ফয়সাল করিম মাসুদ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৩:৫১ এএম

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদকে অস্ত্র আইনের মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মোহসীন বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।


আদালতের বেঞ্চ সহকারী ঈসমাইল হোসেন জানান, আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।


এ মামলা দায়ের করা হয় আওয়ামী লীগের সরকার পতানের পর ঢাকার আদাবর থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায়।


মামলায় বলা হয়, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র‌্যাব-২। পালানোর চেষ্টার সময় ধরা পড়েন ফয়সাল করিম।


পরে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে চার রাউন্ড গুলিসহ বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে র‌্যাব। পরদিন আদাবর থানায় ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেন র‌্যাবের হাবিলদার মশিউর রহমান।


এজাহারে বলা হয়, ফয়সাল করিম এলাকার ‘চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং মাদক কেনাবেচার হোতা’। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি, খুন-জখম এবং জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের’ নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। ‘অপরাধ সংঘটনের জন্য’ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রেখেছিলেন।


মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের ২৮ মার্চ ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন আদাবর থানার এসআই জাহিদ হাসান। মামলার বিচার চলাকালে ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য শোনে আদালত।


গত বছরের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফয়সাল করিম এ মামলায় জামিনে ছিলেন। ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধি হলে আলোচনায় আসে ফয়সালের নাম।


ওই ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিওর ভিত্তিতে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, অটোরিকশায় থাকা হাদিকে মোটরসাইকেল থেকে গুলি করেন ফয়সাল। মামলায় তাকেই প্রধান আসামি করা হয়।


সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ডিসেম্বর মারা যান হাদি। ততদিনে ফয়সালের দেশ ছাড়ার খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে।


শেষ পর্যন্ত এ বছর মার্চে ফয়সালকে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় সে দেশের পুলিশ। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে অস্ত্র মামলার শুনানি গতি পায়।


গত রোববার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৪১ পিএম

প্রিজনভ্যান থেকেই আদালত বিল্ডিংয়ে প্রবেশের আগেই মাথায় পরানো হেলমেট ছুড়ে ফেলে দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। 


আজ শনিবার ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর সময় হেলমেট ছুড়ে ফেলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


এদিন দুপুরে আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলসহ জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মকর্তাকে হুমকির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।


গত ১ অক্টোবর বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা, লাগেজ ট্রলির সংকট, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না আসাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে হুমকি-ধামকির পর্যায়ে পৌঁছায়। 


এরপর বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের নামে মামলা দায়ের করা হয়।


হেলমেট ছুড়ে ফেললেন


প্রিজনভ্যান থেকেই আদালত বিল্ডিংয়ে প্রবেশের আগেই মাথায় পরানো হেলমেট ছুড়ে ফেলে দেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। আজ শনিবার দুপুরে একটি প্রিজনভ্যানে হাতকড়া পরিয়ে তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতের সামনে আনা হয়।


এরপর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে আদালতে নেওয়া হয়। প্রিজনভ্যান থেকে নামার আগেই দরজায় দাঁড়িয়েই মাথা থেকে হেলমেট খুলে ছুড়ে ফেলে দেন আখতারুজ্জামান। এ সময় তিনি বলেন, আমি হেলমেট মানি না। সরকারের অবৈধ অর্ডার মানি না। 

সর্বশেষ সব খবর

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৪০ পিএম

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে—দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এমন ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন তিনি।


সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করা হয়। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি হবে।


রিটে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুদক যেন কোনো প্রেস ব্রিফিং করে তার সম্মানহানি না করে—এ মর্মে নির্দেশনা দেয়া হোক। একই সঙ্গে আসিফ মাহমুদকে নিয়ে দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ে দেয়া বক্তব্য ভুল ছিল—এটি স্বীকার করার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।


রিটের পর আসিফ মাহমুদের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা সাংবাদিকদের বলেন, কোনো ধরনের তদন্ত শেষ না হওয়া বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের কারণে তাকে ঘিরে ব্যাপক ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয়। এতে অভিযোগগুলো যেন আগেই প্রমাণিত—এমন ধারণা জনমনে তৈরি হয়েছে, যা তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে।


পরে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম দুদক বিটের সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা দিয়ে জানান, তার ওই বক্তব্য ভুলবশত দেওয়া হয়েছিল। সংবাদ প্রচারের সময় ‘প্রাথমিক সত্যতা’ কথাটি বাদ দেওয়ার জন্যও সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন তিনি।


তবে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি। রিটে দাবি করা হয়েছে, ফলে ওই বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণা ও ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ এখনো অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৩৫ পিএম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বাড্ডা-রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ সাক্ষী হানিফ মিয়ার জবানবন্দি গ্রহণের সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় আসামির কাঠগড়ায় থাকা সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম প্রসিকিউটরের উদ্দেশে উচ্চস্বরে কথা বলেন।


সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেয়ার সময় হানিফ মিয়া বলেন, জুলাই আন্দোলনে কারফিউ চলাকালে বাড্ডা-রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ১৪ দলের নেতারা দায়ী। টেলিভিশনে এসব নেতার বৈঠক করে আন্দোলনকারীদের দমন-পীড়নের সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা শুনেছেন বলেও জানান তিনি।


এ সময় প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সাক্ষীকে ১৪ দলের নেতাদের নাম বলতে বলেন। তখন আসামিদের জন্য সংরক্ষিত কাচের ঘেরের ভেতর থেকে কামরুল ইসলাম উচ্চস্বরে বলেন, ‘এভাবে বললে তো হবে না। আমার ৪০ বছরের ওকালতির ক্যারিয়ার। আপনি সাক্ষীকে দিয়ে জোর করে নাম বলাচ্ছেন।’


এ সময় কামরুল ইসলামকে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আপনি এভাবে সাউট করেন কেন। আপনার কিছু বলার থাকলে আইনজীবীর মাধ্যমে বলবেন।’ তিনি আরও বলেন, আসামির কাঠগড়া থেকে এভাবে উচ্চস্বরে কথা বলা আদালতের প্রতি চরম অবমাননাকর।


পরে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মনে হয় জবানবন্দি গ্রহণে ভুল হয়নি। প্রসিকিউশনের একটাই টার্গেট, একটাই উত্তর চাই। সাক্ষী ১৪ দলের কথা বলায় তিনি নাম বলতে বলেছেন।’


এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক বলেন, ‘It is a matter of identification। আপনারা প্রশ্ন করে নাম বলাচ্ছেন।’ জবাবে মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘এটা লিডিং প্রশ্ন না।’


এরপর সাক্ষী আবার তার জবানবন্দি দেয়া শুরু করেন।


জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কামরুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন বলেও সাংবাদিকদের জানান প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চতুর্থ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হচ্ছে। সোমবার সকালে কারাগার থেকে মেনন ও কামরুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। চতুর্থ সাক্ষীর জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করবেন।


গত ২৩ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা হয়।


এদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মিরপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা ও মাইনুল ইসলাম নিখিলসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ একটি ফরমাল চার্জ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।


এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সালমান এফ রহমানের বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের বিষয়ে একটি আবেদনের শুনানির জন্য আজ ২৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য ছিল। তবে প্রসিকিউশন জানায়, চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম দেশের বাইরে থাকায় তারা আজ শুনানি করতে আগ্রহী নয়। পরে ট্রাইব্যুনাল মামলাটির শুনানি আগামী ২৬ অক্টোবর পুনর্নির্ধারণ করেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:২৪ পিএম

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে আটক ২৭ জনের পক্ষে করা জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এ আদেশ দেন।


জামিন নামঞ্জুর হওয়া আসামিরা হলেন- মো. দিদারুল আলম তুহিন, ইমান আহমেদ ইমন, মোল্লা মো. শাহজাহান সিরাজ, জয় সরকার, মো. মিরাজ আহমেদ, মো. মিরাজ মালিখা, মো. রবিউল ইসলাম, মিলন কুমার মহন্ত, মো. কাউসার হোসেন, অঞ্জন শিল, জালাল উদ্দীন মন্ডল, আব্দুল লতিফ, শামীম আহমেদ, আহাম্মেদ আহসান হাবিব, মো. সুজন আলী, মো. তসিকুল ইসলাম, মো. সাইফুল্লাহ সায়েক, নয়ন আলী সাজিদুল ইসলাম তুহিন, তাজুল ইসলাম, নিস্কর সম্রাট হোসেন তালুকদার, আনোয়ার হোসেন, মো. আলমগীর হোসেন, মো. আল আমিন হাওলাদার, মো. তুষার আলী, মো. রাশিদুল হক ও মীর মুক্তিসুর রহমান। 


রোববার রাতে তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল ইসলাম আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। একইদিন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। তবে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম  জামিন শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করে তাদের কারাগারে পাঠানের আদেশ দেন।


সে অনুযায়ী আজ আসামিপক্ষে আইনজীবীরা জামিন আবেদনের শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন। আটকদের বিরুদ্ধে জাসদ কার্যালয়ে ঢুকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

গাজী নজরুল ইসলাম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২১ পিএম

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে আবারও রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


প্রথম দফার চার দিনের রিমান্ড শেষে আজ বৃহস্পতিবার গাজী নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।


বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে ডিবির একটি সাদা গাড়িতে করে গাজী নজরুল ইসলামকে আদালতে আনা হয়। পরে তাঁকে হাজতখানায় রাখা হয় এবং বিচারকের সামনে হাজির করা হয়। শুনানির সময় তিনি আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।


আসামিপক্ষ রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আবেদন করে। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে বিকেল ৪টা ৪৭ মিনিটে আদেশ দেন বিচারক।


২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীত দিকে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।


পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ওই রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকছুদা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে গাজী নজরুল ইসলামের চার দিনের রিমান্ড শেষে আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে আবার আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়।


এ ছাড়া বুধবার মামলার তৃতীয় আসামি ওবায়দুর রহমানকে ঢাকার বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-২। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

সর্বশেষ সব খবর

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও দেবাশীষ রায়

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:০৮ পিএম

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।


আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। 


সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট উভয় বিভাগের বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল আশিকুল খবির শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।


সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।


হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল আলমগীর ২১ সেপ্টেম্বর দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে হাইকোর্টের (স্থায়ী) বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন।


২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান দেবাশীষ রায় চৌধুরী। একই সময়ে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন অতিরিক্ত বিচারপতিকে ২০২৫ সালের নভেম্বরে স্থায়ী করা হলেও তাঁকে তখন স্থায়ী করা হয়নি। সে সময় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জানিয়েছিল, বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বয়স ৪৫ বছর পূর্ণ না হওয়ায় তাঁকে স্থায়ী করা হয়নি। বয়সের শর্ত পূরণ হওয়ায় সোমবার তাঁকে হাই কোর্ট বিভাগে স্থায়ী করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।


ব্রিটেন থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০৫ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন দেবাশীষ রায় চৌধুরী। ২০০৭ সালে হাই কোর্ট বিভাগ এবং ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি।


বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর ছেলে। তাঁকে নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী বিচারকের সংখ্যা হল ১০০ জন।

সর্বশেষ সব খবর