সিলেবাসে যুক্ত হচ্ছে নতুন চার বিষয়

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন

  • প্রকাশ : সোমবার ০৮ জুন, ২০২৬, সময় : ১১:৪৮ এএম

আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে (২০২৭) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চারটি নতুন বিষয় চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে দুটি এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আরও দুটি বাধ্যতামূলক বিষয় যুক্ত হবে। 


একই সঙ্গে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সরকার। আজ সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা বিষয়ে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।


যে চার বিষয়ে যুক্ত হবে


২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার তখনকার সময়ে চালু থাকা নতুন শিক্ষাক্রম থেকে সরে এসে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে বই পরিমার্জন শুরু করে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের পঞ্চম থেকে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ে কবিতা, প্রবন্ধ ও গদ্য সংযোজন করা হয়। 


পরে চলতি বছরের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসের অংশ হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তুও রয়েছে তাতে।


এখন আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২৭) পাঠ্যবইয়েও ইতিহাস ও দক্ষতাভিত্তিক বিষয়গুলোতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। মাধ্যমিক স্তরে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ে নতুন কিছু বিষয় সংযোজনের পাশাপাশি কয়েকটি বইয়ে ব্যাপক পরিমার্জনও করা হচ্ছে। 


ইতিমধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বিভিন্ন শ্রেণির বই পরিমার্জনও করা হয়েছে। তবে এসব পরিমার্জন কেবল আগামী বছরের বইয়ের জন্যই। আগামী বছর নতুন চারটি বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আজকের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, যতটা দ্রুত সম্ভব শিক্ষায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হবে। এখানে শিক্ষাক্রমের মধ্যে একটি অংশ রয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন ও পরিমার্জন করতে হবে। এর পাশাপাশি নতুন কিছু বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী চতুর্থ শ্রেণি থেকে ক্রীড়া বিষয়টি যুক্ত করা হবে। সংস্কৃতি নামে আরেকটি বিষয়ও যুক্ত হবে চতুর্থ শ্রেণি থেকে।


এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দুটি বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, একটি হচ্ছে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং আরেকটি হচ্ছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’। এগুলো বাধ্যতামূলক বিষয় হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


উপদেষ্টা বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ একদিকে যেমন একটি বিষয় হবে। এ ছাড়া এর মূল্যবোধের নীতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেই সঙ্গে শিক্ষকদের শেখানো ও প্রশিক্ষণের বিষয়টিও এই ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’কোর্সের মধ্যে থাকবে।


শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর লক্ষ্যে বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে একটি বড় অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাক্রম ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে যতটা সম্ভব ঢেলে সাজানো হচ্ছে বলেও জানান উপদেষ্টা।


২০২৮ সালে নতুন শিক্ষাক্রম


নতুন চারটি বিষয় কবে থেকে তা চালু হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা তিন মাসে সম্ভব নয়। প্রথমত এটিকে সঠিকভাবে পরিমার্জন করে বাস্তবসম্মত অনুধাবন করে ২০২৭ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে। আর পুরো শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের যে আশা করা হচ্ছে, সেটা নিয়েও কাজ শুরু হয়েছে। এটি ২০২৮ থেকে দেখা যাবে। শিখন ফল অর্জনকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষাক্রম করা হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।


সরকারের পরিকল্পনা হলো, ২০২৮ সাল থেকে নতুন করে একটি শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু করা। এই শিক্ষাক্রম প্রণয়নের রূপরেখা প্রণয়নের কাজ শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। তবে ২০২৮ সাল থেকে একেবারে সব শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন হবে, না কি ধাপে ধাপে হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।


কিছুদিন আগে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছিলেন, পাঠ্যবই প্রতিবছরই কমবেশি পরিমার্জন হয়। এবার যেহেতু নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বিবেচনা করে পরিমার্জনের কাজটি হচ্ছে।


এসএসসির ফল ২০ জুলাই-


সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২১ এপ্রিল। লিখিত পরীক্ষা চলে ২০ মে পর্যন্ত। এখন চলছে ব্যবহারিক পরীক্ষা। ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ১৪ জুন পর্যন্ত। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।


ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ওই বছরের ৭ জানুয়ারি। আর পরীক্ষা শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। এ ছাড়া আগামী বছরের (২০২৭) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ওই বছরের ৬ জুন, চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত।


এ বিষয়ে করা এক প্রশ্নেরে জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় পরামর্শ আসে পবিত্র রমজানের (আগামী বছরের) আগেই এসএসসি পরীক্ষা শেষ হয়ে যাক। সে অনুযায়ী ৭ জানুয়ারি পরীক্ষা শুরু করতে চেয়েছেন। তবে প্রতিক্রিয়াও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে আপাতত সময়সূচি দেওয়া হয়েছে, সেটাই রয়ে গেছে এবং আশা করছেন এটাই থাকবে।


সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পর্যায়ের স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং মন্ত্রণালয়, ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আয়োজন ও উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ।



সর্বশেষ সব খবর

নোবিপ্রবির সিএসটিই ক্লাবের নতুন কমিটি গঠিত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৭ পিএম

‎নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সিএসটিই ক্লাব-র ২০২৬-২৭ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অপরাজিতা বড়ুয়া এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আবেদুল হক আরিফ।

‎

‎নবগঠিত কমিটিতে প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন ১৭তম ব্যাচের মো. শাহেদ হোসাইন নিশাদ। গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন অবন্তিকা নাথ। এছাড়াও অনুষ্ঠান ও কার্যক্রম বিষয়ক সহ-সভাপতি  হিসেবে রয়েছেন মো. ইয়াসিন আরাফাত এবং সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলা বিষয়ক সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন তারেক হোসেন। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ১৮তম ব্যাচের সানজিদা আফরিন। প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন ১৯ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সাকিফুর রহমান। জনসংযোগ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন ১৮ তম ব্যাচের আব্দুস সাত্তার নায়েম।

‎এ ছাড়া কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ১৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী উরওয়াতুল উসকা ওয়াসি।


‎এ ছাড়া সংগঠনটির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন—রাজেশ মজুমদার রন্টি, মাহাপারা চৌধুরী, নুশরাত জাহান জায়মা, সাকিবুল ইসলাম, মো. আশরাফুল শাহ, ইশতিয়াক আল নোমান, সাদিয়া জামান শুকরিয়া, মিশকাতুল ইসলাম , সবুজ বিশ্বাস,  এবং মো. সামির।


‎নতুন কমিটি নিয়ে সভাপতি অপরাজিতা বড়ুয়া বলেন, সিএসটিই ক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের। এই দায়িত্বের মাধ্যমে শুধু একটি ক্লাব পরিচালনা করার সুযোগ নয়, বরং আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে নতুন কিছু করার সুযোগ পেয়েছি—এটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সিএসটিই ক্লাবের কার্যক্রমকে আমরা শুধু ইভেন্টকেন্দ্রিক না রেখে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও আগ্রহকে কেন্দ্র করে সাজাতে চাই।

আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে একজন শিক্ষার্থী তার পছন্দের ক্ষেত্রটি খুঁজে নেওয়ার সুযোগ পাবে, নতুন কিছু শেখার সুযোগ পাবে এবং নিজের দক্ষতাকে বাস্তবে কাজে লাগানোর সুযোগ পাবে। Programming, AI, Data Science, Cyber Security, Networking কিংবা Research—যে ক্ষেত্রেই কারও আগ্রহ থাকুক, ক্লাব যেন তার শেখার যাত্রার একজন সহযাত্রী হতে পারে।

এর পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং ইন্ডাস্ট্রির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে চাই। জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, টেকনিক্যাল ইভেন্ট ও collaborative activities-এর মাধ্যমে সিএসটিই ক্লাবকে নোবিপ্রবির গণ্ডির বাইরে আরও সক্রিয়ভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনাও রয়েছে।

আমি জানি, এই লক্ষ্যগুলো একা কোনো সভাপতির পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তাই আমি চাই, এই কমিটি কোনো একজনের নেতৃত্বে নয়, বরং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাক।


