বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পরিস্থিতি জাতীয়ভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মূল্যায়ন করেছে সংস্থাটি। বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় সংক্রমণ ছড়ানো, বিশালসংখ্যক শিশুর আক্রান্ত হওয়া, টিকাদানের অভাবে এ রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতায় ঘাটতি এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাবলির আলোকে সংস্থাটির গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ মূল্যায়ন করা হয়।
২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশের জাতীয় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি বা আইএইচআর ফোকাল পয়েন্ট বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানায়, দেশে হাম রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই বৃদ্ধি হয়েছে দেশের ভেতরে চলমান সংক্রমণের কারণে। জানুয়ারি থেকেই বাংলাদেশে হাম রোগীর সংখ্যা স্পষ্টভাবে বাড়তে দেখা যাচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন মূল্যায়নের পর সংস্থাটির সাবেক পরামর্শক ও জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন আজ শুক্রবার বলেন, ‘সংক্রমণ পরিস্থিতি বাড়তে থাকায় আমরা বলেছিলাম, হামকে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করা হোক। এখন সরকারের উচিত জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা এবং টিকাদান এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ১৯ হাজার ১৬১ সন্দেহভাজন হাম রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে পরীক্ষা করে নিশ্চিত রোগী পাওয়া গেছে ২ হাজার ৮৯৭।
তবে পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৯৭৩ উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬৬ জনের। মৃত্যুহার বা সিএফআর ০ দশমিক ৯ শতাংশ। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম-সম্পর্কিত মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের। এ ক্ষেত্রে মৃত্যুহার ১ দশমিক ১ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২ হাজার ৩১৮ জন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৯ হাজার ৭৭২ জন।
সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে, বস্তির রোগী বেশি
হাম রোগীর সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা যাচ্ছে ঢাকা বিভাগে। ১৫ মার্চ থেকে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে ৮ হাজার ২৬৩। এরপর রয়েছে রাজশাহী বিভাগে ৩ হাজার ৭৪৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ২ হাজার ৫১৪ এবং খুলনা বিভাগে ১ হাজার ৫৬৮ জন।
ঢাকায় রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকায়। এর মধ্যে রয়েছে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও বস্তি এলাকা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দেশের আট বিভাগেই রোগী শনাক্ত হয়েছে। ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায়, অর্থাৎ ৯১ শতাংশ জেলায় রোগী পাওয়া গেছে। এটি দেখাচ্ছে, সংক্রমণ এখন জাতীয়ভাবে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
দেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) তথ্য বলছে, দেশের ৬১টি জেলায় হাম ছড়িয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের ৮৩ শতাংশের বয়স ৫ বছরের নিচে।
আক্রান্তদের বেশির ভাগই শিশু
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালে যাওয়া রোগীদের বেশির ভাগই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এই হার ৭৯ শতাংশ। এর মধ্যে দুই বছরের কম বয়সী শিশু ৬৬ শতাংশ এবং ৯ মাসের কম বয়সী শিশু ৩৩ শতাংশ।
মোট ১৬৬ শিশুর সন্দেহভাজন মৃত্যুর তথ্য পাওয়ার কথা বলা হয় প্রতিবেদনে। তারা প্রধানত টিকা না পাওয়া দুই বছরের কম বয়সী শিশু।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের একটি বড় উদ্বেগ হলো, অনেক শিশু হয় টিকা পায়নি, নয়তো হামপ্রতিরোধী টিকার মাত্র এক ডোজ পেয়েছে। আবার কিছু শিশু ৯ মাস বয়সে টিকার উপযুক্ত বয়সে পৌঁছানোর আগেই আক্রান্ত হয়েছে। অধিকাংশ রোগী, অর্থাৎ ৯১ শতাংশ, ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু। এটি এই বয়সী শিশুদের মধ্যে বড় ধরনের রোগ প্রতিরোধঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
হাম কীভাবে ছড়ায়
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক তীব্র ভাইরাসজনিত রোগ। এটি সব বয়সী মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। বিশ্বজুড়ে অল্প বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ হিসেবে হাম এখনো বিবেচিত হয়।
এই রোগ বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির নাক, মুখ বা গলা থেকে বের হওয়া ড্রপলেটের মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে।
