জাপানে ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত শক অ্যাবজরবার

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ৫:২৯ এএম

‘ঢাকায় কি আজ ভূমিকম্প হয়েছে?’ এমন প্রশ্ন লিখছেন অনেকে; কেউবা আবার ইংরেজিতে 'আর্থ কোয়েক টুডে' লিখে গুগলে সার্চ করছেন।

গত ২১ নভেম্বর সকালে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে গোটা বাংলাদেশে যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে সপ্তাহ পেরিয়েও তা থেকে বের হতে পারেননি অনেকে। এক সপ্তাহের মধ্যে ছয়বার কম্পন অনুভূত হওয়ায় বলতে গেলে আতঙ্ক ফিরে ফিরে এসেছে। ফলে ভূমিকম্প নিয়ে নানা প্রশ্ন জানতে চাইছে মানুষ।

তবে বাংলাদেশের কাছাকাছিই এমন দেশ রয়েছে, যেখানে ভূমিকম্প প্রায় নিত্যদিনের ব্যাপার। দেশটি বাংলাদেশের পূর্বদিকের একটু দূরবর্তী প্রতিবেশী জাপান। সে দেশে বছরে প্রায় দেড় হাজারের মতো ভূমিকম্প হয়, সুনামির সতর্কতাও দেওয়া হয় বিভিন্ন সময়।

তাহলে জাপান কীভাবে ভূমিকম্পের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে?

দেশটিতে অসংখ্য বহুতল ভবনও রয়েছে। নিয়মিত ভূমিকম্পের মধ্যে থাকা একটি দেশ আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিংবা কোন বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখে? এবং এক সপ্তাহের মধ্যে কয়েকটি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠা বাংলাদেশ জাপানের কাছ থেকে কী শিখতে পারে?

তার আগে জেনে নেওয়া যাক, জাপানে এত ভূমিকম্প কেন হয়।

জাপানি দ্বীপপুঞ্জ প্রশান্ত মহাসাগরের 'রিং অব ফায়ার'-এর ওপর অবস্থিত। যেখানে ইউরেশিয়ান, ফিলিপাইন ও প্যাসিফিক টেকটোনিক প্লেট মিলিত হয়েছে। অর্থাৎ জাপান তিনটি মিলিত টেকটোনিক প্লেটের ওপর অবস্থান করছে। এটিকে পৃথিবীতে ভূতাত্ত্বিকভাবে সবচেয়ে সক্রিয় অঞ্চল বলা হয়।

এই ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতার কারণেই জাপানে এত ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

এর মধ্যে অনেক ছোট ভূমিকম্প সাধারণ মানুষ হয়তো টেরই পায় না, আর মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প দেশটিতে একরকম স্বাভাবিক ঘটনা। তবে, অনেকবার বড় ভূমিকম্পের সাক্ষীও হয়েছে জাপান।

জাপান থেকে শেখার যা আছে

বাংলাদেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায় প্রতিবছরই আবির্ভূত হয়। আর তা হয় এখানকার আবহাওয়া ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে। দুর্যোগ হিসেবে ভূমিকম্প এখানে বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো নিয়মিত নয়।

দেশটিতে সরকারি ও নাগরিক পর্যায়ে বন্যা বা ঘূর্ণিঝড় নিয়ে যতটুকু প্রস্তুতি থাকে, ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ততটুকুও নেই। বাংলাদেশে ভূমিকম্পে ঝাঁকুনির মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা ছাড়া এ নিয়ে আর কোনো ধারণা পাওয়া যায় না সাধারণ আলাপচারিতায়।

এমন প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভূমিকম্পের বিষয়ে জাপানের কাছ থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার আছে।

জাপানের সঙ্গে আর্থসামাজিক পার্থক্যকে বিবেচনায় রেখেও তারা বলছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করার মতো কিছু বিষয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশটিকে অনুসরণ করতে পারে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের একজন ভূতত্ত্ববিদ ও ভূমিকম্প বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সৈয়দ হুমায়ূন আখতার বলেন, গত ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্প বাংলাদেশে যেভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, জাপানের নাগরিকরা সাধারণত সেভাবে ভয় পান না।

