প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় পুলিশকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন।
তিনি বলেছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য কাজ করার বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের পাশাপাশি পুলিশেরও সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব রয়েছে।
আজ বুধবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে ‘নির্বাচনি দায়িত্ব পেশাদারত্বের সঙ্গে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সিইসি এসব কথা বলেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এটা দলভিত্তিক কোনো নির্বাচন না। আইন অনুযায়ী যারা যোগ্য হবেন, তারাই নির্বাচন করতে পারবেন। যারা আইনে বাধার কারণে যোগ্য হবেন না তারা বাতিল হবেন।
নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পুলিশের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
নাসির উদ্দীন বলেন, খুব শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে মূলত পুলিশের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করতে হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দায়িত্বে যারা নিয়োজিত হবেন, অথচ আগে নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমের বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেননি, তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য আইজিপিকে অনুরোধ করা হয়েছিল।
তিন বলেন, আমরা জাতীয় নির্বাচন যত সুন্দরভাবে করেছি, একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনটাও করতে চাই। জাতীয় নির্বাচনে ফলাফলের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি, আমরা পারি। নির্বাচন কমিশনের ওপর যে মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সেটি অনেকাংশে পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি।
পুলিশ বাহিনীর কিছু সময়সীমাবদ্ধতা রয়েছে জানিয়ে সিইসি বলেন, তাদের গাড়ির সঙ্কট রয়েছে। নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। চব্বিশের জুলাই-আগস্টে অনেক গাড়ি পুড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ২২ কোটি টাকা খরচ হবে। তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ তহবিল থেকেই এই টাকা খরচ করতে হবে। পর্যায়ক্রমে বিজিবি ও আনসারও প্রশিক্ষণ শুরু করবে।
বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পুলিশ সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি নতুন না। জাতীয় নির্বাচনে যে অবস্থা ছিল, সেই অবস্থার চেয়ে এখনকার অবস্থা খারাপ না। পুলিশের ওপর আস্থা আছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতা কমাতে পরিকল্পনা সম্পর্কে সিইসি বলেন, নির্বাচনের সময় সিসি ক্যামেরা, বডি-অন ক্যামেরা থেকে শুরু করে নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা থাকবে।
অন্যদিকে দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকায় পুলিশ নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে চাপমুক্ত থাকবে কি না সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেন, বর্তমানে দেশে দলীয় সরকার থাকলেও এটি গণতান্ত্রিক সরকার। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।
গত ছয় মাসে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি দাবি করেন, এ ক্ষেত্রে পুলিশের সাফল্য শতভাগ।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের মতো মিরপুর-১ নম্বর এলাকার ফুটপাতও দখলমুক্ত করে নগরবাসীর হাঁটাচলার উপযোগী করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, উচ্ছেদের পর যত দিন কেউ ফুটপাতে দোকান বসানোর চেষ্টা করবে, এ অভিযান তত দিন চলবে।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর রাড্ডার সামনে ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মিরপুর-১ নম্বর এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করা।
শাহ আলী, দারুস সালাম, মিরপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের বাসিন্দারা অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার কারণে হাঁটাচলার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হকাররা শুধু গত এক-দুই বছর ধরে নয়, আগের ফ্যাসিবাদী আমল থেকেই এখানে অবৈধভাবে ব্যবসা করে আসছেন।
তিনি বলেন, এলাকার বিভিন্ন মার্কেট কমিটির নেতারা এবং সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগতভাবে তাকে এ বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছেন। ডিএনসিসির প্রশাসক হিসেবে তার কাছে মনে হয়েছে, নগরবাসীর হাঁটাচলার রাস্তা তাদের বুঝিয়ে দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আজ বুধবার সকাল ১১টায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অভিযান চলছিল। অভিযানে নামার পর এলাকার সাধারণ মানুষ, মার্কেট কমিটির কর্মকর্তা ও অনেক দোকানি তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। স্থানীয় নেতারাও এ কাজে সহযোগিতা করছেন।
