ভোগান্তির মূলে আট মহাসড়কে ১২৯ বাজার-বাসস্ট্যান্ড
মোটরযানের গতিসীমার নির্দেশনা অনুযায়ী, মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়েতে প্রাইভেটকার ও বাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার থাকার কথা। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এটি ৫০ কিলোমিটার।
তবে দেশের মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের গড় গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। ব্যস্ত সময়ে রাজধানী ঢাকায় এই গতি ঘণ্টায় মাত্র ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার। গত ডিসেম্বরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে এক সেমিনারে সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচলের গতি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে আসার এ তথ্য উঠে আসে। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিল সড়ক বিভাগ।
এদিকে মহাসড়কে যান চলাচলের ধীরগতি ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে পুলিশ। সেটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশের আট মহাসড়কের ১২৯টি ব্যস্ত পয়েন্টসংলগ্ন এলাকায় বাজার ও বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। এতে যানজটের দুর্ভোগে পড়ছে মানুষ। প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাও ঘটছে। মহাসড়কের ‘ব্ল্যাক স্পট’ হিসেবে এই পয়েন্টের কারণে এবারও ঈদযাত্রায় বাড়তি ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে।
গত ৫ মার্চ সচিবালয় সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঈদযাত্রা নিয়ে বৈঠক করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সেখানে মহাসড়কে যানজটের ২০৭টি স্পট চিহ্নিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থার বড় অংশ সড়কনির্ভর। যাত্রী পরিবহনের ৮৮ শতাংশ এবং পণ্য পরিবহনে ৭৬ শতাংশ সড়কপথ ব্যবহার হয়। ঈদের সময় স্বাভাবিকভাবে সড়কপথে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান রুট ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়ক।
পুলিশের প্রতিবেদনে উঠে আসে, এই মহাসড়কের পাঁচটি পয়েন্টে বাজার ও ৯টি জায়গায় বাসস্ট্যান্ড আছে। বাসস্ট্যান্ড রয়েছে- চন্দ্রা জেবি টাওয়ার, পল্লী বিদ্যুৎ, মৌচাক, এলেঙ্গা, হাটিকুমরুল মোড়, চারমাথা, মোকামতলা ও চরিয়া সিকার মধ্যপাড়ায়।
রপ্তানিমুখী পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রধান রুট হিসেবে বিবেচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মহাসড়কের বাজার ও বাসস্ট্যান্ড আছে ১৯টি পয়েন্টে। এর মধ্যে আছে ঢাকামুখী চিটাগং রোডের মোড়, মোগড়াপাড়া, গৌরীপুর, চান্দিনাবাজার, মাধাইয়াবাজার, কুটুম্বপুর বাজার, ইলিয়টগঞ্জ বাজার, নিমসার বাজার, মিয়াবাজার, চৌদ্দগ্রাম বাজারের ঢাকামুখী লেন, দেবিদ্বার বাজার, বারইয়ারহাট, মীরসরাই ও সীতাকুণ্ড।
২০২১ সালের মহাসড়ক আইনে বলা আছে, অনুমোদন ছাড়া মহাসড়কে বাজার, মার্কেট বা যে কোনো স্থায়ী-অস্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। সড়কের দুই পাশে ১০ মিটারের মধ্যে হাটবাজার কিংবা স্থায়ী-অস্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা দণ্ডনীয় অপরাধ।
নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সড়ক-মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অবৈধ হাটবাজার, স্থাপনা ও পার্কিং অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও আছে। তবে প্রশাসনের তরফে তেমন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না।
এদিকে ২০২৩ সালের হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইনের বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে হাট ও বাজার স্থাপন করতে পারে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এর আলোকেই অনেক মহাসড়কের পাশে অনেক জায়গায় বসছে হাটবাজার।
বাজার বেশি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে
পুলিশের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাজার ও বাসস্ট্যান্ড সবচেয়ে বেশি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে। সেখানে বাজার আছে ১৭টি ও বাসস্ট্যান্ড পাঁচটি। বাজারের পয়েন্টের মধ্যে আছে ভবানীপুর, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, মাওনা উড়ালসড়ক, বকশীগঞ্জ, কানুরামপুর, কাশীগঞ্জ, পিরিজপুর, সিডস্টোর ও মোসলেমপুর। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে বাজার ১৯টি ও বাসস্ট্যান্ড দুটি। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে বাজার আটটি ও বাসস্ট্যান্ড চারটি, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে বাজার ৯টি, বাসস্ট্যান্ড ১০টি, ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়কে বাজার সাতটি ও বাসস্ট্যান্ড সাতটি, যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে বাজার একটি ও বাসস্ট্যান্ড একটি।
ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কের অন্তত ৫৫ স্থান যানপ্রবণ এলাকা। এই সড়কে যানজটের পেছনে রয়েছে অন্তত ১৬ কারণ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাড়কের ৪৫টি স্থানে কম-বেশি যানজট তৈরি হয়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩টি, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২১টি, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ১৪টি, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ১৪টি, ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়কে ৯টি এবং খুলনা সড়কে ছয়টি স্থানে যানজট তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কের পাশে অপরিকল্পিত বাজার, মহাসড়কে থ্রিহুইলার বা কম গতির যানবাহন চলাচল, অবৈধ পার্কিং, সড়ক সংকীর্ণতা ও হেঁটে রাস্তা পারপারসহ নানা কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়েও এসব মহাসড়কে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা যায়। আর উৎসবের সময়, বিশেষ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়।
তারা বলছেন, এসব স্থানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার ও থ্রিহুইলার বা কম গতির গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে যানজট অনেকটা কমানো সম্ভব।
মহাসড়কে যানজটের স্থান ও কারণ শনাক্ত করেছে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যানজটের নেপথ্যে একাধিক কারণ কাজ করছে। তবে সব রুটেই কিছু সাধারণ কারণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে- সড়কে ইউটার্ন, পথচারীর হেঁটে রাস্তা পারাপার, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ, সড়কের পাশে বাজার বসা, সড়কের পাশে বাসস্ট্যান্ড ও যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৬ কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কের ৫৫ স্থানে যানজট হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫ স্থানে ইউটার্নের কারণে যানজট হয়। এ ছাড়া ১৭ পয়েন্টে মানুষ হেঁটে রাস্তা পারাপার হয়। অতিরিক্ত গাড়ির চাপের কারণে যানজট হচ্ছে ১১ পয়েন্টে। অবশ্য একই স্থানে একাধিক কারণও রয়েছে।
ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল সড়কে বাস বা যে কোনো যানবাহন ছেড়ে যাওয়ার পর চন্দ্রা ফ্লাইওভারের পশ্চিম প্রান্তে তিনটি কারণে যানজটে পড়তে হয়। কারণগুলো হলো- ইউটার্ন, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও রাস্তায় হেঁটে পথচারী পারাপার। স্কয়ার কাটা নামক স্থানেও এই তিন কারণে যানজট দেখা দেয়। চন্দ্রা জেবি টাওয়ার এলাকায় পাঁচ ধরনের সমস্যা রয়েছে। বাসস্ট্যান্ড, আন্ডারপাস রোড, রাস্তায় পথচারী পারাপার, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও সড়কসংলগ্ন বাজার স্থাপন। বাজারের আসা-যাওয়ার কারণে মানুষকে হেঁটে রাস্তা পার হতে হয়। যমুনা সেতু টোল প্লাজায় টোল আদায়ে ধীরগতির কারণেও পেছনে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। এ ছাড়া অনেক সময় সেতুর ওপরে গাড়ি বিকল হয়ে গেলে সেটি দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা না করলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে যানবাহন।
ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের নলকা ব্রিজ এলাকায় উল্টোপথে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করেন চালকরা। বগুড়া বাজার ওভারব্রিজের নিচে ঢাকামুখী সড়কের পাশে বাজার রয়েছে। বাজারে জনসমাগমের কারণে গাড়ির গতি কমে যায়। এ ছাড়া হোটেলগুলো থেকে উল্টো পথে গাড়ি যাতায়াত করে নিয়মিত। রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের চরিয়া সিকার মধ্যপাড়া এলাকায় ইউটার্ন থাকার কারণে গাড়ির গতি কমে যাওয়ায় যানজট দেখা দেয়।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৫ স্থানে যানজট তৈরি হয়। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এর কারণ ১২টি। ঢাকার অন্যতম প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ চিটাগাং রোড এলাকা। সড়কসংলগ্ন বাজার, সড়কে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশার কারণে সেখানে যানজট কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। ঢাকা থেকে এই রুটে গাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর বরাব বাসস্ট্যান্ডে তীব্র জটে পড়তে হয়। মহাসড়কে উন্নয়নমূলক কাজ চলমান থাকায় গাড়ি থেমে থেমে চলে সেখানে। ফলে পেছনে লম্বা সারি পড়ে যায়। তারাব গোলচত্বরেও প্রায় একই সমস্যা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি হয় সড়কসংলগ্ন বাজার ও বাসস্ট্যান্ড এবং ইউটার্নের কারণে। এই সড়কে ১৭ স্থানে বাজার ও বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। সাধারণত বাজারে সবসময়ই ভিড় থাকে। ফলে গাড়ির গতি কমাতে বাধ্য হন চালকরা। এ ছাড়া ইউটার্ন রয়েছে ১১ জায়গায়। এসব স্থানে গাড়ি ঘোরানোর সময় পেছনে সারি পড়ে যায়।
এ ছাড়া রাস্তায় থ্রি-হুইলার গাড়ি তো আছেই। তিন চাকার এই গাড়ির গতি তুলনামূলক কম, যে কারণে দ্রুতগামী গাড়ির গতি কমিয়ে আনতে হয় চালককে। ফলে সৃষ্টি হয় যানজট। গৌরীপুর বাজার ও তিতাস থানা এলাকার রাস্তার মাথায় পথচারী হেঁটে পারাপার করেন। এ ছাড়া সেখানে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো করা হয়। এ সময় গাড়ির জট লেগে যায়।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩ পয়েন্টে যানজট
সড়ক পথে ঢাকা থেকে সিলেটের দূরত্ব প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। এই মহাসড়কে ১০ কারণে ৪৩ স্থানে নিয়মিত যানজট দেখা দেয়। এই রুটে সবচেয়ে বেশি সমস্যা সড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা বাজার। ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত ১৯ স্থানে বাজার, দোকান রয়েছে। বাজারে আসা-যাওয়া মানুষ রাস্তায় উঠে যাওয়ায় গাড়ির গতি কমে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ ছাড়া ১৩টি পয়েন্টে সড়ক সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। ফলে এসব স্থানে সড়ক তুলনামূলক সরু হয়ে গাড়ি এক বা দুই লেনে ধীরগতিতে চলাচল করে। রূপগঞ্জের বরপা বাসস্ট্যান্ডে এলাকায় যাত্রীবাহী সব বাস রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করে। এ ছাড়া যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় পেছনের বাসকে বাধা দিতে সামনের বাস আড়াআড়ি করে দাঁড়ায়। ফলে একটা গাড়ির পেছনে আরেকটি বাস থেমে সারি বড় হয়। রূপগঞ্জের ভূলতা মোড়ে ফুট ওভারব্রিজ না থাকা এবং ফুটপাতে দোকান থাকায় মানুষকে সড়কে হাঁটতে হয়। তখন গাড়ির গতি কমে যায়।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজটের ২১ পয়েন্ট চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাদের তথ্যমতে, হোতপাড়া ওভার ব্রিজের নিচে, ভবানীপুর বাজার, বাঘের বাজার, নতুন বাজার, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, মাওনা ফ্লাইওভার, এমসি বাজার, জৈনা বাজার, জামালপুরের বকশীবাজার ও ময়মনসিংহের নান্দাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ড উল্লেখযোগ্য যানজটের স্পট। এই সড়কে মূলত ১০ কারণে যানজটে ভুগতে হয় মানুষকে। এর মধ্যে সড়কের যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা, সড়কের পাশে বাজার গড়ে ওঠা, রাস্তা খানাখন্দ, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও বিভিন্ন সড়কের সংযোগস্থলের কারণে বেশি যানজট হয়।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ১৪ স্থানে যানজট
সাভারের হেমায়েতপুরে বাসস্ট্যান্ড ও সড়কের পাশে বড় একটি বাজার গড়ে ওঠায় মানুষের সমাগম থাকে সবসময়। ফলে এই সড়কের যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ করার সময় এবং ঢাকা থেকে বের হওয়ার পর সেখানে যানজটের মুখে পড়তে হয়। সেখানকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা দরকার বলে মনে করেন ওই সড়কে চলাচল করা যাত্রীরা।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ১৪ স্থানে যানজট হয়। এই তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সড়কে আটটি কারণে যানজটে পড়তে হয় মানুষকে।
অন্যান্য মহাসড়কের অবস্থা
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ১৪টি পয়েন্টে যানজটে পড়তে হয় মানুষকে। এর অন্যতম কারণ, সড়কের পাশে বাজার ও বাসস্ট্যান্ড। এ ছাড়া আরও চার কারণে যানজট পোহাতে হয় মানুষকে। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ৯ স্থানে চার কারণে যানজট তৈরি হয়। যশোর-খুলনা মহাসড়কে যানজটের কারণ ছয়টি।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের ‘ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড’সহ ঢাকার চারটি বার ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন সংস্থা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) এনবিআরের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর এ তথ্য জানায়।
অভিযান চালানো অন্য তিন প্রতিষ্ঠান হলো- আরএ ডাব্লিউ ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল, মার্গারিটা লাউঞ্জ।
এনবিআর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার কয়েকটি বার, রেস্টুরেন্ট, ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ও ডিউটি ফ্রি শপে অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল বা অ্যালকোহলজাত পণ্য সংগ্রহ, প্রযোজ্য শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে এসব পণ্য সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংবাদপড়ুন
অভিযানের জন্য কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) চারটি দল গঠন করে। এসব দলের সঙ্গে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকার (উত্তর) কর্মকর্তারা যুক্ত রয়েছেন।
অভিযানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন, তল্লাশি, নথিপত্র যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য আটক করার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানে মজুত থাকা অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের পরিমাণ, সেগুলোর বৈধ উৎস, আমদানি ও ক্রয়সংক্রান্ত দলিল, প্রযোজ্য শুল্ক-মূসক ও আয়কর পরিশোধ এবং পণ্যের বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে। অভিযানে কোনো অনিয়ম বা রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরে টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’র অনুমোদিত ওয়্যারহাউজের বাইরে আরও দুটি অননুমোদিত ওয়্যারহাউজে মদ মজুত পাওয়ার কথা জানায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর ( সিআইআইডি)। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির চারটি ওয়্যারহাউজই সিলগালা করা হয়েছে বলেও জানায় সংস্থাটি।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ডিপ্লোমেটিক ওয়্যারহাউজ ‘টস বন্ড’ বিদেশি কূটনীতিকদের শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি আলোচিত ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের। টস বন্ডের বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ আসায় তা নিয়ে কয়েক মাস ধরেই অনুসন্ধান চলছিল।
এনবিআর কর্মকর্তারা শেখ নূর ইসলামকে ওয়্যারহাউজটির মালিক বললেও ফু-ওয়াং দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে শেখ নুর ইসলাম বা তার পরিবারের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।
ফু-ওয়াং কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে টস বন্ডকে শেখ নূর ইসলামের প্রতিষ্ঠান হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সম্প্রতি টস বন্ড নামের একটি ওয়্যারহাউজ সিলগালা হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটিকে শেখ নূর ইসলামের প্রতিষ্ঠান হিসেবে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।
সম্প্রতি ঢাকায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের প্রকল্প এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় ক্ষমতাসীনদের দায়ী করার পর এসব তদন্তের গতি বাড়ে।
ফু-ওয়াং বলছে, “কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে শেখ নুর ইসলামের কন্যা দিশা ইসলামের বিয়ে শেখ নুর ইসলাম বা তার পরিবার মেনে নেননি।
“উক্ত বিয়ের পর থেকেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শেখ নুর ইসলাম ও তার পরিবারের সকল প্রকার সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।”
এআই জেনারেটেড প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ১০ দিনের ছুটি পাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসার ছুটির তালিকা এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এ বন্ধ উপভোগ করা যাবে। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির সময়সূচিতে কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে।
এদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটিও বাড়িয়েছে সরকার। আগামী ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে নতুন করে ছুটি ঘোষণা করায় এবারের দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীরা মোট পাঁচদিনের ছুটি পাচ্ছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে আগে থেকেই ছুটি নির্ধারিত ছিল। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) নতুন করে নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন।
অন্যদিকে ২০২৬ সালের সরকারি, বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচদিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। ছুটি শুরুর আগে ও পরে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীরা আরও চারদিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পেতে পারে।
পরদিন ২৫ অক্টোবর রোববার লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আরও একদিন ছুটির সুযোগ রয়েছে। ফলে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১০ দিনের পাওয়া যাবে। তবে এ ছুটির বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের প্রয়োজন বিবেচনায় ছুটির সময়সূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে।
এদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ-৪ শাখার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলেজে এ বছর ১৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১০ দিনের ছুটি রাখা হয়েছে। এ হিসাবের মধ্যে মাঝের দুই শুক্রবার ও শনিবার অন্তর্ভুক্ত নয়। দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমীর পাশাপাশি প্রবারণা পূর্ণিমা ও ২৫ অক্টোবরের লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে এই ছুটি রাখা হয়েছে।
আগামীতে পাঠ্যবই ছাপায় মানের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না জানিয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, নিম্নমানের বই সরবরাহের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।
আজ শনিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘কচুয়া উপজেলা সমিতি, ঢাকা’ আয়োজিত ‘কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে যেসব নিম্নমানের বই পাওয়া গেছে, সেগুলো বাতিল ও নষ্ট করা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তক ছাপায় গুণগত মানে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না। কাগজ, কালি ও ছাপাখানা ইত্যাদি বিষয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী চান দেশীয় মুদ্রণশিল্প গড়ে উঠুক, তাই এ বছর বিদেশি কোনো কোম্পানিকে মুদ্রণের কাজ দেওয়া হয়নি।’
তিনি বলেন, অতীতে যেমন সময়মতো বই দেওয়া সম্ভব হয়েছিল, আগামীতেও গুণগত মানের বই সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ১৫০টি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে 'মিড ডে মিল' কর্মসূচি চালু রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে কুপন দিয়ে ক্যান্টিন থেকে নিজেদের পছন্দমতো খাবার কিনতে পারে, সেজন্য কুপন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। খাদ্যতালিকায় নতুন খাদ্য যুক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে খাবার সরবরাহ প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে, যা কয়েকটি জেলায় পাইলটিংয়ের মাধ্যমে সারা দেশে বাস্তবায়ন করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে যাতে মূল্যবান সময় নষ্ট না হয়, সে জন্য নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। বর্ষাকালীন দুর্যোগ পরিহার করা হবে। পরীক্ষার নিরাপত্তা বাড়াতে আগামীতে দুই সেট প্রশ্নপত্র দুটি ভিন্ন স্থান— বিজি প্রেস ও আর্মি সিকিউরিটি প্রেস থেকে ছাপানো হবে।
পাশাপাশি পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বাস্তবসম্মত পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ ছাড়া চতুর্থ শ্রেণিতে স্পোর্টস ও কালচারাল বই অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় নতুন কারিগরি সিলেবাসে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন এবং সেখানে তৃতীয় ভাষা চালুর পরিকল্পনার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। একই সাথে সৌদি আরবে একটি টেকনিক্যাল স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক 'এডুকেশন হাব' হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার 'ক্রস বর্ডার এডুকেশন সিস্টেম' চালু করতে যাচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে সেরা ৫০০-এর মধ্যে থাকা বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে শাখা খুলতে চাইলে সেটির অনুমোদনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করা হবে।
কচুয়া উপজেলা সমিতি, ঢাকার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজমুন নাহার বেবি।
অনুষ্ঠানে কচুয়ার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সমবায় ভবনে ইউএনও এবং ডিডি (এলজি)-দের অংশগ্রহণে ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভা’য় কথা বলেন। ছবি: বাসস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে শুধু ঘোষণা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকেননি। ইতোমধ্যে রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবনের ছাদে সৌর প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে ১ হাজার ইউনিট নিজে ব্যবহার করেছেন এবং জাতীয় গ্রিডে ১২শ’ ইউনিট দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, গত তিন দিনে এই পরিমাণ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সমবায় ভবন থেকে শুরু করে সকল জাতীয় ভবনের ছাদ ব্যবহার করে নিজস্ব চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সরকারকে সৌর বিদ্যুৎ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ব্যবসা হিসেবে দেখার কথাও বলেছেন প্রতিমন্ত্রী।
আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সমবায় ভবনে দেশের সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং ডিডি (এলজি)-দের অংশগ্রহণে ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভা’য় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী উপস্থিত ছিলেন।
দুর্গাপূজা সামনে রেখে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলার ঝুঁকির বাপারে মাঠপর্যায়ে ইউএনওদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো বিশৃঙ্খলা হতে দেওয়া যাবে না।
এসময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে ইউএনওদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে সরকার।’
প্রতিমন্ত্রী ইউএনওদের উদ্দেশে বলেন, এলাকার গরিব মানুষ ইউএনওর কাছে হাত পাতে। প্রত্যেক ইউএনওর জন্য ঐচ্ছিক ফান্ড দেওয়া জরুরি। এতে গরিবদের তাৎক্ষণিক ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া যায়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই অর্থের জোগান না দিতে পারলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় রাজস্ব আয় থেকে বরাদ্দ দেওয়ার আয়োজন করবে। বিদ্যুতের নেট মিটারিং পদ্ধতি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে বসে ফয়সালা করার কথাও বলেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে ইউএনওদের তত্ত্বাবধানে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম মুয়াজ্জিন কার্ড, খাল খননসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ সরাসরি তদারকি করছেন। প্রতিবছর ডিসি সম্মেলনের মতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বার্ষিক সম্মেলন হলে সরাসরি উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা সম্ভব।
বিএনপি সরকার জনগণের সরকার এবং নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম । তিনি বলেন, স্বৈরাচার আমলে সরকারের নির্দেশনা মানতে গিয়ে অনেক কর্মকর্তাই নিজেদের চাকরি হারিয়েছেন; কিন্তু বিএনপি সরকার কাউকে বলবে না— দিনের ভোট রাতে করতে, ডামি নির্বাচন করতে।
তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক বিষয়েও ব্যবস্থা নিতে কাজ শুরু করেছে বিএনপি। মিরপুরের ঘটনায় উত্তরের কমিটি বাতিল করা হয়েছে, সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়, এমপির ব্যক্তিগত দায় সরকার নেবে না। এছাড়া নদী ও পুকুরের পানি পরিশোধনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ বাড়িয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
ছবি: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতিহারে ‘লার্নিং ইউথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচি রয়েছে। সেটি দেশব্যাপী বাস্তবায়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া শিক্ষাখাতকে জীবন ঘনিষ্ঠ করতে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক যে সমস্ত কার্যক্রম রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে। এটিকে আমরা সাধুবাদ জানাই।
আজ দিনাজপুর সরকারি কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬ -এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
কলেজ মাঠে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করে বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
বর্ণাঢ্য আয়োজনে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬ শুরু হয়। ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন কলেজের জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান ও স্বর্ণপদক পাওয়া ১ হাজার ১৫৪ জন শিক্ষার্থী-অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ৭৫৪ জন ছাত্র এবং ৪০০ জন ছাত্রী। ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসসহ মোট ৭২টি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে জীবনমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, প্রযুক্তি, ভাষা শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যেসব উদ্যোগ নিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে মানুষ তৈরির ক্যাম্পাস। দলবাজির ক্যাম্পাস হবে না। শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের পূর্ণবিশ্বাস আছে। তরুণদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ফ্রিল্যান্সিং ও আধুনিক প্রযুক্তির সুফল পেতে শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ দিতে হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সারাদেশজুড়ে বিস্তৃত অধিভুক্ত কলেজগুলোর অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে দ্রুত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে এসব দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন এ কাজটি দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. লুৎফর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দপ্তরের পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শুদ্ধাচার দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ কামাল হাছান, জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সমবায় ভবনে ইউএনও এবং ডিডি (এলজি)-দের অংশগ্রহণে ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভা’য় কথা বলেন। ছবি: বাসস
ভোটে নির্বাচিত সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। পাঁচ বছর পর আবার তাদের জনগণের কাছে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে। তাই জনগণের সেবা নিশ্চিত করা এবং নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব।
শনিবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলরুমে স্থানীয় সরকার বিভাগ আয়োজিত ‘সৌর বিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি- উভয়ের লক্ষ্য জনগণের সেবা করা। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দ্রুততার সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে বাড়ির ছাদেও সৌর প্যানেল স্থাপনে উৎসাহিত করতে হবে। দিনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করে রাতে ব্যবহার করা গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সততা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, পদায়ন ও পদোন্নতিতে সততা ও কর্মদক্ষতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিজ কর্মস্থলকে নিজের এলাকা মনে করে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিজ মিরানা মাহরুখসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সভায় সব সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলার উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পৌরসভার প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন।