খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) র্যাগিং, মারধর, হয়রানি ও মাদকসেবনের ঘটনায় বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ৩০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাঁদের মধ্যে ১০ জনকে এক থেকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদের অর্থদণ্ড এবং অভিভাবকের মুচলেকা দেওয়ার শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৮তম সভায় সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত বছরের ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে ছয় শিক্ষার্থীকে হয়রানির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি (ফউটে) ডিসিপ্লিনের মো. ফারদিন আহমেদ দিপন এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের শেখ আমির মাহদ্বীন ও শেখ মুরসালিন রহমানকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ বছরের ৬ মে ফউটে ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থী একই ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দ্বারা র্যাগিংয়ের শিকার হন। এ ঘটনায় প্রণয় কুমার ঘোষকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা এবং মো. জুবায়ের হোসেনকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অসিম দাস, তৌফিক মাহিনুল আহছান ও আব্দুল্লাহ আল সিফাতকে ১৫ হাজার টাকা করে এবং স্বপন কুমার দাশ, দেবাশীষ মন্ডল ও সজল পালকে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গত ১২ মে আইন ডিসিপ্লিনের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আমানউল্লাহ আমানকে ফউটে ডিসিপ্লিনের আনুমানিক ২৫ শিক্ষার্থী এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় সুদীপ কুমার নন্দী, মাহমুদুর রহমান, হেমেন্দ্র মৃধা, আসিফ আদনান, আজিজিল ইসলাম কাফফি, শেখ তাজবীদ ইসলাম, রাকিব হোসেন ও প্রণয় কুমার ঘোষকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া গত ১৪ আগস্ট রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত হল রোডসংলগ্ন নয়ন সড়কের একটি আবাসিক বাসায় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক উপস্থিত হতে বলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মুশফিকুল হক মাহিদকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা, মো. মারুফ সরোয়ারকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা এবং মো. মিশন রহমান ও মো. খায়রুল ইসলামকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাইদিস সালেহীন স্বপ্নীল, ঋত্বিক কর্মকার, সৌরভ চন্দ্র বর্মন ও রাগিব শাহরিয়ারকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালকদের নিয়মিত টহলের সময় ক্যাম্পাসের নির্মাণাধীন ৪ নম্বর একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে গাঁজাসহ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা (এমসিজে) ডিসিপ্লিনের তিন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় এস এম তৌফিক আলমকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, মুশফিক উল ইসলামকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কার ও ১০ হাজার টাকা এবং কাজী রিয়াজুস ছলেহীনকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কার ও ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
চবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ক্লাস শুরুর পাঁচ দিনের মাথায় আবারও ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি দিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-চুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
একদিনের জন্য তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিবাদে রোববার তারা এ কর্মসূচি দিয়েছেন।
একদিনের জন্য সোমবার তারা এ কর্মসূচি পালন করবেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) একটি সভায় অংশ নিতে সোমবার ঢাকায় থাকবেন চুয়েটের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তাই রোববার বিকালে অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি।
তার আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা ৩৬ দিনের শাটডাউন কর্মসূচির পর বুধবার থেকে ক্লাসে ফিরেছিলেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা। কিন্তু উপাচার্যের এ সিদ্ধান্তের পর রোববার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে ফের ‘শাটডাউনের’ ডাক দিলেন তারা।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা বলছে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও অচলাবস্থার পর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশের কথা চিন্তা করে আমরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরেছিলাম। তবে আমাদের সুষ্পষ্ট শর্ত ছিল, নবনিযুক্ত উপাচার্যকে আমরা কোনভাবেই মেনে নিইনি এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রমে তার কোনো হস্তক্ষেপ থাকতে পারবে না।
