর্যন্ত মিয়ানমার চার লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনকে যাচাই করেছে। যার মধ্যে তিন লাখ আট হাজার ৭৯৭ জন রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা বলে প্রমাণিত, চার হাজার ২৪১ জন "সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত" বলে চিহ্নিত এবং এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। যাচাই হওয়া বাস্তুচ্যুতদের দ্রুত ফেরত নিতে "আন্তরিক সদিচ্ছা" নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে মিয়ানমার।
তারা বলছে, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হলে যাচাই হওয়া রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দাদের গ্রহণ করা হবে। মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতির প্রেক্ষিতে শনিবার রাত পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি বাংলাদেশ। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
পুরোনো কৌশল
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনাবাহিনীর নির্যাতনে মুখে প্রায় সাড়ে সাত লাখের মতো রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। এর আগে ও পরে বিভিন্ন সময় আরও প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে। গত ২৮শে এপ্রিল জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ ৮৯ হাজার।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমারের তৎকালিন বেসামরিক সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ একটি চুক্তি করেছিল, যার মধ্যস্থতা করেছিল চীন। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ১৫ই নভেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটিকে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি আর বাস্তবে আলোর মুখ দেখেনি। এরপর ২০১৯ সালে অগাস্টে চীনের তরফ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর আরেকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু নাগরিকত্বের বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় যেতে চায়নি।
২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আট লাখ রোহিঙ্গার একটি তালিকা মিয়ানমারকে দিয়েছিল বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দ্বি-পাক্ষিক, বহুপাক্ষিক আলোচনা এবং সমঝোতার চেষ্টা হয়েছে একাধিকবার। কিন্তু তাদের নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার প্রসঙ্গ আলোচনায় এলেও বাস্তব রূপ পায়নি। এবার যে বিবৃতি মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিয়েছে, সেটিকে সময়ক্ষেপণের পুরোনো কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশ যে অবস্থান তৈরি করেছে, তার বিপরীতে নিজেদের একটি পাল্টা অবস্থান এই বিবৃতির মাধ্যমে তৈরির চেষ্টা মিয়ানমার করেছে বলেও মত অনেকের। মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম বলছেন, অতীতে নানাভাবে সময়ক্ষেপণের যে চেষ্টা মিয়ানমারের ছিল, এবারও সেই পথেই হেটেছে তারা।
তিনি বলছেন, অতীতেও বাংলাদেশ যখন আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের তালিকা পাঠিয়েছিল, তখনও সেটি নিয়ে যাচাইবাছাইয়ের নামে সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছিল মিয়ানমার। "অতীতে যখন তারা প্রত্যাবাসনে রাজি হলো তখনও এমন একটি সংখ্যা তারা উল্লেখ করেছিল। যেখানে একই পরিবারের দুইজনকে হয়ত বৈধ বলেছে, আর একজনকে বলেছে অবৈধ। অর্থাৎ বাবাকে নিচ্ছে, মা বাদ; আবার মা-বাবা বৈধ, কিন্তু সন্তান বাদ। এরকম একটা দুষ্টু বুদ্ধির কারণে পরে আর রিপাট্রিয়েশন হয়নি," বলেন তিনি।
এবারও মিয়ানমার সেই কৌশল নিয়েছে বলেই মনে করেন বিশ্লেষকদের অনেকে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক পরিসরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিয়ে নিজেদের অবস্থানও মিয়ানমার প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে বলে মনে করেন শরণার্থী বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর। তিনি বলছেন, "আন্তর্জাতিক পরিসরে রোহিঙ্গা ক্রাইসিস সমাধান নিয়ে যে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে, তার কাউন্টার হিসেবে মূলত এই ন্যারেটিভটা তারা সামনে এনেছে।"
রোহিঙ্গা নামে কোনো জাতিগোষ্ঠী মিয়ানমারে নেই, এই বিষয়টিও আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিষ্ঠিত করারও একটি চেষ্টা এই বিবৃতিতে রয়েছে বলে মনে করেন মুনীর। ১৩৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দেয় না মিয়ানমার। তারা রোহিঙ্গাদের বারবরই 'বাঙালি' হিসেবে আখ্যায়িত করে। "এটা তাদের এক ধরনের ছক, যেটা আমরা আগেও দেখেছি। এটা বিশ্বাস করার আসলে তেমন কারণ নেই যে তারা সত্যিকার অর্থেই ফেরত নেবে," বলেন তিনি।
এছাড়া এই জনগোষ্ঠীর সংখ্যা, তারা বাঙালি না রোহিঙ্গা এসব নিয়ে এই বিবৃতিতে নানা বক্তব্য থাকলেও তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যে প্রস্তুতি বা নিরাপত্তার বিষয়গুলো রয়েছে তা নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। মুনীর বলছেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বর্তমানে যে সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের ইতিবাচক অবস্থান দেখানোর একটি চেষ্টা হতে পারে।
"মিয়ানমারে কদিন আগেই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সরকার গঠন হয়েছে। যদিও অভিযোগ রয়েছে যে, এটি তাদের যে মিলিটারি গভর্নমেন্ট তাদেরই স্বীকৃতি দেওয়ার একটা প্রক্রিয়া। এই গণতান্ত্রিক রূপটিকেও তারা এই বিবৃতির মাধ্যমে জায়েজ করার চেষ্টা করেছে," বলেন তিনি। অবশ্য মিয়ানমারের এই বিবৃতি দেওয়ায় দীর্ঘদিন পরে হলেও এই ইস্যুতে আলোচনার একটি সুযোগ আবারও তৈরি হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।