ইশরাক হোসেন।

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২২ পিএম

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের অংশ নেওয়ার ঘটনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন তিনি।


‘মাদকবিরোধী সংগ্রামের ষোলকলা পূর্ণ করা হবে’ হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন থেকে মাদকের আস্তানাগুলো বাঁশের লাঠি দিয়ে ধ্বংস করবেন। আর পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবে, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাবে।


রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ৮টা ১৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।


পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কিছু নামকরা গণমাধ্যমের নামকরা আইনজীবী প্যানেল দিয়ে আইন এর ধারা স্পষ্ট করে ব‍্যাখা নেয়ার সামর্থ্য আছে এবং আমার বিশ্বাস তারা সে চর্চা করেও।’


তিনি আরও লেখেন, ‘সব জেনে শুনে বুঝেও তাদের খবরের ধরন দেখে মনে হচ্ছে ঘুন্টিঘরে মাদকের এক্সক্লুসিভ সাপ্লায়ার ছিলো এরা। তাই আমার অভিযানের পর বন্য পশুর মতো আচরণ করছে।’


মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী লেখেন, ‘ওয়েট অ্যান্ড সি। সব মাদকের আখড়া (যারা হয়তো এই পেপারগুলোকে অর্থায়ন করে) ওগুলা মাটির সাথে মেশানো হবে।’


নিজের অস্ত্র বহনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যে বৈধ লাইসেন্স করা অস্ত্র ছিলো। এখন থেকে এই আস্তানাগুলো বাঁশের লাঠি দিয়ে ধ্বংস করবো। পুলিশ দাঁড়ায় দাঁড়ায় দেখবে, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে করে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাবে। মাদকবিরোধী সংগ্রামের ১৬ কলা পূর্ণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।’


এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কয়েকজনকে ধরতে বলছেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরাও কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান। ভিডিওতে একজনকে গুলি করার হুমকি দিতে শোনা যায়। এ ছাড়া একজন দেহরক্ষীকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়।


ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা ব্যক্তিগত অস্ত্র হাতে নিয়ে কাউকে আটক করতে কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না।


এদিকে এ ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে। রোববার ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২৬ পিএম

রাজধানীর গ্রিনরোড সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের দুই নম্বর খেলার মাঠসংলগ্ন ‘সকালের হাট-বাজার’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।


রোববার (১৮ অক্টোবর) থেকে বাজারটি বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। আবাসিক এলাকার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ এবং খেলার মাঠের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার কথা জানিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্রিনরোড এস্টেট সরকারি কর্মচারী সমাজকেন্দ্র।


শনিবার ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম দেখতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর এক দিন পরই গ্রিনরোড সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের বাজার বন্ধের ঘোষণা এলো।


সমাজকেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক পরিবেশ সংরক্ষণ, আবাসিক এলাকার পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ, বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাফেরা নিশ্চিত করা এবং ক্রীড়া ও বিনোদনস্থল সচল রাখার বিষয়ে দেওয়া নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ১৮ অক্টোবর থেকে ওই স্থানে কোনো ধরনের অস্থায়ী দোকানপাট বসানো, হাট-বাজার পরিচালনা কিংবা বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ছাড়া কোয়ার্টারের অভ্যন্তরে এবং উভয় পাশের ফুটপাতেও কোনো দোকানপাট বসতে পারবে না। বাসিন্দাদের চলাচল, খেলার মাঠের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা এবং শিশুদের খেলাধুলার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।


এ বিষয়ে গ্রিনরোড এস্টেট সরকারি কর্মচারী সমাজকেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, কোয়ার্টারের ভেতরে বসা বাজারটির কারণে আবাসিক এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছিল। বাজারে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকত, দুর্গন্ধ ছড়াত এবং পলিথিনসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যের স্তূপ তৈরি হতো।


সরকারি আবাসিক কোয়ার্টারের ভেতরে এভাবে বাজার বসানো ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নজরুল ইসলাম বলেন, বাজারের কিছু সবজি ব্যবসায়ী সরকারি কোয়ার্টারে সাবলেট হিসেবেও থাকেন।


বাজার বন্ধের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের এসডি ও এসও পর্যায়ের কর্মকর্তারা মৌখিকভাবে তাদের জানিয়েছেন, বাজারটি কলোনির পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত চিঠি দেওয়া হয়নি।


উল্লেখ্য, শনিবার সকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনের অংশ হিসেবে ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাইস্কুল, গ্রিনরোড সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন এলাকা ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি কয়েকটি হাসপাতালও পরিদর্শন করেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০৯ পিএম

রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্টহাউজে অভিযান চালিয়ে ২২৩ বোতল বিদেশি মদ ও ২০৯ বোতল-ক্যান বিয়ার জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ‘সেভেনটি এইট রেস্টহাউজ সোসাইটি’ নামের প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো বার লাইসেন্স ছাড়াই বিদেশি মদ মজুত ও বিক্রি করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। 


এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার আতাউর রহমান শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৩০ মিনিটে গুলশান-২-এর ১০৪ নম্বর সড়কের ২৪ নম্বর বাসায় অবস্থিত রেস্টহাউজটিতে অভিযান চালানো হয়। ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা মদের পরিমাণ ১৭৭ লিটার। এ ছাড়া ৬৭ লিটার বিয়ার জব্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জব্দ করা মদ ও বিয়ারের পরিমাণ ২৪৪ লিটার।


ডিএনসি জানায়, ‘জার্মান ক্লাব’ নামে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে বিদেশি মদ মজুত ও পাইকারি এবং খুচরা বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি মূলত সেভেনটি এইট রেস্টহাউজ সোসাইটি। সেখানে ‘জার্মান ক্লাব’ নামে কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


অভিযানের সময় রেস্টহাউজটির ম্যানেজার মো. আতাউর রহমান শামীমকে আটক করা হয়। পরে অবৈধভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে মদ মজুত ও সংরক্ষণের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা মদ ও বিয়ারের বৈধতার পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।


ডিএনসির প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের কাছে অবৈধভাবে বিদেশি মদ, বিয়ারসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তে অনুসন্ধান চলছে।


ডিএনসি জানায়, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মো. ওমর জামিল নামে আরেক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অভিযানের সময় তিনি উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে পলাতক আসামি হিসেবে মামলা করা হয়েছে।


ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদ হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ডিএনসির প্রধান কার্যালয়, ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় এবং ঢাকা মেট্রো উত্তর ও দক্ষিণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।


এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আতাউর রহমান শামীম, পলাতক ওমর জামিল এবং অজ্ঞাতনামা অন্যদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গুলশান থানায় মামলা করা হয়েছে। জব্দ করা আলামত ও রাসায়নিক পরীক্ষার নমুনা ডিএনসির হেফাজতে রয়েছে।


কামরাঙ্গীরচর সরকারি হাসপাতালের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ব্যানার ও পোস্টার প্রদর্শন এবং লিফলেট বিতরণ করা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৫ পিএম

ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার রোধে প্রত্যেক নাগরিক ও পরিবারকে সপ্তাহে দু’দিন কমপক্ষে আধা ঘণ্টা করে নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 


সরকারপ্রধানের এই নির্দেশনা অনুযায়ী রাজধানী ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে সচেতনতামূলক প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। কামরাঙ্গীরচর সরকারি হাসপাতালের পক্ষ থেকে এই প্রচারণা চালানো হয়। 

ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার হতে পারে, এমন জায়গাগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় 
হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট তাহমিনা হাসানের নেতৃত্বে কামরাঙ্গীরচর, লালবাগসহ বিভিন্ন জায়গায় সচেতনতামূলক ব্যানার ও পোস্টার প্রদর্শন এবং লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। 
 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ঢাকা সিভিল সার্জন অফিসের প্রচারণায় কামরাঙ্গীরচরে ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার হতে পারে, এমন জায়গাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। 


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০১ এএম

প্রায় সময় বিভিন্ন প্রয়োজনে কেনাকাটার জন্য আমাদের মার্কেটে বা দোকানে যেতে হয়। তবে রাজধানীতে প্রতিদিনই কোনও না কোনও মার্কেট বন্ধ থাকে। তাই এ বিষয়ে আগে থেকে জানা থাকলে সুবিধা হয়, নয়তো অনেক সময় বিপাকে পড়তে হয়। তাই দেখে নেয়া যাক  বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর যেসব এলাকার দোকানপাট, শপিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।


যেসব মার্কেট বন্ধ থাকে


মোহাম্মাদপুর টাউন হল মার্কেট, কৃষি মার্কেট, আড়ং, বিআরটিসি মার্কেট, শ্যামলী হল মার্কেট, মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেট, মাজার করপোরেট মার্কেট, মুক্ত বাংলা শপিং কমপ্লেক্স, শাহ্ আলী সুপার মার্কেট, মিরপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, আনারকলি মার্কেট, আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স, কর্নফুলি গার্ডেন সিটি, কনকর্ড টুইন টাওয়ার, ইস্টার্ন প্লাস, সিটি হার্ট, জোনাকি সুপার মার্কেট, গাজী ভবন, পল্টন সুপার মার্কেট, স্টেডিয়াম মার্কেট-১ ও ২, গুলিস্থান কমপ্লেক্স, রমনা ভবন, খদ্দর মার্কেট, পীর ইয়ামেনি মার্কেট, বাইতুল মোকাররম মার্কেট, আজিজ কো-অপারেটিভ মার্কেট, সাকুরা মার্কেট।


