সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : সোমবার ১৫ জুন, ২০২৬, সময় : ২:৪৬ এএম

ভালোবাসার জন্য বিয়ে করা উচিত-এই প্রচলিত ধারণাকে অনেকেই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্য হিসেবে দেখে থাকেন। 


কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কে আইনজীবী হিসেবে কাজ করা এক ডিভোর্স অ্যাটর্নি লেনা নগুয়েন এই মতের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তার মতে, বিয়ে শুধু আবেগের সম্পর্ক নয়, বরং এটি একটি বাস্তবিক ও আর্থিক চুক্তিও।


তিনি একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে বলেন, ‘ভালোবাসার জন্য নয়, আর্থিক স্থিতিশীলতা বিবেচনা করে বিয়ে করা উচিত।’ তার এই মন্তব্য বিতর্ক তৈরি করলেও তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিন আদালতে বিচ্ছেদ, পারিবারিক ভাঙন এবং আর্থিক সংকটের মামলা দেখতে গিয়ে তিনি বাস্তব জীবনের কঠিন দিকগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন।


তার ব্যাখ্যায়, মানুষ সাধারণত বিয়েকে আবেগনির্ভর সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখে এবং অর্থনৈতিক দিকটি উপেক্ষা করে। সিনেমা বা রোমান্টিক গল্পে এটি সুন্দর শোনালেও বাস্তবে আর্থিক চাপ অনেক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, ভালোবাসা গুরুত্বপূর্ণ হলেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া সংসার টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।


সন্তানদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, শিশুরা তাদের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করে। তারা দেখে কারা ভালো শিক্ষা, ভ্রমণ বা অতিরিক্ত সুযোগ পাচ্ছে এবং কারা পাচ্ছে না। তাই শুধু ভালোবাসা থাকলেই সন্তানের সব চাহিদা বা স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব হয় না; এর জন্য আর্থিক সক্ষমতাও প্রয়োজন।


তার মতে, সন্তানদের স্বপ্ন পূরণে শুধু আবেগ যথেষ্ট নয়, বাস্তব জীবনে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বড় ভূমিকা রাখে। ভালোবাসা থাকলেও যদি প্রয়োজনীয় সম্পদ না থাকে, তাহলে অনেক সম্ভাবনাই সীমিত হয়ে যায়।


তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, তার বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে শুধুমাত্র টাকার জন্য বিয়ে করা উচিত। বরং জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার সময় আর্থিক অবস্থার সামঞ্জস্যকেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। তার ভাষায়, শুধু ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সবসময় বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে।


সবশেষে তিনি বলেন, টাকা সব সুখ কিনে দিতে না পারলেও এটি জীবনকে অনেক বেশি সহজ ও স্থিতিশীল করে তোলে। তাই বিয়ের সিদ্ধান্তে আবেগের পাশাপাশি বাস্তবতা ও আর্থিক দিক বিবেচনা করা জরুরি।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:০০ পিএম

বর্তমানে ভারতীয় উপমহাদেশে পুরুষদের মধ্যে একটি নীরব জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হচ্ছে, যা মূলত সামাজিক লজ্জা এবং রোগ লুকিয়ে রাখার মানসিকতার আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। 


ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে শীর্ষ ১০টি ক্যানসারের একটি হয়ে উঠেছে প্রোস্টেট ক্যানসার। বিশেষ করে দিল্লি, বেঙ্গালুরু এবং মুম্বাইয়ের মতো মেগাসিটিগুলোতে এই রোগে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি।


সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, জাতীয় অনকোলজি রেজিস্ট্রিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে আক্রান্তদের মধ্যে ৬০ শতাংশেরও বেশি পুরুষের ক্ষেত্রে রোগটি একদম শেষ পর্যায়ে (মেটাস্ট্যাটিক স্টেজ) গিয়ে ধরা পড়ে। পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় এই চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো, কারণ সেখানে নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে শুরুতেই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়। 


সাধারণত ডায়াবেটিস, মেটাবলিক সিন্ড্রোম বা হার্টের স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যাপক সচেতনতা থাকলেও, পুরুষদের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করার এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটি এখনো উপেক্ষিত রয়ে গেছে। 


৪৫ বছর পার হওয়ার পর প্রস্রাবের অভ্যাস বা যৌন স্বাস্থ্যের যেকোনো পরিবর্তনকে বেশিরভাগ পুরুষই ‘বয়স বাড়ার সাধারণ লক্ষণ’ বলে উড়িয়ে দেন। 


চিকিৎসকদের মতে, এই ভুল ধারণার কারণেই রোগীরা সঠিক সময়ে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে দেশটির শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকেরা এই ট্যাবু ভেঙে পুরুষদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় একটি বিজ্ঞানসম্মত গাইডলাইন দিয়েছেন। 


প্রোস্টেটের ৩টি বিপজ্জনক লক্ষণ 


ফোর্টিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর ইউরোলজি এবং রোবোটিক ইউরোলজিক্যাল সার্জারির প্রধান ও পরিচালক ডক্টর বিক্রম শর্মা বলেন, ‘পুরুষেরা চিকিৎসকদের কাছেও প্রস্রাব বা যৌন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে কথা বলতে দ্বিধা করেন। এই নীরবতাই রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাকে পিছিয়ে দেয়।’ 


তিনি মূলত ৩টি প্রধান লক্ষণের দিকে নজর দিতে বলেছেন:


১. রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া 


রাতে ঘুমানোর পর বারবার প্রস্রাবের জন্য জেগে ওঠাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘নকচুরিয়া’ বলা হয়। এটি প্রোস্টেটের সমস্যার প্রথম এবং অন্যতম প্রধান লক্ষণ। অনেকেই এটিকে রাতে বেশি পানি খাওয়া বা বয়স বাড়ার স্বাভাবিক ফল মনে করেন। 


চিকিৎসকের ব্যাখ্যা: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যাটি মূলত ‘বিনাইন প্রোস্টেটিক হাইপারপ্লাজিয়া’ বা প্রোস্টেটের স্থানীয় টিউমারের কারণে হতে পারে।


ইউরোলজি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, এর ফলে ঘুম ভেঙে যায়, যা সারাদিনের কাজের ক্ষতি করে এবং মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। প্রোস্টেট গ্রন্থি আকারে বড় হয়ে গেলে তা মূত্রনালীকে সংকুচিত করে ফেলে, ফলে মূত্রথলিকে দ্বিগুণ শক্তিতে কাজ করতে হয়। একপর্যায়ে মূত্রথলির দেয়াল সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং সামান্য প্রস্রাব জমলেই তীব্র বেগ অনুভূত হয়। এটি ক্যানসার নাকি সাধারণ টিউমার-তা কেবল একজন ইউরোলজিস্টই নিশ্চিত করতে পারেন।


২. দুর্বল, ধীর বা থেমে থেমে প্রস্রাব হওয়া


একটি সুস্থ মূত্রথলি খুব সহজেই এবং তীব্র গতিতে একবারে খালি হয়ে যায়। কিন্তু যদি প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়, প্রস্রাব শুরু করতে অতিরিক্ত চাপ দিতে হয় বা শেষ হওয়ার পর ফোঁটা ফোঁটা পড়তে থাকে, তবে বুঝতে হবে মূত্রনালীর স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।


চিকিৎসকের ব্যাখ্যা: দ্য জার্নাল অব ইউরোলজি-তে প্রকাশিত দীর্ঘমেয়াদী তথ্য অনুসারে, প্রোস্টেটের প্রতিবন্ধকতার কারণে মূত্রথলিতে দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব জমে থাকলে বারবার ইউটিআই বা প্রস্রাবের ইনফেকশন, মূত্রথলিতে পাথর এবং কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এই লক্ষণ অবহেলা করলে মূত্রথলির পেশি চিরতরে তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে।


৩. হঠাৎ বা ক্রমাগত যৌন অক্ষমতা 


ক্যানসারের ভয়, নপুংসকতা বা অপারেশনের আতঙ্কে পুরুষেরা স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করাতে চান না। চিকিৎসকদের মতে, যৌন অক্ষমতা বা ইডি-কে কেবল মানসিক সমস্যা বা হার্টের রোগ ভেবে ভুল করা যাবে না; এটি প্রোস্টেটের মারাত্মক ক্ষতির সংকেত হতে পারে। 


