ছবি : সংগৃহীত
সংস্কার শেষে চালু হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা, যেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি ঠাঁই না পেলেও নতুন যুক্ত হয়েছে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর আলোচিত ছবি।
শিক্ষার্থী সংসদের মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা রোববার দুপুরে ডাকসু ভবনের নিচতলায় সংস্কার করা এ সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ অন্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের পর সংগ্রহশালা ঘুরে দেখা যায়, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদী হত্যার পূর্বাপর বেশ কিছু স্থিরচিত্র সেখানে স্থান পেয়েছে।
পাকিস্তানের নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি দেখা যায় সংগ্রহশালায়। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’।
১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি গ্রুপ ছবিতেও জিন্নাহ রয়েছেন। ওই সম্মেলনেই ভারতীয় উপমহাদেশে বসবাসকারী মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্রের দাবি সংবলিত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছিল।
অপর ছবিটি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে জিন্নাহর ছবি সংবলিত পাকিস্তানের ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং।
ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন সাবেক ঢাবি শিক্ষার্থী
ডাকসুর সংগ্রহশালায় আরো দেখা গেল আবদুল হামিদ খান ভাসানী, এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, এম এ জি আতাউল গণি ওসমানী, নবাব সলিমুল্লাহ, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ছবি।
বঙ্গবন্ধুর কোনো একক বা গুরুত্বপূর্ণ ছবি সংগ্রহশালায় রাখা হয়নি। তবে ১৯৭৪ সালে তার দুই ছেলের বিয়ের ছবি এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত তিনটি পেপার কাটিং রাখা হয়েছে।
ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয় দফা, আগরতলা মামলা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন কিংবা ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো ছবি সেখানে চোখে পড়েনি।
জানতে চাইলে ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, “২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর ফ্যাসিবাদের সব আইকনের ছবি এখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তাই এখানে রাখা হয়নি। আর ৭২-৭৫ সালের অংশে তো তার ছবি আছে।
কিন্তু ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল অংশে কেন নেই, এ প্রশ্নে জুমা বলেন, “ইচ্ছা হয়নি, তাই রাখিনি।”
তাহলে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি কেন রাখা হয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমি জিন্নাহর ছবি রাখিনি, সেই ইভেন্টের ছবি রেখেছি।”
২০২৫ সালে ডাকসু নির্বাচনের আগেও বঙ্গবন্ধুর বেশকিছু ছবি ডাকসুর সংগ্রহশালায় ছিল।
ডাকসু নির্বাচনের আগের দিন ৮ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদনেও ডাকসু সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধুর একাধিক ছবি সংবলিত চিত্র প্রকাশ হয়েছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডাকসুর এক কর্মচারী বলেন, “২০২৫ সালে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির জয়ী হওয়ার পর সেই ছবিগুলো সেখান থেকে সরিয়ে ফেলেছে।”
সংগ্রহশালায় আরও যা যা আছে
১৯৪৭—১৯৭১
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদ থেকে শুরু করে সেসময়ের আন্দোলনের কিছু দৃশ্য এবং মাহবুব উল আলম চৌধুরীর ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’ কবিতাসহ ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক পিয়ারু সরদারের ছবি সেখানে রাখা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরের কমান্ডার, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের ছবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ কয়েকজনের বুদ্ধিজীবীদের মুখাবয়ব, সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবি স্থান পেয়েছে সংগ্রহশালায়। এসব ছবির নিচের দিকে মুক্তিযুদ্ধে একটি খোদাই চিত্র আছে, যেখানে বঙ্গবন্ধুও আছেন।
১৯৭১—১৯৮১
১৯৭১ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের দুই ছেলের বিয়ের ছবি এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত তিনটি পেপার কাটিং বাঁধাই করে রাখা হয়েছে। ‘বাংলাদেশে কোনো বিরোধীদল নেই’শীর্ষক সংবাদের পেপার কাটিং এবং চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের দুটি ছবি ডাকসুর সংগ্রহশালায় রাখা হয়েছে।
আর প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলের ছবি হিসেবে খাল খননের দৃশ্য; খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের একসঙ্গে একটি স্থিরচিত্র; জিয়াউর রহমানের যুদ্ধের সময়ের দুটি ছবি এবং ১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পেপারের একটি ছবি সেখানে স্থান পেয়েছে।
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি থাকাকালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ১৪টি স্থিরচিত্র সেখানে রাখা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে—শহীদ নূর হোসেনের শরীরে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তিপাক’ লেখা সেই আইকনিক ছবি। এছাড়া ডাকসুর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত শহীদদের তালিকা, শহীদ আসাদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যসহ আরও কয়েকটি ছবি সেখানে রাখা হয়েছে।
২০০৯—২০২৪
