• প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:০৮ পিএম

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহর সঙ্গে বৈঠক করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ রোববার এ বৈঠক হয় বলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।


বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ বৈঠক হয় বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান। ওই কর্মকর্তা বলেন, 'রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ক সচিব এম নজরুল ইসলাম।'


গত ১৪ অক্টোবর ওই দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে তাদের এ সাজা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।


দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই দুই বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।


মন্ত্রণালয়ে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন- কাউকেই আগে থেকে অবহিত করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর বিষয়টি জানতে পারে ঢাকা।


পরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি আরবের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে ‘নোট ভার্বাল’ দিয়েছিল বাংলাদেশ। এর আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।


আজ বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, 'বিষয়টির স্পষ্টীকরণ চেয়ে পাঠানো নোট ভার্বালের একটি হার্ড কপি সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।'


'আমরা আগেই ইলেকট্রনিক মাধ্যমে নোট ভার্বাল পাঠিয়েছিলাম। আজ সেটির একটি অনুলিপি হস্তান্তর করা হয়েছে,' বলেন তিনি।


মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই বাংলাদেশির নাম নাজেরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সিতি আক্তার বলে জানিয়েছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


তাদের বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিতে সৌদিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট কর্মকর্তারা কাজ করছেন বলে কর্মকর্তারা জানান।


ঠিক কী ধরনের অপরাধের জন্য তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, মক্কার কোন মসজিদে ঘটনাটি ঘটেছিল কিংবা কী অবস্থায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।


পুরো ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের 'কনস্যুলার সম্পর্কিত ভিয়েনা কনভেনশনের' বিধান মেনে চলা নিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরব দুই দেশই এই কনভেনশনে সই করেছে।


কনভেনশনের ৩৭ (ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো দেশের নাগরিক মারা গেলে প্রাসঙ্গিক তথ্য পাওয়া সাপেক্ষে সে দেশের কর্তৃপক্ষকে 'দেরি না করে সংশ্লিষ্ট এলাকার কনস্যুলার কার্যালয়কে' জানাতে হবে।


৩৬ (১) (খ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আটক বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে কনস্যুলার নোটিফিকেশনের অধিকার অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেটকে অবশ্যই জানাতে হবে।


যদিও, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি আগে থেকে কনস্যুলেটকে জানানোর বাধ্যবাধকতা এই কনভেনশনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।


বাংলাদেশ কনস্যুলেট জানিয়েছে, ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি নিয়ে তাদের আগে থেকে কোনো ধারণা ছিল না।


ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ (১) (গ) অনুচ্ছেদে আটকদের কনস্যুলার সুবিধা, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আইনি সহযোগিতার বিধানও রয়েছে।


তবে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত দুজন নিজেদের আইনি অধিকার সম্পর্কে জানতেন কি না কিংবা তারা কনস্যুলার সহায়তা চেয়েছিলেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি।


ওই দুজনকে কবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বা তারা কতদিন ধরে আইনি হেফাজতে ছিলেন, সে বিষয়ে সৌদি সরকার কিছু জানায়নি।


এমনকি বিচার চলাকালে তারা কোনো আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না, বা তাদের পরিবারকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়েছিল কি না-তা নিয়েও কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।




বাংলা একাডেমি (লোগো)

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৩১ পিএম

২০২৭ সালের অমর একুশে বইমেলা আগামী ৭ জানুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এক সভায় প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সর্বসম্মতিক্রমে বইমেলার এ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।


বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম এ তথ্য জানিয়েছেন।


তিনি জানান, গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে অমর একুশে বইমেলা ২০২৭ আয়োজন নিয়ে প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।


সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ও মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। সভায় উপস্থিত প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সর্বসম্মতিক্রমে বইমেলার তারিখ চূড়ান্ত করা হয়।

ব্রিফিংয়ে দুদক সচিব

বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার

দেশে ফেরানোর উদ্যোগ


শেখ আব্দুল হান্নান। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৪ পিএম

দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানকে কাতারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে পাঠানো অনুরোধের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে কাতার পুলিশ। দুদকের সচিব সাইদুর রহমান খান এ কথা জানিয়েছেন। 


ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে সাইদুর রহমান খান বলেন, শনিবার অনানুষ্ঠানিকভাবে হান্নানের গ্রেপ্তারের খবর পায় দুদক। আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিনি কাতারের দোহায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) শাখার মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছ থেকে এ তথ্য পেয়েছে দুদক।


দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান আবদুল হান্নানকে কাতারে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়।


শেখ আব্দুল হান্নানকে কাতার থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে দুদক সচিব সাইদুর বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে দুদকের কাছে কিছু তথ্য চেয়েছে। সেসব তথ্য সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি, প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।


আব্দুল হান্নান ২০২১ সালের ১২ জুন থেকে ২০২৪ সালের ১১ জুন পর্যন্ত বিমান বাহিনীর প্রধান পদে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দুটি মামলা করে দুদক। 


দুদকের উপপরিচালক মো. তানজির হাসিব সরকার বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলা দুটি দায়ের করেন। দুদকের পক্ষ থেকে তখন সাংবাদিকদের জানানো হয়েছিল যে, আব্দুল হান্নানের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় তিন কোটি ২৮ লাখ টাকার সম্পদের খোঁজ তারা পেয়েছে। সেইসঙ্গে, তার নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ‘সন্দেহজনক’ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের মধ্যেই ২০২৫ সালের ৫ মে আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী-সন্তানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত। এরপর তাদের জমি, বাড়ি ও তিনটি ফ্ল্যাট জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে, কাতারে অবস্থিত আব্দুল হান্নানকে ইন্টারপোলের সহায়তায় গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল দুদক।


মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:০৩ পিএম

প্রকাশ্যে অস্ত্র তাক করে মাদকসেবীদের ধাওয়া এবং আইন ভেঙে গুলি ছোড়ার ভয় দেখানোর ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে তার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে নানা সমালোচনা সৃষ্টি হয়। আজ রোববার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ ঘটনার বিষয়ে একটি বিবৃতি দেন ইশরাক।


আত্মরক্ষায় অস্ত্র প্রদর্শনের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সেখানে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি অতর্কিতে হইচই করে আমাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে ধেয়ে আসলে হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি।’ 


বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি স্পর্শকাতর ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে প্রচারিত ভিডিও, ফটোকার্ড ও খণ্ডিত শিরোনাম সামগ্রিক প্রেক্ষাপটকে মূল্যায়ন করে না। এর ফলে প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনমনে পরিকল্পিত বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।


ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের বিবৃতি


মাদক পরিস্থিতি ও পূর্ববর্তী দাপ্তরিক উদ্যোগ


প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার নামে পোস্ট করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং আত্মরক্ষায় ব্যক্তিগত লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। 


বিবৃতিতে তিনি জানান, একটি স্পর্শকাতর ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে প্রচারিত ভিডিও, ফটোকার্ড ও খণ্ডিত শিরোনাম সামগ্রিক প্রেক্ষাপটকে মূল্যায়ন করে না। যার ফলে প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনমনে পরিকল্পিত বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।


বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে আসছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এই জনপদটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুন মাসে মাদক-সংক্রান্ত এক সহিংসতায় ৩ জন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি সরজমিনে পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে একাধিক সমন্বয় সভা করেন। জনবলসংকট দূরীকরণ এবং মাদকের আস্তানা সংলগ্ন স্থানে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র প্রদান করলেও তা এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 


তিনি স্পষ্ট করেন, সর্বশেষ পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী-সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি গতকাল উক্ত এলাকায় যান।


আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র প্রদর্শনের সুনির্দিষ্ট কারণ


এতে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর নিরাপত্তাঝুঁকি এবং মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণের আশঙ্কার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। 


প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি অতর্কিতে হইচই করে আমাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে ধেয়ে আসে। এমন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নস্যাৎ হওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়। আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং এর প্রদর্শনী কেবলই আত্মরক্ষার স্বার্থে আইনি কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।’


পুলিশের উপস্থিতিতে যৌথ অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা


বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর অনতিবিলম্বে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও সহায়তায় সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ৪-৫টি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। আস্তানাগুলো থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, বেশ কিছু দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ওই অপরাধের সঙ্গে হাতেনাতে জড়িত ৬ জন মাদক কারবারিকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।


