ছবি: সংগৃহীত।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৬:০২ এএম

বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থি দলটি আগামী মাসে ভোট বাক্সে তাদের সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে প্রস্তুত। এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন কূটনীতিকরা দলটির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রাপ্ত অডিও রেকর্ডিং থেকে এ তথ্য জানা গেছে।


গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। 


সাংবাদিক প্রাণসু বর্মার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামী সংগঠনটি একাধিকবার নিষিদ্ধ হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ছাত্র বিক্ষোভে উৎখাত হওয়ার আগে শেখ হাসিনাও দলটিকে নিষিদ্ধ করেন। দলটি ঐতিহ্যগতভাবে শরিয়াহ আইন দ্বারা শাসন পরিচালনা ও নারীদের ‘তাদের সন্তানদের প্রতি কর্তব্য পালনে’ সহায়তার জন্য কর্মঘণ্টা হ্রাসের পক্ষে বলে আসছে। সম্প্রতি জনসাধারণের মধ্যে ভাবমূর্তি নরম করতে ও সমর্থন বাড়াতে তারা বলেছে, দুর্নীতি নির্মূল করতেই তাদের মনোনিবেশ। 


অডিও রেকর্ডিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার মার্কিন কূটনীতিকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন– তারা পুনরুত্থিত ‘ইসলামপন্থি আন্দোলনের’ সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ। গত ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত এক মার্কিন কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ ‘ইসলামিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে’। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ‘আগের চেয়ে ভালো করবে’। ওই কূটনীতিক বলেন, ‘আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক।’  


নিরাপত্তার কারণে ওই কূটনীতিকের নাম প্রকাশ করা হয়নি। জামায়াত বাংলাদেশে ইসলামী আইনের ব্যাখ্যা জোর করে প্রয়োগের চেষ্টা করবে– এমন উদ্বেগকে তিনি খাটো করে দেখছেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের কাছে এমন সুবিধা রয়েছে, যা তারা ব্যবহার করতে প্রস্তুত। ওই কূটনীতিক বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না যে, জামায়াত শরিয়াহ আরোপ করতে পারে।’ আর দলটির নেতারা যদি উদ্বেগজনক পদক্ষেপ নেন, তাহলে কী হবে– এমন প্রশ্নে ওই কূটনীতিক বলেন, এমনটা করলে যুক্তরাষ্ট্র ‘পরদিন তাদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে।’


দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া বিবৃতিতে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শি বলেন, ডিসেম্বরে যে কথোপকথন হয়েছিল, তা ছিল নিয়মিত আলোচনা। এটা মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে রেকর্ডবিহীনভাবে হয়েছে। 


তিনি বলেন, বৈঠকে ‘অনেক রাজনৈতিক দল নিয়ে আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক দলকে অন্য দলের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয় না। বাংলাদেশের জনগণের দ্বারা নির্বাচিত যে সরকারই হোক না কেন, তার সঙ্গে কাজের পরিকল্পনা (ওয়াশিংটনের) রয়েছে।’


এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর মার্কিন মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘একটি ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকে করা মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে আমরা মন্তব্য না করার সিদ্ধান্ত নিই।’ মার্কিন গণমাধ্যমটি লিখেছে, এসব মন্তব্য পরিবর্তনের এ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিকরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কীভাবে দেখছেন, তার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।  


এ প্রসঙ্গে আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে সম্ভাব্যভাবে আরেকটি ফাটল তৈরি করতে পারে।’ পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক বিরোধ, রাশিয়ান তেল ক্রয়, একটি অসমাপ্ত বাণিজ্য চুক্তি ও অনেক ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপের কারণে দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক ইতোমধ্যেই তলানিতে পৌঁছেছে। 


তিনি বলেন, ‘বহু বছর ধরে বাংলাদেশে ভারতের সবচেয়ে বড় ভয় জামায়াতকে।’ ভারত দলটিকে পাকিস্তানের মিত্র ও তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে। তবে মনিকা শি তাঁর বিবৃতিতে লেখেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ‘মার্কিন-ভারত সম্পর্কের ওপর কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে না।’ 


প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ইতোমধ্যেই তলানিতে। হাসিনা ভারত সরকারের মিত্র ছিলেন এবং ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নয়াদিল্লিতে নির্বাসনে যান। গত নভেম্বরে বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, যেখানে কমপক্ষে এক হাজার ৪০০ বিক্ষোভকারীর হত্যাকাণ্ডের তত্ত্বাবধানের জন্য তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধ সত্ত্বেও ভারত তাঁকে তাঁর সাজা ভোগ করার জন্য ঢাকায় প্রত্যর্পণ করেনি।


