অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ থেকে ৩ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার। এটা করা সম্ভব হলে বিশাল জনগোষ্ঠী এ খাতের সঙ্গে যুক্ত হবে। এ কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কর্মসংস্থান ব্যাংকের উদ্যোগে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়ন তহবিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নারীদের এ খাতে যুক্ত হওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে। সৃজনশীলতার পাশাপাশি দেশের খাবার, সংগীত, সংস্কৃতি, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কাজকে বৈশ্বিক বাজারে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আমির খসরু মাহমুদ বলেন, বিশ্বের কোনো কোনো দেশের অর্থনীতিতে সৃজনশীল অর্থনীতির অবদান ১০ শতাংশ পর্যন্ত। বাংলাদেশ ১০ শতাংশে যেতে না পারলেও ২-৩ শতাংশে নিতে পারলে বিপুলসংখ্যক মানুষ এ খাতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ এখানে বেশি।
দেশের গ্রাম-গঞ্জের গান, খাবার ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে পণ্য হিসেবে গড়ে তুলে বিশ্ববাজারে বিক্রির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলের অনেক গান ও সৃজনশীল কাজ এতদিন মনিটাইজ করা সম্ভব হয়নি। এগুলোকে সঠিক সহায়তার মাধ্যমে বাজারযোগ্য পণ্যে পরিণত করতে হবে।
তিনি বলেন, একটা ছোটখাটো গান যখন হিট হয়, একজন সাধারণ মানুষের একটা গান যখন হিট হয়ে যায়, এটা কি শত শত কোটি টাকার প্রোডাক্ট হয়ে গেল না? আমাদের মধ্যে সেটা আছে, সৃজনশীলতা আমাদের দেশের মধ্যে আছে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সারদের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইসিটি খাতে কাজ করা এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের সৃজনশীলতাকে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী করে তুলতে হবে।
থাইল্যান্ডের ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ কর্মসূচির উদাহরণ দিয়ে আমির খসরু বলেন, তিনি থাইল্যান্ডে দেখেছেন গ্রামের মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে পণ্য তৈরি করছেন। কিন্তু পণ্যের মান ছিল বিশ্ববাজারে বিক্রির উপযোগী। এর পেছনে ছিল সরকারের সহায়তা, কাঁচামাল থেকে শুরু করে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন ও ব্র্যান্ডিং পর্যন্ত।
তিনি বলেন, গ্রামের তৈরি পণ্যগুলো প্যাকেটজাত করে বিকেলে একটি ভ্যান এসে সংগ্রহ করে সরাসরি বিমানবন্দরে নিয়ে যেত। সেখান থেকে সেগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলে যেত। বাংলাদেশেও এমন সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হলে গ্রামের সৃজনশীল মানুষকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব মানুষের জীবনযাত্রার মান শুধু পরিবর্তন হবে না, অর্থনীতিতেও বড় ধরনের অবদান রাখবে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে, রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
তিনি কর্মসংস্থান ব্যাংকের উদ্দেশে বলেন, শুধু ঋণ দিলেই হবে না, ঋণগ্রহীতাদের পণ্যকে আপগ্রেড করার জন্য পরিকল্পনা নিতে হবে। দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনের মাধ্যমে স্থানীয় পণ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী করতে হবে।
অনুষ্ঠানে কর্মসংস্থান ব্যাংকের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে অনেক সৃজনশীলতা থাকলেও আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে তারা তা কাজে লাগাতে পারেন না। আবার অনেকেই ব্যাংকে যেতে ভয় পান কিংবা ব্যাংকিং সেবায় তাদের প্রবেশাধিকার নেই। এ কারণে ‘অ্যাক্সেস টু ফাইন্যান্স’ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ঋণের সঙ্গে খরচ বা সুদ যুক্ত থাকলে উদ্যোক্তার মধ্যে তা আয় করে পরিশোধ করার একটি দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। অন্যদিকে অনুদানের অর্থ অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল দেয় না। তাই ঋণ নিয়ে লাভজনক ব্যবসা করার সক্ষমতা তৈরি করা এবং উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করে তাদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, কর্মসংস্থান ব্যাংক ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পেরেছে। নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে আরও ৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে মোট ২২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ছোট, মাঝারি ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ এবং কুটিরশিল্পই বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। বড় শিল্প ও বড় প্রকল্পের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ বহু পরিবার তিন-চার প্রজন্ম ধরে একই ধরনের কাজ করে আসছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে তারা সেই পর্যায় থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না।
সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য সরকারের নেওয়া সহায়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের শুধু ঋণ নয়, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ১০০ টাকার একটি পণ্যকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার পণ্যে উন্নীত করা সম্ভব হতে পারে। এসব পণ্য আন্তর্জাতিকভাবে বাণিজ্যযোগ্য হয়ে উঠলে অ্যামাজন, আলিবাবাসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বের বাজারে পৌঁছানো সম্ভব।
সংগীত, সংস্কৃতি, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও ওটিটি খাতের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব সৃজনশীল পণ্যের কোনো ভৌগোলিক সীমা নেই। বিশ্বের মানুষ এখন বিভিন্ন দেশের গান, সংস্কৃতি ও বিনোদন উপভোগ করছে। তাই বাংলাদেশের প্রতিভাবান শিল্পী ও সৃজনশীল মানুষদেরও সহায়তার আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, এটা তো একটা জিডিপি, এটা অর্থনীতি। এটা কোনো চ্যারিটি না। চ্যারিটির মাধ্যমে কারও জীবনের উন্নয়ন হয় না। এটার একটা ইকোনমিক রিটার্ন পেতে হবে।
অর্থমন্ত্রী কর্মসংস্থান ব্যাংককে শুধু প্রচলিত খাতের উদ্যোক্তাদের নয়, সংগীত, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সৃজনশীল খাতের সম্ভাবনাময় মানুষদেরও ঋণের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ফাইন্যান্সিং ইজ নট এনাফ। আপনি যে ফাইন্যান্সিংটা করছেন, যে মানুষটাকে করছেন, তার সঙ্গে আপনার একটা বন্ধন থাকতে হবে। তাকে সাপোর্ট দিতে হবে। হি ইজ আ পার্টনার, হি ইজ নট আ বোরোয়ার।
অনুষ্ঠানে কর্মসংস্থান ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বা এনপিএল কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। ব্যাংকটির এনপিএল প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি এটি আরও কমিয়ে ১-২ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। এতে ব্যাংকের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়ন তহবিলের পাইলট প্রকল্পের জন্য ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি কেবল একটি পাইলট প্রকল্প। প্রকল্পটি সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ব্যাংকের মুনাফা ও প্রফিট প্লাওব্যাকের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের আরও উৎসাহিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা কর্মসংস্থান ব্যাংকের রয়েছে। জামানত ছাড়াই এসব জনগোষ্ঠীকে ঋণ দেওয়ার সুযোগও রয়েছে বলে জানান তিনি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে প্রচলিত ক্ষুদ্রঋণে সাধারণত ২৪ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নেওয়া হয়।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে এ উদ্যোগটি সরাসরি যুক্ত। বিশেষ করে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি। এ জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া হবে, যাতে তারা উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে তিনটি জেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য জেলাতেও এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কর্মসংস্থান ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. এ এফ এম মতিউর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি ২ শতাংশ সুদে তহবিল সরবরাহ করে, তাহলে কর্মসংস্থান ব্যাংক আরও কম সুদে ঋণ বিতরণ করতে পারবে।
তিনি জানান, বর্তমানে কর্মসংস্থান ব্যাংক সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে। ব্যাংকটি কম স্প্রেডে কার্যক্রম পরিচালনা করায় ঋণের সুদের হারও তুলনামূলকভাবে সীমিত রাখা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ’ নামে এ কর্মসূচির আওতায় দেশের অবশিষ্ট ৫৬ জেলার তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) শুরু হওয়া এ আবেদনপ্রক্রিয়া চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ কর্মসূচির আওতায় একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পাবেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ এবং বাকি ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। ঋণ ও অনুদানের অর্থ এককালীন একসঙ্গে দেওয়া হবে। অনুদানের অর্থের জোগান আসবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে।
আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তারা নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অবস্থিত যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে পারবেন। আবেদন ফরম বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে।
এর আগে কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে আট জেলার ৬৪টি উপজেলা থেকে আবেদন গ্রহণ করা হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলা ওই কার্যক্রমে মোট ১৮ হাজার ৪৪৪টি আবেদন জমা পড়ে।
জেলাভিত্তিক আবেদনের মধ্যে নেত্রকোণায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৩৫১টি, রংপুরে ২ হাজার ৭৪৫টি, নওগাঁয় ২ হাজার ৪৫৬টি, ঝিনাইদহে ২ হাজার ১৯১টি, হবিগঞ্জে ১ হাজার ৫৫২টি, ভোলায় ১ হাজার ৫৪৫টি, মানিকগঞ্জে ১ হাজার ৩৪৩টি এবং ফেনীতে ১ হাজার ২৬১টি আবেদন জমা পড়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মসূচিটির নাম ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’। এর লক্ষ্য উপজেলা পর্যায়ের সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করা, প্রকৃত উদ্যোক্তা নির্বাচন এবং অর্থায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
ঋণ প্রদানের বাছাইপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছিলেন, যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে উদ্যোক্তারা আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি থাকবে। ব্যাংকারদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরাও কমিটিতে থাকবেন। তাঁদের সুপারিশের ভিত্তিতে উদ্যোক্তাদের নির্বাচন করে অর্থায়ন করা হবে।
কর্মসূচির নীতিমালা গত ১৩ সেপ্টেম্বর এসএমইএসপিডি সার্কুলার নম্বর-০৫-এর মাধ্যমে জারি করা হয়েছে। বিস্তারিত নীতিমালা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট (www.bb.org.bd) এবং এসএমই পোর্টালে (www.bb.org.bd/smespd_portal) পাওয়া যাবে।
টেকসই পর্যটনের সামাজিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক দিকগুলো সমন্বয় করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কীভাবে পর্যটন ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষ, দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে সফলভাবে শেষ হলো বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) আয়োজিত তিনদিনের মেলায় এবার মোট বিক্রয় ও বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৪৩ কোটি টাকা। এছাড়াও, এই সময়ে প্রায় ৪৫ হাজারের মতো দর্শনার্থী মেলা পরিদর্শন করেছে। এবারের মেলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স টিকিট বিক্রিতে বেশ সাড়া পেয়েছে।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিন দিনের এই মেলা শেষ হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, এনডিসি, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জিএম আজিজুর রহমান, টোয়াবের সভাপতি ও নেতৃবৃন্দ এবং দেশি-বিদেশি পর্যটন খাতের প্রতিনিধিরা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা অনেক বেশি। এই লক্ষ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে আমরা এভিয়েশন খাতকে আরও বিস্তৃত করেছি। ইতোমধ্যে আমরা ট্যুরিজমকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্যে একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, যেখানে হোটেল ও রিসোর্টগুলোকে নিয়মনীতি, প্রযুক্তি ও টেকসই পরিকল্পনার সহায়তায় পরিচালিত করা হবে। রিসোর্টগুলোতে আমরা বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে সোলার প্যানেল স্থাপন করেছি, ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেইনিং ইনস্টিটিউটের (এনএইচটিটিআই) মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। পাশাপাশি, পর্যটন গন্তব্যগুলোর ব্যবস্থাপনা, পর্যটকদের নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে, আমাদের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ডিজিটাল তথ্যসেবা ও স্মার্ট মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করার সুযোগ রয়েছে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার ও নিয়মকানুনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে পর্যটন গন্তব্যগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ও টেকসই করে গড়ে তোলা সম্ভব।”
সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে মেলার মূল আয়োজন স্থান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ‘এআই ফর সাসটেইনেবল ট্যুরিজম অপারেশন’ শীর্ষক এই সেমিনারে বক্তারা পর্যটন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ও টেকসই উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
সেমিনারে আলোচকরা বলেন, পর্যটকদের অনুসন্ধান ও বুকিং ব্যবস্থাপনা, মূল্য নির্ধারণ, ভ্রমণসূচি তৈরি, আতিথেয়তা সেবা উন্নয়ন ও ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এআইয়ের প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়াও, সেমিনার থেকে পর্যটন গন্তব্যে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় ব্যবসার প্রসার, বিমান চলাচলে জ্বালানি সাশ্রয়, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পর্যটনের পরিবেশগত প্রভাব কমানোর ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে আলোচকরা আরও বলেন, পর্যটন খাতে এআইয়ের কার্যকর প্রয়োগের জন্য পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য, দক্ষ জনবল, উন্নত অবকাঠামো ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। একইসাথে, পর্যটনের মানবিক দিক, আন্তরিকতা, আতিথেয়তা ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা অক্ষুণ্ণ রেখে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে টেকসই পর্যটন বিকাশের মূল চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা।
সেমিনারটির সভাপতিত্ব করেন টোয়াবের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ শাফত উদ্দিন আহমেদ, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বদেশী কমিউনিকেশনসের সিইও সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন মাহমুদ। এছাড়াও, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুব পারভেজ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ডিওয়াইডিএফ) চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান কবির।
টেকসই পর্যটন কেবল পর্যটন শিল্পের বিষয় নয় উল্লেখ করে আলোচকরা বলেন, পর্যটন অর্থনীতি, পরিবেশ ও সমাজের সাথে যুক্ত সব খাতের সমন্বিত উদ্যোগের অংশ। এআই ব্যবহার করে পর্যটকদের অনুসন্ধান, বুকিং, মূল্য নির্ধারণ, ভ্রমণসূচি তৈরি, আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা ও ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা কমানোর সুযোগ রয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট পর্যাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভ্রমণ পরিকল্পনা আরও কার্যকর করা, পর্যটকদের আস্থা বাড়ানো এবং পরিচালন ব্যয় ও পরিবেশগত প্রভাব কমানো সম্ভব।
একইসাথে, বিমান চলাচলে এআইভিত্তিক রুট পরিকল্পনা, জ্বালানি খরচ কমানোর পাশাপাশি, আবহাওয়া, সাপ্তাহিক ছুটির দিন, বুকিংয়ের পরিমাণ ও যোগাযোগব্যবস্থার মতো তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করে পর্যটন গন্তব্যগুলোর ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করা যেতে পারে। এছাড়াও, পর্যটন খাতে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যা নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ, সমাধানের জন্য একটি টুল পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ, ব্যয় ও পরিবেশগত প্রভাব পরিমাপ ও সফল উদ্যোগকে সম্প্রসারণ করার মতো ধাপভিত্তিক রূপরেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সেমিনারে পর্যটন খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, কর্মসংস্থান তৈরি ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টি উঠে আসে। পর্যটনের জিডিপিতে অবদান, পর্যটকদের ধরন ও ভ্রমণ প্রবণতা বিশ্লেষণে সহায়তা করতে পারে এআই। তবে এ খাতের টেকসই বিকাশে দক্ষ জনবল, উন্নত অবকাঠামো, কার্যকর নীতিমালা ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব অপরিহার্য। টেকসই পর্যটনের সামাজিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক, এই তিনটি ভিত্তিকে সমন্বয় করে ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরিতে এআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পর্যটন খাতকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে আলোচকরা মানবিক অভিজ্ঞতার সাথে এআইয়ের কার্যকর সমন্বয়ের আহ্বান জানান।
এবারের ১৪তম এই মেলায় নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানসহ ২০টি দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রতিনিধি ও সংস্থা অংশ নেয়। এবারের মেলায় পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে ছিল মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও নেপাল। মেলার টাইটেল স্পন্সর হিসেবে ছিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
এছাড়াও, মেলাটির এয়ারলাইন্স পার্টনার হিসেবে ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, প্লাটিনাম হসপিটালিটি পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট, জিডিএস (গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম) পার্টনার সেবার, পিআর পার্টনার ওপাস কমিউনিকেশনস লিমিটেড, টেকনোলজি পার্টনার এম৩৬০আইসিটি, ট্রান্সপোর্ট পার্টনার কনভয় সার্ভিস, ডিজিটাল পার্টনার মায়েস্ট্রো, অডিও-ভিজ্যুয়াল পার্টনার প্যানোরামা পিসি ক্রিয়েটরস ও রুচি এবং ভেন্যু পার্টনার বিসিএফসিসি।
‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেসটিনেশন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের বিটিটিএফের মেলায় বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার পাশাপাশি, দেশি-বিদেশি অংশীজনদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি, পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও পরিবেশ সংরক্ষণের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে।
