• প্রকাশ : শনিবার ২০ জুন, ২০২৬, সময় : ৪:৫১ এএম

ইঁদুরে তার কেটে দেওয়ার কারণে ঢাকার কারওয়ান বাজার ও বাংলামোটর সিগন্যালের এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ট্রাফিক ক্যামেরা দুই দিন বা ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। তবে কারিগরি ত্রুটি দূর এবং সংযোগ তার মেরামত করার পর ক্যামেরাগুলো আবার সম্পূর্ণ সচল করা হয়েছে।


এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ দাবি করেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্যটি সঠিক নয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সব এআই ক্যামেরা সচল রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, কারওয়ান বাজারের পর বাংলামোটরের এআই ক্যামেরাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অনেকের মধ্যে ধারণা তৈরি হয় যে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে।


ডিএমপির আইসিটি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম বিশ্লেষক শারমিন আফরোজ গণমাধ্যমকে জানান, কারওয়ান বাজার এলাকায় এআই ক্যামেরা ব্যবস্থার কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। তবে, এটি কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রম স্থগিতের কারণে নয়। মূলত ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো-সংক্রান্ত কিছু কারিগরি কাজ চলাকালে ক্যামেরা ব্যবস্থার সংযোগ তার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে সাময়িকভাবে ক্যামেরাগুলোর কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে।


তিনি জানান, প্রয়োজনীয় মেরামত ও কারিগরি ত্রুটি দূর করার পর ক্যামেরাগুলো আবারও সচল করা হয়েছে। বর্তমানে কারওয়ান বাজার এলাকায় তিনটি এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে এবং আরও একটি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলমান। 


শারমিন আফরোজ বলেন, এআই ক্যামেরা ব্যবস্থা বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। বর্তমানে রাজধানীতে ১১০টি এআই ক্যামেরা সচল রয়েছে। আরও ১০টি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।


তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইঁদুরের তার কেটে দেওয়ার কারণে ঢাকার দুই সিগন্যালের এআই ক্যামেরা দুই দিন বন্ধ ছিল। পরে মেরামত শেষে সেগুলো আবার সচল করা হয়েছে।


ডিএমপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এআইভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থার পরিধি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০৭ পিএম

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ সড়ক। গতকাল শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে পানির ট্যাংক এলাকায় এসে থামল ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা। আরোহী ছিলেন দুই নারী। একজন ব্যাগ থেকে ভাড়ার টাকা বের করছিলেন, অন্যজন তাকাচ্ছিলেন চারদিকে। সড়ক ও ফুটপাতজুড়ে কোথাও কোনো দোকান নেই, নেই হকার বা ভ্রাম্যমাণ কোনো বিক্রেতাও।


চারপাশ এতটাই ফাঁকা যে রিকশা থেকে নামবেন কি না, তা নিয়েও যেন খানিকটা দ্বিধায় পড়েছিলেন তাঁরা। কারণ, এত দিনের চেনা জায়গাটি যেন ভিন্ন রূপ নিয়েছে।


শেষ পর্যন্ত ভাড়া মিটিয়ে রিকশা থেকে নামলেন দুজন। এগিয়ে গিয়ে কথা বলে জানা গেল, তাঁরা এসেছেন মিরপুর ১০-এর হোপ মার্কেটে কাপড় কিনতে। অতীতেও এখান থেকে কাপড় কিনেছেন; কিন্তু পরিচিত এই জায়গায় এসে দোকানপাটের কোনো চিহ্ন না দেখে অবাক হয়েছেন। গত বুধবার ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফুটপাত ও সড়ক থেকে হকার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হয়েছে-এ তথ্য তাঁদের জানা ছিল না।


এলাকাটিতে হোপ প্লাজা নামের একটি ভবন আছে। এর আশপাশের সড়ক ও ফুটপাতে এত দিন ভ্রাম্যমাণ যে বাজার বসত, তা হোপ মার্কেট নামে পরিচিতি পায়।


গতকাল কেনাকাটা করতে আসা দুই নারীই ছিলেন শিক্ষার্থী। রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় একটি ছাত্রীনিবাসে থাকেন। তাঁদের একজন সুরাইয়া মিম, অন্যজন নওশীন জাহান। হোপ মার্কেটে এসে কেনাকাটা করতে না পেরে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তবে ফুটপাত ও সড়কের সুন্দর ফাঁকা অবস্থা দেখে ভালো লাগছে বলেও তাঁরা জানান।


