তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদি
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার ঠিক এক মাস পূর্ণ হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে এক ধরনের স্থবিরতা বা শীতলতা ছিল, তাতেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় শেখ হাসিনার পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে সরকার ক্ষমতায় আসে, ভারতের চোখে সেটি ছিল একটি 'অনির্বাচিত' সরকার –দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা ছাড়া তাদের আর কোনো ম্যান্ডেট নেই, এমন দাবিও দিল্লির পক্ষ থেকে তখন একাধিকবার করা হয়েছে।
সেই যুক্তিতেই দিল্লি ঢাকার সঙ্গে ‘এনগেজমেন্ট’ কার্যত স্থগিত রেখেছিল। গুরুত্বপূর্ণ সব দ্বিপাক্ষিক আলোচনা থমকে গিয়েছিল, হাই-প্রোফাইল সফরগুলোও বন্ধ ছিল – এমন কী দুই দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের রাস্তাতেও হেঁটেছিল। সে সময় ভারতের ঘোষিত অবস্থান ছিল, আগে বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসুক – আর সেটা যে দলেরই সরকার হোক না কেন, তাদের সঙ্গে 'ডিল' করতে দিল্লির কোনো আপত্তি নেই। এখন গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে যে সাধারণ নির্বাচন হয়েছে তা আন্তর্জাতিক স্তরেও রীতিমতো গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে – এবং সেই ভোটে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি গরিষ্ঠতা অর্জন করে এককভাবে সরকার গঠন করেছে বিএনপি।
১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে বিএনপি-র নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রথম যে বিশ্বনেতারা ভাবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান, তাদের মধ্যে ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। শুধু তাই নয়, সে দিন বিকেলে তিনি টেলিফোনেও মি রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। দেড় বছরের একটা 'পজ' বা বিরতির অবসানে দিল্লি যে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক আবার সহজ করে তুলতে চাইছে, সেই ইঙ্গিত সে দিনই পাওয়া গিয়েছিল। এমন কী দল হিসেবে বিএনপি-র সঙ্গে ভারতের একদা অস্বস্তিকর সম্পর্কও আপাতদৃষ্টিতে তাতে বাধা হয়নি। কিন্তু বরফ গলার মধ্যে দিয়ে যে নতুন করে যে সম্পর্কের যাত্রা শুরু, তা কি সত্যিই শেষমেশ প্রত্যাশিত পথে এগোবে?
ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে দু'পক্ষেরই বিপুল পরিমাণে 'স্টেক' বা স্বার্থ আছে তাতে যেমন কোনো সন্দেহ নেই, তেমনি দুটো দেশের রাজনীতিতেই অন্য দেশের গভীর ছায়াপাতও একটি বাস্তবতা। মানে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেমন 'ইন্ডিয়া ফ্যাক্টরে'র গুরুত্ব অস্বীকার করা যাবে না, তেমনি ভারতের রাজনীতিতে – বিশেষ করে পূর্ব সীমান্তের রাজ্যগুলিতে – বাংলাদেশও বরাবরই একটি আলোচিত ও প্রাসঙ্গিক ইস্যু। ফলে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বাস্তবতা – না কি অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বাধ্যবাধকতা – কোন বিষয়টি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বেশি প্রভাব ফেলে সেটাও একটা দেখার বিষয় হবে অবধারিতভাবে। এই পটভূমিতে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে কোন পথে যেতে পারে, তা অবশ্যই কয়েকটি নির্দিষ্ট 'ইন্ডিকেটর' বা সূচক দিয়ে পরিমাপ করা যেতে পারে। পরবর্তী কয়েক মাসে এ রকমই পাঁচটি সূচক বা লক্ষণ কী কী হতে পারে, তা থাকছে এই প্রতিবেদনে।
ভিসা কার্যক্রম কি স্বাভাবিক হবে?