সদ্যবিদায়ী অক্টোবরে ২৮৭ কোটি ৩৬ লাখ ৩০ হাজার বা ২ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে) যার পরিমাণ ৩৫ হাজার ৩৪৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, অক্টোবরে ২৮৭ কোটি ৩৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যেখানে আগের মাস সেপ্টেম্বরে এসেছিল ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার ডলার। এছাড়া গত বছরের একই সময়ের চেয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৭৬ লাখ ডলার বেশি এসেছে এখন পর্যন্ত।
তবে অক্টোবর নিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের টানা চার মাসসহ গত টানা পাঁচ মাস তিন বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এলো রেমিট্যান্স। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি করে রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, সদ্যবিদায়ী অক্টোবর মাসে সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ৫০ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের একটির (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে ২৩ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২১২ কোটি ৭৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৯ লাখ ১০ হাজার ডলার।
তবে অক্টোবরে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি এমন ব্যাংকের সংখ্যা আটটি। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা বিডিবিএল, বিশেষায়িত রাজহশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। বেসরকারি খাতের আইসি ইসলামী ব্যাংক এবং পদ্মা ব্যাংক। আর বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে দেশে মোট ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ (২.৭৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। যা পরের মাস আগস্টে বেড়ে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার হয়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।
পুলিশের সঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে শিল্পাঞ্চলে শ্রম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও শ্রমিকরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেছেন। এতে বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে বেশ কিছু কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিএমপি এলাকা, গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলে ৩১৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে। কাজ না করে এসব কারখানা থেকে বেরিয়ে এসেছেন ৭ লাখ ২ হাজার ২৫৫ জন শ্রমিক।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএ- এর তথ্য অনুযায়ী, ডিএমপি এলাকায় ৩২০টি কারখানার মধ্যে মিরপুরে ৬৮টি বন্ধ রয়েছে। কাজ না করে এসব কারখানা থেকে বেরিয়ে এসেছেন ৫১ হাজার ৬২৫ জন শ্রমিক।
গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকার ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ২২৫টি বন্ধ রয়েছে। এ দুই এলাকায় কাজ না করে কারখানা থেকে বেরিয়ে এসেছেন ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৬০ জন শ্রমিক।
অন্যদিকে, সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকার ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২৫টি বন্ধ রয়েছে। কাজ না করে এসব কারখানা থেকে বেরিয়ে এসেছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন শ্রমিক।
তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ১৩৪টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৮১৬টি কারখানা চালু রয়েছে। শ্রম অসন্তোষের কারণে বন্ধ রয়েছে ৩১৮টি কারখানা।
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া চাকরির ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের প্রাধান্য দেওয়ায় পুরুষ শ্রমিকেরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি তাদের। ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ দাবিতে আন্দোলন করছি।
শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল হক সজীব বলেন, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানার মালিকরা ছুটি ঘোষণা করেছেন। আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এখনও মাঠে আছে।
শিল্প পুলিশ আশুলিয়া জোনের পুলিশ সুপার (এসপি) মোমিনুল ইসলাম জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সব ধরনের চেষ্টা করছে। বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের মালিকরা কারখানার কাজ বন্ধ রেখেছেন।
এদিকে রোববার গাজীপুরের চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, সফিপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, নাওজোড় এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ মোতায়েন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অসন্তোষ যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য এসব গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