তিনি আরও বলেন, উচ্ছেদের পর ফুটপাতের দখল যাতে আবার ফিরে না আসে, সে জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা তদারকি করবেন। পুলিশের সংশ্লিষ্ট উপকমিশনারও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে বিষয়টি তদারকি করছেন। কেউ আবার ফুটপাত দখল করে বসার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কতটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, শত শত স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হকারদের সতর্ক করা হয়েছে, মাইকিং করা হয়েছে এবং আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাত করেননি। এ কারণে অভিযান শুরু করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, যত দিন কেউ ফুটপাতে আবার দোকান বসানোর চেষ্টা করবেন, তত দিন এ অভিযান চলবে। জরিমানা পরের বিষয়, আগে নগরবাসীর চলাচলের পথ উন্মুক্ত করতে হবে।
মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার উদাহরণ দিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, সেখানে অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর তা নগরবাসীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফুটপাতে গাছ লাগানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, রোপণ করা গাছগুলোর পরিচর্যা করতে হবে এবং নিয়মিত পানি দিতে হবে। সে অনুযায়ী জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গাছের পরিচর্যায় যুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবারও এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই অঙ্গীকার সামনে রেখে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ চলছে।
তিনি বলেন, নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়েই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান তারা। ফুটপাত দখলমুক্ত করে মানুষের চলাচলের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং উচ্ছেদের পর সেই পরিবেশ ধরে রাখাই তাদের লক্ষ্য।
ছবি : সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁও-১ উপ নির্বাচনের আগের দিন ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে ‘অসন্তোষের মধ্যে’ জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। আজ বুধবারের এই বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দিন, চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব উপস্থিত রয়েছেন।
১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
উপ নির্বাচন হবে বৃহস্পতিবার; সামনে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হবে; ২১ জানুয়ারি থেকে ২৭ মে পাঁচ ধাপে হবে ভোট। এ বৈঠকে উপ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
১০ জনের প্রতিনিধি দলে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা- ১৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন, মুস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ আরও কয়েকজন আছেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়ে ইতোমধ্যে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটের প্রচারে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনেও ‘নালিশ’ করেছে জামায়াতে ইসলামী।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিরের কক্ষে ঢুকে তাঁকে মারধর করা হয়
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে তাঁর কক্ষের ভেতরে তাঁকে মারধর করা হয়েছে। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি বলেছেন, বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা মব সৃষ্টি করে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।
অধ্যাপক কাজী আহমেদকে মারধর করার ভিডিও ফুটেজ হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কাজী আহমেদ নিজের কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছেন। এ সময় আট থেকে নয়জন লোক তাঁর কক্ষে ঢোকেন। তাঁরা কাজী আহমেদকে চেয়ার থেকে টেনে উঠিয়ে নিয়ে মারধর শুরু করেন।
আইইডিসিআর সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। তাদের কাজ হলো দেশে রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গবেষণা, সতর্কবার্তা দেওয়া ইত্যাদি।
আইইডিসিআর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মতো সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে।
বিএনপি সরকার আসার পর আইইডিসিআরের সর্বোচ্চ পদ, অর্থাৎ পরিচালক পদে অধ্যাপক কাজী আহমেদকে নিয়োগ দেয়। তিনি একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে তিনি গবেষণা করেন।
ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ওর (কাজী আহমেদ) ও তো কিছু দোষ আছে।’
কী দোষ জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে থাকা একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘এই সরকারের সময় কাজী আহমেদ কী করে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে তার (কাজী আহমেদ) নিজের অফিসে বৈঠক করে?’
