ছবি: সংগৃহীত।
সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মন্তব্যে বলা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের ওপর আসন্ন গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য সমর্থন একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নিরপেক্ষতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই উদ্বেগ আলোচনার যোগ্য হলেও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার আলোকে মূল্যায়ন করলে এ ধরনের সমালোচনার ভিত্তি নেই। বাংলাদেশের এই সংকটময় সময়ে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়, বরং তা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাবই ফুটিয়ে তোলে।
১. অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ম্যান্ডেট সংস্কার, আনুষ্ঠানিকতা নয়
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুধু দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা বা নিরপেক্ষ নির্বাচন তত্ত্বাবধানের জন্য গঠিত হয়নি। এটি দীর্ঘদিনের অপশাসনের ফলে সৃষ্ট শাসনতান্ত্রিক সংকট, জন–অনাস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক চরম দুর্বলতার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকার। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত যে এই সরকারের মূল দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করা।
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রফেসর ইউনূস গত আঠারো মাসে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শের মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছেন, বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তারই ফল। তাই এই সংস্কারের পক্ষে অবস্থান না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের মূল উদ্দেশ্যকে ভুলভাবে বোঝার শামিল।
যে অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের দায়িত্ব নিয়ে গঠিত, গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের মুহূর্তে সেই সংস্কার থেকে সেই সরকার নিজেকে দূরে রাখবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
২. সুপরামর্শ গণতান্ত্রিক পছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ
অন্তর্বর্তীকালীন হোক বা নির্বাচিত হোক আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চায় সরকারপ্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন নিয়ে নীরব থাকার বাধ্যবাধকতা নেই। বরং গণতন্ত্রে প্রত্যাশা করা হয় যে নেতারা জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় নীতি ও সংস্কারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর ছেড়ে দেবেন।
অন্যান্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও গণভোট কোনো টেকনোক্র্যাটিক প্রক্রিয়া নয়। এটি সরাসরি জনগণের মতামত জানার মাধ্যম। সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যখন স্পষ্টভাবে তাঁদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন, তখন ভোটারদের সিদ্ধান্ত আরও তথ্যভিত্তিক ও অর্থবহ হয়।
গণতান্ত্রিক বৈধতার মূল প্রশ্ন হলো নেতারা অবস্থান নিলেন কি না, তা নয়; বরং—
>ভোটাররা সেই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করতে স্বাধীন কি না
>বিরোধী পক্ষ প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাতে পারছে কি না
>পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য কি না
>এই সব শর্ত বর্তমান প্রেক্ষাপটে অক্ষুণ্ন রয়েছে।
৩. এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য নেতৃত্ব অপরিহার্য
বাংলাদেশের সংস্কার গণভোট কোনো বিমূর্ত নীতিগত প্রশ্ন নয়, এটি দীর্ঘদিনের শাসনব্যর্থতার জবাব—যা বছরের পর বছর নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উদ্বিগ্ন রেখেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন এবং তত্ত্বাবধানকারী সংস্থার রাজনীতিকরণের মাধ্যমে দেশকে সংকটে ফেলেছে।
এই বাস্তবতায় সংস্কারের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান ধারাবাহিকতা ও জবাবদিহিতারই প্রকাশ। যিনি নিজে সংস্কারের সমস্যা চিহ্নিত করেছেন এবং সমাধানে ঐকমত্য তৈরির নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁর জন্য এখন নীরব থাকা হবে অসংগত ও দায়িত্বহীন।
যে অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের বৈধতা সংস্কার থেকে আসে, তাদের পক্ষে সংস্কারের পক্ষে কথা বলা পক্ষপাত নয়, বরং তা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব।
৪. আন্তর্জাতিক নজির এই পদ্ধতিকে সমর্থন করে
এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোনো ব্যতিক্রম নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকার করবে যে বিশ্বজুড়ে বহু দেশে সরকারপ্রধানেরা—ইউরোপ, এশিয়া বা অন্য যেকোনো অঞ্চলে—গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিবর্তনসংক্রান্ত গণভোটে প্রকাশ্যে পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এসব ঘটনাকে গণতান্ত্রিক রীতির লঙ্ঘন হিসেবে নয়, বরং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বাভাবিক প্রকাশ হিসেবেই দেখা হয়।
আধুনিক ইতিহাসে এর বহু উদাহরণ রয়েছে:
যুক্তরাজ্য (২০১৬): প্রেসিডেন্ট ডেভিড ক্যামেরন ব্রেক্সিট গণভোটে “থাকুন” ভোটের পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালান এবং ইইউ সদস্য পদ বজায় রাখাকে জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরেন।
