প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
মেয়েরা যাতে বেতন ছাড়াই ‘ডিগ্রি পর্যন্ত’ পড়াশোনা করতে পারে, তা সরকার নিশ্চিত করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “আমরা বলেছিলাম বাংলাদেশের জনসংখ্যা এই যে প্রায় ২০ কোটি, এর অর্ধেক হচ্ছে নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এই নারীদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে ফ্রি করে দিয়েছেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত। প্রথমবার করেছেন স্কুল পর্যায়ে, দ্বিতীয়বার করেছেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে।
“খালেদা জিয়ার সেই কর্মসূচির অংশকে আমরা আরও সামনে নিয়ে যেতে চাই। এই জন্য আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে, ইনশাআল্লাহ নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত অর্থাৎ উচ্চতর পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ বিনামূল্যে ব্যবস্থা করব।”
আজ সোমবার দুপুরে যশোরের শার্শা উপজেলায় খুলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “শুধু মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করব না, একই সাথে আমাদের যে মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করতে পারবে, তাদের জন্য আমরা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব সরকার থেকে, যাতে করে তারা আরও উচ্চতর শিক্ষা লাভ করতে পারে।”
প্রধানমন্ত্রী ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার কথা বললেও বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল- মেয়েদের স্নাতকোত্তর এবং ছেলেদের জন্য স্নাতক ও সমপর্যায় অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি সম্প্রসারণ করা হবে।
নারীরা পাবেন ‘এলপিজি কার্ড’
পরিবারের নারীপ্রধানদের জন্য বিএনপির যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রতিশ্রুতি ছিল, সেই কর্মসূচি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এ কার্ডে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা মিলবে, যা দিয়ে একজন নারী সন্তানকে ভালো খাবার খাওয়াতে পারবে। সেই সঙ্গে হাঁস-মুরগি পালন, গরু-ছাগল পালনের মাধ্যমে নিজের রুজি-রোজগারের ব্যবস্থা করতে পারবে।
নারীদের জীবনকে আরও সহজ করতে সরকার ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও জানান সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, “আমরা দুদিন আগে আরেকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এই মা-বোনদের একটি ব্যাপারে খুব কষ্ট হয়, রান্নাবাড়ির ব্যাপারে কষ্ট হয়; সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক বা শহরের মা-বোনই হোক।
“আমরা যেরকম সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি, সেরকম আরেকটি কাজ করতে চাই- সেটি হবে ‘এলপিজি কার্ড’। ‘এলপিজি গ্যাস’- এটি আমরা মা-বোনদেরকে পৌঁছে দেব, যাতে করে মা-বোনদেরকে রান্নাবান্নার জন্য কষ্ট করতে না হয়।”
‘তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়’
জামায়াত জোটকে ইংগিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই সনদের অর্থ ভিন্নভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চলছে।
সরকারপ্রধান বলেন, “প্রিয় ভাই-বোনেরা, আপনাদেরকে সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। যারা গণভোটের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চায়, যারা জুলাই সনদের অর্থ ভিন্নভাবে তাদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য উপস্থাপন করতে চায়, এরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়।
“এই বিশৃঙ্খলা যদি সৃষ্টি করতে পারে তারা, তাহলে জনগণের যে কর্মসূচি- ফ্যামিলি কার্ডের যে কর্মসূচি, মা-বোনদের যে কর্মসূচি, কৃষকদের কৃষি কার্ডের যে কর্মসূচি, খাল খননের যে কর্মসূচি, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য মিল-কারখানা চালু করার যে কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার যে কর্মসূচি- সকল কর্মসূচি ব্যাহত হবে, এই বিশৃঙ্খলা যদি প্রশ্রয় পায়।”
তারেক রহমান বলেন, “আজকে আমরা দেখেছি বিগত সাড়ে সতেরো বছর থেকে বিভিন্ন সময় কারা কারা দেশে অশান্তির চেষ্টা করেছে, বিভ্রান্তির চেষ্টা করেছে। যতবার বিএনপি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, অতীতে আমরা দেখেছি আন্দোলনের নামে কীভাবে ১৭৩ দিন হরতাল করা হয়েছিল-মনে আছে আপনাদের?