সুরাইয়া মিম বলেন, এত দিন এই সড়ক যে এতটা প্রশস্ত এবং পাশে হাঁটার জন্য ফুটপাত আছে, তা বোঝারই উপায় ছিল না।


নওশীন জাহান বলেন, ফুটপাত ও সড়কজুড়ে হকারদের দোকানের কারণে এখানকার বাসিন্দাদের যে কী পরিমাণ ভোগান্তি হতো, তা এখন ফাঁকা জায়গাটি দেখে বোঝা যাচ্ছে।


গতকাল বিকেলে হোপ মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কে কোনো ভ্রাম্যমাণ দোকান নেই। ফুটপাতও ফাঁকা। মাথার ওপর ছাউনির মতো কাঠ-বাঁশের সঙ্গে বেঁধে রাখা পলিথিন বা ত্রিপলও নেই। প্রশস্ত ফুটপাত দিয়ে স্বচ্ছন্দে হাঁটছেন পথচারীরা। সড়কও দেখাচ্ছে খোলামেলা। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের দিকে কয়েক কিলোমিটার এলাকা ঘুরেও একই চিত্র দেখা যায়। হোপ মার্কেটসহ আশপাশের সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকারদের দোকানপাট সরে গেছে।


বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। একপর্যায়ে হকার ও দোকানিদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের মধ্যে ডিএনসিসির তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার হন গণমাধ্যমকর্মীরাও।


পরে দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে যান ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তাঁর উপস্থিতিতে মিরপুর ১০ থেকে মিরপুর ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়।


গোলচত্বর থেকে বিআরটিএ পর্যন্ত এখন ফাঁকা


অভিযানের আগে হোপ মার্কেটকে কেন্দ্র করে মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ১১/১ ও ১১/২ নম্বর লেন, বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পাশের ফুটপাত, মিরপুর আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২-এর সড়ক ও ফুটপাতের বড় অংশ দখলে ছিল হকারদের। ফুটপাতের সীমানাদেয়ালের সঙ্গে বাঁশ ও কাঠ বেঁধে পলিথিন ও ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে দোকান বসানো হয়েছিল। মূল সড়কের ভেতরেও দুই থেকে তিন সারিতে বসানো হয়েছিল অস্থায়ী দোকান। এসব দোকানে মূলত নারী ও শিশুদের পোশাক, জুতা, অলংকার, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হতো। ছিল ফুচকা, চটপটি ও ভাজাপোড়া খাবারের দোকানও।


সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ থেকে ৬ নম্বর লেন পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের পুরোটাই দখলে ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। গতকাল সরেজমিন সেখানে কোনো দোকান দেখা যায়নি। বুধবার ভেঙে দেওয়া দোকানের বাঁশ, কাঠ ও ত্রিপলের অংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।


চার বছরের ছেলে আফসারকে নিয়ে ফুটপাত দিয়ে হাঁটছিলেন ফরিদা বেগম। ৬ নম্বর লেনের একটি বাসায় প্রায় দুই বছর ধরে থাকেন তিনি। ফরিদা বলেন, ‘আগে এই রাস্তা ও ফুটপাত দিয়ে হেঁটে চলার উপায় ছিল না। বিশেষ করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার প্রচুর ভিড় থাকত। এখন নির্বিঘ্নে হাঁটতে পারছি। ছেলেও নিজে নিজেই হাঁটছে।’


হোপ মার্কেটের পাশের বি ব্লকের ১১/২ নম্বর লেনের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কী যে একটা যন্ত্রণার মধ্যে ছিলাম! আর এখন কী যে ভালো লাগছে, বলে বোঝানো যাবে না। এখন বাসা থেকে বের হয়ে শান্তি লাগছে।’


এই ফুটপাত-সড়ক এমনই দখলমুক্ত থাকুক- এমন প্রত্যাশা করে রফিকুল বলেন, সিটি করপোরেশন যেন এদিকে দৃষ্টি রাখে। আবারও অবৈধ কোনো দখলদারের কবলে না পড়ে ফুটপাত-সড়ক।

সর্বশেষ সব খবর

সভাপতি রাশেদ ও সম্পাদক হুমায়ূন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৯ পিএম

