ছবি: সংগৃহীত।
শান্তিনগরের মুদি দোকানি জাহিদ হাসানের দোকানে সব পণ্য পাওয়া গেলেও তিনি নিজের তিন বছরের কন্যাশিশুর জন্য খাদ্যদ্রব্য কেনেন ‘একটু উন্নত’ ডিপার্টমেন্ট-স্টোর থেকে। তার বিশ্বাস, ভালো ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্য শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর। দাম একটু বেশি হলেও তিনি সেখান থেকেই সন্তানের জন্য গুঁড়া দুধ, চকলেট, চিপস ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য কেনেন।
পরীবাগের বাসিন্দা সালেহা চৌধুরী জানান, বাচ্চারা চকলেট, চিপস প্রভৃতি পছন্দ করে।
একটু বেশি দাম হলে ব্র্যান্ডের পণ্য কিনে থাকেন তিনি। শুধু তারাই নন, প্রত্যেক বাবা-মা সন্তানের জন্য একটু নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবার খোঁজেন। ভালো ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্যকে নিরাপদ মনে করেন তারা। কিন্তু ‘ভালো ব্র্যান্ডের’ খাবারেও এখন ক্ষতিকর উপাদান মিলছে।
যেসব পণ্য মানুষ চোখ বন্ধ করে বাচ্চাদের জন্য কিনছেন তাতেও ভেজাল উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে। বাচ্চাদের প্রিয় গুঁড়া দুধ তৈরি হচ্ছে ভেজাল ‘হয়ে পাউডার’ দিয়ে (এক ধরনের সাদা পাউডার)। সেসবে ‘দুগ্ধ উপাদান’ খুবই সামান্য। সম্প্রতি ল্যাব টেস্টে গোয়ালিনী নামের গুঁড়া দুধে মাত্র ১৭ শতাংশ দুগ্ধ উপাদান পাওয়া গেছে। বাকি অন্তত ৬৭ শতাংশ ভেজাল উপাদান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সস্তার ‘হয়ে পাউডার’ মিশিয়ে চকচকে মোড়কে বাজারে বিক্রি হচ্ছে বাহারি মিল্ক পাউডার। আদালতে প্রমাণ হওয়ার পরও আইনের ফোকর গলে সামান্য শাস্তিতেই পার পেয়ে যাচ্ছে জড়িতরা। ক্রেতাদের বোঝার উপায় নেই যে, গুঁড়া দুধের নামে তারা বাচ্চাদের ‘হয়ে পাউডার’ খাওয়াচ্ছেন। এরকম অনেক মানহীন শিশুখাদ্য বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে। ভেজাল খাদ্যের ব্যাপারে সরকারের তৎপরতা খুবই সামান্য।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব পণ্য সরকার নির্ধারিত মান নিশ্চিত না করেই বাজারজাত করা হচ্ছে। সরকারি নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর উদাসীনতায় আইন থাকলেও কার্যকরী হচ্ছে না। যারা এসব করে তারা সহজেই ফোকর গলে বেরিয়ে যাচ্ছে। প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক, বিক্রেতা কাউকে উল্লেখযোগ্য শাস্তি দেওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে ভেজাল খাদ্য তুলে দিতে হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের মুখে। এমনকি আমদানি করা ‘উন্নত’ মানের পণ্যেও ভেজাল ধরা পড়ছে।
সম্প্রতি বেশ কিছু শিশুখাদ্যে ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলা হয়েছে। মামলার নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হয়। বিদেশি পণ্যের আমদানিকারকদের শাস্তি দেওয়া হলেও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণহীন। ভেজাল প্রমাণিত হওয়ার পরও পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ অনুসন্ধানের জন্য যে ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট ও জনবল দরকার, তা এ খাতে নেই। বিদেশি ব্র্যান্ডের পণ্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
গুঁড়া দুধে দুগ্ধ উপাদান ১৭ শতাংশ
কয়েক মাস আগে ‘গোয়ালিনী ডেইলি ফুলক্রিম মিল্ক পাউডার’ গুঁড়া দুধের নমুনা সংগ্রহ করেছিল ডিএসসিসির খাদ্য পরিদর্শকরা। গোয়ালিনীর পণ্য রাসায়নিক ও ভৌত দুই পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ হয়নি।
পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা গেছে, তাতে দুগ্ধ উপাদান আছে মাত্র ১৭ দশমিক ০৮ শতাংশ। বাকি ৫৮.৯২ শতাংশ ভেজাল উপাদান। অন্যন্য উপাদানেও ভেজালের পরিমাণ ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ। ৬৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভেজাল উপাদানে তৈরি হচ্ছে গোয়ালিনীর গুঁড়া দুধ।
গোয়ালিনী গুঁড়া দুধে দুগ্ধ চর্বির পরিমাণ থাকার কথা ছিল ৪২ শতাংশ বা তার কমবেশি। কিন্তু রাসায়নিক পরীক্ষায় এর পরিমাণ পাওয়া গেছে মাত্র ৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ ৩৪ দশমিক ৪২ শতাংশ ভেজাল উপাদান। দুগ্ধ প্রোটিন কমপক্ষে ৩৪ শতাংশ থাকার কথা থাকলেও পাওয়া গেছে মাত্র ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। এখানে ভেজালের পরিমাণ ২৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।
গুঁড়া দুধ বলে বিক্রি হওয়া পণ্যটিতে দুগ্ধ উপাদানের পরিমাণ থাকার কথা ছিল অন্তত ৭৬ শতাংশ। অম্লতা থাকার কথা ছিল অনূর্ধ্ব ১৮ শতাংশ, গোয়ালিনীতে পাওয়া গেছে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। লেডের নির্ধারিত মান শূন্য দশমিক ০২ থাকলেও এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ৫ শতাংশ আর্দ্রতার জায়গায় পাওয়া গেছে ৪ দশমিক ১১ শতাংশ।
প্যাকেটের গায়ে পুষ্টিগুণের তালিকা দেওয়া আছে। এসব পণ্য ল্যাবে পরীক্ষা করে তালিকার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। এমনকি স্ট্যান্ডার্ড মানের সঙ্গেও উপাদানের অনেক ফারাক পেয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
