জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার ঘটনা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার একটি অপপ্রয়াস ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি মাল্টিপারপাস হলে শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এই মন্তব্য করেন।
লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক।
আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।
শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, ’৯০-এর গণআন্দোলন এবং ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী সকল ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদাতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারবর্গের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
২৫ ফেব্রুয়ারি রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি; জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান।
তারেক রহমান বলেন, ঘটনার দীর্ঘ ১৭ বছর পরে শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে। আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভীষিকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।
তিনি বলেন, আমি দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করেছি, গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিসহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা।
আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত। ১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন- সেদিন সেনাবাহিনীর সাথে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সাথে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছে। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুইটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়।
দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করব। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে।
২০০৯ সালে পিলখানার ঘটনায় নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, মাহে রমজান আমাদের সংযম ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি- তিনি যেন শহীদদের আত্মাকে শান্তিতে রাখেন, তাঁদের পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দান করেন এবং আমাদের রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে ন্যায়, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের পথে পরিচালিত করেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ পিলখানায় নিহত শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ. কে. এম. শামসুল ইসলাম, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও ছিলেন। পরে প্রধামন্ত্রী শহীদ পরিবারের সাথে ইফতার করেন।
ছবি : সংগৃহীত
এলপিজির সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। অক্টোবর মাসের জন্য আজ রোববার (৪ অক্টোবর) নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
নতুন দাম অনুযায়ী, অটোগ্যাসের দাম লিটারে প্রায় ১২ টাকা বাড়িয়ে লিটারপ্রতি ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এই দাম ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।
আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ দাম বহাল থাকবে।
এদিকে, এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দামও ২৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি সিলিন্ডার কিনতে হবে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায়।
ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাজ্যের হাই কমিশনার সারাহ কুক। সাক্ষাতে তারা উভয় দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন।
রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাই কমশিনারের এ সাক্ষাৎ হওয়ার তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক।
তিনি বলেন, ‘‘সাক্ষাতে দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয়াদি এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসন ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও তারা এ সাক্ষাতে আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরেন সহকারী প্রেস সচিব।
সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সাক্ষাতের সময়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সাত মাসের মধ্যেই সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে নেতিবাচক প্রচারণার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
রাষ্ট্রপ্রধান ‘উদার, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে সব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন।
আজ রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান বলে জানিয়েছে তার দপ্তর।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছেন। সকলের ঐক্যের ফলেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। “এই ঐক্য ও সম্প্রীতি নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টা শক্তভাবে প্রতিহত করতে হবে।”
এদেশের হিন্দু-মুসলমাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক বন্ধন রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এ সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”
পিছিয়ে পড়া মতুয়া সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানার রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, “একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হলেও সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
রাষ্ট্রপতি বলেছেন, দেশে একটি উদার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কেউ যেন নষ্ট করতে না পারে-সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
“বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।”
মতুয়াদের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি পদ্মনাভ ঠাকুর। মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শনের জন্য তারা আমন্ত্রণ জানালে সেটি পরিদর্শনের আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি।
প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সভাপতি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য সুবর্ণা সিকদার, কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ বিশ্বাস, উপদেষ্টা আহসান হাবিব অপু, সমেন কুমার সাহা, মিশনের খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি নিত্যানন্দ মণ্ডল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন ও প্রেস সচিব সরওয়ার আলম।
সাব-রেজিস্ট্রার বদলি মঙ্গলবার লটারির মাধ্যমে
বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি করা হবে। আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ লটারি অনুষ্ঠিত হবে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ রোববার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর জন্য নির্ধারিত পদগুলোতে দেশের বিভিন্ন জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রারদের মধ্যে থেকে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হবে।
এতে বলা হয়, লটারি কার্যক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত থাকবেন। জনসাধারণের সম্পত্তি নিবন্ধন-সংক্রান্ত সেবা আরও সহজ, সুশৃঙ্খল ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সংস্কার ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে বদলির এ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও উপসর্গে এক হাজার ১২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০২ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ২৩ জন মারা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে দুইজন ও রংপুর বিভাগে একজন মারা গেছে।
একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ২১৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭৪ হাজার ১৪৯ জন।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বাজারে ফের বাড়ল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। নতুন মূল্য অনুযায়ী অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়েছে। রোববার বিকেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ দাম ঘোষণা করে। নতুন দাম আজ সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে।
একই হারে সাড়ে ৫ কেজি থেকে ৪৫ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়ানো হয়েছে। গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা করা হয়েছে।
তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যদিও এই এলপিজির সরবরাহ খুবই সীমিত হওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের বেশিরভাগই তা কিনতে পারেন না।
রোববার নতুন দর ঘোষণা করে বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও দাম সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে কমিশন।
নতুন দর এমন সময়ে ঘোষণা করা হলো, যখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজির সংকট চলছে। বাড়তি দাম দিয়েও কোথাও কোথাও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। আবার যেখানে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন দর ঘোষণার পর বাজারে ভোক্তার ওপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যেই সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে ১২ আমদানিকারকের সেপ্টেম্বর মাসের আমদানি ও বিক্রির তথ্য চেয়েছে বিইআরসি। শনিবার চিঠি দিয়ে আজ রোববারের মধ্যে এসব তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছ থেকে পাওয়া আমদানির তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, আমদানি ও বিক্রির তথ্য পাওয়ার পর পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে আমদানিকারকরা সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দেন। ২৫ সেপ্টেম্বরের পর কয়েকটি ডিপো থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তবে আমদানিকারকরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, তারা বিইআরসির নির্ধারিত দামেই ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে এলপিজি সরবরাহ করছেন। তাদের দাবি, আমদানিকারক পর্যায়ে কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়নি।
এর আগে গত শনিবার জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও আমদানিকারকরা একই দাবি করেন। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি ও জাহাজভাড়া বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন তারা। বাজারে কারসাজি হয়ে থাকলে তা ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে হতে পারে বলে তাদের দাবি।
বিইআরসির হিসাবে, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবার এলপিজির মাসভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ৯৭৫ টাকা। এরপর কখনও দাম বেড়েছে, কখনও কমেছে। তবে কমার তুলনায় বাড়ার প্রবণতাই বেশি।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে হয় ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। পরে ভ্যাট কমায় ১৫ টাকা কমে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৪১ টাকা। মার্চে অপরিবর্তিত থাকার পর এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বেড়ে দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকায় ওঠে।
এরপর জুনে ৫৫ টাকা এবং জুলাইয়ে ৩৫৭ টাকা কমানো হয়। আগস্টে আবার ৭০ টাকা বেড়ে দাম হয় ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এক মাসের ব্যবধানেই এবার সেই দাম আবার ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হলো।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়লেও যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা কমে আসে। এরপর কয়েক মাস ধরে বাজারে দামের ওঠানামা চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই পরিবর্তনের সঙ্গে সমন্বয় করেই দেশের বাজারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।