ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক আসাদুর রহমানকে দেখতে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : শনিবার ২২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩৫ পিএম

চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীকে শিগগিরই আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আজকেই নির্দেশনা দিয়েছি। বিশেষ করে ডিএমপিসহ অন্যান্য মেট্রো এলাকায় যারা এ রকম চাঁদাবাজ, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, তাদেরকে অতি শিগগির যদি আমরা হেফাজতে না নিতে পারি, আইনের আওতায় না আনতে পারি, তাহলে যারা যারা ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সন্ত্রাসী হামলায় আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক কান গলা বিভাগের (ইএনটি) প্রধান অধ্যাপক আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়ে আজ শনিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।


১৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর শান্তিনগরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বার থেকে বের হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন অধ্যাপক আসাদুর রহমান। কিছু দূর যাওয়ার পর অটোরিকশা থামিয়ে তাঁর ওপর হামলা করা হয়। এতে তিনি চোখে গুরুতর আঘাত পান। 


তিনি জানিয়েছেন, এ ঘটনার কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের নামে তাঁর কাছে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবি করে বার্তা পাঠানো হয়েছিল। হামলার পর বার্তা পাঠিয়ে তাঁকে আবার হুমকি দেওয়া হয়।


অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ বাহিনী ও ডিবি একজনকে লক্ষ্মীপুর থেকে, দুজনকে ঢাকা থেকে এবং একজনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করেছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, ‘একটি সংঘবদ্ধ চক্র ধনাঢ্য ব্যক্তি, পেশাজীবী, ডাক্তার ও প্রকৌশলীদের টার্গেট করে মেসেজ পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে আঘাত করে।’


সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পুলিশের প্রশংসা করি, কিন্তু তাদের আরও কাজ করা বাকি আছে। আমরা এসব সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রকে নির্মূল করতে চাই।’ 


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, চাঁদাবাজেরা রাতারাতি কোটিপতি হতে চান। তারা বিভিন্ন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দাগি আসামি, গডফাদারদের নামও ব্যবহার করে।


হামলার মূল হোতা হুন্ডি ব্যবসা করত উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই ব্যক্তি ব্যবসায় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তিনি কিছু সন্ত্রাসীকে একত্র করে এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধনাঢ্য ব্যক্তি, পেশাজীবী, ডাক্তার, প্রকৌশলীকে টার্গেট করে চাঁদা আদায় করেন।


চাঁদাবাজির সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকলে, তাদের তালিকাও হচ্ছে


এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজদের নির্মূল করতে চাই। আমরা শুধু চাঁদাবাজদের তালিকা করছি না, চাঁদাবাজির সঙ্গে যদি কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকে, তাদের তালিকাও করছি।’


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকাটিই এ রকম যে গান, বাজনা, সিনেমা- এসব বহু বছর যাবৎ তাদের মধ্যে প্রায় নিষিদ্ধের মতো। সেখানকার পরিস্থিতি আলাদা। পরিবেশ বিবেচনায়, পরিস্থিতি বিবেচনায়, যেখানে যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সেটি নিয়েছি।’


ডাক্তার ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। কোনো চিকিৎসক নিজস্ব চেম্বার ও ক্লিনিকে বিশেষ নিরাপত্তাঝুঁকি বোধ করলে পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।


এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের যেকোনো নাগরিক বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শটগান বা পিস্তলের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। কোনো চিকিৎসক যদি নিজের নিরাপত্তায় ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজন মনে করে আবেদন করেন, তবে সরকারের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।


এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মো. শফিকুল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রমুখ।


মন্ত্রী পরে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে একই চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির শিকার ডা. এ কে এম আমিনুল হককে দেখতে যান।




  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৭ পিএম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ফ্লাইটের তিন যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে ৬৩১ কার্টন বিদেশি সিগারেট, একটি মোবাইল ফোন ও তিনটি ল্যাপটপ আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। আটক পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।


সোমবার (৫ অক্টোবর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেল, এয়ারপোর্টের সি-শিফটের কর্মকর্তারা এ অভিযান পরিচালনা করেন।


কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, মহাপরিচালকের কাছ থেকে পাওয়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে সতর্ক অবস্থান নেন কর্মকর্তারা। এ সময় শারজাহ থেকে ঢাকাগামী G9 571 ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের ব্যাগেজ স্ক্যান ও তল্লাশি করা হয়।


তল্লাশির সময় যাত্রী মোহাম্মাদ শাহিনের ব্যাগেজ থেকে ৩২০ কার্টন সিগারেট, একটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ আটক করা হয়। কে এম ফজল হকের ব্যাগেজ থেকে ১২৫ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ এবং বেলায়েত হোসেনের এর ব্যাগেজ থেকে ১৮৬ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।


সব মিলিয়ে তিন যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে ৬৩১ কার্টন বিদেশি সিগারেট, একটি মোবাইল ফোন ও তিনটি ল্যাপটপ আটক করা হয়েছে। আটক পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।


কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, গোপন তথ্য, যাত্রী প্রোফাইলিং ও নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে বিমানবন্দরে চোরাচালান এবং ব্যাগেজ সুবিধার অপব্যবহার প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৬ এএম

সরকারের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তার ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইতোমধ্যে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 


বলা হয়েছে, অপরাধী যেই হোক না কেন, তার রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি বিএনপিতেও শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান। এই অভিযানের খবরে দলে এরই মধ্যে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।


সংরক্ষিত আসনের সংসদ-সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগে বাধ্য করার মধ্য দিয়ে সরকার ও দলে এক ধরনের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। 


বিএনপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অপকর্মকারীদের স্থান হবে শুধু কারাগারে। শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসাবে সংসদ-সদস্য মিষ্টিকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগের কারণে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটি। ওই কমিটির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক এবং ইসিবি চত্বরে হামলার ঘটনায় কিছু কর্মী পাঠিয়ে মদদ দেওয়ার অভিযোগ আছে।


বিএনপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অপকর্মকারীদের স্থান হবে শুধু কারাগারে। শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসাবে সংসদ-সদস্য মিষ্টিকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগের কারণে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটি। ওই কমিটির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক এবং ইসিবি চত্বরে হামলার ঘটনায় কিছু কর্মী পাঠিয়ে মদদ দেওয়ার অভিযোগ আছে।


বিএনপির বিভিন্ন সূত্রে খবর নিয়ে জানা গেছে, উত্তরের কমিটি বিলুপ্ত এবং মিষ্টির ঘটনার পর দলটির বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নেতারা অনেকটাই চুপসে গেছেন। চাঁদাবাজ হিসাবে পরিচিতদের মধ্যে ঢুকে গেছে এক ধরনের ভয়। এদিকে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সক্রিয় গ্যাং ও অপরাধ চক্রগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতারে ইতোমধ্যে বিশেষ টিম কাজ শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপে দেশের অপরাধ জগতে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল কিংবা সরকারে পদ-পদবি রক্ষা করা সম্ভব হবে না। 


পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপে পুলিশ প্রশাসনে স্বস্তি এসেছে। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এই বিশ্বাস শুরু হয়েছে যে, রাজনৈতিক কারণে অপকর্মকারীদের আর প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে। দায়িত্বশীল এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর বার্তা তাদের কাজের গতি ও সাহস বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন কোনো রাজনৈতিক প্রভাবের তোয়াক্কা না করে অপরাধীদের গ্রেফতার করা সহজ হবে।


স্পেশাল অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ বলেন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের আস্তানাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। জনগণের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এসআরবির পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধী যত প্রভাবশালী কিংবা যে দলেরই হোক না কেন, আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। তাদের পালানোর পথ ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা রক্ষায় ডিএমপির চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।


উত্তরা পূর্ব থানার ওসি মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম জানান, এলাকায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। শীর্ষ পর্যায় থেকে সুনির্দিষ্ট বার্তা পাওয়ায় অপরাধীরা এখন আত্মগোপনে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।