‘গোয়ালিনী ডেইলি ফুলক্রিম মিল্ক পাউডার’ নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় পণ্যগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহার ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা করে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। গত ১০ ডিসেম্বর স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বীথি ওই আদেশ দেন। নিম্নমানের গুঁড়া দুধ সরবরাহের দায়ে এসএ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মো. সাহাবুদ্দিন আলমের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল একই আদালত। পরে আদালতে হাজির হয়ে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি এবং তাদের ভেজাল পণ্য বাজার থেকে তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। গত ডিসেম্বর মাসে গোয়ালিনী গুঁড়া দুধের কিছু প্যাকেট ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলার বাদী এবং প্রসিকিউটিং অফিসার মোহা. কামরুল হাসান বলেন, ‘দোষ স্বীকার করায় আদালত পণ্য ধ্বংসের আদেশ দেয়।’
এসএ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মো. সাহাবুদ্দিন আলমের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। কোম্পানির অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি দেশের বাইরে গেছেন। তবে এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি কর্মকর্তারা।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু গোয়ালিনীই নয়, আসলাম টি কোম্পানির ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার, একই কোম্পানির পূর্ণ ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ, ডানো ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার, ড্যানিশ ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার, ইনস্ট্যান্ট ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার (নেসলে) ও স্টারশিপ গুঁড়া দুধ ল্যাব টেস্টে উত্তীর্ণ হয়নি। এসব গুঁড়া দুধের আমদানিকারকদের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে।
ভেজাল পণ্যের বিএসটিআই লোগো : বাজারজাত করা বেশ কয়েকটি গুঁড়া দুধের প্যাকেটে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) লোগো এবং কিউআর কোড দেখা গেছে। অন্যান্য পণ্যেও এই লোগো পেয়েছেন খাদ্য পরিদর্শকরা। তারা বলছেন, পণ্যের নমুনা নির্ধারিত মান পূর্ণ করলেই বিএসটিআই লোগো ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী গুঁড়া দুধ, চকলেট, বিস্কুট বা শিশুখাদ্যে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।
বিএসটিআই-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আইনে বাধ্যবাধকতা থাকায় ভেজাল অনেক পণ্যের প্যাকেটের গায়ে নকল লোগো এবং কিউআর কোড দেওয়া থাকে।
বিএসটিআইয়ের সমন্বয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘মানহীন অনেক পণ্যে বিএসটিআইয়ের নকল লোগো দেওয়ার অভিযোগ আছে। বিষয়টি মাথায় রেখে লোগোর সঙ্গে এখন কিউআর কোড দিয়ে দেওয়া হয়। গ্রাহকরা কিউআর কোড স্ক্যান করলে ওই পণ্য নিবন্ধিত কি না, নিশ্চিত হতে পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘বিএসটিআই নিবন্ধিত কোনো পণ্যে ভেজাল প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযোগ পেলে মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করা হয়।’
মানহীন কিটক্যাট চকলেট : পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আমদানি করা কিটক্যাট চকলেট অনেক শিশু-কিশোর, এমনকি বড়দেরও প্রিয়। কিন্তু এ চকলেটেই মান রক্ষা করা হচ্ছে না। ক্ষতিকর উপাদানসহ এ চকলেট ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ পণ্য শিশু-কিশোরদের না দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরো জোরালো করার তাগিদ দিয়েছেন।
সম্প্রতি, শিশু খাদ্যে ভেজাল সন্দেহে রাজধানীর ফকিরাপুলের আমানিয়া বেকারি অ্যান্ড সুইটস থেকে এক বক্স কিটক্যাট সংগ্রহ করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-২-এর নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মোহা. কামরুল হাসান। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, নমুনা জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগার এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরীক্ষার করে কিটক্যাট চকলেট মানসম্মত নয় বলে সনদ দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ম্যানেজারদের নোটিস দেয় ডিএসসিসি। এরপর নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩-এর ২৬, ৩৭, ৩৯ ও ৪০ ধারা লঙ্ঘনের জন্য ওই আইনের ৫৮ ধারায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বিরুদ্ধে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে অভিযোগ করা হয়। গত বছর ৩ নভেম্বর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পুরান ঢাকার চকবাজারের সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক মোজাম্মেল হোসাইনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। তাছাড়া কোকোলা ওয়েফার নামক একটি শিশুখাদ্যে ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় পণ্যটি তুলে নেওয়ার আদেশ দিয়েছিল আদালত।
শিশুস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি : এ নিয়ে কথা হয় বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ কার্যালয়ের উপপরিচালক (পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও গবেষণা) ডা. মো. আকতার ইমামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভেজাল পণ্যে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কিডনিতে সমস্যা হতে পারে। শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্রেন ডেভেলপমেন্টে সমস্যা হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘এজন্য সরকারের আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সবাইকে সচেতন হতে হবে।’