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগ আন্দোলন, বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ ও সানি হত্যাকাণ্ড, ২০২০ সালের মোদী বিরোধী আন্দোলন ও সর্বশেষ জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ছবি সেখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বিশেষ কোনো স্থিরচিত্র পাওয়া যায়নি।
সাহিত্যিক যারা আছেন
ডাকসুর সংগ্রহশালায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম থেকে শুরু করে হুমায়ুন আহমেদ, কবি জসীমউদ্দিন, আবুল কাশেম ফজলুল হক, মুনীর চৌধুরী, আবুল ফজলসহ বরেণ্য সাহিত্যিকদের ছবি স্থান পেয়েছে।
হাদীও আছেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় স্থান পেয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়া থেকে শুরু করে সিঙ্গাপুর থেকে লাশ আনা, জানাজা এবং কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফনের ছবি।
ডাকসু বোর্ড
ডাকসু বোর্ডে ২০১৯ সালে নির্বাচিত সহ-সভাপতি নুরুল হক নুরের নাম লেখা হলেও সাধারণ সম্পাদকের নাম খালি রাখা হয়েছে। সেই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় পেয়েছিলেন তৎকালীন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।
পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে ছাত্রত্ব না থেকেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন তার পদ বাতিল করে ওই মেয়াদে ডাকসুর জিএস ঘোষণা করেন রাশেদ খাঁনকে, যিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর দায়িত্বে রয়েছেন।
কেন সেই ঘর খালি রাখা হয়েছে জানতে চাইলে ডাকসুর বর্তমান জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, “রাব্বানী ও রাশেদ খাঁন—দুজনেরই বিষয়ে বিতর্ক আছে। কারণ রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল হয়েছে, ঠিক আছে। কিন্তু সেই ডাকসু কমিটির তো মেয়াদ শেষ।
“এখন কারো নাম ঘোষণা করলে সেই জিএস হয়ে গেছে এমন না। এক্ষেত্রে তাদের দুজনের যেহেতু বিতর্ক আছে, তাই আমরা খালি রেখেছি।”
যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা
সবশেষ ডাকসু নির্বাচনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা নেতৃত্বাধীন ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন নূমান আহমাদ চৌধুরী।
মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক পদে ভোট করা নূমান বলেন, “শুনলাম ডাকসু সংগ্রহশালার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। নতুন করে সাজানো হয়েছে। তবে একটিবারের জন্যও ওদিকে যাবার আগ্রহ হয়নি।
“কারণ জানি যে সংস্কার কাজ করেছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সরাসরি যুদ্ধাপরাধের সাথে যুক্ত থাকা সংগঠন ‘পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘ’র (পরিবর্তিত নাম ইসলামী ছাত্রশিবির) প্যানেল।”
তিনি বলেন, “তাদের করা সংস্কার কীরকম হতে পারে, সেটা আগে থেকেই অনুমান করা যায়। লোকমুখে জানতে পারলাম, সেখান থেকে আমাদের মুক্তি সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে ফেলে পাকিস্তানের জাতির পিতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি টাঙানো হয়েছে; যেই জিন্নাহ শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের সাথে বেঈমানি করে তার লাহোর প্রস্তাব কাঁটছাট করে পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের সাথে জুড়ে দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষকে একাত্তরের বিভীষিকার দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন।”
নূমান আহমাদ চৌধুরী বলেন, “ডাকসু মুজিবের ছবি রেখেছে, তবে মুজিবের জীবনের যে অধ্যায়টা বিতর্কিত—সেই সময়ের ছবি রেখেছে। কিন্তু যে মুজিবকে সামনে রেখে পুরো বাঙালি জাতি মুক্তিসংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, সেই মুজিবকে সরিয়ে ফেলেছে।
“ওরা আপামর বাঙালির নেতা শেখ মুজিবকে মুছে দিয়ে শুধু তার বিতর্কিত অধ্যায়টা রাখতে চায়; কারণ তাকে মুছে দিতে পারলে ও বিতর্কিত করতে পারলে বাংলাদেশের জন্মকে ও স্বাধীনতার সংগ্রামকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়। ১৯৭১ এ পরাজয়ের জ্বালায় একটু প্রলেপ দেওয়া যায়।”
তিনি বলেন, “একাত্তর পূর্ববর্তী সময়ে পাকিস্তানি শাসকদের এক নম্বর পূর্ববঙ্গীয় শত্রু ছিলেন শেখ মুজিব। তাদের উত্তরসূরিদের ক্ষেত্রেও তাই হওয়াটাই স্বাভাবিক। স্বাধীনতার পর শিবিরের আদি পিতা যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম চেষ্টা করেছিলেন ভেঙে দুই টুকরা হয়ে পাকিস্তানকে পুনরায় জোড়া লাগানোর। গোলাম আযমের উত্তরসূরিরা যে তার সেই পরিকল্পনা থেকে এখনো সরে আসেনি, ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি সরিয়ে ফেলাই তা প্রমাণ করে।”
ডাকসুর সাবেক এক নেতা বলেন, “এর আগে কখনো জিন্নাহর ছবি ডাকসুতে ছিল না। ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্র সংসদে আসার পর এ ছবি যুক্ত করেছে।”
ডাকসু সংগ্রহশালায় এখন কোনো তত্ত্বাবধায়ক নেই। এর আগে গোপাল চন্দ্র দাস নামে একজন ছিলেন, যাকে সবাই ডাকসুর গোপাল দা নামেই চেনেন। তিনি কয়েক বছর আগে অবসরে যাওয়ার পর কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
গোপালচন্দ্র দাসকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “আলী জিন্নাহর ছবি জীবনেও ছিল না। আমি ১৯৯১ সাল থেকে এখানে কাজ করি। এ সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা থেকে আমি সব দুর্লভ ছবিগুলো সংগ্রহ করেছি। ভাষা আন্দোলনের আমগাছটাও আমার সংগ্রহ করা। আর আলী জিন্নাহর থাকবেই বা কেন? বাংলাদেশকে আজ পাকিস্তান বানিয়েছে শিবির।”
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি নেই শুনতেই গোপালচন্দ্র দাস বলেন, “হায় হায়, এখানে অনেক রেয়ার কিছু ছবি ছিল। তাও শেষ করে ফেলছে শিবির! কী আর বলব!"