বাইরের যে দেশটি থেকে সবচেয়ে বেশি বিদেশি পর্যটক ভারতে আসতেন, বিলেত-আমেরিকাকে ছাপিয়ে টানা বেশ কয়েক বছর ধরে সেই স্থানটি ছিল বাংলাদেশের দখলে। কোভিড মহামারির ঠিক আগের বছরেও চিকিৎসা, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য বা কেনাকেটা-সহ নানা কারণে প্রায় বিশ লক্ষ বাংলাদেশি ভারতে এসেছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের অগাস্টে ভারত বাংলাদেশে তাদের ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার ফলে সেই পরিসংখ্যান হু হু করে কমে আসে।
বাংলাদেশে গত দেড় বছরে ভারত শুধুমাত্র কিছু মেডিকেল বা ইমার্জেন্সি ভিসাই ইস্যু করেছে, আর সেই সঙ্গে কিছু সংখ্যক 'ডাবল এন্ট্রি' ভিসা – ইউরোপগামী ও ওয়ার্ক পারমিট-প্রত্যাশী বহু বাংলাদেশি নাগরিকের ভারতে এসে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে ভিসার আবেদন করতে যেটির প্রয়োজন হয়। এই ধরনের ভিসার সংখ্যাও আগের তুলনায় ছিল একেবারেই কম। তবে গত এক মাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত একাধিক ভারতীয় কূটনীতিক প্রকাশ্যেই বলেছেন, ভারত এবারে ধীরে ধীরে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার পথে এগোবে – এবং পর্যটন ভিসা দেওয়াও শুরু করবে। সত্যিই যদি সেটা আগামী কিছুদিনের ভেতরে হয়, তাহলে বোঝা যাবে ভারতের তরফ থেকেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সহজ করার একটা তাগিদ দেখা যাচ্ছে।
তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর কোথায়?
যখন কোনো দেশের নতুন সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান দায়িত্ব নেন, তখন তিনি তার প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে কোন দেশটিকে বেছে নেন, সেটা ওই সরকারের পররাষ্ট্রনীতি বা কূটনীতির অগ্রাধিকার নিয়ে অবশ্যই একটা জোরালো বার্তা দেয়। বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফরে কোথায় যান, সেটাও ঠিক এই কারণেই দেখার বিষয় হবে। তিনি যদি প্রথম সফরে দিল্লিতে আসেন, তাহলে বোঝাই যাবে বিএনপি-র রাজনীতির সঙ্গে যে ভারত-বিরোধিতার তকমাটা এর আগে জুড়ে ছিল সেটা থেকে তার সরকার বেরোনোর চেষ্টা করছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবশ্য দিল্লি না এসে প্রথম সফরে সৌদি আরব, বেজিং, ওয়াশিংটন বা এমন কী কাঠমান্ডু, কলম্বো বা ইসলামাবাদেও যেতে পারেন – আর তার প্রতিটি ক্ষেত্রেই সেই পদক্ষেপ নিয়ে অবশ্যই কাটাছেঁড়া হবে। আবার এমনও হতে পারে, তিনি নিজে প্রথমেই ভারত সফরে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানালেন। প্রথম সারির বিশ্বনেতাদের মধ্যে নরেন্দ্র মোদীই যদি ঢাকায় নতুন সরকারের প্রথম অতিথি হন, সেটাও কম তাৎপর্যপূর্ণ হবে না। বস্তুত ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পরই নরেন্দ্র মোদী ও তারেক রহমানের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে, কিন্তু সেখানে ইতিমধ্যেই পারস্পরিক সফর নিয়ে কোনো আলাপ-আলোচনা হয়েছে কি না আমাদের জানা নেই। তবে তারেক রহমান যদি সত্যিই ভারত সফরে আসেন, সেটা মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর্ব মেটার আগে নয় – দিল্লিতে কূটনৈতিক সূত্রে আপাতত এমনই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশ সফরে আসবে ভারতের ক্রিকেট দল?
