• প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৫:৩২ এএম

শিক্ষিত বেকার যুবকদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে পরিচালিত দেশের ৪৮ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মানিকগঞ্জে চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)-এর পরিচালক (উপসচিব) জনাব নিশাত জাহান।


গত সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ঢাকা বিভাগীয় প্রধান শাকিল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের বাস্তবায়নে পরিচালিত এ প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি প্রশিক্ষণের মান, অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি এবং প্রশিক্ষণ শেষে বাস্তব কর্মসংস্থানের অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। 


এ সময় তিনি সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী চারটি ব্যাচের ৪০ জন এবং চলমান পঞ্চম ব্যাচের ৭৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।


মতবিনিময় সভায় জনাব নিশাত জাহান বলেন,“এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বেকার যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলছে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয় করার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় প্রশিক্ষণার্থীদের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে, যা সরকারের লক্ষ্য ও পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।”


প্রশিক্ষণার্থীদের সাফল্যের অভিজ্ঞতা শুনে তিনি আরও বলেন,“এই প্রকল্প থেকে দক্ষ ও সফল ফ্রিল্যান্সার তৈরি হওয়া প্রমাণ করে যে কর্মসূচিটি সফল ও স্বাস্থ্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।”


প্রশিক্ষণার্থীদের সন্তুষ্টি ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও উন্নত প্রশিক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ঢাকা বিভাগীয় প্রধান শাকিল, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের মানিকগঞ্জ শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ।


উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জ জেলায় এ পর্যন্ত এই প্রকল্পের আওতায় চারটি ব্যাচ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে পঞ্চম ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্থানীয় বেকার যুবসমাজের কাছে এই প্রশিক্ষণ দেশের ৪৮ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পটি আশার আলো হিসেবে কাজ করছে এবং দেশব্যাপী দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।




জবি প্রেসক্লাব

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২১ পিএম

প্রগতিশীলতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও নিরপেক্ষতা মূলমন্ত্রকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রেসক্লাব। গৌরবময় পথচলার এক যুগ পূর্ণ করে ১৩তম বছরে পদার্পণ করেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অধিকার, দাবি-দাওয়া ও সমস্যার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড দেশ-জাতির সামনে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে সংগঠনটি।


জানা যায়, ২০১৪ সালের ৩ অক্টোবর একদল তরুণ শিক্ষার্থীর উদ্যোগে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ, শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষার প্রত্যয় নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ পথচলায় সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংকট, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামের সংবাদ তুলে ধরে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।


শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, টিউশন ফি, প্রশাসনিক বিভিন্ন অনিয়ম, হল আন্দোলন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করেছে জবি প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষার্থীদের অর্জন ও সাফল্যের সংবাদ জাতীয় গণমাধ্যমে তুলে ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতেও ভূমিকা রেখেছে সংগঠনটি।


সাংবাদিকতা করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে হামলা, মামলা, হুমকি ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও সংগঠনটির সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব থেকে সরে আসেননি। বরং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ন্যায্য দাবির পক্ষে আরও দৃঢ়ভাবে কলম ধরেছেন। জাতীয় বিভিন্ন সংকট ও আন্দোলন-সংগ্রামেও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন জবি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা।


জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও জবি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা ঝুঁকি উপেক্ষা করে মাঠে থেকে ঘটনাপ্রবাহের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার করেছেন। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন তারা। ফলে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার পাশাপাশি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহেরও সাক্ষী হয়ে উঠেছে সংগঠনটি।


শিক্ষার্থীদের দাবি আবাসন ভাতা'র জন্য যমুনা আন্দোলনে জবি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা মাঠে থেকে ঘটনাপ্রবাহের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার করেছেন। এবং এই আন্দোলনে জবি প্রেসক্লাবের  অনেক সাংবাদিক আহত হয়েছেন।


ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার বিকাশের পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, আলোচনা সভা ও অন্যান্য কার্যক্রম আয়োজন করে আসছে সংগঠনটি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রেসক্লাবের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজের মাধ্যমে নিজেদের সাংবাদিকতা দক্ষতারও পরিচয় দিয়েছেন।


জবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিমন ইসলাম বলেন, “ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পেশা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার, সমস্যা, সম্ভাবনা ও বিভিন্ন অনিয়ম-অসংগতির বিষয়গুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। তবে এই পথ সবসময় সহজ নয়। তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সময়মতো তথ্য পাওয়া, নানা চাপ ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এসবই ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার বড় চ্যালেঞ্জ।”


তিনি আরও বলেন, “ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো পক্ষের প্রতি অনুরাগ বা বিরাগ নয়, বরং সত্য ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ তৈরি করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব ভবিষ্যতেও বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে।”


জবি প্রেসক্লাবের সভাপতি মুসফিকুর রহমান বলেন,"জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের দীর্ঘ ১৩ বছরের পথচলায় এই সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ, শিক্ষার্থীদের অধিকার, সাফল্য ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।"


তিনি বলেন,"আমরা বিশ্বাস করি সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ প্রকাশ নয়, এটি সত্য ও ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা। তাই আমাদের প্রত্যেক সদস্যকে বস্তুনিষ্ঠতা, সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রযুক্তির এই সময়ে গুজব ও অপতথ্য থেকে দূরে থেকে যাচাই করা তথ্য পরিবেশন করাই আমাদের অঙ্গীকার।

জবি প্রেসক্লাব আরো সমৃদ্ধ ও পেশাদার হয়ে উঠুক এই প্রত্যাশায়।"


প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১৫ পিএম

অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারাকে টেকসই করার লক্ষ্যে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলগত কাঠামো গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, এ কৌশলের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করা।


তিনি বলেন, অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাকে এ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।


আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিক্ষা-শিল্পের ঐকতান, কর্মসংস্থানের সমাধান’ শীর্ষক ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিক কোলাবোরেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি নতুন ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হলে শুধু প্রবৃদ্ধির পরিমাণ বাড়ালেই হবে না; উৎপাদন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যেই সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণের ম্যান্ডেটকে একটি সুনির্দিষ্ট পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোয় রূপ দেওয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, “আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণের ম্যান্ডেটকে একটি সুনির্দিষ্ট পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামোর (Five-Year Strategic Framework) রূপ দেওয়া হয়েছে। এতে যেমন রয়েছে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের দার্শনিক ভিত্তি, তেমনি রয়েছে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ ও টেকসই সমৃদ্ধির যাত্রায় সরকার ‘৩আর’ (3R) কৌশল গ্রহণ করেছে। কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারের একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতি হিসেবে গড়ে তোলা।”


অর্থনীতি পুনর্গঠনে ৩আর কৌশল


সরকারের গৃহীত ‘3-r’ কৌশল ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, প্রথম ‘আর’-রিকভার (Recover)-এর লক্ষ্য হচ্ছে ভঙ্গুর অবস্থায় থাকা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং অর্থনীতিকে স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনা।

দ্বিতীয় ‘আর’-রেস্টোরেশন (Restoration)-এর আওতায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অর্থনীতির ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


এদিকে তৃতীয় ‘আর’-রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাক্সিলারেটর (Reconstruction for Accelerator)-এর মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে পুনর্গঠন কার্যক্রম সম্পন্ন করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল তখনই অর্থবহ হবে, যখন তার সঙ্গে পর্যাপ্ত ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী সেই প্রবৃদ্ধির অংশীদার হতে পারবে।


শিক্ষিত যুবসমাজের বেকারত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন (Skill Development), নাগরিকত্ববোধ এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতা (Innovation) বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ খাতে ৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তাদের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ, উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য ড. এমতাজ হোসেন এবং ট্রেজারার ড. ইদ্রিস আলী। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন খাতের শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৭ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। 


এর মধ্যে ছিলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড, আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, আবুল খায়ের গ্রুপ, বেটোপিয়া গ্রুপ, টেলিটক, ইনোফিক্স আইটি সলিউশনস লিমিটেড, বেনকিউ, টেকনোডেরা, টিপি-লিংক বাংলাদেশ, সিঙ্গার, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, রাজবাড়ী জুট মিলস লিমিটেড, গ্রামীণফোন, আকিজ রিসোর্স, মেটাডোর ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড, বিকাশ, বিআরবি কুষ্টিয়া, ডিবিসি নিউজ, গোল্ডেন জুট এবং ব্র্যাক-এর প্রতিনিধিরা।


  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১৩ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ব্রহ্মপুত্র নদের উদীচী ঘাট এলাকায় নৌকা থেকে গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ক্যাম্পাস পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


আটক ব্যক্তির নাম আব্দুল্লাহ। তিনি ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকা চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এপার-ওপার যাত্রী পারাপার করতেন। এই সুযোগে তিনি মাদক সরবরাহ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদকসেবীদের নৌকায় করে নদীর মাঝামাঝি নিয়ে গিয়ে সেখানে মাদক সেবনের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. কাজী ফরহাদ কাদির বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক ব্যবহার ও সরবরাহের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কয়েকটি ঘটনায় মাদকসহ কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের সরবরাহ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই মূল লক্ষ্য।


তিনি আরও বলেন, গোপন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক সরবরাহের অন্যতম প্রধান পয়েন্ট হতে পারে উদীচী ঘাটের নৌকাগুলো। এর ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আব্দুল্লাহ নামে এক নৌকাচালককে গাঁজাসহ আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গাঁজা পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের সরবরাহ বন্ধে তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।


ক্যাম্পাস পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সাইফুল হক বলেন, এটি তাদের নিয়মিত টহলের অংশ। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বেশ কয়েকজনকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে। শুক্রবার একজন মাদক ব্যবসায়ীকে নৌকা থেকে আটক করা হয়েছে। তার পকেটেও গাঁজা পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্টাফদের সহযোগিতায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। পরে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের পরিস্থিতি এখন উদ্বেগজনক। বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদকমুক্ত করতে সবার সহযোগিতা দরকার। যারা মাদক সরবরাহ করে, তাদের পাশাপাশি যারা মাদক গ্রহণ করে, তাদের সম্পর্কেও তথ্য প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অংশীজনের কাছ থেকে তথ্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন।


  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৪৬ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা ও নতুন ব্যবসা উদ্যোগে উৎসাহিত করতে ‘ইয়ুথ এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড স্টার্টআপস ফর স্টুডেন্টস (ইয়েস)’ শীর্ষক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ (এসএমই) ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাকৃবি ক্যারিয়ার ক্লাবের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।


শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এতে বাকৃবি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ও আনন্দ মোহন কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।


অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্ব শেষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুটি অধিবেশনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম অধিবেশনে ক্যাম্পাস থেকে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পথ, সফল উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা এবং অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। দ্বিতীয় অধিবেশনে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য উদ্যোগ সহায়ক পরিবেশ, বিকল্প অর্থায়ন, সুযোগ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী সকলের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।


কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যালিপ্যাডে বাকৃবি শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের ১৮টি স্টল স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশনের ব্যবসা সহায়তা কেন্দ্র, এটুআই, বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার, ব্র্যাক ব্যাংক, স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড, ননঅ্যাকাডেমি, ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প, উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের স্টল স্থাপন করেন। এসব স্টলে শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তরা তাদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী পণ্য, ধারণা ও উদ্যোগ অতিথিদের সামনে তুলে ধরেন।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নাজিম হাসান সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখার নির্বাহী পরিচালক মো. আরিফুজ্জামান, এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা খান এবং আইডিয়া প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মর্তুজা জুলকার নাইন নোমান।


আলোচনা অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সেশন মডারেটর ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সালাম সরদার। প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা বিভাগের প্রধান মো. কামরুজ্জামান দিদার, বাংলাদেশ ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখার যুগ্ম পরিচালক মো. আনোয়ারুল মোর্শেদ এবং ব্রেউন্না-র প্রতিষ্ঠাতা সাফিয়া আফরিন।


দ্বিতীয় অধিবেশনে সেশন মডারেটর ছিলেন আইডিয়া প্রকল্পের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও অপারেশন স্পেশালিস্ট সিদ্ধার্থ গৌস্বামী। এতে প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন ননএকাডেমির প্রতিষ্ঠাতা এ আই আরিফ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর এন্টারপ্রেনারশিপ সেন্টারের লিড (অপারেশনস অ্যান্ড স্টুডেন্ট এনগেজমেন্ট) মো. মোফাজ্জাল করিম এবং বাকৃবি ক্যারিয়ার ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাক আবিদ স্বপনিল। 


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, নিজেকে তৈরি করতে হবে এবং পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা রাখতে হবে। এজন্য ‘লার্ন, আনলার্ন, রিলার্ন’- এই তিনটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। প্রযুক্তি ও পরিবর্তনকে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে নিজের উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।


তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, পড়াশোনা শেষে চাকরির চেষ্টা করতে হবে, কারণ প্রশাসন ও সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আপনাদের প্রয়োজন রয়েছে। তবে সবাই চাকরি পাবে না- এই বাস্তবতাও মাথায় রাখতে হবে। তাই চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই নিজেকে দক্ষ করে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে শুধু নিজের কর্মসংস্থান নয়, অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। আমরা উদ্যোক্তা হই কিংবা চাকরিজীবীজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে সততার কোনো বিকল্প নেই।


উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। দেশে চাকরির সুযোগের তুলনায় গ্র্যাজুয়েটের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেকেই বেকার থাকছেন। বিসিএস পরীক্ষায় কয়েক লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিলেও চাকরি পাচ্ছেন মাত্র কয়েক হাজার। তাই শিক্ষার্থীদের চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।


তিনি আরও বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও অনেক উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। পাশাপাশি সরকার উচ্চশিক্ষা পর্যায়েও অর্থায়ন শুরু করেছে। ফলে শিক্ষার্থীরা উদ্যোক্তা হতে আরও বেশি সহায়তা ও সুযোগ পাবে। আমরা আশা করি, শিক্ষার্থীরা এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার উদ্যোগ নেবে।


বর্ণাঢ্য আয়োজনে নোবিপ্রবিতে ৪র্থ ন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত।

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১৭ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) সায়েন্স ক্লাবের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘৪র্থ নোবিপ্রবি ন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্ট-২০২৬’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (০৩ অক্টোবর ২০২৬) র‌্যালির মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এ ফেস্টের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।

এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, নোবিপ্রবিতে সায়েন্স ফেস্ট একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন, যেখানে প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। বিজ্ঞানের প্রতি শিক্ষার্থীদের এই আগ্রহ দেখে আমি আনন্দিত। আজকের এ অনুষ্ঠানে আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, যিনি মেয়েদের উপবৃত্তির প্রচলন করে তাদের পড়াশোনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন এবং যার প্রতিফলন সায়েন্স ফেস্টে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই নারী। ফেস্টে ৩৮টি স্কুল-কলেজ ও ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রজেক্ট নিয়ে অংশগ্রহণ করছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। উপাচার্য আরও বলেন, আমাদের সময় এতো টেকনোলজি ছিলো না। তোমাদের হাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এর মতো প্রযুক্তি রয়েছে। তোমরা এআইকে শিক্ষার উন্নয়নে, গবেষণায় ও তোমাদের প্রতিভা বিকাশে কাজে লাগাবে। আজকে তোমরা সর্বশেষ প্রযুক্তিসহ ডিজিটাল ক্লাসরুম পাচ্ছো, আমাদের সময়ে এ সুযোগ ছিল সীমিত। এ সময় উপাচার্য ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হবে বলেও উল্লেখ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য ও সায়েন্স ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২০ সালে নোবিপ্রবি সায়েন্স ক্লাবের যাত্রা শুরু হয়। সংগঠনটি আজ চতুর্থ জাতীয় সায়েন্স ফেস্টের আয়োজন করেছে। যেখানে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছে। শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা থেকে প্রজেক্ট ডিজাইন করেছে এবং নিজেদের প্রজেক্ট নিয়ে এখানে এসেছে। আমরা সেগুলো ভিজিট করবো এবং সেরাদের নির্বাচিত করবো। এই প্রজেক্ট আইডিয়া তৈরিই তাদেরকে আগামী দিনের বিজ্ঞানী হওয়ার ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খালেদুজ্জামান, নোবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন মো. তারিক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নোবিপ্রবি বিজিই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সায়েন্স ক্লাবের উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম, আইসিই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সায়েন্স ক্লাবের উপদেষ্টা ড. মো. আমজাদ হোসেন, ফলিত গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও  ক্লাবের উপদেষ্টা অবদুল করিম, সায়েন্স ফেস্টের প্রথম কার্যকরী কমিটির সদস্য মাহমুদ হাসান তুহিন এবং নোবিপ্রবি সায়েন্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাদমান বিন রাকিন। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি সুবাহ তাসনিয়া। এ সময় অন্যানের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, সায়েন্স ক্লাবের সদস্য, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


উল্লেখ্য, আয়োজনে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট নয়টি সেগমেন্ট রাখা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সেগমেন্টে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। চারটি সেগমেন্টে নোবিপ্রবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে। বাকি দুটি সেগমেন্ট স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত রাখা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের তিনটি ইভেন্ট হলো: পোস্টার প্রেজেন্টেশন, থ্রি মিনিটস রিসার্চ আইডিয়া প্রেজেন্টেশন ও রোবট লাইন রেস কম্পিটিশন। নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে প্রোগ্রামিং কনটেস্ট, ই-স্পোর্টস, দাবা প্রতিযোগিতা ও ফটোগ্রাফি কনটেস্ট। এছাড়া স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে প্রজেক্ট শোকেজ ও সায়েন্স অলিম্পিয়াড। নয়টি সেগমেন্টে মোট ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হবে। আয়োজনে নোবিপ্রবিসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১২ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।


নোবিপ্রবির সিএসটিই ক্লাবের নতুন কমিটি গঠিত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৭ পিএম

‎নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সিএসটিই ক্লাব-র ২০২৬-২৭ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অপরাজিতা বড়ুয়া এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আবেদুল হক আরিফ।

‎

‎নবগঠিত কমিটিতে প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন ১৭তম ব্যাচের মো. শাহেদ হোসাইন নিশাদ। গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন অবন্তিকা নাথ। এছাড়াও অনুষ্ঠান ও কার্যক্রম বিষয়ক সহ-সভাপতি  হিসেবে রয়েছেন মো. ইয়াসিন আরাফাত এবং সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলা বিষয়ক সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন তারেক হোসেন। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ১৮তম ব্যাচের সানজিদা আফরিন। প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন ১৯ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সাকিফুর রহমান। জনসংযোগ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন ১৮ তম ব্যাচের আব্দুস সাত্তার নায়েম।

‎এ ছাড়া কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ১৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী উরওয়াতুল উসকা ওয়াসি।


‎এ ছাড়া সংগঠনটির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন—রাজেশ মজুমদার রন্টি, মাহাপারা চৌধুরী, নুশরাত জাহান জায়মা, সাকিবুল ইসলাম, মো. আশরাফুল শাহ, ইশতিয়াক আল নোমান, সাদিয়া জামান শুকরিয়া, মিশকাতুল ইসলাম , সবুজ বিশ্বাস,  এবং মো. সামির।


‎নতুন কমিটি নিয়ে সভাপতি অপরাজিতা বড়ুয়া বলেন, সিএসটিই ক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের। এই দায়িত্বের মাধ্যমে শুধু একটি ক্লাব পরিচালনা করার সুযোগ নয়, বরং আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে নতুন কিছু করার সুযোগ পেয়েছি—এটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সিএসটিই ক্লাবের কার্যক্রমকে আমরা শুধু ইভেন্টকেন্দ্রিক না রেখে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও আগ্রহকে কেন্দ্র করে সাজাতে চাই।

আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে একজন শিক্ষার্থী তার পছন্দের ক্ষেত্রটি খুঁজে নেওয়ার সুযোগ পাবে, নতুন কিছু শেখার সুযোগ পাবে এবং নিজের দক্ষতাকে বাস্তবে কাজে লাগানোর সুযোগ পাবে। Programming, AI, Data Science, Cyber Security, Networking কিংবা Research—যে ক্ষেত্রেই কারও আগ্রহ থাকুক, ক্লাব যেন তার শেখার যাত্রার একজন সহযাত্রী হতে পারে।

এর পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং ইন্ডাস্ট্রির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে চাই। জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, টেকনিক্যাল ইভেন্ট ও collaborative activities-এর মাধ্যমে সিএসটিই ক্লাবকে নোবিপ্রবির গণ্ডির বাইরে আরও সক্রিয়ভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনাও রয়েছে।

আমি জানি, এই লক্ষ্যগুলো একা কোনো সভাপতির পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তাই আমি চাই, এই কমিটি কোনো একজনের নেতৃত্বে নয়, বরং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাক।


‎সাধারণ সম্পাদক মো. আবেদুল হক আরিফ বলেন, সিএসটিই ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য যেমন গর্বের, তেমনি এটি একটি বড় অঙ্গীকারের বিষয়। আমি চাই, আমাদের ক্লাব শুধু অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, নেতৃত্ব ও ক্যারিয়ার তৈরির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠুক। এজন্য নিয়মিত প্রোগ্রামিং কনটেস্ট ও ক্যারিয়ার সেমিনারের পাশাপাশি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডাটা এনালাইসিস, সাইবার সিকিউরিটি ও নেটওয়ার্কিং -এর ওপর বুটক্যাম্প পরিচালনা এবং জাতীয় পর্যায়ে একটি CSTE Fest আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কার্যকর টিম গঠন করে ভবিষ্যতের জন্য ক্লাবকে সুগঠিত করার ইচ্ছা আছে। সবমিলিয়ে সিএসটিই ক্লাবকে নোবিপ্রবির অন্য সব ক্লাবের জন্য রোলমডেল বানাতে চাই।