প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা মেডিকেল কলেজকে দেশের ইতিহাসের সাক্ষী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শুধু চিকিৎসা ক্ষেত্রেই নয়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান- প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে যারা আর বেঁচে নেই, কিন্তু যাদের অবদানে প্রতিষ্ঠানটি মানুষের সেবায় অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে, তাদেরও স্মরণ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শুধু দেশ-বিদেশের সেরা চিকিৎসকই তৈরি করেনি; এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক, গবেষক, সমাজনেতা ও মুক্তিযোদ্ধাও তৈরি হয়েছেন যারা অন্যের জীবন রক্ষায় নিজেদের জীবন ও স্বার্থ বিলিয়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে রাজধানীর মানুষের ‘সার্বক্ষণিক নির্ভরতার জায়গা’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, হাসপাতালের প্রতিটি কক্ষ ও করিডোরে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের আনন্দ-বেদনার গল্প রচিত হয়। এখানে যেমন অনেক জীবনের অবসান ঘটে, তেমনি অসংখ্য নতুন জীবনেরও সূচনা হয়। স্টেথোস্কোপের এক প্রান্তে একজন চিকিৎসকের কান থাকে, অন্য প্রান্তে স্পন্দিত হয় একটি মানুষের জীবন। চিকিৎসক ও রোগীকে ঘিরে আবর্তিত হয় একটি পরিবারের অগাধ বিশ্বাস।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের মনোজগতে চিকিৎসকের অবস্থান সুস্থ জীবনের রক্ষক হিসেবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে বলা কথার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, চিকিৎসকেরাই প্রকৃত অর্থে মানুষের বিপদের বন্ধু। রোগে-শোকে কাতর মানুষের পরম বন্ধু হয়ে ওঠেন চিকিৎসকেরা। একজন চিকিৎসকের পরামর্শ ও আন্তরিক ব্যবহারও রোগীর কাছে ওষুধের মতো কার্যকর হয়ে ওঠে। তাই পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও জরুরি।
হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারে সরকার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এর অংশ হিসেবে হাসপাতালগুলোতে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আরও পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফ ও অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীর শূন্যপদ দ্রুত পূরণের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
‘Prevention is better than cure’- এই নীতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায়। পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো বিষয়গুলোতে আগেভাগে স্বাস্থ্যসম্মত পরামর্শ পেলে রোগের নিরাময় অনেক সহজ হয়। নিয়মিত পরীক্ষা, সচেতনতা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক রোগ শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় সম্ভব।
এ লক্ষ্যেই সারাদেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী হেলথ কেয়ারার হবেন, যারা পরিবারভিত্তিক প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন। তিনি বলেন, একটি সুস্থ জাতি শুধু হাসপাতাল দিয়ে গড়ে ওঠে না; পারিবারিক সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, স্বাস্থ্য পরামর্শ, নিরাপদ খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম ও দায়িত্বশীল জীবনাচরণের ওপরও শারীরিক সুস্থতা নির্ভর করে।
স্বাস্থ্যখাতে বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাখাতের পর এবার দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যখাতে। চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে এ বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু বাজেট বাড়ানো নয়, বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম ও চিকিৎসা ব্যয়ও কমানো হয়েছে। ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, হার্টের ভাল্ব, পেসমেকার, অক্সিজেনেটর, পেরিফেরাল ভাসকুলার স্টেন্ট, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন ফাইবার, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের ৫০০ উপজেলার মধ্যে বর্তমানে মাত্র পাঁচটিতে ১০০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। জনসংখ্যার তুলনায় এটি অপ্রতুল হওয়ায় রোগীদের শহরমুখী হতে হয়। এ কারণে বর্তমানে ৩১ থেকে ৫১ শয্যার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতাল পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব হাসপাতালের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার হাসপাতালের ভবন নির্মাণ, স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের শিশুরাই আগামীর বাংলাদেশ। শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বরিশাল ও রাজশাহীতে নির্মিত ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বিশেষায়িত শিশুচিকিৎসা রাজধানীকেন্দ্রিক না থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহজলভ্য হবে।
মেডিকেল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে মেডিকেল বর্জ্যের বিজ্ঞানসম্মত অপসারণ ও ব্যবস্থাপনা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সবাইকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে মেডিকেল বর্জ্য অপসারণ এবং হাসপাতালগুলো পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, আজকের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নদের হাত ধরেই চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে।
প্রতীকী ছবি
কারাগারে থাকা বন্দিকে সীমিত সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া হলো প্যারোল। বিধি মোতাবেক কেউ প্যারোল আবেদনের যোগ্য হলে তিনি আবেদন করতে পারেন।
জামিনের সঙ্গে এর পার্থক্য রয়েছে। জামিন হয় আদালতের নির্দেশে, কিন্তু প্যারোল হয় প্রশাসনিক আদেশে। জামিন পাওয়া ব্যক্তি বাইরে স্বাধীন থাকেন এবং তিনি কোনো আদালত বা পুলিশের জিম্মায় থাকেন না। কিন্তু প্যারোল পাওয়া ব্যক্তি পুরো সময় পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকেন। প্যারোল পাওয়া ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময় পর পুলিশ কারাগারে নিয়ে আসবে।
আইনজীবী মনজিল মোরশেদ জানান, যে কোনো ধরনের বন্দি, কয়েদী বা হাজতিই প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিবেচিত হতে পারেন।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যে অপরাধের কারণে বা যে ধরন বা মেয়াদের শাস্তি ভোগরতই থাকুন না কেন, সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে (যেমন নিকটাত্মীয়ের জানাজা) তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারেন প্যারোলে মুক্তির জন্য। মন্ত্রণালয় দূরত্ব ও স্থান বিবেচনা করে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তার আবেদন মঞ্জুর করতে পারেন।
প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে যত নীতিমালা
কোনো বন্দি প্যারোল পাবেন এবং প্যারোলের আওতায় তার সময়কাল কীভাবে দেখা হবে - তা নিয়ে একটি নীতিমালা আছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।
এ নীতিমালা অনুযায়ী, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। এ নীতিতে থাকা অন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:
১. নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনা করে প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ সময় নির্ধারণ করে দেবেন;
২. নিকট আত্মীয় যেমন বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, সন্তান, আপন ভাই-বোন মারা গেলে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যায়;
৩. আদালতের আদেশ বা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে;
৪. প্যারোলে মুক্তি পেলেও সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরায় থাকতে হবে;
৫. কারাগারের ফটক থেকে প্যারোলে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিকে পুলিশ বুঝে নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই কারাগারে ফেরত দিতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবা ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেছেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জুলাই আহতদের চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারদের পুনর্বাসনের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে যাদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাদের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি। আহত জুলাই যোদ্ধারা যেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক ও তৎপর রয়েছি। বুধবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি’র সভায় তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, আহত জুলাই যোদ্ধারা যেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সেই বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক ও তৎপর রয়েছি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৪৫-এর সংসদ সদস্য ও জুলাই শহীদ জাবিরের মাতা রোকেয়া বেগম।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, আমাদের সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বাংলাদেশ গড়বে, সেজন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আর সেই অঙ্গীকার থেকেই আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরকে সক্রিয় করে এর মাধ্যমে আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের জন্য কাজ করব। এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক দলের নয়, এটি পুরো জাতির। সকল শহিদ পরিবার ও আহতদের পরিচর্যা ও সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
অন্যদিকে, তালিকার নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোকপাত করে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, জুলাই যোদ্ধাদের এবং শহীদদের তালিকায় যে সকল ভুলত্রুটি বা অভিযোগ আসছে, সেগুলো তদন্ত সাপেক্ষে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সংশোধন করা হচ্ছে। জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের আবেদনের ভিত্তিতে ডাক্তারি সনদসহ জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই অন্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদনপূর্বক গেজেটভুক্ত করা হয়। আমাদের লক্ষ্য একটি সম্পূর্ণ নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা উপহার দেওয়া, যাতে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি এতে সুযোগ না পায় এবং প্রকৃত কোনো জুলাই যোদ্ধা বা শহিদ পরিবার বাদ না পড়েন।
বিশেষ আমন্ত্রণে সভায় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৪৫ এর সংসদ সদস্য ও জুলাই শহীদ জাবিরের মাতা রোকেয়া বেগম। এছাড়া সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা; সরকার মনোনীত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের একজন প্রতিনিধি এবং জুলাই যোদ্ধাদের একজন প্রতিনিধি।
সভায় জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রকৃত তালিকা এবং তাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আলোচ্যসূচি অনুযায়ী আলোচনা করা হয় ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক
নয়টি মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিনের পর অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক।
আজ বুধবার বিকেল ৪টার দিকে কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন তার কারামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত এক বছরে তাকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হত্যা বা হত্যাচেষ্টা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পরিবর্তন, জালিয়াতির অভিযোগ এবং দুর্নীতির মোট নয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর সবগুলোতেই তিনি সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বনানী থানায় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা সর্বশেষ এক মামলায় খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা। ওইদিন রাতেই তাকে যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।
২০২৬ সালের এপ্রিল ও মে মাসে বিভিন্ন মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে তার জামিন বহাল হলেও নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণে এতদিন তিনি কারামুক্ত হতে পারেননি।
২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এ বি এম খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান।
ঈদে-মিলাদুন্নবী
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে আগামী ২৬ আগস্ট দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করবে সরকার। গত ১৩ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় জাতীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়।
ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দেবেন। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্র বাহিনীর সব স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড, লাইটপোস্ট, স্থান ও সড়ক জাতীয় পতাকা, রঙিন পতাকা এবং ‘কালিমা তায়্যিবা’ লেখা ব্যানারে সজ্জিত করা হবে।
বাংলাদেশ সচিবালয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং সশস্ত্র বাহিনী নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার ও টকশো প্রচারের পাশাপাশি কিরাত, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আরবিতে খুতবা লেখা প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন স্মরণিকা বা ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ প্রান্তে মাসব্যাপী ইসলামিক বইমেলারও আয়োজন করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংবাদপত্রগুলোও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা ও জেদ্দা হজ অফিসসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবন ও কর্ম, ইসলামের শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে বলা হয়েছে।
শিশুদের জন্য হামদ-নাত, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি।
এদিকে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশের সব সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু সদন, আবাসিক শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও প্রবীণ নিবাসে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতেও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
ছবি : সংগৃহীত
সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনির প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার জন্য মুক্তির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডা. দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম।
তিনি জানান, আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে দীপু মনির মেয়ে তানি দিপাবলি মায়ের সঙ্গে দেখা করতে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রবেশ করেন। পরে কারাগার থেকে বের হয়ে মায়ের প্যারোলে মুক্তির আবেদন নিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। সেখানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রেজাউল করিমের কাছে আবেদনপত্র জমা দেন তিনি।
আইনজীবী গাজী ফয়সাল বলেন, ‘আমরা চার দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলাম। তবে কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।’
উল্লেখ্য, ডা. দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ মঙ্গলবার রাতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর পর স্বামীর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে ডা. দীপু মনির প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়।
বর্তমানে ডা. দীপু মনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৮টি শিশু। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮২৩টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গে এই সময়ে মোট ৯২২টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৮৭টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৩১। এই সময়ে ৭৮৭টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯২৫টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭১১, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৭৬। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৬ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।