নতুন পে স্কেল
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেল বা বেতন কাঠামোর সুপারিশ আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর (জুলাই-জুন) থেকে ধাপে ধাপে বস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে সরকার।
এর অংশ হিসেবে নতুন বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে বরাদ্দ প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হচ্ছে। বাড়তি অর্থ দিয়ে শুধু নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতনের অর্ধেক বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
সূত্র জানায়, পরের দুই অর্থবছরে বাকি অর্ধেক মূল বেতন এবং বিভিন্ন ধরনের ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, পুরো বেতন কাঠামো দুই বছরে বাস্তবায়নের একটি বিকল্প চিন্তাভাবনা রয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও অর্থ মন্ত্রণালয়বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আহমেদ তিতুমীরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সংকেত পাওয়া গেলে আগামী অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু হবে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার গত ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রণয়নে গঠিত আগের কমিটিকে পুনর্গঠন করে। সম্প্রতি ওই কমিটি তাদের মতামত জমা দিয়েছে। কমিটি আর্থিক চাপ বিবেচনায় রেখে নবম পে স্কেল একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। বেতন কমিশনও একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। এসব সুপারিশের ভিত্তিতে এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে অর্থ বিভাগ।
গত অন্তর্বর্তী সরকার নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করে।
গত ২২ জানুয়ারি কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে। এতে সর্বনিম্ন ধাপে বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। পুরো সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বছরে মোট ব্যয় প্রায় এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ও জাতীয় বেতন কমিশনের সদস্য ড. এ কে এনামুল হক বলেন, নতুন বেতন কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর করলে মুদ্রাস্ফীতির ওপর চাপ বাড়তে পারে। এ কারণে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নই অধিক যুক্তিযুক্ত। তিনি জানান, বাজারে মূল্যস্ফীতির নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে কমিশনও তিন বছরে ধাপে ধাপে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল।
সরকারের এই মুহূর্তে বেতন-ভাতা বাবদ বাড়তি ব্যয়ের আর্থিক সক্ষমতা আছে কিনা, এ বিষয়ে মতামত চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে কর আদায়ের দক্ষতা বাড়িয়ে সরকারের আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কর ফাঁকি রোধের মাধ্যমে আয় বাড়ানো সম্ভব।
তিনি মনে করেন, দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ থেকে ৭ শতাংশের ঘরে থাকলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
ড. এনামুল হক আরও বলেন, নতুন পে স্কেলের লক্ষ্য কেবল বেতন বৃদ্ধি নয়; বরং সরকারি সেবার মান উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করা। একজন কর্মচারী যদি ন্যূনতম জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে না পারেন, তাহলে তার কাছ থেকে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা আশা করা কঠিন। দারিদ্র্যজনিত চাপ থেকে কর্মচারীদের দূরে রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরিতে ধরে রাখতে উচ্চ পদগুলোর বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। পাশাপাশি অনেক শিক্ষক জীবিকা নির্বাহের জন্য বিকল্প পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হন, যা তাদের পেশাদারিত্বে প্রভাব ফেলে। নতুন বেতন কাঠামো এ সমস্যাও কমাতে সহায়ক হবে ।
কমিশনের প্রতিবেদনে কী আছে
কমিশনের প্রতিবেদনে বিভিন্ন প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা প্রবর্তন ও পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার। এ ছাড়া রয়েছে সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠন, সার্ভিস কমিশন গঠন, বেতন গ্রেড ও স্কেলের যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস, সরকারি দপ্তরে ভাতা পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন। কোনো কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে, তাকে মাসিক দুই হাজার টাকা ভাতা প্রদানের সুপারিশ করেছে।
কমিশন ভাতার হার বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বর্তমানে প্রচলিত মাসিক টিফিন ভাতা ২০০ টাকার স্থলে এক হাজার টাকা করা যেতে পারে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করেছে কমিশন।
পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। মাসে ২০ হাজার টাকার কম পান এমন পেনশনভোগীদের পেনশন ১০০ শতাংশের মতো বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। যারা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার পেনশন পান, তাদের ৭৫ শতাংশ এবং মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনধারীদের ৫৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
সরকারের পরিচালন ব্যয় কেমন বাড়ছে
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট মিলিয়ে মোট ব্যয় হয়েছে দুই লাখ ৫৮ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা।
এর মধ্যে প্রথম ছয় মাসে পরিচালন খাতে ব্যয় হয়েছে দুই লাখ ২০ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। এটি মোট ব্যয়ের ৮৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। পরিচালন ব্যয়ের বড় খাত- কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন, বিভিন্ন ভর্তুকি এবং ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের ৫৮ শতাংশের কিছু বেশি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে সাত লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেটের বিপরীতে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ছয় লাখ ২৮ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ছিল চার লাখ ৭৪ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা, অথচ অনুদানসহ মোট রাজস্ব আদায় হয় চার লাখ ৪৩ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। ফলে রাজস্ব আয়ের তুলনায় পরিচালন ব্যয় প্রায় সাড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বেশি ছিল। অর্থাৎ, পরিচালন ব্যয় মেটাতেও সরকারকে ঋণ নিতে হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অর্থনীতিবিদ ড. এ কে এনামুল হক বলেন, গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৩ শতাংশে নেমে আসায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। প্রবৃদ্ধি যদি ৫ শতাংশও হয়, তাহলে রাজস্ব দিয়ে পরিচালন ব্যয়ে মিটিয়েও কিছু উদ্বৃত্ত থাকে।
তিনি আরও বলেন, ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর প্রায় সবাই করের বাইরে রয়েছেন। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হলে তারা আয়করের আওতায় চলে আসবেন, যা রাজস্ব বাড়াতে সহায়তা করবে। এ ছাড়া নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে ইতোমধ্যে পাওয়া বিশেষ ইনক্রিমেন্টগুলো সমন্বয় করা হবে।
বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন ও ভাতা পাচ্ছেন। সামরিক বাহিনী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ মোট উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও তা পরে স্থগিত করা হয়।
তবে গত জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৫ সালের জুলাই থেকে প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট চালু রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির যে চেষ্টা চলছে, তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে সরকার।
আজ রোববার রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে জরুরি বৈঠক শেষে এ কথা জানান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিতে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন ও সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এরপরও পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যাহত করা এবং অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ পরিস্থিতি তৈরি করছে বলে মনে করছে সরকার। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে শ্রমিক অসন্তোষের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং তা মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্যদের নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণ এবং পোশাক কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।
ব্রিফিংয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দাবি যেটা ছিল, মজুরি বোর্ড সেটাতো হয়ে গেছে। কাজেই এখন যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয়, পোশাক খাতে যাতে অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। এটা পরিষ্কার যে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের লোকজন ডিসেম্বরকে সামনে রেখে এসব কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’
সোমবারও শ্রমিকদের আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি রয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রমমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। সরকার তা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
দিনভর উত্তেজনা, সংঘর্ষ: মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আজ সকাল থেকেই রাজধানীর মিরপুরসহ গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। দিনভর বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।
এতে কয়েকটি এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পোশাক কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
একই সঙ্গে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া ও অসন্তোষের কারণ বিবেচনায় নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং সংসদ সদস্য ও পরিবহন শ্রমিক নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন জামায়াত নেতা ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
এক জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি জাকির হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
এর আগে ৪ অক্টোবর রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। সেদিন তার জামিন আবেদন করা হলে শুনানি শেষে তা খারিজ করেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী। ২ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি নিয়ে অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন, বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং বিএনপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
এর আগে রোববার দুপুর ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে নিজের সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরও বাতিল করেছেন শ্রমমন্ত্রী।
রোববার সকালে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, সরকার আগেই সংবাদমাধ্যম এবং শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানিয়েছিল। এরপরও শ্রমিকদের সড়কে অবস্থানের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আন্দোলনরত শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রোববার সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে মিরপুর-১১, ১২ ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় দুপুর দুইটা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
এ ছাড়া গাজীপুর, ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মধ্যে ওইসব এলাকার প্রায় ৩০০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার পুনর্ব্যবহাযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর এক পাঁচ তারকা হোটেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যেগে আয়োজিত ‘সাইন্স পলিসি ডায়লগ অন ব্ল্যাক কার্বন অ্যান্ড আদার শর্ট লাইভড ক্লাইমেট পল্যুটেন্টস’ — শীর্ষক এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, অতীতের নীতির কারণে জ্বালানি খাতে আমাদের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে আমরা জ্বালানির উৎস বহুমুখী করতে চাই। সরকার পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের প্রকল্পও চালু আছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো। এ কারণে নতুন যেসব প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোতে বৈদ্যুতিক যানবাহনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি ও খালেদা জিয়ার সিএনজির মতো পরিবেশবান্ধব যানবাহন চালুর উদ্যেগের কথা উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে কার্যকর নীতি প্রণয়নে বিএনপির সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। এ ছাড়া প্লাস্টিক ও পলিথিন নিষিদ্ধকরণ এবং পাটজাত ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রসারেও উদ্যোগ নিয়েছিল বিএনপি সরকার।
বিগত বিএনপি সরকারের সময়েও দেশব্যাপী সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি ও বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করেন তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা সেই সংস্কৃতিকে আবার নতুন করে ফিরিয়ে আনতে ও আরও বিকশিত করতে চাই।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা সবাই এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস করা হবে না; বরং প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করা হবে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, আমরা এমন প্রকল্প ও উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিতে চাই, যেখানে পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কারণ, আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিশুদ্ধ ও নির্মল বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারবে। আর সে জন্য আমাদেরকে বহুমুখী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা ব্যারেজের মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা জলাধার তৈরি করতে চাই। এর ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ধরে রাখা ও পানিসম্পদের ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওরজান গুসটাফসোনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ড. এ এস এম আব্দুল আওয়াল ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস প্রমুখ।
শপথগ্রহণ করছেন পিএসসির নবনিযুক্ত সদস্য অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নবনিয়োগপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানাকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন। আজ রোববার বিকাল ৩টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। শপথ গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নবনিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে তিনি পিএসসির সদস্য পদে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি ও সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯২৯ জন। রোববার (১ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৪২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৭৪ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ১৯২৯ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৯ জনে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৮৮ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৮৩১ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৫৭ জন, খুলনায় ২৫৯ জন, বরিশালে ২২৯ জন, রাজশাহীতে ১৮৫ জন, ময়মনসিংহে ৯২ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।