‎সাধারণ সম্পাদক মো. আবেদুল হক আরিফ বলেন, সিএসটিই ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য যেমন গর্বের, তেমনি এটি একটি বড় অঙ্গীকারের বিষয়। আমি চাই, আমাদের ক্লাব শুধু অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, নেতৃত্ব ও ক্যারিয়ার তৈরির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠুক। এজন্য নিয়মিত প্রোগ্রামিং কনটেস্ট ও ক্যারিয়ার সেমিনারের পাশাপাশি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডাটা এনালাইসিস, সাইবার সিকিউরিটি ও নেটওয়ার্কিং -এর ওপর বুটক্যাম্প পরিচালনা এবং জাতীয় পর্যায়ে একটি CSTE Fest আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কার্যকর টিম গঠন করে ভবিষ্যতের জন্য ক্লাবকে সুগঠিত করার ইচ্ছা আছে। সবমিলিয়ে সিএসটিই ক্লাবকে নোবিপ্রবির অন্য সব ক্লাবের জন্য রোলমডেল বানাতে চাই।

সর্বশেষ সব খবর

নোবিপ্রবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৩ পিএম

পড়াশোনার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছুটে আসেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। নিজ জেলা ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে নতুন শহরে এসে পড়াশোনা, আবাসন ও দৈনন্দিন জীবন সামলে চলতে হয় তাদের। তবে ক্যাম্পাসের বাইরে চলাচলের সময় বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অনেক শিক্ষার্থী। বিশেষ করে নোয়াখালীর স্থানীয় পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে অপরিচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা সেই নিরাপত্তা শঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে।


গত ২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মাইজদী শহরের বার্লিংটন মোড় এলাকায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মব সৃষ্টি করে মারধরের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মব সৃষ্টির ঘটনা ঘটে।

মোবাইল চুরির ঘটনায় নোবিপ্রবি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থী আরমান হোসাইন জানান,

"গত ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) ২০২৬ তারিখে আনুমানিক ভোর ৫টার দিকে আমার বসতবাড়ি থেকে একটি মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি লেগে থাকা দুটি বহুতল ভবনের গ্রিল বেয়ে উঠে চোর চক্রের সদস্যরা চারতলার খোলা জানালা দিয়ে ভেতরে হাত বাড়িয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে মোবাইল ফোনটি চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই, উক্ত দিন বিকেলের দিকে বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয় থানায় একটি লিখিত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করি।"



উক্ত মব সৃষ্টির ঘটনায় উপস্থিত সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একই সেশনের শিক্ষার্থী সজিব আহমেদ বলেন, 

"কিছুদিন আগে বার্লিংটন মোড় এলাকা থেকে আমার বন্ধু আরমানের একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। আজ একই এলাকায় ল্যাপটপ চুরি করার সময় দুই যুবক হাতেনাতে ধরা পড়ে। বিষয়টি আমাদের সিনিয়রদের মাধ্যমে জানতে পেরে আমরা চোরদের দেখতে এবং আমাদের চুরি হওয়া মোবাইল ফোনটির বিষয়ে খোঁজখবর নিতে সেখানে আয়োজিত সালিশ বৈঠকে যাই।


তবে সালিশে উপস্থিত হয়ে আমরা যখন মোবাইল ফোনের বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করি, তখন এলাকাবাসী ও অভিযুক্তদের অভিভাবকেরা আমাদের সহযোগিতা না করে উল্টো আমাদের ওপর চড়াও হন।

পরবর্তীতে আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতিতেই বাড়ির মালিক এবং অভিযুক্তদের মা-বাবাসহ উপস্থিত অন্যান্যরা চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। তারা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে, ধাক্কা দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেয় এবং আমাদের অনেকের ওপর চড়াও হয়ে গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করেন।"


এ বিষয়ে উপস্থিত সমাজবিজ্ঞান ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফখর উদ্দিন বলেন,

"গত কিছুদিন আগে পৌরবাজার এলাকার বার্লিংটন মোড় থেকে আমার বন্ধু আরমানের মেস থেকে ভোর পাঁচটার দিকে আমার বন্ধুর মোবাইল চুরি হয় আজ তার পাশের ফ্ল্যাট থেকে আমাদের নোবিপ্রবি ইকোনমিক্স বিভাগের ১৭ ব্যাচের এক ভাইয়ের মেস থেকে ল্যাপটপ চুরি হয়। এলাকাবাসী ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় দুইজনকে ধরেছে। 


এ ঘটনা শোনার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন আমরা বন্ধুরা মিলে কথা বলতে যায় কথা বলতে গেলে এলাকাবাসী জানায় আপনাদের মোবাইল সে চুরি করেছে, এর যেহেতু প্রমাণ নেই তাই আপনারা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করুন। মোবাইল চুরির ঘটনা নিয়ে আমরা আগে সুধারাম থানায় জিডি করে রেখেছিলাম তাই থানার সাথে যোগাযোগ করে একজন পুলিশ নিয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করলে স্থানীয় কিছু মানুষ পুলিশ এবং আমরা স্টুডেন্টের উপর মব সৃষ্টির চেষ্টা করে। উক্ত ঘটনাস্থলে কিছু স্থানীয় মানুষ আমার বন্ধু সালমান হোশমীর এবং সজীবের গায়ে হাত তোলেন। ঘটনার চরম আকার দেখে পুলিশ অতিরিক্ত ফোর্স আনে এবং আমাদের নিরাপদে বের করে আনেন এবং থানায় যেতে বলেন।"


উক্ত ঘটনায় নোবিপ্রবির প্রক্টরিয়াল বডির সামাজিক বিজ্ঞান ফ্যাকাল্টির দায়িত্বরত সহকারী প্রক্টরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,

শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বদা এগিয়ে আসবে। উক্ত ঘটনায় প্রসাশন জানান শিক্ষার্থীরা যখন পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলো তখন প্রসাশনকে এই বিষয়ে অবগত করা হয়।

প্রসাশনের উক্ত দায়িত্বরত কর্মকর্তা আরও জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে মোবাইল চুরি হওয়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এবং তার সহপাঠীদের পক্ষেই ছিলো। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যখন পুলিশ নিয়ে যায় তখন স্থানীয় বাসিন্দারা বিপক্ষে চলে যায়। তখন স্থানীয়রা আসামিদের পুলিশকে দিতে আপত্তি জানায়।

পুলিশ আসামিদের থানায় নেওয়ার পর আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে কি না এই বিষয়ে প্রক্টোরিয়াল বডির সাথে সুধারাম থানার ওসি সাহেবের আলোচনা হয়।

এছাড়াও তিনি জানান, মামলা না করে স্থানীয় বাসিন্দা, থানার ওসি, ভুক্তভোগীদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য৷ যেহেতু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার একটা বিষয় আছে সেহেতু এখানে বিষয়টি মীমাংসা করা জরুরি।


সম্প্রতি আরও কিছু ঘটনায় দেখা যায় গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে নোবিপ্রবির সিএসটিই বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ঠক্কর এলাকায় রিক্সাওয়ালার মাধ্যমে অপহরণের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থী রিক্সা থেকে লাফ দিয়ে নিজের জীবন বাঁচিয়েছিলেন।


এছাড়া গত ১৫ জুন ২০২৬ইং তারিখে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সমাজকর্ম বিভাগের ১৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুমনকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছিলো। অপহরণের পর মুক্তিপণ হিসেবে টাকা দাবির ঘটনাও ঘটে।


তাছাড়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আইসিই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামকে গত ৩০ জানুয়ারী ২০২৪ তারিখ রাত ৮টার পর ক্যাম্পাস থেকে শহরে আসার পথে অপরহণ করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনাও রয়েছে।


এসব ঘটনায় নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা শঙ্কা বেড়ে চলেছে। একের পর এক এমন ঘটনায় নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের বাইরে যাতায়াতের সময় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সর্বশেষ সব খবর

নোবিপ্রবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৩ পিএম

পড়াশোনার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছুটে আসেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। নিজ জেলা ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে নতুন শহরে এসে পড়াশোনা, আবাসন ও দৈনন্দিন জীবন সামলে চলতে হয় তাদের। তবে ক্যাম্পাসের বাইরে চলাচলের সময় বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অনেক শিক্ষার্থী। বিশেষ করে নোয়াখালীর স্থানীয় পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে অপরিচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা সেই নিরাপত্তা শঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে।


গত ২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মাইজদী শহরের বার্লিংটন মোড় এলাকায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মব সৃষ্টি করে মারধরের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মব সৃষ্টির ঘটনা ঘটে।

মোবাইল চুরির ঘটনায় নোবিপ্রবি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থী আরমান হোসাইন জানান,

"গত ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) ২০২৬ তারিখে আনুমানিক ভোর ৫টার দিকে আমার বসতবাড়ি থেকে একটি মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি লেগে থাকা দুটি বহুতল ভবনের গ্রিল বেয়ে উঠে চোর চক্রের সদস্যরা চারতলার খোলা জানালা দিয়ে ভেতরে হাত বাড়িয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে মোবাইল ফোনটি চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই, উক্ত দিন বিকেলের দিকে বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয় থানায় একটি লিখিত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করি।"



উক্ত মব সৃষ্টির ঘটনায় উপস্থিত সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একই সেশনের শিক্ষার্থী সজিব আহমেদ বলেন, 

"কিছুদিন আগে বার্লিংটন মোড় এলাকা থেকে আমার বন্ধু আরমানের একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। আজ একই এলাকায় ল্যাপটপ চুরি করার সময় দুই যুবক হাতেনাতে ধরা পড়ে। বিষয়টি আমাদের সিনিয়রদের মাধ্যমে জানতে পেরে আমরা চোরদের দেখতে এবং আমাদের চুরি হওয়া মোবাইল ফোনটির বিষয়ে খোঁজখবর নিতে সেখানে আয়োজিত সালিশ বৈঠকে যাই।


তবে সালিশে উপস্থিত হয়ে আমরা যখন মোবাইল ফোনের বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করি, তখন এলাকাবাসী ও অভিযুক্তদের অভিভাবকেরা আমাদের সহযোগিতা না করে উল্টো আমাদের ওপর চড়াও হন।

পরবর্তীতে আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতিতেই বাড়ির মালিক এবং অভিযুক্তদের মা-বাবাসহ উপস্থিত অন্যান্যরা চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। তারা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে, ধাক্কা দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেয় এবং আমাদের অনেকের ওপর চড়াও হয়ে গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করেন।"


এ বিষয়ে উপস্থিত সমাজবিজ্ঞান ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফখর উদ্দিন বলেন,

"গত কিছুদিন আগে পৌরবাজার এলাকার বার্লিংটন মোড় থেকে আমার বন্ধু আরমানের মেস থেকে ভোর পাঁচটার দিকে আমার বন্ধুর মোবাইল চুরি হয় আজ তার পাশের ফ্ল্যাট থেকে আমাদের নোবিপ্রবি ইকোনমিক্স বিভাগের ১৭ ব্যাচের এক ভাইয়ের মেস থেকে ল্যাপটপ চুরি হয়। এলাকাবাসী ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় দুইজনকে ধরেছে। 


এ ঘটনা শোনার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন আমরা বন্ধুরা মিলে কথা বলতে যায় কথা বলতে গেলে এলাকাবাসী জানায় আপনাদের মোবাইল সে চুরি করেছে, এর যেহেতু প্রমাণ নেই তাই আপনারা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করুন। মোবাইল চুরির ঘটনা নিয়ে আমরা আগে সুধারাম থানায় জিডি করে রেখেছিলাম তাই থানার সাথে যোগাযোগ করে একজন পুলিশ নিয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করলে স্থানীয় কিছু মানুষ পুলিশ এবং আমরা স্টুডেন্টের উপর মব সৃষ্টির চেষ্টা করে। উক্ত ঘটনাস্থলে কিছু স্থানীয় মানুষ আমার বন্ধু সালমান হোশমীর এবং সজীবের গায়ে হাত তোলেন। ঘটনার চরম আকার দেখে পুলিশ অতিরিক্ত ফোর্স আনে এবং আমাদের নিরাপদে বের করে আনেন এবং থানায় যেতে বলেন।"


উক্ত ঘটনায় নোবিপ্রবির প্রক্টরিয়াল বডির সামাজিক বিজ্ঞান ফ্যাকাল্টির দায়িত্বরত সহকারী প্রক্টরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,

শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বদা এগিয়ে আসবে। উক্ত ঘটনায় প্রসাশন জানান শিক্ষার্থীরা যখন পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলো তখন প্রসাশনকে এই বিষয়ে অবগত করা হয়।

প্রসাশনের উক্ত দায়িত্বরত কর্মকর্তা আরও জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে মোবাইল চুরি হওয়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এবং তার সহপাঠীদের পক্ষেই ছিলো। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যখন পুলিশ নিয়ে যায় তখন স্থানীয় বাসিন্দারা বিপক্ষে চলে যায়। তখন স্থানীয়রা আসামিদের পুলিশকে দিতে আপত্তি জানায়।

তারপরেও পুলিশ আসামীদের থানায় নেওয়ার পর আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে কি না এই বিষয়ে প্রক্টোরিয়াল বডির সাথে ওসি সাহেবের আলোচনা হয়।

এছাড়াও তিনি জানান, মামলা না করে স্থানীয় বাসিন্দা, থানার ওসি, ভুক্তভোগীদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য৷ যেহেতু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার একটা বিষয় আছে সেহেতু এখানে বিষয়টি মীমাংসা করা জরুরি।


সম্প্রতি আরও কিছু ঘটনায় দেখা যায় গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে নোবিপ্রবির সিএসটিই বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ঠক্কর এলাকায় রিক্সাওয়ালার মাধ্যমে অপহরণের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থী রিক্সা থেকে লাফ দিয়ে নিজের জীবন বাঁচিয়েছিলেন।


এছাড়া গত ১৫ জুন ২০২৬ইং তারিখে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সমাজকর্ম বিভাগের ১৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুমনকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছিলো। অপহরণের পর মুক্তিপণ হিসেবে টাকা দাবির ঘটনাও ঘটে।


তাছাড়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আইসিই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামকে গত ৩০ জানুয়ারী ২০২৪ তারিখ রাত ৮টার পর ক্যাম্পাস থেকে শহরে আসার পথে অপরহণ করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনাও রয়েছে।


এসব ঘটনায় নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা শঙ্কা বেড়ে চলেছে। একের পর এক এমন ঘটনায় নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের বাইরে যাতায়াতের সময় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৩৭ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাংস্কৃতিক সংগঠন ত্রিভুজের ২০২৬-২৭ মেয়াদের ১৮ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে এনাটমি ও হিস্টোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউল হক এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. ফাহিম দায়িত্ব পেয়েছেন।


বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নতুন এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।


কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাশমিন ফেরদাউস, মো. আবু হুরাইরা আল রিজন, মো. মাহির আল মুনতাকিম, মো. মেহেদী হাসান মারুফ, নুসরাত জাহান অরিন ও মো. সজিব হোসেন শান্ত।


এ ছাড়া অর্থ সম্পাদক বুরহান উদ্দিন সিয়াম, সাংগঠনিক সম্পাদক তাসফিক কবির আদন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাকি মোহাম্মদ প্রমিজ, দপ্তর সম্পাদক ইফতেকার আল সাবিত, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. ফাহিম ফয়সল, সংগীত বিষয়ক সম্পাদক আল ফুয়াদ বিন হাবিব প্রিয় ও সাকিব ইসলাম, নৃত্য বিষয়ক সম্পাদক অদিতি বড়ুয়া মীম এবং নাট্য বিষয়ক সম্পাদক হোসাইন মো. মুহতারিম ছোয়াদ ও নিলয় বোস দায়িত্ব পেয়েছেন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ত্রিভুজের নিয়মিত কার্যক্রম ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত বিভিন্ন বাস্তবতায় কিছুটা ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে সংগঠনটির সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পুনরায় চালু ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৩ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাংস্কৃতিক সংগঠন অংকুরের ২০২৬-২৭ মেয়াদের কমিটিতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন দাবি করা অংকুরের কমিটিতে এমন অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরে সমালোচনার মুখে কমিটিটি স্থগিত করে সংগঠনটি। একই সঙ্গে কমিটি গঠনে ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে অংকুর।


সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) অংকুরের ২০২৬-২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রান্ত সাহা প্রহরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ২০১৯ সালে ছাত্রলীগের বাকৃবি শাখার কমিটিতে উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।


কমিটি ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের অনেকে প্রশ্ন তোলেন, অংকুর যেখানে নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দাবি করে, সেখানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন কীভাবে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেলেন। পাশাপাশি, তার রাজনৈতিক পরিচয় সংশ্লিষ্টদের জানা ছিল না- এমন দাবির বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে।


এরপর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অংকুরের পক্ষ থেকে কমিটিটি স্থগিত করা হয়। পরদিন শুক্রবার (২ অক্টোবর) সংগঠনটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করা হয়।


এ বিষয়ে স্থগিত কমিটির সভাপতি, প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও এগ্রোফরেস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী কামরুল ইসলাম বলেন, অংকুরের সঙ্গে তার আগে কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। সংগঠনটির কয়েকজন সদস্য তার কাছে এসে অংকুরের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে সহযোগিতা চান। পরে তিনি তাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।


অধ্যাপক কাজী কামরুল ইসলাম বলেন, আমি আসলে এ ব্যাপারে কিছুই জানতাম না। আমি ছাত্রজীবন থেকে এখন পর্যন্ত কখনো অংকুরের সঙ্গে জড়িতও ছিলাম না। ওরা আমার কাছে একদিন আমার জুনিয়র শিক্ষক অনিরুদ্ধকে নিয়ে আসে। তারা বলে, ফ্যাসিবাদের সময়ের পর থেকে অংকুরের কার্যক্রম একদম হারিয়ে গেছে, আমরা এই সংগঠনটিকে বাঁচাতে চাই। আমি তাদের সাহায্য করতে চাইলাম এবং বললাম, তাদের যেকোনো সহযোগিতা আমি করব।


তিনি বলেন, আমি তাদের বলেছিলাম, বিতর্কিত কাউকে কমিটিতে নেওয়া যাবে না। সম্ভবত যে শিক্ষকরা কমিটিটি করেছেন, তারা ওই ছেলের ব্যাপারে কিছু জানতেন না। সে ছেলেও নিজের সেই পরিচয় গোপন করেছে। আসলে এখানে তাদের একটু ভুল হয়ে গেছে।


কমিটি স্থগিতের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি গতকাল ঐ ছেলের বিষয়টি দেখা মাত্রই কল দিয়ে বললাম, এই কমিটি এখানেই স্থগিত করো এবং ওই ছেলেকে এক্ষুনি বের করো। সঙ্গে সঙ্গে একটি বিবৃতি দিতে বলি। পরবর্তীতে কমিটি করার সময় একদম ফ্রেশ ক্যান্ডিডেট নিয়ে কমিটি করার জন্য বলেছি। সর্বোপরি এটি তাদের একটি ভুল হয়ে গেছে।

সর্বশেষ সব খবর

নোবিপ্রবি'র টিএইচএম বিভাগের নতুন চেয়ারম্যান মোসাম্মৎ রিনু ফাতেমা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৭ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সহকারী অধ্যাপক ড. মোসাম্মৎ রিনু ফাতেমা।


বুধবার(৩০ সেপ্টেম্বর)  বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তামজীদ হোসাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক  ড. মোসাম্মৎ রিনু ফাতেমা কে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হলো এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিয়োগ কার্যকর থাকবে। বিধি মোতাবেক তিনি নির্ধারিত ভাতা ও সুযোগ সুবিধা প্রাপ্ত হবেন।


বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে সহকারী অধ্যাপক  ড. মোসাম্মৎ রিনু ফাতেমা বলেন: ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

আমার লক্ষ্য হবে শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বিভাগটিকে একটি আধুনিক, মানসম্মত ও উৎকর্ষমুখী বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলা। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন এবং পর্যটন ও হসপিটালিটি শিল্পখাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরিতে আমি বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই।

একই সঙ্গে গবেষণার পরিধি বৃদ্ধি এবং দেশ-বিদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি শিল্পের সঙ্গে বিভাগের সংযোগ আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় আমাদের বিভাগ ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি উৎকর্ষের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

সর্বশেষ সব খবর