মেট্রোরেল।
পবিত্র রমজান মাসে মেট্রোরেলে খাবার বা ইফতার নিয়ে ভ্রমণে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ ইফতারের সময় মেট্রোরেলে ইফতারসামগ্রী নেওয়া বা খাওয়া যাবে না। ভ্রমণের সময় শুধু ২৫০ মিলিমিটার (মিলি) পানি বহন করা যাবে। তাও যত্রতত্র পানির খালি বোতল ফেলা যাবে না।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রমজানে মেট্রোরেলর নতুন সময়সূচি নিয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেন মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) পরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম খায়রুল আলম। এই নির্দেশনায় ইফতারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। যদিও আগের বছরগুলোতে রমজানে একই নিয়মে চলছে মেট্রোরেল।
এদিকে নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী চলবে মেট্রোরেল। রমজান মাসের অফিস সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঈদুল ফিতরের আগের দিন পর্যন্ত সাপ্তাহিক কর্মদিবসে নতুন এই নিয়মে মেট্রোরেল চলাচল করবে।
মেট্রোরেল সূত্র জানায়, রমজান উপলক্ষে ওই নির্দেশনাগুলো দিয়ে ওই অফিস আদেশে বলা হয়, সময়সূচি অনুযায়ী উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল অভিমুখে প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল সাড়ে ৬টায় এবং শেষ ট্রেন রাত সাড়ে ৯টায়। অন্যদিকে মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তর স্টেশনের উদ্দেশ্যে প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল সোয়া ৭টায় এবং শেষ ট্রেন রাত ১০টা ১০ মিনিটে।
উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিলগামী ট্রেনের হেডওয়ে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সকাল ৭টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ২০ মিনিট, সকাল ৭টা ১১ মিনিট থেকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ১০ মিনিট, সকাল ৭টা ৩১ মিনিট থেকে সকাল ৮টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ৮ মিনিট, সকাল ৮টা ১১ মিনিট থেকে সকাল ৯টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত সাড়ে ৫ থেকে ৬ মিনিট, সকাল ৯টা ৫৪ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত ৮ মিনিট, দুপুর ২টা ৫৭ মিনিট থেকে বিকাল ৫টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত সাড়ে ৫ থেকে ৬ মিনিট, বিকাল ৫টা ৪২ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত ৮ মিনিট, সন্ধ্যা ৬টা ১৪ মিনিট থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ১০ মিনিট এবং রাত ৯টা ১ মিনিট থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ১৫ মিনিট থাকবে।
অন্যদিকে মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তরগামী ট্রেনের হেডওয়ে সকাল ৭টা ১৫ মিনিট থেকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ১৫ মিনিট, সকাল ৭টা ৩১ মিনিট থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ১০ মিনিট, সকাল ৮টা ১ মিনিট থেকে সকাল ৮টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত ৮ মিনিট, সকাল ৮টা ৪৯ মিনিট থেকে সকাল ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত সাড়ে ৫ থেকে ৬ মিনিট, সকাল ১০টা ৩২ মিনিট থেকে দুপুর ৩টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত ৮ মিনিট, দুপুর ৩টা ৩৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সাড়ে ৫ থেকে ৬ মিনিট, সন্ধ্যা ৬টা ২১ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিট পর্যন্ত ৮ মিনিট, সন্ধ্যা ৬টা ৫৩ মিনিট থেকে রাত ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ১০ মিনিট এবং রাত ৯টা ৪১ মিনিট থেকে রাত ১০টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ১৫ মিনিট থাকবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, পবিত্র রমজানে ইফতারের সময় পানি পান করার জন্য প্রত্যেক যাত্রী মেট্রোরেল ও স্টেশন এলাকায় শুধুমাত্র ২৫০ মিলিলিটার পানির বোতল বহন করতে পারবেন। পানি যেন না পড়ে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে এবং ব্যবহৃত বোতল অবশ্যই প্ল্যাটফর্ম, কনকোর্স বা প্রবেশ ও বাহির গেটে রাখা ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। কোনো অবস্থাতেই প্ল্যাটফর্ম, কনকোর্স বা মেট্রোরেলের ভেতরে অন্য কোনো খাবার গ্রহণ করা যাবে না।
এছাড়া শনিবার, শুক্রবার ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনের সময়সূচি অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানানো হয়।
অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী
ময়মনসিংহের নান্দাইলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
তিনি বলেন, নান্দাইলে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলে বা কোনো অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গতকাল শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকালে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে তিনি লিখেন, নান্দাইল থেকে আমি যদি কোনো অভিযোগ পাই যে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কেউ কোনো টাকা নিয়েছে তাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব। কাজেই, সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক করে দিলাম। সাবধান। তবে আমি বিশ্বাস করি আমাদের নান্দাইলের কেউ এরকম দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকবেন না।
সামাজিক মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর এই কঠোর বার্তা প্রকাশের পর স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, প্রতিমন্ত্রীর এই প্রত্যক্ষ নজরদারির ফলে প্রকৃত অসচ্ছল ব্যক্তিরাই সরকারি সুবিধা পাবেন এবং অনিয়মকারীদের অপচেষ্টা নস্যাৎ হবে।
এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এনামুল কাদির বলেন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী একজন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব নেতা। দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে তার নীতি শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স)। তার নাম ভাঙিয়ে কোনো অপকর্ম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না- এ কথা তিনি শুরু থেকেই স্পষ্ট করে আসছেন।
তৌফিক ইমরোজ খালিদী
অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বিডিনিউজের স্পেশাল অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর রাজীব নূর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের কারণে বৃহস্পতিবার রাতে তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। লন্ডন স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তৌফিক ইমরোজ খালিদী ২০০৬ সাল থেকে নিজ মালিকানাধীন বাংলাদেশি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সংবাদসংস্থা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি লন্ডন-ভিত্তিক গণমাধ্যম বিবিসিতে উপস্থাপক, প্রযোজক এবং সম্পাদক পদে কাজ করেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আগে, খালিদী সম্পাদকীয় ও গণমাধ্যম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্রডশিট পত্রিকায় সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তিনি ঢাকা এবং লন্ডন, প্যারিস এবং টোকিওর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
খালিদী ডিসেম্বর ২০১৭ সালে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ উন্নয়নে ‘বিশেষ স্বীকৃতি ও সম্মাননা’ হিসেবে জাতীয় আইসিটি পুরস্কার অর্জন করেন।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান
জামায়াত নেতা ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার বিকেলে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার আকতার হোসেন।
এর আগে শুক্রবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন।
একই দিন বিকেলে মামলার এজাহার আদালতে এলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তা গ্রহণ করেন। বিমানবন্দর থানার এসআই মাজেদুল ইসলামকে আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট (বিজি-৩৩৮) বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিপুল যাত্রীর চাপ সৃষ্টি হয়। এ সময় ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি-সংকট দেখা দেয় এবং যাত্রীরা লাগেজ পেতে বিলম্বের মুখে পড়েন। এতে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যাত্রীদের ক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্যে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালককে ‘আমি কিন্তু পিটাব ধইরা’ এবং ‘ঘাড় ধরে বের করে দেব’ বলে হুমকি দেন। একই সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী সম্পর্কেও অশালীন মন্তব্য করেন তিনি।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত (কেপিআই) এলাকায় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। সেখানে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের ভিডিও ধারণে নিষেধ করেন। এতে আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে স্পর্শকাতর ও সংরক্ষিত বিমানবন্দর এলাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত মদ ‘অননুমোদিত’ দুই গুদামে মজুত রাখার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের দুটি বৈধসহ চারটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীররাতে দক্ষিণ গুলশানের বন্ডেড ওয়্যারহাউজ টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডে এক যৌথ অভিযানে সেসব সিলগালা করা হয় বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এ অভিযান পরিচালনা করে। প্রাথমিকভাবে ‘গুরুতর অসংগতি’ পাওয়ায় ‘অধিকতর যাচাইয়ের জন্য’ ওয়্যারহাউজগুলো সিলগালা করা হয়েছে।
শুল্ক গোয়েন্দার এক কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত এ অভিযান চলে।
এনবিআর বলছে, কোম্পানিটির ‘অনুমোদিত’ বা ‘ঘোষিত’ গুদামের সংখ্যা দুটি। কিন্তু অভিযানে দেখা গেছে—সেখানে মোট চারটি গুদামে পণ্য মজুত রেখেছে।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত পণ্য অননুমোদিত গুদামে স্থানান্তর বা অপসারণ রোধ এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির চারটি গুদামই সিলগালা করা হয়েছে।
তদন্ত ও বিস্তারিত ‘যাচাই কার্যক্রম’ চলমান রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ‘বন্ডেড ওয়্যারহাউজ’ থেকে কেবল বাংলাদেশে কর্মরত কূটনীতিক এবং আইন অনুযায়ী বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের শুল্কমুক্ত মদ কেনার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু টস বন্ডের বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ ওঠায় তা নিয়ে কয়েক মাস ধরেই অনুসন্ধান চলছিল।
এনবিআরের সিআইসি ও আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট কানাডা থেকেও গোয়েন্দা প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছে। তাতে নুর ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের সেখানে নাগরিকত্বসহ ‘সন্দেহজনক’ লেনদেন ও অন্তত চারটি কোম্পানির মালিকানা থাকার অস্তিত্ব মিলেছে।
সেখানকার গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ঢাকার এ বন্ডেড ওয়্যারহাউজের পরিচালক হিসেবে নাম আছে নুর ইসলাম, তার স্ত্রী শীলা ইসলাম ও মেয়ে তাসনিম ইসলামের।
দেশে থাকা মদ ও বারের ব্যবসায় নানা অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি কানাডায় নুর ইসলাম ও তার পরিবারের নাগরিকত্ব থাকার তথ্য ও সম্পদ মেলার খোঁজ পেয়ে তদন্ত করে আসছিল কর আদায়ের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
