• প্রকাশ : শুক্রবার ২২ মে, ২০২৬, সময় : ৪:৩৬ এএম

কখনও কোনো কারণ ছাড়াই মন ভালো নেই। কখনও বা কারণ আছে, তবে কাউকে বলা যায় না। আবার কখনও সারাদিন কাজের মধ্যে থেকেও মনে একটা শূন্যতা কাজ করে।


কেন এমন হয়?


জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলেন, “মন খারাপ মানুষের জীবনের একটা স্বাভাবিক অংশ। সম্পর্কের ঝামেলা, কাজের চাপ, ব্যর্থতার বোঝা, একাকিত্ব, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা — কারণ থাকতে পারে অনেক। তবে সমস্যা হয় তখন-ই, যখন এই অনুভূতি চেপে ধরে রাখা হয়, কাউকে বলা হয় না, কোনো উপায় খোঁজা হয় না।”


তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন মন খারাপ ভেতরে জমিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। তাই সময় থাকতে নিজের অনুভূতির যত্ন নেওয়া জরুরি।”


শ্বাস নিন সচেতনভাবে


এটা পড়ে অনেকে ভাবতে পারেন, ‘শ্বাস নেওয়াতে কী আর এমন হবে।’ তবে বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিস’য়ের তথ্যানুসারে- মন অস্থির হলে শ্বাস-প্রশ্বাস এমনিতেই দ্রুত হয়ে যায়। সেটাই উদ্বেগ বাড়ায়, শরীরকে সতর্ক অবস্থায় রাখে। এই চক্র ভাঙতে হলে সচেতনভাবে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিয়ে, আস্তে আস্তে ছাড়তে হবে। কয়েক মিনিট এই শ্বাসের ব্যায়াম করলেই পার্থক্য টের পাওয়া যায়।


ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলেন, “সচেতনভাবে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস আবেগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উদ্বেগের মুহূর্তে এটি শরীরের 'ফাইট অর ফ্লাইট' প্রতিক্রিয়াকে শান্ত করে।”


ঘর ছেড়ে বের হওয়া, একটু হাঁটা


মন খারাপের সময় বেশিরভাগ মানুষ ঘরের কোণে গুটিয়ে থাকেন। কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকেন, ফোন স্ক্রল করতে থাকেন। তবে এটা আসলে মন খারাপকে আরও গভীর করে।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘প্রোমোটিং মেন্টাল হেল্থ থ্রু সাইকেলিং অ্যান্ড ওয়াকিং’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট বাইরে হাঁটলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছায় এবং মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।


ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলছেন, “প্রকৃতির মাঝে হাঁটলে মানসিক চাপ কমে এবং মন সতেজ হয়। পার্কে যাওয়ার দরকার নেই। বিল্ডিংয়ের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামুন, গলির মোড় পর্যন্ত হেঁটে আসু — এটুকুই যথেষ্ট শুরুর জন্য।”


কষ্টটা লিখে ফেলা


মনের ভেতরে যা ঘুরছে, সেটা বলতে না পারলেও লেখা যায়। ডায়েরিতে বা নোটবুকে নিজের কষ্ট, ভয়, হতাশার কথা লিখলে একটা অদ্ভুত হালকা লাগা আসে।


এই তত্ত্ব ও ধারণার জনক হলেন টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় (অস্টিন)-এর মনস্তত্ত্ববিদ ও অধ্যাপক ড. জেমস ডব্লিউ পেনেব্যাকার।


‘জার্নাল অফ অ্যাবনরমাল সাইকোলজি’তে ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত তার গবেষণার ফলাফলে উল্লেখ করা হয়, ‘নিজের অনুভূতি বা আবেগ লিখে প্রকাশ করা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী’।


ডা. দিনা পরামর্শ দেন, “শুধু নেতিবাচক কথাই নয়, নিজের ভালো গুণগুলোও লিখুন। আজকে কোন কাজটা ঠিকমতো করেছেন, কে আপনাকে ভালোবাসে, কোন জিনিসটার জন্য কৃতজ্ঞ— এগুলো লিখলে নিজের ইতিবাচক দিকগুলো নতুনভাবে চোখে পড়ে।”


মন খারাপের সময় মনে হয় সবকিছুই নেতিবাচক। তবে লিখতে বসলে দেখা যাবে, ভালো জিনিসও কম নেই।


বর্তমানে থাকা, অতীত আর ভবিষ্যৎ সরিয়ে রাখা


ডা. দিনার ভাষায়, “মন খারাপের একটা বড় কারণ হল, আমরা হয় অতীতের অনুশোচনায় ডুবে থাকি, নয়তো ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায়। তবে এই মুহূর্তে যা আছে, সেটাতেই মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাস করতে হবে। যাকে বলা হয় ‘মাইন্ডফুলনেস’। আর এটা উদ্বেগ ও হতাশা কমাতে কার্যকর।”


উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “বিষয়টা একটু সহজ। এই মুহূর্তে চা খাচ্ছেন তো চায়ের উষ্ণতা অনুভব করুন। হাঁটছেন তো পায়ের নিচে মাটির স্পর্শ টের পান। এই ছোট্ট সচেতনতাগুলো মাথাকে অতীত বা ভবিষ্যৎ থেকে সরিয়ে বর্তমানে নিয়ে আসে।”


নিজেকে দোষ দেওয়া বন্ধ করা


মন খারাপের সময় অনেকে নিজেকেই সবচেয়ে বেশি দোষ দেন। ‘আমি কেন এমন করলাম’, 'আমার জন্যই সব হল’, 'আমি আসলে কিছুই পারি না' — এই ধরনের চিন্তা মনকে আরও ভেঙে দেয়।


ভুল মানুষের জীবনের অংশ। সবার জীবনেই ব্যর্থতা আসে, কঠিন সময় আসে। নিজেকে ক্ষমা করতে শিখতে হবে।


ডা. দিনা বলেন, “আত্মসহানুভূতি মানুষের মানসিক শক্তি বাড়ায় এবং হতাশা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করে। অন্যের সঙ্গে যেভাবে সহানুভূতি দেখান, নিজের সঙ্গেও সেটুকু দেখান।”


একা থাকা যাবে না, কথা বলতে হবে


মন খারাপের সময় একা থাকার প্রবণতা স্বাভাবিক। তবে এটা সমাধান নয়। কাছের মানুষের সঙ্গে বন্ধু, পরিবারের যে কেউ— মনের কথাটা বলুন। শুধু বললেই অর্ধেক ভার নেমে যায়।


যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্রিগহাম ইয়ং ইউনিভার্সিটি’র মনোবিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. জুলিয়ান হোল্ট-লুনস্টাড, তার গবেষণাপত্র ‘সোশাল রিলেশনশিপস অ্যান্ড মর্টালিটি রিস্ক: এ মেটা-অ্যানালিটিক রিভিউ’তে উল্লেখ করেন যে- মন খারাপ বা বিষণ্নতার সময় একাকিত্ব মানুষের নেতিবাচক চিন্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর পরিবর্তে মানুষের সাথে যোগাযোগ করলে মস্তিষ্ককে দ্রুত সুস্থ করে তোলে।


‘পিএলওএস মেডিসিন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় তিনি দেখিয়েছন- মন খারাপ বা মানসিক কষ্টের সময় একা থাকা এবং সামাজিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া স্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন ১৫টি সিগারেট খাওয়ার মতোই ক্ষতিকর।


অন্যদিকে, মানুষের সঙ্গে মেলামেশা ও সামাজিক সমর্থনে বেঁচে থাকার মাধ্যমে মানসিক কষ্ট কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা পঞ্চাশ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।


“পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, পানি পান এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের কথাও মাথায় রাখতে হবে। শরীর ভালো না থাকলে মনও ভালো থাকে না”- পরামর্শ দেন ডা. দিনা।


তবে দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ ঠিক না হলে, কোনো কিছুতে আগ্রহ না থাকলে, ঘুম বা খাওয়াতে সমস্যা হলে, একজন মনোবিজ্ঞানী বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত হবে।


কারণ, “দীর্ঘস্থায়ী হতাশা কখনও কখনও বিষণ্নতার লক্ষণও হতে পারে। সেটাকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়” মন্তব্য করেন এই মনোবিদ।

বিষয় : মন



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:০৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার জন্য ৮টি অভ্যাস মেনে চললে জীবন অন্তত ২৪ বছর দীর্ঘায়িত করা সম্ভব। গবেষণাটি এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অনুষ্ঠানে গবেষণাটির কিছু উল্লেখযোগ্য বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছে।


গবেষণায় বলা হয়েছে, ৪০ বছর বয়সেও যদি এসব স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়া যায়, তাতেও জীবনের সঙ্গে বাড়তি ২৪ বছর যোগ করা সম্ভব। ৫০ বছর বয়সে শুরু করলে ২১ বছর আর ৬০ বছর বয়সে শুরু করলে ১৮ বছর পর্যন্ত জীবন দীর্ঘায়িত করা সম্ভব।


ভিএ বোস্টন হেলথকেয়ার সিস্টেমের মিলিয়ন ভেটেরান প্রোগ্রামের স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ এবং গবেষণাটির প্রধান লেখক জুয়ান-মাই নুয়েন বলেন, 'স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার জন্য ২০ বছর সময়ের মধ্যে এই পরিবর্তনগুলো আনতে হবে। এগুলো ধীরে ধীরেও করা যায়, আবার সবগুলো একসঙ্গেও করা যায়।'


সেই জাদুকরী অভ্যাসগুলো কী কী? এর কোনোটিই কিন্তু একেবারে নতুন নয়। নিয়মিত ব্যায়াম করা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, চাপ বা উদ্বেগ (স্ট্রেস) কমানো, ভালো ঘুম, ইতিবাচক সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা করা, ধূমপান না করা, অতিরিক্ত পানাহার না করা এবং মাদকে আসক্ত না হওয়া।


৪০-৯৯ বছর বয়সী ৭ লাখ ২০ হাজার সামরিক বাহিনীর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানুষের ওপর এই গবেষণাটি করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, কোনো পুরুষ যদি এই ৮টি অভ্যাসের অন্তত ১টি ৪০ বছর বয়স থেকে মেনে চলা শুরু করেন, তাহলেও তিনি বাড়তি ৪.৫ বছর বাঁচেন। ৩টি অভ্যাস রপ্ত করতে পারলে এটি বেড়ে ৮.৬ বছর পর্যন্ত হতে পারে।


নারীদের ক্ষেত্রেও প্রায় একই ফলাফল পাওয়া গেছে। যদিও পুরুষের তুলনায় নারীদের কিছুটা তারতম্য রয়েছে। অন্তত ১টি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে নারীদের জীবন বাড়ে ৩.৫ বছর, ২টি মেনে চললে বাড়ে ৮ বছর আর ৩টি মেনে চললে বাড়ে ১২.৬ বছর।


অভ্যাসগুলো কী কী


মানুষের দীর্ঘায়ুতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে, এমন ৮টি জীবনাচরণের ক্রম করা হয়েছে গবেষণাটিতে।


১. তালিকার প্রথমেই আছে ব্যায়াম। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্বাস্থ্যের জন্য ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নুয়েন বলেন, যারা ব্যায়াম করেন না, তাদের তুলনায় যারা ব্যায়াম করেন তাদের যেকোনো কারণে মৃত্যুঝুঁকি ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত কম থাকে।


অন্যান্য গবেষণায় ফলাফলের সঙ্গেও এর মিল রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, সুস্বাস্থ্যের জন্য খুব কঠিন খেলা বা ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। বরং কঠিন ব্যায়াম শরীরের ক্ষতিও করতে পারে।


২. দীর্ঘ জীবনের জন্য দ্বিতীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মাদকাসক্ত না হওয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, মাদকসক্ত না হলে মৃত্যুঝুঁকি কমে ৩৮ শতাংশ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। বিশ্বের অনেক দেশেই, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে।


৩. গবেষণাটিতে দেখা গেছে, কখনো তামাক গ্রহণ না করলে মৃত্যুঝুঁকি কমে ২৯ শতাংশ। যিনি আগে ধূমপান করতেন, তার জন্য এই মৃত্যুঝুঁকির হার প্রযোজ্য নয়। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলেছেন, জীবনের যেকোনো পর্যায়ে ধূমপান ছাড়লেই এর ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়।


৪. দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ তালিকার চতুর্থ অবস্থানে আছে। গবেষণায় দেখা গেছে, দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে মৃত্যুঝুঁকি কমে ২২ শতাংশ। মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর দুশ্চিন্তার মারাত্মক প্রভাব রয়েছে।


৫. গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবার গ্রহণ করলে দীর্ঘজীবন পাওয়ার সম্ভাবনা ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। নুয়েন বলেন, তবে এর অর্থ এই নয় যে আপনাকে পুরোপুরি নিরামিষভোজী হতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করাটাই মুখ্য।


৬. অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পরিহার করা আরেকটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। দিনে ৪টির বেশি অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পান না করলে মৃত্যুঝুঁকি ১৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।


৭. গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত পর্যাপ্ত ও ভালো ঘুম ১৮ শতাংশ মৃত্যুঝুঁকি কমায়। বহু গবেষণাতেই অপর্যাপ্ত ঘুমের সঙ্গে স্বাস্থ্যহানির সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অপর্যাপ্ত ঘুমের ফলে অনেক সময় অল্প বয়সে মৃত্যুর মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।


৮. ইতিবাচক সামাজিক সম্পর্ক দীর্ঘজীবন পাওয়ার সম্ভাবনা ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাকীত্ব ও বিচ্ছিন্ন অবস্থা বিশেষ করে বয়ষ্ক জনগোষ্ঠির মধ্যে খুবই উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।


নুয়েন বলেন, '৫ শতাংশকে হয়তো কম মনে হতে পারে, কিন্তু প্রতিটি ছোট ছোট পদক্ষেপই উপকারী।'

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫৯ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫৯ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫৯ পিএম

অনেকেরই কাজের ফাঁকে বা মনের অজান্তে আঙুল 'মটকানো'-র অভ্যাস আছে। কাজের মাঝে একটানা টাইপ করতে করতে যখনই ক্লান্ত লাগে তখন আঙুল ফোটালে ‘কট’ করে এক ধরনের শব্দ হয়। এতে অদ্ভুত এক ধরনের শান্তি পাওয়া যায়। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন আঙুল ফোটানোর সময় অস্থিসন্ধির ভেতরে আসলে ঠিক কী ঘটে? 


‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,আমাদের প্রতিটি জয়েন্টে 'সাইনোভিয়াল ফ্লুইড' তরল থাকে। আঙুলে চাপ দিলে বা বাঁকালে এই তরলে বুদবুদ তৈরি হয়ে ফেটে যায়, যাকে ডাক্তারি ভাষায় 'ক্রিপিটেশন' বলা হয়। এই গ্যাস বাবল ফেটে যাওয়ার ফলেই শব্দ তৈরি হয়।


ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মাঝে মাঝে আঙুল ফোটালে বা হালকা শব্দ করলে জয়েন্ট বা হাড়ের কোনো বড় ক্ষতি হয় না। অনেকেই ক্লান্তি দূর করতে বা মানসিক তৃপ্তির জন্য আঙুল মটকান। কিন্তু চিকিৎসকরা বলেন, সবসময় নিয়মিত এটা না করলে ভয়ের কোনও কারণ নেই। এর সঙ্গে সরাসরি অস্থিসন্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্পর্ক নেই। তবে অনেক সময় দেখা যায় আঙুল ফাটাতে গিয়ে আঙুলে ব্যথা রয়েছে, সেটা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। 


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঝে মাঝে আঙুল ফাটানো ঠিক হলেও বদঅভ্যাসে পরিণত করলেই মুশকিল। অতিরিক্ত চাপ দিয়ে আঙুল মটকালে, খুব জোরে মোচড় দিলে বা অন্য কাউকে দিয়ে জোর করে ফোটালে লিগামেন্ট আলগা হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত এমন করার ফলে হাতের গ্রিপ বা আঁকড়ে ধরার শক্তি কমে যায়। এমনকি লিগামেন্টে আঘাত লাগার সম্ভাবনাও থাকে। তাই আঙুল মটকানোকে বদঅভ্যাসে পরিণত না করে নিয়ন্ত্রণে রাখাই ভালো। তবে যদি ব্যথা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিষয় : আঙুল

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৪ এএম
  • আপডেট : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৪ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৪ এএম

শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, বুক থেকে শোঁ শোঁ শব্দ হচ্ছে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে কাশি এ ধরনের উপসর্গকে অনেকেই সরাসরি অ্যাজমার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। কিন্তু সবসময় এর কারণ অ্যাজমা নয়। কখনও কখনও এসব উপসর্গের পেছনে থাকতে পারে হার্টের বা ফেইলিউর।


হৃদযন্ত্র ঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে না পারলে ফুসফুসে তরল জমতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও শোঁ শোঁ শব্দের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অনেক সময় ‘কার্ডিয়াক অ্যাজমা’ বলা হয়। তবে এটি প্রকৃত অর্থে অ্যাজমা নয়। হিন্দুস্তান টাইমসে কার্ডিওলজিস্ট ডা. বিনয় কুমার জানিয়েছেন, হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে হওয়া এসব উপসর্গকে সাধারণ অ্যাজমা ভেবে ভুল করা বিপজ্জনক হতে পারে।


ডা. বিনয় কুমারের মতে, কার্ডিয়াক অ্যাজমা কোনো আলাদা ধরনের অ্যাজমা নয়। বরং হার্ট ফেইলিউরের কারণে তৈরি হওয়া শ্বাসকষ্টের একটি অবস্থা। বিশেষ করে হৃদযন্ত্রের বাম পাশ দুর্বল হয়ে গেলে ফুসফুসে রক্ত ও তরল জমতে শুরু করতে পারে। রাতে শুয়ে পড়লে এই সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। ফলে রোগীর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, কাশি হয় এবং বুক থেকে শোঁ শোঁ শব্দ শোনা যেতে পারে। অর্থাৎ, উপসর্গগুলো দেখতে অ্যাজমার মতো হলেও মূল সমস্যা হতে পারে হৃদযন্ত্রে। 


সাধারণ অ্যাজমা থেকে কীভাবে আলাদা


সাধারণ অ্যাজমার ক্ষেত্রে শ্বাসনালিতে সংকোচন বা স্প্যাজম তৈরি হয়। ফলে বাতাস চলাচলের পথ সরু হয়ে যায় এবং শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার সময় শোঁ শোঁ শব্দ হতে পারে। অ্যালার্জি, পরাগরেণু, বায়ুদূষণ, ঋতু পরিবর্তন বা আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে অ্যাজমার সমস্যা বাড়তে পারে। আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াও শ্বাসনালি মাঝে মাঝে সংকুচিত হতে পারে। অন্যদিকে, কার্ডিয়াক অ্যাজমার মূল কারণ হলো হার্ট ফেইলিউর এবং ফুসফুসে তরল জমা হওয়া।


কার্ডিয়াক অ্যাজমার লক্ষণ 


কার্ডিয়াক অ্যাজমার উপসর্গ সাধারণ অ্যাজমার সঙ্গে অনেকটাই মিলে যেতে পারে। ফলে অনেক সময় এটি সহজে শনাক্ত করা যায় না।  লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—


> শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া


> বুক থেকে শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া


> দ্রুত শ্বাস নেয়া


> দীর্ঘস্থায়ী কাশি


> রক্ত মেশানো বা ফেনাযুক্ত কফ


> শ্বাস নেওয়ার সময় অস্বাভাবিক শব্দ হওয়া


> শুয়ে পড়লে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া


> রাতে ঘুম থেকে উঠে হাঁসফাঁস করে শ্বাস নেয়া


> ফুসফুসে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা


বিশেষ করে শ্বাসকষ্টের সঙ্গে পা ফুলে যাওয়া, বুকে অস্বস্তি বা ব্যথা কিংবা হৃদস্পন্দনের অনিয়ম থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। ডা. কুমারের পরামর্শ, এমন উপসর্গ থাকলে শুধু অ্যাজমা ধরে না নিয়ে হৃদযন্ত্র ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা উচিত।


কারা বেশি ঝুঁকিতে: যাদের হৃদরোগ বা হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বেশি, তাদের মধ্যে কার্ডিয়াক অ্যাজমার সম্ভাবনাও বেশি হতে পারে। ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—



> উচ্চ রক্তচাপ


> ডায়াবেটিস


> হৃদ্‌স্পন্দনের অনিয়ম


> হাইপোথাইরয়েডিজম


> অন্যান্য হৃদযন্ত্রের রোগ


সাবধানতা : কার্ডিয়াক অ্যাজমা যেহেতু হার্ট ফেইলিউরের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ডা. বিনয় কুমার হার্ট ভালো রাখতে যেসব পরামর্শ দিয়েছেন: 


> রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা।


> নিয়মিত শরীরচর্চা করুন এবং সুষম খাবার খান।


> চিকিৎসকের দেয়া হৃদযন্ত্রের ওষুধ নিয়মিত সেবন করুন।


> নিজের ইচ্ছায় ডাইইউরেটিক, রক্তচাপের ওষুধ বা অন্য কোনো হার্টের ওষুধ বন্ধ করবেন না।


> হার্ট ফেইলিউর বা শরীরে পানি জমার সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলুন।


> ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান থেকে দূরে থাকুন।


> চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।


> শ্বাসকষ্টকে হালকাভাবে নয়


শ্বাসকষ্ট, কাশি বা বুক থেকে শোঁ শোঁ শব্দ হলেই যে অ্যাজমা এমনটা ধরে নেয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে এসব উপসর্গের সঙ্গে পা ফুলে যাওয়া, বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি, হৃদস্পন্দনের অনিয়ম কিংবা শুয়ে পড়লে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা থাকলে হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা করানো জরুরি। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। 

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ পিএম

ঘরের ভেতরে বা অফিসে সুরক্ষিত থেকেও, প্রতিদিন অজান্তে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে চলেছে, সে বিষয়ে হয়ত অনেকেই সচেতন নয়।


আধুনিক কর্মব্যস্ত জীবনে সারাদিন মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার কিংবা এলইডি টিভির স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার কারণে, সেখান থেকে অনবরত নির্গত হচ্ছে এক ধরনের উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন দৃশ্যমান নীল আলো, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘ব্লু লাইট’ বা ‘হাই এনার্জি ভিজিবল (এইচইভি) লাইট নামে পরিচিত।


চর্মরোগ বিজ্ঞানীদের মতে, এই কৃত্রিম নীল আলো সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মতোই ত্বকের গভীর স্তর পর্যন্ত প্রবেশ করে অকাল বার্ধক্য এবং পিগমেন্টেশনের মতো দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিসাধন করছে।


স্ক্রিনের নীল আলো যেভাবে ত্বকের ক্ষতি করে


বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জার্নাল অফ ইনভেস্টিগেটিভ ডার্মাটোলজি’-তে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, ব্লু লাইট বা নীল আলো ত্বকের গভীরে ঢুকে কোষের ডিএনএ কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।


যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হসপিটালের কসমেটিক ও ক্লিনিক্যাল রিসার্চের পরিচালক ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জোশুয়া জেইচনার স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেল্থলাইন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করেন যে, “নীল আলোর কারণে ত্বকের ভেতরে ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ তৈরি হয়, যা প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকর ফ্রি-র‌্যাডিক্যাল উৎপন্ন করে। এই ফ্রি-র‌্যাডিক্যালগুলো ত্বকের টানটান ভাব ধরে রাখা প্রধান দুটি প্রোটিন ‘কোলাজেন’ এবং ‘ইলাস্টিন’ খুব দ্রুত ভেঙে ফেলে।


