দুই মাসে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ২১ দিন ছুটি থাকবে
আসছে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে লম্বা ছুটি পেতে যাচ্ছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। আগামী দুই মাসে সাপ্তাহিক ছুটি ও বিভিন্ন সরকারি ছুটি মিলিয়ে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ২১ দিন ছুটি থাকবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এই ছুটি উপভোগ করবেন।
আগস্ট মাসে ছুটি
সব মিলিয়ে আগস্ট মাসে মোট ছুটি থাকবে ১২ দিন।
সেপ্টেম্বর মাস
মধু পূর্ণিমা ও শুভ মহালয়া উপলক্ষে ছুটি থাকলেও তা শনিবার পড়ায় এ উপলক্ষে অতিরিক্ত ছুটি মিলবে না। ফলে সেপ্টেম্বর মাসে ছুটি থাকবে মোট ৯ দিন। দুই মাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মোট ২১ দিনের ছুটি পেতে যাচ্ছেন।
জরুরি চিঠিপত্র দ্রুত পাঠাতে দেশের সব সরকারি কলেজের সক্রিয় ই-মেইল ঠিকানা চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একই সঙ্গে অধ্যক্ষ বা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পাশাপাশি বিকল্প আরও একজনের সচল মোবাইল নম্বর (হোয়াটসঅ্যাপ) পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ অক্টোবর) মাউশির সরকারি কলেজ শাখা-১ থেকে দেশের সব সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়- মাউশির কলেজ শাখা থেকে পাঠানো বিভিন্ন চিঠিপত্র সরকারি কলেজগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর সক্রিয় ই-মেইল ঠিকানা এবং অধ্যক্ষসহ বিকল্প একজনের সচল মোবাইল নম্বর (হোয়াটসঅ্যাপ) অধিদপ্তরের কাছে থাকা প্রয়োজন।
এ কারণে প্রতিটি সরকারি কলেজের বর্তমান সক্রিয় ই-মেইল ঠিকানা এবং অধ্যক্ষ বা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পাশাপাশি বিকল্প একজন কর্মকর্তার সচল হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর পাঠাতে বলা হয়েছে।
৭ কর্মদিবসের মধ্যে তথ্য পাঠানোর নির্দেশ
চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, কলেজের সক্রিয় ই-মেইল ঠিকানা এবং অধ্যক্ষসহ বিকল্প একজনের সচল মোবাইল নম্বর (হোয়াটসঅ্যাপ) মাউশির সরকারি কলেজ শাখা-১-এর সহকারী পরিচালক মো. ইকরামুল কবিরের বরাবর পাঠাতে হবে।
জরুরি প্রয়োজনে সরকারি কলেজগুলোর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় চিঠিপত্র পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতেই এ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকসহ ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বহিষ্কৃত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন-বেরোবির সাবেক প্রক্টর ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ মণ্ডল এবং গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান।
এ ছাড়া বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তাকর্মী নুর আলম মিয়া এবং এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণা করেছে। এর আগে ৯ এপ্রিল বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
যেভাবে আলোচনায় আবু সাঈদ
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
তার মৃত্যুর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনাটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়।
আসন্ন ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ছয়টি বিভাগে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করবে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বিষয়ে অনুমোদন দিয়ে চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে।
অনুমোদন পাওয়া এসব বিভাগের মধ্যে রয়েছে-আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এন্ড ডেটা সাইন্স, এগ্রিকালচার, মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, হিসাববিজ্ঞান, পরিবেশ বিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্য বিভাগ।
বিভাগ অনুমোদনের চিঠিতে বেশকিছু শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া গুচ্ছ ভর্তির কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে এ বিশ্ববিদ্যালয়। ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইস্রাফীল বলেন, সরকার ছয়টি বিভাগ অনুমোদন দিয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে।
প্রতিটি বিষয়ে ৪০ থেকে ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হবে। ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় আদর্শ সুনাগরিক ও আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে যোগ্য গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে বদ্ধপরিকর।
উপাচার্য ড. ইস্রাফীল আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে এমনভাবে পরিচালনা করতে চাই যেন গ্র্যাজুয়েট হওয়ার পর কোনো শিক্ষার্থী বেকার না থাকে। দেশ ও বিদেশের চাহিদা মাফিক গ্র্যাজুয়েট তৈরি করবে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়।
পরীক্ষা পরিদর্শনে কুবি উপ-উপাচার্য
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশ এবং সেশনজট নিরসনের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ১৯টি বিভাগের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা ১৫ দিনের মধ্যে শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সব বিভাগকে পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, নৃবিজ্ঞান, ইংরেজি, ফার্মেসি, মার্কেটিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), ব্যবস্থাপনা শিক্ষা এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। বাকি বিভাগগুলোও ১৫ অক্টোবরের মধ্যে পরীক্ষা শুরু করবে বলে জানিয়েছে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর।
জানা যায়, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শ্রেণি কার্যক্রম গত ১২ এপ্রিল শুরু হয়। শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর ছয় মাসের মধ্যে প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে মাইগ্রেশনের কারণে কয়েকটি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী এক মাস পর ভর্তি হওয়ায় এসব বিভাগের শ্রেণি কার্যক্রম শেষ করতে দেরি হয়েছে। ফলে একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশ নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফার্মেসি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আমরা নভেম্বরের শুরুর দিকে ক্লাস শেষ করি। পরে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ১ অক্টোবর থেকে পরীক্ষা শুরু করি। মাইগ্রেশনের কারণে কয়েকটি বিভাগের পরীক্ষা শুরু করতে দেরি হয়েছে। আমাদের বিভাগে শেষ মাইগ্রেশনে কেউ আসেনি, তাই আমরা কার্যক্রম ঠিকভাবে চালিয়ে যেতে পেরেছি এবং নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পেরেছি। প্রশাসন পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে ধারাবাহিকতা আনতে একসঙ্গে কার্যক্রমগুলো এগিয়ে নিচ্ছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, “একাডেমিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ থেকেই কঠোরভাবে মনিটরিং শুরু করা হচ্ছে। ১৯টি বিভাগের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা ১ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার সময়সূচি প্রণয়ন, পরীক্ষা শুরু, খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশসহ পুরো প্রক্রিয়া উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের কাছে রিপোর্টের মাধ্যমে মনিটরিং করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে, সম্ভব হলে পরীক্ষার খাতা ১০ দিনের মধ্যে বিভাগে জমা দিতে এবং আট সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে। নির্ধারিত সময়ে যৌক্তিক কারণ ছাড়া ফলাফল জমা দিতে না পারলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বেতন কর্তনসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে নিয়ে কোথায় সেশনজট তৈরি হচ্ছে এবং কোথায় তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদে সেশনজট নিরসনের পথ বের করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, “১৯টি বিভাগের একযোগে ২০তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। আজ ১ অক্টোবর আটটি বিভাগের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বাকি বিভাগগুলোর পরীক্ষা ১৫ অক্টোবরের মধ্যে শুরু হবে। এই সেশনের কোনো বিভাগ যেন পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য আমরা একযোগে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু করেছি। এই ব্যাচের সবগুলো বিভাগ এক-দুই মাস আগে-পরে একসঙ্গে তাদের স্নাতক সম্পন্ন করতে পারবে।”
বিভিন্ন বিভাগের অন্যান্য ব্যাচের সেশনজট সম্পর্কে তিনি বলেন, “বর্তমানে কয়েকটি বিভাগ ফলাফল প্রকাশে পিছিয়ে রয়েছে। আমরা এসব বিভাগের শিক্ষকদের ডেকে নির্দেশনা দিয়েছি, অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করে ফল প্রকাশ করতে। এখন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও ধাপে ধাপে অন্যান্য শিক্ষাবর্ষেও এ নীতি কার্যকর করা হবে।”
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাজ্যভিত্তিক উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই)-এর বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে স্থান পায়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। একইভাবে কোয়াকোয়ারেলি সাইমন্ডস (কিউএস) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংয়েও এখন পর্যন্ত স্থান হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়টির।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত টাইমস হায়ার এডুকেশনের ২০২৭ সালের ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে এবং ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ‘রিপোর্টার’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে এ তালিকায় নেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
টিএইচইর ২০২৭ সালের ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের ১১৮টি দেশ ও অঞ্চলের ২ হাজার ২৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। শিক্ষা, গবেষণার মান, গবেষণার পরিবেশ, শিল্প খাতের সঙ্গে সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গিসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল্যায়ন করা হয়েছে।
জানা গেছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান উন্নয়নের লক্ষ্যে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদারের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কাউছার আহমেদ পাটোয়ারীকে আহ্বায়ক এবং ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মঞ্জুর হোসেনকে সদস্যসচিব করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. কাউছার আহম্মেদ পাটোয়ারী বলেন, “টাইমস হায়ার এডুকেশন ২০২৭ সালের র্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে। র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করতে হয়। পাশাপাশি আবেদন প্রক্রিয়াটি অনেক আগেই সম্পন্ন করতে হয়। বর্তমানে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেটি মাত্র দুই মাস আগে দায়িত্ব পেয়েছে।”
তিনি বলেন, “২০২৮ সালের কিউএস র্যাঙ্কিংয়ের জন্য সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর এবং ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে হবে। তবে যেসব সংস্থা র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে, তাদের ওয়েবসাইটে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পোর্টাল নিবন্ধিত থাকা প্রয়োজন। এতদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন কোনো পোর্টাল ছিল না। বর্তমানে সেই পোর্টাল নিবন্ধন করা হয়েছে।”
অধ্যাপক কাউছার আহম্মেদ আরও বলেন, “জনপ্রতি ৪৮টি করে তথ্য প্রায় ৪০০ জনের কাছ থেকে সংগ্রহ করে পাঠাতে হবে। পাশাপাশি আমরা আমাদের কমিটির সদস্যদের নিয়ে আগামী সপ্তাহে একটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করব। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যাতে ২০২৮ সালের র্যাঙ্কিংয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আসে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিংয়ে না থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার আহমদ আশরাফী বলেন, “প্রতিষ্ঠার পর থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় টাইমস হায়ার এডুকেশনে স্থান না পাওয়া একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক এবং একই সঙ্গে ক্ষোভের। প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার দায়িত্ব যাদের, তারা আসলে কতটুকু আন্তরিক?”
তিনি আরো বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান শুধু একটি সংখ্যার বিষয় নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামো এবং সামগ্রিক অগ্রগতির প্রতিফলন। আমরা কি শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছি? আমাদের কি গবেষণার স্বপ্ন দেখার অধিকার নেই? আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের পরিচিত করার যোগ্যতা রাখে না?”
আবরার আহমদ আরও বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন শুধু নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা কিছু অবকাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। গবেষণায় বরাদ্দ, গবেষণার পরিবেশ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, একাডেমিক পরিকল্পনা এবং র্যাঙ্কিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত যথাযথভাবে উপস্থাপন—এসব বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ থাকতে হবে।”
এ বিষয়ে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে টাইমস হায়ার এডুকেশন বা কিউএস র্যাঙ্কিংয়ের কোনোটিতেই আগে আবেদন করা হয়নি। এবারই প্রথম র্যাঙ্কিংয়ে যুক্ত হওয়ার জন্য নিবন্ধন ও আবেদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেলের পরিচালকের নেতৃত্বে কয়েকজনকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণার ব্যাপ্তি বিবেচনা করলে অনেক আগেই এই উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এই উদ্যোগটি হাতে নিয়েছেন।”
অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহবুব আরও বলেন, “র্যাঙ্কিংয়ের জন্য একটি আলাদা র্যাঙ্কিং সেল গঠন করা উচিত, যার কাজ হবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য কাজ করা। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়ায় সব তথ্য-উপাত্ত ও প্রোফাইল আপডেট করে আবেদন সম্পন্ন করা সম্ভব হলে, আশা করছি আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় একটি আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে স্থান পাবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়কে র্যাঙ্কিংয়ে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ সম্পন্ন করতে আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি। এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে কমিটির সদস্যদের নিয়ে একটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে, যাতে র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে সবাইকে প্রয়োজনীয় ধারণা দেওয়া যায়।”
