• প্রকাশ : শুক্রবার ১৯ জুন, ২০২৬, সময় : ৭:১২ এএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১৯ জুন, ২০২৬, সময় : ১০:২০ এএম

সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৯ জুন, ২০২৬, সময় : ৭:১২ এএম

আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লা বিভাগে একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে বরিশাল  ও খুলনা বিভাগের হাসপাতাল দুটি আগস্টের প্রথম দিকে চালুর সব প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হবে। পাশাপাশি বড় পরিসরের আইসিইউ ইউনিটও থাকবে হাসপাতালগুলোতে।


এসব হাসপাতালের আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। পুরোদমে কার্যক্রম চালুর জন্য প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবলের প্রয়োজন হবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।


স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইতোমধ্যে খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লা গিয়ে হাসপাতাল ভবনগুলো পরিদর্শন করেছেন। বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি আগামী আগস্টের শুরুতে হাসপাতালটি চালুর ঘোষণা দেন।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, মাল্টি প্যারামিটার বা কার্ডিয়াক মনিটর, ফটোথেরাপি মেশিনসহ ২০০ বেডের শিশু হাসপাতাল চালু করতে যেসব যন্ত্রাংশ প্রয়োজন, সেগুলো জুলাইয়ের মধ্যে পৌঁছে দেয়া হবে। আগামী ১ আগস্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হবে।


এর আগে গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে দেশের ছয় বিভাগে অব্যবহৃত পড়ে থাকা ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন।


একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে আগামী ২ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন। মূলত এরপরই হাসপাতালগুলো চালুর তোড়জোড় শুরু হয়।


এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের পাঁচ বিভাগে একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) ব্যবস্থাও থাকবে।


তিনি আরও বলেন, এই পাঁচটি হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন করে জনবল প্রয়োজন। পূর্ণ জনবল বরাদ্দ করার জন্য ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।


হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রতিটি শিশু হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে। সেন্ট্রালি এয়ার কন্ডিশন ব্যবস্থা থাকবে। একটি করে আইসিইউ থাকবে এবং ভবিষ্যতে বেড বাড়ানোর পরিসরও রাখা হবে। আইসিইউর জন্য একটি বড় স্পেস রাখা হবে।


প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারও ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত বরিশাল শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, এই শিশু হাসপাতালটিও আগস্টে চালু হবে। প্রথম ধাপে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম শুরু করা হবে।


প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল চালু করতেও জোরোশোরে কাজ শুরু হয়েছে। গত ২০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যেই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।


খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, গণপূর্ত বিভাগ ও সিভিল সার্জনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। নতুন শিশু হাসপাতাল সম্পর্কে আমাদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।


এদিকে গত ২৫ মে কুমিল্লা সদর দক্ষিণের বেলতলী এলাকায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। এটিও আগামী ছয় মাসের মধ্যে চালুর ঘোষণা দেন তিনি।


নির্মাণকাজ শেষেও দীর্ঘ ছয়বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকার পর চালু হতে যাচ্ছে বিশেষায়িত রংপুর শিশু হাসপাতালও। তারেক রহমানের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত এই হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালটির অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন।


তিনি বলেন, ‘শুধু এই পাঁচটি শিশু হাসপাতালই নয়, স্বাস্থ্য বিভাগে এ ধরণের আরও অনেক স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো এখনও চালু হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সেগুলো চালু করারও নির্দেশ দেন।’


এদিকে বহুল প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চালু হতে যাচ্ছে কুমিল্লা শিশু হাসপাতালটিও। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সচিবের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন।


এদিকে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করা হবে।


ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস রাজশাহী শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।


স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, প্রথম ধাপে শিশু হাসপাতালটিতে আউটডোর সেবা চালু করা হবে। পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে অন্যান্য সেবাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

 



সর্বশেষ সব খবর

একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠক (ছবি-পিআইডি)

  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৪ পিএম

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজ ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের একটি প্রকল্পও রয়েছে। মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।


অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দু’টি সংশোধিত এবং একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে। সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।


রামপাল প্রকল্প

২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে রামপাল প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক (এমডব্লিউপি) সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো, দেশের প্রাথমিক জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো এ প্রকল্পের লক্ষ্য।


বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবিত ‘রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। এতে বিপিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং পাওয়ার সেক্টর ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা অর্থায়ন করা হবে। পাওয়ার সেক্টর ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের ঋণের সুদের হার হবে ২ শতাংশ। ঋণের এক বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৬ বছরে তা পরিশোধ করতে হবে। পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।


পরিকল্পনা কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রকল্পটি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াবে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে।’ পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি প্রাথমিক জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাবে।


প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রামপালের ব্লক-বি এলাকায় বিপিডিবির ইতোমধ্যে অধিগ্রহণ করা ৯১৮ দশমিক ৫০ একর জমিতে নির্মাণ করা হবে। বিপিডিবির নিজস্ব জমি ব্যবহার করায় নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না এবং এতে প্রকল্প ব্যয় কমবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ রামপালের নিকটবর্তী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যমান সঞ্চালন অবকাঠামোর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করা হবে। প্রকল্পের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, এতে তুলনামূলক দ্রুত ও কম ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।


কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য বিপিডিবি ২০১২ সালে রামপালে মোট ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে। জমিটি ৯১৫ দশমিক ৫০ একর আয়তনের ব্লক-এ এবং ৯১৮ দশমিক ৫০ একর আয়তনের ব্লক-বিতে ভাগ করা হয়। ব্লক-এতে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেডের মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হয়েছে। আর ব্লক-বি বিপিডিবির আওতায় রয়েছে। প্রকল্প দলিল অনুযায়ী, ব্লক-বিতে ভূমি উন্নয়ন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।


স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ৭ প্রকল্প

আজকের একনেক সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাতটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে— ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ এবং সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির প্রকল্প।


তিন জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন

এছাড়া সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনীও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


বিআইডব্লিউটিসির ৩৫ বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ‘রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


প্যারিসে চ্যান্সারি ভবন আধুনিকায়ন

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয়কৃত চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করার জন্য সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।


দুই সড়ক নির্মাণ প্রকল্প

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দু’টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে— ভজনপুর (নিজবাড়ী)-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় (জেড-৫০৬০) সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ এবং থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী।


সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ‘জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল এবং খাড়োয়া খাল পুনঃখনন’ প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়  মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন

  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৪১ পিএম

‘শ্রমিকের অধিকার রক্ষা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সরকারের মূল অগ্রাধিকার। সরকার শ্রমিকদের অধিকার ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।‌ বর্তমান সরকার শ্রমবান্ধব।’ এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বুধবার সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব এম্প্লয়ার্স (আইওই)-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র এসব কথা বলেন।


বৈঠকে ইপিজেডের অর্থনৈতিক ভূমিকা ও কর্মসংস্থানের ধারাবাহিকতায় স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখার জন্য সার্বজনীন আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বর্তমান সরকার শ্রমিকের অধিকার সুসংহত করতে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় আইটিইউসি ও আইওইর মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সুচিন্তিত পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সরকার একসাথে এগিয়ে যেতে চায়।


মাহদী আমিন বলেন, ‘সরকারের প্রধান লক্ষ্যই হলো শ্রমিকের অধিকার ও কল্যাণ রক্ষা করা। আর প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা, মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং কার্যকর সামাজিক সংলাপ প্রতিষ্ঠা করা সরকারের অগ্রাধিকার। পাশাপাশি মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’


প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এই সফর এবং সরকার, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আইএলও রোডম্যাপ বাস্তবায়নে আমাদের অর্জন ও ভবিষ্যৎ পথনকশা অনুধাবনে বিশেষ সহায়ক হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সরকার শ্রমিক কল্যাণ, মানসম্মত কাজ এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