তবে সম্প্রতি ঢাকায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের প্রকল্প এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় ক্ষমতাসীনদের দায়ী করার পর তদন্ত কার্যক্রমের গতি বাড়ে।
কানাডা থেকে যেসব গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছে সিআইসি এবং আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট, তাতে ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত নুরুল ইসলামের পরিবারের লেনদেনের হিসাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। খতিয়ে দেখা হয়েছে সেই সময়ের মোট ১৬৩টি আর্থিক প্রতিবেদন।
সেখানে ‘সন্দেহজনক’ লেনদেনের ১৭টি, ‘সন্দেহজনক’ লেনদেনের চেষ্টার দুটি, ‘বড় অঙ্কের’ নগদ লেনদেনের ১১৮টি, ‘ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক-ইএফটিএন’ মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের প্রতিবেদন ২৬টি এবং আন্তদেশীয় অর্থ লেনদেনের দুটি নথির খোঁজ মিলেছে। এক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিটেন্স আনার তথ্যও মিলেছে।
সিআইসি, আয়কর গোয়েন্দা ও এনবিআরের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন। সেসব নথির সারাংশের অনুলিপি দেখেছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা দাবি করছেন, এই অভিযান সালমান মুক্তাদিরের সাম্প্রতিক ‘ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়’।
সিআইসির একজন কর্মকর্তা বলেন, “সালমান মুক্তাদির এখানে ইস্যু নয়। সব গোয়েন্দা সংস্থাই আগে থেকে কাজ করছিল।
“তা থেকে কিছু প্রমাণও মিলেছে। সামনে হয়তো অভিযানও দেখবেন।”
আয়কর গোয়েন্দা ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলেন, “দেখেন, নুর ইসলামের তো নানান ব্যবসা। মদের ব্যবসা। তার বন্ডেড ওয়্যারহাউজ আছে। তার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ ছিলই। আমরা এরমধ্যে জানতে পেলাম যে তার ও তার পরিবারের কারো কারো বিদেশি নাগরিকত্ব আছে।
“এসব কিছুই কর নথিতে নেই। তখন আমরা কাজ শুরু করি। কিন্তু যেহেতু কেবল এখানে আয়কর নয়, ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর-মূসক বা ভ্যাট), আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কের ব্যাপার আছে। সবাই মিলেই কাজ করছি।”
গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’ও।
এরপর ফেইসবুকে লাইভে সালমান মুক্তাদির ঘটনার ‘বিএনপির চাঁদাবাজিকে’ দায়ী করেন; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে উদ্দেশ করেও নানা মন্তব্য করেন তিনি। পরে অবশ্য ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ থেকে সরে আসেন এ কনটেন্ট ক্রিয়েটর।
তবে ঘটনার পর নিউ গিনি প্রোপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া যে মামলা করেছেন, তাতে জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা চালানোর কথা বলা হয়।
মামলায় আসামি করা হয় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনকে। অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা ১৫০ থেকে ২০০।
মামলায় এখন পর্যন্ত গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমানসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তারের খবর দিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে বুধবার সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করে বিএফআইইউ।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতা কাটিয়ে রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়াম আজ শুক্রবার দেশে আসছে। বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে ইউরেনিয়াম দুপুরের মধ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
শনিবার কঠোর নিরাপত্তায় তা রূপপুরে নেওয়া হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার ইউরেনিয়াম আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল করা হয়। পাকিস্তান আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি কার্গোতে মোট নয়টি চালানে ইউরেনিয়াম দেশে আনা হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো সরবরাহ শেষ করার কথা রয়েছে।
সব ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলতে পারে দেশের একমাত্র পারমাণবিক কেন্দ্রটি থেকে।
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, মুহুরী ও কহুয়া নদীর অববাহিকার মানুষের কাছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয় নয়; এটি তাদের জীবন-জীবিকা, কৃষি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। প্রতিবছর বন্যায় এ অঞ্চলের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই প্রকল্পের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফেনীর মুহুরী ব্রিজের সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের একটি ঐতিহাসিক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ এলাকায় এসে মুহুরী ব্রিজ উদ্বোধন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর একই জনপদে তাঁর সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পরশুরাম, ফুলগাজীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ বন্যার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাবে। একই সঙ্গে নদীতীর সংরক্ষণ, পানি নিষ্কাশন, নদী ও জলাধার পুনঃখনন এবং সেচ অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ফেনী অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে এ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন এ জনপদের মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যাপ্রবণ এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আর্থসামাজিক অগ্রগতির নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফেনী অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, সেচব্যবস্থা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে।
অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন।