প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৫ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা হলে এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একটি সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হবে।


তিনি বলেন, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে পঞ্চগড় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ, বন্দরের সরবরাহব্যবস্থা ও পণ্য পরিবহন সুবিধা সম্প্রসারণে সরকার উদ্যোগ নিতে চায়। বৃহস্পতিবার মোংলায় ‘মোংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।


আজ সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময়ে বন্দরপ্রাঙ্গণে তিনি একটি গাছের চারাও রোপণ করেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ জোরদার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।


একই সঙ্গে খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম চালু করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।


তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোংলা বন্দর জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং দেশীয় পণ্য রপ্তানিতে একটি পরিপূরক বন্দর হিসেবে জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে এসব কাজ সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে এবং সারা দেশের জন্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।


তিনি বলেন, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুধু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বন্দরসেবার মান কতটা উন্নত হলো, পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কতটা কমল, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কতটা বাড়ল এবং পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত থাকল, তার ওপরই প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে।


প্রধানমন্ত্রী পরিবেশবান্ধব সেবা ব্যবস্থাপনা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজের নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তার মানদণ্ড অনুসরণ, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।পাশাপাশি বিপজ্জনক কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা, প্রশিক্ষিত জনবল ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।


তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।


এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে বিনিয়োগে আন্তর্জাতিক অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।


তিনি বলেন, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, সহজ সেবা প্রক্রিয়া, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্দরের নাব্যতা, নৌ চ্যানেলের নির্ভরযোগ্যতা, জাহাজের নিরাপদ চলাচল এবং প্রতিযোগিতামূলক বন্দরসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে মোংলা বন্দরকে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। একইসঙ্গে উপযুক্ত বাণিজ্যিক ও পরিচালনাগত শর্তে এটিকে ফার্স্ট কলিং পোর্ট হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।


তিনি আরও বলেন, মোংলা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় খুলনা ও আশপাশের এলাকায় অনেক মিল-কারখানা ছিল। সরকার এ অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া শিল্পঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনতে চায়।


তিনি বলেন, আজকের এ উদ্যোগ দেশের শিল্প-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আস্থা এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নে টেকসই আর্থসামাজিক মূল্য সংযোজন করবে।


বাংলাদেশের অবকাঠামো ও উন্নয়নে চীনের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান।


প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি থেকে কনটেইনারবাহী ট্রেন সরাসরি মোংলা বন্দরে চলাচল করতে পারবে।এতে বন্দরের পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।


অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান দাই হেগেন বক্তব্য রাখেন।


এ সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।



সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন ট্রেড শো অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ পিএম

বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ‘৩০তম মার্কিন ট্রেড শো’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।


স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত ইতিবাচক। বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কৌশলগত সম্পর্ক সময়ের পরিক্রমায় বিকশিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের এককভাবে বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সৈয়দ কামাল হোসেন।


হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩০তম ট্রেড শো যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে জোরালোভাবে উপস্থাপন করে। তিন দশক ধরে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের পথচলা বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে সহজতর করেছে।


তিনি বলেন, এই প্রদর্শনী স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, আইসিটি ও ডিজিটাল অর্থনীতি, ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা, ম্যানুফ্যাকচারিং, শিক্ষা এবং কৃষিব্যবসা খাতে উদ্ভাবনী ধারণাকে তুলে ধরেছে।


স্পিকার জ্বালানি সংকট নিরসনে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানান।


পরবর্তী সময়ে স্পিকার ‘৩০তম ইউএস ট্রেড শো-২০২৬’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।


এই শো বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত অন্যতম প্রধান তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনী। ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তা, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যানসহ নির্বাহী সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

সর্বশেষ সব খবর

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১৩ পিএম

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। 


তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে দিল্লি থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।


বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।


এ সময় চীন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে নিয়ে পরিকল্পিত ত্রিপক্ষীয় করিডোর বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।


তিনি বলেন, এই আঞ্চলিক করিডোরে যুক্ত হতে ঢাকার যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। তবে এর আগে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, লিউ হাইশিংয়ের এই সফরের মধ্য দিয়ে আগামী দিনে চীন ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর ও গতিশীল হবে।


চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের (আইডিসিপিসি) মন্ত্রী লিউ হাইশিং তিন দিনের সফর শেষে বৃহস্পতিবার ঢাকা ছাড়েন।



সর্বশেষ সব খবর

প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৩৯ পিএম

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার ১১টা ১৫ মিনিটে বাগেরহাটের মোংলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানান।


প্রকল্পটির আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে। এর মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং বন্দরসেবার আধুনিকায়ন করা হবে।


এর আগে সকালে এক দিনের সরকারি সফরে খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিতে হেলিকপ্টারে করে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে মোংলায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।


সেখানে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেন।


ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের পক্ষে সংস্থাটির ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনস বিভাগের সদস্য সালেহ আহমেদ এবং চীনা পক্ষের হয়ে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান লি চংইয়াং সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।


