জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স (নিয়মিত) প্রোগ্রামে অনলাইন প্রাথমিক আবেদন কার্যক্রমের সময় বাড়ানো হয়েছে।
আগামী ১৫ মার্চ দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন আগ্রহী শিক্ষার্থীরা। ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন ফরম পূরণ করে প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করতে হবে। প্রাথমিক আবেদন ফি বাবদ এক হাজার টাকা আবেদন করে কলেজে (কলেজ কর্তৃক নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অথবা সরাসরি) ১৬ মার্চ ২০২৬ সালের মধ্যে জমা দিতে হবে।
সময়সূচি অনুযায়ী, কলেজ কর্তৃপক্ষকে ১৮ মার্চ মধ্যে আবেদন ফরম অনলাইনে নিশ্চয়ন করতে হবে। আবেদনকারীপ্রতি ৮০০ টাকা হারে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ ‘ভর্তি ফান্ড’-এ ৩০ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত যেকোনো সোনালী ব্যাংক শাখায় জমা দেওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, ১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তির অন্যান্য শর্ত ও নিয়মাবলি অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিস্তারিত তথ্য ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটের ‘Prospectus/Important Notice’ অপশন থেকে জানা যাবে।
সাহিদ সুলতান, সিফাত মাহমুদ, সুস্মিতা দাস, তাসনীম তাবাসসুম প্রভা (বাঁ থেকে)
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের (এগ্রিরোভার্স) নতুন ক্রু কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের জন্য চারটি দলের রোভার ও গার্ল ইন রোভারদের নিয়ে ৩২ সদস্যের এ কাউন্সিল গঠন করা হয়।
সোমবার সংগঠনটির সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাহিদ জেবা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
নতুন কাউন্সিলে রোভার সাহিদ সুলতান সবুজ (৩৯তম দল), রোভার সিফাত মাহমুদ (৩৫তম দল), গার্ল ইন রোভার সুস্মিতা দাস (৯৯তম দল) ও গার্ল ইন রোভার তাসনীম তাবাসসুম প্রভা (৯৯তম ‘খ’ দল) সিনিয়র রোভারমেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমে গতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি নবীনদের নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে শেকৃবি রোভার স্কাউট গ্রুপের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও এগিয়ে যাবে।
১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপ শুরু থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেবার মানসিকতা তৈরি, নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ এবং ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
ঢাকা জেলা রোভারের আওতাভুক্ত এ ইউনিটের পাঁচজন সদস্য এ পর্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রেসিডেন্ট’স রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নয় সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে মার্কেটিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অজয় পালকে আহ্বায়ক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জয় সাহাকে সদস্য-সচিব করা হয়েছে।
আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সুরঞ্জন কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির’-এর জন্য গঠনতন্ত্র প্রণয়ন এবং সে অনুযায়ী নতুন কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত মন্দির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নয় সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন কমিটি গঠিত হলে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে।
কমিটিতে বাংলা বিভাগের ১৭তম ব্যাচের সুমন কুমার দাসকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ১৬তম ব্যাচের প্রিয়ন্ত স্বর্ণকার, সংগীত বিভাগের ১৭তম ব্যাচের অনন্ত বিশ্বাস, লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৮তম ব্যাচের গৌরব দাস, ফিন্যান্স বিভাগের ১৮তম ব্যাচের অবন্তি রায়, অর্থনীতি বিভাগের ১৯তম ব্যাচের অতসী দাস এবং মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০তম ব্যাচের বিশাল কুমার সাহা।
কমিটিতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়ে জয় সাহা বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরের সদস্য সচিব হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই দায়িত্ব আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের এবং একই সঙ্গে একটি বড় দায়িত্বের। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্য বজায় রাখতে আমি নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।”
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরকে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও সকলের অংশগ্রহণের একটি মিলনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরের কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ হবে।”