অস্থিতিশীল অবস্থান মধ্যে দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য দেশকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৪ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর ইউনূস (অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস) বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ একটি পরিবার। আমাদের একে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।’ গত সপ্তাহে এক্স পোস্টে তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও সময়মতো হবে। যে যাই বলুক, নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আশা, নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী প্রদর্শন থাকবে। অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি রাজনীতির বিশেষজ্ঞ ও সহকারী গবেষক মুবাশ্বার হাসানের মতে, হাসিনার অধীনে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ হওয়ার পর প্রচারণার সময় দলটি গতি পেয়েছে। এখন মূলধারায় পরিণত হয়েছে। 


যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতের মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান বলেন, দলটি ‘দুর্নীতিবিরোধী, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন’-এর প্ল্যাটফর্মে চলছে। নারীদের জন্য কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাবটি এখনও ‘প্রাথমিক পর্যায়ে’। শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের কোনো পরিকল্পনা দলের নেই।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১৫ পিএম

মোটরসাইকেলের সামনেও থাকতে হবে নম্বর প্লেট। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেল মালিকদের এই ব্যবস্থা নিতে বলেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।


এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বিআরটিএ বলছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ ও সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী মোটরসাইকেলের পেছনে কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত আরএফআইডিসহ উন্নতমানের রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ ধাতুর প্লেটে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের বিধান রয়েছে।


সরকার মোটরসাইকেলের পেছনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের পাশাপাশি সম্মুখভাগে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল মালিকদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নির্দিষ্ট মাপ অনুসরণ করে নম্বর প্লেট প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। স্কুটারের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ হবে যথাক্রমে ২০০ ও ১০০ মিলিমিটার। অক্ষর ও সংখ্যার ফন্টের উচ্চতা হবে কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার।


স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ হবে যথাক্রমে ২৮৫ ও ৫০ মিলিমিটার। অক্ষর ও সংখ্যার ফন্টের উচ্চতা হবে কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার।


নম্বর প্লেটের উপাদান স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়ামের হতে হবে। নম্বর প্লেটটি সাদা পটভূমির ওপর কালো রঙের বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা লিখতে হবে। ম্যানুয়াল নম্বর প্লেটের ওপর অন্য কোনো শোভবর্ধন ও নকশা করা যাবে না।


স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন মার্ক একটি আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে (যেমন: ঢাকা মেট্রো-ল-১১-১২১২)।


আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা প্রদর্শনের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে বিআরটিএ। অন্যথায়, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।



প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৬ এএম

আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস। ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূর করা, সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ে বৈশ্বিক সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতি বছর এদিনে দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের উদ্ভাবন আগামী সমৃদ্ধি’। কৃষি মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) যৌথ উদ্যোগে বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হবে।


এ উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি, কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং টেকসই খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে।


জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। খাদ্যের উৎপাদন ও সরবরাহের পাশাপাশি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন বৈশ্বিক মূল্যায়নে প্রায় ২৬ কোটি মানুষের তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভোগার চিত্র উঠে এসেছে।


বাংলাদেশেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন এবং মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে কৃষি উৎপাদন, নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা ও মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে এসব এলাকার দরিদ্র পরিবার ও শিশুরা অপুষ্টির বাড়তি ঝুঁকিতে রয়েছে।


যেভাবে শুরু বিশ্ব খাদ্য দিবসের


১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা দূর করা, পুষ্টির মান উন্নয়ন এবং কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো সংস্থাটির অন্যতম লক্ষ্য। ১৯৭৯ সালে হাঙ্গেরির তৎকালীন কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী পল রোমানি বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের প্রস্তাব দেন। ওই বছর এফএওর সম্মেলনে ১৬ অক্টোবর দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৮১ সাল থেকে প্রতিবছর নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।


এর মধ্য দিয়ে খাদ্যকে কেবল ব্যক্তিগত প্রয়োজন হিসেবে নয়; বরং মানুষের মৌলিক চাহিদা এবং বৈশ্বিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনার বার্তা দেওয়া হয়।


কেন পালন করা হয় দিবসটি


বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের অন্যতম প্রধান কারণ ক্ষুধা ও অপুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা হলেও পৃথিবীর সব মানুষ সমানভাবে খাবার পান না। দারিদ্র্য, সংঘাত, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনেক মানুষের জন্য নিয়মিত খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে।


এফএওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ৬৪৫ মিলিয়ন মানুষ এখনো ক্ষুধার মুখে রয়েছেন এবং ২.৬৯ বিলিয়ন মানুষ স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য রাখেন না। অর্থাৎ, খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেও সবার জন্য পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।