এমওইউ অনুযায়ী, দুই পক্ষ জ্বালানি, শিল্প অবকাঠামো, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, পরিবহন, লজিস্টিকস ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করবে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি: পিএমও

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৫৪ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘মোংলা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’


একইসাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ ও চীন একসাথে কাজ করতে চায় উল্লেখ করে মোংলাকে কেন্দ্র করে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে চীনা বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।


বৃহস্পতিবার বাগেরহাটের মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।


এ উপলক্ষে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে আসা উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলের সাথে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ আহ্বান জানান।


প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এসব কথা জানিয়েছেন।


এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।


মধ্যপ্রাচ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য চীনা প্রতিনিধিদলকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।


তিনি দিনটিকে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের উল্লেখ করে দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় এগিয়ে আসায় চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সর্বশেষ সব খবর

বাগেরহাটের মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:০৫ এএম

বাগেরহাটের মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি মোংলা বন্দরের হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।


মোংলায় পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌপরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আসগর লবি এবং খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল।


প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জানান, মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর দুটি কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচি শেষে তিনি বাগেরহাট জেলা সদরে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সড়কপথে খুলনায় যাবেন।


সেখানে জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মসূচি শেষে বিকেল সাড়ে ৪টায় হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরী, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম অরিকুল আলম, প্রটোকল অফিসার কামরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর এডিসি স্কোয়াড্রন লিডার সৈয়দ নাজমুল হোসেন।

সর্বশেষ সব খবর

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৩ এএম

দিনব্যাপী বাংলাদেশ এআই সামিট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ (৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার)। ঢাকার শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই সামিট অনুষ্ঠিত হবে। সামিট উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ যৌথভাবে এই সামিটের আয়োজন করেছে।


গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, সামিটে অংশ নেওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি ছয় হাজার স্টেক হোল্ডার নিবন্ধন করেছেন।


তিনি জানান, দেশের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করতে এবং জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানের এই সামিটটি আয়োজিত হচ্ছে।


তিনি বলেন, চলমান চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এবারের সামিটের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য এআই-করণ”।


মন্ত্রী বলেন, দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম অধিবেশনে দুপুর ১২টায় এআই বিপ্লবের গতিপথ, নীতি, দক্ষতা ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে নীতি-নির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত আলোচনা করবেন। একই সময়ে ‘হল অব ফেম’-এ আয়োজিত দ্বিতীয় অধিবেশনে একাডেমিয়া ও শিল্প খাতের অংশীদারিত্ব জোরদার এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের কৌশলসমূহ উঠে আসবে। পরবর্তীতে দুপুর ৩টায় তৃতীয় অধিবেশনে ‘ডিজিটাল সহকর্মী’ হিসেবে এআই এজেন্টদের ভূমিকা এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে।


সামিটে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানি, প্রযুক্তি প্রদানকারী এবং উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণে মোট ১৪২টি প্রদর্শনী স্টল থাকবে। এতে দেড় শতাধিক স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবনী ধারণা ও প্রজেক্ট প্রদর্শন করবে। পাশাপাশি ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১টি কলেজ)-এর শিক্ষার্থীদের পরিচালিত এআই প্রজেক্ট ও প্রোটোটাইপ প্রদর্শনকারী উদ্ভাবনী স্টল থাকবে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১টি এবং পাকিস্তান থেকে ৪টিসহ মোট ৫টি বিদেশি প্রদর্শক প্রতিষ্ঠান এই সামিটে অংশ নেবে।


ফকির মাহবুব আনাম আরও জানান, সামিটে প্রায় ৬ হাজার দর্শনার্থী ও ২ হাজার আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকবেন, যার মধ্যে ঢাকা চেম্বার ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২০০ জন বিশেষ অতিথি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। দেশি-বিদেশি নীতি-নির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, করপোরেট ব্যক্তিত্ব এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ২৭ জন সম্মানিত স্পিকার ও আলোচক এতে বক্তব্য রাখবেন। 


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ডিসিসিআই-এর এই সুদৃঢ় যৌথ প্রয়াস দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতে দায়িত্বশীল এআই প্রযুক্তির রূপান্তর এবং একটি টেকসই এআই ইকোসিস্টেম গঠনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে মূলত চারটি মূল স্তম্ভ বা পিলারের ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের চর্চা বাড়ানো (স্টেম শিক্ষা), গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও পেপারকে কেবল তত্ত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা সরাসরি বাজারের উপযোগী করা, ইনভেস্টর ও মার্কেটের সাথে গবেষকদের সুদৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরি করা এবং এআই, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি, ন্যানোটেকনোলজি, স্পেস রিসার্চ ও ব্লু-ইকোনমি নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করা। 


এছাড়া দেশে প্রচুর মেধাবী গ্র্যাজুয়েট তৈরি হওয়ায় তাদের কাজে লাগাতে এবং নতুন ড্রাগ ও লাইফস্টাইল পণ্য উদ্ভাবনের জন্য বায়োটেক পার্ক স্থাপনের বড় সুযোগ রয়েছে বলেও বিজ্ঞান সচিব উল্লেখ করেন।

সর্বশেষ সব খবর