কমিটি গঠনের বিষয়ে আহ্বায়ক অজয় পাল বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে মন্দিরের কার্যক্রমে সমন্বয়, শৃঙ্খলা ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উপর ছাত্রদল কর্তৃক হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা।
আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে চোখে কালো ব্যাজ ধারণ করে এই প্রতিবাদ জানান তারা। ক্যাম্পাসের কর্তব্যরত তিন সাংবাদিক সংগঠন- ইবি রিপোর্টার্স ইউনিটি, প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতি- যৌথভাবে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
এসময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. সাকিব আসলাম, প্রেসক্লাবের সভাপতি আবির হোসেন ও সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নিয়ামতুল্লাহ মুনিম সহ তিন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও অন্যান্য সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে তাঁদের চোখে কালো ব্যাজ ধারণ করে হাতে প্লে-কার্ড নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়। এসময় ‘ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া যায়, সত্য নয়; কালো হাত ভেঙে দাও, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা দাও; সাংবাদিকদের সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করুন, রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা স্বীকার করুন; সাংবাদিকদের উপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করুন; Press freedom is our right, we will fight; প্রক্টর স্যার অসহায়, পুলিশ লেজ গুটিয়ে পালায়, সন্ত্রাসীরা দেশি অস্ত্র চালায়’ ইত্যাদি প্রতিবাদী লেখা সম্বলিত প্লে-কার্ড দেখা যায়।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ জানান, বাক স্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত করায় আমরা কোনো বক্তব্য দেয়নি। মুখে কালো ব্যাজ ধারণ করে মৌন প্রতিবাদ জানিয়েছি। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা এবং সকল ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আনসার সদস্যের সাহসী ভূমিকায় অপহরণকারীদের কবল থেকে উদ্ধার ১৪ বছরের মাদরাসাছাত্র
নোয়াখালীর সোনাপুরে অপহরণকারীদের কবল থেকে কৌশলে পালিয়ে আসা ইব্রাহিম খলিল ফুয়াদ (১৪) নামে এক মাদরাসাছাত্রকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোরে সোনাপুর এলাকায় শিশুটিকে দেখতে পেয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আনসার সদস্য অভিজিৎ চৌধুরী তাকে উদ্ধার করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ইব্রাহিম খলিল লক্ষ্মীপুরের দত্তপাড়া এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দর্জিপাড়া খান বাড়ির বাসিন্দা সুমন খান ও খালেদা আক্তারের ছেলে। সে খোদাওয়ান্দপুর মুহাম্মাদিয়া (স.) মাদরাসার শিক্ষার্থী।
ইব্রাহিমের ভাষ্য, গত রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে মাদরাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসার পর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে তিন ব্যক্তি তাকে ‘বাবু, এদিকে আসো’ বলে ডাক দেন। পরে তাঁরা তাকে ৫০ টাকা দিয়ে বলেন, টাকা না নিলে তাঁরা মন খারাপ করবেন। ছোট হওয়ায় ইব্রাহিম তাঁদের দেওয়া টাকা নেয়। এরপর তাঁরা তাকে একটি কাগজ দিয়ে সেখানে লেখা ঠিকানাটি কোথায়, তা জানতে চান। এর কিছুক্ষণ পর তার মাথা ঘুরতে থাকে। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে সিএনজিতে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
ইব্রাহিম জানায়, রাত ৯টা থেকে ১০টার দিকে তার জ্ঞান ফেরে। তখন সে নিজেকে একটি কক্ষে প্লাস্টিকের চেয়ারের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায়। এ সময় কক্ষে রাইফেল, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখতে পায় বলে জানায় সে। এসব দেখে আতঙ্কিত হয়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নেয় ইব্রাহিম।
প্রথমবার সুযোগ পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে অপহরণকারীরা তাকে ধরে আবার বেঁধে রাখে। পরে দ্বিতীয়বারও পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় সে। এরপর অপহরণকারীরা কক্ষের চাবি কোথায় রাখে, তা খেয়াল করতে থাকে ইব্রাহিম।
ভোররাতে সুযোগ বুঝে তৃতীয়বারের মতো কক্ষ থেকে বের হয়ে পালিয়ে যায় সে। এ সময় অপহরণকারীরা তাকে পেছন থেকে ধাওয়া করলে একটি গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে ইব্রাহিম। কিছুক্ষণ পর গাড়ির শব্দ শুনে সে ধারণা করে, রাস্তা কাছেই। পরে অপহরণকারীরা সেখান থেকে চলে গেলে সে দৌড়ে রাস্তার দিকে চলে আসে।
একপর্যায়ে সোনাপুর রয়েল হাসপাতালের কাছাকাছি এলাকায় নোবিপ্রবির আনসার সদস্য অভিজিৎ চৌধুরীর রিকশার সামনে গিয়ে পড়ে ইব্রাহিম। তখনও সে ভয়ে কাউকে বিশ্বাস করতে পারছিল না।
