ক্লিনিক্যালি দক্ষ ভেটেরিনারি গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্যে ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় ভেটেরিনারি অনুষদ এ কর্মশালার আয়োজন করে
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ভেটেরিনারি শিক্ষাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘ভেটেরিনারি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেটেরিনারি শিক্ষার আধুনিকায়ন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। ক্লিনিক্যালি দক্ষ ভেটেরিনারি গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্যে ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় ভেটেরিনারি অনুষদ এ কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় প্রকল্পের লক্ষ্য, কর্মপরিকল্পনা ও প্রত্যাশিত ফলাফল উপস্থাপন করেন ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রকল্পের সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. মুহাঃ ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘হিট’ প্রকল্পের অধীনে গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক রিসার্চ অ্যাওয়ার্ডিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রথম পর্বেই দুই বছর মেয়াদি এ গবেষণা প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছে, যা ভেটেরিনারি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের প্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে প্রকল্পের সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. মুহাঃ ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত কাজের মাধ্যমে এমন শ্রেণিকক্ষ গড়ে তোলা হবে যেখানে প্রতিটি লেকচার ডিজিটালি রেকর্ড থাকবে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সীমাবদ্ধতা থাকবে না। তারা যেকোনো সময় পাঠ দেখতে পারবে। পাঠদান হবে প্রযুক্তিনির্ভর এবং একঘেয়েমি দূর করতে আধুনিক উপস্থাপন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।গবেষণাগারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বৃদ্ধি করা হবে। শিক্ষার্থীদের গবেষণায় যুক্ত করা হবে। হাতে-কলমে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালকে আরও আধুনিক করা হবে। লক্ষ্য একটিই যে একজন শিক্ষার্থীকে ক্লিনিক্যালি দক্ষ ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে গড়ে তোলা।
ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বাহানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমুদ্দিন খান। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা। এছাড়াও ভেটেরিনারি অনুষদের সকল বিভাগের শিক্ষক ও অন্যান্য অনুষদের শিক্ষকবৃন্দ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, স্মার্টনেস শুধু পোশাক বা উপস্থাপনায় নয়, এটি আসে জ্ঞান ও চিন্তার গভীরতা থেকে। আগে শিক্ষকরা চক-ডাস্টার দিয়ে পড়াতেন। পরিশ্রম করতেন। আন্তরিকতা ছিল প্রশ্নাতীত। এখন স্লাইডভিত্তিক শিক্ষা এসেছে। তবে সব বিষয়ের জন্য একই পদ্ধতি প্রযোজ্য নয়। কোথাও স্লাইড দরকার, কোথাও আলোচনা, কোথাও ছবি বা ভিডিও, আবার কোথাও ব্যবহারিক শিক্ষার গুরুত্ব বেশি। কোন বিষয় কীভাবে পড়ানো হবে, তা নির্ভর করে শিক্ষকের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার ওপর।প্রকল্পের প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শিক্ষকরা আরও নিবিড়ভাবে পাঠদান করতে পারবেন।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমুদ্দিন খান বলেন, প্রতিযোগিতামূলক গবেষণায় অর্থায়ন পাওয়াটা অনেক বড় একটি অর্জন। আবেদন প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ আবার ব্যয়ও বেশি। অনুমোদন না পেলে গবেষণার অগ্রগতি থেমে যায়, আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব পড়ে। সেদিক থেকে বাকৃবিকে অভিনন্দন জানাই।
তিনি বলেন, দেশে ভেটেরিনারি সায়েন্সে দক্ষ বিজ্ঞানীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে কাজের যথাযথ প্রচার ও স্বীকৃতি সবসময় মেলে না। সাম্প্রতিক সরকারি উদ্যোগ, স্কলারশিপ এবং বিনামূল্যে ভেটেরিনারি ক্লিনিক চালু হওয়ায় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন উপযুক্ত পরিবেশ, যান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা। হিট প্রকল্প সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।
শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্র শিক্ষাকে জাতীয় প্রতিরক্ষা ওলনিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করে। রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তবে আমি প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানাবো, আর্থিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখবেন। আপনাদের কাজটি যাতে আগামীর গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণার হয়ে ওঠে সেই চেষ্টা করবেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ছাত্রদলের একাংশের উদ্যোগে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অবস্থিত হাজী সালেহ উদ্দিন নূরুল উলুম মাদ্রাসায় এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহীন আলম, মেজবাউল হক মিজু, মো. নুরনবী হোসেন, মো. শামীম রেজা, দানিয়েল ইবনে আহাম্মেদ, সদস্য সাকলাইন হোসেন সাকিব, সাকিব আহাম্মেদসহ হল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার সমুন্নত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় বাকৃবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেজবাউল হক মিজু বলেন, ‘আপসহীন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া সারাজীবন বাংলাদেশের মানুষের জন্য এবং গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্যাতন, কারাগারের ভয়াবহ দিন ও চিকিৎসাবঞ্চিত থাকার মতো কোনো নির্যাতনই তাঁকে দমাতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আপসহীন দেশনেত্রী আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া সংগ্রামের ইতিহাস ও আদর্শকে ধারণ করে আমরা ছাত্রদল আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ব—এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আপসহীন দেশনেত্রীকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।’
ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহীন আলম বলেন, ‘দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য তাঁর সারাজীবন বিসর্জন দিয়েছেন। তিনি দল-মতনির্বিশেষে সবার জন্য নিবেদিত ছিলেন। তাঁর আপসহীন নেতৃত্বের কারণে দেশের মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার ও বাক্স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের জন্য আদর্শ। এই আদর্শ ধারণ করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সামনে এগিয়ে যেতে চায় এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করতে চায়।’
যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নুরনবী হোসেন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের অন্যতম প্রধান নেত্রী। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেছেন। গণতন্ত্রের জন্য তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ দেশের মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে সামনে রেখে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাবে।’
যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শামীম রেজা বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও গণতন্ত্রের প্রতীক। দেশ ও মানুষের অধিকার রক্ষায় তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর জন্মবার্ষিকীতে আমরা তাঁর আদর্শ ও দেশপ্রেম হৃদয়ে ধারণ করে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।’
কমলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কমল, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়’-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসময় সংগঠনের সদস্যরা ক্যাম্পাসের কয়েকটি স্থানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মোতাছিম বিল্লাহ পাটোয়ারী রিফাত, সদস্যসচিব নাঈম হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
কর্মসূচি নিয়ে সংগঠনের উপদেষ্টা মোতাছিম বিল্লাহ পাটোয়ারী রিফাত বলেন, “বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ। তাই আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কমল, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়’-এর উদ্যোগে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।”
সংগঠনের সদস্যসচিব নাঈম হোসেন বলেন, “সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘কমল, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়’ এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দেশনায়ক তারেক রহমানের সবুজ বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। আজকের একটি গাছই আগামী প্রজন্মের জন্য নির্মল বাতাস, ছায়া ও নিরাপদ পরিবেশের নিশ্চয়তা হতে পারে।”
সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ক্যাম্পাসকে আরও সবুজ করে তুলতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার উদ্যোগ রয়েছে।
কুবি ছাত্রদলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল
প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখার উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বাদ আছর বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর মোড় সংলগ্ন জামিয়া মোহাম্মদিয়া তা'লিমুল কুরআন মাদ্রাসায় (পাকিস্তান মসজিদ) এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদদের জন্য দোয়া করা হয়।
এ বিষয়ে কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবুল বাশার বলেন, ‘আমাদের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য একটাই, যাতে এতিম, অসহায়, দুস্থ ও কোমলমতি শিশুদের দোয়ায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে আল্লাহ তায়ালা জান্নাত দান করেন। আমাদের এই নেত্রী দীর্ঘদিন ধরে এ দেশের মানুষের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। স্বৈরাচার এরশাদের আমল থেকে শেখ হাসিনার পতন পর্যন্ত তিনি আন্দোলন-সংগ্রাম করে গেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আজকের এই দিনে আমরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। পাশাপাশি সাড়ে ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির যেসব নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ আবদুল কাইয়ুমের মাগফিরাতও কামনা করছি। যারা আহত হয়েছেন, তাঁদের সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল এভাবেই সবসময় শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যাবে।’
কুবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘এই দোয়ার আয়োজনটি মূলত ছিল আপসহীন দেশনেত্রী ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য। আজ তিনি এই পৃথিবীতে নেই। আমরা বাংলাদেশের জনগণ সবাই তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তাঁর আপসহীনতার গুণাবলি এবং গণতন্ত্রের জন্য তাঁর যে সংগ্রাম, তা মনে ধারণ করে আগামী দিনে আমরা প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। পাশাপাশি আমরা প্রত্যাশা করি, বর্তমান সময়ের রাজনীতি এবং আগামী দিনের রাজনীতি হবে পরিবর্তনের রাজনীতি। চিরাচরিত নিয়মে কারও জন্মদিনে কেক কেটে উদযাপন করার পরিবর্তে আমরা এখন প্রতিটি মানুষের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করি। পাশাপাশি আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থী ভাই-বোন এবং এতিম শিশুরা, যারা বিভিন্ন সময় অর্থের অভাবে পাঠ্যপুস্তক কিংবা শিক্ষাসামগ্রী কিনতে পারে না, তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছি।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব আশরাফ উদ্দীন খান।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ফারুকুজ্জামান খান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং ইউট্যাবের সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান।