অভিযোগের বিষয়ে শিবিরের বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে ।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নোবিপ্রবি ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) সেমিনার কক্ষে সামাজিক সংগঠন স্বজন এর উদ্যোগে সচেতনতামূলক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি তাদের মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পড়াশোনা, পারিবারিক প্রত্যাশা, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার, সম্পর্কসহ নানা কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে সমস্যাগুলো নিজের মধ্যে চেপে না রেখে পরিবার, বন্ধু, শিক্ষক কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী পেশাদার পরামর্শদাতার সঙ্গে কথা বলা জরুরি।
উপাচার্য আরও বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য ও শারীরিক সুস্থতা পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। তাই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, সামাজিক যোগাযোগ এবং ইতিবাচক জীবনযাপনের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।
একই সঙ্গে বন্ধু, সহপাঠী ও স্বজনদেরও আশপাশের মানুষের আচরণ ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তনের প্রতি সচেতন দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
সেমিনারে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের ছবি সংগ্রহশালায় প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের এ অবস্থানের কথা জানায়।
প্রশাসনের ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও ঘটনাবলির উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের মর্যাদা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। জিন্নাহ ও আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি সেই ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তারা এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
ডাকসুর সংগ্রহশালা সংস্কারে ঠাঁই পেলেন জিন্নাহ, সরলো বঙ্গবন্ধুর ছবি
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডাকসু ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তবে এর সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছে, সংগ্রহশালায় বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডাকসুর ‘নির্ভীক জুলাই’ নিয়েও আপত্তি
ডাকসু সংগ্রহশালার পাশাপাশি ডাকসুর আরও কয়েকটি কর্মকাণ্ড নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
প্রশাসনের অভিযোগ, ডাকসু ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবনসংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে দুটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে। এসব স্থাপনা নির্মাণের আগে সিন্ডিকেট বা উপাচার্যের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি এবং প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনাও করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডার, ১৯৭৩-এর ২৪(এ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তির তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিন্ডিকেটের ওপর ন্যস্ত। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের Ordinances and Regulations-এর Chapter XIV-এর ধারা ৪-এর নোট অনুযায়ী, ছাত্র সংসদকে উপাচার্যের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
এ কারণে অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ ডাকসুর এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন সাবেক ঢাবি শিক্ষার্থী
শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট নিয়েও আপত্তি
শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য ডাকসুর উদ্যোগে অনুমোদন ছাড়া একটি ওয়েবসাইট চালুর বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
কর্তৃপক্ষ বলেছে, শিক্ষক মূল্যায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। এ জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ‘টিচিং ইভালুয়েশন’ নীতিমালা রয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদিত। তাই অনুমোদিত কাঠামোর বাইরে পৃথক কোনো শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর সুযোগ নেই।
প্রশাসনের দাবি, ডাকসুর চালু করা ওই ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে। এটি আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অনুমোদিত নীতিমালার বাইরে গিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার শামিল বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
‘দ্বৈত প্রশাসন’ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের ‘দ্বৈত প্রশাসন’ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে সমান্তরাল কোনো কাঠামো বা প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
প্রশাসনের ভাষ্য, ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি ও নীতিমালার বাইরে গিয়ে কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই।
ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ কিংবা পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
পুরান ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিচালিত বিতর্ক সংগঠন ‘ওল্ড ঢাকা ডিবেটিং সোসাইটি’র সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বোটানি বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার তানভীর এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়ামিন সাদাত।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির নেতৃত্ব নির্বাচনে তারা এ দায়িত্ব পান। শাহরিয়ার তানভীর বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। আর ইয়ামিন সাদাত ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
