ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:২৩ পিএম

আইইএলটিএস পরীক্ষার তারিখ ঠিক করেছেন, হাতে সময় আছে তিন মাস। এখন প্রশ্ন হলো, এই সময়টাকে কীভাবে কাজে লাগাবেন? শুরু থেকেই একের পর এক মক টেস্ট দেবেন, নাকি আগে ইংরেজির দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করবেন? চারটি অংশেই কি সমান সময় দেবেন, নাকি যেটিতে সমস্যা বেশি, সেটিতে বেশি মনোযোগ দেবেন?


তিন মাসে প্রস্তুতি নেওয়ার সুবিধা হলো, পুরো সময়টাকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করে এগোনো যায়। প্রথমে পরীক্ষার ধরন বুঝে নিজের অবস্থান যাচাই করা, এরপর দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করা এবং শেষ দিকে পরীক্ষার মতো পরিবেশে নিয়মিত অনুশীলন করা যায়। তবে তিন মাস সবার জন্য যথেষ্ট হবে, এমন নয়। আপনার ইংরেজির বর্তমান দক্ষতা এবং কাঙ্ক্ষিত ব্যান্ড স্কোরের ওপর প্রস্তুতির সময় অনেকটাই নির্ভর করবে।


তাই হাতে থাকা ১২ সপ্তাহে কত ঘণ্টা পড়বেন, শুধু সেই হিসাব না করে কখন কী নিয়ে কাজ করবেন, সেই পরিকল্পনাটাই আগে করা দরকার।


শুরুতেই নিজের অবস্থান বুঝুন


প্রথম সপ্তাহেই একটি পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট দিয়ে দেখুন বর্তমানে আপনি কোথায় আছেন। সম্ভব হলে পরীক্ষার মতো সময় ধরে লিসেনিং, রিডিং ও রাইটিং অংশগুলো করুন। স্পিকিংয়ের জন্য নিজের উত্তর রেকর্ড করেও শুনতে পারেন।


শুধু কত স্কোর হলো, সেটি দেখলেই হবে না। কোন ধরনের প্রশ্নে বেশি ভুল হচ্ছে, সেটিও খেয়াল করুন। রিডিং শেষ করতে সময় বেশি লাগছে? লিসেনিংয়ে বানান ভুল হচ্ছে? রাইটিংয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লেখা শেষ করতে পারছেন না? নাকি স্পিকিংয়ে উত্তর জানা থাকলেও বলতে গিয়ে আটকে যাচ্ছেন? এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেই পরের তিন মাসের পরিকল্পনা সাজান।


প্রথম মাস: ভিত্তি ও পরীক্ষার ধরন বুঝুন


প্রথম মাসের লক্ষ্য হওয়া উচিত আইইএলটিএসের চারটি অংশের সঙ্গে ভালোভাবে পরিচিত হওয়া। লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিংয়ে কী ধরনের প্রশ্ন আসে এবং প্রতিটি অংশে কতটা সময় পাওয়া যায়, সেগুলো জেনে নিন।


রিডিংয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন আলাদাভাবে অনুশীলন করতে পারেন। শুরুতেই দ্রুত শেষ করার চাপ না নিয়ে কেন উত্তর ভুল হচ্ছে, সেটি বোঝার চেষ্টা করুন।


লিসেনিংয়ে শুধু মক টেস্টের অডিও না শুনে নিয়মিত ইংরেজি শোনার অভ্যাসও তৈরি করুন। সংবাদ, সাক্ষাৎকার, পডকাস্ট বা অন্য কোনো আগ্রহের বিষয় শুনতে পারেন। কোনো অংশ বুঝতে সমস্যা হলে আবার শুনুন এবং নতুন শব্দ বা উচ্চারণ খেয়াল করুন।


রাইটিংয়ের ক্ষেত্রে প্রশ্ন বুঝে উত্তর দেওয়ার দিকে গুরুত্ব দিন। কীভাবে ভূমিকা, মূল অংশ ও উপসংহার সাজাবেন, সেটির চর্চা করুন। কঠিন শব্দ ব্যবহারের চেয়ে বক্তব্য পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করার অভ্যাস তৈরি করুন।


আর স্পিকিংয়ের জন্য প্রতিদিন কিছুটা সময় ইংরেজিতে কথা বলুন। একা হলেও সমস্যা নেই। পরিচিত কোনো বিষয় নিয়ে এক বা দুই মিনিট কথা বলে নিজের ফোনে রেকর্ড করতে পারেন।


