সুপ্রিম কোর্ট

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৮:০৭ এএম

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ তুলে বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি দিলেও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল করেছে জাতীয় সংসদ। আলাদা দুটি বিল পাসের মাধ্যমে এসব অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়।


আজ বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে এ দুটি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল হয়।


আর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়।


ফলে আপাতত সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের জন্য আলাদা কোনো আইন থাকছে না। সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার আইনগত ভিত্তিও থাকছে না। বিচারক নিয়োগ ও বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম আগের কাঠামোয় ফিরে যাচ্ছে।


সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি হল যেভাবে


বাংলাদেশে স্বাধীন বিচার বিভাগের দাবি কয়েক যুগ ধরে বিভিন্ন মহল থেকে করা হচ্ছিল। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও সভা-সমাবেশের মধ্যে ১৯৯৫ সালে বিসিএস বিচার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাসদার হোসেন ও তার সহকর্মীরা বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থেকে মুক্ত করার দাবিতে মামলা করেন।


সেই মামলায় ১৯৯৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত রায় দেয়। সেই রায়ের ২৬ বছর পর বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় করার পদক্ষেপ গত বছর ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সররকারের অনুমোদন পায়। 


তার ১০ দিনের মাথায় ৩০ নভেম্বর 'সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫' জারি হয়।


এ অধ্যাদেশ পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলাজনিত বিষয়, ছুটির পাশাপাশি নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়োগের সব কিছু সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় করবে।


অধ্যাদেশ অনুযায়ী ১১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক ভবন-৪ এ সচিবালয় উদ্বোধন করেন তখনকার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।


‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ’


সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব সংসদে তোলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তখন আপত্তি জানান বিরোধী সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান।


পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এই সদস্য বলেন, “বিলটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন।” তার ভাষায়, “ফ্যাসিবাদী কায়দায় নিম্ন আদালতকে ব্যবহার করে বিরোধী মত দমনের আয়োজন চলছে।”


আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দণ্ডিত জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে নাজিবুর রহমান বলেন, বিচার বিভাগ এখন স্বাধীনভাবে কাজ করছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় কিছু বিচারককে শোকজও করা হয়েছে।


তিনি বলেন, আগে মন্ত্রণালয়ের কথা না শুনলে বিচারকদের দূরবর্তী জেলায় বদলি করা হতো, এখন সেই পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে।


জামায়াতের এ সদস্য বলেন, হাইকোর্টের একটি রায়ের ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।


তার ভাষায়, ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে আনা পরিবর্তন অসাংবিধানিক ঘোষিত হয়েছে এবং মূল ১১৬ অনুচ্ছেদ ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরুজ্জীবিত’ হয়েছে। সে অনুযায়ী বিচারিক কার্যসম্পাদনকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের পদায়ন, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হয়েছে।


নাজিবুর রহমান বলেন, “সে রায় বাস্তবায়িত হয়ে গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে। সেখানে রায়টি স্থগিত হওয়া কিংবা বাতিল হওয়া ছাড়া এটিকে বিলুপ্ত করা, সেই সচিবালয়কে বিলুপ্ত করার জন্য বিল আনা বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং আদালত অবমাননার শামিল।”


এই সদস্য বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোরও প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “রহিতকরণ বিলটি অসাংবিধানিক। এটা কোনোভাবেই পাস করা যাবে না।”


নাজিবুর রহমান বলেন, সংসদ সার্বভৌম বলে আদালতের রায় না মানার যে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তা জনমত বিভ্রান্ত করছে।


তিনি একটি বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের কেউই সার্বভৌম নয়; সংবিধানের সীমার মধ্যেই তাদের কাজ করতে হয়। তার ভাষায়, কোনো আইন সংবিধানবিরোধী হলে আদালত সেটি বাতিল করতে পারে।


বিরোধী দলের এ সদস্য বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে বিএনপি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেয়নি। সে অবস্থায় এখন রহিতকরণ বিল আনা জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণার’ শামিল।


জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সুপ্রিম কোর্ট কোনো আইন অসাংবিধানিক কি না, তা বলতে পারে; কিন্তু সংসদকে কোনো আইন করতে ‘ডিক্টেট’ করতে পারে না।


মাসদার হোসেন মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আদালত আইন নিয়ে মত দিতে পারে, কিন্তু আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সংসদের।


আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চায় এবং তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


জামায়াতের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আমরা চাই। ওনাদের পিতারা বিচার বিভাগের কাছে অবিচারের শিকার হয়েছিলেন। সেই স্বাধীনতা যেমন অ্যাবিউজড হয়েছে, যারা সে বিচার করেছিলেন তারা সবচেয়ে স্বাধীন বিচারক ছিলেন।”


তিনি বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে বিচারকদের চাকরি, বদলি, পদায়ন ও শৃঙ্খলাবিষয়ক সুরক্ষা সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত। তবে তার ভাষায়, সেই সুপ্রিম কোর্ট থেকেই ‘শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’ এর জন্ম হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিচারের অভিযোগও উঠেছে।


খালেদা জিয়ার সাজার প্রসঙ্গ টেনে আসাদুজ্জামান বলেন, “সে সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেত্রী, গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী, বাংলাদেশের হৃৎপিণ্ড বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছর থেকে ১০ বছর জেল দিয়েছিলেন।”


রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে বিচারকাজ চালানোর অভিযোগও তোলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এত ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্ট একজন বিচারকের বিরুদ্ধেও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেয়নি।


বিচারকদের শোকজের ব্যাখ্যা


বিচারকদের শোকজ দেওয়ার অভিযোগের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আচরণবিধি অনুযায়ী বিচারক থাকা অবস্থায় কেউ কোচিং সেন্টারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন না।


তার ভাষায়, কেউ কেউ ক্লাস নেওয়ার বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন, কেউ কেউ ফেইসবুকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে হাজির হচ্ছেন। সে কারণেই তাদের বিষয়ে নোটিস দেওয়া হয়েছে।


মন্ত্রী বলেন, সরকার সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের মতো প্রশ্নে আরও আলোচনা ও যাচাই-বাছাই দরকার। পরে কণ্ঠভোটে নাজিবুর রহমানের আপত্তি নাকচ হয় এবং বিলটি পাস হয়।


বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলেও আপত্তি


পরে আইনমন্ত্রী ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাসের জন্য প্রস্তাব করেন। এতে আপত্তি দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি সদস্য আখতার হোসেন।


রংপুর-৪ আসনের এই সদস্য বলেন, অতীতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব এতটাই প্রবল ছিল যে, তাতে ‘দলীয় আনুগত্যসম্পন্ন ও বিতর্কিত’ ব্যক্তিরাও বিচারপতির পদে যেতে পেরেছেন।


আইনমন্ত্রীর আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিচারপতিরা সাংবিধানিক সুরক্ষা পেয়েও কীভাবে ‘রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে’ বিচারকার্য চালিয়েছেন, কীভাবে বেগম খালেদা জিয়ার সাজার বাড়ানো হয়েছে এবং কীভাবে বিচারব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে, সেটাই প্রমাণ করে নিয়োগ-প্রক্রিয়ার গোড়াতেই সমস্যা ছিল।


আখতার হোসেন বলেন, “এই যে শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ তৈরি হল, খায়রুল হকের মতো বিচারপতি তৈরি হল, মানিকচোরা শব্দটা এখানকার জন্যে অশোভনীয় হতে পারে, কিন্তু বাইরে এই শব্দটা এভাবেই চলছে।”


তার ভাষায়, বিচারক নিয়োগের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোয় রাষ্ট্রপতির নিয়োগক্ষমতা কার্যত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শনির্ভর হওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই শেখ হাসিনার আমলে ‘মানিক চোরার মতো ব্যক্তিরা’ বিচারপতি হতে পেরেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।


বিচারক নিয়োগের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো বোঝাতে তিনি ঘুড়ির নাটাইয়ের উদাহরণ টানেন।


তার ভাষায়, “কোনো একটা ঘুড়িকে আপনি আকাশে উড়িয়ে দিয়েছেন, সেই ঘুড়ির নাটাই যদি আপনার হাতে থাকে, ঘুড়িকে আপনি যতই উড়ার স্বাধীনতা দেন না কেন, আকাশের মধ্যে সেই ঘুড়ি সেখানেই পাক খাবে, আপনি যখন টান দেবেন, তখন আপনার কাছেই ফিরে আসবে।”


আখতার হোসেন সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ ও ৪৮ অনুচ্ছেদে প্রধান বিচারপতি ও বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার বিষয়ে কি বলা হয়েছে, তা তুলে ধরেন। তার ভাষায়, এই কাঠামোর কারণেই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত নিয়োগ সম্ভব হয়েছে।


এনসিপির এ সদস্য বলেন, “সেই ধরনের একটা পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামনের দিনে চলুক, এটা তো আমরা কেউই চাই না।”


আখতার হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আনা অধ্যাদেশে বিচারপতি নিয়োগের জন্য একটি ‘জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠন করা হয়েছিল।


তার মতে, ওই অধ্যাদেশে বয়স, অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, চারিত্রিক গুণাবলী ও প্রকাশনার মতো যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা অতীতে ছিল না।


আখতার হোসেন বলেন, অধ্যাদেশটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণার জন্য রিট হয়েছিল, কিন্তু আদালত তা খারিজ করে দিয়েছিল। তার ভাষায়, “সেই অধ্যাদেশের মধ্যে কোনো অসাংবিধানিকতা নাই।”


আখতারের বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, তাত্ত্বিকভাবে তিনি বিরোধী সদস্যের বক্তব্যের সঙ্গে একমত যে অতীতে বিচারপতি নিয়োগে ভয়াবহ সমস্যা ছিল।


তিনি বলেন, “বিশেষ করে গত ১৭ বছরের মধ্যে ফ্যাসিস্ট আমলে পার্টি ক্যাডারদেরকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে নিয়োগের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে কলঙ্কিত করা হয়েছে, যে নিয়োগের মাধ্যমে খায়রুল হকের জন্ম হয়েছে।”


মন্ত্রী বলেন, সরকারও চায় বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হোক, ভালো বিচারপতি নিয়োগ হোক, সুপ্রিম কোর্ট মানুষের ন্যায়বিচারের আস্থার জায়গা হয়ে উঠুক।


তবে তার ভাষায়, অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে তিনি আগে যে অবস্থান নিয়েছিলেন, তা ছিল তৎকালীন সরকারের পক্ষে আইনি অবস্থান তুলে ধরা। এখন তিনি এই সরকারের মন্ত্রী, আর সরকারের নীতি হল-বিচার বিভাগে নিয়োগে ‘সম্পূর্ণরূপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ নিশ্চিত করা।


আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বিচারক নিয়োগের বিষয়টি সংবিধানে নয়, আইনে করার কথা বলেছে। সেই অবস্থান থেকেই সরকার বৃহত্তর সাংবিধানিক সংস্কারের পথে যেতে চায়।


তার ভাষায়, “আমরা বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করব। আমরা সংবিধান সংশোধনের যে বিশেষ কমিটি করতে চাচ্ছি, আমরা সেই কমিটির কাছে ফিরে যাই।”


তিনি বলেন, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা, মানদণ্ড, কাঠামো ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সব প্রশ্নই সেই আলোচনায় আসতে পারে।


মন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই না বাংলাদেশে আর কোনো মানিকের জন্ম হোক। আমরা চাই না বাংলাদেশে আর কোনো খায়রুল হক গজায় উঠুক। আমরা চাই না আর কোনো বিচার বিভাগীয় কিলিং হোক।”


পরে কণ্ঠভোটে আখতার হোসেনের আপত্তি নাকচ হয়ে যায়। বিলটিও পাস হয়।


বিল পাসের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, আলোচনার সময় একজন বিচারপতির নামের শেষে একটি বিশেষণ যুক্ত করা হয়েছিল, সেটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৪১ পিএম

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তরুণীকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে নিখোঁজ হওয়ার দিন ওই তরুণীকে (১৯) তাহসিফ সাউরির সঙ্গে রাজধানীর একটি এলাকায় দেখা গিয়েছিল।


আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ–পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তরুণীকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। পরে তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।


রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, সিসিটিভি ফুটেজে গত ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় তাহসিফ সাউরির সঙ্গে ওই তরুণীকে দেখা যায়। এরপর তাঁরা আরও কয়েক জায়গায় যান। তাঁদের মধ্যে মুঠোফোনে কথা হয়।


জিজ্ঞাসাবাদে তাহসিফের ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া বক্তব্য যাচাইয়ের জন্য ওই তরুণীকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।


গতকাল শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে কাফরুল এলাকা থেকে তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।


গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় গত শুক্রবার রাতে হত্যা মামলা করেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম।


হাইকোর্ট

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:২৯ পিএম

হাইকোর্ট বিভাগের ১২টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ২ হাজার ৩৫৪টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১৪ কার্যদিবসে মোট ৬২ হাজার ৮০২টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হলো। 


সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 


এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৬৯ হাজার ৭০৯টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।


সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। 


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবং রিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মাহবুব-উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল


মাহবুব-উল আলম হানিফ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০৮ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।


এ মামলার অন্য তিন আসামি—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে আসামিদের সবাই পলাতক রয়েছেন।


এর আগে, গত ৭ অক্টোবর দুই পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। 


গত বছরের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলায় ৪ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।


  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২২ পিএম

চিত্রনায়ক মান্নার ব্যবহৃত গাড়িতে আগুন লাগার ঘটনায় করা মামলায় তার পরিবারের ম্যানেজার মো. মামুন মণ্ডলকে জামিন দিয়েছেন আদালত। 


বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এক হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।


আসামিপক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামুন দীর্ঘদিন ধরে মান্নার পরিবারের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন। এটি নিছক দুর্ঘটনা। আদালতে জামিন আবেদন করা হলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন।


গত ২৬ অক্টোবর মামুন মণ্ডল (২৯) ও গাড়ির টেকনিশিয়ান মো. সোহেল পাটওয়ারীকে (৩৭) গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই মো. ইয়াউর রহমান। আসামিপক্ষের জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। বুধবার শুনানি শেষে মামুনের জামিন মঞ্জুর করা হয়।   


মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীর ভাটারা এলাকার একটি ভবনের নিচে গাড়ি পার্কিংয়ের গ্যারেজ রয়েছে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে ছিল চিত্রনায়ক মান্নার স্ত্রী সেলির নামে নিবন্ধিত ঢাকা মেট্রো-গ-১৫-০৭৭৫ নম্বরের একটি প্রাইভেট কার। গাড়িটির নিচে তেলের চিহ্ন দেখতে পেয়ে সেটি সরিয়ে নিতে মালিককে অনুরোধ করেন ভবন কর্তৃপক্ষ।  


পরে গাড়িটি গ্যারেজ থেকে বের করে ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়ার জন্য ম্যানেজার মামুনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে গত ২৬ অক্টোবর গ্যারেজেই মামুন ও টেকনিশিয়ান সোহেল গাড়িটির মেরামতের কাজ শুরু করেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাড়িটিতে আগুন লাগে। এতে গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে পাশের আরেকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


এ ছাড়া গ্যারেজ, বিদ্যুতের তার, সিসিটিভি ক্যামেরা, গেটের শাটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে যায়। ভবনের বিভিন্ন স্থানের কাচও ভেঙে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


এ ঘটনায় ভবনের ম্যানেজার মো. গাজি মানিক মিয়া ভাটারা থানায় অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে।


চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৮ পিএম

আবাসিক এলাকায় প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার স্মৃতিবিজড়িত একটি গাড়ি মেরামতের সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগের মামলায় দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত এ আদেশ দেন।


কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন- মান্নার পরিবারের ম্যানেজার মো. মামুন মণ্ডল (২৯) ও গাড়ির টেকনিশিয়ান মো. সোহেল পাটওয়ারী (৩৭)। এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াউর রহমান। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। সেটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুন লাগে। আসামিদের একজন গাড়ির মালিকের পরিবারের ম্যানেজার, অন্যজন টেকনিশিয়ান। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছেন, এমন অভিযোগ সঠিক নয়। আসামিদের জামিন আবেদনের শুনানির জন্য কাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিন ধার্য করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আসামির আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।’


আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াউর রহমান বলেন, চিত্রনায়ক মান্নার ব্যবহৃত গাড়িটি তার স্ত্রী শেলী মান্নার তত্ত্বাবধানে ছিল।


মামলার অভিযোগে বলা হয়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির নিচে গাড়ি পার্কিংয়ের গ্যারেজ রয়েছে। ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া সেলির (চিত্রনায়ক মান্নার স্ত্রী) ঢাকা মেট্রো-গ-১৫-০৭৭৫ নম্বরের একটি প্রাইভেটকার দীর্ঘদিন ধরে গ্যারেজে পড়ে ছিল। গাড়িটির নিচে তেলের চিহ্ন দেখতে পেয়ে সেটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য বাড়ির কর্তৃপক্ষ গাড়ির মালিককে অনুরোধ করে।


এরপর গাড়িটি গ্যারেজ থেকে বের করে ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবারের ম্যানেজার মামুনকে নির্দেশ দেন মালিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ অক্টোবর মামুন ও সোহেল গাড়িটি মেরামত করতে গ্যারেজে আসেন। বাড়ির ম্যানেজার তাদের গ্যারেজের বাইরে গিয়ে কাজ করার কথা বললেও তারা ভেতরেই মেরামতকাজ শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


এদিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে গাড়িটিতে আগুন লাগে। এতে গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে পাশের আরেকটি প্রাইভেটকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া গ্যারেজ, বিদ্যুতের তার, সিসিটিভি ক্যামেরা, গেটের শাটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে যায়। ভবনের বিভিন্ন স্থানের কাচও ভেঙে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


এ ঘটনায় বাড়ির ম্যানেজার মো. গাজী মানিক মিয়া ভাটারা থানায় অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মামুন ও সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তার সাত আসামি। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৮ এএম

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার সাত আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন- মো. মফিজুল ইসলাম (২৭), মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), মো. হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন (৩২), আসাদুল ইসলাম (৩১), এস এম এমদাদুল রহমান (৩৫), মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৮) ও নূর মোহাম্মদ (৩০)। তাঁদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অফিস সহায়ক, আর মো. জাহাঙ্গীর (৩৮) ও এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫) কম্পিউটার অপারেটর, আসাদুল ইসলাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক, রুবেল পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর এবং মফিজুল ও হাসিনুর প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের সদস্য।

শুনানির সময় ৭ আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মোহাইমিনুল ইসলাম। রিমান্ড আবেদনে তিনি বলেন, আসামিরা বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও চেকের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ নিয়ে পরীক্ষার আগে প্রশ্ন সরবরাহ এবং প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করিয়ে দেওয়ার চুক্তি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়, এই চক্রের সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের আরও অনেকে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আসামিরা বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন। এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে আসছে। তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তাদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর অ্যাডমিট কার্ড (প্রবেশপত্র), ব্যাংকের চেক, প্রশ্ন লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের রিমান্ড প্রয়োজন।

এ সময় আসামি এস এম এমদাদুল রহমানের পক্ষে শুনানি করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম। আদালতকে তিনি বলেন, এই আসামি এজাহারভুক্ত না। তার কাছ থেকে কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তিনি নির্দোষ। তাকে হয়রানি করার জন্য এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, তার মক্কেলের দায় কী? কী আলামত পাওয়া গেছে তার কাছে কিছুই মামলায় উল্লেখ নেই। রিমান্ড আবেদনেও তার ব্যাপারে বিশেষ কিছু লেখা হয়নি।

একপর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তার দিকে তাকিয়ে উচ্চস্বরে এই আইনজীবী বলেন, শুধু রিমান্ড আবেদন করলেই রিমান্ড হয়ে যায় না। আদালত এগুলো বুঝে ভালোমতো। মনে করেছে রিমান্ড আবেদন করলেই হয়ে যায়। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা বিচারকের দিকে দুইবার তাকান ইতস্ততভাবে।

তখন বিচারক এই আইনজীবীকে বলেন, ‘আপনি মেরিটে কথা বলেন। আপনি শুনানির প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলবেন। অন্য প্রসঙ্গে কথা বলবেন না।’ তখন আসামিপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, ‘জি, মাননীয় আদালত আমি মেরিটেই কথা বলছি।’ এ সময় বিচারক তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করেন যে এই আসামির কাছ থেকে কোনো আলামত পাওয়া গেছে কি না। তখন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘জি, বেশ কিছু আলামত পাওয়া গেছে। তিনি এই চক্রের গুরুত্বপূর্ণ একজন।’

এরপর আসামি আসাদুল ইসলামের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী আলমগীর হোসেন। আদালতকে তিনি বলেন, আসাদুল একেবারেই নির্দোষ। এ ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার সম্পর্কে রিমান্ড আবেদনেও কিছু নেই। এ সময় বিচারক তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তাঁর বিষয়ে কিছু পাওয়া গেছে কি না। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, জি, পাওয়া গেছে।

তখন আদালতে দাখিল করা নথি দেখে বিচারক আসাদুলের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার কাছে ও ফোনে অনেকগুলো স্ট্যাম্প, চেক পাওয়া গেছে। চেকের ৪৫টি পাতা পাওয়া গেছে। এগুলো আপনার কাছে কেন, আপনি এগুলো দিয়ে কী করেন?’

উত্তরে আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি চাকরি করি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে।’ বিচারক জিজ্ঞাসা করেন, ‘তাহলে এতগুলো চেক, স্ট্যাম্প কেন আপনার কাছে?’ উত্তরে এই আসামি বলেন, ‘আমার একটা ছোট ব্যবসা আছে।’ বিচারক বলেন, ‘সরকারি চাকরি করে কি আপনি ব্যবসা করতে পারেন, আইনে আছে?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রীর নামে ব্যবসা।’ বিচারক বলেন, ‘আপনি কি সেটা করতে পারেন, আপনার কাছে এতগুলো ডকুমেন্টস, প্রবেশপত্র কেন, কী করতেন এগুলো দিয়ে?’ উত্তরে আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার শালা-সম্বন্ধীয় পরীক্ষার্থী ছিল।’ বিচারক বলেন, ‘কিন্তু আপনার ফোনে কেন? আর এতগুলো! কী করতেন এগুলো?’

এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্যের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাওসার আহম্মেদ বলেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম করে আসছেন। যার প্রমাণ প্রাথমিকভাবে তদন্ত কর্মকর্তা পেয়েছেন। তারা আরও ১১টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরিকল্পনা করেছিল। এ পর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, তারা সাতজন প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে কানেক্টেড (যুক্ত)। তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে প্রত্যেক আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার কিছু সময় আগে ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ও উত্তর ছড়িয়ে পড়ে। ওই প্রশ্নপত্রের সঙ্গে আসল প্রশ্নের মিল পাওয়া যাওয়ায় কিছুক্ষণ আগে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে প্রশ্নপত্র ফাঁসে যুক্ত থাকার অভিযোগে এই সাতজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাদের তদন্তে বেরিয়ে আসে, ১০ লাখ টাকায় প্রশ্ন ও উত্তর পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন এই চক্রের সদস্যরা। তাদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, চাকরিপ্রার্থীদের ১০টি সনদ, ৪০ জনের ব্যাংক চেকের পাতা ও ব্যাংকের চেক বই জব্দ করা হয়।