দুর্নীতি দমন কমিশন

  • প্রকাশ : শনিবার ১৬ মে, ২০২৬, সময় : ২:০১ এএম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সর্বোচ্চ কাঠামো ‘কমিশন’ নেই তাও আড়াই মাস হতে চলল। নতুন মামলা, অনুসন্ধান, অভিযোগপত্র অনুমোদন, আসামিকে বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া, সম্পদ ক্রোকসহ কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত সব কাজই এখন বন্ধ। 


শুধু চলছে প্রশাসনিক রুটিন কার্যক্রম। এ কারণে দুর্নীতিবিরোধী রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে একরকম স্থবিরতা নেমে এসেছে। 


বিশ্লেষকরা বলেছেন, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দুদকের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিয়ে জনআস্থার সংকট রয়েছে। তবে কমিশন ছাড়া দুদক- এত লম্বা সময় আগে কখনও ছিল না। 


দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণের ওপর জোর দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিভিন্ন আলোচনায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাবের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের পরও দুর্নীতি দমন কমিশন নেতৃত্বহীন, অকার্যকর থাকায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। 


দুদক সূত্রে জানা গেছে, ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন গত ৩ মার্চ পদত্যাগ করার পর দুদক নেতৃত্বশূন্য হয়। এরপর নতুন কমিশন আর গঠন হয়নি। দুদকের ছয়টি অনুবিভাগে দুই হাজারের বেশি অভিযোগ অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। 


এর মধ্যে কয়েকশ অভিযোগের অনুসন্ধান শেষ হয়েছে। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা মামলার সুপারিশ করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছেন। কমিশন না থাকায় অভিযোগগুলোর বিপরীতে মামলার অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র অনুমোদনের ক্ষেত্রেও অচলাবস্থা চলছে। 


ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গত কমিশনের অনুমোদিত অনুসন্ধান, তদন্ত চললেও নেতৃত্বহীন অবস্থায় বিভিন্নভাবে দুর্বলতা ও স্থবিরতায় ভুগছে প্রতিষ্ঠানটি। কমিশন না থাকায় বাস্তবে দুর্নীতি সহায়ক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। 


অন্যদিকে, নতুন কমিশন গঠনে আইনি বাধ্যবাধকতা যে লঙ্ঘিত হয়েছে, তা সরকারের জন্য বিব্রতকর। কমিশনহীন অবস্থা যত দীর্ঘায়িত হবে, জনমনে প্রশ্ন ততই জোরালো হবে।


তিনি প্রশ্ন রাখেন, দুদককে অনির্দিষ্টকাল স্থবির করে রাখার মাধ্যমে সরকার কি বাস্তবে কর্তৃত্ববাদের ধারাবাহিকতায় দুর্নীতি সহায়ক ভূমিকার পথ বেছে নিয়েছে। 


জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি বলেন, দুদকের ‘কমিশন’ গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি গঠনের কাজ শিগগির শুরু হতে পারে। এই মুহূর্তে সার্চ কমিটি করা হলে দুদকের আগের আইনেই কমিশন গঠন করা হবে। দুদক আইন সংশোধনের একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে যোগ করেন তিনি।  


দুদক আইন-২০০৪ অনুযায়ী, পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটিতে যারা থাকবেন তারা হলেন- সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সদ্য বিদায়ী সচিব এবং সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান।  


দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি কবে হবে- এ ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। দুদকের কার্যক্রম এখন কীভাবে চলছে- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, কমিশন না থাকায় বর্তমানে অভিযোগ গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আগের কমিশনের অনুমোদন দেওয়া অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্ত চলছে। মামলা, অভিযোগপত্রসহ কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত কাজগুলো বন্ধ রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে আমি অতি জরুরি কাজগুলো করছি। নতুন কমিশন যোগ দেওয়ার পর এসব কাজের অনুমোদন দেবে।

 

সূত্র জানায়, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের দুদক সংস্কার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের আলোকে আইন মন্ত্রণালয় থেকে দুদক আইন-২০০৪-এর অধিকতর সংশোধনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে গত ২৩ ডিসেম্বর। 


নতুন সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদের অধিবেশন শুরু হয় গত ১২ মার্চ। এই দিনেই দুদক-সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হয়। 


ওই ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে পাস হয় ১১৩টি, বাতিল হয় সাতটি। বাকি ১৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আইন অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ অধিবেশনে উত্থাপনের দিন থেকে গত ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ৩০ দিন পার হওয়ার পর ওই ১৩টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারিয়েছে। গত ১১ এপ্রিল থেকেই দুদক আইন-২০০৪ পূর্ণাঙ্গভাবে বহাল হয়েছে। 


আলোচনায় যারা

 

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ব্যক্তির সমন্বয়ে সার্চ কমিটি একাধিক সভা করে দুদকের নতুন তিন কমিশনার নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে ছয় ব্যক্তির নাম পাঠাবে। পরে রাষ্ট্রপতি ছয় থেকে তিনজনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেবেন। এই তিনজনের মধ্যে একজনকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হবে।


দুদকের নতুন চেয়ারম্যান ও দুজন কমিশনার পদের জন্য কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে আছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা, ঢাকা মহানগর আদালতের সাবেক সিনিয়র স্পেশাল জজ মোতাহার হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহর ভাই সাবেক সচিব বাকী বিল্লাহ, সাবেক আইজিপি শহুদুল হক, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী, ড. সাজ্জাত হোসেন ভূঁইয়া ও সাবেক সচিব এ এইচ এম নুরুল ইসলাম। 


কার্যক্রম স্থবির


কমিশন না থাকায় গত ৩ মার্চের পর থেকে নতুন কোনো মামলা বা অভিযোগপত্রের অনুমোদন হয়নি। পাচারের অর্থ ফেরত আনার লক্ষ্যে কোনো দেশে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকুয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো যায়নি। কোনো আসামিকে বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া যায়নি। 


আদালতের আদেশ অনুযায়ী আসামির সম্পদ ক্রোক, ফ্রিজ করা হয়নি। জোরদার হয়নি দুদকের গোয়েন্দা অনুসন্ধানও। ফাঁদ পেতে (ট্র্যাপ) ঘুষখোর গ্রেপ্তার ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করাও সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যে শুধু এনফোর্সমেন্ট ইউনিট মাঝে মাঝে দুয়েকটা অভিযান চালাচ্ছে।  


মাঝেমধ্যে গণশুনানির আয়োজন করা হলেও আগের মতো গতি নেই। বিতর্ক প্রতিযোগিতা বন্ধ। নতুন করে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠন বা আগের কমিটি পুনর্গঠন করা যাচ্ছে না। থমকে আছে উচ্চ পদে পরিচালক, মহাপরিচালকদের পদোন্নতি, বদলি। 


বর্তমানে ১০টি পরিচালক পদ খালি থাকলেও উপপরিচালক থেকে পরিচালক পদে পদোন্নতি দিয়ে ওই সব শূন্য পদ পূরণ করা যাচ্ছে না। বিশেষ প্রয়োজনে ১০ লাখ টাকার বেশি কেনাকাটা করাও সম্ভব হচ্ছে না। 



সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৯ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৯ এএম


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৯ পিএম

এলপিজির সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। অক্টোবর মাসের জন্য আজ রোববার (৪ অক্টোবর) নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।


নতুন দাম অনুযায়ী, অটোগ্যাসের দাম লিটারে প্রায় ১২ টাকা বাড়িয়ে লিটারপ্রতি ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এই দাম ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।


আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ দাম বহাল থাকবে।


এদিকে, এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দামও ২৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। 


নতুন দাম অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি সিলিন্ডার কিনতে হবে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায়।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৯ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাজ্যের হাই কমিশনার সারাহ কুক। সাক্ষাতে তারা উভয় দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন।


রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাই কমশিনারের এ সাক্ষাৎ হওয়ার তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক।


তিনি বলেন, ‘‘সাক্ষাতে দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয়াদি এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসন ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও তারা এ সাক্ষাতে আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরেন সহকারী প্রেস সচিব।


সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সাক্ষাতের সময়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৭ পিএম

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সাত মাসের মধ্যেই সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে নেতিবাচক প্রচারণার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়।


রাষ্ট্রপ্রধান ‘উদার, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে সব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন।


আজ রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান বলে জানিয়েছে তার দপ্তর।


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছেন। সকলের ঐক্যের ফলেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। “এই ঐক্য ও সম্প্রীতি নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টা শক্তভাবে প্রতিহত করতে হবে।”


এদেশের হিন্দু-মুসলমাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক বন্ধন রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এ সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”


পিছিয়ে পড়া মতুয়া সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানার রাষ্ট্রপতি।


তিনি বলেন, “একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হলেও সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”


রাষ্ট্রপতি বলেছেন, দেশে একটি উদার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কেউ যেন নষ্ট করতে না পারে-সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।


“বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।”


মতুয়াদের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি পদ্মনাভ ঠাকুর। মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শনের জন্য তারা আমন্ত্রণ জানালে সেটি পরিদর্শনের আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি।


প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সভাপতি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য সুবর্ণা সিকদার, কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ বিশ্বাস, উপদেষ্টা আহসান হাবিব অপু, সমেন কুমার সাহা, মিশনের খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি নিত্যানন্দ মণ্ডল।


এসময় উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন ও প্রেস সচিব সরওয়ার আলম।

সর্বশেষ সব খবর

সাব-রেজিস্ট্রার বদলি মঙ্গলবার লটারির মাধ্যমে

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২৫ পিএম

বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি করা হবে। আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ লটারি অনুষ্ঠিত হবে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ রোববার এ তথ্য জানানো হয়েছে। 


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর জন্য নির্ধারিত পদগুলোতে দেশের বিভিন্ন জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রারদের মধ্যে থেকে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হবে। 


এতে বলা হয়, লটারি কার্যক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত থাকবেন। জনসাধারণের সম্পত্তি নিবন্ধন-সংক্রান্ত সেবা আরও সহজ, সুশৃঙ্খল ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সংস্কার ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে বদলির এ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে। 

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:০৮ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও উপসর্গে এক হাজার ১২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০২ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ২৩ জন মারা গেছে।


গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে দুইজন ও রংপুর বিভাগে একজন মারা গেছে।


একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ২১৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭৪ হাজার ১৪৯ জন।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৫ পিএম

দেশের বাজারে ফের বাড়ল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। নতুন মূল্য অনুযায়ী অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়েছে। রোববার বিকেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ দাম ঘোষণা করে। নতুন দাম আজ সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে।


একই হারে সাড়ে ৫ কেজি থেকে ৪৫ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়ানো হয়েছে। গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা করা হয়েছে।


তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যদিও এই এলপিজির সরবরাহ খুবই সীমিত হওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের বেশিরভাগই তা কিনতে পারেন না।


রোববার নতুন দর ঘোষণা করে বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও দাম সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে কমিশন।


নতুন দর এমন সময়ে ঘোষণা করা হলো, যখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজির সংকট চলছে। বাড়তি দাম দিয়েও কোথাও কোথাও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। আবার যেখানে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন দর ঘোষণার পর বাজারে ভোক্তার ওপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


এর মধ্যেই সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে ১২ আমদানিকারকের সেপ্টেম্বর মাসের আমদানি ও বিক্রির তথ্য চেয়েছে বিইআরসি। শনিবার চিঠি দিয়ে আজ রোববারের মধ্যে এসব তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছ থেকে পাওয়া আমদানির তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।


বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, আমদানি ও বিক্রির তথ্য পাওয়ার পর পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে আমদানিকারকরা সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দেন। ২৫ সেপ্টেম্বরের পর কয়েকটি ডিপো থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তবে আমদানিকারকরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, তারা বিইআরসির নির্ধারিত দামেই ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে এলপিজি সরবরাহ করছেন। তাদের দাবি, আমদানিকারক পর্যায়ে কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়নি।


এর আগে গত শনিবার জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও আমদানিকারকরা একই দাবি করেন। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি ও জাহাজভাড়া বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন তারা। বাজারে কারসাজি হয়ে থাকলে তা ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে হতে পারে বলে তাদের দাবি।


বিইআরসির হিসাবে, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবার এলপিজির মাসভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ৯৭৫ টাকা। এরপর কখনও দাম বেড়েছে, কখনও কমেছে। তবে কমার তুলনায় বাড়ার প্রবণতাই বেশি।


চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে হয় ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। পরে ভ্যাট কমায় ১৫ টাকা কমে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৪১ টাকা। মার্চে অপরিবর্তিত থাকার পর এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বেড়ে দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকায় ওঠে।


এরপর জুনে ৫৫ টাকা এবং জুলাইয়ে ৩৫৭ টাকা কমানো হয়। আগস্টে আবার ৭০ টাকা বেড়ে দাম হয় ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এক মাসের ব্যবধানেই এবার সেই দাম আবার ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হলো।


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়লেও যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা কমে আসে। এরপর কয়েক মাস ধরে বাজারে দামের ওঠানামা চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই পরিবর্তনের সঙ্গে সমন্বয় করেই দেশের বাজারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।


সর্বশেষ সব খবর