মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বুটেক্সে অধ্যয়নরত বন্ধুদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর সঙ্গে টেক্সটাইল পরিবারের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এ খাতের সঙ্গে তাঁর আত্মিক বন্ধনও দৃঢ়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে তিনি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন। এ সময় তিনি নারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের সুযোগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) দুই প্রাক্তন শিক্ষার্থী সানজিদা ইসলাম ও মাহবুবা হাকিম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তাঁদের সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (২০ মে) বুটেক্স অডিটোরিয়ামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অ্যালামনাই সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি)-এর অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এহসানুল করিম কায়সার এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ (সেলিম)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আইটিইটি’র সদ্য বিদায়ী সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন, প্রকৌশলী মো. মঈদুল ইসলাম (মঈদ), এ.কে.এম মহসিন আহমেদ, হাফিজুর রহমান নিক্সন, মাইনুল ইসলাম পলাসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সংবর্ধিত অতিথি সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, একুশ বছর আগে তাঁদের সময়ে বুটেক্সে চারটি বিভাগ থাকলেও বর্তমানে তা ১১টি বিভাগে উন্নীত হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির প্রতিফলন। তিনি বলেন, আজ সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেলেও এর ভিত্তি রচিত হয়েছিল বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে। দেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি খাত পোশাক শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোনো গবেষণা কেন্দ্র না থাকা দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি একটি টেক্সটাইল গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়া টেক্সটাইল খাতে প্রকৌশলীদের কর্মসংস্থানের উচ্চ চাহিদার কথা তুলে ধরে বুটেক্সে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দেশের উন্নয়নে নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংবর্ধিত অতিথি মাহবুবা হাকিম বলেন, ২০০৬ সালে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিতার্কিক হিসেবে তিনি শেষবার বুটেক্স অডিটোরিয়ামে এসেছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে একই মঞ্চে ফিরে আসতে পেরে তিনি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষাজীবন কিংবা পরবর্তী সময়ে তিনি কখনো রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তবে আল্লাহর ইচ্ছায় আজ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, “এই এমপি পদ আমার কাছে কোনো সাধারণ পদ নয়, এটি আল্লাহ তায়ালার একটি আমানত।”
তিনি আরও বলেন, “আমি নতুন ধারার রাজনীতিতে বিশ্বাসী, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।” নিজের এই অর্জন দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে চান উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার এই অর্জন যদি দেশের মঙ্গল বয়ে আনে, তবে সেই অর্জন আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়কে উৎসর্গ করতে চাই।” বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দেশের টেক্সটাইল খাতের বিদ্যমান সমস্যা সমাধান এবং খাতটির টেকসই অগ্রগতির জন্য সরকারের সদয় দৃষ্টি কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইইবি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ (সেলিম) বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী টেক্সটাইল ক্যাডার দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উদ্যোগ নিলে শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। তিনি বুটেক্সে একটি টেক্সটাইল রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
আইটিইটির অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এহসানুল করিম কায়সার বলেন, দেশের টেক্সটাইল খাত বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন পরিচালনা করতে পারছে না। তিনি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের টেক্সটাইল খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
আইটিইটির সদ্য বিদায়ী সদস্যসচিব প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন বলেন, আইইবির প্রায় ৮০ হাজার ইঞ্জিনিয়ারের মধ্যে মাত্র দুজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, যা গর্বের বিষয়—এবং তাঁরা দুজনই বুটেক্স পরিবারের সদস্য। তিনি বলেন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়াররা দল-মত নির্বিশেষে সানজিদা ও মাহবুবাকে নিজেদের আপন হিসেবে দেখে। তিনি এমপিদের প্রতি টেক্সটাইল ক্যাডার বাস্তবায়ন এবং সংসদে টেক্সটাইল খাতের বিষয়গুলো আরও জোরালোভাবে উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, জাতীয় সংসদে বুটেক্সের গ্র্যাজুয়েটদের প্রতিনিধিত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাঁরা জাতীয় সংসদে টেক্সটাইল ক্যাডার প্রতিষ্ঠা এবং টেক্সটাইল খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
অনুষ্ঠানের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে প্রতিদিন বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভা শেষে শিক্ষার্থীরা জানান, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন করবেন তারা। পাশাপাশি প্রতিদিন বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসেও অংশ নেবেন না।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ওয়াসিউল হাসান সরকার বলেন, আন্দোলন আরও বেগবান করতে আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তিন দিনের সময় দিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বলা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। মাঠটিতে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ, অবস্থান ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা এবং সেখানে কৃষিবিষয়ক গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যলয়ের কাছে দেওয়া হোক। মাঠটি সচিবালয়ের জন্য ব্যবহার করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের পাশে সচিবালয় স্থাপিত হলে ভবিষ্যতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে গত বুধবার পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নির্মাণাধীন দুটি মেলার স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। তবে গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১৮ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত রোববার (১ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত সাধারণ সভায় এ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে অ্যাসোসিয়েশনের কোনো কার্যকর কমিটি না থাকায় সভায় উপস্থিত সদস্যরা একটি এডহক কমিটি গঠনে সম্মত হন। কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালনের জন্য কৃষিবিদ শেখ কামরুল হাসানকে মনোনীত করা হয়।
কৃষিবিদ আনোয়ারুল নবী মজুমদারের (বাবলা) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রবীণ ও নবীন কৃষিবিদ নেতৃবৃন্দের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ১৮ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির সদস্যরা হলেন কৃষিবিদ রাশিদুল হাসান হারুন, কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার, কৃষিবিদ ড. সারোয়ার হোসেন, কৃষিবিদ ড. নাজমুল আমিন মজুমদার, কৃষিবিদ ড. খন্দকার মাহফুজুল হক (বাচ্চু), কৃষিবিদ খন্দকার আসাদুজ্জামান কিটন, কৃষিবিদ ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, কৃষিবিদ ড. নাহিদ জেবা, কৃষিবিদ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুক, কৃষিবিদ ড. মাসুদুল হক ঝন্টু, কৃষিবিদ ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামান, কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবুল বাশার, কৃষিবিদ আবু হেনা মোস্তফা কামাল পান্না, কৃষিবিদ সাইফুল্লা আজাদ, কৃষিবিদ ড. মোহা. আশাবুল হক আশা এবং কৃষিবিদ মোকাদ্দিছুল মোমিন মিঠুন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এডহক কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকর কমিটি গঠন করবেন।
সভায় গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের অবস্থান এবং গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের সার্বিক পরিস্থিতি সভায় উপস্থিত সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন। পরে কৃষিবিদ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তান সরকারের বৃত্তিমূলক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে মোট ২৫ জন বাংলাদেশি এ সুযোগ পাবেন। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ১৬ নভেম্বর ২০২৬–এর মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার পাকিস্তান টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম সেশনের (২০২৬-২৭) অধীনে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এমবিবিএস ২০টি ও বিডিএস ৫টি কোর্সে ভর্তির ঘোষণা দিয়েছে।
এই প্রোগ্রামের আবেদনপত্র এবং বিস্তারিত তথ্য মিনিস্ট্রি অব ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্সের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। সম্পূর্ণ আবেদনপত্র ১৬ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনে পাঠাতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নগরবাউল জেমস। ছবিঃ সংগৃহীত
দীর্ঘ ১০ বছর পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্যাম্পাসে সংগীত পরিবেশন করে শিক্ষার্থীদের মাতালেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নগরবাউল জেমস। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্টে তার পরিবেশনায় উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। প্রিয় শিল্পীর জনপ্রিয় গানগুলোতে আনন্দ-উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন প্রাঙ্গণে শুরু হয় নগরবাউল জেমসের সংগীত পরিবেশনা। তাকে একনজর দেখতে এবং সরাসরি গান শুনতে কনসার্টস্থলে ভিড় করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক।
২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংগীত পরিবেশনের দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে জেমসের কণ্ঠ শিক্ষার্থীদের কাছে বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ হয়ে ওঠে। তার গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। প্রিয় শিল্পীর পরিবেশনায় শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, করতালি ও আনন্দ-উল্লাসে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজনস্থল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, "জেমসের গান ছোটবেলা থেকেই শুনি। তাকে নিজের ক্যাম্পাসে সরাসরি গান গাইতে দেখা এবং তার সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতে পারা অসাধারণ অভিজ্ঞতা। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এই আয়োজন আমাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।"
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার কাদের প্লাবন বলেন, "জেমসের মতো জনপ্রিয় শিল্পীর গান সরাসরি উপভোগ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। পুরো কনসার্টজুড়ে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। এমন আয়োজন প্রতিবছর হওয়া উচিত।"
এদিকে গান পরিবেশনাকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নগরবাউল জেমসকে আবার আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় তার আশ্বাসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল 'তারুণ্যে দীপ্তপ্রাণ-ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান'। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আয়োজনের অংশ হিসেবে নগরবাউল জেমসের কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ র্যালি, শিল্পকর্ম ও চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নগরবাউল জেমসের কনসার্টসহ নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ছিল ‘তারুণ্যে দীপ্তপ্রাণ-ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৫ সালের ২ নভেম্বর সরকারি জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণার স্মরণে এবার ২০ অক্টোবরের পরিবর্তে ২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি আনন্দ র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড় ও ভিক্টোরিয়া পার্ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। পরে সকাল সোয়া ১০টায় শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের নিচতলায় চারুকলা অনুষদের আয়োজনে শিল্পকর্ম ও চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এরপর কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথিয বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়মুখী করা শুভ লক্ষণ নয়। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ শুধু চাকরিমুখী শিক্ষা দেওয়া নয়; বরং গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও মুক্তচিন্তার বিকাশ ঘটানো।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে শিক্ষাব্যবস্থা ও সংস্কৃতিতে অপসংস্কৃতি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দূষণ প্রবেশ করানো হয়েছে। তার ভাষ্য, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। তিনি শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন, গবেষণার পরিবেশ এবং সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা হবে। রাজধানীর কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত ২০০ একরের আবাসিক ক্যাম্পাসের প্রসঙ্গও উঠে আসে তার বক্তব্যে।
আলোচনা সভায় জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ফ্যাসিবাদী শাসনামলে প্রতিষ্ঠানটিকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। রাজধানীর বুকে অবস্থিত এ বিশ্ববিদ্যালয় জাতির প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও প্রাপ্তির খাতা প্রায় শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টি নানা বঞ্চনার শিকার হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পাশাপাশি এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারীদের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্দশা ও বঞ্চনা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে বর্তমান সরকারের সুদৃষ্টি ও ইতিবাচক উদ্যোগ কামনা করেন তিনি।
দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে দুপুরে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ, নাট্যকলা বিভাগ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, আবৃত্তি সংসদ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জবি সংসদ ও রঙ্গভূমি পরিবেশনা নিয়ে অংশ নেয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনসহ অফসাইড, কোমল গান্ধার, কিম্ভুত ও স্বরূপ ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করে।
দিনের সমাপনী আয়োজন হিসেবে থাকছে নগরবাউল জেমসের কনসার্ট। সন্ধ্যায় তার পরিবেশনা উপভোগ করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, বিভিন্ন অনুষদ ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রভোস্ট, প্রক্টরসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
নোবিপ্রবি
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক হল, মেডিকেল সেন্টার ও গবেষণাগারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একের পর এক সাপের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
গত ২৭ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ছয় দিনের ব্যবধানে অন্তত পাঁচ দফায় সাপ দেখা গেছে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে। উদ্ধার হওয়া ও মেরে ফেলা সাপগুলোর বেশির ভাগই বিষধর পদ্ম গোখরা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার তো বটেই, নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেও সাপে কাটার চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনম নেই। ফলে কেউ বিষধর সাপের কামড়ের শিকার হলে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনমের জন্য প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রথম সাপের উপস্থিতি দেখা যায়। সেখান থেকে দুটি পদ্ম গোখরার বাচ্চা উদ্ধার করা হয়। এরপর ২৯ ও ৩১ অক্টোবর দুই দফায় শহীদ মীর মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারে সাপ দেখা যায়। ৩০ অক্টোবর জুলাই শহীদ স্মৃতি হলে এবং সর্বশেষ ২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল ল্যাবে সাপের উপস্থিতি পাওয়া যায়। গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থানে সাপের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থী, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর প্রশাসনিক ভবন থেকে সাপ উদ্ধার করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়াইল্ডলাইফ স্নেক অ্যান্ড রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ (ডব্লিউএসআরটিবিডি)-এর সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জুওলজি বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম মিতু। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে যেসব সাপের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, সেগুলোর বেশির ভাগই বিষধর। এ পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাস নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সংরক্ষণের পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি সাপ দেখামাত্র না মেরে দ্রুত তাঁকে জানানোর আহ্বান জানান।
একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সাপের উপস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের আশঙ্কা, রাতে চলাচল কিংবা হঠাৎ কোনো ভবন বা কক্ষে সাপের মুখোমুখি হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর কেউ সাপে কামড়ালে দ্রুত অ্যান্টিভেনম পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসটিই) বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে দিন-রাত সমানভাবে সাপের দেখা মিলছে। কাউকে সাপে কামড়ালে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। এভাবে সাপের উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। মেডিকেলে নাপা ও গ্যাসের ট্যাবলেট ছাড়া আর কিছুই নেই। অবিলম্বে অ্যান্টিভেনমের ব্যবস্থা করা উচিত।’
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুস সালাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গা এখনো ঝোপঝাড়মুক্ত হয়নি। প্রকৃতির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ঝোপঝাড়ের কারণে সাপের উপস্থিতি বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। এ জন্য প্রতিদিনই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করতে পারে, সে জন্য প্রশাসনের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ইমাম হোসেন ইমন বলেন, ‘অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ঝোপঝাড় ও প্রয়োজনীয় স্থান আগাছামুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি সাপে কামড়ালে জরুরি চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সাপের উপস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে দিন-রাত বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছে। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মীর মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি চিফ(ভারপ্রাপ্ত) মেডিকেল অফিসার ডা. ইসমাত আরা পারভীন বলেন, ‘সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অ্যান্টিভেনম সদর হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও দেওয়া হয় না। এর আগেও আমরা একাধিকবার অ্যান্টিভেনম আনার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত। ক্যাম্পাসের ঝোপঝাড়গুলো পরিষ্কার করার নির্দেশনা দিয়েছি। এ ছাড়া অতিদ্রুত অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’