সচিবালয়ে ২১ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে

  • প্রকাশ : রবিবার ০৫ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৬:৩৫ এএম

বাংলাদেশ সচিবালয়ে ২১ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৪৯ কোটি ২৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা। 


গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রকল্পটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের সব আয়োজন এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর প্রাণকেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। সরকারি অর্থায়নে ২০২৯ সালের জুন মেয়াদের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।


প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আসন্ন সভায় উপস্থাপিত হচ্ছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম একনেক সভা আগামী ৬ এপ্রিল। 


রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমান।


প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম


সচিবালয় প্রাঙ্গণে অধিকসংখ্যক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের স্থান সংকুলান, জমির সুষ্ঠু ব্যবহার ও সরকারি অর্থের সুষ্ঠু উপযোগিতা নিশ্চিত করাই হলো প্রকল্পটির উদ্দেশ্য।


প্রধান কার্যক্রম সম্পর্কে বলা হয়েছে, ২১ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে চারটি বেজমেন্টসহ একটি ফাউন্ডেশন, সুপার স্ট্রাকচার, অভ্যন্তরীণ পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়ন ও গ্যাস সংযোগ। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ জলাধার নির্মাণ করা হবে।


সেই সঙ্গে দুটি সাব-স্টেশন (প্রতিটি ২ হাজার কেভিএ), জেনারেটর (দুটি ৫০০ কেভিএ ও তিনটি ৪০০ কেভিএ) ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। থাকবে ছয় সেট প্যাসেঞ্জার লিফট, ছয় সেট ফায়ার লিফট ও দুই সেট বেড লিফট। 


অগ্নিনিরাপত্তা ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থা স্থাপন এবং মাল্টিমিডিয়াসহ কনফারেন্স সিস্টেমও থাকবে। এর সঙ্গে নির্মাণ করা হবে ২০টি আধুনিক কনফারেন্স রুম।


এছাড়া প্রকল্প চলাকালে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য সেফটি ক্যানোপি, সেফটি নেট ও সার্ভিস লিফট স্থাপন, পানি বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থা সরবরাহ এবং আসবাবপত্র কেনা হবে।


বর্তমান চাহিদার ৪২.৩০ শতাংশ পূরণ


পরিকল্পনা বিভাগ বলছে, সরকারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়। অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সচিবালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক বাস্তবায়িত হয়। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বহুলাংশে এবং সামগ্রিকভাবে সেবা বৃদ্ধি পাওয়ায় কেবল কর্মকর্তা-কর্মচারী নন, প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, বিদেশি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাসহ সাধারণ জনগণ নিজ নিজ প্রয়োজনে এখানে আগমন করেন।


একনেক সভায় মোট ১৭টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত আরও ৩৩টি প্রকল্প একনেকে অবহিত করার জন্য তোলা হবে। এসব প্রকল্পের মধ্যে ‘বাংলাদেশ সচিবালয়ে ২১ তলা বিশিষ্ট নতুন অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি রাখা হয়েছে।- পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল


সচিবালয়ে বর্তমানে বিদ্যমান স্থাপনাগুলো ক্রমবর্ধমান ব্যবহারকারীর চাহিদা পূরণে সক্ষম হচ্ছে না। প্রস্তাবিত ভবনটি নির্মিত হলে সচিবালয়ে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৬৩৬ বর্গফুট জায়গা পাওয়া যাবে, যাতে অতিরিক্ত চাহিদার ৪২ দশমিক ৩০ শতাংশ পূরণ হবে। এর মাধ্যমে আরও উন্নত সেবা প্রাপ্তি সম্ভব হবে। 


প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে পরিকল্পনা বিভাগ।


ভূমিকম্প সহনীয় আধুনিক নির্মাণশৈলী


গণপূর্ত অধিদপ্তর জানায়, সচিবালয়ে বিদ্যমান অফিস স্পেস ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৭২ ফুট। তবে বর্তমানে অতিরিক্ত চাহিদা রয়েছে ৬ লাখ ৮০ হাজার বর্গফুট। প্রস্তাবিত ভবনটি হলে এই চাহিদার একটি অংশ পূরণ করা সম্ভব হবে।


নতুন বহুতল ভবনটি ভূমিকম্প সহনীয় করতে অত্যন্ত আধুনিক নির্মাণশৈলী ব্যবহার করা হবে। সেই আলোকে বেজমেন্টসহ ২১ তলা ভবনের নকশা স্থাপত্য অধিদপ্তর চূড়ান্ত করেছে। বেইজমেন্টে গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থার পাশাপাশি পার্কিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, পাবলিক এড্রেস সিস্টেমস অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার সংস্থান রেখে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।


এ নিয়ে কথা হলে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার জাগো নিউজকে বলেন, আগামী ৬ এপ্রিল সরকারের প্রথম একনেক। সভায় মোট ১৭টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে, যার মধ্যে ৯টি নতুন। 


এছাড়া পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত আরও ৩৩টি প্রকল্প একনেকে অবহিত করার জন্য তোলা হবে। এসব প্রকল্পের মধ্যে ‘বাংলাদেশ সচিবালয়ে ২১ তলা বিশিষ্ট নতুন অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি রাখা হয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান। হোয়াইট হাউসের সৌজন্যে ছবিটি শনিবার প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৬ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানের তোলা দুটি ছবি প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের সৌজন্যে শনিবার ছবি দুটি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।


জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে জড়ো হয়েছিলেন বিশ্বনেতারা। তাদের সম্মানে নিউ ইয়র্কের বিলাসবহুল ‘লোটে নিউ ইয়র্ক প্যালেস’ হোটেলে ২২ সেপ্টেম্বর নৈশভোজ আয়োজন করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। 



সেই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানও। দুটির মধ্যে একটি ছবি নৈশভোজে তোলা হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক।


নৈশভোজের ছবিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি হন তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান। ছবির মাঝে দাঁড়ানো ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ডানে ছিলেন তারেক রহমান; বাঁয়ে ছিলেন জুবাইদা রহমান। ছবিতে তিনজনকেই হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়।


আরেকটি ছবি তোলা হয় পরের দিন; জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে।

মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে জুবাইদা রহমান। (ছবি-হোয়াইট হাউসের সৌজন্যে)

ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সহধর্মিণীদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক আয়োজন করেন। সেখানে মেলানিয়ার সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি হন জুবাইদা রহমান। তাদের পেছনে একটি ব্যানার ছিল, যার স্লোগান ছিল ‘বি বেস্ট’। এটি মূলত মেলানিয়া ট্রাম্পের একটি সামাজিক উদ্যোগের স্লোগান।


সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৬ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব পাওয়া নতুন সরকার আগামী পাঁচ বছরে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা এখন প্রতিশ্রুতি থেকে সরাসরি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। 


আজ শনিবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।


এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’। সম্মেলনটি ৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এতে শতাধিক দেশের প্রায় ২শ’ বক্তা, ৩শ’-এর বেশি প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিচ্ছেন। 


সম্মেলনে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ এবং মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারাসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করার পাশাপাশি দেশকে শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উৎপাদন, সেবা, রপ্তানিসহ সকল খাতে আমরা ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। 


বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতাই বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা দেবে।


তিনি বলেন, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ অগ্রাধিকার পান। ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। যা সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু হবে। ‘কৃষক কার্ড’ কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষিসেবা ও বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করবে। ‘হেলথ কার্ড’ সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে এবং চূড়ান্তভাবে ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর মাধ্যমে নাগরিকরা এক ছাতার নিচে সমন্বিত সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।


স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগে কাজ করছে, যাদের প্রায় ৮০ শতাংশই নারী হবেন। তাঁরা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা প্রদান করবেন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।




শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের জন্য নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করারও মাধ্যম হতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছি।’ 


তিনি আরও বলেন, শিশুদের চরিত্র গঠনে পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়া এবং সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে। 


শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নতিকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।’ দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে দক্ষতা, উন্নয়ন ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। 


তিনি বলেন, 'সরকার ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা  উন্নয়ন ও স্টার্ট-আপগুলোকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই আমাদের তরুণেরা বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করুক এবং ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে রূপান্তর করুক।'


কৃষিকে অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজারসংযোগ আরও সহজলভ্য করা হচ্ছে। মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তার পরিপূরক হিসেবে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিপণ্য রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ।’ 


পানি নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ কৃষিখাতকে সহায়তা করার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।’


পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনে বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।’ 


তিনি বলেন, ‘বিশ্বের শীর্ষ ১শ’টি লিড সার্টিফায়েড ফ্যাক্টরির মধ্যে ৫৩টিই এখন বাংলাদেশে রয়েছে।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার মাধ্যমে বর্জ্য হ্রাস, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।’


প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সুদৃঢ় করছি। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। 


আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।’


রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এখনও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মিয়ানমারে তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।’ 


এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে সংকটের মূল কারণগুলোরও সমাধান করতে হবে। যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে মিয়ানমারেই।’


বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রেখে চলেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনে অপার সম্ভাবনা রয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিকভাবে অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে হলে আরও গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব। নতুন বাজার উন্মুক্ত করার পাশাপাশি তরুণদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আমরা আরও শক্তিশালী সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি।


বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ তার সব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাবে। কারণ শান্তি ও সম্প্রীতিই হলো যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মূলভিত্তি। 


প্রধানমন্ত্রী বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে এমন একটি এলাকায় পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসঙ্গে বিকশিত হবে, পারস্পরিক সমান সুবিধা গ্রহণ করবে এবং নাগরিকরা অর্থবহ সহযোগিতার হাত প্রসারিত করবে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে তার যথাযথ ভূমিকা পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।


সিজিএস আয়োজিত এবারের বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের পাঁচটি মূল আলোচ্য বিষয়-ভূরাজনীতি, নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবারস্পেস ও তথ্যক্ষমতা, বাণিজ্য, সংযোগ ও কৌশলগত প্রবৃদ্ধি, জলবায়ু, সহনশীলতা ও মানব নিরাপত্তা।

সর্বশেষ সব খবর

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:২২ পিএম

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়ামের চালান বাংলাদেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে রাশিয়া থেকে আসা বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। 