তার জন্য, প্রতিনিয়ত ভূমিকম্পের মুখোমুখি হওয়াকেই একমাত্র কারণ বলে মনে করেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের এই অধ্যাপক। বরং 'সচেতনতা ও প্রস্তুতি'র কারণেই সেটি সম্ভব হয়েছে, যোগ করেন তিনি।

অধ্যাপক আখতার যে ‘প্রস্তুতি’র কথা বলছিলেন, একেবারে অল্প বয়স থেকেই প্রত্যেক জাপানি নাগরিক তার মধ্য দিয়ে যায় বলে জানান বাংলাদেশি স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব।

তিনি বলেন, ‘জাপানে একটা বাচ্চা জন্মের পর থেকেই ভূমিকম্পের বিষয়ে শেখা শুরু হয়। নিয়মিত মহড়ার মধ্য দিয়ে তারা জানে তাৎক্ষণিক কী করতে হবে।’

শৈশবে ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির জন্য স্কুলগুলোতেও নিয়মিত মহড়া হয়। শিশুরা মহড়ায় ডেস্কের নিচে আশ্রয় নেওয়ার অনুশীলন করে। ভূমিকম্পের পরপর তার নিরাপদ আশ্রয়ের স্থান কোথায় হবে তা সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয় তাদের। সাধারণত ১৫ দিন পরপর এ ধরনের অনুশীলন হয় বলে জানা যায়।

নিয়মিত ড্রিল (মহড়া) করতে বিশেষ অর্থের প্রয়োজন নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য জায়গায় সেটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা যেতে পারে বলে মনে করেন অধ্যাপক হুমায়ূন আখতার।

জাপানে নিকটতম আশ্রয়কেন্দ্র যেমন পার্ক বা খেলার মাঠ কোথায় অবস্থিত, সে সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা থাকে, যাতে তারা ভবন থেকে নিরাপদ জায়গায় সরে আসতে পারে।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ অন্য বড় শহরগুলোতে তেমন নিরাপদ জায়গা নিশ্চিত করা ও সেটি সম্পর্কে সবাইকে অবগত করার কথা বলছেন স্থপতি ইকবাল হাবিব।

জাপানে অবকাঠামোগত নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। বড় শহরের উঁচু ভবনগুলো এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে ভূমিকম্পের সময় সেগুলো কাঁপে না, বরং দুলতে থাকে, যা এগুলোকে নিরাপদ করে তোলে।

বাংলাদেশে তেমন সুউচ্চ ভবন অপেক্ষাকৃত কম।

জাপানে ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত শক অ্যাবজরবার

স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, বাংলাদেশেও সাধারণত সুউচ্চ ভবনগুলো বিল্ডিং কোড মেনে ভূমিকম্প সহনীয় হিসেবে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু, অপেক্ষাকৃত ছোট ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনগুলোর ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড মানা হয় না এবং ভূমিকম্পের আঘাত সামলানোর মতো নির্মাণশেলী প্রয়োগ করা হয় না।

এই ভবনগুলোই অপেক্ষাকৃত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। এ ক্ষেত্রেও জাপানকে অনুসরণ করে 'অবকাঠামোগত নিরাপত্তা কার্যকর' করার ওপর জোর দেন তিনি।

এ ছাড়া রেজিলিয়েন্স প্ল্যান বা পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা কার্যকর করা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

জাপানে আকাশচুম্বী ভবনগুলো কীভাবে ভূমিকম্পে টিকে থাকে

বছরজুড়ে শত শত কম্পন সহ্য করার পরও জাপান কী করে বিশ্বের সবচেয়ে 'স্থিতিস্থাপক' ভবনগুলোর আবাসস্থল, তা একটি কৌতূহলের বিষয়।

স্থিতিস্থাপকতার মানে হলো, কোনো আঘাত বা চাপের ফলে কিছুটা সরে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসার ক্ষমতা। জাপানের ভবনগুলোর স্থিতিস্থাপকতার রহস্য লুকিয়ে আছে মূলত মাটির নিচে 'নেচে ওঠার' ক্ষমতায়।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ও সহযোগী অধ্যাপক জুন সাতো বলেন, ‘জাপানের টাওয়ার ব্লকগুলো সাধারণ ভবন নয়। দেশটিতে সব ভবন, ছোট বা অস্থায়ী হলেও, ভূমিকম্প-সহনশীল হতে হয়।’