সংক্রমণের পর সাধারণত ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে প্রাথমিক উপসর্গ দেখা যায়। তবে এই সময়সীমা ৭ থেকে ২৩ দিন পর্যন্ত হতে পারে। উপসর্গের মধ্যে থাকে উচ্চ জ্বর, সর্দি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কাশি এবং মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ।
সাধারণত সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিন পর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। ফুসকুড়ি প্রথমে মাথায় শুরু হয়, এরপর ধীরে ধীরে শরীরের মাঝের অংশ এবং পরে নিচের অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন আগে থেকে ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন পর পর্যন্ত একজন রোগী অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়াতে পারে। হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। বেশির ভাগ মানুষ দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে।
জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি
সাধারণভাবে হাম মৃদু বা মাঝারি মাত্রার রোগ। তবে এটি গুরুতর জটিলতাও তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে আছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের দ্বিতীয় পর্যায়ের সংক্রমণ, মস্তিষ্কে প্রদাহ বা এনসেফালাইটিস, অন্ধত্ব ও মৃত্যু।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংক্রমণের পর এনসেফালাইটিস প্রতি এক হাজার রিপোর্ট হওয়া রোগীর মধ্যে প্রায় একজনের হতে পারে। আর প্রতি এক হাজার রিপোর্ট হওয়া রোগীর মধ্যে দুই থেকে তিনজনের মৃত্যু হতে পারে।
ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর মধ্যে হাম গুরুতর অসুস্থতা তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে আছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু, বিশেষ করে যাদের ভিটামিন এ ঘাটতি আছে এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল।
টিকাদানে ঘাটতি, আগের অগ্রগতিতে ধাক্কা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে যে এই প্রাদুর্ভাবের আগে বাংলাদেশ হাম নির্মূলের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছিল। হামপ্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজের কভারেজ ২০০০ সালে ছিল ৮৯ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয় ১১৮ শতাংশ। দ্বিতীয় ডোজ দেশব্যাপী চালুর পর ২০১২ সালে কভারেজ ছিল ২২ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয় ১২১ শতাংশ। একই সময়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগীর হার দ্রুত কমে এসেছিল।
তবে ২০২৪-২৫ সালে দেশে এমআর টিকার জাতীয় পর্যায়ের ঘাটতির কারণে টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ বা এমআর১ ও এমআর২ কভারেজ কমে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিয়মিত টিকাদানের ফাঁক এবং ২০২০ সালের পর নিয়মিত দেশব্যাপী সম্পূরক হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি না থাকা। এসব কারণে সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা শিশুর সংখ্যা বেড়েছে এবং বর্তমান প্রাদুর্ভাব তৈরি হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে ঝুঁকি ‘উচ্চ’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। কারণ, একাধিক বিভাগে সংক্রমণ চলমান, বিপুলসংখ্যক শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে, রোগ প্রতিরোধের ঘাটতি নথিভুক্ত এবং হাম-সম্পর্কিত সন্দেহভাজন মৃত্যু ঘটেছে।
টিকা না পাওয়া ও আংশিক টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে রোগীর সংখ্যা বেশি। এর মধ্যে এমন শিশুরাও আছে, যাদের বয়স টিকা পাওয়ার জন্য এখনো যথেষ্ট হয়নি। এটি অব্যাহত সংক্রমণ এবং গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে এই প্রাদুর্ভাব দেখাচ্ছে যে হাম নির্মূলে বাংলাদেশের আগের অগ্রগতিতে ধাক্কা লেগেছে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করছে, দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ এখন আরও বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছে। জরুরি ব্যবস্থা না নিলে সংক্রমণ আরও ছড়াতে পারে। তাই নজরদারি শক্তিশালী করা, দ্রুত রোগ শনাক্ত ও মোকাবিলা করা এবং ভালো মানের টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধের ঘাটতি পূরণ করা জরুরি।
টিকাদান অভিযান শুরু
জাতীয় টিকাদান কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি বা এনআইটিএজি ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ দেশব্যাপী হাম-রুবেলা বা এমআর টিকাদান কর্মসূচি অনুমোদন করে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু। এর সঙ্গে ৬ থেকে ৮ মাস বয়সী শিশুদেরও বিস্তৃত আওতায় আনা হয়েছে।
৫ এপ্রিল অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর ২০ এপ্রিল দেশব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়।
২০২৫ সালের ১৫ মার্চ সারা দেশে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। চলমান প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত সব হাম রোগীকে ভিটামিন এ দেওয়া হচ্ছে। এটি নিয়মিত চিকিৎসা ও রোগী ব্যবস্থাপনার একটি জরুরি অংশ।
জেলা পর্যায়ের দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল বা আরআরটি সক্রিয় করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দ্রুত টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থাও করেছে।
প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার অন্যান্য ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে নিয়মিত টিকাদান জোরদার করা, হাসপাতালের প্রস্তুতি বাড়ানো, ভিটামিন এ সরবরাহ নিশ্চিত করা, রোগী আলাদা রাখার সক্ষমতা বাড়ানো এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
দেশজুড়ে নজরদারি ও রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ জোরদারের কাজও চলছে। রোগ শনাক্ত ও রিপোর্টিং উন্নত করতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুবিধার্থে সাপ্তাহিক পরিস্থিতি প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে।
সীমান্ত পেরিয়ে ছড়ানোর ঝুঁকি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মানুষের চলাচলের কারণে সীমান্ত পেরিয়ে সংক্রমণ ছড়ানোর উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি আছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারের মতো বড় নগরকেন্দ্র আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও ট্রানজিটের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে দেশের ভেতরে ও বাইরে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ে, বিশেষ করে যারা টিকা নেয়নি বা পুরোপুরি টিকা পায়নি, এমন ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে হাম স্থানীয়ভাবে বিদ্যমান। আঞ্চলিক পর্যায়ে ঝুঁকিকে ‘উচ্চ’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও মিয়ানমারের দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্ত দিয়ে মানুষের চলাচল চলমান সংক্রমণকে আরও বাড়াতে পারে। মিয়ানমারে টিকা না পাওয়া বা শূন্য ডোজ শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের কারণে সেখানে নজরদারি ও প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা সীমিত।
ভারত উচ্চ টিকাদান কভারেজ অর্জন করলেও গত ছয় মাসে সেখানে হাম রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। যশোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মতো বেশি সংক্রমণপ্রবণ শহর ভারতের সঙ্গে ব্যস্ত স্থলবন্দর ভাগ করে। এতে সীমান্তের ওপার থেকে সংক্রমণ প্রবেশের ঝুঁকি বাড়ে। বিশ্ব পর্যায়ে ঝুঁকি ‘মধ্যম’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
কী পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সব পৌর এলাকায় হামপ্রতিরোধী টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজে অন্তত ৯৫ শতাংশ সমান ও টেকসই কভারেজ বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে হাম ও রুবেলা সংক্রমণের ওপর নজরদারি জোরদার করতে বলেছে, যাতে সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সব সন্দেহভাজন রোগী দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
সংস্থাটি উচ্চ যাতায়াতপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদারের পরামর্শ দিয়েছে। এতে সন্দেহভাজন হাম রোগী দ্রুত শনাক্ত ও মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। বিদেশ থেকে আসা হাম রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে আবার স্থানীয় সংক্রমণ স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত না হয়।
হাম মোকাবিলায় জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। সব পর্যায়ের মধ্যে স্থায়ী ও কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা থাকতে হবে।
প্রাদুর্ভাব চলাকালে হাসপাতাল পর্যায়ে যথাযথ রোগী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালের ভেতরে সংক্রমণ ঠেকাতে রোগীকে আলাদা কক্ষে রাখা এবং হাসপাতালের অন্য রোগীদের সংস্পর্শে না আসাটা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে, যদি তাদের টিকা নেওয়া বা হাম-রুবেলার বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধক্ষমতার প্রমাণ না থাকে। এর মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মী, পর্যটন ও পরিবহন খাতে কর্মরত ব্যক্তি, হোটেল, বিমানবন্দর, সীমান্ত পারাপার, গণপরিবহন-সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী।
উচ্চ যাতায়াতপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত অভিবাসী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দিয়ে টিকা দিলে জনগোষ্ঠীর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়বে।
