ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
ঢাকার যানজট নিরসনে অন্যতম বড় অবকাঠামো প্রকল্প এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। এরইমধ্যে চালু হওয়া এই এক্সপ্রেসওয়েতে যুক্ত হচ্ছে আরও চারটি নতুন র্যাম্প।
প্রস্তাবিত এসব র্যাম্প গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টকে সরাসরি সংযুক্ত করবে মূল এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে। সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগ বলছে, পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কে একটি র্যাম্প, মহাখালী বাস টার্মিনালে একটি র্যাম্প, রামপুরা, আফতাবনগর ও খিলগাঁওকে যুক্ত করতে একটি এবং
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের শেষ প্রান্তে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য আরেকটি র্যাম্প নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।
এদিকে, নতুন র্যাম্প চালু হলে নগরবাসীর যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন ব্যবহারকারীরা। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে উতরে গেলে তবেই চান বাস্তবায়ন।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল এক্সপ্রেসওয়েতে ধারণ ক্ষমতা যাচাই, র্যাম্প সংযোগস্থলে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ, লেন ব্যবস্থাপনা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে আধুনিক ট্রাফিক ডিজাইন অপরিহার্য। একই সঙ্গে প্রয়োজন জনসচেতনতা ও পর্যাপ্ত সাইনেজ।
বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, র্যাম যুক্ত করলে সেখানে ট্রাফিক উঠবে। কিন্তু আমার মাথায় রাখতে হবে এক্সপ্রেসওয়ের যে মূল, সেটার সক্ষমতা আছে কি না।
আমি যখন লোকাল ট্রাফিককে উঠতে দিব। আমার মূল যে অবকঠামো আছে, তার হজম করার সক্ষমতা আছে কি না? নতুন করে যে র্যাম্প যুক্ত হওয়া, সেটা করতে গেলে আবার নকশা করতে হবে।
তার আগে আমার ফিজিবিলিটি স্টাডি দরকার। তারপরে ডিটেইল ডিজাইন এবং সে অনুযায়ী কাজটা আমাদের করতে হবে। এই বিষয়গুলো কিন্তু আসলে পুঙ্খানভাবে চিন্তা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি যেখানেই র্যাম্প যুক্ত করছি নিচের সড়কের সঙ্গে, সেই সড়কের সক্ষমতা আছে কি না, সেখানে আবার নতুন করে যানজট তৈরি হবে কি না- এসব মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।
৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটারের ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে এরইমধ্যে ৩১টি র্যাম্প বসানো হয়েছে। এর বাইরে নতুন করে আরও চারটি র্যাম্প বসানোর আগে পরীক্ষার ওপরই জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
সভাপতি রাশেদ ও সম্পাদক হুমায়ূন
ঢাকার স্থানীয়দের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ঢাকা সাংবাদিক ফোরামের (ডিএসএফ) নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি পদে রাজধানী টেলিভিশনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক কালবেলার বিশেষ প্রতিনিধি মো. হুমায়ূন কবীর নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও নতুন কমিটি গঠন করা হয়। ২০২৬-২৮ মেয়াদে আগামী দুবছরের জন্য ২১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।
নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করেন বিশিষ্ট কবি, শিশুসাহিত্যিক ও দৈনিক আগামীর সময়ের ডিরেক্টর-ক্লাব অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সাইদুজ্জামান রওশন (দন্ত্যস রওশন)।
নতুন কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন এনটিভির জাহিদ রহমান, সহ-সভাপতি পদে দৈনিক সংগ্রামের এ কে এম কামরুজ্জামান (হিরু), সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মানবজমিনের রাশিম মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মাসুদ রানা, অর্থ সম্পাদক পদে প্রেসেঞ্জা ইন্টারন্যাশনাল প্রেস এজেন্সির মাকসুদা লিসা, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের মো. রাশেদ নিজাম, দপ্তর সম্পাদক পদে একুশে টেলিভিশনের আফসানা জাহান নীলা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে সাপ্তাহিক সাফকথার মো. মাহমুদুর রশিদ, ক্রীড়া সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে এনটিভির ইয়াসির আরাফাত (কুশল), তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশনের আল মোহাইমিনুল খান, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক পদে আজকের দৈনিকের মো. আবুল কাশেম, আইন ও কল্যাণ সম্পাদক পদে চ্যানেল এসের মিঠুন সরকার, নারী বিষয়ক সম্পাদক পদে দ্য বিজনেস ফাইলের সৈয়দা রিমি কবিতা নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য পদে বাসসের মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন (লিটন), এখন টিভির শাহরিয়ার জামান দীপ, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমের দেলোয়ার হোসেন বাদল, এগ্রি নিউজ টোয়েন্টিফোর.কমের মো. খোরশেদ আলম জুয়েল, ডিবিসি টেলিভিশনের হোমায়রা মাহমুদা ফারুকী ও দৈনিক মানবজমিনের আনোয়ার হোসেন পিন্টু নির্বাচিত হয়েছেন।
সাধারণ সভায় ডিএসএফের গঠনতন্ত্রে কিছু পরিবর্তন আনার সুপারিশ করা হয় এবং তা পাস হয়।
দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তারা ঢাকার ঐতিহ্য তুলে ধরতে এবং সবার জন্য বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে ঢাকা সাংবাদিক ফোরামকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে কাজ করার আহ্বান জানান।
উদ্ধার হওয়া ঘণ্টা
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সেন্ট পল স্কুল অ্যান্ড চার্চের প্রায় ৭০ কেজি ওজনের একটি পিতলের ঘণ্টা চুরির পর তা উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটে জাকির হোসেন রোডের একটি ময়লার ডাস্টবিনের পাশ থেকে সাদা পলিব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় ঘণ্টাটি উদ্ধার করা হয়।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, গত বুধবার রাত ১২টার পর যেকোনো সময় ৯২ আসাদ অ্যাভিনিউয়ে ওয়াসা ভবনের সামনে অবস্থিত সেন্ট পল স্কুল অ্যান্ড চার্চের দোতলার ঘণ্টাটি চুরি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনার আগে রাত ১২টা ৩ মিনিট থেকে চার্চের সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডিং বন্ধ ছিল। তবে কী কারণে ওই সময় থেকে সিসিটিভির রেকর্ডিং বন্ধ ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার পর চুরি হওয়া ঘণ্টা উদ্ধার ও জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করে। পুলিশের অভিযানের মুখে চোর বা চোরচক্র ঘণ্টাটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডের ময়লার ডাস্টবিনের পাশ থেকে সাদা পলিব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় সেটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় ঘণ্টাটি অক্ষত ছিল।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা ঘণ্টাটি থানা-হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান। চুরির আগে সিসিটিভি রেকর্ডিং বন্ধ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি-সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, মামলার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট (বিজি-৩৩৮) বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিপুল যাত্রীর চাপ সৃষ্টি হয়। এ সময় ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি-সংকট দেখা দেয় এবং যাত্রীরা লাগেজ পেতে বিলম্বের মুখে পড়েন। এতে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যাত্রীদের ক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্যে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালককে ‘আমি কিন্তু পিটাব ধইরা’ এবং ‘ঘাড় ধরে বের করে দেব’ বলে হুমকি দেন। একই সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী সম্পর্কেও অশালীন মন্তব্য করেন তিনি।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত (কেপিআই) এলাকায় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। সেখানে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের ভিডিও ধারণে নিষেধ করেন। এতে আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে স্পর্শকাতর ও সংরক্ষিত বিমানবন্দর এলাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসন প্রকল্পের একটি ভবনের লিফট ছিঁড়ে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের আগারগাঁওয়ের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পূর্নবাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়া হয়েছে। আহতরা হলেন- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক কর্মচারী মোস্তাফিজুর রহমান (৬২), নাইস আহমেদ (৪০) ও তার ছেলে ওয়াসি (৮)। তাদের মধ্যে নাইস আহমদের দুটি পা ভেঙে গেছে।
ভবনের বাসিন্দা সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, সকাল ৬টার দিকে পাইকপাড়া আনসার ক্যাম্পের কাছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন প্রকল্পের ১ নম্বর ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ফজরের নামাজের পর ভবনের পাঁচ তলার তিন বাসিন্দা লিফটে ওঠেন। কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দে লিফটটি ছিঁড়ে পড়ে। শব্দ শুনে দারোয়ান সেখানে গিয়ে লিফটের ভেতরে চিৎকার শুনতে পান। পরে আশপাশের কয়েকজন গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।
ভবনের আরেক বাসিন্দা অর্থ বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমির চন্দ্র শীল অভিযোগ করেন, লিফটটি প্রায়ই অচল থাকে। মাঝেমধ্যে সামান্য মেরামত করে চালানো হচ্ছে। এটি যে অত্যন্ত ঝুঁকিপুর্ণ এই দুর্ঘটনাই তার প্রমাণ। লিফটের বিষয়টি কয়েকবার গণপূর্ত বিভাগের কাছে চিঠি দিয়ে জানানো হলেও তারা কর্ণপাত করেনি।
মিরপুর থানা পুলিশ বলছে, এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।
খেলনার আড়ালে অবৈধভাবে আমদানি করা প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ১ হাজার ৯৮০টি ড্রোন জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। গতকাল বুধবার রাজধানীর কমলাপুর আইসিডি কাস্টমসের অভিযানে এই চালানটি ধরা পড়ে। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এতে বলা হয়, চকবাজারের ‘মিম কালেকশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান রিমোট কন্ট্রোল খেলনা আমদানির কথা বলে এই চালানটি আনে। কিন্তু কাস্টমস কমিশনারের কাছে থাকা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর চালানটি পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ঘোষণার সঙ্গে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। তখনই বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। দেখা যায়, খেলনার আড়ালে ঘোষণা ছাড়াই আনা হয়েছে প্রায় ৬৫৬ কেজি ওজনের ১৯৮০ পিস অবৈধ ড্রোন।
চালানটি বিল অব এন্ট্রি নম্বর-১২৩৬৭, তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এর মাধ্যমে আমদানি করা হয়। এতে পণ্য হিসেবে রিচার্জেবল রিমোট কন্ট্রোল (আরআরসি) খেলনা ঘোষণা করা হয়েছিল।
এনবিআর বলছে, আটক ড্রোনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজস্ব ও প্রযোজ্য জরিমানা আদায় করা হবে। একই সঙ্গে ড্রোনগুলোর উড্ডয়নসীমা এবং সংশ্লিষ্ট দলিলাদি যাচাই করা হবে। যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা
কাস্টমস আইন, ২০২৩ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী এ ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে কাস্টম হাইজ আইসিডি, ঢাকার কমিশনার কাজী মুহাম্মদ জিয়াউদ্দীন বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী আমদানি নীতি পরিপন্থি পণ্য আমদানি ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে কাস্টমস হাইজ আইসিডি, ঢাকা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
হাফপ্যান্টকে ‘অশালীন’ বলে একজন অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে মেট্রো স্টেশনে পুলিশের হেনস্তার প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে চড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কয়েকজন তরুণ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে ঢাকার ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে হাফপ্যান্ট পরে প্রতিবাদ জানান পাঁচ তরুণ। এই স্টেশনেই গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে যাওয়ায় সাজ্জাদ হোসেন নামের এক অ্যাথলেট প্রশিক্ষক পুলিশের হেনস্তার মুখে পড়েন।
সাজ্জাদ হোসেনকে হেনস্তার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে (ভোর পাঁচটা থেকে সকাল আটটা) ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে ‘হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে!’ শীর্ষক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। স্বাভাবিক স্পোর্টসওয়্যার পরার কারণে কাউকে হয়রানি করা বা গণপরিবহন ব্যবহারে বাধা দেওয়া উচিত নয় বলে যারা মনে করেন, তাদের এই কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ‘হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে!’ শিরোনামে আয়োজকদের খোলা একটি ফেসবুক ইভেন্টে বুধবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ৬৭২ জন ‘গোয়িং’ (যাচ্ছি) ও ৮ হাজার ২০০ জন ব্যবহারকারী ‘ইন্টারেস্টেড’ (আগ্রহী) দিয়েছিলেন।
আজ সকাল সাতটার দিকে তিনজন তরুণ ফার্মগেটে আনোয়ারা উদ্যান-সংলগ্ন মেট্রো স্টেশনের নিচে আসেন। তারা হলেন বেসরকারি চাকরিজীবী সাগর মজুমদার ও রকিবুল ইসলাম এবং ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান।
এসময় রানার ও বেসরকারি চাকরিজীবী সাগর মজুমদার বলেন, ‘আমরা রানার। দৌড়ানোর সময় শর্টস পরাটা বেশি কমফোর্টেবল। সে জন্য আমরা শর্টস পরি। দেশ-বিদেশে পরিচিত অ্যাথলেট সাজ্জাদ হোসেন সম্প্রতি শর্টস পরে মেট্রোতে উঠতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন। আমরা চাই না আর কেউ তার মতো হয়রানির শিকার হোক। সে জন্যই প্রতিবাদ জানাতে আসা।’
সাগর মজুমদার জানান, যেহেতু তিনি একজন রানার, ফলে তিনিও সাজ্জাদ হোসেনের মতো হয়রানির শিকার হতে পারেন মেট্রোরেল বা অন্য যেকোনো জায়গায়। সেই জায়গা থেকে একটি কর্মসূচি ডাকা হয়েছে। সেখানে যোগ দিতে তিনি এসেছেন। সবার প্রতি তাদের বার্তা হচ্ছে, ‘আসুন, আমরা নেগেটিভ মাইন্ডটাকে (নেতিবাচক মন) সরিয়ে ফেলি। শর্টস আসলে বিষয় নয়, নেতিবাচকভাবে দেখলে নেতিবাচক আর ইতিবাচকভাবে দেখলে ইতিবাচক।’
সকাল সাতটার পর ‘শর্টস’ পরে মেট্রোরেলে ওঠেন সাগর মজুমদার ও মাহফুজুর রহমান। মেট্রোরেলে উঠে টিকিট কাউন্টারে গিয়ে বিজয় সরণি স্টেশনের জন্য টিকিট কাটেন সাগর ও মাহফুজুর। এরপর প্ল্যাটফর্মে ওঠার উদ্দেশ্যে টিকিট পাঞ্চ করে তারা মেট্রোরেলের ভেতরের অংশে প্রবেশ করেন। পরে মেট্রোরেলে ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণি স্টেশনে নেমে নিজেদের মতো চলে যান সাগর ও মাহফুজুর। এদিকে আরেকজন তরুণ রকিবুল তাদের সঙ্গে ওঠেননি।
রকিবুল হাসান বলেন, ‘আমি যাষ্ট একজন রানার ভাইকে হয়রানি বা হ্যারেস করা হয়ছে, এবং ইভেন্টে এইটা পরে দেখলাম, পরিচিত অনেকে ইন্টারেস্টেড দিছে। সেই অনুপাতে যাওয়া প্রতিবাদ স্বরুপে ইভেন্ট অংশগ্রহণ করা। কিন্তু গিয়ে দেখি ব্যাতিক্রম কিছু।’
সাগর ও মাহফুজুর যখন মেট্রোরেলে ওঠেন, একই সময়ে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের অন্য একটি ফটক দিয়ে আরও দুজন প্রতিবাদী তরুণ হাফপ্যান্ট পরে ওঠেন বলে জানা গেছে। তবে ওই দুজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তারা ফার্মগেট স্টেশন থেকে মতিঝিলের টিকিট কেটেছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে শরীরচর্চা শেষ করে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে যাওয়ায় অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেনের পোশাককে ‘অশালীন’ বলে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য তাকে টিকিট পাঞ্চ মেশিনের সামনে ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখেন। যদিও মেট্রোরেলে চলাচলের জন্য কোনো ড্রেসকোড নেই। এর প্রতিবাদে ফার্মগেট স্টেশনে কর্মসূচির জন্য খোলা ফেসবুক ইভেন্টে লেখা হয়েছিল, ‘আপনার রানিং শর্টস পরুন, টি-শার্ট পরুন, একসঙ্গে আসুন, মেট্রোতে উঠুন৷ এটি কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির আয়োজন নয়। এটি একটি শান্তিপূর্ণ নাগরিক প্রতিবাদ- স্বেচ্ছাচারী হয়রানির বিরুদ্ধে, স্পষ্ট নিয়মের দাবিতে এবং যাত্রীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণের পক্ষে। কোনো কিছু নিষিদ্ধ হলে তার স্পষ্ট ও লিখিত নিয়ম থাকা উচিত। সমস্যা শর্টসে নয়, সমস্যা হয়রানিতে!’