স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫ লাখ ডোজ হামের ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে টিকার এই চালান গ্রহণ করেন।
তিনি জানান, হাম-রুবেলা ও ওরাল পোলিওসহ ১০ ধরনের টিকার নতুন চালান দেশে এসেছে। বুধবার (৬ মে) বেলা পৌনে ১২টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১০ ধরনের টিকার এই নতুন চালান পৌঁছায়।
এই টিকা চলমান নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির সংকট নিরসনে কাজ করবে। সম্প্রতি হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এই চালানটি জরুরি ভিত্তিতে আনা হয়েছে। এছাড়াও নিয়মিত স্টকের টিকাগুলো ‘জরুরি ক্যাম্পেইনে’ ব্যবহার করায় টিকার সংকট তৈরি হয়।
হাম-রুবেলা-ওরাল পোলিও ছাড়াও এই চালানে বিসিজি, পেন্টাভ্যালেন্ট, পিসিভি ও টাইফয়েড টিকাও দেশে পৌঁছেছে।
চালানগ্রহণ শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ১৫ লাখ ডোজ হামের টিকা দেশে পৌঁছেছে। আগামী দিনে আর কোনো টিকার সংকট তৈরি হবে না।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২৪ দিনের মধ্যে এই টিকা দেশে এনে ইতিহাস গড়েছে সরকার। আগামী ১০ মে’র মধ্যে হামসহ ১০ ধরনের ১ কোটি ৮ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে আসবে বলে জানান তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
‘নভেম্বরে দিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী’— ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এ তথ্যের সত্যতা রয়েছে কিনা প্রশ্নে জবাব না দিয়ে অট্টহাসি দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নাকচ না করে তিনি বলছেন, সফরের দিনক্ষণ নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজে (সিজিএস) ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফর হতে পারে—ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গুঞ্জনের ওপর ভিত্তি করে মন্তব্য করতে চাই না। বাংলাদেশের খবর জানতে হলে বাংলাদেশের কাছ থেকেই জানতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘দুদেশের সচিব ও কর্মকর্তাদের পর্যায়ে সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে একটি ইতিবাচক ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।’
শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ কবে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর হলেই শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ হবে। তার আগে কর্মকর্তাদের পর্যায়ে আলোচনা করে একটি ‘কনক্লুসিভ এনভায়রনমেন্ট’ তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে দুপক্ষকেই এগিয়ে আসতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আশাবাদী জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেছেন, তারিখ ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে তা নির্ধারিত হওয়ার পর ঢাকার পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার সমাধান করতে চায়। ভারতের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা চালিয়ে গিয়ে দুই দেশই সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ যেমন সংযম দেখাচ্ছে, ভারত সরকারের কাছ থেকেও একই ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে ঢাকা।
নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তুরস্ক সফরের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান হুমায়ুন কবির।
তথ্য অধিদপ্তরে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান
বাজার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক মূল্যসহ সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য সমন্বয় করতে সরকার বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন নিয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তথ্য উপদেষ্টা।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এলপিজির মূল্য সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে সরকার। তবে নির্ধারিত দামেও এলপিজি না পেলে নজরদারি বাড়াতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, বাজারে অনিয়ম ও অবৈধভাবে এলপিজি মজুতের বিরুদ্ধে জরিমানা জোরদার করা হয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি, কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং অবৈধ মজুতের মতো অনিয়ম ঠেকাতে মাঠ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় করা হচ্ছে।
ভিজিএফে চাল দ্বিগুণ
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, মূল্যস্ফীতি ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় খাদ্যসহায়তার পরিমাণও বাড়িয়েছে সরকার। এতদিন উপকারভোগীদের ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হলেও এখন থেকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভিজিএফ কার্যক্রমের আওতায় ১০ কেজি চালের জায়গায় এখন থেকে ২০ কেজি চাল দেওয়া হবে।’
সরকারের এ সিদ্ধান্তে নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যসহায়তা বাড়বে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে ভিজিএফের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতির বিষয়েও তথ্য দেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, গত ২ অক্টোবর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি এসে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো কাজ করছে।
ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা এবং তথ্য অধিদপ্তরের সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম তাঁর নাতনির জন্মনিবন্ধন করতে মিরপুর ১০ নম্বরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আঞ্চলিক কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে বলা হয়, জন্মনিবন্ধন স্থায়ী ঠিকানায় করাতে হবে।
তাঁর নাতনির জন্ম ঢাকায় হলেও বেড়ে ওঠা বরিশালের বাকেরগঞ্জে। এ জন্য বাকেরগঞ্জ থেকে জন্মনিবন্ধনের পরামর্শ দেওয়া হয়। জাহিদুলের মেয়ে সাবেকুন বেগমের এখন শেওড়াপাড়ায় বসবাসের কথা বললেও তারা রাজি হননি। পরে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েসের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেন জাহিদুল। তাঁর সহযোগিতায় শেওড়াপাড়ার ঠিকানাতেই জন্মনিবন্ধন করাতে সমর্থ হন তিনি।
জন্মনিবন্ধন নিয়ে একেক সময় একেক সিদ্ধান্তে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সন্তানের জন্মনিবন্ধন করাতে গিয়ে মা-বাবা জানতে পারছেন, স্থায়ী ঠিকানায় নিবন্ধন করাতে হবে। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, বর্তমান ঠিকানায় জাতীয় পরিচয়পত্র করা গেলে জন্মনিবন্ধন করা যাবে না কেন?
শুধু স্কুলে ভর্তি নয়; চাকরিতে নিয়োগ, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্তত দেড় ডজন কাজে জন্মসনদ প্রয়োজন। যে কারণে বছরজুড়ে সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মসনদ নিতে ভিড় লেগেই থাকে। আর এই সেবা নিতে গেলেই ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। আগে যেখানে দুদিনের মধ্যেই জন্মনিবন্ধন সনদ মিলত, কাউন্সিলর না থাকায় এখন লাগছে অন্তত এক সপ্তাহ।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস। ২০২১ সাল থেকে দিনটি পালিত হয়ে আসছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’। দিনটি উপলক্ষে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
আগে লাগবে মা-বাবার নিবন্ধন
রাজধানীর গোপীবাগের বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয় বালা তাঁর দুই সন্তানের জন্মনিবন্ধন করতে নগর ভবনে গেলে বলা হয়, আগে মা-বাবার জন্মনিবন্ধন করাতে হবে। তা না হলে সন্তানের জন্মনিবন্ধন হবে না। কিন্তু তাঁর দুই সন্তানের জরুরি পাসপোর্ট করানো দরকার ছিল। তিনি বলেন, ‘তারা বলছে, আমি যেখানকার ভোটার, সেখানে গিয়ে জন্মনিবন্ধন করাতে হবে। আমি চাকরি করি। বাড়িতে গেলে এক-দুদিনে জন্মনিবন্ধন করা যায় না। এত ছুটি তো পাব না।’
সনদ সংশোধনে আরেক ভোগান্তি
জন্মনিবন্ধন নিয়ে ভোগান্তির কারণে অনেকেই দালালের কাছে যান। এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে তারা নিশ্চিত থাকেন, এবার সন্তানের জন্মসনদ পাবেন। তবে দেখা যায়, এসব জন্মসনদে থাকে অসংখ্য ভুল। সন্তানের নামের বানান ঠিক থাকলে ভুল থাকে মা বা বাবার নাম; কখনও কখনও জন্মতারিখও ভুল থাকে। অনলাইনে জন্মনিবন্ধন ফরম পূরণ করতে যারা দায়িত্ব পালন করেন, তাদের দক্ষতাও সন্তোষজনক থাকে না। এ জন্য ভুলে ভরা থাকে প্রায় প্রতিটি জন্মসনদ। এসব সংশোধন করাতে গিয়ে পড়তে হয় আরেক যন্ত্রণায়।
না জানিয়ে কোটি মানুষের জন্মসনদ বাতিল
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা ইশরাত পারভীন তাঁর সন্তান আতুলা আজমের জন্মনিবন্ধন সনদ নেন ২০১০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। সেই সনদ দিয়ে পাসপোর্ট করান। তা দিয়ে কয়েকটি দেশও ঘুরেছে তাঁর মেয়ে। গত জানুয়ারিতে সন্তানের স্কুল থেকে বলা হয়, জন্ম-মৃত্যুনিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে আতুলার জন্মনিবন্ধনের কোনো তথ্য নেই। পরে ইশরাত নিজেও দেখতে পান, শুধু আতুলার নয়; পুরো পরিবারের কারোরই জন্মনিবন্ধনের কোনো তথ্য ওয়েবসাইটে নেই। ইশরাত খিলগাঁওয়ে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে ছুটে যান। সেখান থেকে তাঁকে নগর ভবনে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। নগর ভবনে গেলে তাঁকে বলা হয়, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে খোঁজ নিতে। সেখানে গেলে বলা হয়, যেখানে সনদ ইস্যু করেছিল, সেখানে যোগাযোগ করতে।
আতুলার বাবা শহিদুল আজমের এ অভিযোগ পাওয়ার পর খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১২ সালের আগের জন্মনিবন্ধন সনদগুলো সরকারি সিদ্ধান্তে বাতিল করা হয়েছে। ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর জন্ম-মৃত্যুনিবন্ধনের নতুন ওয়েবসাইট ও সার্ভার চালু করা হয়। ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এটা কাজ শুরু করে। পুরোনো নিবন্ধিতদের জন্মনিবন্ধন সনদ নতুন ওয়েবসাইটে যুক্ত করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। অল্প কিছু জন্মসনদ যুক্ত করা হলেও পরে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকাতেই অন্তত ৩০ লাখ জন্মসনদ বাতিল হয়েছে। সারাদেশে এ সংখ্যা অন্তত সাত কোটি।
২০০৪ সালে জন্ম-মৃত্যুনিবন্ধন আইন করে সরকার। জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে দেখা যায়, বাংলাদেশের জনসংখ্যার চেয়ে বেশি মানুষ জন্মনিবন্ধন করেছে। একেকজনের নামে কয়েকবার নিবন্ধন হয়েছে, তাই তা ১৮ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।
তিন মাস বন্ধ ছিল ডিএসসিসির কার্যক্রম
জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম থেকে কোনো রাজস্ব না পাওয়ার অভিযোগে জুলাই থেকে এ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ডিএসসিসির চলে রশি টানাটানি। তখনও বেশ ভোগান্তিতে পড়েছিলেন ডিএসসিসি এলাকার বাসিন্দারা। পরে ডিএসসিসিকে অনুদান দেওয়ার শর্তে তিন মাস পর আবার কার্যক্রম শুরু হয়।
এদিকে সার্ভার জটিলতার কারণে সেবাগ্রহীতাদের দালালের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া গতি থাকে না। যদিও এখন এই সমস্যা নেই বলে দাবি করেন ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান। তিনি বলেন, আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোকে জন্মনিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে যে কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে জন্মনিবন্ধন করাতে পারবেন। পাশাপাশি যে কেউ রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে ঢুকে ফরম পূরণের পর প্রিন্ট করে সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গেলে দ্রুতই সনদ পেয়ে যাবেন।
শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি (সুবর্ণজয়ন্তী) উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে ১৫০ শিশু প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে বরণ করে নেয়।
পরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য অতিথির সঙ্গে আসন গ্রহণ করেন। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে-‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান।
এতে সভাপতিত্ব করছেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ এ আয়োজনে শিশুদের পরিবেশনায় থাকছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এ ছাড়া শিশুদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে ‘শৈশব’ শীর্ষক একটি বিশেষ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মসূচি অনুযায়ী, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি একাডেমি প্রাঙ্গণে শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনী ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করবেন তিনি।
মূল অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবনে যাবেন। সেখানে ভবনের নিচতলায় স্থাপিত আধুনিক সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি।
ছবি : সংগৃহীত
অপরাধের বিচার জরুরি। সেই সঙ্গে দরকার রিকনসিলিয়েশন বা পুনর্মিলন। তা না হলে সমাজ গভীরভাবে বিভক্ত থাকে। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ, পার্বত্য অঞ্চলে সহিংসতা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তেমনি দরকার রিকনসিলিয়েশন।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর ‘ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও জাতীয় পুনর্মিলন’ শীর্ষক অধিবেশনে আলোচকদের বক্তব্যে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
রাজধানীর একটি হোটেলে আজ র্সোমবার অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। তিন দিনব্যাপী আয়োজনের শেষ দিন ছিল সোমবার। এ অধিবেশনে বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকা, কম্বোডিয়া, ভারত ও নেপাল থেকে আসা শিক্ষক ও গবেষকেরা ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও রিকনসিলিয়েশনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
তবে আলোচক হিসেবে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রায়ই দেখা যায়, রিকনসিলিয়েশন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, এটিকে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনি পরিণতি থেকে রক্ষা করার রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিচারহীন জাতীয় রিকনসিলিয়েশন কোনো শান্তি নয়, তা কেবল সংঘাতের মধ্যকার একটি সাময়িক বিরতি মাত্র।
কায়সার কামাল জাতিসংঘের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ১ হাজার ৬০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যার মধ্যে ১২ থেকে ১৩ শতাংশই ছিল শিশু। এই ভয়হীন, আপসহীন প্রজন্ম একটি নতুন দেশ গড়ার জন্য লড়াই করেছিল, যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার পাবে এবং অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান দলের প্রতিবেদনে প্রাক্কলন করা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে সরকারি তালিকায় শহীদের সংখ্যা ৮৪৩। নতুন আবেদন নেই।
কায়সার কামাল বলেন, সবাই অবগত যে অপশক্তিগুলো এখন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে। দুর্ভাগ্যবশত, দেশ-বিদেশের কিছু গোষ্ঠী রিকনসিলিয়েশনের দোহাই দিয়ে তাদের পক্ষে কথা বলছে। এ ধরনের চিন্তা দেশকে নতুন সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে, যার পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত ভয়াবহ ও অকল্পনীয়। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ও দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চান, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) রিকনসিলিয়েশনের কোনো সুযোগ নেই।
এ অধিবেশন সঞ্চালনা করেন নেপাল ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারনেশনাল কো-অপারেশন অ্যান্ড এনগেজমেন্টের গবেষণা পরিচালক প্রমোদ জয়সওয়াল। তিনি মনে করেন, ন্যায়বিচার দরকার। তবে রিকনসিলিয়েশন না হলে সমাজ গভীরভাবে বিভক্ত থাকতে পারে।
জবাবদিহিকে অবশ্যই প্রতিশোধ থেকে আলাদা করতে হবে বলে মনে করেন প্রমোদ জয়সওয়াল। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ সমাজেই জবাবদিহিকে প্রতিশোধের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়। রিকনসিলিয়েশন মানেই অতীত নিয়ে সম্পূর্ণ একমত হওয়া নয়। আবার এর মানে গুরুতর অন্যায় বা অপরাধগুলোকে ভুলে যাওয়া কিংবা ক্ষমা করে দেওয়াও নয়। বরং এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ব্যক্তি ও সম্প্রদায় মর্যাদার সঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে। ঐতিহাসিক ক্ষোভগুলোকে স্বীকৃতি দিতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে একে অপরের ওপর আস্থা পুনর্গঠন করতে পারে।
ভারতের রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কারোরি সিং বলেন, যাঁরা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকেন, তাঁরা স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠেন। দক্ষিণ এশিয়ার পটভূমিতে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালে দেখা যাচ্ছে এই স্বেচ্ছাচারিতাই সমস্যার সৃষ্টি করছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার উইটস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাদালিৎসো জিলিলো ফিরি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন (সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন) হয়েছিল, যা একটি নতুন সমাজ কল্পনার পূর্বশর্ত ছিল। তা নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। কারণ, উদারনৈতিক প্রতিষ্ঠান বা গণতান্ত্রিক বন্দোবস্ত সাম্যের সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে সক্ষম হয়নি।
কম্বোডিয়া গৃহযুদ্ধের শিকার এবং সেখানে রিকনসিলিয়েশনের প্রচেষ্টা ১৯৯১ সালের আগেই শুরু হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন দেশটির সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক নিকি সিঙ্গার।
তিনি বলেন, কম্বোডিয়ায় জাতীয় রিকনসিলিয়েশনের আওতায় ১৯৯৮ সালে খেমার রুজ (বিদ্রোহী গোষ্ঠী) সৈন্যদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা এবং নিরস্ত্রীকরণ করা হয়।
নিকি সিঙ্গার মনে করেন, কম্বোডিয়ার বহু মানুষের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে এমন একটি ভাবনা কাজ করে যে তাঁরা যদি কেবল অতীতের দোষারোপের ওপরই মনোযোগ দিয়ে থাকেন, তবে সামনে এগোতে পারবেন না। সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য তাঁরা কেমন ভবিষ্যৎ ও ঐতিহ্য রেখে যেতে চান, সেটাও ভাবেন।
অধিবেশনের বক্তাদের একজন ছিলেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের অপরাধকারীরা এখনো নিজেদের অপরাধ স্বীকার করতে প্রস্তুত নন। বরং তাঁরা এখনো মানবতার বিরুদ্ধে তাঁদের কর্মকাণ্ডের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে তৎপর। আবার পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা রয়েছে। এখনো দেখা যাচ্ছে সংঘাতরত পক্ষগুলোর উগ্র জাতীয়তাবাদী অবস্থান রয়েছে। একইভাবে ২০২৪ সালে গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকারীদের যারা হত্যা করেছিল, তাদের পক্ষ থেকে কোনো অনুশোচনা দেখা যায় না। তারা এখনো আন্দোলনকারীদের চরমপন্থী, উগ্রবাদী বলে অভিযুক্ত করছে।
অবশ্যই এসব সমস্যা সমাধান করতে হবে বলে উল্লেখ করেন নূরুল কবীর। তিনি বলেন, তা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে বোঝাতে হবে যে তাদের কিছু ভুল ছিল।
তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো এক দিন তা করা সম্ভব হবে। কেবল তখনই সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে সমাজ গঠনের জন্য নতুন যাত্রা শুরু করা যাবে।
প্রতীকী ছবি
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ তিন জন মারা গেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায়। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ২৭১ জনের মৃত্যু হলো। আর গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯০২ জন। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে সবশেষ মারা যাওয়াদের মধ্যে পাঁচ জন পুরুষ, চার জন নারী। মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ পুরুষ, ৫২ শতাংশ নারী।
বুলেটিনে জানানো হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৯০২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ হাজার ৩৬০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৯৮৮ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮২ হাজার ৩৩৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৪০১ জন (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে)। এছাড়া খুলনা বিভাগে ৩০৬ জন, বরিশালে ২১৬ জন, চট্টগ্রামে ২৭২ জন, ময়মনসিংহে ৯৮ জন, রংপুরে ৬৬ জন এবং রাজশাহীতে ১০৫ জন।