তিনি বলেন, দায়িত্বভার গ্রহণের পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বাংলাদেশ শ্রম আইন যুগোপযোগী করে সংশোধন করেছে নবনির্বাচিত সরকার। একই সঙ্গে শ্রম অধিকার ও সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বাংলাদেশ সম্প্রতি আইএলও কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ এবং ১৮৯ অনুমোদন করেছে। শ্রম প্রশাসনকে দক্ষ ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সব পক্ষের সঙ্গে কার্যকর সামাজিক সংলাপ প্রতিষ্ঠায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো দ্রুত বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন করে সংশোধিত শ্রম আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা। এর মাধ্যমে সরকারের প্রতিটি অঙ্গীকারকে শ্রমজীবীদের জীবনের বাস্তব ও দৃশ্যমান উন্নয়নে রূপান্তর নিশ্চিত করা হবে।’


মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিক ও মালিক পক্ষের স্বার্থ একে অপরের পরিপূরক। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা দুটি বিষয়ই পাশাপাশি এগিয়ে যেতে পারে। শিল্পভিত্তিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় সংলাপ এবং কার্যকর সামাজিক অংশীদারিত্বের কোনো বিকল্প নেই।


বৈঠকে আইটিইউসি এবং আইওইর প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের শ্রমখাতে গৃহীত সাম্প্রতিক সংস্কারমুখী পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুততর করা, শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়নে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোতে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন আইটিইউসির জেনারেল সেক্রেটারি লুক ট্রায়াঙ্গল, আইওইর ভাইস-চেয়ার কাইজার মোয়ানে, আইএলও গভর্নিং বডির মেম্বার জেস ভোগট এবং আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনুনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, অতিরিক্ত সচিব মো, আবদুর রহিম খান এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদ উপস্থিত ছিলেন।




সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৫ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণায় বিএমডব্লিউ স্পোর্টস কার ও বিএমডব্লিউর যন্ত্রাংশের সন্ধান পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযানে এমন একটি চালান ধরা পড়েছে বলে এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে। 


অভিযানে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণায় একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস কার, আরেকটি বিএমডব্লিউ ৭৪ওআই সামনের অর্ধাংশ এবং পাঁচটি হাফ-কাট ইসুজু ট্রাক পেয়েছে বলে জানা গেছে।


কাস্টমস গোয়েন্দা জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে সন্দেহভাজন চালানটিতে ব্যবহৃত গাড়ির ডিফারেনশিয়াল অ্যাসেম্বলি, পাওয়ার স্টিয়ারিং অ্যাসেম্বলিসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের উল্লেখযোগ্য অসংগতি দেখা যায়। এতে গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশসহ একাধিক যানবাহন পাওয়ায় আমদানি ঘোষণা, প্রকৃত পণ্যের পরিচয় ও বৈধতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা।


আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল। যার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আমিন (সিঅ্যান্ডএফ) প্রাইভেট লিমিটেড। রপ্তানিকারক সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি এলএলসি। কায়িক পরীক্ষায় প্রথমে সম্পূর্ণ খোলা বা যন্ত্রাংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি দুই আসনের বিএমডব্লিউ স্পোর্টস/রেসিং কার পাওয়া যায়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গাড়িটি ২০০৯ সালের মডেল S Drive 23i, ইঞ্জিনের ধারণক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ সিসি।


একই চালানে বিএমডব্লিউ ৭৪ওআই মডেলের একটি গাড়ির সামনের অর্ধাংশ বা ফ্রন্ট হাফ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটির মডেল ইয়ার ২০১৬ এবং ইঞ্জিনের ধারণক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার সিসি। গাড়িটির শুধু সামনের অংশ চালানে পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা। এর অবশিষ্ট অংশ অন্য কোনো চালানে আমদানি করা হয়েছে কি না, কিংবা পৃথক চালানে এনে পরে গাড়িটি পুনঃসংযোজনের কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।


কাস্টমস গোয়েন্দা আরও জানায়, চালানটিতে আরও পাওয়া গেছে পাঁচটি হাফ-কাট ইসুজু ট্রাক। প্রতিটি ট্রাকের কেবিনের ভেতরে বিভিন্ন গাড়ির যন্ত্রাংশ প্যাক করে রাখা হয়েছিল। এছাড়া চালানে আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়। কাস্টমস গোয়েন্দার পর্যবেক্ষণে ঘোষিত পণ্যের বিবরণ ও বাস্তবে পাওয়া পণ্যের ধরন এবং অবস্থার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ধরা পড়ে। ফলে পণ্যের প্রকৃত পরিচয়, পরিমাণ, মূল্য এবং আমদানির অনুমোদনসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে।