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া (অতিরিক্ত সচিব) বলেন, ‘শিশু খাদ্য খুবই স্পর্শকাতর। এটার মান নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে থাকি। আমাদের ল্যাবে প্রতি বছর দেড় থেকে দুই হাজার নমুনা পরীক্ষা করার সক্ষমতা আছে। ল্যাবের সক্ষমতা আরো বাড়াতে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যেসব পণ্যে সন্দেহ হয় বা অভিযোগ পাওয়া যায় সেসব পণ্যের ব্যাপারে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। অনেক সময় ভালো ব্র্যান্ডের মোড়কেও ভেজাল পণ্য পাওয়া যায়।’ কারও গোপন কারখানা থাকলে, কোনো পণ্যে সন্দেহ হলে প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ শাহরিয়ার হোসেনকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তাঁর বাবা মো. মনির হোসেন।
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তাঁর ছেলের মৃত্যু সনদপত্র দিতে অস্বীকার করেন চিকিৎসক। একটি সাদা কাপড় দিয়ে চিকিৎসক বলেছিলেন, শাহরিয়ারের শরীর ঢেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। পথিমধ্যে কেউ জিজ্ঞেস করলে শাহরিয়ারের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বলতেও নিষেধ করেন সেই চিকিৎসক।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বুধবার এ জবানবন্দি দেন মনির হোসেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।
মনির হোসেন কাঁচামালের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি মোহাম্মদপুরে ব্যবসা করেন। জুলাই শহীদ শাহরিয়ার হোসেন তাঁর বড় ছেলে।
জবানবন্দিতে মনির হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শাহরিয়ার মোহাম্মদপুরে আন্দোলনে অংশ নেন। সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের গুলি করে। তাঁর দুই ভাগনে এসে শাহরিয়ারের শরীরে গুলি লাগার কথা জানান। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয় চিকিৎসকের পরামর্শে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহরিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাঁর ছেলেকে হত্যার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন মনির হোসেন। এ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ অনেককে দায়ী করেন তিনি।
এ মামলায় মোট আসামি ২৮ জন। এর মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন আনসারের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল ও সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।
সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ এ মামলার ২৪ আসামি পলাতক। পলাতক অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকত প্রমুখ।
ছেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বলতে নিষেধ করা হয়েছিল
শেখ হাসিনা, মানবতা, বিরোধী অপরাধ, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, আওয়ামী লীগ, গুলি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ শাহরিয়ার হোসেনকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তাঁর বাবা মো. মনির হোসেন।
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তাঁর ছেলের মৃত্যু সনদপত্র দিতে অস্বীকার করেন চিকিৎসক। একটি সাদা কাপড় দিয়ে চিকিৎসক বলেছিলেন, শাহরিয়ারের শরীর ঢেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। পথিমধ্যে কেউ জিজ্ঞেস করলে শাহরিয়ারের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বলতেও নিষেধ করেন সেই চিকিৎসক।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বুধবার এ জবানবন্দি দেন মনির হোসেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।
মনির হোসেন কাঁচামালের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি মোহাম্মদপুরে ব্যবসা করেন। জুলাই শহীদ শাহরিয়ার হোসেন তাঁর বড় ছেলে।
জবানবন্দিতে মনির হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শাহরিয়ার মোহাম্মদপুরে আন্দোলনে অংশ নেন। সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের গুলি করে। তাঁর দুই ভাগনে এসে শাহরিয়ারের শরীরে গুলি লাগার কথা জানান। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয় চিকিৎসকের পরামর্শে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহরিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাঁর ছেলেকে হত্যার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন মনির হোসেন। এ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ অনেককে দায়ী করেন তিনি।
এ মামলায় মোট আসামি ২৮ জন। এর মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন আনসারের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল ও সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।
সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ এ মামলার ২৪ আসামি পলাতক। পলাতক অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকত প্রমুখ।
ছবি : সংগৃহীত
এলএনজি কার্গোর অভাবে অবশেষে মজুত ফুরিয়ে গেছে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ)।
আজ বুধবার দুপুরে টার্মিনালটি পুরোপুরি গ্যাসশূন্য হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত এখন সামিটের টার্মিনাল থেকেই মূলত আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে হবে।
এদিকে এক্সিলারেটের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহও এক দফা কমেছে।
আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে দুই টার্মিনাল থেকে ৬৬ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও সন্ধ্যা ৬টায় তা কমে দাঁড়ায় ৫৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুটে। একই সময়ে দেশীয় কূপ থেকে সরবরাহ ছিল প্রায় ১৬২ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট। ফলে সন্ধ্যায় জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট গ্যাস প্রবাহ ছিল ২১৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২২৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১৬২ কোটি ৮০ লাখ এবং এলএনজি থেকে ৬৬ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে মোট সরবরাহ কমেছে ১০ কোটি ঘনফুট।
আরপিজিসিএলের এক কর্মকর্তা জানান, আজ বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে এক্সিলারেটের টার্মিনালে মজুত এলএনজি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়। ফলে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে সামিটের টার্মিনাল সচল রয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৫৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে দেওয়া হচ্ছে।
এভাবে এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পেছনে কার্গো সংকটকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে টার্মিনালের বয়লার মেরামত নিয়েও তথ্যের বিভ্রাট ছিল বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
তার ভাষ্য, এক্সিলারেটের পক্ষ থেকে বয়লার সচল করতে ৭২ ঘণ্টা বিরতির কথা জানানো হয়েছিল। পরে বয়লার ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা জানানো হলেও ততক্ষণে কার্গোর সংকট তৈরি হয়ে যায়। ফলে টার্মিনাল সচল রাখার মতো এলএনজি মজুত ছিল না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্গো সময়মতো না আসায় টার্মিনাল সচল থাকার পরও গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে একদিকে গ্যাসের ঘাটতি বাড়ছে, অন্যদিকে জরুরিভিত্তিতে বেশি দামে কার্গো কিনতে হচ্ছে। নতুন কার্গো ২৩ আগস্ট সময়মতো দেশে না এলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতীকী ছবি
কারাগারে থাকা বন্দিকে সীমিত সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া হলো প্যারোল। বিধি মোতাবেক কেউ প্যারোল আবেদনের যোগ্য হলে তিনি আবেদন করতে পারেন।
জামিনের সঙ্গে এর পার্থক্য রয়েছে। জামিন হয় আদালতের নির্দেশে, কিন্তু প্যারোল হয় প্রশাসনিক আদেশে। জামিন পাওয়া ব্যক্তি বাইরে স্বাধীন থাকেন এবং তিনি কোনো আদালত বা পুলিশের জিম্মায় থাকেন না। কিন্তু প্যারোল পাওয়া ব্যক্তি পুরো সময় পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকেন। প্যারোল পাওয়া ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময় পর পুলিশ কারাগারে নিয়ে আসবে।
আইনজীবী মনজিল মোরশেদ জানান, যে কোনো ধরনের বন্দি, কয়েদী বা হাজতিই প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিবেচিত হতে পারেন।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যে অপরাধের কারণে বা যে ধরন বা মেয়াদের শাস্তি ভোগরতই থাকুন না কেন, সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে (যেমন নিকটাত্মীয়ের জানাজা) তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারেন প্যারোলে মুক্তির জন্য। মন্ত্রণালয় দূরত্ব ও স্থান বিবেচনা করে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তার আবেদন মঞ্জুর করতে পারেন।
প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে যত নীতিমালা
কোনো বন্দি প্যারোল পাবেন এবং প্যারোলের আওতায় তার সময়কাল কীভাবে দেখা হবে - তা নিয়ে একটি নীতিমালা আছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।
এ নীতিমালা অনুযায়ী, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। এ নীতিতে থাকা অন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:
১. নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনা করে প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ সময় নির্ধারণ করে দেবেন;
২. নিকট আত্মীয় যেমন বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, সন্তান, আপন ভাই-বোন মারা গেলে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যায়;
৩. আদালতের আদেশ বা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে;
৪. প্যারোলে মুক্তি পেলেও সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরায় থাকতে হবে;
৫. কারাগারের ফটক থেকে প্যারোলে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিকে পুলিশ বুঝে নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই কারাগারে ফেরত দিতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবা ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেছেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জুলাই আহতদের চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারদের পুনর্বাসনের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে যাদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাদের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি। আহত জুলাই যোদ্ধারা যেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক ও তৎপর রয়েছি।
বুধবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি’র সভায় তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, আহত জুলাই যোদ্ধারা যেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সেই বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক ও তৎপর রয়েছি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৪৫-এর সংসদ সদস্য ও জুলাই শহীদ জাবিরের মাতা রোকেয়া বেগম।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, আমাদের সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বাংলাদেশ গড়বে, সেজন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আর সেই অঙ্গীকার থেকেই আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরকে সক্রিয় করে এর মাধ্যমে আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের জন্য কাজ করব। এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক দলের নয়, এটি পুরো জাতির। সকল শহিদ পরিবার ও আহতদের পরিচর্যা ও সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
অন্যদিকে, তালিকার নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোকপাত করে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, জুলাই যোদ্ধাদের এবং শহীদদের তালিকায় যে সকল ভুলত্রুটি বা অভিযোগ আসছে, সেগুলো তদন্ত সাপেক্ষে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সংশোধন করা হচ্ছে। জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের আবেদনের ভিত্তিতে ডাক্তারি সনদসহ জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই অন্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদনপূর্বক গেজেটভুক্ত করা হয়। আমাদের লক্ষ্য একটি সম্পূর্ণ নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা উপহার দেওয়া, যাতে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি এতে সুযোগ না পায় এবং প্রকৃত কোনো জুলাই যোদ্ধা বা শহিদ পরিবার বাদ না পড়েন।
বিশেষ আমন্ত্রণে সভায় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৪৫ এর সংসদ সদস্য ও জুলাই শহীদ জাবিরের মাতা রোকেয়া বেগম। এছাড়া সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা; সরকার মনোনীত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের একজন প্রতিনিধি এবং জুলাই যোদ্ধাদের একজন প্রতিনিধি।
সভায় জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রকৃত তালিকা এবং তাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আলোচ্যসূচি অনুযায়ী আলোচনা করা হয় ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক
নয়টি মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিনের পর অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক।
আজ বুধবার বিকেল ৪টার দিকে কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন তার কারামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত এক বছরে তাকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হত্যা বা হত্যাচেষ্টা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পরিবর্তন, জালিয়াতির অভিযোগ এবং দুর্নীতির মোট নয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর সবগুলোতেই তিনি সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বনানী থানায় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা সর্বশেষ এক মামলায় খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা। ওইদিন রাতেই তাকে যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।
২০২৬ সালের এপ্রিল ও মে মাসে বিভিন্ন মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে তার জামিন বহাল হলেও নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণে এতদিন তিনি কারামুক্ত হতে পারেননি।
২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এ বি এম খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান।
ঈদে-মিলাদুন্নবী
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে আগামী ২৬ আগস্ট দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করবে সরকার। গত ১৩ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় জাতীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়।
ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দেবেন। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্র বাহিনীর সব স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড, লাইটপোস্ট, স্থান ও সড়ক জাতীয় পতাকা, রঙিন পতাকা এবং ‘কালিমা তায়্যিবা’ লেখা ব্যানারে সজ্জিত করা হবে।
বাংলাদেশ সচিবালয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং সশস্ত্র বাহিনী নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার ও টকশো প্রচারের পাশাপাশি কিরাত, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আরবিতে খুতবা লেখা প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন স্মরণিকা বা ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ প্রান্তে মাসব্যাপী ইসলামিক বইমেলারও আয়োজন করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংবাদপত্রগুলোও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা ও জেদ্দা হজ অফিসসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবন ও কর্ম, ইসলামের শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে বলা হয়েছে।
শিশুদের জন্য হামদ-নাত, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি।
এদিকে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশের সব সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু সদন, আবাসিক শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও প্রবীণ নিবাসে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতেও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।