প্রতীকী ছবি
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে যাচ্ছে সরকার। এই লক্ষ্য সামনে রেখে দেশীয় উৎপাদনমুখী শিল্পের জন্য নজিরবিহীন করছাড়, ভ্যাট অব্যাহতি এবং আমদানি পর্যায়ে শুল্ক সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে বেশ কিছু আমদানিনির্ভর ও বিলাসী পণ্যের ওপর শুল্ক-কর বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হবে ‘উৎপাদনমুখী করনীতি’। অর্থাৎ যারা দেশে উৎপাদন করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং রফতানি বাড়াবে, তারা কর সুবিধা পাবে। অপরদিকে যেসব পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি হয় এবং দেশীয় শিল্পের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে, সেসব পণ্যের ওপর করের চাপ বাড়ানো হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার মধ্যে থাকা অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে এই করনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর সুফল কতটা ভোক্তার কাছে পৌঁছাবে, তা নির্ভর করবে বাজার ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়ীদের আচরণের ওপর।
ইলেকট্রনিক্স শিল্পে সবচেয়ে বড় সুবিধা
এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য উৎপাদন খাত। দেশে উৎপাদিত টেলিভিশন, ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার (এসি), ওয়াশিং মেশিন এবং অন্যান্য গৃহস্থালি পণ্যের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে এসব পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-কর ছাড়ের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। সরকারের ধারণা, এতে উৎপাদন খরচ কমবে, দেশীয় শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং ভোক্তারাও কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন।
বর্তমানে দেশে অন্তত ২২টি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন করছে, যেখানে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। সরকার এই খাতকে ভবিষ্যতে রফতানিমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
কমতে পারে কম্পিউটার ও মোবাইলের দাম
তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও বড় ধরনের প্রণোদনা থাকছে। দেশে উৎপাদিত ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মনিটর ও মোবাইল ফোনের ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা আরও কয়েক বছর বাড়ানো হতে পারে।
এছাড়া কম্পিউটার যন্ত্রাংশ, প্রিন্টার, ফ্ল্যাশ মেমোরি ও মনিটর উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর অগ্রিম কর কমানো হচ্ছে। মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ২২ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতেও করহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত প্রযুক্তিপণ্যের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে।
স্বাস্থ্যসেবায় স্বস্তির বার্তা
স্বাস্থ্য খাতেও কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ থাকছে। ওষুধ তৈরির ৬৮ ধরনের কাঁচামালের ওপর সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হতে পারে। পাশাপাশি হার্টের রিং, চোখের লেন্স এবং ক্যান্সারের কয়েকটি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ আমদানিতে ভ্যাট ও কর রেয়াতের প্রস্তাব রয়েছে।
এতে চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হৃদরোগ, ক্যান্সার ও কিডনি রোগীদের জন্য এটি বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনতে পারে।
নিত্যপণ্যে কর কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা
মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে ধান, চাল, গম, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মাছ, মাংস, চিনি, ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বর্তমানে এসব পণ্যের উৎসে কর ১ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। নতুন বাজেটে তা কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত করের চাপ কমলে বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা
জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নকে উৎসাহ দিতে সৌর বিদ্যুৎ ও ব্যাটারি খাতে দীর্ঘমেয়াদি কর সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
সৌর বিদ্যুতের যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে করমুক্ত সুবিধা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি উৎপাদনেও করছাড় অব্যাহত থাকবে।
ফলে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় কমবে এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়িতে উৎসাহ
পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক উৎপাদনে বিশেষ কর সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের চিন্তা করছে সরকার।
এতে আগামী বছরগুলোতে হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হতে পারে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় সুখবর
ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর থাকা সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট এবং ৭ শতাংশ আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।
এটি বাস্তবায়িত হলে ইউটিউবার, ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা এবং অনলাইন সৃজনশীল পেশাজীবীরা সরাসরি উপকৃত হবেন।
স্বর্ণালঙ্কারের দামও কমতে পারে
স্বর্ণ বিক্রিতে বর্তমানে শতাংশভিত্তিক ভ্যাটের পরিবর্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এতে প্রতি ভরি স্বর্ণে ভ্যাটের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে স্বর্ণালঙ্কারের বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ক্রেতাদের খরচও কমবে।
যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে
দেশীয় শিল্প ও কৃষিপণ্যকে সুরক্ষা দিতে বেশ কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে— আমদানি করা কাজু বাদাম, বিদেশি প্রসাধনী, উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছ, সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য, নিকোটিন পাউচ, বিদেশি মদ, এমএস রড, বিলাসী খাদ্যপণ্য, কিছু ইলেকট্রনিক পণ্য।
বিশেষ করে সিগারেটের দাম প্রতি প্যাকেটে ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
করনীতির মূল বার্তা কী?
অর্থনীতিবিদদের মতে, এবারের বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে— ‘আমদানির পরিবর্তে উৎপাদন’। সরকার চাইছে দেশের ভেতরে শিল্প স্থাপন হোক, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হোক এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমুক।
একদিকে দেশীয় শিল্পের জন্য করছাড়, অপরদিকে বিলাসী ও আমদানিনির্ভর পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি— এই দ্বিমুখী কৌশলের মাধ্যমে সরকার শিল্পায়ন ও রাজস্ব আহরণের মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছে।
তবে শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে কর সুবিধার সুফল ভোক্তার কাছে পৌঁছানো, বিনিয়োগ বৃদ্ধির গতি এবং বাজারে কার্যকর নজরদারির ওপর। যদি উৎপাদন ব্যয় কমার সুবিধা ভোক্তারা পান, তাহলে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর পাশাপাশি দেশীয় শিল্পায়নের নতুন দিগন্তও উন্মোচিত হতে পারে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবন
দ্বিতীয়বারের মতো রাজস্ব সম্মেলন আয়োজন করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ১৮ আগস্ট রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগের দিন (১৭ আগস্ট) সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হবে।
এবারের সম্মেলন উদ্বোধন করবেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রদর্শনী স্টলও ঘুরে দেখতে পারেন সরকারপ্রধান।
কর ও কাস্টমস ক্যাডারদের দাবির মুখে ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো রাজস্ব সম্মেলন হয়। তখনকার প্রধানমন্ত্রী দুই দিনব্যাপী সেই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এবারের সম্মেলনটি হবে একদিনের।
এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘মূলত নতুন এনবিআর চেয়ারম্যানের উদ্যোগে রাজস্ব সম্মেলন হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেয়ে চেয়ারম্যান এ উদ্যোগ নিয়েছেন। অল্প সময়ের নোটিশে সব আয়োজন সম্পন্ন করতে হিমশিম পোহাতে হচ্ছে কমিটির সদস্যদের।’
এনবিআরের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এনবিআর পৃথক করা নিয়ে হওয়া আন্দোলনের সময় নিজেদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। মাঠ পর্যায়ে দমবন্ধ পরিবেশ বিরাজ করছে এখনও। নতুন সরকার ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ঠিকভাবে কাজ না করলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। সেজন্য নিজেদের মধ্যে দূরত্ব কমানো, মনোবল চাঙা করা এবং কাজের পরিবেশ নির্মল করতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সারাদেশের কর্মকর্তারা আসবেন। পরস্পর দেখা সাক্ষাৎ হবে। মানসিক দূরত্বও কমবে। তবে নির্দিষ্ট কোনো দাবি নেই।
দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আয়োজক কমিটিতে থাকা এক এনবিআর সদস্য বলেন, ‘চূড়ান্ত কিছু হয়নি। সব কিছু ১৮ তারিখে জানতে পারবেন।
তবে কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি বিভাগে এনবিআরকে পৃথকের বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসতে পারে।
রাজস্ব খাত সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার যে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, তা জাতীয় সংসদে পাসের জন্য তোলেনি বর্তমান বিএনপি সরকার। ফলে অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ যাচাই–বাছাই করার জন্য কমিটি গঠন করেছে ক্ষমতাসীন সরকার।
এই কমিটির সভাপতি হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। আর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
২৮ এপ্রিল এই কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ৯ সদস্যবিশিষ্ট ওই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক সচিব।
রাজস্ব সম্মেলন বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের এক সদস্য বলেন, ‘আমি এখনও কিছুই জানি না। আমাকে অফিসিয়ালি জানানো হয়নি।
এনবিআরের সাবেক এক সদস্য বলেন, ‘রাজস্ব সম্মেলন এই দ্বিতীয়বার হতে যাচ্ছে। এটি অনেকটা ডিসি সম্মেলনের মতো। তবে প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী, দাবি-দাওয়া উপস্থাপনের বিষয়টি নির্ভর করবে। আমার মনে হয়, এনবিআরের সক্ষমতা বৃদ্ধি একটি বড় দাবি হিসেবে আসতে পারে। বিশেষত, বাজস্বনীতি ও ব্যবস্থাপনার পৃথকীকরণ যেন নিরপেক্ষ সরকারের সময়ে গঠিত কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী হয়; সেটি উপস্থাপন করা যায়। এতে রাজস্ব বৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এনবিআরের দায়বদ্ধতাও বৃদ্ধি পাবে।
এনবিআরের সাবেক সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়ে রাজস্ব বোর্ডের উচিত সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি কী হবে তা জানানো। ২০২৩- ২০২৪ অর্থবছরেও একবার রাজস্ব সম্মেলন হয়েছিল। সে সম্মেলনে রাজস্ব বোর্ড প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির তথা আধুনিকায়ন কর্মসূচির সার্বিক সংস্কারের কথা না বলে ব্যয়ের জন্য রাজস্ব ভিত্তি সংকুচিত হচ্ছে এবং রাজস্ব আসছে না বলে অভিযোগ দিয়ে নিজেদের দায় থেকে রক্ষা করেন। এ কারণে সে সম্মেলন বিফল হয়েছে। এবার যাতে সেরকম না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও এর ব্যাপক সংস্কারের দাবি তুলে তাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সমর্থন চাইতে হবে। এটাই এবারের মূল বিষয় হওয়া উচিত বলে মনে করি।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ১৮ আগস্ট সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সম্মেলনে থাকা বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকালের পর রাজস্ব সংগ্রহ, রাজস্ব আওতা বাড়ানো সম্পর্কিত বিভিন্ন স্টল জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
সম্মেলনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ অতিথির অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান এবং অর্থনীতি, রাজস্ব ও বাণিজ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থাকবেন।
২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো রাজস্ব সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ওই সম্মেলনে এনবিআরের কার্যক্রম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, ভ্যাট, শুল্ক ও আয়কর বিষয়ে পৃথক সেমিনার, তথ্য বুথ এবং রাজস্ব ব্যবস্থার ইতিহাস তুলে ধরতে রেভিনিউ মিউজিয়াম প্রদর্শনের ব্যবস্থা ছিল।
কমিটি সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনকে সফল করতে এরই মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সাজসজ্জা, নিরাপত্তা, অতিথি আপ্যায়ন, অতিথি তালিকা প্রণয়ন ও অভ্যর্থনাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য ছয়টি উপ-কমিটি গঠন করে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক তদারকির জন্য ৩১ সদস্যের কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবকে। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মহিদুল হাসান। তিনি কর ক্যাডারদের সংগঠন বিসিএস ট্যাক্সেশন অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এনবিআর ও রাজস্ব আদায় সম্পর্কে জনগণ ও ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট ধারণা প্রদান, এনবিআর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা কমানো, রাজস্ব পদ্ধতিসহ নানা বিষয় সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান রাজস্ব প্রশাসনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আখতার হোসেনের চুক্তি বাতিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আজ বুধবার মানবসম্পদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
গত বছরের ১ জুলাই ড. মোহাম্মদ আখতার হোসেনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই সময় গভর্নর ছিলেন ড. আহসান এইচ মনসুর। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার এখনো প্রায় ১০ মাস বাকি। এর মধ্যেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত জানালো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চিফ ইকোনমিস্ট পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ড. মোহাম্মদ আখতার হোসেনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে বাতিল করা হলো।
প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে ড. আখতার হোসেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও পরিচালনা পর্ষদকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, মুদ্রানীতি এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বিষয়ে নীতিগত পরামর্শ দিতেন। অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে এ পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির লোগো
ইসলামী ব্যাংকের যে কর্মকর্তা সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমসহ (এস আলম) ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। ইসলামী ব্যাংকের সেই কর্মকর্তা হচ্ছেন মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে ট্রেনিং একাডেমিতে সংযুক্ত করেছে। ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, সাইফুল আলমসহ (এস আলম) ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের জন্য দুদকে অভিযোগ করেছিলেন ইয়াসীন আলী।
ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, শাখা পর্যায় থেকে দুদকে অভিযোগ করার সুযোগ নেই। ঋণের ক্ষেত্রে অনিয়ম হলে আদালতে যাওয়া হয়। আদালত প্রয়োজন মনে করলে অধিকতর তদন্তের জন্য দুদকে পাঠান। এ ছাড়া দুদকের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য আলাদা বিভাগ আছে।
মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন আরও বলেন, শাখার কর্মকর্তা কেন দুদকে অভিযোগ জমা দিলেন, তা পরিষ্কার নয়। বিভাগীয় তদন্তের জন্য তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাংক নিয়ম মেনে আদালতের কাছে যাবে।
তবে ব্যাংকের নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৬ জুলাইয়ের সিদ্ধান্তের পর ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলীকে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব দেওয়া হয়। সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি সোয়েটার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ করার জন্য তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২৭ জুলাই জারি করা চিঠিতে শাখা ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে তাঁকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জে এম সি বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি হিসেবে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ও পরে ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তিনি ব্যাংকের পরিচালকের পদ ছেড়ে দেন। নথি অনুযায়ী ২০১৭ সালের ৮ জুন থেকে ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।
আইএফআইসি ব্যাংক ও ঢাকা রিজেন্সির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
নির্বাচিত কার্ডধারীদের জন্য বিশেষ ডিসকাউন্ট ও আকর্ষণীয় সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি ও ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। মঙ্গলবার আইএফআইসি ব্যাংক প্রাঙ্গণে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।