তিনি বলেন, “আমরা আপাতত কিউএস র্যাঙ্কিংয়ের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। পরবর্তী সময়ে টাইমস হায়ার এডুকেশন র্যাঙ্কিংয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করব।”
আন্তর্জাতিক ফুড সিস্টেমস ইনোভেশন চ্যালেঞ্জে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের দল ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’। নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এ প্রতিযোগিতায় রানার্স-আপ হয়ে শীর্ষ ছয়ে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রতিযোগিতার কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের ওয়াগেনিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওম্নিয়া ভবনে এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০টি দল অংশগ্রহণ করেন। ওয়াগেনিঙ্গেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চ (ডব্লিউইউআর) ও নেদারল্যান্ডস ফুড পার্টনারশিপ আয়োজিত ছয় মাসব্যাপী এ প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য ছিল টেকসই খাদ্যব্যবস্থা, জলবায়ু অভিযোজন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ।
প্রতিযোগিতায় রানার্স-আপ হয়ে শীর্ষ ছয়ে জায়গা করে নেয় ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’। এ অর্জনের মাধ্যমে ২০২৭ সাল থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘ইয়ুথ ফুড ল্যাব ইনকিউবেশন’ কর্মসূচিতে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগও নিশ্চিত করেছে দলটি। ডব্লিউইউআর, ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম ও আইএএএসের যৌথ উদ্যোগে 'ইয়ুথ ফুড ল্যাব ইনকিউবেশন' আয়োজন করা হবে।
আট সদস্যের ‘দ্য গোল্ডেন লুপ' দলের মূল নেতৃত্বে ছিলেন বাকৃবির ছয় শিক্ষার্থী মুরশিদা জাহান মিতু, নূর আয়শা চৌধুরী, মো.আরকানুল ইসলাম, সাদিয়া ইসলাম বাধন, সাইফা সাবা হোসাইন ও কুর্চি রহমান লুবা। এছাড়া দলে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লিটন ত্রিপুরা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহসানী তাকবিম এশা। এছাড়া দলের মেন্টর হিসেবে ছিলেন ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ।
প্রতিযোগিতায় ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’ প্রকল্পটি মূলত পাটের বর্জ্য ব্যবহার করে জলজ পরিবেশের সুরক্ষা ও টেকসই খাদ্যব্যবস্থার উদ্ভাবনী সমাধান তুলে ধরে। এতে বর্জ্য পাটের বস্তা প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি ‘জুট জিওটেক্সটাইল’ দিয়ে পুকুরের পাড় ক্ষয় রোধ এবং পাটকাঠি থেকে প্রস্তুতকৃত ‘বায়োচার’ দিয়ে পুকুরের পানির মান উন্নয়ন ও প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়।
প্রথম ধাপে নির্বাচিত হয়ে প্রাপ্ত ১ হাজার ইউরোর সিড গ্রান্ট কাজে লাগিয়ে গত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের কাজ, কর্মশালা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয় বলে জানান দলের সদস্যরা।
সাফল্যের অনুভূতি ব্যক্ত করে দলের সদস্য নূর আয়শা চৌধুরী বলেন, শুরু থেকেই ধারণাটি বাস্তবায়ন করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল। বৃষ্টিপাতসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি ক্লাস-পরীক্ষার সঙ্গে নিয়মিত মাঠপর্যায়ের কাজ, নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ চালিয়ে যেতে হয়েছে। অনেক সময় মাঠপর্যায়ে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং সেগুলো নিজেদের উদ্যোগেই সমাধান করতে হয়েছে। এ সময়ে শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা আমাদের কাজ এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ছয় মাসের নিরলস পরিশ্রমের ফল এই অর্জন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে শীর্ষ ছয়ে জায়গা করে নিতে পেরে আমরা গর্বিত।'
টিম মেন্টর অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ বলেন, গতবারের চ্যাম্পিয়ন ও এবারের রানার্স আপ দুই দলকেই মেন্টরিং করার সুযোগ পেয়েছি। তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্ত:বিষয়কভাবে কাজ করেছে এবং প্রকৃতিনির্ভর সমাধানকে গুরুত্ব দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম ও অর্জনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারা একজন শিক্ষক হিসেবে আনন্দ ও গৌরবের বিষয়।
কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশ থেকে একমাত্র বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ই গত বছর প্রথমবারের মতো এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এ বছরও অংশগ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দুটি সম্ভাবনাময় দল নির্বাচন করে কো-অর্ডিনেটর ও মেন্টরদের মাধ্যমে তাদের প্রস্তুত করা হয়। দুই বছরেই বাকৃবির শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও তারা দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবে বলে আশা করি।