কাস্টমস গোয়েন্দা বলছে, ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের অসংগতি থেকে পণ্যের ভুল ঘোষণা বা মিসডিক্লারেশনের বিষয়টি সামনে এসেছে। এর মাধ্যমে শুল্ক-কর ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে ঘোষণার আড়ালে গাড়ি বা গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশ আমদানির এ ধরনের প্রচেষ্টা শনাক্তে নজরদারি জোরদার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৪ এএম

বাংলাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন জাপানের অটোমোবাইল ব্র্যান্ড টয়োটা- এর প্রতিনিধিরা। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মঙ্গলবার সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন টয়োটা তুশো করপোরেশনের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল।


বৈঠক তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, “প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন টয়োটা তুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানি। বৈঠকে তারা বাংলাদেশে টয়োটার গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।


“এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়নের প্রসার, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে অবদান রাখার আগ্রহের কথাও জানান তারা। প্রধানমন্ত্রী টয়োটার বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের আগ্রহকে স্বাগত জানান।”


প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”


উপ প্রেস সচিব বলেন, “বৈঠকে বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এসব খাতে টয়োটা তুশো করপোরেশন বিনিয়োগে আগ্রহী হলে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সহায়তা দেবে।”


টয়োটা কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে তাদের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণ করে সব বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টয়োটার সেবা ও কার্যক্রম আরও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০২৭ সালে টয়োটা বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের সঙ্গে, বাংলাদেশের জন্য’ উন্নয়ন দর্শনকে সামনে রেখে হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যল (এইচইভি) বা ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলার কাজ শুরু করা হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে যা পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাবে।


উপ প্রেস সচিব বলেন, “টয়োটা বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নেও অবদান রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ শিল্পের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে টয়োটা সম্ভাব্য উদ্যোগ ও আগ্রহের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছে।”


বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।


টয়োটা তুশো করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন কোম্পানির মোবিলিটি ডিভিশনের সিইও শিগেরু হারাদা, টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট প্রেমমিত সিংসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ সব খবর

এই নির্বাসন প্রক্রিয়াটি ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে সম্পন্ন করা হয়। বাগডোগরায়, বাংলাদেশি নাগরিকদের বিএসএফ সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।(ছবি-দ্য প্রিন্ট)

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪০ পিএম

‘অবৈধভাবে’ বসবাসের অভিযোগে ভারতের কাশ্মীর থেকে অন্তত ১৫০ ‘বাংলাদেশিকে’ আটকের পর তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর খবর দিয়েছে ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম। দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সোমবার ওই বাংলাদেশিদের আটকের পর তাদের ফেরত পাঠাতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিমানে করে পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।


ভারতের কাশ্মীর থেকে এটিই প্রথম কোনো প্রকাশ্যে নথিভুক্ত বৃহৎ পরিসরের ফেরত পাঠানোর ঘটনা। দ্য প্রিন্ট লিখেছে, ভারতের সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরে মোট ৫০৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। আটক ১৫০ জনও তাদেরই অংশ।


পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়েছে, “কাশ্মীরে কর্মরত শ্রমিকদের নিবন্ধনের জন্য আধার কার্ড জমা দিতে বলা হয়েছিল। সে সময় আধার কার্ডের তথ্যে গরমিল বা অসঙ্গতি ধরা পড়লে বিষয়টি বাংলাদেশে পাঠিয়ে তাদের জাতীয়তা নিশ্চিত করা হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট’ এর অধীনে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 


ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে দুটি ট্রানজিট পয়েন্ট আছে। একটি মালদা, আরেকটি বাগডোগরা। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের পাহারা দিয়ে সীমান্ত পার করে দিয়েছে। তার আগে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে তাদের পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হয়।” তবে মালদা নাকি বাগডোগরা, ঠিক কোন সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি।


পশ্চিমবঙ্গে দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি মহকুমার একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বাগডোগরা। এর অপরপাশে অর্থাৎ দক্ষিণ দিকে বাংলাদেশের পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত। অন্যদিকে মালদা পশ্চিমবঙ্গে উত্তরাঞ্চলীয় জেলা। এর অপরপাশে বাংলাদেশের রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত। দ্য প্রিন্ট বলছে, জনমিতিগত পরিবর্তন রুখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাভালকারের নেতৃত্বে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গঠিত উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীর পরিদর্শনের কয়েক মাস পর এই বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হলো। কমিটির নথিতে জম্মু ও কাশ্মীরে মোট ৫০৪ জন বাংলাদেশি নাগরিকের উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়, যার মধ্যে ৪৬ জন জম্মুতে এবং বাকি ৪৫৮ জন কাশ্মীরে অবস্থান করছেন। জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন আটক বাংলাদেশিদের আরও একটি দলকে ৭ অক্টোবর ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।


পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মো. কায়েস বলেন, “আমরা এ ধরনের খবর জেনেছি বিভিন্ন মাধ্যমে। তবে কোনোভাবেই যেন পুশইন না হয় সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক আগে থেকেই আছি। এ খবর পাওয়ার পর সীমান্তে সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি টহল বাড়িয়েছি।” তারা সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছেন, বলেন বিজিবির এই কর্মকর্তা।

সর্বশেষ সব খবর

চাকরির জন্য হাহাকার, তবুও যোগ দিলেন না ৯১৮ জন

প্রাথমিকে নিয়োগপত্র বঞ্চিত ৮৩


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৯ পিএম

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগপত্র বঞ্চিত হয়েছেন ৮৩ জন। ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে ধাপে ধাপে নিয়োগপত্র পেলেও শেষ পর্যন্ত তারা বঞ্চিতই রয়ে গেছেন। পাশাপাশি নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও চাকরিতে যোগ দেননি এমন প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৪৭১ জন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। তারা অন্য কোথাও চাকরি করছেন বলে জানা গেছে। আর বড় একটি সংখ্যা নিয়োগপত্র নিয়েও যোগদান করেননি।


আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিএ) পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৫’ দুই ধাপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে মোট শূন্যপদ ছিল ১৪ হাজার ৩৮৫টি। এসব পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছিল ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে লড়াই করেন প্রায় ৭৫ জন চাকরিপ্রার্থী।


অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রথম ধাপে (রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগ) ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে (ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ) ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি।


এদিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী। তাদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়।


প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলাভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। কয়েক ধাপে জারি করা এ আদেশের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাতে কাগজপত্র জমা দেন ১৩ হাজার ৮৩১ জন। বাকিদের মধ্যে ৫৫২ জন কাগজপত্র জমা দেননি। আরেকজন মারা গেছেন।


এদিকে কাগজপত্র জমা দিয়ে নিয়োগপত্র হাতে পান ১৩ হাজার ৭৪৮ জন। তাদের মধ্যে নির্ধারিত সময়ে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন ১২ হাজার ৮৩০ জন। 


হিসাব অনুযায়ী- কাগজপত্র জমা দিয়ে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেননি ৯১৮ জন। আর কাগজপত্র জমা দেননি ৫৫৩ জন। সেই হিসাবে ১ হাজার ৪৭১ জন চাকরিতে যোগদানে আগ্রহ দেখাননি।


প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম বলেন, অনেকে কাগজপত্র জমা দেননি। তারা কোনো আগ্রহই দেখাননি। আবার অনেকে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও যোগদান করেননি। হয়তো তাদের অন্যত্র চাকরি হয়েছে। সেটিকে তারা গুরুত্ব দিয়েছেন। সব সরকারি নিয়োগে এমন ঘটনা ঘটে থাকে।


তিনি বলেন, ‘কিন্তু সহকারী শিক্ষক পদে ১ হাজার ৪৭১ জন যোগ না দেওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ আমাদের এতবড় নিয়োগ প্রক্রিয়া বারবার চালানো কষ্টসাধ্য। এর সঙ্গে সরকারের যে বাড়তি খরচ, সে বিষয়টিও রয়েছে। পাশাপাশি পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট পড়বে। আমরা শিগগির আরেকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছি। সেটি হয়ে গেলে আর সংকট থাকবে না।’

সর্বশেষ সব খবর