দ্বিতীয় মাস: দুর্বল জায়গায় বেশি সময় দিন


এক মাস অনুশীলনের পর নিজের দুর্বল জায়গাগুলো আরও পরিষ্কার হওয়ার কথা। দ্বিতীয় মাসে তাই চারটি অংশে সমান সময় দেওয়ার প্রয়োজন নেই।


ধরুন, রিডিং ও লিসেনিংয়ে ভালো করছেন, কিন্তু রাইটিংয়ে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে যেতে পারছেন না। তাহলে রাইটিংয়ে তুলনামূলক বেশি সময় দিন। আবার স্পিকিংয়ে বারবার থেমে গেলে নিয়মিত কথা বলার চর্চা বাড়াতে হবে।


এ সময় ভুলের একটি খাতা রাখতে পারেন। রিডিংয়ে কোন ধরনের প্রশ্নে ভুল হচ্ছে, লিসেনিংয়ে কোন শব্দ শুনতে সমস্যা হচ্ছে কিংবা রাইটিংয়ে কী ধরনের ভুল বারবার করছেন, সেগুলো লিখে রাখুন। সপ্তাহ শেষে সেই তালিকা দেখলে নিজের দুর্বলতার ধরন বোঝা সহজ হবে।


এই মাস থেকেই সময় ধরে অনুশীলনের পরিমাণও বাড়ান। কারণ উত্তর জানা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর দিতে পারা এক বিষয় নয়।


তৃতীয় মাস: পরীক্ষার পরিবেশে অনুশীলন করুন


শেষ মাসে নতুন নতুন কৌশল শেখার চেয়ে এত দিনের প্রস্তুতিকে পরীক্ষার উপযোগী করে তোলার দিকে মনোযোগ দিন। নির্দিষ্ট সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট দিন। পরীক্ষা যদি কম্পিউটারভিত্তিক হয়, তাহলে কম্পিউটারে টাইপ করে রাইটিং অনুশীলন করুন।


প্রতিটি মক টেস্টের পর শুধু ব্যান্ড স্কোর নিয়ে চিন্তা না করে ভুল বিশ্লেষণ করুন। আগের ভুলগুলো কি এখনো হচ্ছে? সময়ের অভাবে কোনো অংশ বাদ যাচ্ছে? তাড়াহুড়ার কারণে সহজ প্রশ্নে ভুল করছেন? সেই অনুযায়ী পরের অনুশীলন ঠিক করুন।


স্পিকিংয়ের ক্ষেত্রেও পরিচিত প্রশ্নের মুখস্থ উত্তর না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে বন্ধু, শিক্ষক বা অন্য কারও সঙ্গে পরীক্ষার মতো করে অনুশীলন করতে পারেন।


প্রতিদিন কতক্ষণ পড়বেন?


তিন মাসের প্রস্তুতিতে প্রতিদিন ঠিক কত ঘণ্টা পড়তেই হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। কারও জন্য প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টা মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন কার্যকর হতে পারে, আবার কারও আরও বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে।


বরং সপ্তাহের জন্য ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন। যেমন: নির্দিষ্ট কয়েকটি রিডিং অনুশীলন শেষ করবেন, দুটি রাইটিং লিখবেন কিংবা কয়েক দিন স্পিকিং রেকর্ড করবেন। এতে শুধু ‘আজ দুই ঘণ্টা পড়েছি’ হিসাব না করে আসলে কী কাজ হলো, সেটি বোঝা যায়। এক দিন পাঁচ ঘণ্টা পড়ে পরের চার দিন কিছু না করার চেয়ে নিয়মিত চর্চা বেশি কাজে আসে।


শুধু মক টেস্টেই আটকে থাকবেন না


প্রতিদিন পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট দিলেই দ্রুত উন্নতি হবে, এমন নয়। মক টেস্ট মূলত আপনি কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন এবং কোথায় সমস্যা হচ্ছে, সেটি বুঝতে সাহায্য করে।


কোনো একটি রিডিংয়ে দশটি ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি রিডিং শুরু না করে আগের ভুলগুলো দেখুন। একইভাবে রাইটিং লিখে রেখে দিলে হবে না। সম্ভব হলে কারও কাছ থেকে ফিডব্যাক নিন অথবা নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের মানদণ্ড দেখে নিজের লেখা যাচাই করুন। ভুল ধরার পর সেটি ঠিক করার কাজটাই প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


শেষ সপ্তাহে নতুন চাপ নয়


পরীক্ষার আগের সপ্তাহে হঠাৎ করে পড়ার সময় দ্বিগুণ করার প্রয়োজন নেই। বরং যে ভুলগুলো নিয়মিত হচ্ছিল, সেগুলো আরেকবার দেখুন। পরীক্ষার নিয়ম, সময় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। পরীক্ষার আগের রাতে নতুন শব্দের দীর্ঘ তালিকা মুখস্থ করা বা রাত জেগে মক টেস্ট দেওয়ার চেয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া বেশি কাজে দেবে।


তিন মাসে আইইএলটিএসের প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো পরিকল্পনাটি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সাজানো। প্রথম মাসে পরীক্ষাকে বুঝুন, দ্বিতীয় মাসে দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করুন এবং তৃতীয় মাসে সময় ধরে পরীক্ষার মতো অনুশীলন করুন। অন্য কেউ কত দিনে কত ব্যান্ড পেয়েছেন, সেই হিসাবের সঙ্গে নিজের প্রস্তুতি মেলানোর প্রয়োজন নেই। তিন মাস শেষে আপনার লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু বেশি অনুশীলন করা নয়, বরং আগের চেয়ে কম ভুল করা এবং পরীক্ষার প্রতিটি অংশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামলাতে পারা।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৫ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নয় সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে মার্কেটিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অজয় পালকে আহ্বায়ক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জয় সাহাকে সদস্য-সচিব করা হয়েছে।


আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সুরঞ্জন কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির’-এর জন্য গঠনতন্ত্র প্রণয়ন এবং সে অনুযায়ী নতুন কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত মন্দির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নয় সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন কমিটি গঠিত হলে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে।


কমিটিতে বাংলা বিভাগের ১৭তম ব্যাচের সুমন কুমার দাসকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ১৬তম ব্যাচের প্রিয়ন্ত স্বর্ণকার, সংগীত বিভাগের ১৭তম ব্যাচের অনন্ত বিশ্বাস, লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৮তম ব্যাচের গৌরব দাস, ফিন্যান্স বিভাগের ১৮তম ব্যাচের অবন্তি রায়, অর্থনীতি বিভাগের ১৯তম ব্যাচের অতসী দাস এবং মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০তম ব্যাচের বিশাল কুমার সাহা।


কমিটিতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়ে জয় সাহা বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরের সদস্য সচিব হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই দায়িত্ব আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের এবং একই সঙ্গে একটি বড় দায়িত্বের। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্য বজায় রাখতে আমি নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।”


তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরকে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও সকলের অংশগ্রহণের একটি মিলনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরের কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ হবে।”


কমিটি গঠনের বিষয়ে আহ্বায়ক অজয় পাল বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে মন্দিরের কার্যক্রমে সমন্বয়, শৃঙ্খলা ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।”

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩১ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উপর ছাত্রদল কর্তৃক হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা।


আজ ​​সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে চোখে কালো ব্যাজ ধারণ করে এই প্রতিবাদ জানান তারা। ক্যাম্পাসের কর্তব্যরত তিন সাংবাদিক সংগঠন- ইবি রিপোর্টার্স ইউনিটি, প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতি- যৌথভাবে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।


​এসময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. সাকিব আসলাম, প্রেসক্লাবের সভাপতি আবির হোসেন ও সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নিয়ামতুল্লাহ মুনিম সহ তিন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও অন্যান্য সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


অবস্থান কর্মসূচিতে তাঁদের চোখে কালো ব্যাজ ধারণ করে হাতে প্লে-কার্ড নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়। এসময় ​‘ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া যায়, সত্য নয়; কালো হাত ভেঙে দাও, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা দাও; সাংবাদিকদের সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করুন, রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা স্বীকার করুন; সাংবাদিকদের উপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করুন; Press freedom is our right, we will fight; প্রক্টর স্যার অসহায়, পুলিশ লেজ গুটিয়ে পালায়, সন্ত্রাসীরা দেশি অস্ত্র চালায়’ ইত্যাদি প্রতিবাদী লেখা সম্বলিত প্লে-কার্ড দেখা যায়।


সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ জানান, বাক স্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত করায় আমরা কোনো বক্তব্য দেয়নি। মুখে কালো ব্যাজ ধারণ করে মৌন প্রতিবাদ জানিয়েছি। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা এবং সকল ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ সব খবর