এছাড়া ছাত্রদল ইবি শাখার আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন, সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ ও সাবেক আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।
দোয়া মাহফিলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আজ ৮২তম জন্মদিন। তাঁর পুরো জীবনটাই বাংলাদেশের মানুষ এবং গণতন্ত্রের জন্য তিনি উৎসর্গ করেছেন। স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি বিগত সরকারের দ্বারা নিপীড়িত, নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত হয়েছেন। আমরা মন খুলে এই মহান ব্যক্তির জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করব। আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাত নসিব করেন।”
আন্তবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) বিতর্ক দল ‘বুটেক্সডিসি বুনন’। আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে প্রথম আলো বন্ধুসভা আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটিকে হারিয়ে শিরোপা জেতে দলটি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ‘আগামীর বাংলাদেশ: তারুণ্যের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মাইগ্রেশন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক রাশেদা রওনক খান, ইউএনডিপি বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশন্স মো. আব্দুল কাইয়ুম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চাইল্ড অ্যান্ড ইয়ুথ লিডারশিপের অ্যাডভাইজার ফারজুনী রেজা, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ব্র্যাকের ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম ও মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আব্দুল কাদির এবং এঞ্জেলস বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বেনজীর আরাফার। আলোচনা সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার বিতর্ক ও অনুষ্ঠান সম্পাদক এসএম কামরুল ইসলাম।
সংসদীয় ধারার এ প্রতিযোগিতায় প্রথম পর্বে আটটি দল অংশ নেয়। সেখান থেকে চারটি দল পরবর্তী পর্বে উন্নীত হয়। পরবর্তী পর্বের বিজয়ী দুটি দল ফাইনালে মুখোমুখি হয়। চূড়ান্ত পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটিকে পরাজিত করে বুটেক্সডিসি বুনন চ্যাম্পিয়ন হয়।
চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন বুটেক্সের ৪৮তম ব্যাচের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মাহমুদুল হাসান, অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাদ আল আশরাফি এবং ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। ফাইনালের শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।
বুটেক্স ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘২০২৬–২৭ কার্যনির্বাহী কমিটির এটি প্রথম সাফল্য। বড় মঞ্চে বুটেক্সকে তুলে ধরতে পারা এবং প্রতিযোগিতামূলক বিতর্কে বুটেক্স ডিবেটিং ক্লাবের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে পারায় আমি গর্বিত।’
সাধারণ সম্পাদক সাদ আল আশরাফি বলেন, ‘নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করে বিজয় অর্জন করা সব সময়ই গর্ব ও সৌভাগ্যের বিষয়। এই সাফল্য শুধু তিনজন বিতার্কিকের নয়; ক্লাবের সদস্য, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষী সবার।’
ফাইনালের শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বুটেক্সডিসির জন্য কিছু করতে পারা সত্যিই এক অনন্য অনুভূতি। জাতীয় পর্যায়ে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করা অত্যন্ত গর্বের বিষয়।’
সমাপনী পর্বে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া বিতার্কিক ও বিচারকদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) মশক নির্মূল অভিযান ও ডেঙ্গু সচেতনতামূলক র্যালির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) বাকৃবি প্লাটুন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন, প্লাটুন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট অধ্যাপক এ কে এম রফিকুল ইসলাম, পিইউও বাকৃবি প্লাটুন ও সহকারী অধ্যাপক মো: তারিকুল ইসলাম, সামরিক প্রশিক্ষক সার্জেন্ট আতোয়ার রহমান এবং কর্পো: পাপেল মাহমুদসহ বাকৃবি বিএনসিসি সদস্যবৃন্দ।
আয়োজকরা জানান, দেশব্যাপী ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রোধ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই আয়োজন।
সহকারী অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম বলেন , বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) অধিদপ্তরের নির্দেশনায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি প্লাটুন এ র্যালি ও মশক নিধন অভিযানের আয়োজন করেছে। এর মূল লক্ষ্য ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক কল্যাণে বিএনসিসির এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ গঠনে সচেতনতা বাড়বে বলে আশা করছি ।
অধ্যাপক এ কে এম. রফিকুল ইসলাম বলেন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো দেশের যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এবং দুর্যোগের সময় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা।
তিনি আরও বলেন আজকের এই র্যালির আয়োজন করা হয়েছে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য। মশার কামড় থেকে হওয়া এই রোগটি রুখতে হলে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আজকের এই র্যালির আয়োজন করা হয়েছে।