গত বছরের (২০২৫) অগাস্টে তিনটি ওয়ান ডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক খেলতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার কথা ছিল – যে সফর শেষ মুহুর্তে বাতিল করা হয়। বিবিসিআই (ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড) তখন বিসিবি বা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে জানিয়েছিল, অনিবার্য কারণে এখন ভারতের পক্ষে বাংলাদেশে খেলতে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না – এই সফরটি বরং আগামী বছরে রিশিডিউল করা হোক।
বিসিসিআই যে নিজে থেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়নি, বরং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ইশারাতেই সেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল – এ কথাও ছিল 'ওপেন সিক্রেট'। অর্থাৎ সফর পিছোনোর কারণ ছিল পুরোপুরি রাজনৈতিক। এখন দিনকয়েক পরেই ভারতে শুরু হচ্ছে আইপিএল টুর্নামেন্টের মরশুম, ফলে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরে যেতে হলে আগামী জুনের আগে তা সম্ভব নয়।কিন্তু চলতি বছরে সেই প্রস্তাবিত 'রিশিডিউলড' সফরটি আদৌ হবে কি না, এবং ভারতীয় বোর্ড বাংলাদেশকে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না – সেটা এখনো পুরোপিুরি নিশ্চিত নয়। এর মাঝে ঢাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে আরও অবনতি হয়েছে – ভারতীয় বোর্ড কলকাতা নাইট রাইডার্স স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে বলার পর বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতেই অস্বীকার করেছে, যার কারণে শেষ পর্যন্ত পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই তাদের বাইরে থাকতে হয়েছে।
সেই তিক্ত ঘটনাপ্রবাহের জেরে ভারতীয় দলের পরবর্তী বাংলাদেশ সফর নিয়েও একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে ভারত যখন ২০২৬-এর জুন নাগাদ সফরটি 'রিশিডিউল' করার প্রস্তাব দিয়েছিল তখন তাদের ধারণা ছিল ওই সময়ের মধ্যে ঢাকায় একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসে যাবে এবং সফরের পরিবেশও অনেক অনুকূল থাকবে। সেই ধারণা ইতিমধ্যেই সত্যি প্রমাণিত হয়েছে, এখন ভারত যদি তাদের কথা রাখে – তাতেও বোঝা যাবে দুই দেশের সম্পর্কের গ্রাফও ইতিবাচক দিকেই মোড় নিচ্ছে।
কী হবে কানেক্টিভিটি প্রকল্পগুলোর
গত দেড় বছরের ওপর ধরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। কলকাতা-ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস, কলকাতা ও খুলনার মধ্যেকার বন্ধন এক্সপ্রেস বা কমলাপুর-নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে চলাচলকারী মিতালি এক্সপ্রেসের চাকাই রেললাইনে গড়ায়নি সেই ২০২৪-র জুলাই থেকে। আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবাও তখন থেকেই বন্ধ – যদিও অতি সম্প্রতি ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে ঢাকা পর্যন্ত বাস চলাচল আবার খুব সীমিত আকারে শুরু হয়েছে। অথচ এই সংযোগগুলো দুই দেশের মানুষে মানুষে সম্পর্ক (পিপল টু পিপল কনট্যাক্ট) শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
ভারত আর একটি যে কানেক্টিভিটি প্রকল্পের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে, সেটি হল আগরতলা ও আখাউড়ার মধ্যে রেল সংযোগ স্থাপন। এই রেললাইনটুকু তৈরি হয়ে গেলে কলকাতা থেকে বাংলাদেশের ভূখন্ড দিয়ে সরাসরি আগরতলায় ট্রেনে চেপে যাওয়া যাবে মাত্র কয়েক ঘন্টাতেই – প্রায় চল্লিশ ঘন্টার জার্নি এক ধাক্কায় কমে আসবে মাত্র আট-দশ ঘন্টায়। ভারত এই কারণেই আগরতলা-আখাউড়া রেল সংযোগকে তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য একটি 'গেমচেঞ্জার' হিসেবে দেখে থাকে। কিন্তু দিল্লির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটির কাজও থমকে আছে বহু মাস ধরে। অথচ সীমান্তে প্রকল্পের অতি সামান্য অংশের কাজই বাকি – বাকি কাজ ২০২৩/২০২৪ নাগাদই শেষ হয়ে গিয়েছিল। এখন তারেক রহমানের নতুন সরকারের আমলে এই 'সামান্য অসমাপ্ত' প্রকল্পটি শেষ হয় কি না, এবং হলে কত তাড়াতাড়ি হয় – সেটা অবশ্যই দেখার বিষয় হবে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে 'কানেক্টিভিটি'-কে ভারত বরাবর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এসেছে এবং এই খাতে বিপুল বিনিয়োগও করেছে, কারণ বিশেষ করে ভারতের জন্য এই সংযোগ নানা কারণে খুব প্রয়োজন। এখন সেই কানেক্টিভিটি প্রকল্পগুলোর কী গতি হয় এবং দুই দেশের মধ্যে ট্রেন-বাস চলাচল আবার কবে শুরু হয় – সেটাও দুই সরকারের মধ্যে সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে স্পষ্ট একটা বার্তা দেবে।
কবে হবে গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়ন
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে যে গঙ্গা জল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার তিরিশ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের (২০২৬) ডিসেম্বরেই। এখন এই অতি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি কোন শর্তে নবায়ন হবে – আগের আকারেই সেটি বহাল থাকবে না কি দুই দেশই চুক্তির শর্তে পরিবর্তন চাইবে–সেই আলোচনাও কিন্তু থমকে আছে বহুদিন ধরে। এখন যেটা চলছে তা হল নেহাত টেকনিক্যাল আলোচনা ও দু'দেশের মধ্যে নিয়মমাফিক তথ্যের আদানপ্রদান। কিন্তু চুক্তির নবায়ন করতে হলে যে রাজনৈতিক পর্যায়ের অংশগ্রহণ দরকার, সেটি এখনও হয়ে ওঠেনি। অথচ দুই দেশেরই জানা আছে, সময়মতো চুক্তিটির নবায়ন না হলে গঙ্গার জল ভাগাভাগি নিয়ে বিরাট জটিলতার সৃষ্টি হবে।