“১৭৩ দিন কীভাবে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রিয় ভাই-বোনেরা, এখনো আমার সেই ভূত আরেকজনের কাছে গিয়ে আছর করেছে। আপনাদেরকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি- আমরা যারা শহীদি দল করি, আমরা যারা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সৈনিক; আমরা বিশ্বাস করি-এই দেশই হচ্ছে আমাদের প্রথম, এই দেশই হচ্ছে আমাদের শেষ ঠিকানা। সেজন্যই আমরা বলি-‘প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ’।”
বাবার কাটা খালের পুনঃখননের সূচনা
পাঁচ দশক আগে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের যেখান থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যশোরের সেই উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তার ছেলে তারেক রহমান।
এদিন বেলা ১২টার দিকে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ খনন কার্যক্রমের সূচনা শেষে খালপাড়ে সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, “এই খালে পানি নাই। কারণ এই খালগুলো আজকে বন্ধ হয়ে গেছে, ভরাট হয়ে গিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় খাল দখলও হয়ে গিয়েছে। এই যে খাল ভরাট হয়ে গিয়েছে, খাল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, খাল দখল হয়ে গিয়েছে তাতে কি সাধারণ মানুষ বা কৃষকদের কোনো উপকার হয়েছে? কোনো উপকার হয়নি।
বাবার কাটা খালের পুনঃখননের সূচনা
পাঁচ দশক আগে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের যেখান থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যশোরের সেই উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তার ছেলে তারেক রহমান।
এদিন বেলা ১২টার দিকে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ খনন কার্যক্রমের সূচনা শেষে খালপাড়ে সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, “এই খালে পানি নাই। কারণ এই খালগুলো আজকে বন্ধ হয়ে গেছে, ভরাট হয়ে গিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় খাল দখলও হয়ে গিয়েছে। এই যে খাল ভরাট হয়ে গিয়েছে, খাল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, খাল দখল হয়ে গিয়েছে তাতে কি সাধারণ মানুষ বা কৃষকদের কোনো উপকার হয়েছে? কোনো উপকার হয়নি।
বাবার কাটা খালের পুনঃখননের সূচনা
পাঁচ দশক আগে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের যেখান থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যশোরের সেই উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তার ছেলে তারেক রহমান।
এদিন বেলা ১২টার দিকে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ খনন কার্যক্রমের সূচনা শেষে খালপাড়ে সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, “এই খালে পানি নাই। কারণ এই খালগুলো আজকে বন্ধ হয়ে গেছে, ভরাট হয়ে গিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় খাল দখলও হয়ে গিয়েছে। এই যে খাল ভরাট হয়ে গিয়েছে, খাল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, খাল দখল হয়ে গিয়েছে তাতে কি সাধারণ মানুষ বা কৃষকদের কোনো উপকার হয়েছে? কোনো উপকার হয়নি।
“এখন আজকে আমরা এসেছি এই খালটি আবার পুনঃখনন করতে, গত প্রায় ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খালটিকে খনন করেছিলেন এবং এই প্রায় চার কিলোমিটার খাল আমরা পুনঃখনন করতে পারি, তাহলে এই এলাকার মানুষ পানি পাবে।
“পানি পেলে কী হবে? আমরা দেখেছি, প্রায় ২০ হাজারের মত কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে, প্রায় ১৪০০ টন বাড়তি খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে, প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে এই খালে পানি আসলে।”
তিনি বলেন, “এই খালে পানি থাকলে উপকারটা কাদের হবে ভাই? এই এলাকার মানুষের হবে। শুধু তাই নয়, ইনশাল্লাহ এই খাল পুনঃখনন যখন শেষ হয়ে যাবে, আমরা ইনশাল্লাহ এই খালের দু‘পাশ দিয়ে প্রায় ৩ হাজার বৃক্ষরোপণ করব।
“যারা ঘরে হাঁস পালন বা হাঁস পালতেন আগে; কিন্তু এই খালে পানি না থাকার কারণে অনেকের ঘরে সেটা সম্ভব হয় না। কিন্তু যখন খালে পানি থাকে, তখন মা-বোনদের জন্য একটি বাড়তি রোজগারের সুবিধা হবে হাঁস পালনের মধ্যে দিয়ে।
“আমরা যদি সকলে মিলে পরিশ্রম করি তাহলে অবশ্যই ভাগ্যের পরিবর্তন করা সম্ভব তাহলে অবশ্যই দেশের অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব তাহলে অবশ্যই দেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে।”
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’- এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
চলতি বছরেই নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’- এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
এ বছরের মধ্যেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে।’
তিনি বলেন, ‘সবই হবে, তবে অধিকতর আলোচনার বিষয় আছে। আজকে একটা দিক নিয়ে আলোচনা করেছি। আরও অন্যান্য বিষয় আছে। সেসব আলোচনার পর পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত হলে তখন আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।’
পে-স্কেল ঘোষণার ক্ষেত্রে সরকার সব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। এ সময় অর্থমন্ত্রী সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানান। পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানান তিনি।
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার মামলার রায় যেকোনো দিন
জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৭ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে।
মামলাটি এখন রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করা হবে। আজ সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইবুনাল-২ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এই আদেশ দেন।
এদিন রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত চেয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। অপরদিকে ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত দুই আইনজীবী হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান অনি বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি আসামিদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি দাবি করেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন-কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
ছবি : সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা বা অটোরিকশা চার্জ দিলে জরিমানার বিধান করা হচ্ছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া চার্জ করলে এসব অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে না এবং নিবন্ধনের পর নবায়নও করা হবে না।
সোমবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত ই-রিকশাগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার আওতায় নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শর্ত থাকবে, এসব যানবাহন চার্জ দিতে হবে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে।
তিনি বলেন, সৌর বিদ্যুতের বাহিরে রিচার্জ করলে এই ব্যাটারিচালিত বা ই-রিকশাগুলোকে আমরা রেজিস্ট্রেশন দেব না এবং নবায়ন করব না।
সৌরবিদ্যুতের বাইরে অন্য বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করলে জরিমানার বিধানও রাখা হচ্ছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, তারা সৌর বিদ্যুতের বাহিরে অন্য বিদ্যুৎ চার্জে রিচার্জ করতে গেলে তাদের যে জরিমানা হবে, সেটাও আইনে থাকবে।
তিনি বলেন, যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ঢাকাকে ৮টি জোনে বিভক্ত করতে চায় সরকার। এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না।
এসময় পর্যায়ক্রমে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরেই পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় সরকার। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি শেষ হলেই ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য খরচ হবে ৬ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের বাজেটেই বরাদ্দ আছে বলেও অবহিত করেন প্রতিমন্ত্রী।
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ‘১৮০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী
দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যক্তি বন্দনার রাজনীতি থেকে বর্তমান সরকার পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী।
তিনি বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি, অনুষ্ঠানে কেউ এলে তাকে নিয়ে বন্দনা করতে করতে ১০-১৫ মিনিট সময় ব্যয় করা হতো। কিন্তু বর্তমান সরকার এই স্তূতির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি নতুন ধারার সূচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের শাপলা হলে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ‘১৮০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, সারাবিশ্বেই নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম ১০০ দিনকে ‘হানিমুন পিরিয়ড’ বলা হয়। কিন্তু কোনো একটি সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে তার প্রাথমিক ফলাফল পেতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগে। বর্তমান সরকার যেহেতু জনগণের সরকার, তাই জনগণের কাছে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এবং জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতেই আমরা ১৮০ দিনের মাথায় কাজের হিসাব তুলে ধরেছি।
সরকারের বড় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে সালেহ শিবলী বলেন, আমাদের সরকারের একটি বড় সাফল্য হলো নির্বাচনী ইশতেহারের ৩১ দফার প্রতিটি ধরে ধরে বাস্তবায়ন করা। অতীতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এভাবে ধরে ধরে বাস্তবায়নের কোনো নজির আমরা দেখিনি।
রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের একটি উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা ছিল রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে। বর্তমান সরকার সেই পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর হাম ও রুবেলার টিকা নিয়ে যে একটি অসহনীয় অবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার দায় এই সরকারের ছিল না। তারপরও প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে সন্তান ও স্বজনহারা শোকাহত পরিবারগুলোর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কারণ, সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে নাগরিকদের প্রতি তার দায়দায়িত্ব থাকে। রাজনীতিতে এই জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি একটি বড় সফলতা।
‘কল্যাণমূলক রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন—আমরা বাংলাদেশটিকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা হলো, রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের যেমন দায়বদ্ধতা থাকবে, তেমনি জনগণের প্রতিও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা থাকবে। রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে থাকবে, আবার নাগরিকরাও রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করবে। এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাতেই প্রধানমন্ত্রী এবং তার পুরো দল কাজ করে যাচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ উপস্থিত আছেন।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিক কোন স্ট্যাটাসে (মর্যাদায়) বা কী হিসেবে সেখানে আছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বাংলাদেশের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে জানে না, শেখ হাসিনা ভারতে কোন স্ট্যাটাসে আছেন। ফলে ভারতীয় আদালতের অনুমতি সংক্রান্ত বিষয়টি কী অর্থে বলা হয়েছে, সেটিও পরিষ্কার নয়।’ আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে ‘শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে’ -এমন খবর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেনি, শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন কিনা বা ঠিক কী স্ট্যাটাসে সেখানে অবস্থান করছেন।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘পলাতক শেখ হাসিনা একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে ইতোমধ্যে প্রত্যর্পণের আবেদন করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
এ সময় সাংবাদিকরা অতীতে ভারতের মেঘালয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের অবস্থান এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিষয়টির কোনো সম্পর্ক আছে কিনা জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।’
তিনি জানান, সালাহউদ্দিন আহমেদকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে ভারতের শিলংয়ে তাকে পাওয়া যায়। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তিনি খালাস পান।
ছবি : সংগৃহীত
এক নিম্নচাপের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছাকাছি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের চার বিভাগে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি উপকূলীয় এলাকায় থাকা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূল এবং এর কাছাকাছি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
এর আগে তিন দিন আগে সৃষ্ট নিম্নচাপটি স্থল নিম্নচাপ হিসেবে ভারতের ঝাড়খন্ডের দিকে সরে যায়। ওই নিম্নচাপের প্রভাবে বিশেষ করে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি হয়। রাজধানীতেও গতকাল রোববার বিকেল থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি শুরু হয়। আজ সকালে ঢাকার আকাশ ছিল মেঘলা, কোথাও কোথাও ঝিরিঝিরি বৃষ্টিও হয়েছে। পরে অবশ্য রোদের দেখা মেলে।
নতুন নিম্নচাপের প্রভাবে আজ সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিকে ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিকে অতি ভারী বৃষ্টি বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে এসব এলাকার কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, চার বিভাগের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকাতেও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে। রাজধানীতেও বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।