প্রকৌশলীরা দুটি প্রধান পর্যায়ে স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে কাজ করেন বলে জানা যায়—প্রথম পর্যায় হলো স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্প সহ্য করা। তেমন ভূমিকম্পে মেরামত করার মতো কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। ভবনের নকশা এমনভাবে করা হয়, যাতে এসব ভূমিকম্পে কোনো ক্ষতি না হয়। দ্বিতীয় পর্যায় হলো, ভয়াবহ ভূমিকম্প সহ্য করা, যা অপেক্ষাকৃত বিরল।

এ ক্ষেত্রে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয় জাপানের ইতিহাসে অন্যতম প্রলয়ংকরী গ্রেট কান্তো ভূমিকম্পকে। ১৯২৩ সালের ৭ দশমিক ৯ মাত্রার এই ভূমিকম্পে টোকিও ও ইয়োকোহামা বিধ্বস্ত হয় এবং এক লাখ ৪০ হাজারের এর বেশি মানুষ নিহত হয়।

এই মাত্রা বা তার চেয়ে বড় ভূমিকম্পে ভবনকে সম্পূর্ণ অক্ষত রাখা আর লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয় না। প্রাণহানি এড়ানোই মূল লক্ষ্য।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ জিগি লুবকোভস্কি বলেন, ‘আপনি ভবনগুলো মানুষের জীবন রক্ষার জন্য নকশা করেন। এটাই এক্ষেত্রে ন্যূনতম শর্ত।’

আর সাতোর মতে, ‘যখন কোনো কাঠামো ভূমিকম্পের সব শক্তি সহ্য করতে বা শুষে নিতে পারে, তখনই আর এটি ধসে পড়বে না।’

সিসমিক আইসোলেশন নামে একটি প্রক্রিয়া এ ক্ষেত্রে কাজ করে।

ভবনগুলোকে এমন একধরনের বিয়ারিং বা শক অ্যাবজরবার (আঘাত সহনীয় বস্তু) এর ওপর বসানো হয়, যা ভূমিকম্পের প্রভাবে নড়াচড়া প্রতিরোধ করে।

কখনো কখনো ৩০ থেকে ৫০ সেমি পুরু রাবারের ব্লক ব্যবহার করা হয়। যেখানে ভবনের কলাম ফাউন্ডেশন বা ভিত্তির সঙ্গে জুড়ে থাকে, সেখানে এই রাবার প্যাড বসানো হয়।

এ ছাড়া মোশন ড্যাম্পার ও মেশ স্ট্রাকচারের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তিও প্রয়োগ করা হয় ভূমিকম্প সহনশীলতা বাড়াতে। মোশন ড্যাম্পারগুলো দেখতে অনেকটা সাইকেলের পাম্পের মতো, তবে এতে বাতাসের বদলে তরল থাকে।

লুবকোভস্কি বলেন, ‘একটি উঁচু ভবন হয়তো দেড় মিটার বা পাঁচ ফুট নড়তে পারে। কিন্তু যদি নির্দিষ্ট স্তরে, প্রতি দ্বিতীয় তলায় ড্যাম্পার বসানো হয়, তবে সেই নড়াচড়া অনেক কমে যায়। ফলে সুপারস্ট্রাকচারের (ওপরের কাঠামোর) ক্ষতি রোধ হয়।’

আর মেশ স্ট্রাকচার ব্যবহার ভবনের সাপোর্টগুলোকে বাঁকানো থেকে রক্ষা করে। যদি একটি অংশ বাঁকতে শুরু করে, কাছাকাছি থাকা অন্য অংশ তা ঠেকায়। এসব প্রযুক্তি ও প্রকৌশলের কাজে লাগিয়েই দিনের পর দিন ভূমিকম্পের সঙ্গে বসবাস করে আসছে জাপানিরা।

যদিও বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় সুউচ্চ ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তির চেয়ে প্রস্তুতিমূলক মহড়া ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

একই সঙ্গে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান যাতে সবাই মেনে চলেন তা নিশ্চিত করার তাগিদ তাদের। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের অভিমত, এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি।





ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৪২ পিএম

এখন থেকে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে রেজিস্ট্রেশন নম্বর এক লাইনে লেখার অনুমতি দিতে পারবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। পাশাপাশি মোটরসাইকেলের নকশা অনুযায়ী একাধিক মাপের নম্বরপ্লেট ব্যবহারের অনুমতিও দিতে পারবে সংস্থাটি। মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট প্রদর্শনের নিয়মে পরিবর্তন এনে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।


মূলত মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বরপ্লেট স্থাপন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিগত জটিলতা দূর করতে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ সংশোধন করেছে সরকার। সংশোধিত বিধিমালায় মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের নকশা, আকার, অক্ষরের উচ্চতা ও নম্বর লেখার বিন্যাসে পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে মোটরসাইকেলের কাঠামো ও নকশা বিবেচনায় সামনে নম্বরপ্লেট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পথ আরও সুগম হলো।


রোববার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর ৩৬ বিধি সংশোধন করা হয়েছে।


সংশোধিত বিধিমালায় বলা হয়েছে, মোটরসাইকেলের সামনের অংশে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আগে নির্ধারিত পদ্ধতির পাশাপাশি নম্বরটি একটি আনুভূমিক রেখায় লেখার অনুমতি দিতে পারবে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া মোটরসাইকেলের নকশা অনুযায়ী সামনের রেজিস্ট্রেশন চিহ্ন একাধিক মাপের (দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ) বিপরীতমুখী রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেটের ওপর প্রদর্শনের অনুমতি দিতে পারবে বিআরটিএ।


নতুন বিধিমালায় সামনের নম্বরপ্লেটের অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের নাম নির্দেশকারী অক্ষরের মাত্রা, যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের উচ্চতা, প্লেটের ওপরের অংশে ফাঁকা জায়গা, দুটি সংখ্যার মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা এবং দ্বিতীয় লাইনের সংখ্যাগুলোর মধ্যে হাইফেনের দৈর্ঘ্য নির্ধারণের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।


এ ছাড়া একই লাইনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখার ক্ষেত্রে জেলা বা অঞ্চলের নাম নির্দেশকারী অক্ষর এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের পর নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের হাইফেন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।


প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সড়ক পরিবহন বিধিমালার ৩৬ বিধির উপবিধি (১০) থেকে ‘মোটরসাইকেল এবং’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অবিলম্বে কার্যকর হবে।


গত ২৮ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখা থেকে প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। এতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষর করেন উপসচিব আল-আমীন মো. নুরুল ইসলাম।


অপরদিকে মোটরসাইকেলের সম্মুখভাগে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজনের সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোটরসাইকেলের সম্মুখভাগে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজনের সুযোগ থাকছে।


এর আগে মোটরসাইকেলের সম্মুখভাগে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজনের নির্ধারিত সময়সীমা ১৫ নভেম্বরের পরিবর্তে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নম্বরপ্লেট সংযোজন সম্পন্ন করা কঠিন বিবেচনায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এই সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিল।


এর আগে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা জোরদারের লক্ষ্যে মোটরসাইকেলের পেছনে অনুমোদিত আরএফআইডি নম্বরপ্লেটের পাশাপাশি ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সামনের দিকেও ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজন বাধ্যতামূলক করেছিল বিআরটিএ। এক গণবিজ্ঞপ্তিতে সব মোটরসাইকেল মালিককে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নম্বরপ্লেট সংযোজন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করেছিল সংস্থাটি।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৫ পিএম

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।


এবারের বাংলাদেশ সোলার এক্সপোর মূল প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ।এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৯ এএম

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩-এর উপনির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এলিজা জামানের শপথগ্রহণ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হওয়ার কথা রয়েছে।নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ সংসদ ভবনস্থ স্পিকারের অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।


জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নবনির্বাচিত দুজন সংসদ সদস্যের শপথ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে।


এর আগে শনিবার মির্জা ফয়সল আমীনকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।গত ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।


গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।


অপরদিকে সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩ এর শূন্য পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এলিজা জামানকে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।


গত ১ অক্টোবর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়। পরে ১২ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন এ আসনে উপনির্বাচনের তপসিল ঘোষণা করেছিল। তপসিল অনুযায়ী আগামী ১২ নভেম্বর ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও একক প্রার্থী থাকায় আর ভোটের প্রয়োজন হয়নি।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৮ এএম

দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার ও সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’। দুই দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিনি এ এক্সপোর উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করবেন।


এর আগে রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।


মন্ত্রী জানান, ‘ছাদের প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয় বাড়ান’ প্রতিপাদ্যে ৩ ও ৪ নভেম্বর দুই দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এক্সপোটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।


বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করা হচ্ছে।


এক্সপো উপলক্ষে সৌরবিদ্যুতের বিভিন্ন দিক, দেশব্যাপী এর ব্যবহার সম্প্রসারণ, জাতীয় জ্বালানি মিশ্রণে সৌরবিদ্যুতের অংশ বাড়ানো এবং বাড়ির ছাদ ও অব্যবহৃত জমিতে সৌর প্যানেল স্থাপনে জনগণকে উৎসাহিত করার বিষয়ে চারটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।


সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ঘাটতি কমানো এবং গ্রীষ্মকালে জনদুর্ভোগ ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।


আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) বাস্তবায়নে সহায়তা এবং সৌরবিদ্যুতের প্রসারে সরকারি নীতি ও প্রণোদনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ধারণা দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।


প্রদর্শনীতে সৌরবিদ্যুৎ খাতের আধুনিক প্রযুক্তি তুলে ধরার পাশাপাশি বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা হবে। এতে নীতিনির্ধারক, সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ ভোক্তারা অংশ নেবেন।


এ ছাড়া সরকারি প্রণোদনা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, কর ও শুল্ক সুবিধা, সবুজ ও জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট, সৌরচালিত সেচব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিভিন্ন বিষয় প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হবে।


জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৫ এএম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া গতিশীল করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবস্থাপনা অধিকতর জোরদার করার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ পাঁচ সদস্যের ‘কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন দল’ (প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন টিম - পিআইটি) পুনর্গঠন করেছে।


রোববার (১ নভেম্বর) অর্থ বিভাগের বাজেট শাখা-৩ থেকে জারি করা এই সংক্রান্ত বিশেষ প্রজ্ঞাপনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়।


প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা ও প্রেক্ষাপট


প্রজ্ঞাপনটি গত ২৮ অক্টোবর জারি করা হলেও তা রোববার প্রকাশ করা হয়। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুনর্গঠিত এই দলের মেয়াদ ও কার্যকারিতা ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।

অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আনিছুর রহমান বালীর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটির অনুলিপি এনবিআর চেয়ারম্যানসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রধান দপ্তরসমূহে পাঠানো হয়েছে। মূলত অর্থ বিভাগ প্রণীত ‘সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা’ (পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট - পিএফএম) সংস্কারের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পিএফএম কর্মপরিকল্পনার আওতাধীন ‘কম্পোনেন্ট-২: ডমেস্টিক রিসোর্স মোবিলাইজেশন (ন্যাশনাল বোর্ড অব রেভিনিউ)’ নামক কৌশলগত অংশ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই এই দল পুনর্গঠন করা হয়েছে।


পুনর্গঠিত টিমের সদস্যবৃন্দ


অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ে আধুনিক কৌশল প্রয়োগ ও তদারকি জোরদার করতে এনবিআরের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ৫ সদস্যের এই উচ্চপর্যায় কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন:

 * দলনেতা: কাজী লতিফুর রহমান — সদস্য (চলতি দায়িত্ব) (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

 * সদস্য: মো. মনিরুজ্জামান — পরিচালক, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), এনবিআর।

 * সদস্য: সিরাজুম মুনীর — প্রথম সচিব, কর অডিট, ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন, এনবিআর।

 * সদস্য: তারেক হাসান — প্রথম সচিব, কাস্টমস নীতি, এনবিআর।

 * সদস্য: নাজমা জ্যাবিন — দ্বিতীয় সচিব, কাস্টমস আধুনিকায়ন ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, এনবিআর।


মূল দায়িত্ব ও প্রত্যাশা


পুনর্গঠিত এই দলটি সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা (পিএফএম) কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে:

 * দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের নতুন সম্ভাবনা চিহ্নিত করা।

 * কাস্টমস ও কর নীতি আধুনিকীকরণ।

 * কর ফাঁকি রোধে সিআইসি ও অডিট শাখার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা।

 * কাস্টমস ডিজিটালাইজেশন ও নতুন রাজস্ব নীতি প্রণয়নের কাজ ত্বরান্বিত করা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি পূরণ এবং বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি টেকসই ও স্বনির্ভর রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনবিআরের এই বাস্তবায়ন দল একটি কার্যকর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।


শ্রম ভবনে সংবাদ সম্মেলনে পোশাক শ্রমিকদের কারখানায় গিয়ে কাজে ফেরার আহ্বান জানান শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১৮ পিএম

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। সোমবার ঢাকার বিজয়নগরে শ্রম ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তৈরি পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার। এ সময় ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত না থেকেও আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক নেতাদের মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 


সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দয়া করে আপনারা কারখানায় ফিরে কাজে যোগ দিন। আমরা আপনাদের ন্যায্য মজুরির জন্য লড়াই করব। প্রয়োজন হলে আন্দোলনে যোগ দিতে আপনাদের ডাকব।’


তিনি বলেছেন, ‘আমরা মজুরি বোর্ডে এমনভাবে কাজ করব, যাতে আগামী জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা বাড়তি মজুরি হাতে পান। এ ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়ার কোনো কারণ নেই। সভা করার অজুহাতে নতুন মজুরি কার্যকরে কোনো বিলম্ব হতে দেব না।’ 


বাবুল আখতার বলেন, ‘চলমান মজুরি আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অজুহাতে কিছু শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যেসব শ্রমিক ও শ্রমিক নেতা শুধু মজুরি–সংক্রান্ত ন্যায্য দাবি উত্থাপন বা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে আটক হয়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হোক।’


তিনি বলেন, ‘আমরা শ্রমিক ভাইবোনদের আশ্বস্ত করতে চাই, মজুরি বোর্ডে আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করব। আমরা একা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। সব শ্রমিক ফেডারেশন, কারখানাভিত্তিক ইউনিয়ন এবং সাধারণ শ্রমিকদের মতামত নিয়ে একটি সম্মিলিত অবস্থান তৈরি করতে চাই।’


একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকার ও মালিকপক্ষকে বলতে চাই, একটি গ্রহণযোগ্য মজুরিকাঠামো নির্ধারণের জন্য শ্রমিকদের বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, পরিবারের মৌলিক চাহিদা এবং শিল্পের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে।’


এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধি আনোয়ার হোসাইন। আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা নাজমা আক্তার, আবুল হোসাইন, লাভলী ইয়াসমিন, সুলতানা বেগম প্রমুখ।


সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, চলমান আন্দোলনে শ্রমিকদের কোনো উপকার হচ্ছে না; বরং এতে তাদের ন্যায্য দাবিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।


আওয়াজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাজমা আক্তার বলেন, এই পরিস্থিতির কারণে কারখানার মালিকেরা ক্রয়াদেশ হারাচ্ছেন। শ্রমিকদের আন্দোলনে কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করেছে কিনা, তা চিহ্নিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 


রোববার তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনঃনির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করেছে সরকার। সচিবালয়ে রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। দাবি পূরণ হওয়ায় সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যেতে শ্রমকিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার শ্রমিক নেতা এবং শনিবার তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। দুই পক্ষের আলোচনার পর রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। 


ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে বাকি সদস্যরা হলেন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারন সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশেনর যুগ্ন মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও নিরপেক্ষ দুই সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার। 


সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে গত ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়। সেই হিসাবে নভেম্বর মাসে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষণার কথা।