আজ ভোরে কঠোর নিরাপত্তায় চালানটি পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়ার কথা রয়েছে।


রসাটমের সূত্রে জানা গেছে, উড়োজাহাজ থেকে ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ গাড়িতে চালানটি তুলতে প্রায় চার ঘণ্টা লাগবে। এরপর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে তা রূপপুরে নেওয়া হবে। চালান পরিবহনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দায়িত্ব পালন করবে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রূপপুরের দুই ইউনিটের জন্য মোট ৯টি কার্গোতে ইউরেনিয়াম আসবে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি চালান রয়েছে। 


নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে এসব চালানে প্রথম ইউনিটের জন্য বাড়তি ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দেশে আসার কথা।


রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব চালান বাংলাদেশে আসছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর একটি চালান আসার কথা থাকলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল হয়। পরে জটিলতা কাটিয়ে নতুন সূচিতে চালান পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম শুক্রবার জানিয়েছিলেন, রাশিয়া থেকে জ্বালানিবাহী বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর সেটি রূপপুরে নেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।


রূপপুরের প্রথম ইউনিটে এরই মধ্যে জ্বালানি লোড করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পর চুল্লির জ্বালানির একটি অংশ পরিবর্তন করতে হয়। এ কারণে প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জ্বালানিও আগাম আনা হচ্ছে। 


চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে। পরে নির্দিষ্ট সময় পরপর প্রয়োজনীয় জ্বালানি বাংলাদেশকে আমদানি করতে হবে।


রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় রসাটম ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। দুই ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

সর্বশেষ সব খবর

অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১৭ পিএম

ময়মনসিংহের নান্দাইলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। 


তিনি বলেন, নান্দাইলে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলে বা কোনো অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


গতকাল শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকালে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।


পোস্টে তিনি লিখেন, নান্দাইল থেকে আমি যদি কোনো অভিযোগ পাই যে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কেউ কোনো টাকা নিয়েছে তাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব। কাজেই, সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক করে দিলাম। সাবধান। তবে আমি বিশ্বাস করি আমাদের নান্দাইলের কেউ এরকম দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকবেন না।


সামাজিক মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর এই কঠোর বার্তা প্রকাশের পর স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, প্রতিমন্ত্রীর এই প্রত্যক্ষ নজরদারির ফলে প্রকৃত অসচ্ছল ব্যক্তিরাই সরকারি সুবিধা পাবেন এবং অনিয়মকারীদের অপচেষ্টা নস্যাৎ হবে।


এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এনামুল কাদির বলেন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী একজন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব নেতা। দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে তার নীতি শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স)। তার নাম ভাঙিয়ে কোনো অপকর্ম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না- এ কথা তিনি শুরু থেকেই স্পষ্ট করে আসছেন।

সর্বশেষ সব খবর

তৌফিক ইমরোজ খালিদী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪১ পিএম

অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বিডিনিউজের স্পেশাল অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর রাজীব নূর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


জানা গেছে, মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের কারণে বৃহস্পতিবার রাতে তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। লন্ডন স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


তৌফিক ইমরোজ খালিদী ২০০৬ সাল থেকে নিজ মালিকানাধীন বাংলাদেশি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সংবাদসংস্থা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি লন্ডন-ভিত্তিক গণমাধ্যম বিবিসিতে উপস্থাপক, প্রযোজক এবং সম্পাদক পদে কাজ করেন।


বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আগে, খালিদী সম্পাদকীয় ও গণমাধ্যম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্রডশিট পত্রিকায় সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তিনি ঢাকা এবং লন্ডন, প্যারিস এবং টোকিওর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।


খালিদী ডিসেম্বর ২০১৭ সালে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ উন্নয়নে ‘বিশেষ স্বীকৃতি ও সম্মাননা’ হিসেবে জাতীয় আইসিটি পুরস্কার অর্জন করেন।

সর্বশেষ সব খবর

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৪ পিএম

জামায়াত নেতা ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার বিকেলে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার আকতার হোসেন।


এর আগে শুক্রবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন।


একই দিন বিকেলে মামলার এজাহার আদালতে এলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তা গ্রহণ করেন। বিমানবন্দর থানার এসআই মাজেদুল ইসলামকে আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক।


মামলার এজাহারে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট (বিজি-৩৩৮) বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিপুল যাত্রীর চাপ সৃষ্টি হয়। এ সময় ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি-সংকট দেখা দেয় এবং যাত্রীরা লাগেজ পেতে বিলম্বের মুখে পড়েন। এতে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যাত্রীদের ক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্যে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালককে ‘আমি কিন্তু পিটাব ধইরা’ এবং ‘ঘাড় ধরে বের করে দেব’ বলে হুমকি দেন। একই সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী সম্পর্কেও অশালীন মন্তব্য করেন তিনি।


এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত (কেপিআই) এলাকায় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। সেখানে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের ভিডিও ধারণে নিষেধ করেন। এতে আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।


এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।


মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে স্পর্শকাতর ও সংরক্ষিত বিমানবন্দর এলাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

সর্বশেষ সব খবর