ঢাকার স্থানীয়দের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ঢাকা সাংবাদিক ফোরামের (ডিএসএফ) নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি পদে রাজধানী টেলিভিশনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক কালবেলার বিশেষ প্রতিনিধি মো. হুমায়ূন কবীর নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও নতুন কমিটি গঠন করা হয়। ২০২৬-২৮ মেয়াদে আগামী দুবছরের জন্য ২১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।


নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করেন বিশিষ্ট কবি, শিশুসাহিত্যিক ও দৈনিক আগামীর সময়ের ডিরেক্টর-ক্লাব অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সাইদুজ্জামান রওশন (দন্ত্যস রওশন)।


নতুন কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন এনটিভির জাহিদ রহমান, সহ-সভাপতি পদে দৈনিক সংগ্রামের এ কে এম কামরুজ্জামান (হিরু), সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মানবজমিনের রাশিম মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মাসুদ রানা, অর্থ সম্পাদক পদে প্রেসেঞ্জা ইন্টারন্যাশনাল প্রেস এজেন্সির মাকসুদা লিসা, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের মো. রাশেদ নিজাম, দপ্তর সম্পাদক পদে একুশে টেলিভিশনের আফসানা জাহান নীলা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে সাপ্তাহিক সাফকথার মো. মাহমুদুর রশিদ, ক্রীড়া সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে এনটিভির ইয়াসির আরাফাত (কুশল), তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশনের আল মোহাইমিনুল খান, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক পদে আজকের দৈনিকের মো. আবুল কাশেম, আইন ও কল্যাণ সম্পাদক পদে চ্যানেল এসের মিঠুন সরকার, নারী বিষয়ক সম্পাদক পদে দ্য বিজনেস ফাইলের সৈয়দা রিমি কবিতা নির্বাচিত হয়েছেন।


এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য পদে বাসসের মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন (লিটন), এখন টিভির শাহরিয়ার জামান দীপ, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমের দেলোয়ার হোসেন বাদল, এগ্রি নিউজ টোয়েন্টিফোর.কমের মো. খোরশেদ আলম জুয়েল, ডিবিসি টেলিভিশনের হোমায়রা মাহমুদা ফারুকী ও দৈনিক মানবজমিনের আনোয়ার হোসেন পিন্টু নির্বাচিত হয়েছেন।


সাধারণ সভায় ডিএসএফের গঠনতন্ত্রে কিছু পরিবর্তন আনার সুপারিশ করা হয় এবং তা পাস হয়।


দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তারা ঢাকার ঐতিহ্য তুলে ধরতে এবং সবার জন্য বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে ঢাকা সাংবাদিক ফোরামকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে কাজ করার আহ্বান জানান।

সর্বশেষ সব খবর

উদ্ধার হওয়া ঘণ্টা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১৭ পিএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সেন্ট পল স্কুল অ্যান্ড চার্চের প্রায় ৭০ কেজি ওজনের একটি পিতলের ঘণ্টা চুরির পর তা উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটে জাকির হোসেন রোডের একটি ময়লার ডাস্টবিনের পাশ থেকে সাদা পলিব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় ঘণ্টাটি উদ্ধার করা হয়।


মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, গত বুধবার রাত ১২টার পর যেকোনো সময় ৯২ আসাদ অ্যাভিনিউয়ে ওয়াসা ভবনের সামনে অবস্থিত সেন্ট পল স্কুল অ্যান্ড চার্চের দোতলার ঘণ্টাটি চুরি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনার আগে রাত ১২টা ৩ মিনিট থেকে চার্চের সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডিং বন্ধ ছিল। তবে কী কারণে ওই সময় থেকে সিসিটিভির রেকর্ডিং বন্ধ ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


ওসি আরও বলেন, ঘটনার পর চুরি হওয়া ঘণ্টা উদ্ধার ও জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করে। পুলিশের অভিযানের মুখে চোর বা চোরচক্র ঘণ্টাটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডের ময়লার ডাস্টবিনের পাশ থেকে সাদা পলিব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় সেটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় ঘণ্টাটি অক্ষত ছিল।


পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা ঘণ্টাটি থানা-হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান। চুরির আগে সিসিটিভি রেকর্ডিং বন্ধ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

সর্বশেষ সব খবর

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৩৪ পিএম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি-সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব।


বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, মামলার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মামলার এজাহারে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট (বিজি-৩৩৮) বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিপুল যাত্রীর চাপ সৃষ্টি হয়। এ সময় ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি-সংকট দেখা দেয় এবং যাত্রীরা লাগেজ পেতে বিলম্বের মুখে পড়েন। এতে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যাত্রীদের ক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্যে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালককে ‘আমি কিন্তু পিটাব ধইরা’ এবং ‘ঘাড় ধরে বের করে দেব’ বলে হুমকি দেন। একই সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী সম্পর্কেও অশালীন মন্তব্য করেন তিনি।


এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত (কেপিআই) এলাকায় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। সেখানে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের ভিডিও ধারণে নিষেধ করেন। এতে আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।


এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।


মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে স্পর্শকাতর ও সংরক্ষিত বিমানবন্দর এলাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।


পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৫ পিএম

রাজধানীর মিরপুরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসন প্রকল্পের একটি ভবনের লিফট ছিঁড়ে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের আগারগাঁওয়ের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পূর্নবাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়া হয়েছে। আহতরা হলেন- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক কর্মচারী মোস্তাফিজুর রহমান (৬২), নাইস আহমেদ (৪০) ও তার ছেলে ওয়াসি (৮)। তাদের মধ্যে নাইস আহমদের দুটি পা ভেঙে গেছে। 


ভবনের বাসিন্দা সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, সকাল ৬টার দিকে পাইকপাড়া আনসার ক্যাম্পের কাছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন প্রকল্পের ১ নম্বর ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ফজরের নামাজের পর ভবনের পাঁচ তলার তিন বাসিন্দা লিফটে ওঠেন। কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দে লিফটটি ছিঁড়ে পড়ে। শব্দ শুনে দারোয়ান সেখানে গিয়ে লিফটের ভেতরে চিৎকার শুনতে পান। পরে আশপাশের কয়েকজন গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।


ভবনের আরেক বাসিন্দা অর্থ বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমির চন্দ্র শীল অভিযোগ করেন, লিফটটি প্রায়ই অচল থাকে। মাঝেমধ্যে সামান্য মেরামত করে চালানো হচ্ছে। এটি যে অত্যন্ত ঝুঁকিপুর্ণ এই দুর্ঘটনাই তার প্রমাণ। লিফটের বিষয়টি কয়েকবার গণপূর্ত বিভাগের কাছে চিঠি দিয়ে জানানো হলেও তারা কর্ণপাত করেনি।


মিরপুর থানা পুলিশ বলছে, এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

সর্বশেষ সব খবর

খেলনার আড়ালে আমদানি কোটি টাকার ১৯৮০ ড্রোন জব্দ

কমলাপুর আইসিডি কাস্টমসের অভিযান


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৯ পিএম

খেলনার আড়ালে অবৈধভাবে আমদানি করা প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ১ হাজার ৯৮০টি ড্রোন জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। গতকাল বুধবার রাজধানীর কমলাপুর আইসিডি কাস্টমসের অভিযানে এই চালানটি ধরা পড়ে। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।


এতে বলা হয়, চকবাজারের ‘মিম কালেকশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান রিমোট কন্ট্রোল খেলনা আমদানির কথা বলে এই চালানটি আনে। কিন্তু কাস্টমস কমিশনারের কাছে থাকা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর চালানটি পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ঘোষণার সঙ্গে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। তখনই বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। দেখা যায়, খেলনার আড়ালে ঘোষণা ছাড়াই আনা হয়েছে প্রায় ৬৫৬ কেজি ওজনের ১৯৮০ পিস অবৈধ ড্রোন।


চালানটি বিল অব এন্ট্রি নম্বর-১২৩৬৭, তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এর মাধ্যমে আমদানি করা হয়। এতে পণ্য হিসেবে রিচার্জেবল রিমোট কন্ট্রোল (আরআরসি) খেলনা ঘোষণা করা হয়েছিল।


এনবিআর বলছে, আটক ড্রোনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজস্ব ও প্রযোজ্য জরিমানা আদায় করা হবে। একই সঙ্গে ড্রোনগুলোর উড্ডয়নসীমা এবং সংশ্লিষ্ট দলিলাদি যাচাই করা হবে। যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা 


কাস্টমস আইন, ২০২৩ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী এ ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


এ ব্যাপারে কাস্টম হাইজ আইসিডি, ঢাকার কমিশনার কাজী মুহাম্মদ জিয়াউদ্দীন বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী আমদানি নীতি পরিপন্থি পণ্য আমদানি ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে কাস্টমস হাইজ আইসিডি, ঢাকা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর