• প্রকাশ : রবিবার ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৫:৫৯ এএম

ঢাকার অলিগলিতে নামে-বেনামে কার্যক্রম চালাচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়ের শত-শত স্কুল। সরু গলির ভেতরে, আবাসিক ভবনের নিচতলায়, ভাড়া করা ফ্ল্যাটে কিংবা অস্থায়ী কিছু কক্ষে চলছে এসব প্রতিষ্ঠান। 


প্রি-প্রাইমারি, কেজি, স্কুল-মাদ্রাসা, ইংলিশ মিডিয়ামসহ নানা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীদের। প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগেরই নেই খোলা ক্লাসরুম, খেলার জায়গা কিংবা অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা।


এ ধরনের স্কুলগুলোর শিক্ষার মান, শিশুদের মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা বিধানে সরকারের কোনো তদারকি নেই, নেই সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালাও। স্কুলগুলো কে খুলছে, কারা চালাচ্ছে, কার অনুমতিতে চলছে, সরকার আদৌ জানে কি না সেখানে কী হচ্ছে– এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই।


সম্প্রতি রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় শারমিন একাডেমি নামে একটি স্কুলের ভেতরে এক শিশুশিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, স্কুলের অফিস কক্ষের ভেতরে এক ব্যক্তি ৪ বছর বয়সি শিশুটিকে বেধড়ক মারধর করছেন। 


পাশে গোলাপি শাড়ি পরা এক নারী শিশুটির হাত ধরে রেখেছেন। কিছুক্ষণ পরপর ওই ব্যক্তি শিশুটিকে আঘাত করছেন। পরে জানা যায়, মারধরকারী ব্যক্তি ওই স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার, আর পাশে বসে থাকা নারী সেখানকার প্রধান শিক্ষক শারমিন আক্তার। মূলত এ দুজনই একাডেমিটির মালিক। ঘটনার তিনদিন পর পুলিশ পবিত্র কুমারকে গ্রেপ্তার করে।


গত ২২ জানুয়ারি সকাল থেকে নয়াপল্টনের ওই এলাকা ও স্কুল প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, স্কুলের ভেতরে কোনো ধরনের কার্যক্রম নেই। মাঝে মধ্যে দুই- একজন অভিভাবক ও কৌতূহলী পথচারী সেখানে এসে স্কুলের ভেতরের দিকে তাকাচ্ছেন, কেউ কেউ খোঁজখবর নিচ্ছেন। তবে ভেতর থেকে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ তালাবদ্ধ থাকায় কারও প্রবেশের সুযোগ ছিল না।


স্কুল ভবনের কেয়ারটেকার কামরুল হক ঢাকা পোস্টকে জানান, গতকাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি খোলা ছিল। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাউকে আসতে দেখেননি তিনি। 


কেন স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে- এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো কারণও জানাতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে জানতে স্কুলটির দেয়ালে ও ব্যানারে থাকা কয়েকটি নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সবগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।


স্থানীয় ও আশপাশের বাসিন্দারা জানান, ঢাকার বহু অলিগলির স্কুলের মতো শারমিন একাডেমিও পরিচালিত হচ্ছে সীমিত পরিসরে একটি ভবনের মধ্যে। ওই ভবনের ভেতরে রয়েছে একটি বিউটি পার্লারও। 


স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে জানতেন সেখানে একটি স্কুল আছে কিন্তু সেটির অনুমোদন আছে কি না, শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কোনো নীতিমালা আছে কি না বা শিশুরা সেখানে নিরাপদ কি না- এসব বিষয়ে কারও কোনো ধারণা নেই।


অবশ্য গোটা রাজধানীজুড়েই এমন অসংখ্য স্কুল-মাদ্রাসা রয়েছে। যেগুলোর শুধু সাইনবোর্ড দেখে মানুষ, আর বাচ্চাদের ভর্তি করে দেয়। 


অনুমোদিত নাকি অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান তা আর যাচাই করে না কেউ। রাজধানীর আজিমপুর, পুরান ঢাকা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বাড্ডা, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, পল্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় অলিগলির ভেতরে গড়ে ওঠা এমন স্কুলের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। 


অনেক ক্ষেত্রে একটি ফ্ল্যাটে ৩০-৪০ জন শিশুকে গাদাগাদি করে বসানো হচ্ছে। নেই খোলা জায়গা, নেই জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা। তবুও এসব প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।


২০২৫ সালে বেড়েছে শিশু শিক্ষার্থী নির্যাতন


আইন অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ২০১১ সালে হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক শাস্তি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অসাংবিধানিক। শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী, শিশুকে নির্যাতন করা একটি ফৌজদারি অপরাধ।


প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী নির্যাতনের আলাদা তথ্য না থাকলেও আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সামগ্রিক তথ্য বলছে, ২০২১ সালে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের নির্যাতনের ২১টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল, যেখানে শিক্ষার্থীদের বয়স ছিল শূন্য থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। 


এই সংখ্যা ২০২২ সালে বেড়ে ৪৯-এ দাঁড়ায়। তারপর ২০২৩ সালে সামান্য কমে ৪৭ এবং ২০২৪ সালে আরও কমে ৩০-এ নেমে আসে। তবে নির্যাতনের ঘটনা বন্ধ হয় না।


২০২৫ সালে শিশু নির্যাতনের ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৯টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।


উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা


এমন অবস্থায় রাজধানীসহ সারা দেশের অভিভাবকরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। সামাকি মাধ্যমে অনেকে এসব নির্যাতনের ঘটনা দেখে আঁতকে উঠছেন এবং স্কুলগুলোর তদারকির ব্যবস্থা কী- সেই প্রশ্ন রাখছেন। তারা বলছেন, এখনই কঠোর নজরদারি ও বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের মাধ্যমে এসব স্কুলকে তদারকির আওতায় আনা দরকার।


রাজধানীর মিরপুর এলকার নাঈমা মিতু নামে এক অভিভাবক বলেন, আমরা বাবা-মায়েরা চাকরি বা কাজের কারণে বাধ্য হয়ে কাছাকাছি স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করাই। কিন্তু এসব স্কুলের ভেতরে কী হচ্ছে, শিক্ষকরা কেমন আচরণ করেন- তা জানার কোনো উপায় নেই। 


শারমিন একাডেমির ঘটনার ভিডিও দেখে আমি ভীষণ আতঙ্কিত। যদি আমার সন্তানের সঙ্গে এমন কিছু ঘটে? সরকারের উচিত এসব স্কুলের নিয়মিত তদারকি করা বা শিক্ষাদান ও শিক্ষকদের গুণগত মানের বিষয়ে খোঁজখবর রাখা।


শারমিন সুলতানা নামে আরেক অভিভাবক বলেন, লটারি-নির্ভর ব্যবস্থা আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারকে ঠেলে দিচ্ছে গলির ভেতরের স্কুলে। কোনো অনুমোদন, কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই যারা শিশুদের পড়ায়, তাদের হাতে আমরা সন্তান তুলে দিচ্ছি। 


তাছাড়া শিশুদের শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে দেখছি উল্টো চিত্র। এসব ছোট ছোট স্কুলে অভিভাবকদের কথাও তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত।


প্রি-প্রাইমারি শিক্ষা নিয়ে পরিকল্পনা নেই, রাষ্ট্রের তদারকি দাবি


বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল জায়গাটি হলো তদারকি না থাকা। প্রাইমারি বা কেজি স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় পড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত পরিদর্শন বা কার্যকর নজরদারি নেই। আর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল। 


এগুলো জাতীয় শিক্ষাবোর্ডের অধীনে নয়, আবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণেও নেই। ফলে কার্যত এসব স্কুল একটি ‘আইনগত ধূসর অঞ্চলে’ পরিণত হচ্ছে।


আবার অনেক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয় বরং সোসাইটি, ট্রাস্ট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত। এতে করে স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিক্ষক নিয়োগ, শিশু সুরক্ষা বা আচরণবিধি– এসব বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না। একবার সাইনবোর্ড ঝোলালেই কার্যক্রম শুরু করা যায়।


প্রাথমিক বা প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক এমন অগোছালো ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, রাষ্ট্রের পরিসরে যা কিছু ঘটে, তার দায় সরকারের রয়েছে। 


একই সঙ্গে সমাজ ও কমিউনিটির স্টেকহোল্ডারদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশে একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে কোথায় কতগুলো প্রি-প্রাইমারি ও প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন তার সঠিক পরিকল্পনাই হয়নি।


অধ্যাপক জিন্নাহ বলেন, বর্তমানে ভর্তি ব্যবস্থায় লটারির ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে। লটারিতে যাদের নাম ওঠে, তারা স্কুলে ভর্তি হতে পারে, আর যাদের নাম ওঠে না, তারা কোথায় যাবে- এই প্রশ্নের কোনো কার্যকর সমাধান নেই। 


একদিকে শিক্ষা সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত, অন্যদিকে ভর্তি সীমিত করার এই বাস্তবতা একটি বড় বৈপরীত্য তৈরি করছে। এই সুযোগেই পাড়া-মহল্লায় নামে-বেনামে অনেক বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল গড়ে উঠছে, যেগুলো মূলত ব্যবসায়িক মানসিকতায় পরিচালিত।


তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিশুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে আঘাত করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই নীতির বাস্তবায়ন দেখা যায় না। 


শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার সঙ্গে নার্সিং, কেয়ারিং ও টিচিং–এই তিনটি বিষয় গভীরভাবে যুক্ত। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও মনোজাগতিক প্রস্তুতি ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে শিশু নির্যাতনের মতো অমানবিক ঘটনা ঘটতেই থাকবে।


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই একক মালিকানাভিত্তিক ক্ষমতার জায়গা হতে পারে না উল্লেখ করে অধ্যাপক জিন্নাহ বলেন, শিশুদের শারীরিক নির্যাতন, অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে পরিচালনা করা গ্রহণযোগ্য নয়। দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানো নয় বরং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর মান উন্নয়ন জরুরি। পাশাপাশি হাওর, বাওর, চর ও প্রত্যন্ত এলাকায় মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়াতে হবে।


তিনি বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বহু শিক্ষক রয়েছেন, কিন্তু তাদের কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। শুধু তালিকা তৈরি করে বসিয়ে না রেখে শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। 


অপ্রতুল অবকাঠামো, অল্পসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে একাধিক শ্রেণি পরিচালনা, নামমাত্র বেতন ও অতিরিক্ত কাজের চাপ- এসব বাস্তবতায় শিক্ষকরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন। এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। ফলে এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিশু নির্যাতনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবেই।


এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট শিশুদের শিক্ষা দেওয়া সবচেয়ে কঠিন ও দায়িত্বশীল কাজ। শিশুরা হলো একটি ‘ছোট চারা গাছ’। এই চারার যত্ন নিতে হলে দক্ষ ‘মালি’ প্রয়োজন। 


অর্থাৎ যারা শিশুদের দেখভাল ও শিক্ষা দেবেন, তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। এই জায়গায় ঘাটতি তৈরি হলেই বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।


শিশুকে নির্যাতনের অধিকার কারও নেই, নিবন্ধনের আওতায় আসছে সব স্কুল


শিশু শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, কোনো শিশুকে শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতনের অধিকার কারও নেই। এটি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত হলে তা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।


ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারিভাবে পরিচালিত কেজি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর তদারকি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নিবন্ধনের বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর দেখে থাকে। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই সরবরাহের বিষয়টিও নিবন্ধনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।


তবে সরাসরি মনিটরিং বা তদারকির দায়িত্ব মূলত মন্ত্রণালয়ের বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নিবন্ধনসংক্রান্ত কার্যক্রমসহ অন্যান্য নির্ধারিত কাজগুলো তদারকি করে থাকে।


ডিজি আরও জানান, বেসরকারি বিদ্যালয় নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত একটি বিধিমালা রয়েছে, যা সম্প্রতি সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত সেই বিধিমালার আলোকে বিদ্যালয়গুলোর নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।


তিনি বলেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে সম্প্রতি একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট টিমের প্রশিক্ষণ চলছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরই সর্বোচ্চ পর্যায়ে চেষ্টা করা হবে– যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মানদণ্ড বা ক্রাইটেরিয়া পূরণ করে, কেবল তারাই নিবন্ধনের আওতায় আসবে।


এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার কার্যালয়ে গিয়ে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।




  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩২ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে দুই গ্রুপের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সালাম হল এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।


প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন শান্তর অনুসারীদের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার সময় সাব্বির হোসেন শান্তর গ্রুপ বহিরাগতদের এনে হলে প্রতিপক্ষ গ্রুপের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি এবং সেক্রেটারির সালাম হলের রুমে ব্যাপক ভাঙচুর চলে। এছাড়াও , নোবিপ্রবির সালাম ও মালেক হলের বিভিন্ন রুম ভাঙচুর করা হয়। 


পরবর্তীতে, সালাম হল প্রাঙ্গণ থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরা একজোটে সাব্বির গ্রুপের অনুসারীদের ধাওয়া দেয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া গড়ায় অডিটোরিয়াম থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ পর্যন্ত। সেখানে উভয় পক্ষ সংঘর্ষ ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৫ জন আহত হন।


ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে। এ নিয়ে তাতক্ষনিক তদন্ত কমিটি গঠন করেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।


উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আহতদের দেখে জানান, আমরা এ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আমাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ,কর্মচারীরা এখানে আছেন। পরিস্থিতি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। আমরা অতিদ্রুত এ নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করবো। 


উল্লেখ্য, গতকাল গভীর রাতে ছাত্রদলের দু পক্ষের মধ্যে মালেক হল এবং পকেট গেট সংলগ্ন এলাকায় দু পক্ষের সংঘর্ষ হয়। উক্ত সংঘর্ষের জেরে আজ দুপুরে আবার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে আহত হয় প্রায় ৫ জন।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:২১ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) হলের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রথম প্রহর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মালেক উকিল হল ও পকেট গেট এলাকায় দফায় দফায় সংঘটিত এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এক সমন্বয়ক ও এক ছাত্রদল নেতাসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


আহতরা হলেন—শাখা ছাত্রদলের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান সিফাত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ফলিত গণিত বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম হাসান এবং কৃষি বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম।


প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক দুইটার দিকে আব্দুল মালেক উকিল হলের একটি কক্ষের সিট পরিবর্তন (এক্সচেঞ্জ) নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সিনিয়র-জুনিয়র কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত তিনটার দিকে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হাসানের অনুসারী আনিসুর রহমান সিফাতের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সিফাতকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেওয়া হলে তিনি পকেট গেটের দিকে চলে যান।


এরপর পকেট গেট এলাকায় সামিউল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর ঠোঁট ফেটে যায় এবং পরে তাঁকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, ঘটনা থামাতে গেলে হলের ভেতরে মারধরের শিকার হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম হাসান। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হন।


মারধরের শিকার ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান সিফাত বলেন, “সিট নিয়ে তুচ্ছ বাকবিতণ্ডার জেরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা অন্যায়ভাবে আমার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় এবং মারধর করে হল থেকে বের করে দেয়, বিশেষ করে ফিশারিজের রায়হান কবির রাশেদ ও ইকোনমিক্সের তানভীর ভুইঁয়া।”


নিজের ওপর হামলাকারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আগস্টের ১০ তারিখও ওরা ছাত্রলীগ করেছে, এখন বড় ছাত্রদল হয়ে গেছে। ছাত্রলীগ দিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতি চলে না। আর ছাত্রলীগের স্টাইলে পেশিশক্তির রাজনীতি নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। গুপ্ত শিবিরকে দিয়ে যখন কমিটি দেওয়া হয় আর ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতি করা হয় তখন তাদের থেকে এর চেয়ে বেশি কিইবা আশা করতে পারি।”


ঘটনার বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হাসান বলেন, “আমি ঐ রুমে রাতের খাবার খেতে গিয়েছিলাম। একটা সিট এক্সচেঞ্জ নিয়ে বাক-বিতণ্ডার হয়, পরে সেটার একটা সমাধান হয় এবং সবাই চলে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে তারা পরিকল্পিতভাবে এসে ছাত্রদলের দায়িত্বশীল এক নেতার ওপর এমন হামলা করে। যা সুস্পষ্ট সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। আমি ইতিমধ্যে বিষয়টি কেন্দ্রে জানিয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না। তবে যতটা জানি এটা সিনিয়র ও জুনিয়রের মধ্যকার ঝামেলা কোনো পলিটিক্যাল বিষয় নয়। আমি বিষয়টি ভালোভাবে খুঁজে দেখে বিস্তারিত বলতে পারব।”


এদিকে, এ বিষয়ে একাধিকবার কল দিয়েও শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ ফ ম আরিফুর রহমান বলেন, “আমি এই বিষয়ে অবগত রয়েছি। হলের প্রভোস্ট বডির সবাইকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়েছে। আনসার সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং আমরা প্রক্টরিয়াল বডির একটি সভা ডাকছি। আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এরই মধ্যে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি।”

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:০১ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:০১ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:০১ পিএম

মৎস্য উৎপাদনে দেশের সক্ষমতা আরও বাড়াতে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং জলজ পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা।


‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) হাবিপ্রবিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।


দিনটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। ভাইস- চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে র‌্যালিতে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক- শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা- কর্মচারীরা অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের অনেকে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে এতে অংশগ্রহণ করেন।


ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে র‌্যালিটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। পরে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মৎস্য খাতের গুরুত্ব তুলে ধরতে শিক্ষার্থীরা একটি জনসচেতনতামূলক মৎস্য নাটিকা পরিবেশন করেন। র‌্যালি-পরবর্তী বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা বলেন, দেশের অর্থনীতি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মৎস্য খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এ খাতের অবদান রয়েছে।


তিনি বলেন, মৎস্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদনের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাও জরুরী। এ জন্য রোগ ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাত উদ্ভাবন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং জলজ পরিবেশ সংরক্ষণে গবেষণার পরিধি আরও বাড়াতে হবে। হাবিপ্রবির শিক্ষক ও গবেষকদের উদ্ভাবিত জ্ঞান ও প্রযুক্তি যাতে মাঠপর্যায়ের মৎস্যচাষি ও উদ্যোক্তাদের কাজে আসে, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। গবেষণাগারে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব উৎপাদন ব্যবস্থায় কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে দেশের মৎস্য খাত আরও সমৃদ্ধ হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. মো. মাসুদুল হাসান খান।এ ছাড়া মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর মো. ফরিদুল্লাহ, সংশ্লিষ্ট অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রফেসর ড. আবুল কালামসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে একদিকে যেমন মৎস্য খাতের অর্থনৈতিক ও পুষ্টিগত গুরুত্ব তুলে ধরা হয়, অন্যদিকে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদনে গবেষণা ও জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৪ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মার্কেটিং বিভাগে নতুন সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা উপেক্ষা করে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস শাহীদ মিয়াকে মার্কেটিং বিভাগে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।


মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগের দাবিতে সকাল ৯টা থেকে ব্যবসায় প্রশাসন অনুসদ ভবনে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। তারা নিজ বিভাগের শিক্ষকদের থেকে সভাপতি নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।


তারা জানিয়েছে, স্পষ্ট বিধিমালা লঙ্ঘন করে অন্য বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগ দিয়েছে প্রশাসন। আমরা রাজনীতি বুঝি না, নীতিমালা অনুযায়ী নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগ দিতে হবে। এক দফা দাবিতে অনঢ় থাকবে তারা।


এর আগে গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাদিকুল আজাদের সভাপতির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১৮ তারিখ থেকে পরবর্তী পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ডিনকে দায়িত্ব দেয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানা যায়।


রেজিস্ট্রার দপ্তর এই নিয়োগের যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এবং কেন এমনটা করা হয়েছে তাও অবগত নন তারা। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবক উপাচার্য তিনিই ভালো বলতে পারবেন বলে এড়িয়ে গেলেন তারা। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী সভাপতির পর রোটেশনে সভাপতির দায়িত্বে সহকারী অধ্যাপক মাজেদুল হক আসার কথা। তিনি আওয়ামীপন্থি শিক্ষক ও শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ‘ষড়যন্ত্রে জড়িত’ বলে অভিযোগ থাকায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা হয়েছে, এর পরের জনকে দিতে হলে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে রেজুলেশন করতে হয়। তাই আপাতত পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ডিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনেকের মন্তব্য।


এদিকে নথিতে দেখা গেছে, সদ্য বিদায়ী সভাপতি সাদিকুল আজাদের পর মার্কেটিং বিভাগের সভাপতির যোগ্যতা অর্জন করেছে সহকারী অধ্যাপক মাজেদুল হক, পরের সিরিয়ালে মো. রুহুল আমিন ও মো. আলাল উদ্দিন। 


বিশ্ববিদ্যালয়ে সভাপতি নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিভাগ যদি নতুন হয় এবং সহকারী অধ্যাপক পদের শিক্ষক না থাকেন তাহলে অন্য যেকোনো বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগ দেওয়া যাবে। অন্যথায় সিনিয়র মেইনটেইন করে নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগ পাবেন। তবে সর্বনিম্ন সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার শিক্ষক থাকা আবশ্যক। কোনো যৌক্তিক কারণে পদ শূন্য হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন দায়িত্ব পান।


সদ্য বিদায়ী সভাপতি সাদিকুল আজাদ জানান, ‘আমার মেয়াদ আজ পূর্ণ হয়েছে। শুনেছি প্রশাসন পরবর্তী সংশ্লিষ্ট ডিনকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কিভাবে কেন এমন সিদ্ধান্ত হলো আমি জানি না।’ 


এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নবনিযুক্ত সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন আব্দুস শহীদ মিয়া বলেন, ‘নিয়োগটা হয়তো সাময়িক সময়ের জন্য দেওয়া হয়েছে কারণ বিজ্ঞপ্তিতে ‘পুনরাদেশ না দেওয়া অব্দি’ উল্লেখ করা হয়েছে।’


নীতিমালার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সভাপতি কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে কি হবে না, বিষয়টির প্রসেস সম্বন্ধে আমি অবগত নই। চিঠি পেয়ে বিভাগে গিয়েছিলাম আজ।’


জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা দেখিয়েছেন।


সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:২৮ পিএম

সবুজ ও নির্মল ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতি।


আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরের অনুষদ ভবনের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।


এর আগে মীর মুগ্ধ সরোবর ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে বিলাতি গাব ও আমের চারা রোপণ এবং খালেদা জিয়া হল ও উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা (রা) হল নিকটস্থ পেয়ারা বাগানে বিলাতি গাবের বীজ বপন করে সংগঠনটি। পাশাপাশি শাহ আজিজুর রহমান হলেও বীজ বপন ও গাছ লাগান তারা।


আনুষ্ঠানিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাকসুদুর রহমান, অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী, সভাপতি সাজ্জাতুল্লাহ শেখ-সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সৈয়দ মাকসুদুর রহমান বলেন, ''বৃক্ষ আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বিশুদ্ধ বায়ু নিশ্চিত এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রোপিত গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণও আমাদের সবার দায়িত্ব। গাব গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাদের কাছে আমার প্রত্যাশা থাকবে, তারা যেন রোপিত গাছগুলোর পরিচর্যা করে। আমরা আশা করি, খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।" 


খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আব্দুল গফুর গাজী বলেন, "খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির এই মহতী ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে আমরা আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে প্রত্যাশা করি, এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং পরিবেশের সুরক্ষা ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে সংগঠনটি আরও ব্যাপকভাবে এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।"


জেলা কল্যাণের সভাপতি সাজ্জাতুল্লাহ শেখ বলেন, "আমার দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে ক্যাম্পাস, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ এলাকায় আমরা বিলাতি গাব গাছ দেখিনি। অথচ এই গাছটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এর ফল খুবই সুস্বাদু। তাই খুলনা থেকে আমরা এই বিলাতি গাব গাছ এনেছি। ক্যাম্পাসের পরিবেশ রক্ষা ও সুস্বাদু এই ফল মানুষ ও পশু-পাখির আহারের জন্য আমরা এই গাছ লাগিয়েছি। আমরা আশাবাদী এ বৃক্ষ আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে যাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও মানুষের কল্যাণে কাজে আসবে। আমাদের বৃক্ষরোপন কর্মসূচি এখানেই শেষ নয়। পরবর্তীতে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"


জোহা ও মোজাহিদ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১৫ পিএম

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার ২০২৬–২৭ কার্যবর্ষের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড জিওগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রবিউস সানি জোহা এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মোজাহিদ হোসেন মনোনীত হয়েছেন।


আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রুহুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক সাইশা সুলতানা সাদিয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


দায়িত্ব পাওয়ার পর নব-মনোনীত সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাহিদ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম সবসময় তরুণ লেখকদের নিয়ে কাজ করে। কেননা তরুণ সমাজই দেশের মূল চালিকাশক্তি। সেই জায়গা থেকে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষার্থী এবং যারা লিখতে ভালোবাসেন ও লেখালেখিতে আগ্রহী, তাদের সৃজনশীল ও মুক্তচিন্তার লেখক হিসেবে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করা। যাতে আমরা সবাই আমাদের লেখনীর মাধ্যমে দেশ ও সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারি। এ জন্য আমি সংগঠনের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”


নব-মনোনীত সভাপতি মো. রবিউস সানি জোহা বলেন, “সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রয়াসে লেখক ফোরামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পথে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই। সৃজনশীলতা, মননশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে আমাদের শাখাকে একটি প্রাণবন্ত, আলোকিত ও সম্ভাবনাময় সাহিত্যিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসর হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সকলের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় আমাদের এই পথচলা আরও সমৃদ্ধ ও সফল হবে-এই প্রত্যাশা রাখি।”


প্রসঙ্গত, ‘সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায়’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম। 


তরুণ লেখকদের পরামর্শ দেওয়া, জাতীয় ও অনলাইন পত্রিকায় লেখা প্রকাশে সহযোগিতা, লেখালেখিবিষয়ক সভা, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে সংগঠনটি।


বর্তমানে দেশের ২২টিরও বেশি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের লেখালেখিতে উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করছে তরুণ লেখকদের এই সংগঠনটি।