আনসার সদস্যের সাহসী ভূমিকায় অপহরণকারীদের কবল থেকে উদ্ধার ১৪ বছরের মাদরাসাছাত্র

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৬ পিএম

নোয়াখালীর সোনাপুরে অপহরণকারীদের কবল থেকে কৌশলে পালিয়ে আসা ইব্রাহিম খলিল ফুয়াদ (১৪) নামে এক মাদরাসাছাত্রকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোরে সোনাপুর এলাকায় শিশুটিকে দেখতে পেয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আনসার সদস্য অভিজিৎ চৌধুরী তাকে উদ্ধার করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


ইব্রাহিম খলিল লক্ষ্মীপুরের দত্তপাড়া এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দর্জিপাড়া খান বাড়ির বাসিন্দা সুমন খান ও খালেদা আক্তারের ছেলে। সে খোদাওয়ান্দপুর মুহাম্মাদিয়া (স.) মাদরাসার শিক্ষার্থী।


ইব্রাহিমের ভাষ্য, গত রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে মাদরাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসার পর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে তিন ব্যক্তি তাকে ‘বাবু, এদিকে আসো’ বলে ডাক দেন। পরে তাঁরা তাকে ৫০ টাকা দিয়ে বলেন, টাকা না নিলে তাঁরা মন খারাপ করবেন। ছোট হওয়ায় ইব্রাহিম তাঁদের দেওয়া টাকা নেয়। এরপর তাঁরা তাকে একটি কাগজ দিয়ে সেখানে লেখা ঠিকানাটি কোথায়, তা জানতে চান। এর কিছুক্ষণ পর তার মাথা ঘুরতে থাকে। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে সিএনজিতে করে নিয়ে যাওয়া হয়।

ইব্রাহিম জানায়, রাত ৯টা থেকে ১০টার দিকে তার জ্ঞান ফেরে। তখন সে নিজেকে একটি কক্ষে প্লাস্টিকের চেয়ারের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায়। এ সময় কক্ষে রাইফেল, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখতে পায় বলে জানায় সে। এসব দেখে আতঙ্কিত হয়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নেয় ইব্রাহিম।


প্রথমবার সুযোগ পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে অপহরণকারীরা তাকে ধরে আবার বেঁধে রাখে। পরে দ্বিতীয়বারও পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় সে। এরপর অপহরণকারীরা কক্ষের চাবি কোথায় রাখে, তা খেয়াল করতে থাকে ইব্রাহিম।

ভোররাতে সুযোগ বুঝে তৃতীয়বারের মতো কক্ষ থেকে বের হয়ে পালিয়ে যায় সে। এ সময় অপহরণকারীরা তাকে পেছন থেকে ধাওয়া করলে একটি গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে ইব্রাহিম। কিছুক্ষণ পর গাড়ির শব্দ শুনে সে ধারণা করে, রাস্তা কাছেই। পরে অপহরণকারীরা সেখান থেকে চলে গেলে সে দৌড়ে রাস্তার দিকে চলে আসে।

একপর্যায়ে সোনাপুর রয়েল হাসপাতালের কাছাকাছি এলাকায় নোবিপ্রবির আনসার সদস্য অভিজিৎ চৌধুরীর রিকশার সামনে গিয়ে পড়ে ইব্রাহিম। তখনও সে ভয়ে কাউকে বিশ্বাস করতে পারছিল না।


আনসার সদস্য অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘আজ ভোর ৫টা ১০ মিনিটে আমি সোনাপুরে বাস থেকে নামি। এরপর রিকশায় করে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা হই। রিকশাটি সোনাপুর রয়েল হাসপাতালের কাছাকাছি পৌঁছালে দেখি, একটি ছেলে একটি গলি থেকে আমার রিকশার সামনে এসে পড়ে। তখন কয়েকজন তাকে ধরার জন্য পেছন থেকে তাড়া করছিল।’


তিনি বলেন, ‘ছেলেটির অবস্থা দেখে আমার সন্দেহ হয়। পরে তাকে রিকশায় করে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসি। সেখানে তার কাছ থেকে বাবার মোবাইল নম্বর নিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করি।’

ইব্রাহিমের খালাতো বোনের স্বামী মারুফ বলেন, ‘সকালে আমার শাশুড়ি ফোন করে জানান, ইব্রাহিমকে গতকাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে জানতে পারি, ইব্রাহিম একজন আনসার সদস্যের কাছে আছে। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তাকে আনতে আসি।’


অপহরণের ঘটনায় থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মারুফ বলেন, ‘পরিবারের সদস্যরা পুলিশের কাছে যেতে চাননি। এ কারণে এখন পর্যন্ত কোনো জিডি বা অন্য কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’