চিকিৎসকের ব্যাখ্যা: প্রোস্টেট গ্রন্থিটি পুরুষাঙ্গের উত্থানের জন্য দায়ী সূক্ষ্ম স্নায়ু এবং রক্তনালীগুলোর খুব কাছাকাছি থাকে। ফলে প্রোস্টেটে টিউমার বা তীব্র প্রদাহ হলে রক্ত সঞ্চালন এবং স্নায়ুর সংকেত ব্যাহত হয়। 


ডক্টর বিক্রম শর্মা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে যৌনশক্তি বাড়ানোর ওষুধ খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে মূল সমস্যা বা টিউমারের বৃদ্ধি আড়ালে পড়ে যায় এবং সংকট আরও ঘনীভূত হয়। 


কেন ৪৫ বছরের পর নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি?


ভারতে প্রোস্টেট চিকিৎসার উন্নত সুযোগ থাকলেও, রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বড় বাধা হলো পুরুষের মানসিক জড়তা। ডক্টর শর্মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘লক্ষণ দেখা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। ৪৫ বছর পার হলেই, বিশেষ করে যাদের পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস আছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শে পিএসএ পরীক্ষা করা উচিত।’ 


একটি সাধারণ পিএসএ রক্ত পরীক্ষা এবং ডিআরই-এর মাধ্যমেই প্রাথমিক পর্যায়ে প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব। 


প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়লে আক্রান্তদের ৫ বছর বেঁচে থাকার হার প্রায় ৬০ শতাংশ। কিন্তু লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর রোগটি প্রোস্টেটের বাইরে ছড়িয়ে পড়লে উন্নত রোবোটিক সার্জারি বা আধুনিক থেরাপির কার্যকারিতাও সীমিত হয়ে পড়ে। 


তাই শরীর কোনো সংকেত দিলে তা লুকিয়ে না রেখে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সচেতনতাই পারে এই নীরব ঘাতকের হাত থেকে পুরুষদের জীবন রক্ষা করতে। 


সূত্র: এনডিটিভি 

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১২ পিএম

বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই কম্পিউটার, মোবাইল অথবা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসে স্ক্রিন ব্যবহার করে। এআই আসার পর ডিজিটাল স্ক্রিন–নির্ভরতা আরও বাড়ছে।


যেমন চোখ শুষ্ক হয়ে আসে, চোখে জ্বালাপোড়া, চুলকানি দেখা দেয়, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে, মাথাব্যথা, ঘাড়ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। এটিকে বলা হয় কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম বা ডিজিটাল স্ক্রিন সিনড্রোম।


চোখের শুষ্কতা বা ড্রাই আই


চোখ খুবই স্পর্শকাতর একটি অঙ্গ। সম্মুখভাগে বিদ্যমান স্বচ্ছ পর্দা বা কর্নিয়া খুবই স্বচ্ছ এবং মসৃণ। এর প্রধান কাজ হলো চোখে আলো প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে দেখতে সাহায্য করা। স্বচ্ছতা ও মসৃণভাবের ব্যত্যয় ঘটলেই সমস্যা। কর্নিয়া মসৃণ রাখার জন্য চোখের পানির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


পলক ফেলার মাধ্যমে চক্ষুকোঠরে তৈরি হওয়া পানিকে চোখের উপরিভাগে সমভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটি করে চোখের পাতা। চোখের উপরিভাগে সমভাবে বিস্তৃত এই চোখের পানির স্তরকে বলে টিয়ার ফিল্ম। কোনো কারণে চোখের পানি কম তৈরি হলে বা টিয়ার ফিল্ম ক্ষতিগ্রস্ত হলে চোখে দেখা দেয় শুষ্কভাব। তখন চোখ জ্বালাপোড়া করে, দেখা দেয় চুলকানি ইত্যাদি উপসর্গ। এটিই শুষ্ক চোখ।


ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহারে কেন চোখে শুষ্কতা দেখা দেয়?