সমঝোতা স্মারকে আইএফআইসি ব্যাংকের চিফ অব ব্রাঞ্চ বিজনেস অ্যান্ড হেড অব অপারেশনস হেলাল আহমেদ এবং ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের ডিরেক্টর অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং মাহমুদ হাসান স্বাক্ষর করেন। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তির আওতায় আইএফআইসি ব্যাংকের নির্বাচিত কার্ডধারীরা ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের বিভিন্ন ডাইনিং, আবাসন ও অন্যান্য হসপিটালিটি সেবায় স্পেশাল ডিসকাউন্ট ও এক্সক্লুসিভ অফার উপভোগ করতে পারবেন।
গ্রাহকদের জন্য বাড়তি সুবিধা ও উন্নত সেবার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে এই অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একীভূত হওয়া দুর্বল পাঁচ ব্যাংকের লোগো
একীভূত হওয়া পাঁচটি দুর্বল ব্যাংকের মালিকানা পুরোনো মালিকদের কাছে ফিরে পাওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এ সংক্রান্ত বিধান রেখে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে সংশোধনীটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
জানা যায়, ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট, দেউলিয়াত্ব বা অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ ঝুঁকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক সমাধান এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ২০২৫ সালে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। পরে তা সংশোধন করে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ করা হয়।
ওই আইনে ১৮ক ধারা সংযোজন করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে বাজারভিত্তিক বিকল্প ব্যবস্থায় রেজল্যুশনের আওতায় থাকা ব্যাংককে সচল রেখে পুনর্গঠন, মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট দূর করা, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারের আর্থিক দায় কমানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল।
তবে ১৮ক ধারার শর্ত পূরণ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় ধারাটি বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সংশোধনী আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। জানা যায়, দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনার মুখে এই ধারা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের স্বর্ণের বাজারে হঠাৎ করে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভরিতে ১০ হাজার টাকা বাড়ার পরদিন শুক্রবার তিন হাজার ২২৬ টাকা কমেছিল। এরপর গতকাল শনিবার ফের দাম বেড়েছে। ২২ ক্যারেট অর্থাৎ ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম চার হাজার ৩৭৪ টাকা বেড়ে হয়েছে দুই লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। একই সঙ্গে রুপার দামও বেড়েছে।
গতকাল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সমন্বয় করা হয়েছে। মূলত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে দাম বাড়ানো হয়েছে। বাজুসের নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ দুই লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম এক লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম হয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা।
স্বর্ণের সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম হয়েছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার ভরি এখন চার হাজার ৬৬৬ টাকা।
চলতি বছর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বেশ কয়েকবার পরিবর্তিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ বার বেড়েছে এবং ১২ বার কমেছে। গত বছরের ৮ আগস্ট প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল এক লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ টাকা। ঠিক এক বছর পর গতকাল এই মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল দুই লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ভরিতে বেড়েছে ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা। এক মাসের ব্যবধানেও কম বাড়েনি দাম। গত ৮ জুলাই প্রতি ভরির দাম ছিল দুই লাখ ২৫ হাজার ২৮৬ টাকা। এ হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে ভরিতে বেড়েছে আট হাজার ৭৪৮ টাকা। বাজুসের হিসাবে, বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের উত্তেজনা এবং স্থানীয় অর্থনীতির নেতিবাচক সূচকের কারণে চলতি বছরে স্বর্ণের দাম ১২ শতাংশ বেড়েছে।
চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দর ওঠে স্বর্ণের। ওই সময় ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি স্বর্ণের দর হয়েছিল দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকা। মূলত বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার দেশে রেকর্ড উচ্চতায় ওঠে দর। ওই সময় বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এরপর কিছুটা কমলেও ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হলে আবার পাঁচ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর দাম চার হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে। লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন এবং মার্কিন ডলারের দর স্বর্ণের দামে হ্রাস-বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকের সুদহারসহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বর্ণের দামে প্রভাব ফেলে।