স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুর দিনই উত্তপ্ত হয়ে উঠল সংসদ। আজ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্য ঘিরে জাতীয় সংসদে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন-এমন অভিযোগে তীব্র আপত্তি জানান বিরোধী দলের সদস্যরা। বিরোধী দলের আপত্তি, হইচই, হট্টগোলে প্রায় ১০ মিনিট সংসদে কার্যত অচলাবস্থা ছিল।
বিরোধী দলের আপত্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করার কথা জানালেও পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক শান্ত হয়নি। বারবার চেষ্টা করেও পরিস্থিতি শান্ত করতে না পেরে এক পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ ঘটনা ঘটে।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ একটি সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে অভিযোগ করেন, দিনে-দুপুরে ছিনতাই হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের ওপর হামলা হচ্ছে, এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেখানে যাচ্ছেন, তাঁকে কেন্দ্র করে ভুয়া স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলের সদস্যের ওপর হামলার মামলায় আসামি গ্রেপ্তার না করে মিথ্যা মামলায় বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদক্ষেপ জানতে চান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রথম এক মিনিট অমনোযোগী ছিলেন। তাই তিনি প্রশ্নটি আবার করার অনুরোধ করেন।
পরে শফিকুল ইসলাম মাসুদ আবার প্রশ্নটি করেন। জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শাহবাগ স্কয়ারে বক্তৃতা দেওয়া আর পার্লামেন্টে বক্তৃতা দেওয়া এক কথা না।’
এ বক্তব্যে বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি জানান। তাঁরা হইচই করতে থাকেন। অনেকে আসন থেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।
এর আগে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো বুঝতে পারিনি।’
হাসনাতের প্রশ্নের জবাবের সময় কয়েকজন মৃদু আপত্তি জানালেও শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রশ্নের জবাবের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান বিরোধী দলের সদস্যরা।
বিরোধী দলের সদস্যদের আপত্তির মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি কাউকে উদ্দেশ করে বলেননি। তারপরও বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল করতে থাকলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আপনার শেল্টার (আশ্রয়) চাইছি।’
বিরোধী দলের হইচইয়ের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একপর্যায়ে বলেন, তিনি তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করছেন। এরপরও বিরোধী দল প্রতিবাদ অব্যাহত রাখে। হট্টগোলের মধ্যে কথা বলতে না পেরে এক পর্যায়ে বসে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অন্যদিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধী দলের সদস্যদের বারবার বসার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে স্পিকারকে বারবার বলতে শোনা যায়, ‘মাননীয় সদস্যবৃন্দ, হয়েছে তো, অনেকক্ষণ বলেছেন। এখন আপনারা অনুগ্রহ করে বসুন। অনুগ্রহ করে নিজের আসনে বসুন।’
কিন্তু বিরোধীদলের সদস্যরা কেউ স্পিকারের কথা আমলে না নিয়ে হইচই করতে থাকেন। স্পিকার তাঁদের উদ্দেশে বলেন, ‘এইভাবে ঢালাও না বলে মাইকে বললে তো সবাই শুনতে পায়। আপনাদের সুযোগ দেওয়া হবে। যখন সুযোগ পাবেন, মাইকে বলবেন।’
স্পিকার বলেন, ‘এটা তো আওয়ামী লীগের আমল না। এখানে আপনারা ইচ্ছেমতো সরকারকে ক্রিটিসাইজ (সমালোচনা) করতে পারছেন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ, বসুন প্লিজ। অপেক্ষা করুন।’ একপর্যায়ে স্পিকার বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার পর তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে সুযোগ দেবেন।
বিরোধী দলের হইচইয়ের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবার বক্তব্য শুরু করেন। তখন স্পিকার তাঁকে তাঁর (স্পিকার) দিকে তাকিয়ে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। বিরোধী দলের সদস্যরা তখনো দাঁড়িয়ে হইচই করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।
তাঁদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ‘আপনারা কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে রাজি না? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আমি বিরোধী দলের নেতাকে দেব।’
পরে হট্টগোলের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোথায় ছিনতাই হয়েছে, আসামি গ্রেপ্তার হয়নি-এগুলো ঢালাও না বলে সুনির্দিষ্ট করে প্রশ্ন করতে হবে। সে জন্য তিনি বলেছেন এটা জাতীয় সংসদ।
‘উনি নিজেকে কী মনে করেন’
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সুযোগ দেন স্পিকার। বক্তব্যের শুরুতে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাকে আগে সুযোগ দিলে ওনার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) কথাটা শুনতে পেতাম।’
এ সময় সরকারি দলের সদস্যদের কেউ কেউ বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে কিছু বলতে থাকেন। তখন বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বক্তব্য কি আপনি দেবেন, না আমি দেব? আপনি দেন।’
স্পিকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এটা অশুভ। আমার বক্তব্যের সময় যদি এভাবে কমেন্টস করা হয়, তাহলে আমার এখানে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই।’
তখন স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতাকে বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি সম্মানিত সংসদ সদস্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই, আজকে নতুন করে তিনি এই শব্দগুলো উচ্চারণ করেন নাই। সংসদ অধিবেশন যেদিন থেকে বসা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই তিনি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন সবাইকে। উনি নিজেকে কী মনে করেন, আমি বুঝতে পারি না।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এমনকি তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সেই দুঃসাহস এখানে দাঁড়িয়ে দেখিয়েছেন, তিনি বলেছেন যে এই সংসদে তিনি শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসি নাই। শিক্ষকতা করতে হলে তিনি একটা ইউনিভার্সিটি খুলুন, ওখানে যার পছন্দ গিয়ে ভর্তি হবে ওনার লেকচার শুনবে।’
আজকে একই বক্তব্যে দুবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাটাক করে ফেললেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার সঙ্গীরা তো মনে করে, আমি নিজেও মনে করি যে এইটা কালচারাল না, এইটা পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম। এটা হওয়া উচিত না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ এবং তাঁর বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এইটুকু করা হলে বিরোধী দল সংসদ কক্ষে থাকবে, না হলে অপমান নিয়ে এখানে বসার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যকে সমর্থন জানান।
‘সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত’
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় সংসদে জনগণের আশা–আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলন করার জন্য সবাই কাজ করছেন। কার্যপ্রণালি বিধি অনুসরণ করা না হলে সংসদ কার্যকর থাকে না।
স্পিকার বলেন, ‘আমি গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছি, ক্রমেই কিছু কিছু সদস্যের মধ্যে আমি অসহিষ্ণুতা লক্ষ করছি। জাতীয় সংসদ পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এখানে প্রত্যেকেরই কথা বলার স্বাধীনতা আছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য পরীক্ষা করে অসংসদীয় কিছু থাকলে এক্সপাঞ্জ করা হবে জানিয়ে বিরোধী দলের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ‘কিন্তু কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করবেন না। আপনারা যে কয়জন আছেন, তার দ্বিগুণ–তিন গুণ এ পাশে (সরকারি দলে) আছে। সুতরাং শব্দ করে এর বাণীকে স্তব্ধ করা যাবে না। আমাকে সংসদ পরিচালনা করতে দিন।’
পরে বিরোধীদলীয় নেতা স্পিকারের বক্তব্যের জবাবে বলেন, ‘আজকের বিষয়টা একবারে স্পষ্ট। এটা তো আর পরীক্ষা করে দেখার কোনো বিষয় নেই।’ স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, শেষের দিকে কনক্লুশনে গিয়ে একটু বললেন যে এই দিকের চাইতে ওই দিকে তিন গুণ আছেন। এটা তো ভালো লাগল না। আমি এই সংসদকে কোনো গুণে বিভক্ত করার পক্ষে নই। আমরা প্রথম দিক থেকে বলেছি, ভালো কাজে আমরা সবাই এক হব। একসঙ্গে কাজ করব। অন্যায় কিছু হলে আমরা প্রতিবাদ করব।’
পরে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, আমি কিন্তু সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। আজকে যেভাবে একে অন্যকে কথা বলার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার চেষ্টা লক্ষ করেছি, এটি সংসদের জন্য কোনো ভালো লক্ষণ নয়। অনেক কষ্টের পর গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে। এই গণতন্ত্র যাতে বহাল থাকে, সে জন্য সংসদের প্রত্যেক সদস্যের দায়িত্ব এখানে রয়েছে।’
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
এবারের বাংলাদেশ সোলার এক্সপোর মূল প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ।এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩-এর উপনির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এলিজা জামানের শপথগ্রহণ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হওয়ার কথা রয়েছে।নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ সংসদ ভবনস্থ স্পিকারের অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নবনির্বাচিত দুজন সংসদ সদস্যের শপথ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে শনিবার মির্জা ফয়সল আমীনকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।গত ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।
অপরদিকে সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩ এর শূন্য পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এলিজা জামানকে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গত ১ অক্টোবর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়। পরে ১২ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন এ আসনে উপনির্বাচনের তপসিল ঘোষণা করেছিল। তপসিল অনুযায়ী আগামী ১২ নভেম্বর ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও একক প্রার্থী থাকায় আর ভোটের প্রয়োজন হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার ও সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’। দুই দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিনি এ এক্সপোর উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করবেন।
এর আগে রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
মন্ত্রী জানান, ‘ছাদের প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয় বাড়ান’ প্রতিপাদ্যে ৩ ও ৪ নভেম্বর দুই দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এক্সপোটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করা হচ্ছে।
এক্সপো উপলক্ষে সৌরবিদ্যুতের বিভিন্ন দিক, দেশব্যাপী এর ব্যবহার সম্প্রসারণ, জাতীয় জ্বালানি মিশ্রণে সৌরবিদ্যুতের অংশ বাড়ানো এবং বাড়ির ছাদ ও অব্যবহৃত জমিতে সৌর প্যানেল স্থাপনে জনগণকে উৎসাহিত করার বিষয়ে চারটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ঘাটতি কমানো এবং গ্রীষ্মকালে জনদুর্ভোগ ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) বাস্তবায়নে সহায়তা এবং সৌরবিদ্যুতের প্রসারে সরকারি নীতি ও প্রণোদনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ধারণা দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রদর্শনীতে সৌরবিদ্যুৎ খাতের আধুনিক প্রযুক্তি তুলে ধরার পাশাপাশি বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা হবে। এতে নীতিনির্ধারক, সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ ভোক্তারা অংশ নেবেন।
এ ছাড়া সরকারি প্রণোদনা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, কর ও শুল্ক সুবিধা, সবুজ ও জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট, সৌরচালিত সেচব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিভিন্ন বিষয় প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া গতিশীল করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবস্থাপনা অধিকতর জোরদার করার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ পাঁচ সদস্যের ‘কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন দল’ (প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন টিম - পিআইটি) পুনর্গঠন করেছে।
রোববার (১ নভেম্বর) অর্থ বিভাগের বাজেট শাখা-৩ থেকে জারি করা এই সংক্রান্ত বিশেষ প্রজ্ঞাপনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা ও প্রেক্ষাপট
প্রজ্ঞাপনটি গত ২৮ অক্টোবর জারি করা হলেও তা রোববার প্রকাশ করা হয়। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুনর্গঠিত এই দলের মেয়াদ ও কার্যকারিতা ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।
অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আনিছুর রহমান বালীর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটির অনুলিপি এনবিআর চেয়ারম্যানসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রধান দপ্তরসমূহে পাঠানো হয়েছে। মূলত অর্থ বিভাগ প্রণীত ‘সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা’ (পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট - পিএফএম) সংস্কারের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পিএফএম কর্মপরিকল্পনার আওতাধীন ‘কম্পোনেন্ট-২: ডমেস্টিক রিসোর্স মোবিলাইজেশন (ন্যাশনাল বোর্ড অব রেভিনিউ)’ নামক কৌশলগত অংশ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই এই দল পুনর্গঠন করা হয়েছে।
পুনর্গঠিত টিমের সদস্যবৃন্দ
অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ে আধুনিক কৌশল প্রয়োগ ও তদারকি জোরদার করতে এনবিআরের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ৫ সদস্যের এই উচ্চপর্যায় কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন:
* দলনেতা: কাজী লতিফুর রহমান — সদস্য (চলতি দায়িত্ব) (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
* সদস্য: মো. মনিরুজ্জামান — পরিচালক, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), এনবিআর।
* সদস্য: সিরাজুম মুনীর — প্রথম সচিব, কর অডিট, ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন, এনবিআর।
* সদস্য: তারেক হাসান — প্রথম সচিব, কাস্টমস নীতি, এনবিআর।
* সদস্য: নাজমা জ্যাবিন — দ্বিতীয় সচিব, কাস্টমস আধুনিকায়ন ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, এনবিআর।
মূল দায়িত্ব ও প্রত্যাশা
পুনর্গঠিত এই দলটি সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা (পিএফএম) কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে:
* দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের নতুন সম্ভাবনা চিহ্নিত করা।
* কাস্টমস ও কর নীতি আধুনিকীকরণ।
* কর ফাঁকি রোধে সিআইসি ও অডিট শাখার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা।
* কাস্টমস ডিজিটালাইজেশন ও নতুন রাজস্ব নীতি প্রণয়নের কাজ ত্বরান্বিত করা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি পূরণ এবং বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি টেকসই ও স্বনির্ভর রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনবিআরের এই বাস্তবায়ন দল একটি কার্যকর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।
শ্রম ভবনে সংবাদ সম্মেলনে পোশাক শ্রমিকদের কারখানায় গিয়ে কাজে ফেরার আহ্বান জানান শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। সোমবার ঢাকার বিজয়নগরে শ্রম ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তৈরি পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার। এ সময় ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত না থেকেও আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক নেতাদের মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দয়া করে আপনারা কারখানায় ফিরে কাজে যোগ দিন। আমরা আপনাদের ন্যায্য মজুরির জন্য লড়াই করব। প্রয়োজন হলে আন্দোলনে যোগ দিতে আপনাদের ডাকব।’
তিনি বলেছেন, ‘আমরা মজুরি বোর্ডে এমনভাবে কাজ করব, যাতে আগামী জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা বাড়তি মজুরি হাতে পান। এ ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়ার কোনো কারণ নেই। সভা করার অজুহাতে নতুন মজুরি কার্যকরে কোনো বিলম্ব হতে দেব না।’
বাবুল আখতার বলেন, ‘চলমান মজুরি আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অজুহাতে কিছু শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যেসব শ্রমিক ও শ্রমিক নেতা শুধু মজুরি–সংক্রান্ত ন্যায্য দাবি উত্থাপন বা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে আটক হয়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হোক।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শ্রমিক ভাইবোনদের আশ্বস্ত করতে চাই, মজুরি বোর্ডে আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করব। আমরা একা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। সব শ্রমিক ফেডারেশন, কারখানাভিত্তিক ইউনিয়ন এবং সাধারণ শ্রমিকদের মতামত নিয়ে একটি সম্মিলিত অবস্থান তৈরি করতে চাই।’
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকার ও মালিকপক্ষকে বলতে চাই, একটি গ্রহণযোগ্য মজুরিকাঠামো নির্ধারণের জন্য শ্রমিকদের বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, পরিবারের মৌলিক চাহিদা এবং শিল্পের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধি আনোয়ার হোসাইন। আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা নাজমা আক্তার, আবুল হোসাইন, লাভলী ইয়াসমিন, সুলতানা বেগম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, চলমান আন্দোলনে শ্রমিকদের কোনো উপকার হচ্ছে না; বরং এতে তাদের ন্যায্য দাবিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আওয়াজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাজমা আক্তার বলেন, এই পরিস্থিতির কারণে কারখানার মালিকেরা ক্রয়াদেশ হারাচ্ছেন। শ্রমিকদের আন্দোলনে কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করেছে কিনা, তা চিহ্নিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রোববার তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনঃনির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করেছে সরকার। সচিবালয়ে রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। দাবি পূরণ হওয়ায় সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যেতে শ্রমকিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার শ্রমিক নেতা এবং শনিবার তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। দুই পক্ষের আলোচনার পর রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।
ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে বাকি সদস্যরা হলেন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারন সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশেনর যুগ্ন মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও নিরপেক্ষ দুই সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে গত ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়। সেই হিসাবে নভেম্বর মাসে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষণার কথা।
বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কেমিক্যাল খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে অভিযান চালিয়ে ৮১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন কেমিক্যালের সন্ধান পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। রোববার এ অভিযানে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় মেসার্স এমআর ট্রেডার্সের গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে
এনবিআর বলছে, একই সঙ্গে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ৪৫ মেট্রিক টন কেমিক্যালের হদিস দিতে না পারায় সিম ফেব্রিক্স লিমিটেডের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, অভিযানে মেসার্স এমআর ট্রেডার্সের গুদামে সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইটসহ প্রায় ৮১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন কেমিক্যাল ও অন্যান্য কাঁচামাল মজুদ পাওয়া যায়।
তবে এসব পণ্য ক্রয়, আমদানি কিংবা বৈধভাবে মজুদ রাখার কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। পরে মজুদ করা পণ্যসহ গুদামটি সিলগালা করা হয়। অন্যদিকে, সিম ফেব্রিক্স লিমিটেডেও অভিযান চালায় কাস্টমস গোয়েন্দার একটি দল।
প্রতিষ্ঠানটি গত ১৭ অক্টোবর ভারত থেকে বন্ড সুবিধায় ৪৫ মেট্রিক টন সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট আমদানি করে। তবে সরেজমিনে আমদানি করা কেমিক্যালের মজুদ দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা এসব কেমিক্যাল উৎপাদন কাজে ব্যবহার না করে খোলাবাজারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা।
এনবিআর বলছে, একদিকে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কেমিক্যালের হদিস নেই, অন্যদিকে নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের গুদামে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল পাওয়া গেলেও সেগুলোর বৈধ কাগজপত্র নেই। এ দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জব্দ কেমিক্যালের প্রকৃত উৎস, আমদানি ও কেনা-বেচার তথ্য, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার এবং এর মাধ্যমে সরকারের কী পরিমাণ শুল্ক-কর ফাঁকি হয়েছে, তা নিরূপণে তদন্ত চলছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, শুল্কমুক্ত কাঁচামালের অবৈধ বাজারজাতকরণ এবং রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান চলবে।