সংক্রমণের সংস্পর্শে আসা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের তিন দিনের মধ্যে হামপ্রতিরোধী টিকা দেওয়া উচিত। যাঁদের টিকা দেওয়া যায় না বা তিন দিনের মধ্যে টিকা দেওয়া সম্ভব নয়, তাঁদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ছয় দিনের মধ্যে বিশেষ ইনজেকশন দেওয়ার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। শিশু, গর্ভবতী নারী এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম- এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা টিকা, সিরিঞ্জ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের পর্যাপ্ত মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, মুহুরী ও কহুয়া নদীর অববাহিকার মানুষের কাছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয় নয়; এটি তাদের জীবন-জীবিকা, কৃষি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। প্রতিবছর বন্যায় এ অঞ্চলের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই প্রকল্পের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফেনীর মুহুরী ব্রিজের সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের একটি ঐতিহাসিক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ এলাকায় এসে মুহুরী ব্রিজ উদ্বোধন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর একই জনপদে তাঁর সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পরশুরাম, ফুলগাজীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ বন্যার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাবে। একই সঙ্গে নদীতীর সংরক্ষণ, পানি নিষ্কাশন, নদী ও জলাধার পুনঃখনন এবং সেচ অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ফেনী অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে এ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন এ জনপদের মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যাপ্রবণ এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আর্থসামাজিক অগ্রগতির নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফেনী অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, সেচব্যবস্থা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে।
অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম বন্দর। ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছর মেয়াদে আন্তর্জাতিক টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় টার্মিনালটি পরিচালনার জন্য চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
একই বৈঠকে দেশে ইউরিয়া সারের নিরাপত্তা মজুদ গড়ে তুলতে এক লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব সিপিএ’স নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, ইনক্লুডিং ওভারফ্লো ইয়ার্ড’ শীর্ষক সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব প্রকল্পের আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওভারফ্লো ইয়ার্ড ১৫ বছর মেয়াদে একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনার লক্ষ্যে চুক্তি করা হবে।
এ জন্য স্বাক্ষরিতব্য রেয়াতি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে নীতিগত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ প্রস্তাবটি এমন এক সময় অনুমোদন করা হলো যখন এনসিটি পরিচালনার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রস্তাব দেয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এ বিষয়ে সরকার প্রক্রিয়া চালালেও শুরু থেকে এনসিটি বিদেশিদের হাতে দেয়ার বিরোধিতা করে আসছে বিভিন্ন শ্রমিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। ধারাবাহিকভাবে আন্দোলনও করছেন তারা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সার আমদানিতে বিঘ্ন ঘটছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) একাধিক সার কারখানায় সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশে ইউরিয়া সারের নিরাপত্তা মজুদ গড়ে তুলতে এক লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
জানা গেছে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে এ সার আমদানি করবে।
বৈঠকে অনুমোদ দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান জেএসসি ডেল্টা স্টার ট্রেডিং এফজেড-এলএলসি এবং রাশিয়ার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জেএসসি শচেকিনোআজটের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এক লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে।
এ ক্ষেত্রে বিসিআইসির বিদ্যমান সরকারি পর্যায়ের চুক্তিতে ব্যবহৃত মূল্য নির্ধারণ সূত্র অনুসরণ করা হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডেল্টা স্টার ট্রেডিংয়ের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকার আবেদিতা ট্রেডিং কাজ করবে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সার আমদানি বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সার আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের কয়েকটি সার কারখানায় সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণেও ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলা এবং দেশে পর্যাপ্ত ইউরিয়া সার মজুদ রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডেল্টা স্টার ট্রেডিং এফজেড-এলএলসি স্ব-প্রণোদিত হয়ে বিসিআইসিকে এক লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। বিসিআইসি যাচাই-বাছাই করে প্রস্তাবটিকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ইউরিয়া সারের নিরাপত্তা মজুদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডেল্টা স্টার ট্রেডিং এফজেড-এলএলসি, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জেএসসি শচেকিনোআজট, রাশিয়ার কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এক লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বিসিআইসির বিদ্যমান সরকারি পর্যায়ের চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্য নির্ধারণ সূত্র অনুসরণ করে এ সার কেনা হবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের মধ্যেও দেশে ইউরিয়া সারের প্রয়োজনীয় মজুদ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কোটায় আবেদনকারীদের জন্য নির্দেশনা
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে দ্বিতীয় ধাপে অনলাইনের মাধ্যমে স্পেশাল কোটায় (এসকিউ) আবেদন করা শিক্ষার্থীদের নিয়ে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃক নিশ্চিতকরণে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) রাত ৯টার মধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের নিশ্চায়ন করতে হবে।
গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এ-সংক্রান্ত এক চিঠি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষককে পাঠানো হয়েছে।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে দ্বিতীয় ধাপে অনলাইনের মাধ্যমে Special Quota (SQ) কোটায় আবেদনকৃত শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট কলেজ থেকে নিশ্চায়ন বা অনুমোদন ১ অক্টোবর রাত ৯টার মধ্যে ভর্তি ওয়েবসাইট এর (Login) প্যানেলে (কলেজের ইআইআইএন নম্বর ও পাসওয়ার্ড) দিয়ে লগইন করে সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
ভর্তি ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত (User Guide for Institution) অনুসরণ করা যেতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃক (SQ) কোটায় আবেদনকৃত শিক্ষার্থীদের নিশ্চায়ন ও অনুমোদন সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত জটিলতার জন্য বোর্ড কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ
কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। পর্যটকদের রাত্রিযাপন ও ভ্রমণের সময়সীমায় পরিবর্তন আসতে পারে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দা, পরিবেশবিদ, পর্যটন সংশ্লিষ্টসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ১৫ই অক্টোবরের মধ্যে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে বলে পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, একদিকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়, একইসঙ্গে সেখানকার জীবন-জীবিকার বিষয়গুলোও যেন নিশ্চিত করা যায় সে অনুযায়ী আমরা একটা গাইডলাইন তৈরি করবো।
এর আগে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্বীপটিতে পর্যটকদের ভ্রমণে ১২টি নির্দেশনা জারি করেছিল বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
দ্বীপটির বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ওই বিধি-নিষেধের ফলে দ্বীপটিতে গত এক বছরে পর্যটন ব্যবসায় যেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, আবার জীবিকার জন্য গাছ কেটে ফেলা বা অবাধে মাছ ধরার মতো বিরূপ তৎপরতাও দেখা গেছে কিছু বাসিন্দার মধ্যে।
যে কারণে, সেখানকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা দ্রুতই বর্তমান সরকারের কাছে এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এখনই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে সব বিধি-নিষেধ জারি করা হয়েছিল তার মধ্যে যেগুলো যৌক্তিক সেগুলো বহাল রাখা হতে পারে।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। দ্বীপটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন কয়েক হাজার পর্যটক সেখানে যেতেন।
পর্যটকদের থাকার জন্য দ্বীপটিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল-রিসোর্ট। সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহিম জিহাদী জানান, দ্বীপটিতে সব মিলিয়ে দেড়শোর মতো আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এগুলোয় অন্তত পাঁচ হাজার পর্যটকের আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১২ দফা বিধিনিষেধে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই দুই মাস নির্দিষ্ট সংখ্যক পর্যটকের রাত্রিযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছিল। নভেম্বর মাসে শুধু দিনের বেলায় সেন্টমার্টিন ঘোরার অনুমতি ছিল, রাতে অবস্থান করা যেত না।
তবে এই সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক মনে করছে না বর্তমান সরকার। ফলে রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে আলোচনা চলছে।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘যে মানুষটা ছয় বা সাত ঘণ্টা জার্নি করে যাচ্ছে, দুই ঘণ্টা থেকে আবার ছয় সাত ঘণ্টা জার্নি করে কক্সবাজার ফিরছে এটা একেবারেই আনহেলদি প্র্যাকটিস।’
তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি ও আমাদের মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী (আব্দুল আউয়াল মিন্টু) একমত হয়েছি। এটি নিয়ে সক্রিয় আলোচনা করা হচ্ছে, আগের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে আলোচনা হচ্ছে। যে জার্নি করে যাবে তাকে যদি আমরা রাত্রিযাপনের সুযোগ দেই সেটি ভালো হবে।’
ট্যুর অপারেটরদের সংগঠনও রাত্রিযাপনের বিষয়ে আগের বিধিনিষেধে পরিবর্তন আনার পক্ষে।
বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ রাফিউজ্জামান বলেন, ‘এই রাত্রিযাপন নিয়ে যে নিষেধাজ্ঞা এটাতে পর্যটকরা মারাত্মকভাবে নিরুৎসাহিত হয়েছে। কারণ এত টাকা খরচ করে যখন একজন পর্যটক কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনে যাবে, নিশ্চয়ই সে দুই ঘণ্টার জন্য এত দূরের পথ পাড়ি দেবে না। এই সিদ্ধান্তে যেন পরিবর্তন আসে সেটা আমরা চাই।’
অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ দফা নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সেন্টমার্টিনে রাত কাটানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে রাত্রিযাপনকারী পর্যটকের সংখ্যাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। বর্তমানে দিনে সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটকের রাত্রিযাপনের অনুমতি রয়েছে। তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাস দেওয়া হয়।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের নীতিমালা রয়েছে সেখানে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে শুধু দুই হাজার পর্যটক গিয়ে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। যারা যাবেন তাদেরকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই পাস দেওয়া হয়। যেহেতু বিধি নিষেধে এখনো কোনো পরিবর্তন হয়নি, ওই সংখ্যার বাইরে কোনো পর্যটক সেখানে যেতে পারবেন না এবং অবস্থান করতে পারবেন না।’
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে দীর্ঘদিন ধরে এই পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেছিল। হঠাৎ করে এমন নিষেধাজ্ঞার কারণে টুরিস্ট ব্যবসায় বেশ প্রভাব পড়েছে। এটি নিয়ে আমরা আমাদের অভিযোগগুলো পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি।’
তবে, বর্তমান সরকার পর্যটকের সংখ্যা কিংবা ভ্রমণের সময়সীমা আরো বাড়াবে কি-না সেই বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সেখানে কোন মাস থেকে কোন মাস পর্যন্ত যাওয়া যাবে, কতজন পর্যটক গিয়ে রাত্রিযাপন করতে পারবে, সেখানকার ব্যবসায়ীরা কী চাচ্ছেন, পরিবেশের কতটুকু সীমাবদ্ধতা আছে তার সবই আমরা তাদের কাছ থেকে জানবো। এ নিয়ে শুনানি বা বৈঠক হবে, সেই বৈঠকে তাদের বক্তব্যসহ সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে আগামী ১৫ই অক্টোবরের মধ্যে একটা গাইডলাইন দেওয়া হবে। যেখানে পরিবেশ যেন রক্ষা হয়, এবং ওখানে যারা বসবাস করে তাদের স্বার্থও যেনো রক্ষা হয় সেই বিষয়গুলো আমরা দেখবো।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের ব্যবসায়ী ও সেখানকার জনপ্রতিনিধিরা বলেন, এর আগে অক্টোবর থেকে মার্চ এই ছয় মাস দ্বীপটিতে ভ্রমণের সুযোগ ছিল। বিগত সরকার নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ভ্রমণের জন্য যে নির্দিষ্ট সময় সীমা করছে সেটিতে তারা পরিবর্তন চান।
সেক্ষেত্রে অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত যেনো এই ভ্রমণের সুযোগ রাখা হয়, সে কথাও বলছেন তারা।
যদিও তাদের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন পরিবেশবিদদের কেউ কেউ। পরিবেশবিদ মো. শামসুদ্দোহা বলেন, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষা করতে হলে এটার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা দরকার। একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া দরকার। সেটা কোনোভাবেই তিন মাসের বেশি নয়।
সেন্টমার্টিন ভ্রমণে দেওয়া আগের বিধিনিষেধে আলোকসজ্জাসহ বারবিকিউ পার্টি, রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো ও শব্দ সৃষ্টি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
পাশাপাশি দ্বীপটির কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা ক্রয়-বিক্রয় এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করাও নিষিদ্ধ ছিল।
সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তবে এসব বিধিনিষেধ পরিবেশ রক্ষায় খুব একটা কাজে আসেনি বলে মনে করেন দ্বীপটির জনপ্রতিনিধি ফয়েজুল ইসলাম।
তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আগের চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। কারণ আগে মানুষ পর্যটক আসতো, পর্যটন নিয়ে ব্যস্ত থাকতো দ্বীপের লোকজন। এখন মাত্র দুই থেকে তিনমাস অল্প পর্যটক আসার কারণে এখন অনেকে গাছপালা কেটে বিক্রি করতেছে, জীবিকার তাগিদে অবাধে মাছ ধরতেছে, এতে পরিবেশের আরও ক্ষতি হচ্ছে।’