তারা আরও বলছে, অন্য একজনকে উপাচার্যের ‘রুটিন দায়িত্ব’ প্রদানের মত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা ‘নিজে উপস্থিত না থেকে অন্যের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা’।
রোববার বেলা ৩টার দিকে চুয়েট মিলনায়তনে সভা করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিলও করেন তারা।
এক শিক্ষার্থী বলেন, টানা আন্দোলনের কারণে নিজেদের শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত হতে পারে ভেবে আমরা ক্লাসে ফিরেছিলাম। কিন্তু আমাদের পূর্বঘোষিত অবস্থান উপেক্ষা করে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব অন্য একজনকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না। এরই প্রতিবাদে আমরা কাল শাটডাউন ডেকেছি। শুরু থেকে আমাদের একটাই দাবি, অধ্যাপক সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করা। এই দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলবে।
এ ব্যাপারে উপাচার্য শরীফুল আলম বলেন, ইউজিসির একটি দাপ্তরিক কাজে অংশ ঢাকা যাচ্ছি। আশা করি, আগামীকাল ফিরতে পারব। আমার অনুপস্থিতিতে তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন। ডিনদের মধ্যে তিনি সিনিয়র মোস্ট। যেহেতু আমি ঢাকায় থাকব, তাই দাপ্তরিক কোনো প্রয়োজনে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।
“ডিনদের মধ্যে তিনি সিনিয়র মোস্ট। যেহেতু আমি ঢাকায় থাকব, তাই দাপ্তরিক কোনো প্রয়োজনে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।”
প্রসঙ্গত, আগের উপাচার্যকে পুনবর্হালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। ২৫ অক্টোবর আন্দোলনের ৩৪তম দিনে এসে ক্লাসে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা।
ওইদিন সাধারণ সভা করে শিক্ষক সমিতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ‘প্রলম্বিত না করতে’ একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।
পরে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন এই তিন সংগঠন যৌথ সভা শেষে এক যুক্ত বিবৃতিতে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
তবে নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যের ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক যে কোনো কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কঠোরভাবে পালিত হবে বলে জানিয়েছিল শিক্ষক সমিতি।
পাশাপাশি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাও বলেছিলেন, নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে ক্যাম্পাস ফের ‘আন্দোলনে উত্তাল হবে’। নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে এসে দায়িত্ব পালনের উদ্যোগ নিলে ফের ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
নিয়োগের ৫৬ দিনের মাথায় আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শরীফুল আলমকে উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হয় ২১ সেপ্টেম্বর।
এর প্রতিবাদে আগের উপাচার্যকে পুনবর্হালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষার্থীরা।
একই দাবিতে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ‘সর্বাত্মক’ কর্মবিরতি ঘোষণা করে শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি।
আন্দোলন চলার মধ্যেই ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে উপাচার্য পদে যোগদান করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য।
১২ অক্টোবর সকালে প্রথমবারের মত নিজ কার্যালয়ে যান তিনি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সেদিন দুপুরে উপাচার্য ভবনে তালা দিলে অধ্যাপক শরীফুল আলম অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
পরদিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের সহায়তায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়ে ক্যাম্পাস ছাড়েন উপাচার্য।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের নবনিযুক্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ ভেটেরিনারি স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (বিভিএসডব্লিউএ-বাকৃবি) নেতৃবৃন্দ ও অনুষদের বিভিন্ন লেভেলের শিক্ষার্থীরা। এ সময় অনুষদের শিক্ষা ও অবকাঠামোগত পরিবেশের উন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় ডিন কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নবনিযুক্ত ডিনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর নতুন দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি অনুষদের বিভিন্ন লেভেলের ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভদের (সিআর) পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে শিক্ষার্থীরা সেমিস্টারের মেয়াদ যৌক্তিকভাবে কমিয়ে সেশনজট নিরসন, শ্রেণিকক্ষ ও ওয়াশরুম সংস্কার, ফ্যাকাল্টি ক্যাফেটেরিয়া চালু এবং দ্রুত ছাত্রসমিতির নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান। শিক্ষার পরিবেশ ও ক্যাম্পাসজীবনের মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণের কথাও জানান তিনি।
খুবির ক্যারিয়ার ক্লাবের ‘পাবলিক স্পিকিং’ গ্রান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ক্যারিয়ার ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পাবলিক স্পিকিং প্রোজ ৪.০’ অনুষ্ঠানের গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১ নভেম্বর) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সালাউদ্দীন।
এ সময় তিনি বলেন, পাবলিক স্পিকিংয়ের ক্ষেত্রে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার পাশাপাশি অন্যের মতামত, অনুভূতি ও মূল্যবোধের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে কাউকে আঘাত না করে নিজের বক্তব্য সাবলীলভাবে উপস্থাপন করা একটি চর্চার বিষয়। পাবলিক স্পিকিং কিংবা বিতর্কে কাউকে হারানোই মূল লক্ষ্য নয়; বরং ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে যুক্তির মাধ্যমে নিজের মত প্রকাশ করাই গুরুত্বপূর্ণ।
এসময় তিনি সফলভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবকে ধন্যবাদ জানান এবং সব প্রতিযোগী ও বিজয়ীদের শুভেচ্ছা জানান।
গ্র্যান্ড ফাইনালটি বাংলা ও ইংরেজি—দুই সেগমেন্টে অনুষ্ঠিত হয়। ইংরেজি সেগমেন্টে প্রথম স্থান অধিকার করেন ইংরেজি ডিসিপ্লিনের আদিত্য লস্কর ভূমি, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের কাজী তানভীর এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন ইংরেজি ডিসিপ্লিনের সোহানা খাতুন।
অন্যদিকে, বাংলা সেগমেন্টে প্রথম স্থান অধিকার করেন ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের নাহিয়ান আদিব মাহিম, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের জিহাদ হোসাইন এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের ফাওজিয়া ফারিয়া জেবা।
ক্লাবের ডেপুটি ডিরেক্টর রুকাইয়া আফিয়া নেহা বলেন, “নবীন শিক্ষার্থীদের কথা বলার ভয় দূর করা এবং তাদের পাবলিক স্পিকিং ও যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই আমাদের ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম ‘পাবলিক স্পিকিং প্রোজ’ আয়োজন করা হয়। এবার প্রতিযোগিতাটির চতুর্থ আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ ও ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এবারও অসাধারণ সাড়া পেয়েছি। প্রাথমিক পর্যায় থেকে বাংলা ও ইংরেজি—দুই সেগমেন্টে আটজন করে মোট ১৬ জনকে গ্র্যান্ড ফাইনালের জন্য নির্বাচিত করা হয়। সেখান থেকে চ্যাম্পিয়ন, প্রথম ও দ্বিতীয় রানারআপ নির্বাচন করা হয়েছে। তবে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীই অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য। তারা সবার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের, নিজেদের ডিসিপ্লিনের পাশাপাশি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কেও প্রতিনিধিত্ব করছে। তাদের সবার জন্য আমাদের ক্লাবের পক্ষ থেকে শুভকামনা।”
সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী জিহাদ হাসান বলেন, “গত বছরও এই প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলাম, এবারও দ্বিতীয় হয়েছি। সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতা অনেক ভালো। এ ধরনের পাবলিক স্পিকিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সবাইকে ধন্যবাদ।”
ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাহিয়ান আদিব মাহিম বলেন, “পাবলিক স্পিকিং এমন একটি দক্ষতা, যা হাতে-কলমে অনুশীলন ও বাস্তব অভিজ্ঞতা ছাড়া উন্নত করা কঠিন। মানুষের সামনে কথা বলার সুযোগ না পেলে জড়তা কাটিয়ে ওঠা এবং স্বাচ্ছন্দ্যে বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয় না। ক্যারিয়ার ক্লাব পাবলিক স্পিকিং চর্চার জন্য যে প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, তা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমি এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।”
গ্র্যান্ড ফিনালে বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন- বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. দুলাল হোসেন, শিক্ষা ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ফজলে রাব্বী এবং লেক্সিকনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. শোজিবুল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ডঃ মোঃ তারেক বিন সালাম এবং প্রভাষক মোঃ মতিউর রহমান।
অনুষ্ঠানের স্পন্সর হিসেবে ছিলেন লেক্সিকন, ব্রিটিশ কাউন্সিল, আইএলটিএস, মিডিয়া পার্টনার হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (খুবিসাস), সোশ্যাল মিডিয়া পার্টনার হিসেবে কেইউ ইনসাইডার্স এবং ফটোগ্রাফি পার্টনার ক্যানভাস।
খুবির প্রথম বই ভিত্তিক সংগঠন ‘বই বৃন্ত’ সভাপতি অপি ও সম্পাদক ওয়ালিদ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) প্রথম বইয়ের সংগঠন "বই বৃন্ত" এর কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে বাংলা ডিসিপ্লিনের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী আসিফ হোসেন অপি সভাপতি এবং ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈয়দ ওয়ালিদ হাসান সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের সম্পা মালো (২৩ ব্যাচ) এবং গণিত ডিসিপ্লিনের সাদিয়া তাবাসসুম (২২ ব্যাচ)। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন বাংলা ডিসিপ্লিনের সুমাইয়া খাতুন। সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের জাকিয়া ফারহানা চৌধুরী মাধুরী। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইসিই ডিসিপ্লিনের আব্দুল কাদের নিহাজ ও বাংলা ডিসিপ্লিনের মো. শাহারিয়া সাহাদ মাহিন।
অর্থ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রিন্টমেকিং ডিসিপ্লিনের মীর্জা নাজমুস সাদাত এবং ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের আঁখি আনিস। দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন ইংরেজি ডিসিপ্লিনের আব্দুর রহমান, ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের আজিজুর রহমান এবং এসডব্লিউই ডিসিপ্লিনের প্রজ্ঞা লাবনী পাল।
প্রচারণা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এস এম সাহেবী ইকরাম রেদোয়ান, লাবণী অধিকারী, মো. শিহাব হোসেন শান, এস এম আনহাজুর রহমান, কে এম রাউফুল আলম অর্ণব, আনিকা শারমিলা ও জাফিয়া সুলতানা নিস্পা।
সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোছা. তাসলিমা জান্নাত মিথিলা, রওনক জাহান লিমা, আয়েশা রহমান সারাহ, আনিকা হোসেন, মুহিব আহমেদ ও চন্দ্রিকা সানা। প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন প্রান্ত মন্ডল, মো. রিমন মিয়া ও মো. মেহেদী হাসান। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইসিই ডিসিপ্লিনের মো. ইয়াসিন হাসান।
এ ছাড়া ২৫ ব্যাচ থেকে নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ঋতিকা কর্মকার, সাবরিনা নওশীন সিমু, তাসমিয়া রহমান অর্থী, খালিদ হোসেন শাওন, ইয়াসির আরাফাত, মো. তানভীর ইসলাম, মনামী সুলতানা উর্মি, শেখ তাসনিয়া তন্নি, মো. মশিউর রহমান খালিদ, সুবাইতা হাবিব সুহা, মাসুম বিল্লাহ, সাইদুল ভূঁইয়া, মোতাসাদ্দিক আহম্মেদ, সাবিহা সুলতানা জেবা ও উর্যসী হাসান।
নব গঠিত সংগঠনের সভাপতি আসিফ হোসেন অপি বলেন, "সুস্থ সাহিত্য চর্চা দ্বারা একটি জনগোষ্ঠির মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন সম্ভব। পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি ও সাহিত্য চর্চার প্রসারে বই-বৃন্ত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদী। বই হোক বন্ধু প্রত্যয়ে আমাদের এই পথ চলা। বইয়ের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি এবং সুস্থ সাহিত্য চর্চার উদ্দেশ্যে এই ক্লাবটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র সৃষ্টি।"
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ওয়ালিদ হাসান বলেন, “বই শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেই পাঠচর্চাকে আরও বিস্তৃত ও প্রাণবন্ত করতেই ‘বই-বৃন্ত’-এর যাত্রা। আমরা চাই, বই-বৃন্তের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বই পড়া, বই নিয়ে আলোচনা ও নিজেদের চিন্তা প্রকাশের সুযোগ পাবে। প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার প্রত্যাশা, বই-বৃন্ত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বইয়ের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার পাশাপাশি একটি সমৃদ্ধ ও ইতিবাচক বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো গবেষণা মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে টানা চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন করছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে বিক্ষোভ মিছিল শেষে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সিগন্যালে সড়ক অবরোধ করেন তারা। এ সময় অবরোধে আটকা পড়ে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদের গাড়ি।
অবরোধ চলাকালে কৃষিমন্ত্রী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমাদের সঙ্গে তো আমার কোনো ফারাক নাই।’
রবিবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রদক্ষিণ করে আগারগাঁওয়ের চীন মৈত্রী সিগন্যালে গিয়ে সড়ক অবরোধ করেন তারা। এ সময় সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। অবরোধের কারণে ওই এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘আমার ক্যাম্পাস আমার থাক, আমলা সচিব বাইরে থাক’, ‘স্বৈরাচারের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘আপস না সংগ্রাম’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও কৃষিশিক্ষার জন্য ব্যবহৃত পুরোনো গবেষণা মাঠটি তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি বাণিজ্য মেলাসহ বিভিন্ন মেলা ও জাতীয় আয়োজনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাণিজ্য মেলা আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্বাচলে স্থানান্তরিত হওয়ার পরও মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। এর মধ্যে সম্প্রতি সেখানে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।
তাদের অভিযোগ, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম ও কৃষিশিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে সচিবালয় স্থাপন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বলেছেন, "ডাকসু, রাকসু, জাকসু ও জকসুর মেয়াদ শেষ হলো, কিন্তু তফসিল দেওয়া হচ্ছে না। কারণ, তারা জানে, তাদের চাঁদাবাজ বাহিনী, তাদের রক্ষীবাহিনী এই নির্বাচনে আগের মতো গোহারা হারবে। সুতরাং, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কমিটমেন্ট নিতে হবে যে, ক্ষমতায় যে-ই থাকুক বা না থাকুক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন অবশ্যই দিতে হবে।”
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১০টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ছাত্র সংসদগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার বিষয়ে এস এম ফরহাদ বলেন, “হয় ডাকসু, রাকসু, জাকসু ও জকসু নির্বাচন দেবেন, নয়তো ক্ষমতা ছাড়ার পথ নিজ দায়িত্বে বেছে নেবেন। যেকোনো একটি করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নষ্ট করে, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে সংসদে গণতন্ত্রের বয়ান দেবেন—এ বক্তব্য আমরা মেনে নেব না।”
সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, “সরকার দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তার প্রথম কয়েকটি ধাপে তারা ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ বিসিএসে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু চাকসু, জাকসু, ডাকসু ও রাকসু যখন রাস্তায় নেমেছে, তখন তারা সেখান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। এখন তারা পাঁয়তারা করছে, কীভাবে নানা কারিকুলামের মাধ্যমে সেখানে দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া যায়।”
তিনি আরও বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, এখানকার ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতেই হবে। বিএনপি ১৯৯০ সালে ক্ষমতায় এসে পাঁচ বছর বাংলাদেশে কোনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়নি। কেন দেয়নি? কারণ, তারা শিক্ষার্থীদের ভোটকে ভয় পায়। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর ভোটকে তারা ভয় পায়, তরুণ প্রজন্মের ভোটকে তারা ভয় পায়।”
এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি আবু সাদিক কায়েম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি, ঢাকা ৪-এর এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবু মুসা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।