যেসব এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকে


মোহাম্মাদপুর, আদাবর, শ্যামলী, গাবতলী, মিরপুর স্টেডিয়াম, চিড়িয়াখানা, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, আসাদগেট, ইস্কাটন, মগবাজার, বেইলি রোড, সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগের একাংশ, শাজাহানপুর, শান্তিনগর, শহীদবাগ, শান্তিবাগ, ফকিরারপুল, পল্টন, মতিঝিল, টিকাটুলি, আরামবাগ, কাকরাইল, বিজয়নগর, সেগুনবাগিচা, হাইকোর্ট ভবন এলাকা, রমনা শিশু পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা।


  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৪ পিএম

রাজধানীর দক্ষিণখানের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সী মার্কেট, মুক্তিযোদ্ধা রোড ও ফরিদ মার্কেট এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে সোহরাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও তুলেছেন অভিযোগকারীরা। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।


এ ছাড়া উত্তরা ও দক্ষিণখান এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, মাদক ব্যবসা ও কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রমের সঙ্গে কারা জড়িত, কেউ এসব কর্মকাণ্ডে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন কি না এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।


অভিযোগের বিষয়ে সোহরাব উদ্দিনের মুঠোফোনে (০১৮৩০০৯৬১৪৭)  যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন গুলশানে আছেন বলে ফোন কেটে দেন । এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।


*ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ


অভিযোগকারীদের দাবি, পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকার কথা উল্লেখ করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাপ প্রয়োগ করা হয়। এ ছাড়া মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে হয়রানির অভিযোগও করেছেন তাঁরা।


*বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা


অভিযোগকারীরা বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তা তদন্ত করে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।


একই সঙ্গে দক্ষিণখানের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।


অভিযোগকারীদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


ফুটপাতে মারধরের এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৭ পিএম

রাজধানীর ফুটপাতে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, দুই পুলিশ সদস্যের সামনেই এক ব্যক্তিকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারা হচ্ছে এবং পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ সদস্যরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। 


নেটিজেনদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে—আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই সংস্কৃতি এবং পুলিশের এমন নিষ্ক্রিয়তা কেন দেখা গেল? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পেছনে রয়েছে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ। 


ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার দুপুরে ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে অবস্থিত বেসরকারি বাংলাদেশ আই হসপিটালের উল্টো দিকে। ভুক্তভোগী ২৩ বছরের এক তরুণীর অভিযোগ, শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ রানা (৪৮) নামের এক ব্যক্তি তাকে ‘ব্যাড টাচ’ বা শ্লীলতাহানি করেন। তরুণী তৎক্ষণাৎ বিষয়টি সেখানে দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্যকে জানালে তারা লোকটিকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক না করে ধানমন্ডি থানায় গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেন। এরপর ভুক্তভোগী তরুণী তার মামাকে ফোন করে ঘটনাটি জানান।


ভাগনির ওপর শ্লীলতাহানির খবর শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তরুণীর মামা। তিনি অভিযুক্ত শহীদ আবদুল্লাহকে পেয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করেন এবং কান ধরে ওঠবস করান। সেই মারধরের ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। 


ভিডিওটিতে দেখা যায়, উত্তেজিত জনতার ভিড়ের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা এগিয়ে যাননি। ফেসবুকে অনেকে পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে বিচার করার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।


ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন পেয়ে ধানমন্ডি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ রানাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযুক্তকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠান। বিচারকের কাছে তরুণীকে শ্লীলতাহানির কথা স্বীকারও করেন ওই ব্যক্তি।


ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা যুবকটিও অপরাধ করেছেন। তাঁকে পুলিশ খুঁজছে। 


ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুই পুলিশ সদস্যের ভূমিকা প্রসঙ্গে ওসি জানান, উত্তেজিত জনতার মারমুখী ও উগ্র আচরণের কারণে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাননি। তবে ওই দুই পুলিশ সদস্যের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।


পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাজাপ্রাপ্ত শহীদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা। তিনি অতীতে এমবিবিএস পড়ার সময় মানসিক রোগে আক্রান্ত হন এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। তার বিয়ে হয়েছিল। তবে অনেক আগেই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছেন।