অধ্যাপক আনিসুর রহমান
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক হলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান। আগামীকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) থেকে দুই বছরের জন্য দপ্তরটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমানকে জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক হিসেবে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন তিনি।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমার প্রতি যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। ইনশাআল্লাহ, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করব।"
তিনি আরও বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সবসময় গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চাই। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সামনে এগিয়ে যেতে চাই। সবার সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে ইতিবাচক অবদান রাখাই হবে আমার লক্ষ্য।"
অধ্যাপক মো. মাহাদি হাসান জুয়েল
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মো. মাহাদি হাসান জুয়েল। আগামী দুই বছরের জন্য তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সংবিধির ১৪(১) ধারা অনুযায়ী সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে অধ্যাপক মো. মাহাদি হাসান জুয়েলকে পরবর্তী দুই বছরের জন্য পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এ দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিধি অনুযায়ী ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
উল্লেখ্য আগামীকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) থেকে এ নিয়োগ কার্যকর হবে।
নোবিপ্রবিতে ছাত্রশক্তির উদ্যোগে নবীনবরণ, থাকছেন নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে আগামী ৭ নভেম্বর নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, নোবিপ্রবি সংসদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি। এ ছাড়া এনসিপি ও জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি আবু বাকের মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ এমপি, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মো. সারজিস আলম ও নারীবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর। এ ছাড়া জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সিনিয়র সহসভাপতি আহসান লাবিব এবং এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহ উদ্দিন সিফাত।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি জাতীয় ছাত্রশক্তি, নোবিপ্রবি শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা’ শীর্ষক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত গুগল ফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে আয়োজক সংগঠন। নবীন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা।
যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা
জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীরা। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ওমর ফারুক কাওসার।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইল থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। মোটরসাইকেলের দীর্ঘ বহর নিয়ে শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারত শেষে কর্মসূচিটি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় ওমর ফারুক কাওসার বলেন, 'দেশনায়ক তারেক রহমানের যেকোনো নির্দেশনা বাস্তবায়নে যুবদলের নেতা-কর্মীরা সদা প্রস্তুত। দেশের স্বার্থবিরোধী সব চক্রান্ত রুখে দিতে এবং দলের লক্ষ্য ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে যুবদল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।'
তিনি আরো বলেন, 'নেতা-কর্মীদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ, তিতিক্ষা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য সংগঠনের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।'
ওমর ফারুক কাওসার আরও বলেন, 'যুবদলকে তৃণমূল পর্যায়ে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংগঠনকে আরও সুসংহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।'
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি জিকরুল হাসান, মনির খান, হুমায়ুন কবির, রনি আহমেদ, উজ্জ্বল হোসেন, আহসান হাবীব, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাসুম আহাদ, রুবেল মাহমুদ ও খোরশেদ আলম রকি।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহসান রেজা, সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক খন্দকার রাজ্জাকুর রহমান রাজ, শামীম হোসেনসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী যুবদল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি বিএনপির যুবসংগঠন হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে আসছে। সংগঠনটির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৭ ও ২৮ অক্টোবর দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম।
রাজপথে শেকৃবি শিক্ষার্থীরা
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরাতন গবেষণা মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজপথে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার ও সেখানে এশিয়া বাণিজ্য মেলার কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে মঙ্গলবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। এ সময় মাঠে চলমান মাটি পরীক্ষা বা সয়েল টেস্টের কাজ বন্ধ করে পরীক্ষার সরঞ্জাম ও স্যাম্পল সংগ্রহের দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের লাগানো সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলে প্রশাসনিক ভবনের সামনে নিয়ে আসেন তাঁরা।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিণ করে পুরোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অবস্থান নিয়ে তাঁরা সচিবালয় নির্মাণের জন্য চলমান সয়েল টেস্টের কাজ বন্ধ করে দেন। এ সময় পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও স্যাম্পল সংগ্রহের দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। পরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাগানো সাইনবোর্ডটি উপড়ে ফেলে প্রশাসনিক ভবনের সামনে রেখে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণা মাঠটি ফিরিয়ে না দেওয়ায় ব্যবহারিক শিক্ষা ও উচ্চতর কৃষি গবেষণা ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া ওই মাঠে কোনো ধরনের বহিরাগত কার্যক্রম বা নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং সেখানে অন্য কোনো স্থাপনা বা কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা।
এদিন বেলা ১১টার দিকে গবেষণা মাঠের জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে স্থায়ীভাবে উদ্ধার ও সুরক্ষার দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফের কাছে স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা। এতে আগামী তিন দিনের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে মাঠটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণা মাঠ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা এবং জমি উদ্ধারে হাইকোর্টে রিট করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মাঠে এশিয়া প্যাসিফিক বাণিজ্য মেলার কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান তাঁরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো. আশিক আহমদ বলেন, “চোখের সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, অথচ প্রশাসনের কোনো হেলদোল নেই। আমরা প্রশাসনকে তিন দিনের সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে সিন্ডিকেট সভা ডেকে জোরালো আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিতে হবে এবং ওই জায়গা যে আমাদের, তা নিশ্চিত করতে হবে।”
স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ওয়াসিউল হাসান সরকার জানান, গবেষণা মাঠ রক্ষার আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা স্নাতকোত্তরের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান আন্দোলনকারীরা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, বাণিজ্য মেলার মাঠ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কমিটি রয়েছে। কমিটি রিটের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তারা সিদ্ধান্ত জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যে কমিটির সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত কাজ শুরু করার কথা জানান তিনি।
তবে মেলা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই তাঁরা মেলার কাজ করছেন। তাঁর দাবি, মেলার প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। নিয়ম মেনেই অর্থ ব্যয় ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত ১৫ অক্টোবর গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন শেকৃবির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। একই দিন মাঠটি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এর আগে ২০১৫ সালে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলে এর প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। পরে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘টেক ব্যাক শেকৃবি ল্যান্ড’ শীর্ষক কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মাঠটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, গবেষণার জন্য নির্ধারিত জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া না হলে শিক্ষা ও গবেষণার কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই মাঠটি পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন
পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ছোট-বড় বিবেচনা না করে ব্যক্তির উপযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, জীবনে সফলতা অর্জনে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত পেশায় দক্ষতা অর্জন জরুরি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘হুইচ ক্যারিয়ার ইজ রাইট ফর ইউ? আ রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে আমরা জীবনের লক্ষ্য নিয়ে রচনা পড়লেও, বাস্তবে লক্ষ্যহীন জীবন হলো হাল ছাড়া নৌকার মতো। এখন তোমাদের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণের সবচেয়ে উত্তম সময়। জীবনে কোনটা ছোট বা বড় পেশা, তা না ভেবে কার জন্য কোন পেশা উপযুক্ত, সেটির ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’
কাঙ্ক্ষিত পেশায় সফলতা অর্জনে কঠোর অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, ‘একাডেমিক পড়া শেষ করে অলস সময় না কাটিয়ে কাঙ্ক্ষিত পেশার জন্য বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করতে হবে। তবেই তোমরা জীবনে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ‘হায়ার এডুকেশন অ্যাকসিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ সাব-প্রজেক্টের উদ্যোগে কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হিট প্রজেক্টের এএসপিএম ও হিসাববিজ্ঞান এবং তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রাজু আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন হিট প্রজেক্টের এসপিএম ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
এ ছাড়া কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব অ্যাগ্রিকালচারাল ইকোনমিকস অ্যান্ড রুরাল সোশিওলজির অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
টানা ৩৪ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ক্লাস ও পরীক্ষায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। তবে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে রোববার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থায় শিক্ষাজীবনের ক্ষতি ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা বিবেচনায় নিয়ে তারা ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে যাওয়াকে আন্দোলনের সমাপ্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা আরও জানান, অধ্যাপক শরিফুল আলম পুনরায় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে কিংবা উপাচার্যের দায়িত্ব পালনের উদ্যোগ নিলে তারা আবারও শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করবেন।
শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তাদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।