জনস্বাস্থ্যবিদ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর; রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ছিলেন। তিনি করোনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ব্রিফিং করে বেশ পরিচিতি পান। পরে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান।
কাজী আহমেদকে মারধরের সময় তাঁর কক্ষে উপস্থিত থাকা একজন জনস্বাস্থ্যবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যাঁরা মারধর করেছেন, তাঁদের তিনি আগে কখনো আইইডিসিআরে দেখেননি।
জনস্বাস্থ্যবিদ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন বলেন, আইইডিসিআরে নিজের কক্ষে পরিচালককে মারধর অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। এ ঘটনার তদন্ত হতে হবে, দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে।
প্রতীকী ছবি
ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এই বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এর আগে গত ৬ ও ১৫ অক্টোবর ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ নিয়ে গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৪০০ জন মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৭১ জন। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগে ৮৯৯ জন, বরিশাল বিভাগে ২১৭, চট্টগ্রামে ২৪১, খুলনায় ২৫০, ময়মনসিংহে ৯৭, রাজশাহীতে ২২৯, রংপুরে ১১২ ও সিলেটে ২৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ছয় হাজার ৪১৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ২৩৭-এ। এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ২১ হাজার ৪২২ জন। আর চলতি বছরে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২, ফেব্রুয়ারিতে ২, মে মাসে ১, জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬, আগস্টে ৪৩ এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে ১৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পরই খুলনা বিভাগে ৭৬, চট্টগ্রামে ৩৯, ময়মনসিংহে ৩৩, বরিশালে ২৯, রাজশাহীতে ২৭, রংপুরে ৭ ও সিলেট বিভাগে তিনজন মারা গেছেন।
এদিকে গতকাল হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশু মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন নিশ্চিত হামে মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ২৩২ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৩ শিশুর শরীরে। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী এক হাজার ২৯৫ জন। এ নিয়ে সরকারি হিসাবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মারা গেছে এক হাজার ২৪০ শিশু। এর মধ্যে হামে মৃত্যু হয়েছে ১০৫ শিশুর। বাকি এক হাজার ১৩৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখ ৪৭ হাজার ৩২৫ শিশু।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে দুই লাখ ২৩ হাজার ৭৮৪ জন। এখন পর্যন্ত হামের রোগী পাওয়া গেছে ২৩ হাজার ৫৪১ জন। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ ৯৯ হাজার ১২৭ শিশু। এখন পর্যন্ত হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এক লাখ ৯১ হাজার ৯০ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৭ শিশুর মধ্যে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে দুজন করে, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে একজন করে রয়েছে। নিশ্চিত হামে যে একজনের মৃত্যু হয়েছে, সে ঢাকার বাসিন্দা। আর একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫০৪ জন হাম উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। হামের রোগী পাওয়া গেছে ৬৩ জন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ইউনিক্লোর শীর্ষ নির্বাহীরা
জাপানের বিশ্বখ্যাত পোশাক প্রস্তুতকারক ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর মূল প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিং কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তাদাশি ইয়ানাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বুধবার জাপানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রতি ইউনিক্লোর আস্থা এবং ফাস্ট রিটেইলিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন। সাক্ষাতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে আরও বিনিয়োগের জন্য ইউনিক্লোকে আহ্বান জানানো হয়।
বিশেষ করে ম্যান-মেড ফাইবার (কৃত্রিম তন্তু), টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এবং টেকসই পোশাক উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যে উদ্ভাবন, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ইউনিক্লোর কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। এ ক্ষেত্রে জমির ব্যবস্থা, বিনিয়োগের অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদনপ্রক্রিয়া সহজীকরণে সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন তিনি। বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়নের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে উভয় পক্ষ। এ চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জাপানি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন ফাস্ট রিটেইলিং কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক তাকেশি ওকাজাকি এবং প্রতিষ্ঠানটির গ্রুপ সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ইয়োশিহিরো কুনিই।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জেবিআইসির গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকোর
জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশে জেবিআইসির একটি কার্যালয় খোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এসময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতার জন্য জেবিআইসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিধিবিধান সংস্কার ও সহজীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, জেবিআইসির অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বৈঠকে বাংলাদেশে জেবিআইসির একটি কার্যালয় খোলার অনুরোধ জানানো হলে সংস্থাটির গভর্নর প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।