এই পরিস্থিতিতে খাদ্যের সহজলভ্যতা ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো, কৃষি উৎপাদনকে টেকসই করা এবং খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে দিবসটি। পাশাপাশি ক্ষুধা ও অপুষ্টি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।


রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:০৪ পিএম

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কৃষিখাত লাভজনক করতে সরকারকে প্রণোদনা দিতে হবে, কৃষকদের সাহায্য করতে হবে। কৃষিতে ভর্তুকি দিতে হবে। যদিও বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ ভর্তুকি দিতে বাধা দেয়। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আয়োজনে কৃষি বিজ্ঞানীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।


রাষ্ট্রপতি বলেন, যেসব খাতে ঘাটতি আছে, গবেষণার মাধ্যমে তা সমাধান করা প্রয়োজন। উৎপাদনের পর কৃষক দাম পায় না, আবার কৃষক যখন ফসল ফলায় তখন বাড়তি দামে বীজ কিনতে হয়।


ফল ও সবজি দীর্ঘদিন মজুত রাখার জন্য কোল্ড স্টোরেজ করা প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।


কৃষি এখন লাভজনক নয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, জীবন ব্যয়ের যোগান না থাকায় মাঠে এখন শ্রমিক পাওয়া যায় না। কৃষি এখন লাভজনক নয় বলেই অনেকেই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে সরকারকে প্রণোদনা দিতে হবে, কৃষকদের সাহায্য করতে হবে।


মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, পেঁয়াজ চাষে বিপ্লব হয়েছে, এখন আর আমদানি করতে হয় না। ফলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও তার প্রক্রিয়া সুখকর নয়। জমিতে সার ব্যবহার নিয়ে কৃষকদের সচেতনতা তৈরি করতে হবে। জমিতে ফার্টিলাইজার ব্যবহারে ঊর্বরতা কমে যায়।


কৃষি বিজ্ঞানীদের নিয়ে তিনি বলেন, কৃষি বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। আইন পরিবর্তন করে হলেও কৃষি বিজ্ঞানীদের পেনশনের ব্যবস্থা করতে হবে। 


তিনি বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে সব ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি সবপ্রতিষ্ঠানে ছেয়ে গেছে। এখন সুযোগ এসেছে সেখান থেকে বের হয়ে আসার। সবাই একটু ধৈর্য্য ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলে সফলতা আসবে। 


এই মতবিনিময় সভায় উঠে আসে বাংলাদেশের বর্তমান কৃষি নানা চ‍্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা। বক্তারা বলেন, কৃষিতে উৎপাদনের সাথে সাথে মানের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক পণ‍্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে তবে এখন রপ্তানি দিকে নজর দিতে হবে। শুধু বাংলাদেশিদের জন্য নয় বরং এর বাইরে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে পণ‍্য পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশের কথা মাথায় রেখে কীটনাশক আরও উন্নত করার জন‍্য গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৬ পিএম

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এসময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৩ জন। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।


বুলেটিনে বলা হয়, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৩৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম ১৪ দিনে মারা গেছে ৮৬ জন। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।


বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়, গতকাল সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৯৪৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ২৫৯ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৮৩০ জন। এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১ হাজার ৩১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।


প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৫ পিএম

দীর্ঘসময় বন্ধ থাকার পর অবশেষে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।


এতে বলা হয়, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী দেশটিতে কাজ করছেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বন্ধ ও সীমিত হয়ে যাওয়া বৈদেশিক শ্রমবাজার পুনরায় চালু ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে এজেন্সির সংখ্যা ৩৩৮টি।


মন্ত্রণালয় জানায়, তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেদের উদ্যোগে মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করতে পারবে, চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ করতে পারবে এবং বাংলাদেশ থেকে কর্মী নির্বাচন করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।


পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার কর্মী সম্পূর্ণ বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে মালয়েশিয়া। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটির শ্রমবাজারে আরও উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক নিয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করছে সরকার।


প্রথম ধাপ: জব ওর্ডার সংগ্রহ


মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত সকল বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার থেকে নিজেদের উদ্যোগে জব ওর্ডার বা ডিমান্ড সংগ্রহ করতে পারবে।


দ্বিতীয় ধাপ: কর্মী নির্বাচন


যে এজেন্সি জব ওর্ডার সংগ্রহ করবে, সেই এজেন্সি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে নিজের কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। অর্থাৎ, কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচন করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির নিজের কাছেই থাকবে।


তৃতীয় ধাপ: মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক প্রসেসিং


যেখানে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রশাসনিক প্রসেসিং প্রয়োজন হবে, যেমন কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং অন্যান্য নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া, সেখানে সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-সহ তালিকাভুক্ত অপর ২৫টি প্রসিসিং ও সার্ভিস এজেন্সি প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।


চতুর্থ ধাপ: বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স


মালয়েশিয়ার প্রয়োজনীয় প্রসেসিং সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।


এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিটি বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি তার নিজের রিক্রুটিং লাইসেন্সের মাধ্যমেই তার নিজস্ব কর্মীদের বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করতে পারবে। 


অর্থাৎ, জব ওর্ডার যে এজেন্সি সংগ্রহ করবে এবং কর্মী যে এজেন্সি নির্বাচন করবে, সেই এজেন্সি নিজের লাইসেন্সের অধীনেই তার কর্মীদের বাংলাদেশের সরকারি ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করতে পারবে।


সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং অপর ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি প্রশাসনিক প্রসেসিংয়ের কাজ করবে। বিএমইটি-এর ছাড়পত্রের জন্য তারা অনুমোদিত এজেন্সিকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সির নিজস্ব দায়িত্ব, জবাবদিহিতা এবং ব্যবসায়িক স্বাধীনতা বজায় থাকবে।


কর্মীদের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে


এই পুরো ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বাংলাদেশের কর্মীদের স্বার্থ। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে, কিন্তু সেই কর্মসংস্থানের জন্য একজন কর্মীকে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বহন করতে দেওয়া যাবে না। আমরা চাই একজন কর্মী যতটা সম্ভব সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।


রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতিও আমাদের আহ্বান থাকবে, আপনারা ব্যবসা করবেন, নতুন জব ওর্ডার  সংগ্রহ করবেন এবং আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবেন; কিন্তু সবকিছু করতে হবে দেশের আইন মেনে এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে।


এখন পরবর্তী পদক্ষেপ কী


মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার চূড়ান্ত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিদ্যমান এমওইউ অনুযায়ী, মেডিক্যাল সেন্টার চূড়ান্ত করার বিষয়টি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার যৌথ দায়িত্ব।


শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্তকরণের স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান মেডিক্যাল সেন্টারগুলো পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু যেহেতু মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল সরেজমিনে বাংলাদেশে এসে প্রতিটি মেডিক্যাল সেন্টার পরিদর্শনের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে, সেহেতু এই প্রক্রিয়ায় সময়ের প্রয়োজন। তাই মালয়েশিয়া সরকার অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ফ্যাসিবাদ ও অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিতর্কিত মেডিক্যাল সেন্টার বাদ দিয়ে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত অবশিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 


তবে, শ্রমবাজার চালুর পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে যাচাই-বাছাই করে মেডিক্যাল সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করবে। 


মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মেডিক্যাল সেন্টারগুলো বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়মিতভাবে যাচাই-বাছাই করা হয় এবং সেগুলোকে স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। কোনও অনিয়ম পাওয়া গেলে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য করবে। আমরা নিয়মিতভাবে এই প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করা হবে। 


এছাড়াও যথাসময়ে এই তালিকায় আরও কিছু নতুন মেডিক্যাল সেন্টার যুক্ত করা হবে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।


নতুন মেডিক্যাল সেন্টার যুক্ত করা হলে তা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে এবং আমাদের মন্ত্রণালয়ও সবার জন্য সেই তালিকা ঘোষণা করবে। আমরা পর্যায়ক্রমে অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টারগুলোর তালিকা নিশ্চিত করবো।


আমাদের লক্ষ্য শুধু মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নয়। আমাদের লক্ষ্য হলো আরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, বৈধ ও যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং সর্বোপরি আমাদের কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা।


এটি শুধু একটি শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নয়। আমরা এটিকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার শ্রম সহযোগিতার একটি নতুন এবং আরও অংশগ্রহণমূলক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখতে চাই।


ঘোষণা


মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ভাই-বোনদের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রণালয় এক সংবদা বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন এবং অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। আমরা চাই, কর্মীরা যেন সহজে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং কোনও ধরনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পান।


এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জনে দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মন্ত্রণালয় বলেছে, একইসঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের সহযোগিতা ও ইতিবাচক মনোভাবের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে। 


বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এখন সবার দায়িত্ব সরকার, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং কর্মী একসঙ্গে এই সুযোগকে সফল করা এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি, সুশৃঙ্খল ও টেকসই শ্রমবাজার গড়ে তোলা।


দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৮ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। গতকাল বুধবার রাতে তিনি ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।


মির্জা আব্বাসের সহকারী একান্ত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মির্জা আব্বাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ। এ সময় তার সঙ্গে সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস ও ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাসও উপস্থিত ছিলেন।


প্রায় পাঁচ মাস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেছিলেন মির্জা আব্বাস। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর ফলোআপ চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়া যান তিনি। দেশটির প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে তার চিকিৎসা চলে।


১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। পরে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে দেড় মাস চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মালয়েশিয়ায় প্রিন্স কোর্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।