পুরান ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্কচর্চার প্রসার, যুক্তিবোধ ও চিন্তাশক্তির বিকাশ এবং নেতৃত্বের দক্ষতা তৈরিতে কাজ করছে ওল্ড ঢাকা ডিবেটিং সোসাইটি। নিয়মিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কর্মশালা ও বিভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একটি সুস্থ ও যুক্তিনির্ভর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ইয়ামিন সাদাত বলেন, “ওল্ড ঢাকা ডিবেটিং সোসাইটির সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি আনন্দিত। আমাদের লক্ষ্য হলো বিতর্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, চিন্তাশক্তি ও নেতৃত্বের দক্ষতা বিকশিত করা। সবার সহযোগিতায় পুরান ঢাকায় একটি শক্তিশালী বিতর্কচর্চার পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
নির্বাচিত সভাপতি শাহরিয়ার তানভীর বলেন, “পুরান ঢাকার ঐতিহ্য ও মুক্তচিন্তার ধারাকে সঙ্গে নিয়ে, ওল্ড ঢাকা ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি হতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। নিয়মিত কর্মশালা ও বিতর্ক উৎসবের মাধ্যমে পুরান ঢাকার যুক্তিবাদী চর্চাকে আরও গতিশীল করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।”
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ছাত্রদলের মশকনিধন কর্মসূচী
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ‘ক্লিন ক্যাম্পাস, গ্রিন ক্যাম্পাস; ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাই একসঙ্গে’ স্লোগানে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে মশকনিধন ও স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ১০ দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ ও সদস্য সচিব মো. আবুল বাশার স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীমের কাছে প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে ছাত্রদলের স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ক্যাম্পাসে মশকনিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন, মুক্তমঞ্চসংলগ্ন এলাকা এবং শিক্ষার্থীদের চলাচলের বিভিন্ন স্থানে ফগার মেশিনের মাধ্যমে স্প্রে করা হয়। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা স্থানগুলোতেও মশকনিধন কার্যক্রম চালানো হয়।
স্মারকলিপিতে জরুরি ভিত্তিতে ক্যাম্পাসজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ড্রেন, নালা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়মিত পরিষ্কার ও সচল রাখার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে নিয়মিত মশকনিধন ও ফগিং কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া আবাসিক হলগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ঝোপঝাড় ও পরিত্যক্ত স্থান পরিষ্কার, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছে। এসব কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় ব্যবস্থা চালুর কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. আবুল বাশার বলেন, “শুধু কর্মসূচি পালন করাই যথেষ্ট নয়, পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সুরক্ষাকে নিয়মিত চর্চায় পরিণত করতে হবে। প্রশাসন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগেই একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব। পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতেও মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।”
আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ঘোষিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। প্রত্যেক আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবনে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা এবং ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।”
ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় রাখা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলেছেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ'র প্রদর্শিত ছবি দুটি ছিড়ে ফেলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং সবশেষ ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
ছবি ছিঁড়ে ফেলার সময় আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, ‘কার্জন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে, বাংলা হবে না বলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূত্রটা জিন্নাহ তৈরি করে দিয়েছিলেন। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র তখন প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, জিন্নাহ সাহেব, আপনার এই সিদ্ধান্ত আমরা মানি না।’
তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের মূল নায়ক হিসেবে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ১১ মার্চ ১৯৪৮ শুরু করেছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্বে হরতাল পালন হয়েছিল। সেখানে অনেক ছাত্র গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, দুই হাজারের ওপরে। সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।’
জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা প্রসঙ্গে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ সমকালকে বলেন, ‘আমরা জিন্নাহকে দায়মুক্তি দেইনি। জিন্নাহ যে বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল আমরা সেটাই তুলে ধরেছি। বরং যারা জিন্নাহর ছবি ছিঁড়েছে তারাই মূলত জিন্নাহ প্রেম দেখাচ্ছে।’
আবার ছবি লাগানো হবে কিনা সে ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে ডাকসুর সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নার ছবি টাঙানোর প্রতিবাদ জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছেছবিটিঅপসারণে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে সংগঠনটি।
উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ শেষে ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস সাংবাদিকদের বলেন, বিতর্কিত ডাকসু থেকে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের অধিকাংশ ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জড়িত। সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দগজন বিতর্কিত ব্যক্তির ছবি তারা টাঙিয়েছে। আমরা এটা সহ্য করতে পারি না। এটা অপসারণ করা না হলে ছাত্রদলে ঢাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অফিস এবং ডাকসু সংগ্রহশালায় কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
তিনি বলেন, অভ্যুত্থানকে স্মরণ করতে একটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তি প্রস্তর ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধন করেছে। কিন্তু তার আগেই বিতর্কিত ডাকসু রাতের অন্ধকারে ডাকসু ও মধুর ক্যান্টিনের সামনে একটি স্তম্ভ করেছে।কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে আরেকটি করতে চাচ্ছে। এভাবে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে কেউ যদি রাজনৈতিকভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা করে, তা আমরা মানব না।
ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রসঙ্গে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (একাংশ) ঢাবি সংসদের সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা জিন্নাহর ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতা আমাদের রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলন, যা উনসত্তরের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়। ডাকসু এই ভাষা আন্দোলনসহ স্বাধিকার আন্দোলনে অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখে। ডাকসুর সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করা ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি স্পষ্ট অবমাননা। চাওয়া ছিল– মহান মুক্তিযু্দ্ধকে আওয়ামী দখলদারিত্ব এবং হেয় করা– এই দ্বিমুখী অপতৎপরতার বিপরীতে ডাকসু এদেশের মানুষের প্রকৃত লড়াইয়ের ইতিহাস ছাত্র-জনতার কাছে তুলে ধরবে । ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হবে না, ডাকসু হবে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর। কিন্তু ডাকসু এদেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে সামনে আনার পরিবর্তে মুছে দেওয়ার অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ, যা এদেশের মানুষের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অর্জন। এটা কোনো একক দলের সম্পত্তি নয়। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের অসংখ্য কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ফসল। এদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ডাকসুর ঐতিহাসিক অবদান আছে। ডাকসুর বর্তমান নেতৃবৃন্দ লড়াইয়ের এই জন-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেনি। বরং বিকৃতি ও দলীয়করণের অপচেষ্টা করছে। ডাকসুকে সুনির্দিষ্ট দলীয় ও আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি সংসদের আহবায়ক সৈকত আরিফ বলেন, ডাকসু লজ্জাজনকভাবে ইতিহাসকে বিকৃতি করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলনের প্রথম পর্যায় ভাষা আন্দোলন শুরু হয়েছিলো তা জিন্নার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই তৈরী হয়েছিলো। রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে তিনি বলেছিলেন "উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্থানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।" সেখানে ডাকসু জিন্নাহকে হিরো হিসেবে উত্থাপন করেছে তা ইতিহাস বিকৃতি। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একইসাথে ডাকসু সংগ্রহশালায় ইতিহাসকে যেভাবে উত্থাপন করা হয়েছে তা ইতিহাসের বিকৃতি। এই ঘটনায় ডাকসুর নেতৃবৃন্দের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
এর আগে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা ডাকসু ভবনের নিচতলায় সংস্কার করা এ সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ অন্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি দেখা যায় সংগ্রহশালায়। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। আরেকটি১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি গ্রুপ ছবিতেও জিন্নাহ রয়েছেন। ওই সম্মেলনেই ভারতীয় উপমহাদেশে বসবাসকারী মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্রের দাবি সংবলিত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছিল।
অপর ছবিটি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে জিন্নাহর ছবি সংবলিত পাকিস্তানের ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শেকৃবির সিন্ডিকেট সদস্য ও সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি। শেকৃবি ছাত্রদলের সভাপতি আহমদুল কবীর তাপসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিএম আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল বাশার।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার পাশাপাশি আগামী তিন মাস সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শেকৃবি ঢাকার মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শেকৃবি ছাত্রদলের সভাপতি আহমদুল কবীর তাপস বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি হলেই ডেঙ্গু রোগী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও নিয়মিত মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
পরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা ও দিকনির্দেশনামূলক ব্যানার প্রদর্শনের পাশাপাশি ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।