দুপুরে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আসে ডেথ রেফারেন্স নথিপত্র
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় বিচারিক আদালতের রায়ের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) নথিপত্র হাইকোর্টে এসে পৌঁছেছে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আসে ডেথ রেফারেন্স নথিপত্র। এর আগে বিচারকের সইয়ের পর মামলার ডেথ রেফারেন্স সংক্রান্ত নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি ৬৯ পৃষ্ঠা এবং আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের ডেথ রেফারেন্স ৩ পৃষ্ঠাসহ মোট ৭২ পৃষ্ঠার নথি উচ্চ আদালতে আসে। তার আগে পল্লবীতে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গত রোববার (৭ জুন) ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।
রায়ে আসামি সোহেল আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ ও স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা ওই শিশুর আইনগত উত্তরাধিকারকে দিতে বলা হয়েছে।
আসামিরা জরিমানার টাকা না দিলে কালক্টরেট অফিসকে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও তা বিক্রি করে শিশুর আইনগত উত্তরাধিকারদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বল্প সময়ে কোনো মামলার রায় ঘোষণা হলো।
তবে আসামিদের সাজা কার্যকরে আইনগত কয়েকটি ধাপ রয়েছে। উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিল নিষ্পত্তির পর কার্যকর হবে রায়।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা মোতাবেক আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। আর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। এছাড়া রায়ের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক আসামিরা আপিল দায়ের করতে পারবেন।
ছবি : সংগৃহীত
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভেকেট ইউনুছ আলী আকন্দ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিটের আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এ রিট করেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’
আইনজীবী জানান, ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাহত হয়।
হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)
হাইকোর্ট বিভাগের ১৩টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৫ হাজার চারশত পাঁচটি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১২ কার্যদিবসে মোট ৫৫ হাজার ৭৩০টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হলো। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৬২ হাজার ৬৩৭টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ছয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং একজন বেঞ্চ অফিসারের বেতন স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর থেকে টানা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের প্রথম আপিল শাখায় কর্মরত অফিস সহকারী মো. আকরাম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৯ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
অন্যদিকে বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার এমএলএসএস মো. আসাদুজ্জামান, মো. মেহেদী হাসান, মো. ফিরোজ মিয়া ও মোছা. রুক্ষুন নিশাকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট জারি করা পৃথক আদেশে তাদের বিরুদ্ধে চলমান বিভাগীয় মামলাও নিষ্পত্তি করা হয়।
এ ছাড়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত বেঞ্চ অফিসার মো. জামাল হোসেন প্রধানের বেতন স্থগিত করা হয়েছে। গত ২৬ জুলাই এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়।
আদালত প্রাঙ্গণে খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, ডনের আইনজীবীরা আদালতে জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।
৯ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাঁকে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করে সংস্থাটি। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর ‘প্রকৃত কারণ’ নিয়ে নানা আলোচনা-জল্পনা আছে। তাঁর মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত বছর আদালত হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেন। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খলচরিত্রের অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ আগস্ট তারিখ ধার্য আছে।
সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে পিএসসির সদস্যরা
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নবনিযুক্ত চার সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার পর সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। পিএসসির নবনিয়োগপ্রাপ্ত এই সদস্যরা হলেন, মো. নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, ড. মো. ফেরদৌস হোসেন ও ইয়াসমিন গফুর।
শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারপতি, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কর্মকর্তা এবং সুপ্রিম রেজিস্ট্রির কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে ৬ আগস্ট এই চারজনকে পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগ দেয়। আজ তাদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হলো।
নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাদের বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তারা যোগদানের তারিখ থেকে পাঁচ বছর বা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া—যেটি আগে ঘটবে, সেই সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
নতুন চার সদস্য নিয়োগের ফলে বর্তমানে পিএসসিতে একজন চেয়ারম্যানসহ মোট সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ছাড়া সদস্য রয়েছেন ২০ জন।
পিএসসি দেশের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা আয়োজন, ফলাফল প্রকাশ এবং নিয়োগসংক্রান্ত সুপারিশ প্রদানের দায়িত্ব পালন করে থাকে।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী
জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিভিল জজ এ কে এম সামিউল হকের অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সোমবার ভোরে ঢাকা থেকে জামালপুরে যাওয়ার সময় লাহিড়ীকান্দা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন এ কে এম সামিউল হক (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ২৭ বছর ৭ মাস।
এ কে এম সামিউল হক ১৭তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার মাধ্যমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বিচার বিভাগে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সিভিল জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।