বিজিবি জানায়, গাজীপুর জেলা প্রশাসনের ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, সফিপুর এলাকা, কোনাবাড়ী ও মৌচাক এলাকা, নাওজোড় এলাকা এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে।
ছবি : সংগৃহীত
তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনঃনির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করেছে সরকার। সচিবালয়ে রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। দাবি পূরণ হওয়ায় সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যেতে শ্রমকিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে, গত শুক্রবার শ্রমিক নেতা এবং গতকাল শনিবার তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। দুই পক্ষের আলোচনার পর গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে আজ রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।
ঘোষিত মজুরি বোর্ডে চেয়ারম্যানের শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে বাকি সদস্যরা হলেন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারন সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশেনর যুগ্ন মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও নিরপেক্ষ দুই সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে গত ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়। সেই হিসাবে নভেম্বর মাসে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষণার কথা।
তৈরি পোশাক খাতে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ ও ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগ দাবিতে দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করছেন শ্রমিকরা।
টিসিবির ট্রাকসেল ও এর লোগো
ভোক্তাদের জন্য পণ্যের পরিসর বাড়ানো, বাণিজ্যিক আয় বৃদ্ধি এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতে আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও চা বিক্রি শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ বলেন, ‘সাশ্রয়ী মূল্যে ভোক্তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি সংস্থার আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে বাণিজ্যিক পণ্যের পরিসর সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে সাবান ও ডিটারজেন্ট বিক্রি শুরু করেছি। আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ ও মরিচের গুঁড়া বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। চা বিক্রিরও অনুমোদন পেয়েছি। আশা করছি, নভেম্বরেই এটি বাজারে আনতে পারব।’
টিসিবি চেয়ারম্যান জানান, সংস্থাটি আটা বিক্রির পরিকল্পনাও করছে। এ ছাড়া বাজারের চাহিদা যাচাই করে আরও কয়েকটি পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে বাজার জরিপ চলছে। জরিপের ফল ইতিবাচক হলে নতুন পণ্য বাজারে আনা হবে।
আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়িয়ে এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পণ্যের পরিসর বাড়াচ্ছে টিসিবি। এরই মধ্যে সংস্থাটি কাপড় কাচার সাবান, গোসলের সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু করেছে। এসব পণ্য প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হলেও সংগ্রহমূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য পাচ্ছেন, পাশাপাশি এসব পণ্য থেকে টিসিবি সামান্য মুনাফাও করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে টিসিবি ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে।
ফয়সল আজাদ বলেন, ‘পণ্যের পরিসর বাড়ানো এবং আরও বেশি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারলে সংস্থার আয় বাড়বে। আমাদের লক্ষ্য হলো পণ্যের পরিসর বাড়িয়ে অতিরিক্ত আয় করা।’
বর্তমানে টিসিবি নতুন বাণিজ্যিক পণ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এর সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী অর্থবছরে গ্রাহকসংখ্যা এক কোটিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।
টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘মাত্র ৪ মাস আগে নতুন পণ্যগুলো বিক্রি শুরু হয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে সাড়া মোটামুটি ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তবে গ্রাহকসংখ্যা আরও বাড়াতে চাই।’
নতুন পণ্য বিক্রির কারণে বিদ্যমান ভর্তুকির পণ্যের দাম বাড়বে না বলে জানান তিনি। এসব নতুন পণ্য কেনা বা না কেনার সিদ্ধান্ত ভোক্তাদের ওপরই থাকবে।
এদিকে স্মার্ট কার্ডভিত্তিক বিতরণ কর্মসূচির বাইরে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির সুযোগও খতিয়ে দেখছে টিসিবি। এ লক্ষ্যে ভোজ্যতেল বিক্রির একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ চলছে। প্রস্তাবিত এ কর্মসূচির আওতায় পণ্য বিক্রির জন্য সম্ভাব্য ডিলারদের কাছ থেকে আবেদনও আহ্বান করেছে সংস্থাটি।