স্কটল্যান্ড (২০১৪): ফার্স্ট মিনিস্টার অ্যালেক্স স্যালমন্ড “ইয়েস স্কটল্যান্ড” প্রচারণায় ছিলেন প্রধান মুখ এবং গণভোটকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গণতান্ত্রিক সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
তুরস্ক (২০১৭): প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ানোর সাংবিধানিক সংশোধনের পক্ষে দেশব্যাপী প্রচারণা চালান।
কিরগিজস্তান (২০১৬): প্রেসিডেন্ট আলমাজবেক আতামবায়েভ সংসদীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ফ্রান্স (১৯৬২): প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য গণভোটের পক্ষে সরাসরি জনগণের সমর্থন চান সংসদীয় বিরোধিতা উপেক্ষা করে।
এই সব ক্ষেত্রেই বর্তমান সরকারপ্রধানদের সমর্থনকে অগণতান্ত্রিক বলা হয়নি। বরং এটিকে রাজনৈতিক জবাবদিহিতার প্রকাশ হিসেবে দেখা হয়েছে—নেতারা যা সঠিক মনে করেন, তার পক্ষে কথা বলেন এবং শেষ পর্যন্ত জনগণের সিদ্ধান্ত মেনে নেন।
গণভোটের বৈধতা নেতাদের নীরবতার ওপর নির্ভর করে না, এটি নির্ভর করে ভোটারদের স্বাধীনভাবে পক্ষে বা বিপক্ষে মত দেওয়ার সুযোগের ওপর।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, গণভোটের ফলাফলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্বাচনী স্বার্থ জড়িত নেই। প্রফেসর ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টারা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লাভ বা দলীয় সুবিধা চান না। তাঁদের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে সময়সীমাবদ্ধ ও অন্তর্বর্তী।
একবার সংস্কার গৃহীত বা প্রত্যাখ্যাত হলে তার বাস্তবায়ন বা পরিণতি বহন করবে নির্বাচিত সরকার। ফলে অযথা প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি খুবই সীমিত এবং এই সমর্থনের সৎ উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
৫. সরকারি প্রচারণা মানেই জোরজবরদস্তি নয়
জেলা পর্যায়ে প্রচারণা চালানো নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা প্রেক্ষাপটসহ বিবেচনা করা প্রয়োজন। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো সংস্কারের বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব জনগণের কাছে স্পষ্ট করা, বিশেষ করে যেখানে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি সচেতন অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
ক্রান্তিকালীন এ ধরনের সরকারি সম্পৃক্ততা স্বাভাবিক এবং এটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত বা অনৈতিক প্রচারণা বলা যায় না। জনপরিসরে থাকা আলোচনায় সরকারের উপস্থিতি বিরোধী মত দমন করে না, বরং নিশ্চিত করে যে নাগরিকেরা বুঝেশুনে সংস্কার বিষয়ে মতামত দিতে পারেন।
৬. উপসংহার: নীতিগত লঙ্ঘন নয়, গণতান্ত্রিক দায়িত্ব
এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি সমর্থনে নয়, বরং দ্বিধা ও নীরবতায়। যে সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে, তা সমর্থন না করলে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে, ভোটাররা বিভ্রান্ত হবে এবং পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা নষ্ট হবে।
“হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ কারণ—
>অন্তর্বর্তী সরকারের রয়েছে সংস্কারমূলক ম্যান্ডেট
>প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের জরুরি প্রয়োজনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
>প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যতা
>ভোটারদের প্রতি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতি
শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণেরই। এটাই গণতন্ত্রের নিশ্চয়তা। নেতৃত্ব সেই সিদ্ধান্ত কেড়ে নেয় না, বরং তা স্পষ্ট ও অর্থবহ করতে সহায়তা করে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কৃষিখাত লাভজনক করতে সরকারকে প্রণোদনা দিতে হবে, কৃষকদের সাহায্য করতে হবে। কৃষিতে ভর্তুকি দিতে হবে। যদিও বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ ভর্তুকি দিতে বাধা দেয়। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আয়োজনে কৃষি বিজ্ঞানীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, যেসব খাতে ঘাটতি আছে, গবেষণার মাধ্যমে তা সমাধান করা প্রয়োজন। উৎপাদনের পর কৃষক দাম পায় না, আবার কৃষক যখন ফসল ফলায় তখন বাড়তি দামে বীজ কিনতে হয়।
ফল ও সবজি দীর্ঘদিন মজুত রাখার জন্য কোল্ড স্টোরেজ করা প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।
কৃষি এখন লাভজনক নয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, জীবন ব্যয়ের যোগান না থাকায় মাঠে এখন শ্রমিক পাওয়া যায় না। কৃষি এখন লাভজনক নয় বলেই অনেকেই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে সরকারকে প্রণোদনা দিতে হবে, কৃষকদের সাহায্য করতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, পেঁয়াজ চাষে বিপ্লব হয়েছে, এখন আর আমদানি করতে হয় না। ফলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও তার প্রক্রিয়া সুখকর নয়। জমিতে সার ব্যবহার নিয়ে কৃষকদের সচেতনতা তৈরি করতে হবে। জমিতে ফার্টিলাইজার ব্যবহারে ঊর্বরতা কমে যায়।
কৃষি বিজ্ঞানীদের নিয়ে তিনি বলেন, কৃষি বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। আইন পরিবর্তন করে হলেও কৃষি বিজ্ঞানীদের পেনশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে সব ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি সবপ্রতিষ্ঠানে ছেয়ে গেছে। এখন সুযোগ এসেছে সেখান থেকে বের হয়ে আসার। সবাই একটু ধৈর্য্য ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলে সফলতা আসবে।