আনসার সদস্য অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘আজ ভোর ৫টা ১০ মিনিটে আমি সোনাপুরে বাস থেকে নামি। এরপর রিকশায় করে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা হই। রিকশাটি সোনাপুর রয়েল হাসপাতালের কাছাকাছি পৌঁছালে দেখি, একটি ছেলে একটি গলি থেকে আমার রিকশার সামনে এসে পড়ে। তখন কয়েকজন তাকে ধরার জন্য পেছন থেকে তাড়া করছিল।’
তিনি বলেন, ‘ছেলেটির অবস্থা দেখে আমার সন্দেহ হয়। পরে তাকে রিকশায় করে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসি। সেখানে তার কাছ থেকে বাবার মোবাইল নম্বর নিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করি।’
ইব্রাহিমের খালাতো বোনের স্বামী মারুফ বলেন, ‘সকালে আমার শাশুড়ি ফোন করে জানান, ইব্রাহিমকে গতকাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে জানতে পারি, ইব্রাহিম একজন আনসার সদস্যের কাছে আছে। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তাকে আনতে আসি।’
অপহরণের ঘটনায় থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মারুফ বলেন, ‘পরিবারের সদস্যরা পুলিশের কাছে যেতে চাননি। এ কারণে এখন পর্যন্ত কোনো জিডি বা অন্য কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
পরিবারের দাবি, ইব্রাহিমকে অপহরণ করে নোয়াখালীর সোনাপুরের একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল। তবে কারা তাকে অপহরণ করেছে, কোথায় তাকে আটকে রাখা হয়েছিল এবং এর পেছনে কারা জড়িত—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, অপহরণকারীদের কবল থেকে পালিয়ে আসা শিশুটিকে দ্রুত শনাক্ত করে নিরাপদে উদ্ধার এবং পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় আনসার সদস্য অভিজিৎ চৌধুরীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইংরেজি বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মিঠুন বৈরাগী গুরুতর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয়টি জানতে পেরে চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।
রোববার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে হাসপাতালে মিঠুনকে দেখতে যান হিমেল। এ সময় তিনি মিঠুনের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহনের ঘোষণা দেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিন ধরে ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন মিঠুন বৈরাগী। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। ডেঙ্গুর কারণে তার রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে বর্তমানে ৮ হাজারে নেমে এসেছে। এরই মধ্যে তাকে দুই দফা প্লাটিলেট দেওয়া হলেও প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি বলে জানা গেছে।
মিঠুনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়ান জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।
হিমেল বলেন, ‘মিঠুনের চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ আমি বহন করব। সে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে যাওয়া পর্যন্ত আমি তার পাশে আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যেকোনো বিপদ-আপদে সব সময় পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও ইনশাআল্লাহ পাশে থাকব।’
এদিকে মিঠুনের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তার দ্রুত সুস্থতার জন্য সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অধ্যয়ণরত রাজবাড়ী জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন “রাজবাড়ী জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি” এর বার্ষিক নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনের ১০২ নম্বর কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল আনুষ্ঠানিকতার পরে মনোগ্য সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়।
সংগঠনটির সভাপতি মো. মাহদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফারুকুজ্জামান খান, উপদেষ্টা অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফ, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সুধাংশু কুমার বিশ্বাস ও উপ-রেজিস্ট্রার মো. ইব্রাহিম খলিল।
এছাড়া সংগঠনটি অন্যান্য সদস্য ও রাজবাড়ী জেলার অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
সমিতির সভাপতি মো. মাহদী হাসান বলেন, ‘রাজবাড়ী জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্বের একটি জায়গা। আমরা চাই, রাজবাড়ী থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন এই সংগঠনকে নিজের আপন জায়গা মনে করে এবং প্রয়োজনে একে অপরের পাশে দাঁড়ায়।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো: ফারুকুজ্জামান খান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলেন, তেমরা যেন তাদের শিকড় না ভুলে যেও না এবং তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইবির স্বার্থে সর্বদা নিয়োজিত থাকবা।