সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকারের ১২১তম বৈঠক অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশ : বুধবার ০১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:২৭ এএম

তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি নতুন থানা অনুমোদন দিয়েছে ‘প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)’।নতুন উপজেলা তিনটি হলো চট্টগ্রামের ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, কুমিল্লার ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহের ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’। নতুন থানাটি হলো চট্টগ্রামের ‘হালদা’। আজ বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকারের ১২১তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।


প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে এসব উপজেলা ও থানা অনুমোদন করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন পূর্বাঞ্চল নতুন শহর প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশগুলো ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।’


নিকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠন করা হয়েছে। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে ভাগ করে গঠন করা হয়েছে ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা। আর ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠন করা হয়েছে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা। এ ছাড়া চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে গঠন করা হয়েছে ‘হালদা’ থানা।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকারের বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, গৃহায়ণমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন।





শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৯ এএম

শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি (সুবর্ণজয়ন্তী) উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে ১৫০ শিশু প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে বরণ করে নেয়।


পরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য অতিথির সঙ্গে আসন গ্রহণ করেন। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে-‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান।


এতে সভাপতিত্ব করছেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ এ আয়োজনে শিশুদের পরিবেশনায় থাকছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।


এ ছাড়া শিশুদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে ‘শৈশব’ শীর্ষক একটি বিশেষ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মসূচি অনুযায়ী, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি একাডেমি প্রাঙ্গণে শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনী ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করবেন তিনি।


মূল অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবনে যাবেন। সেখানে ভবনের নিচতলায় স্থাপিত আধুনিক সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২৬ পিএম

অপরাধের বিচার জরুরি। সেই সঙ্গে দরকার রিকনসিলিয়েশন বা পুনর্মিলন। তা না হলে সমাজ গভীরভাবে বিভক্ত থাকে। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ, পার্বত্য অঞ্চলে সহিংসতা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তেমনি দরকার রিকনসিলিয়েশন।


সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর ‘ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও জাতীয় পুনর্মিলন’ শীর্ষক অধিবেশনে আলোচকদের বক্তব্যে এসব বিষয় উঠে এসেছে। 


রাজধানীর একটি হোটেলে আজ র্সোমবার অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। তিন দিনব্যাপী আয়োজনের শেষ দিন ছিল সোমবার। এ অধিবেশনে বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকা, কম্বোডিয়া, ভারত ও নেপাল থেকে আসা শিক্ষক ও গবেষকেরা ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও রিকনসিলিয়েশনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। 


তবে আলোচক হিসেবে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রায়ই দেখা যায়, রিকনসিলিয়েশন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, এটিকে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনি পরিণতি থেকে রক্ষা করার রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিচারহীন জাতীয় রিকনসিলিয়েশন কোনো শান্তি নয়, তা কেবল সংঘাতের মধ্যকার একটি সাময়িক বিরতি মাত্র।


কায়সার কামাল জাতিসংঘের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ১ হাজার ৬০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যার মধ্যে ১২ থেকে ১৩ শতাংশই ছিল শিশু। এই ভয়হীন, আপসহীন প্রজন্ম একটি নতুন দেশ গড়ার জন্য লড়াই করেছিল, যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার পাবে এবং অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।


উল্লেখ্য, জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান দলের প্রতিবেদনে প্রাক্কলন করা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে সরকারি তালিকায় শহীদের সংখ্যা ৮৪৩। নতুন আবেদন নেই।


কায়সার কামাল বলেন, সবাই অবগত যে অপশক্তিগুলো এখন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে। দুর্ভাগ্যবশত, দেশ-বিদেশের কিছু গোষ্ঠী রিকনসিলিয়েশনের দোহাই দিয়ে তাদের পক্ষে কথা বলছে। এ ধরনের চিন্তা দেশকে নতুন সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে, যার পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত ভয়াবহ ও অকল্পনীয়। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ও দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চান, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) রিকনসিলিয়েশনের কোনো সুযোগ নেই।


এ অধিবেশন সঞ্চালনা করেন নেপাল ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারনেশনাল কো-অপারেশন অ্যান্ড এনগেজমেন্টের গবেষণা পরিচালক প্রমোদ জয়সওয়াল। তিনি মনে করেন, ন্যায়বিচার দরকার। তবে রিকনসিলিয়েশন না হলে সমাজ গভীরভাবে বিভক্ত থাকতে পারে।


জবাবদিহিকে অবশ্যই প্রতিশোধ থেকে আলাদা করতে হবে বলে মনে করেন প্রমোদ জয়সওয়াল। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ সমাজেই জবাবদিহিকে প্রতিশোধের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়। রিকনসিলিয়েশন মানেই অতীত নিয়ে সম্পূর্ণ একমত হওয়া নয়। আবার এর মানে গুরুতর অন্যায় বা অপরাধগুলোকে ভুলে যাওয়া কিংবা ক্ষমা করে দেওয়াও নয়। বরং এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ব্যক্তি ও সম্প্রদায় মর্যাদার সঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে। ঐতিহাসিক ক্ষোভগুলোকে স্বীকৃতি দিতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে একে অপরের ওপর আস্থা পুনর্গঠন করতে পারে।


ভারতের রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কারোরি সিং বলেন, যাঁরা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকেন, তাঁরা স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠেন। দক্ষিণ এশিয়ার পটভূমিতে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালে দেখা যাচ্ছে এই স্বেচ্ছাচারিতাই সমস্যার সৃষ্টি করছে।


দক্ষিণ আফ্রিকার উইটস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাদালিৎসো জিলিলো ফিরি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন (সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন) হয়েছিল, যা একটি নতুন সমাজ কল্পনার পূর্বশর্ত ছিল। তা নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। কারণ, উদারনৈতিক প্রতিষ্ঠান বা গণতান্ত্রিক বন্দোবস্ত সাম্যের সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে সক্ষম হয়নি।


কম্বোডিয়া গৃহযুদ্ধের শিকার এবং সেখানে রিকনসিলিয়েশনের প্রচেষ্টা ১৯৯১ সালের আগেই শুরু হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন দেশটির সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক নিকি সিঙ্গার। 


তিনি বলেন, কম্বোডিয়ায় জাতীয় রিকনসিলিয়েশনের আওতায় ১৯৯৮ সালে খেমার রুজ (বিদ্রোহী গোষ্ঠী) সৈন্যদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা এবং নিরস্ত্রীকরণ করা হয়।


নিকি সিঙ্গার মনে করেন, কম্বোডিয়ার বহু মানুষের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে এমন একটি ভাবনা কাজ করে যে তাঁরা যদি কেবল অতীতের দোষারোপের ওপরই মনোযোগ দিয়ে থাকেন, তবে সামনে এগোতে পারবেন না। সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য তাঁরা কেমন ভবিষ্যৎ ও ঐতিহ্য রেখে যেতে চান, সেটাও ভাবেন।


অধিবেশনের বক্তাদের একজন ছিলেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের অপরাধকারীরা এখনো নিজেদের অপরাধ স্বীকার করতে প্রস্তুত নন। বরং তাঁরা এখনো মানবতার বিরুদ্ধে তাঁদের কর্মকাণ্ডের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে তৎপর। আবার পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা রয়েছে। এখনো দেখা যাচ্ছে সংঘাতরত পক্ষগুলোর উগ্র জাতীয়তাবাদী অবস্থান রয়েছে। একইভাবে ২০২৪ সালে গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকারীদের যারা হত্যা করেছিল, তাদের পক্ষ থেকে কোনো অনুশোচনা দেখা যায় না। তারা এখনো আন্দোলনকারীদের চরমপন্থী, উগ্রবাদী বলে অভিযুক্ত করছে।


অবশ্যই এসব সমস্যা সমাধান করতে হবে বলে উল্লেখ করেন নূরুল কবীর। তিনি বলেন, তা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে বোঝাতে হবে যে তাদের কিছু ভুল ছিল। 


তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো এক দিন তা করা সম্ভব হবে। কেবল তখনই সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে সমাজ গঠনের জন্য নতুন যাত্রা শুরু করা যাবে।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৫১ পিএম

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ তিন জন মারা গেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায়। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ২৭১ জনের মৃত্যু হলো। আর গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯০২ জন। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে সবশেষ মারা যাওয়াদের মধ্যে পাঁচ জন পুরুষ, চার জন নারী। মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ পুরুষ, ৫২ শতাংশ নারী।


বুলেটিনে জানানো হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৯০২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ হাজার ৩৬০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৯৮৮ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮২ হাজার ৩৩৫ জন।


গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৪০১ জন (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে)। এছাড়া খুলনা বিভাগে ৩০৬ জন, বরিশালে ২১৬ জন, চট্টগ্রামে ২৭২ জন, ময়মনসিংহে ৯৮ জন, রংপুরে ৬৬ জন এবং রাজশাহীতে ১০৫ জন।





বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনে মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৩ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের প্রায় ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ঋণের ভারে দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ। 


তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী না হয়েও এসব দেশকে অভিযোজনের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে ঋণ বাড়ছে, সংকুচিত হচ্ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক খাতের অর্থায়ন। সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনে তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে।


মোহাম্মদ নাশিদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় মালদ্বীপকে প্রতিবছর জাতীয় আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যয় করতে হচ্ছে। বাঁধ নির্মাণ, উপকূলীয় ভাঙন রোধ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোতে এই অর্থ ব্যয় হয়। অথচ এসব সমস্যার জন্য মালদ্বীপ দায়ী নয়। অভিযোজনের ব্যয় মেটাতে গিয়ে দেশটি ঋণের চাপে পড়ছে। বর্তমানে বাজেটের প্রায় ২৫ শতাংশ ঋণ পরিশোধে চলে যাচ্ছে। ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ মৌলিক খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমছে।


তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির বিষয় নয়। সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ায় প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস হচ্ছে, উপকূলীয় ভাঙন বাড়ছে এবং দ্বীপগুলো বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে। প্রবাল ধ্বংসের কারণে সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবিকায়।


নাশিদ বলেন, কিছু দেশ পৃথিবীর সম্পদ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে ধনী হয়েছে, যার মূল্য দিতে হয়েছে অন্যদের। নেপালের মানুষ এমন কিছু করেনি, যার কারণে সেখানে ভয়াবহ বন্যা হতে পারে। একইভাবে মালদ্বীপের মানুষও এমন কিছু করেনি, যার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এতটা বাড়বে। তাই এর খেসারত কাউকে না কাউকে দিতে হবে।


তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো কোনো দান বা অনুদান চায় না। তারা পৃথিবীকে যে পরিবেশগত সেবা দিচ্ছে, তার ন্যায্য মূল্য চায়। প্রকৃতি রক্ষা কোনো খরচ নয়, এটি একটি বিনিয়োগ।


কংক্রিটের কাঠামোর বদলে প্রকৃতিভিত্তিক অভিযোজনের ওপর জোর দিয়ে নাশিদ বলেন, প্রতি মিটার প্রবাল প্রাচীর পুনরুজ্জীবনে প্রায় ২০ ডলার এবং ম্যানগ্রোভ রোপণে ৫ ডলার খরচ হয়। অথচ কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণে ব্যয় হয় হাজার হাজার ডলার। তাই প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের মাধ্যমে দ্রুত প্রবাল পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নিতে হবে।


সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমানা ও অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। নাশিদ বলেন, তটরেখার ভিত্তিতে সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়। মালদ্বীপের তটরেখা তলিয়ে গেলে তাদের রাজনৈতিক সীমানা ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের কী হবে, তা এখনই ভাবতে হবে।


তিনি জানান, মালদ্বীপের প্রায় ২০০ নটিক্যাল মাইলের অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে এবং ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সম্পদ ব্যবহারের অধিকার রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব অধিকার হুমকিতে পড়তে পারে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জাতিসংঘের সমুদ্র আইন (ইউএনক্লস) নতুন করে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।


নাশিদ বলেন, মালদ্বীপকে হারিয়ে যাওয়ার আগেই অন্য অনেক দেশের ভূখণ্ডও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই এটি কোনো একটি দেশের সমস্যা নয়, টিকে থাকার স্বার্থেই উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে হবে।


এলপিজির দাম বৃদ্ধি

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:২৯ পিএম

বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজির দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। 


গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়। এরপরও বাজারের সংকট কাটেনি। বরং অনেক এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি। এলপিজির সংকটের প্রভাব পড়ছে পরিবহন খাতেও। 


গতকাল পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লিংক রোড এলাকায় সিএনজি চালকরা প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন। পরে প্রশাসন ও পুলিশের আশ্বাসে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।


দাম বৃদ্ধির কারণ


গতকাল রোববার বিইআরসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরামকোর অক্টোবরের জন্য প্রোপেন ও বিউটেনের সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস বা সৌদি সিপি অনুযায়ী নতুন দাম সমন্বয় করা হয়েছে।


অক্টোবরে প্রোপেনের সৌদি সিপি প্রতি টন ৬৮০ ডলার এবং বিউটেনের ৭৩০ ডলার। দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে প্রোপেন ও বিউটেনের অনুপাত ৩৫:৬৫ ধরে গড় সৌদি সিপি প্রতি টন ৭১২ দশমিক ৫০ ডলার বিবেচনায় নিয়েছে বিইআরসি।


সেপ্টেম্বরে প্রোপেনের সৌদি সিপি ছিল প্রতি টন ৬২৫ ডলার ও বিউটেন ৬৬০ ডলার। ওই মাসে গড় সৌদি সিপি ছিল প্রতি টন ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার। সে হিসাবে এক মাসে গড় সৌদি সিপি প্রতি টনে ৬৪ দশমিক ৭৫ ডলার বেড়েছে।


অক্টোবরের মূল্য সমন্বয়ে এলপিজি আমদানিতে জাহাজ ভাড়া ও ব্যবসায়ীর প্রিমিয়াম প্রতি টন ২৫০ ডলার বিবেচনায় নিয়েছে বিইআরসি।


সেপ্টেম্বরে এ খাতে ধরা হয়েছিল প্রতি টন ১৬০ ডলার। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে এলপিজির দাম হিসাবের ক্ষেত্রে জাহাজ ভাড়া ও ব্যবসায়ীর প্রিমিয়াম প্রতি টনে ৯০ ডলার বেড়েছে।


অক্টোবরের দাম নির্ধারণে প্রতি ডলারের গড় বিনিময় মূল্য ১২৩ টাকা ১৮ পয়সা ধরা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে তা ছিল ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা।এলপিজির সঙ্গে অটোগ্যাসের দাম ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা করা হয়েছে। তবে সরকারি কোম্পানির ১২ দশমিক ৫ কেজির এলপিজির দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। এই দামে সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের বড় অংশ সরকারি কোম্পানির সিলিন্ডার কিনতে পারছেন না।


সরবরাহ কমানোর অভিযোগ


এলপিজির বাজারে অস্থিরতার কারণ নিয়ে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের বক্তব্যও পরস্পরবিরোধী। এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অভিযোগ, ২০ সেপ্টেম্বরের পর আমদানিকারকরা সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বরের পর কয়েকটি ডিপো থেকেও সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।


অন্যদিকে আমদানিকারকরা কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত শনিবার জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও তারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম ও জাহাজ ভাড়া বেড়েছে। 


তবে তারা বিইআরসির নির্ধারিত দামেই পরিবেশকদের গ্যাস দিচ্ছেন। কোনো কারসাজি হয়ে থাকলে তা পরিবেশক বা খুচরা পর্যায়ে হতে পারে বলে দাবি তাদের।


বাজারে সরবরাহ নিয়ে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সেপ্টেম্বর মাসের আমদানি ও বিক্রির তথ্য চেয়ে ১২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে শনিবার চিঠি দিয়েছে বিইআরসি। 


গতকাল রোববার পর্যন্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠান তথ্য জমা দিয়েছে। বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, আমদানি ও বিক্রির তথ্য পর্যালোচনার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


বিভিন্ন জেলায় বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রি


বিইআরসির নতুন দরের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ এসেছে মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, বগুড়া, রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে। মুন্সীগঞ্জে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৪০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায়। ময়মনসিংহে দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকা, কোথাও দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। 


কুমিল্লায় প্লাস্টিকের সিলিন্ডার দুই হাজার ১৫০ থেকে দুই হাজার ৩০০ টাকা এবং স্টিলের সিলিন্ডার প্রায় এক হাজার ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বগুড়ায় নতুন দর ঘোষণার পরই কোনো কোনো দোকানে দাম বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।


রাজশাহীর কাজলা ও ভদ্রা এলাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৯৫০ থেকে দুই হাজার টাকায়। সেখানে সরবরাহও কম। চারঘাটে কয়েকটি দোকানে গ্যাস নেই বলে জানানো হলেও দোকানে সিলিন্ডারের মজুত দেখা গেছে। এতে মজুত রেখে পরে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন ক্রেতারা।


বরিশালে নতুন দর কার্যকর হওয়ার আগেই ১২ কেজির সিলিন্ডার এক হাজার ৯০০ থেকে দুই হাজার টাকা করে বিক্রি হয়েছে। স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা জানান, চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাচ্ছেন না তারা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাইকারি পর্যায়ে এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।


রংপুরেও কয়েক দিনে দাম বেড়েছে। ওমেরা ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার এক হাজার ৯৪০ টাকা এবং আইগ্যাস এক হাজার ৮২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগেও এসব সিলিন্ডারের দাম ছিল এক হাজার ৬২০ ও এক হাজার ৫৪০ টাকা। 


এক বিক্রেতা জানান, আগে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি সিলিন্ডার বিক্রি হলেও এখন চার-পাঁচটির বেশি বিক্রি হচ্ছে না।


গাইবান্ধায় ছোট বিক্রেতারা কোম্পানি ও ডিলারের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। একটি ডিলার প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে কত সিলিন্ডার সরবরাহ করা হবে, সে বিষয়ে কোম্পানি নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।


শুধু বাসাবাড়ির গ্রাহক নন, বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীরাও পড়েছেন বাড়তি খরচের চাপে। ময়মনসিংহে ৩০ ও ৪৫ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডার নির্ধারিত দামের চেয়ে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। 


একটি রেস্তোরাঁয় মাসে প্রায় ২০টি বড় সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। প্রতিটিতে এক হাজার ২০০ টাকা বেশি দিতে হলে মাসে অতিরিক্ত খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২৪ হাজার টাকা।


এদিকে বাজারে অনিয়মের অভিযোগে অভিযানও চলছে। মুন্সীগঞ্জে গতকাল রোববার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে। এর মধ্যে একটি এলপিজি বিক্রেতাকে অতিরিক্ত দামে বিক্রির দায়ে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গাইবান্ধায় তিনটি দোকানকে মোট আট হাজার ৫০০ টাকা এবং বরিশালে দুটি দোকানকে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।


সাভারের আশুলিয়ায় গতকাল অভিযানে একটি প্রতিষ্ঠানকে ক্রয়-বিক্রয় চালানের তথ্যের অসংগতির কারণে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত দামে বিক্রি, বড় সিলিন্ডার থেকে ছোট সিলিন্ডারে গ্যাস ভরা এবং সিলিন্ডারে পানি দেওয়ার অভিযোগে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 


  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫২ পিএম

মাদককারবারি পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে ‌সহযোগিতার দায়ে অভিযুক্ত প্রিজন ভ্যান চালক নায়েক কামাল হোসেনের বাসা থেকে ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পিচ্চি রাজাকে পালাতে সহযোগিতার বিনিময়ে আর কত টাকা লেনদেনের চুক্তি হয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) অশোক কুমার বাংলানিউজকে এসব তথ্য জানান।


এর আগে শীর্ষ মাদক কারবারি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে (৩০) পলায়নে সহযোগিতার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানের দায়িত্বে থাকা এসআই প্রবীর কুমার এবং ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) অশোক কুমার বলেন, পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতার ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। এরই মধ্যে প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামালের বাসা থেকে ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।


মাদক কারবারিকে পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তাদের সঙ্গে মোট কত টাকার চুক্তি হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি জানার চেষ্টা চলছে।


ডিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।