ফলে বয়স ৩০ পার হওয়ার আগেই মুখে বলিরেখা পড়া, চামড়া ঝুলে যাওয়া এবং এক ধরনের কালচে ছোপ ছোপ দাগ বা ‘ডিজিটাল পিগমেন্টেইশন’ দেখা দেয়।”


স্ক্রিনের আলো থেকে ত্বক সুরক্ষার ৪টি নিয়ম


মোবাইল ও ল্যাপটপের এই অদৃশ্য ক্ষতি থেকে ঘরের ভেতরেও ত্বককে নিরাপদ রাখতে এই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়মগুলো মেনে চলার পরামর্শ দেন।


জিঙ্ক অক্সাইডযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার


সাধারণ কেমিক্যাল সানস্ক্রিনগুলো মোবাইলের নীল আলো পুরোপুরি আটকাতে করতে পারে না।


ডা. জোশুয়া জেইচনারের মতে, “ঘরের ভেতরে থাকার সময়ও এমন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত যাতে ‘জিঙ্ক অক্সাইড’ বা ‘টাইটানিয়াম ডাইঅক্সাইড’ উপাদান থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘মিনারেল বা ফিজিক্যাল সানস্ক্রিন’ বলে এগুলোকে। এই উপাদানগুলো ত্বকের ওপর একটি অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করে আয়নার মতো ব্লু লাইটকে প্রতিফলিত করে বাইরে ফিরিয়ে দেয়।”


আয়রন অক্সাইড যুক্ত টিন্টেড সানস্ক্রিন, নীল আলো প্রতিরোধে বেশি কার্যকর।


অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সেরামের ব্যবহার


নীল আলোর কারণে তৈরি হওয়া ফ্রি-র‌্যাডিক্যালগুলোকে ধ্বংস করতে ত্বকে প্রতিদিন সকালে ভিটামিন-সি বা ভিটামিন-ই যুক্ত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সেরাম ব্যবহার করা উপকারী।


এই উপাদানগুলো ত্বকের কোষে এক ধরনের অদৃশ্য রক্ষাকবচ তৈরি করে কোলাজেন ভেঙে যাওয়া প্রতিরোধ করে। আর অকাল বার্ধক্যের ছাপ পড়তে দেয় না।


‘ডিভাইস’-এ নাইট মোড ও ডার্ক ফিল্টার চালু করা


শুধুমাত্র প্রসাধনী মাখাই যথেষ্ট নয়, সরাসরি উৎসের আলো কমানো প্রয়োজন।


প্রতিটি স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের সেটিংসে গিয়ে ‘নাইট লাইট’, ‘আই কমফোর্ট শিল্ড’ বা ‘ডার্ক মোড’ সার্বক্ষণিকভাবে চালু করে রাখা উচিত।


এগুলো স্ক্রিন থেকে বের হওয়া ক্ষতিকর নীল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যকে কমিয়ে একটি মৃদু হলুদ আলোতে রূপান্তর করে, যা চোখ এবং ত্বক উভয়ের জন্যই নিরাপদ।


কোষের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা ও পানি পানের নিয়ম


ডিজিটাল স্ক্রিন দীর্ঘ সময় ব্যবহারে ত্বক খুব দ্রুত তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা বা পানি হারিয়ে শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে।


এর প্রতিকারে মস্তিস্ক ও ত্বকের কোষ সতেজ রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ দূষণ দূর করতে সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করা আবশ্যক।


পরামর্শ


আধুনিক প্রযুক্তির যুগে মোবাইল বা ল্যাপটপ পুরোপুরি বর্জন করা সম্ভব নয়। তবে সচেতনতাই পারে এই ডিজিটাল ক্ষতির হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করতে।


‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজি’র চিকিৎসকদের মতে, স্ক্রিন থেকে অন্তত এক হাত বা ১২ থেকে ১৮ ইঞ্চি দূরত্ব বজায় রেখে, ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করা এবং স্ক্রিন টাইম কিছুটা পরিমিত করে এই ডিজিটাল ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।


বিষয় : ত্বক

সর্বশেষ সব খবর

মারওয়া খায়ের

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:১৪ পিএম

মারওয়া খায়েরের বাংলা শুনলে মনে হয়, সারাটা জীবন বুঝি বাংলাতেই কাটিয়েছেন। অথচ তাঁর জন্ম সৌদি আরবে, বেড়ে ওঠা যুক্তরাজ্যে। তারপরও কী সুন্দর ঝরঝরে বাংলা বলেন, গিটার বাজিয়ে পছন্দের বাংলা গানে সুর তোলেন। তাঁর গান কিংবা বাংলাচর্চা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলার মতো সময় অবশ্য পাওয়া গেল না।


কেননা কিছুক্ষণ পরই তাঁকে প্যাসেঞ্জার সার্ভিস এজেন্টদের (পিএসএ) প্রশিক্ষণ দিতে ছুটতে হবে। তার আগেই তাঁর পিএসএ থেকে প্রশিক্ষক হয়ে ওঠার গল্পটা শুনতে চাই।


২০১০ সালের দিকে ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকে চাকরি করতেন মারওয়া খায়ের। তার আগে ওষুধের দোকান আর মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানেও কাজ করেছেন। ব্যাংকে যোগ দেওয়ার পর ভেবেছিলেন, এই চাকরিতেই থিতু হবেন। কিন্তু ২০০৮–০৯ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে ব্যাংকিং খাতের চাকরিও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে নতুন কোনো পেশা খুঁজতে শুরু করেন।


সে সময় ডকল্যান্ডস লাইট রেলওয়েতে (ডিএলআর) কাজ করতেন এক বন্ধু। তিনিই মারওয়াকে রেলওয়েতে আবেদন করার পরামর্শ দেন। তুলনামূলক ভালো বেতন ও দীর্ঘমেয়াদি চাকরির নিশ্চয়তা তাঁকে এই পেশার প্রতি আগ্রহী করে।


আন্ডারগ্রাউন্ড, ওভারগ্রাউন্ড ও ডিএলআর—মূলত এই তিন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চলে লন্ডনের মেট্রোরেলব্যবস্থা। এর মধ্যে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে সংযুক্ত করেছে ৪৫টি স্টেশনে বিস্তৃত ডিএলআর। প্রায় ৪০ বছর আগে চালু হওয়া এই স্বয়ংক্রিয় রেলব্যবস্থা প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করে। স্বয়ংক্রিয় প্রতিটি ট্রেনে চালকের বদলে একজন করে পিএসএ থাকেন। প্রতিটি স্টেশনে ট্রেন থামার পর আবার যাত্রা শুরুর আগে দরজা নিরাপদে বন্ধ করা এবং ট্রেনকে পরবর্তী যাত্রার জন্য প্রস্তুত করা পিএসএর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পাশাপাশি যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও কাস্টমার সার্ভিস দেওয়াও তাঁর কাজের অংশ। ট্রেনে নিয়মিত ঘোষণা দেওয়া, যাত্রীদের গন্তব্য খুঁজে পেতে সহায়তা করা, ম্যাপ বুঝিয়ে দেওয়া—এসবও করতে হয়। 


লন্ডনে বিভিন্ন দেশের মানুষ বসবাস করেন, পর্যটকের সংখ্যাও কম নয়। বিশেষ করে ইস্ট লন্ডনে অনেক যাত্রী আছেন, যাঁদের কেউ কেউ ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দ নন কিংবা লন্ডনের ম্যাপ বুঝতে সমস্যায় পড়েন। তাঁদের গন্তব্যে যাওয়ার পথ বুঝিয়ে দেওয়াও প্যাসেঞ্জার সার্ভিস এজেন্টের দায়িত্ব। খোঁজখবর নিয়েই ডিএলআর পদে আবেদন করেন মারওয়া। ‘এখানে কাজ করতে টেকনিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড বাধ্যতামূলক নয়। প্রয়োজনীয় সবকিছুই চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শেখানো হয়,’ বলছিলেন মারওয়া।


প্রায় চার মাসের প্রশিক্ষণ। এরপর আরও দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন। এ সময় লিখিত ও ব্যবহারিক—দুই ধরনের পরীক্ষাই দিতে হয়। সব ধাপ সফলভাবে শেষ করার পর মেলে ট্রেন পরিচালনার লাইসেন্স। ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএলআরে ট্রেন অপারেটর হিসেবে যোগ দেন মারওয়া।


প্যারালিম্পিক মশাল বহনকারী ট্রেন

রেলওয়েতে কাজ করার সিদ্ধান্তটা অবশ্য সহজ ছিল না। সবচেয়ে বড় বাধাটি নিজের পরিবার থেকেই এসেছিল। পরিবারের ধারণা ছিল, এটা ছেলেদের কাজ। মেয়েরা এ ধরনের কাজ করে না। একসময় পরিবারের মনোভাব বদলে যায়। তাঁরাই এখন মারওয়ার সবচেয়ে বড় সমর্থক।


চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরের বছরই মারওয়ার কর্মজীবনে আসে স্মরণীয় এক মুহূর্ত। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের সময় ক্যানারি ওয়ার্ফ থেকে প্যারালিম্পিক মশাল বহন করে স্ট্র্যাটফোর্ডে নিয়ে যাওয়া ডিএলআর ট্রেনটির অপারেটর হিসেবে তাঁকে নির্বাচিত করা হয়।


অনেক পিএসএর মধ্য থেকে মারওয়াকে বেছে নেওয়ার কারণ—যাত্রীদের উদ্দেশে তাঁর ঘোষণা দেওয়ার ধরন। তাঁর ঘোষণার কণ্ঠস্বর তত দিনে বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছিল। প্যারালিম্পিক মশাল বহনের সেই বিশেষ যাত্রায় বিবিসিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম উপস্থিত ছিল। যাত্রার বিভিন্ন মুহূর্ত ধারণ করার পাশাপাশি ডিএলআরের প্রতিনিধিত্বকারী কণ্ঠ হিসেবে মারওয়ার ঘোষণাও সেই আয়োজনের অংশ হয়ে ওঠে।


মারওয়ার সেই কণ্ঠ এখনো ডিএলআরের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে। ট্রেন অপারেটরদের জন্য তৈরি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ভিডিওতে পরিচালন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার বর্ণনা তাঁর কণ্ঠে রেকর্ড করা হয়েছে।


ম্যানুয়াল ড্রাইভিংয়ের দিনগুলো

‘আমি যখন পিএসএ হিসেবে কাজ করতাম, তখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ সিগন্যালিং সিস্টেম,’ বলেন মারওয়া। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকের আগে ডিএলআরের সিগন্যালিং ব্যবস্থা ছিল খুবই অনির্ভরযোগ্য। এমনও হয়েছে, সিগন্যালিং-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে দিনে পাঁচ-ছয়বার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে ম্যানুয়ালি ট্রেন চালাতে হয়েছে। পরে অলিম্পিকের সময় সিগন্যালিং ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিনিয়োগ করা হয়। এরপর সিস্টেম হয়ে ওঠে অনেক নির্ভরযোগ্য।


ম্যানুয়ালি ট্রেন চালানোর অভিজ্ঞতা মারওয়ার কাছে একদিকে ছিল রোমাঞ্চকর, অন্যদিকে চ্যালেঞ্জেরও। ইচ্ছা করলেই ম্যানুয়াল মোডে যাওয়া যায় না। অনুমতি ও নির্দেশনা নিয়ে নির্দিষ্ট স্টেশন থেকে নির্দিষ্ট স্টেশন পর্যন্ত ট্রেন চালাতে হয়।


সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল যাত্রীদের সামলানো। এসব ট্রেনে চালকের জন্য আলাদা কোনো কেবিন নেই। ফলে যাত্রীরা সরাসরি চালকের কাছে এসে কথা বলতে পারেন। কিন্তু ম্যানুয়াল ড্রাইভিংয়ের সময় চালককে পুরো মনোযোগ সামনের দিকে রাখতে হয়। ‘তাই আমরা আগে থেকেই ঘোষণা দিয়ে যাত্রীদের জানিয়ে দিতাম যে ট্রেনটি এখন ম্যানুয়াল মোডে চলছে। তাঁদের অনুরোধ করতাম, যেন আমাদের সঙ্গে কথা বলে বা প্রশ্ন করে মনোযোগে ব্যাঘাত না ঘটান। একই সঙ্গে জানিয়ে দিতাম, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার তুলনায় ট্রেনের গতি কিছুটা কম থাকবে এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগবে।’