উদ্ধার বিদেশি মদ

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:০৫ পিএম

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক বিদেশি নাগরিকসহ দুই যাত্রীর কাছ থেকে সাড়ে ৮১ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি এসব মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। 



আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সিআইআইডি। এতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এয়ারপোর্টের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেল কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে অবস্থান নেন। দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এর ইকে০৫৮৪ ফ্লাইটের যাত্রী রোমান মিখাইলভ গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় তার সব ব্যাগেজ স্ক্যান করা হয়।



সিআইআইডি বলছে, তল্লাশিতে সাড়ে ৭৮ লিটার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ পাওয়া যায়। যাত্রী ‘বিদেশি পাসপোর্টধারী’ হওয়ায় প্রযোজ্য ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী ১ লিটার মদ শুল্কমুক্তভাবে আমদানির অনুমতি দিয়ে অবশিষ্ট সাড়ে ৭৭ লিটার জব্দ করা হয়।



অন্যদিকে মঙ্গলবার রাতে টার্কিশ এয়ারলাইন্স এর টিকে০৭১২ ফ্লাইটে আসা যাত্রী সামিউল ইসলাম গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় তার ব্যাগেজ স্ক্যান করে আরও চার লিটার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ পাওয়া যায় এবং তা আটক করা হয়।



এই দুই ঘটনায় অনুমোদিত এক লিটার বাদ দিয়ে মোট ৮১.৫০ লিটার বিদেশি মদ আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১০ পিএম

রাজধানীর আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির ঘটনায় করা মামলার দুই আসামি পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন। পুলিশ বলেছে, অভিযান চালানোর সময় আসামিরা চাপাতি নিয়ে হামলার চেষ্টা করেছে। এ সময় পুলিশ পাল্টা গুলি চালিয়েছে। পরে গুলিতে আহত দুজনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 


এ নিয়ে এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার হলেন ১০ জন।


আদাবর থানা-পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আদাবর থানাধীন নবোদয় হাউজিং এলাকার কাঁচা বাজারের পাশের খেলার মাঠের পেছনে খালপাড়ের ফাঁকা জায়গায় এ ঘটনা ঘটে।


গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন রাজিব হাওলাদার (৩০) ও সাগর (২৪)। তাঁদের পায়ে গুলি লেগেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করার পর চিকিৎসার জন্য তাঁদের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া অপর দুজন হলেন শাকিব (২৩) ও রাশেদ (২৪)।


আদাবর থানা-পুলিশ বলছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের ধরতে রাত দুইটার দিকে সেখানে অভিযান শুরু করা হয়। ঘটনাস্থলে ৭ থেকে ৮ জন ছিলেন। গ্রেপ্তার করতে গেলে তাঁরা চাপাতি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। তখন আত্মরক্ষার্থে অভিযানে থাকা কনস্টেবলের হাতে থাকা শটগান দিয়ে দুই রাউন্ড গুলি করা হয়। পুলিশ আরও বলেছে, গুলিতে রাজিব আর সাগর আহত হন। তাঁদেরসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিরা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে চাপাতি, সামুরাই ও কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।


আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, আসামিরা চাপাতি নিয়ে হামলার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায় পুলিশ। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ওসি জাহিদুল আরও বলেন, আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির ঘটনায় করা মামলায় এর আগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রাতের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও চারজন। সব মিলিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।


পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সাগরের বিরুদ্ধে আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় আটটি মামলা আছে। আর রাজিব মোহাম্মদপুরের আলোচিত বাবু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। শাকিব ও রাশেদের বিরুদ্ধেও পাঁচটি করে মামলা আছে।


গত রোববার আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ের একটি বাড়ি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল চাপাতি, রামদা ও পিস্তল নিয়ে বাড়িটিতে হামলা চালায় বলেও অভিযোগ। ওই ঘটনায় আদাবর থানায় একটি মামলা হয়েছে। 


পুলিশ জানায়, বাড়িটির মালিকানা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও আছে।


ডিএমপির যুগ্ম–কমিশনার তোফায়েল আহমেদ মিয়া ও এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২২ পিএম

ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে মন্তব্যের সূত্র ধরে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মনে করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম–কমিশনার তোফায়েল আহমেদ মিয়া। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। 


দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার মুখোশ উদ্ধার এবং একজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানাতে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।


সম্প্রতি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তো তিনটি দাবিতে রাজপথে আছি। আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে বাদ দেওয়া, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের ঘটনার বিচার। এই দাবিগুলো সরকার মানছে না! দাবিগুলো মানলে তো ককটেল আর ফুটবে না ঢাকা শহরে।’ 


এ প্রসঙ্গ টেনে এক সাংবাদিক পুলিশের বক্তব্য জানতে চান। জবাবে যুগ্ম–কমিশনার বলেন, এটা অবশ্যই আমার কাছে মনে হয় যে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। তা না হলে, তিনি এই কথা বললেন কেন?


তাহলে কি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ? জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা আসলে আমি এখন বলতে পারব না। এটা হয়তো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।’ 

ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন

বিস্ফোরক দ্রব্য ও ককটেল তৈরির সরঞ্জামসহ ৯ হাজার মুখোশ উদ্ধার


এর আগে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য ও ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং ৯ হাজার পিস কাগজের মুখোশ উদ্ধারের বিষয়ে জানায় পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম–কমিশনার বলেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর তদন্তে যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুরসহ সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে। একপর্যায়ে জাহিদ হাসান ইমনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ শুক্রবার ভোরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাগাশুর এলাকায় স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালায়। এ সময় ওয়ার্ড যুবলীগের নেতা ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 


পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত কস্টিক সোডা দেড় কেজি, সালফার ১ কেজি ৬০০ গ্রাম, মারবেল ৫ কেজি, ১ ইঞ্চি তারকাঁটা ২ কেজি, ককটেল মোড়ানোয় ব্যবহৃত লাল কসটেপ ২০টি ও কালো কসটেপ ১১টি, অসৎ উদ্দেশ্যে কাগজ দিয়ে তৈরি ৯ হাজার মুখোশ, মুখোশ পরার ইলাস্টিক ৩০ প্যাকেট, ককটেল তৈরির উপাদান বিচূর্ণ করার কাজে ব্যবহৃত একটি ব্লেন্ডার ও একটি জার উদ্ধার করা হয়। ইমন স্বীকার করেন, লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাত এক ভ্যানচালকের সাহায্যে মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন নেতা-কর্মীর মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে সেগুলো তার বাসায় সংরক্ষণ করা হয়েছিল। ইমনের বিরুদ্ধে শাহবাগ ও লালবাগ থানায় দুটি মামলা রয়েছে।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০৪ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:১৪ এএম


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০৪ পিএম

রাজধানীর কদমতলী থানাধীন রাজধানী আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ এর সামনে অভিযান চালিয়ে ডিএমপির তালিকাভূক্ত আন্তঃ জেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য ও ২ বছরের সাজাসহ একাধিক পরোয়ানাভূক্ত আসামি মোঃ ইকবাল হোসেন বাদশাকে (৫২) গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৩।


গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৩০ মিনিটে আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৩।


অনুসন্ধানে জানা যায়, ধৃত আসামি ইকবাল হোসেন এর বিরুদ্ধে রাজধানীর শ্যামপুর থানায় ২০২১ সালের দস্যুতা মামলায় ৩৯৩ ধারায় অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় বিজ্ঞ জজ আদালত-১০, ঢাকা কর্তৃক গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখ ধৃত আসামিকে ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।


উল্লেখ্য যে, আদালত কর্তৃক সাজা প্রদানের পর থেকে আসামি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে পলাতক অবস্থায় নিজের নাম ও বেশভূষা পরিবর্তন করে জীবন যাপন করে আসছে। উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে রাজধানীর শ্যামপুর থানার অধিযাচনের ভিত্তিতে এসআরবি-৩ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল আসামির অবস্থান শনাক্ত করে ইকবাল হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ধৃত আসামির বিরুদ্ধে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর ও কদমতলী থানায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ মোট ১০টি মামলা রয়েছে।


ধৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।