এখন তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদী সরকারের মধ্যে পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যদি সেই আলোচনা শুরু হয় (কারণ হাতে সময় মাত্রই কয়েক মাস), তাহলে সেটা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। বোঝা যাবে যে, একটি জটিল সমস্যার নিষ্পত্তিতে দুই সরকারের দিক থেকেই তাগিদ আছে এবং তারা একে অন্যের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এনগেজমেন্টগুলো করতে প্রস্তুত।
এদিকে ভারতের পার্লামেন্টে তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি-রা সম্প্রতি গঙ্গা চুক্তি নিয়ে যে সব প্রস্তাব এনেছেন বা প্রশ্ন তুলেছেন, তা থেকে স্পষ্ট চুক্তি নবায়নের আলোচনায় তারাও অংশ হতে চায়।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচনও একেবারে দোরগোড়ায়, রাজ্যের ক্ষমতায় যদি ভোটের পর তৃণমূল কংগ্রেসই থাকে তাহলে গঙ্গা চুক্তির আলোচনায় তাদের মতামত উপেক্ষা করা কেন্দ্রের পক্ষে কঠিন হবে। বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপি বা তৃণমূল কংগ্রেসের যে অবস্থান – পশ্চিমবঙ্গের ভোট মেটার আগে তাতে খুব একটা পরিবর্তন হবে না বলেই ধরে নেওয়া যায়।
ছবি : সংগৃহীত
এলপিজির সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। অক্টোবর মাসের জন্য আজ রোববার (৪ অক্টোবর) নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
নতুন দাম অনুযায়ী, অটোগ্যাসের দাম লিটারে প্রায় ১২ টাকা বাড়িয়ে লিটারপ্রতি ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এই দাম ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।
আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ দাম বহাল থাকবে।
এদিকে, এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দামও ২৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি সিলিন্ডার কিনতে হবে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায়।
ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাজ্যের হাই কমিশনার সারাহ কুক। সাক্ষাতে তারা উভয় দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন।
রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাই কমশিনারের এ সাক্ষাৎ হওয়ার তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক।
তিনি বলেন, ‘‘সাক্ষাতে দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয়াদি এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসন ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও তারা এ সাক্ষাতে আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরেন সহকারী প্রেস সচিব।
সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সাক্ষাতের সময়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সাত মাসের মধ্যেই সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে নেতিবাচক প্রচারণার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
রাষ্ট্রপ্রধান ‘উদার, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে সব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন।
আজ রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান বলে জানিয়েছে তার দপ্তর।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছেন। সকলের ঐক্যের ফলেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। “এই ঐক্য ও সম্প্রীতি নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টা শক্তভাবে প্রতিহত করতে হবে।”
এদেশের হিন্দু-মুসলমাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক বন্ধন রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এ সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”
পিছিয়ে পড়া মতুয়া সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানার রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, “একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হলেও সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
রাষ্ট্রপতি বলেছেন, দেশে একটি উদার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কেউ যেন নষ্ট করতে না পারে-সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
“বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।”
মতুয়াদের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি পদ্মনাভ ঠাকুর। মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শনের জন্য তারা আমন্ত্রণ জানালে সেটি পরিদর্শনের আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি।
প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সভাপতি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য সুবর্ণা সিকদার, কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ বিশ্বাস, উপদেষ্টা আহসান হাবিব অপু, সমেন কুমার সাহা, মিশনের খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি নিত্যানন্দ মণ্ডল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন ও প্রেস সচিব সরওয়ার আলম।
সাব-রেজিস্ট্রার বদলি মঙ্গলবার লটারির মাধ্যমে
বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি করা হবে। আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ লটারি অনুষ্ঠিত হবে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ রোববার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর জন্য নির্ধারিত পদগুলোতে দেশের বিভিন্ন জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রারদের মধ্যে থেকে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হবে।
এতে বলা হয়, লটারি কার্যক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত থাকবেন। জনসাধারণের সম্পত্তি নিবন্ধন-সংক্রান্ত সেবা আরও সহজ, সুশৃঙ্খল ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সংস্কার ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে বদলির এ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও উপসর্গে এক হাজার ১২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০২ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ২৩ জন মারা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে দুইজন ও রংপুর বিভাগে একজন মারা গেছে।
একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ২১৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭৪ হাজার ১৪৯ জন।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বাজারে ফের বাড়ল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। নতুন মূল্য অনুযায়ী অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়েছে। রোববার বিকেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ দাম ঘোষণা করে। নতুন দাম আজ সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে।
একই হারে সাড়ে ৫ কেজি থেকে ৪৫ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়ানো হয়েছে। গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা করা হয়েছে।
তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যদিও এই এলপিজির সরবরাহ খুবই সীমিত হওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের বেশিরভাগই তা কিনতে পারেন না।
রোববার নতুন দর ঘোষণা করে বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও দাম সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে কমিশন।
নতুন দর এমন সময়ে ঘোষণা করা হলো, যখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজির সংকট চলছে। বাড়তি দাম দিয়েও কোথাও কোথাও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। আবার যেখানে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন দর ঘোষণার পর বাজারে ভোক্তার ওপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যেই সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে ১২ আমদানিকারকের সেপ্টেম্বর মাসের আমদানি ও বিক্রির তথ্য চেয়েছে বিইআরসি। শনিবার চিঠি দিয়ে আজ রোববারের মধ্যে এসব তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছ থেকে পাওয়া আমদানির তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, আমদানি ও বিক্রির তথ্য পাওয়ার পর পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে আমদানিকারকরা সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দেন। ২৫ সেপ্টেম্বরের পর কয়েকটি ডিপো থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তবে আমদানিকারকরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, তারা বিইআরসির নির্ধারিত দামেই ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে এলপিজি সরবরাহ করছেন। তাদের দাবি, আমদানিকারক পর্যায়ে কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়নি।
এর আগে গত শনিবার জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও আমদানিকারকরা একই দাবি করেন। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি ও জাহাজভাড়া বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন তারা। বাজারে কারসাজি হয়ে থাকলে তা ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে হতে পারে বলে তাদের দাবি।
বিইআরসির হিসাবে, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবার এলপিজির মাসভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ৯৭৫ টাকা। এরপর কখনও দাম বেড়েছে, কখনও কমেছে। তবে কমার তুলনায় বাড়ার প্রবণতাই বেশি।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে হয় ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। পরে ভ্যাট কমায় ১৫ টাকা কমে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৪১ টাকা। মার্চে অপরিবর্তিত থাকার পর এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বেড়ে দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকায় ওঠে।
এরপর জুনে ৫৫ টাকা এবং জুলাইয়ে ৩৫৭ টাকা কমানো হয়। আগস্টে আবার ৭০ টাকা বেড়ে দাম হয় ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এক মাসের ব্যবধানেই এবার সেই দাম আবার ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হলো।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়লেও যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা কমে আসে। এরপর কয়েক মাস ধরে বাজারে দামের ওঠানামা চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই পরিবর্তনের সঙ্গে সমন্বয় করেই দেশের বাজারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।