গণমাধ্যমের খণ্ডিত উপস্থাপনা ও বস্তুনিষ্ঠতার আহ্বান


উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দূর্ভাগ্যজনকভাবে প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ মুষ্টিমেয় কয়েকটি গণমাধ্যম অতিউৎসাহী হয়ে খণ্ডিত তথ্য ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে অপতথ্য ও বিকৃত সংবাদ পরিবেশন করেছে। বিকৃত, মিথ্যা এবং সম্পূর্ণ বানোয়াট এসব সংবাদ মূলত অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ৬ জন অপরাধী আটকের ইতিবাচক দিকটি সুপরিকল্পিতভাবে সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছে। এর মাধ্যমে তারা সরকার ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা কেবল ‘অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর অভিযান’-এই খণ্ডিত দৃশ্যটিকে চটকদার শিরোনামে প্রচার করেছে, যা স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী।’ বিবৃতিতে গণমাধ্যমগুলোকে যেকোনো সংবাদের সত্যতা যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপটসহ তা প্রকাশের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। 


মাদক নির্মূলে দৃঢ় প্রত্যয়


মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, “মাদকের আস্তানা সম্পূর্ণরূপে উপড়ে ফেলা এবং ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা জনগণের নিকট আমার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। একটি ঘটনাকে খণ্ডিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচারের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সামাজিক আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না।” 


জনস্বার্থে এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান শেখ আবদুল হান্নান গ্রেপ্তার

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৪ পিএম

দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলার আসামি বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল (অব.) শেখ আবদুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার হয়েছেন। ১৫ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 


পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোল ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নিশ্চিত করেছে। আজ রোববার দুদকের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 


বিকেলে দুদকের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন।


গত বছরের ১১ নভেম্বর দুর্নীতির মামলায় আসামি শেখ আবদুল হান্নানের ২টি ফ্ল্যাট ক্রোক ও ১০টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত।


২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেখ আবদুল হান্নানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই বছরের জুলাইয়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে সংস্থাটি।


শেখ আবদুল হান্নান ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। ২০২১ সালের ১২ জুন তিনি বিমানবাহিনীর ১৬তম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের ১১ জুন তিনি অবসরে যান।



প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২৭ পিএম

হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত ৬৫ জন এবং ১২৫৪ জনের মধ্যে উপসর্গ মিলেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।


এতে বলা হয়, গত মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত ১০৪ জন নিশ্চিত হামে মারা গেছে। হাম উপসর্গে মারা গেছে ১ হাজার ৯২ জন। 


এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ১২২ জনের। হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জনের মধ্যে।


এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৪ জন। রিলিজ পেয়ে বাড়ি ফিরেছে এক লাখ ৮১ হাজার ৭৫৬ জন।


সেনানিবাসে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৩৭ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়। তিনি বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।


রোববার সকালে সাভার সেনানিবাসে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থার মধ্যে; সর্বোপরি, চেইন অব কমান্ডের ওপর।’


তিনি বলেন, ‘একটি ইউনিটের পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়; এটি ওই ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারিত্ব ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।’


জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন প্রতিনিয়ত স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই পতাকা অর্জনের অর্থ হলো অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ। পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।’


তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্ম হয়েছে।’


তারেক রহমান, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর বর্বরোচিত হামলা শুরু হলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা করেন। এরপর তিনি রেজিমেন্টের বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের একত্র করে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন।


শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমান ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা, জেসিও ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন।


তিনি বলেন, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাংলাভাষী সেনাসদস্যরা সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনাকর্মকর্তার এমন ঐতিহাসিক ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গৌরব ও অনুপ্রেরণার উৎস। এ কারণেই স্বাধীনতাপ্রিয় দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করে।’


দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সৈনিক সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।


বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, যুদ্ধের ধরন ও কৌশল দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ বাস্তবতায় দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।


তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীর সর্বক্ষেত্রে আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।


তবে প্রযুক্তি কখনো মানুষের বিকল্প হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী শুধু দেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্বই পালন করে না; দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি বিদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও তারা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।


তিনি বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ইতোমধ্যে জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করতে ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক, ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


অনুষ্ঠানে পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করা হয়।


অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, কূটনৈতিক কোরের প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।