এই মতবিনিময় সভায় উঠে আসে বাংলাদেশের বর্তমান কৃষি নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা। বক্তারা বলেন, কৃষিতে উৎপাদনের সাথে সাথে মানের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে তবে এখন রপ্তানি দিকে নজর দিতে হবে। শুধু বাংলাদেশিদের জন্য নয় বরং এর বাইরে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে পণ্য পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশের কথা মাথায় রেখে কীটনাশক আরও উন্নত করার জন্য গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রতীকী ছবি
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এসময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৩ জন। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিনে বলা হয়, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৩৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম ১৪ দিনে মারা গেছে ৮৬ জন। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়, গতকাল সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৯৪৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ২৫৯ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৮৩০ জন। এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১ হাজার ৩১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
দীর্ঘসময় বন্ধ থাকার পর অবশেষে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী দেশটিতে কাজ করছেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বন্ধ ও সীমিত হয়ে যাওয়া বৈদেশিক শ্রমবাজার পুনরায় চালু ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে এজেন্সির সংখ্যা ৩৩৮টি।
মন্ত্রণালয় জানায়, তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেদের উদ্যোগে মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করতে পারবে, চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ করতে পারবে এবং বাংলাদেশ থেকে কর্মী নির্বাচন করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার কর্মী সম্পূর্ণ বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে মালয়েশিয়া। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটির শ্রমবাজারে আরও উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক নিয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করছে সরকার।
প্রথম ধাপ: জব ওর্ডার সংগ্রহ
মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত সকল বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার থেকে নিজেদের উদ্যোগে জব ওর্ডার বা ডিমান্ড সংগ্রহ করতে পারবে।
দ্বিতীয় ধাপ: কর্মী নির্বাচন
যে এজেন্সি জব ওর্ডার সংগ্রহ করবে, সেই এজেন্সি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে নিজের কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। অর্থাৎ, কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচন করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির নিজের কাছেই থাকবে।
তৃতীয় ধাপ: মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক প্রসেসিং
যেখানে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রশাসনিক প্রসেসিং প্রয়োজন হবে, যেমন কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং অন্যান্য নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া, সেখানে সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-সহ তালিকাভুক্ত অপর ২৫টি প্রসিসিং ও সার্ভিস এজেন্সি প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।
চতুর্থ ধাপ: বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স
মালয়েশিয়ার প্রয়োজনীয় প্রসেসিং সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিটি বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি তার নিজের রিক্রুটিং লাইসেন্সের মাধ্যমেই তার নিজস্ব কর্মীদের বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করতে পারবে।
অর্থাৎ, জব ওর্ডার যে এজেন্সি সংগ্রহ করবে এবং কর্মী যে এজেন্সি নির্বাচন করবে, সেই এজেন্সি নিজের লাইসেন্সের অধীনেই তার কর্মীদের বাংলাদেশের সরকারি ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করতে পারবে।
সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং অপর ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি প্রশাসনিক প্রসেসিংয়ের কাজ করবে। বিএমইটি-এর ছাড়পত্রের জন্য তারা অনুমোদিত এজেন্সিকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সির নিজস্ব দায়িত্ব, জবাবদিহিতা এবং ব্যবসায়িক স্বাধীনতা বজায় থাকবে।
কর্মীদের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে
এই পুরো ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বাংলাদেশের কর্মীদের স্বার্থ। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে, কিন্তু সেই কর্মসংস্থানের জন্য একজন কর্মীকে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বহন করতে দেওয়া যাবে না। আমরা চাই একজন কর্মী যতটা সম্ভব সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতিও আমাদের আহ্বান থাকবে, আপনারা ব্যবসা করবেন, নতুন জব ওর্ডার সংগ্রহ করবেন এবং আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবেন; কিন্তু সবকিছু করতে হবে দেশের আইন মেনে এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে।