তবে পরিবেশ সুরক্ষায় বর্তমান সরকারও কঠোর অবস্থানে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘সবার আগে এই দ্বীপটিকে সুরক্ষা করতে হবে। এখানকার জীববৈচিত্র্য যাতে সুরক্ষিত হয় সেজন্য আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেবো যেন কোনো পর্যটক প্লাস্টিক বা সিঙ্গেল পলিথিন নিয়ে দ্বীপে ঢুকতে না পারে। এটিকে বাস্তবায়ন করতে পরিবেশসহ কোস্টগার্ডের লোক, সবাইকে দায়িত্ব পালন করবে। এগুলো চেক করে প্রত্যেকটা জাহাজ ছাড়বে। কোনো পলিথিন বা প্লাস্টিক উঠতে পারবে না জাহাজে।’
নতুন নীতিমালায় সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার পাশাপাশি দ্বীপের বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা এবং পর্যটন ব্যবসার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এবং বিএনপির হাইকমান্ড সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি দল ও সংসদ সদস্য—দুই পদ থেকেই পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি যেকোনো সময় পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। আজ বৃহস্পতিবারই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির এক শীর্ষ নেতা। তিনি জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। পাশাপাশি তিনি বিএনপি থেকেও পদত্যাগ করবেন।
বিএনপির ওই নেতা বলেন, 'দলীয় সিদ্ধান্তেই তিনি পদত্যাগ করবেন। যেকোনো সময় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হতে পারে। আজ পদত্যাগপত্র দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।'
এদিকে ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। গতকাল রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। কমিটি বিলুপ্তির পরপরই তার দল ও সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, মুখোশ পরা ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ক্লিনিকে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি এনে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
রাড্ডা কর্তৃপক্ষ বলেছে, হামলাকারীরা ওষুধ, ভ্যাকসিন, সরকারি টিকাদান কর্মসূচির রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রী, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, ফ্রিজ, এসি ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দেড় কোটি টাকার বেশি বলে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মিরপুরের বিএনপি নেতা মো. হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি ও দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে উল্লেখ করে প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতি এবং জীবনমানের উন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পৃথিবীর সব দেশেই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। দীর্ঘায়ুর এই যুগ প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে চিন্তার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।’
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘দ্য এইজ অব লংজিবিটি : রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস’।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ১ অক্টোবর দেশেও ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ পালিত হচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব প্রবীণ নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা জানান।
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্যটি সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের স্বাভাবিক জীবনচক্রের অংশ হিসেবে বার্ধক্যে উপনীত হওয়া অনিবার্য। তাই প্রত্যেক মানুষের বার্ধক্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদে ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা খাতে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতা প্রদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রবীণদের কল্যাণ ও উন্নয়নে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগ প্রবীণদের কল্যাণ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন তিনি।
প্রবীণদের অবদান উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারা কেবল অতীতের গল্প নন, তারা বর্তমানের শিকড় এবং ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। তাদের শ্রম, ঘাম, মেধা, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রবীণদের একটি বড় অংশ অবনতিশীল স্বাস্থ্য, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও জনহিতৈষী সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ এবং প্রতিটি পরিবার প্রবীণদের কল্যাণে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসবে।
তিনি বলেন, প্রবীণদের প্রতি ভালোবাসা, তাদের হাসিমুখ ও নিরাপদ বার্ধক্য নিশ্চিত করা সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ও বিশ্বের সব প্রবীণ ব্যক্তির সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় জীবন কামনা করেন।