তারপরও অনেক যাত্রী এসে প্রশ্ন করতেন—ট্রেন এত ধীরে চলছে কেন, আরও দ্রুত চালানো যাচ্ছে না কেন। তাঁদের হয়তো কোথাও পৌঁছানোর তাড়া। কিন্তু চালকের কাছে তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল নিরাপত্তা।


রেলওয়ের কাজ করতে গেলে নানা ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এর মধ্যে কখনো কেউ ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী ট্রেন সরিয়ে নেওয়া বা রিভার্স করার মতো কঠিন দায়িত্বও পিএসএকে পালন করতে হয়। ‘আমার কয়েকজন সহকর্মী এমন ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁরা তখন এতটাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে আমাকে নিয়ে গিয়ে ট্রেনটি সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়।’


অপারেটর থেকে প্রশিক্ষক

চার বছর ট্রেন পরিচালনার পর নতুন দায়িত্ব পান মারওয়া—অপারেটরদের প্রশিক্ষক। কাজটি ভিন্ন। এত দিন নিজে যে দায়িত্ব পালন করেছেন, এখন অন্য একজনকে সেই দায়িত্ব পালনের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। ‘নতুন এই পেশায় টিকে থাকতে আমাকে আরও কর্তৃত্বপূর্ণ হতে হয়েছে। বিশেষ করে আমার বয়স এবং আমি একজন নারী—এই দুটি কারণে,’ বলেন মারওয়া।


পুরুষ-প্রধান কর্মপরিবেশে কখনো কখনো সরাসরি প্রতিরোধের মুখেও পড়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নারীর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হবে—শুধু এই কারণে কোর্স ছেড়ে দিয়েছিলেন দুজন প্রশিক্ষণার্থী। আরেকজন তাঁকে সরাসরি বলেছিলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে ছেড়ে দিয়েছি, কারণ আমি চাই না কোনো নারী আমাকে কী করতে হবে, তা বলে দিক।’ এসব অভিজ্ঞতা কষ্ট দিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে। শিখেছেন কোথায় সীমারেখা টানতে হয় এবং কীভাবে নিজের অবস্থানে অটল থাকতে হয়।


বর্তমানে মারওয়া ডিএলআরের একজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক। তাঁর দাবি, তাঁর বিভাগে কর্মরত প্রায় তিন-চতুর্থাংশ অপারেটর কোনো না কোনো সময়ে তাঁর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।


শিকড় সিলেটে

মারওয়ার দাদাবাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায়। সুযোগ পেলেই দেশে যান। সর্বশেষ গত অক্টোবরে ঘুরে গেছেন। তবে দেশের মেট্রোরেলে এখনো ওঠা হয়নি—এ নিয়ে তাঁর আক্ষেপ আছে।


তাঁর বাবা প্রকৌশলী হিসেবে পেশা জীবনের বড় সময় কাটিয়েছেন সৌদি আরবে। খুব অল্প বয়সে লেখাপড়ার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। দক্ষিণ লন্ডনের বিভিন্ন স্কুল ও সিক্সথ ফর্ম কলেজে পড়াশোনা করেছেন। পরে নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পড়াশোনা শুরু করেন। চাকরির পাশাপাশি এখনো সেই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানই এই শিক্ষার ব্যয় বহন করছে।


চার বোনের পরিবারে বেড়ে ওঠা মারওয়া মনে করেন, তাঁর আজকের অবস্থানের পেছনে মা-বাবার বড় অবদান রয়েছে। মেয়েদের জন্য সুযোগ তৈরিতে তাঁরা কখনো ছেলে-মেয়ের পার্থক্য করেননি। পড়াশোনার পাশাপাশি গান, বাদ্যযন্ত্রসহ নানা বিষয়ে আগ্রহী হওয়ার সুযোগও দিয়েছেন তাঁরা।


তিনি চান, নতুন প্রজন্মের ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মেয়েরা প্রচলিত কয়েকটি পেশার বাইরেও নিজেদের ভবিষ্যৎ দেখতে শিখুক। ডাক্তার, শিক্ষক কিংবা সংসারের গণ্ডির বাইরেও যে রেলওয়ে, প্রকৌশল, প্রযুক্তিসহ অসংখ্য পেশা তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছে—সেটা তাঁরা জানুক।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:০০ পিএম

বর্তমানে ভারতীয় উপমহাদেশে পুরুষদের মধ্যে একটি নীরব জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হচ্ছে, যা মূলত সামাজিক লজ্জা এবং রোগ লুকিয়ে রাখার মানসিকতার আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। 


ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে শীর্ষ ১০টি ক্যানসারের একটি হয়ে উঠেছে প্রোস্টেট ক্যানসার। বিশেষ করে দিল্লি, বেঙ্গালুরু এবং মুম্বাইয়ের মতো মেগাসিটিগুলোতে এই রোগে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি।


সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, জাতীয় অনকোলজি রেজিস্ট্রিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে আক্রান্তদের মধ্যে ৬০ শতাংশেরও বেশি পুরুষের ক্ষেত্রে রোগটি একদম শেষ পর্যায়ে (মেটাস্ট্যাটিক স্টেজ) গিয়ে ধরা পড়ে। পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় এই চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো, কারণ সেখানে নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে শুরুতেই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়। 


সাধারণত ডায়াবেটিস, মেটাবলিক সিন্ড্রোম বা হার্টের স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যাপক সচেতনতা থাকলেও, পুরুষদের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করার এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটি এখনো উপেক্ষিত রয়ে গেছে। 


৪৫ বছর পার হওয়ার পর প্রস্রাবের অভ্যাস বা যৌন স্বাস্থ্যের যেকোনো পরিবর্তনকে বেশিরভাগ পুরুষই ‘বয়স বাড়ার সাধারণ লক্ষণ’ বলে উড়িয়ে দেন। 


চিকিৎসকদের মতে, এই ভুল ধারণার কারণেই রোগীরা সঠিক সময়ে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে দেশটির শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকেরা এই ট্যাবু ভেঙে পুরুষদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় একটি বিজ্ঞানসম্মত গাইডলাইন দিয়েছেন। 


প্রোস্টেটের ৩টি বিপজ্জনক লক্ষণ 


ফোর্টিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর ইউরোলজি এবং রোবোটিক ইউরোলজিক্যাল সার্জারির প্রধান ও পরিচালক ডক্টর বিক্রম শর্মা বলেন, ‘পুরুষেরা চিকিৎসকদের কাছেও প্রস্রাব বা যৌন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে কথা বলতে দ্বিধা করেন। এই নীরবতাই রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাকে পিছিয়ে দেয়।’ 


তিনি মূলত ৩টি প্রধান লক্ষণের দিকে নজর দিতে বলেছেন:


১. রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া 


রাতে ঘুমানোর পর বারবার প্রস্রাবের জন্য জেগে ওঠাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘নকচুরিয়া’ বলা হয়। এটি প্রোস্টেটের সমস্যার প্রথম এবং অন্যতম প্রধান লক্ষণ। অনেকেই এটিকে রাতে বেশি পানি খাওয়া বা বয়স বাড়ার স্বাভাবিক ফল মনে করেন। 


চিকিৎসকের ব্যাখ্যা: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যাটি মূলত ‘বিনাইন প্রোস্টেটিক হাইপারপ্লাজিয়া’ বা প্রোস্টেটের স্থানীয় টিউমারের কারণে হতে পারে।


ইউরোলজি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, এর ফলে ঘুম ভেঙে যায়, যা সারাদিনের কাজের ক্ষতি করে এবং মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। প্রোস্টেট গ্রন্থি আকারে বড় হয়ে গেলে তা মূত্রনালীকে সংকুচিত করে ফেলে, ফলে মূত্রথলিকে দ্বিগুণ শক্তিতে কাজ করতে হয়। একপর্যায়ে মূত্রথলির দেয়াল সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং সামান্য প্রস্রাব জমলেই তীব্র বেগ অনুভূত হয়। এটি ক্যানসার নাকি সাধারণ টিউমার-তা কেবল একজন ইউরোলজিস্টই নিশ্চিত করতে পারেন।


২. দুর্বল, ধীর বা থেমে থেমে প্রস্রাব হওয়া


একটি সুস্থ মূত্রথলি খুব সহজেই এবং তীব্র গতিতে একবারে খালি হয়ে যায়। কিন্তু যদি প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়, প্রস্রাব শুরু করতে অতিরিক্ত চাপ দিতে হয় বা শেষ হওয়ার পর ফোঁটা ফোঁটা পড়তে থাকে, তবে বুঝতে হবে মূত্রনালীর স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।


চিকিৎসকের ব্যাখ্যা: দ্য জার্নাল অব ইউরোলজি-তে প্রকাশিত দীর্ঘমেয়াদী তথ্য অনুসারে, প্রোস্টেটের প্রতিবন্ধকতার কারণে মূত্রথলিতে দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব জমে থাকলে বারবার ইউটিআই বা প্রস্রাবের ইনফেকশন, মূত্রথলিতে পাথর এবং কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এই লক্ষণ অবহেলা করলে মূত্রথলির পেশি চিরতরে তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে।


৩. হঠাৎ বা ক্রমাগত যৌন অক্ষমতা 


ক্যানসারের ভয়, নপুংসকতা বা অপারেশনের আতঙ্কে পুরুষেরা স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করাতে চান না। চিকিৎসকদের মতে, যৌন অক্ষমতা বা ইডি-কে কেবল মানসিক সমস্যা বা হার্টের রোগ ভেবে ভুল করা যাবে না; এটি প্রোস্টেটের মারাত্মক ক্ষতির সংকেত হতে পারে। 


চিকিৎসকের ব্যাখ্যা: প্রোস্টেট গ্রন্থিটি পুরুষাঙ্গের উত্থানের জন্য দায়ী সূক্ষ্ম স্নায়ু এবং রক্তনালীগুলোর খুব কাছাকাছি থাকে। ফলে প্রোস্টেটে টিউমার বা তীব্র প্রদাহ হলে রক্ত সঞ্চালন এবং স্নায়ুর সংকেত ব্যাহত হয়। 


ডক্টর বিক্রম শর্মা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে যৌনশক্তি বাড়ানোর ওষুধ খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে মূল সমস্যা বা টিউমারের বৃদ্ধি আড়ালে পড়ে যায় এবং সংকট আরও ঘনীভূত হয়। 


কেন ৪৫ বছরের পর নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি?


ভারতে প্রোস্টেট চিকিৎসার উন্নত সুযোগ থাকলেও, রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বড় বাধা হলো পুরুষের মানসিক জড়তা। ডক্টর শর্মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘লক্ষণ দেখা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। ৪৫ বছর পার হলেই, বিশেষ করে যাদের পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস আছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শে পিএসএ পরীক্ষা করা উচিত।’ 


একটি সাধারণ পিএসএ রক্ত পরীক্ষা এবং ডিআরই-এর মাধ্যমেই প্রাথমিক পর্যায়ে প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব। 


প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়লে আক্রান্তদের ৫ বছর বেঁচে থাকার হার প্রায় ৬০ শতাংশ। কিন্তু লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর রোগটি প্রোস্টেটের বাইরে ছড়িয়ে পড়লে উন্নত রোবোটিক সার্জারি বা আধুনিক থেরাপির কার্যকারিতাও সীমিত হয়ে পড়ে। 


তাই শরীর কোনো সংকেত দিলে তা লুকিয়ে না রেখে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সচেতনতাই পারে এই নীরব ঘাতকের হাত থেকে পুরুষদের জীবন রক্ষা করতে। 


সূত্র: এনডিটিভি 

সর্বশেষ সব খবর