এখন পরবর্তী পদক্ষেপ কী
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার চূড়ান্ত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিদ্যমান এমওইউ অনুযায়ী, মেডিক্যাল সেন্টার চূড়ান্ত করার বিষয়টি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার যৌথ দায়িত্ব।
শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্তকরণের স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান মেডিক্যাল সেন্টারগুলো পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু যেহেতু মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল সরেজমিনে বাংলাদেশে এসে প্রতিটি মেডিক্যাল সেন্টার পরিদর্শনের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে, সেহেতু এই প্রক্রিয়ায় সময়ের প্রয়োজন। তাই মালয়েশিয়া সরকার অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ফ্যাসিবাদ ও অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিতর্কিত মেডিক্যাল সেন্টার বাদ দিয়ে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত অবশিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে, শ্রমবাজার চালুর পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে যাচাই-বাছাই করে মেডিক্যাল সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করবে।
মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মেডিক্যাল সেন্টারগুলো বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়মিতভাবে যাচাই-বাছাই করা হয় এবং সেগুলোকে স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। কোনও অনিয়ম পাওয়া গেলে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য করবে। আমরা নিয়মিতভাবে এই প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এছাড়াও যথাসময়ে এই তালিকায় আরও কিছু নতুন মেডিক্যাল সেন্টার যুক্ত করা হবে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
নতুন মেডিক্যাল সেন্টার যুক্ত করা হলে তা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে এবং আমাদের মন্ত্রণালয়ও সবার জন্য সেই তালিকা ঘোষণা করবে। আমরা পর্যায়ক্রমে অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টারগুলোর তালিকা নিশ্চিত করবো।
আমাদের লক্ষ্য শুধু মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নয়। আমাদের লক্ষ্য হলো আরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, বৈধ ও যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং সর্বোপরি আমাদের কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা।
এটি শুধু একটি শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নয়। আমরা এটিকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার শ্রম সহযোগিতার একটি নতুন এবং আরও অংশগ্রহণমূলক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখতে চাই।
ঘোষণা
মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ভাই-বোনদের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রণালয় এক সংবদা বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন এবং অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। আমরা চাই, কর্মীরা যেন সহজে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং কোনও ধরনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পান।
এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জনে দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মন্ত্রণালয় বলেছে, একইসঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের সহযোগিতা ও ইতিবাচক মনোভাবের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এখন সবার দায়িত্ব সরকার, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং কর্মী একসঙ্গে এই সুযোগকে সফল করা এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি, সুশৃঙ্খল ও টেকসই শ্রমবাজার গড়ে তোলা।
দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। গতকাল বুধবার রাতে তিনি ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
মির্জা আব্বাসের সহকারী একান্ত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মির্জা আব্বাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ। এ সময় তার সঙ্গে সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস ও ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাসও উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় পাঁচ মাস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেছিলেন মির্জা আব্বাস। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর ফলোআপ চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়া যান তিনি। দেশটির প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে তার চিকিৎসা চলে।
১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। পরে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে দেড় মাস চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মালয়েশিয়ায় প্রিন্স কোর্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সৌদি আরবের মক্কায় একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং মসজিদের ‘পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বুধবার মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বশীর ও সিতি আক্তার।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘আজেল নিউজ’ এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজে’ লিপ্ত থাকার অভিযোগে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে। পরে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ আনা হয়।
বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। বিবৃতিতে বলা হয়, সময় ও স্থানের পবিত্রতা বিবেচনায় নিয়ে এবং অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর তা কার্যকর করা হয়। তবে কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পবিত্র স্থান ও মসজিদগুলোর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি আইন বাস্তবায়নে সৌদি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পবিত্র স্থানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা বা সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়।
রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফেরত আসা ঝিনাইদহের রাজন হোসেন
‘শরীরের একটা অংশ প্রায় অবশ হয়ে ছিল। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হওয়ার পর প্রথমে দেড় মাস একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। হাসপাতালটি রাশিয়ার দখলকৃত ইউক্রেনের অংশে পড়েছিল। সেখান থেকে পরে আমাকে রাশিয়ার কাজান শহরের পাশে একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসাধীন থাকার সময় রাশিয়ান একজন নারী চিকিৎসক আমাকে সেখান থেকে পালাতে সহায়তা করেন; রাশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এর পর দূতাবাসের সহযোগিতায় ট্রাভেল পাস নিয়ে গত ২৩ আগস্ট বাংলাদেশে ফিরেছি।’
গতকাল বুধবার নিজের জীবনের করুণ গল্প শোনালেন রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফেরত আসা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের রাজন হোসেন (২২)। ইউক্রেন বাহিনীর ড্রোন হামলায় কোমরের হাড় ভেঙে গেছে। ডান পায়েও চলাচলের শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। রাজন কালীগঞ্জ উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের কৃষক আবদুল কাদের কালুর ছেলে। এখন ক্র্যাচে ভর করে চলাফেরা করতে হয় তাঁকে।
রাজন জানান, ৮ মে বাংলাদেশ থেকে ৩০ জনের একটি টিম রাশিয়ায় যায়। তাদের সেখানে পিআরও টেকনোলজি নামে একটি প্রতিষ্ঠানে মাসে ৭৫ হাজার রুবলের বিনিময়ে কাজ দেওয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশি যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাজন বড় স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় যান, তাদের ১০ লাখ টাকা দিয়েছেন। জমি বিক্রি, বন্ধক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে যাওয়ার টাকা জোগাড় করে রাজনের পরিবার।
রাজন আরও জানান, যে প্রতিষ্ঠানে কাজ দেওয়ার কথা ছিল, সেই নামে কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না। এটি রাশিয়ায় পৌঁছার পর জানতে পারেন। পরে ১৩ মে ইউক্রেনের যে অংশ রাশিয়া দখল করেছে, সে ধরনের একটি এলাকায় নেওয়া হয়। একটি বাঙ্কারে তাদের রাখা হয়। এরপর ২১ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশি ৩০ জনের দলকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। একটি ভাগে ছিল ১৬ জন। আরেকটিতে আটজন। অন্যটিতে ছয়জন। রাজন ছিলেন ছয়জনের দলে।
রাজন বলেন, ড্রোন হামলায় আমার দলের মেহেদী, মিন্টু, রিপন ও মামুন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে মিন্টুর গ্রামের বাড়ি যশোর, রিপনের গাজীপুর, মামুনের ময়মনসিংহ ও মেহেদীর ঢাকায়। ১৪ জুন রাজনের ওপর আঘাত হানে ড্রোন। এরপর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। কোমরের নিচে আঘাত পান। চার দিনে ৪ কিলোমিটার পথ বুকে ভর দিয়ে অতিক্রম করে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ইউক্রেনের অংশে তাদের ক্যাম্পে পৌঁছান। এরপর তাঁকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। পরে কাজান শহরের আরেকটি হাসপাতালে তাঁকে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার সময় রাশিয়ান এক ডাক্তার তাঁকে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিয়ে যান।
রাজন আরও জানান, রাশিয়ায় যাওয়ার পরপর তাদের পাসপোর্ট নিয়ে যান রিক্রুটিং এজেন্সির লোকজন। এ কারণে রাশিয়া থেকে তাঁকে ট্রাভেল ভিসা নিয়ে ফিরতে হয়েছে। রাজনের দেওয়া তথ্যানুসারে, ৩০ বাংলাদেশিকে একটি বাসে করে মস্কো থেকে ওয়ারেনবার্গ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হোটেলে তিন থেকে চার দিন রাখার পর ব্যাংককার্ড, সিমকার্ডের কথা বলে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় দালাল চক্রের রাশিয়ান সিন্ডিকেট। পরে কাজের কথা বলে রাজনসহ অন্যদের নিয়ে যাওয়া হয় একটি অজ্ঞাত রুশ সেনাক্যাম্পে। যুদ্ধক্ষেত্রের বিষয়টি টের পেয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাছে অনেকে আকুতি জানান। এরপরও তাদের যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত করা হয়।
রাজন বলেন, আমাদের দলের ২০ জন মারা গেছেন। এক দিনে মারা গেছেন ১৭ জন। তাদের মধ্যে অনেকের নাম জানা আছে। অনেকের জেলার নামও জানি। আমরা যে তিনটি গ্রপে ভাগ হয়ে যুদ্ধ করেছি, সেটি কাছাকাছি এলাকায় ছিল। একই ব্যাটালিয়নের আওতায় আমরা ছিলাম। আমাদের সবার কাছে ওয়াকিটকি দেওয়া হয়েছিল। সহযোদ্ধাদের লাশ চোখের সামনে পড়ে ছিল।
ব্র্যাকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সাল থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত বৈধভাবে রাশিয়ায় গেছেন আট হাজার ৬১৮ বাংলাদেশি।