পরিবারের দাবি, ইব্রাহিমকে অপহরণ করে নোয়াখালীর সোনাপুরের একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল। তবে কারা তাকে অপহরণ করেছে, কোথায় তাকে আটকে রাখা হয়েছিল এবং এর পেছনে কারা জড়িত—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


এদিকে, অপহরণকারীদের কবল থেকে পালিয়ে আসা শিশুটিকে দ্রুত শনাক্ত করে নিরাপদে উদ্ধার এবং পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় আনসার সদস্য অভিজিৎ চৌধুরীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১৭ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইংরেজি বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মিঠুন বৈরাগী গুরুতর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয়টি জানতে পেরে চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।


রোববার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে হাসপাতালে মিঠুনকে দেখতে যান হিমেল। এ সময় তিনি মিঠুনের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহনের ঘোষণা দেন।


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিন ধরে ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন মিঠুন বৈরাগী। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। ডেঙ্গুর কারণে তার রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে বর্তমানে ৮ হাজারে নেমে এসেছে। এরই মধ্যে তাকে দুই দফা প্লাটিলেট দেওয়া হলেও প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি বলে জানা গেছে।


মিঠুনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়ান জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।


হিমেল বলেন, ‘মিঠুনের চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ আমি বহন করব। সে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে যাওয়া পর্যন্ত আমি তার পাশে আছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যেকোনো বিপদ-আপদে সব সময় পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও ইনশাআল্লাহ পাশে থাকব।’


এদিকে মিঠুনের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তার দ্রুত সুস্থতার জন্য সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০৯ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অধ্যয়ণরত রাজবাড়ী জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন “রাজবাড়ী জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি” এর বার্ষিক নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


রোববার (৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনের ১০২ নম্বর কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল আনুষ্ঠানিকতার পরে মনোগ্য সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। 


সংগঠনটির সভাপতি মো. মাহদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফারুকুজ্জামান খান, উপদেষ্টা অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফ, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সুধাংশু কুমার বিশ্বাস ও উপ-রেজিস্ট্রার মো. ইব্রাহিম খলিল।


এছাড়া সংগঠনটি অন্যান্য সদস্য ও রাজবাড়ী জেলার অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।


সমিতির সভাপতি মো. মাহদী হাসান বলেন, ‘রাজবাড়ী জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্বের একটি জায়গা। আমরা চাই, রাজবাড়ী থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন এই সংগঠনকে নিজের আপন জায়গা মনে করে এবং প্রয়োজনে একে অপরের পাশে দাঁড়ায়।’


প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো: ফারুকুজ্জামান খান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলেন,  তেমরা যেন তাদের শিকড় না ভুলে যেও না  এবং  তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইবির স্বার্থে সর্বদা নিয়োজিত থাকবা।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১৪ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহত চার সাংবাদিককে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) নেওয়া হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।


গুরুতর আহত সাংবাদিকেরা হলেন- দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।


হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন- বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ছাত্রদলের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী হামলায় অংশ নেন।


যেভাবে হামলা


প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে আসেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারধরের উদ্দেশ্যে তারা সেখানে এসেছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।


তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়।


খবর পেয়ে প্রক্টর মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অস্ত্রগুলো লুকিয়ে ফেলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। পরে তাদের হাতে অস্ত্র দেখতে পেয়ে দৈনিক সমকাল ও আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা ভিডিও ধারণ করতে এগিয়ে গেলে সমকালের প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।


একপর্যায়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে অন্য সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে গেলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলামকে মারধর করা হয়। এতে জাহিদুলের মাথা ফেটে যায়।


এ সময় সাংবাদিকদের ‘পুঁতে ফেলার’ হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানান তারা। 


ফেসবুক পোস্টের মন্তব্য ঘিরে বিরোধ


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা এম আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত।


আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই পোস্টের মন্তব্যে রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করেছেন। অন্যদিকে রাকিবুলের দাবি, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন আহসান হাবীব। পরে দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে পাল্টাপাল্টি পোস্ট করেন।


শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান করেন রাকিবুল। পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে সেখানে অবস্থান নেন আহসান হাবীব। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায়। তারা রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দেন।


ছাত্রদলের ওই অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘তারেক রহমানের সোনার ছেলেরা চাঁদাবাজি ছেড়ে দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে।’


এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রড, পাইপ, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সেখানে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘বিষয়টি আমি সেন্ট্রাল ছাত্রদলকে জানিয়েছি। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ। আমাদের দ্বারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি। কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।’

সর্বশেষ সব খবর