চোখের উপরিভাগে বিদ্যমান টিয়ার বা চোখের পানি স্বাভাবিক নিয়মে বাতাসে বাষ্পীভূত হয়ে যায়। সাথে সাথে কর্নিয়াতে বিদ্যমান স্নায়ুর মাধ্যমে সিগন্যাল যায় লেক্রিমাল গ্রন্থিতে, যা দ্রুত টিয়ার প্রবাহিত করে ঘাটতি পূরণ করে। এটি চোখের একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া। প্রতি মিনিটে ১৫-২০ বারের মতো পলক ফেলে টিয়ার ফিল্মকে সামলে রাখে চোখের পাতা।


ডিজিটাল স্ক্রিনে যখন চোখ থাকে, তখন চোখের পলক ফেলার হার অর্ধেকের বেশি কমে যায়। ফলে টিয়ার ফিল্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চোখে শুষ্কভাব অনুভূত হয়। শুষ্কতার প্রভাবে কর্নিয়ার স্নায়ু কোষগুলো জ্বালাপোড়া ও ব্যথার অনুভূতির সৃষ্টি করে। দীর্ঘক্ষণ অব্যাহত থাকলে একসময় এটি প্রচণ্ড অস্বস্তির জন্ম দেয় এবং কাজের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে।


করণীয় কী?


> চোখকে ডিজিটাল আই স্ট্রেইন থেকে নিরাপদ রাখতে কিছু কাজ অবশ্যকরণীয়।


> স্ক্রিনটি চোখের সমান্তরাল থেকে কিছুটা নিচুতে রাখতে হবে ।


> স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা চোখের জন্য আরামদায়ক হতে হবে।


> ২০ মিনিট পর পর বিরতি নিতে হবে।


> স্ক্রিনটি চোখের খুব কাছে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সাধারণত ২০-২৮ ইঞ্চি দূরে রাখা ভালো।


> চোখকে ভেজা রাখতে আর্টিফিশিয়াল টিয়ার ব্যবহার করতে হবে।


> অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিনের ব্যবহার সীমিত করতে হবে।


> জীবনশৈলী বা লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আনতে হবে।


> ঘুমের ঘাটতি রাখা যাবে না। রাতে স্ক্রিনের ব্যবহার উচিত নয়।


> ঘন ঘন পানি খেতে হবে।


> নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। ঘাড়ের ব্যায়াম করতে হবে।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৯ এএম
  • আপডেট : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৯ এএম


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৯ এএম

থাইরয়েডের সমস্যা এখন অনেকের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। শরীরের ওজন হঠাৎ বেড়ে বা কমে যাওয়া, সবসময় ক্লান্ত লাগা, চুল পড়া, মাসিক অনিয়ম কিংবা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে থাইরয়েডের সমস্যা আছে কি না, তা নিয়ে সচেতন হওয়া দরকার।


থাইরয়েড হলো গলার সামনের দিকে থাকা ছোট, প্রজাপতির মতো একটি গ্রন্থি। এটি শরীরের শক্তি ব্যবহার, তাপমাত্রা, হৃদস্পন্দন, ওজনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। থাইরয়েড বেশি সক্রিয় হলে তাকে অতিসক্রিয় থাইরয়েড এবং কম সক্রিয় হলে স্বল্পসক্রিয় থাইরয়েড বলা হয়।


তবে ঘরে বসে থাইরয়েডের সমস্যা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায় না। আয়নার সামনে ঘাড় পরীক্ষা করে শুধু কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন বোঝা সম্ভব। নিশ্চিত হতে রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।


ঘরে বসে ঘাড় পরীক্ষা করবেন যেভাবে


বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, কয়েকটি সহজ ধাপে ঘাড় পরীক্ষা করা যায়।


প্রথমে আয়নার সামনে দাঁড়ান। ভালো আলোতে দাঁড়িয়ে গলার নিচের অংশ পরিষ্কারভাবে দেখুন। থাইরয়েডের জায়গাটি চিহ্নিত করুন। এটি চিবুকের নিচে ও কলারবোনের ওপরের দিকে গলার সামনের অংশে থাকে। ঘাড় সামান্য পেছনে হেলান। এরপর এক চুমুক পানি পান করুন। পানি গেলার সময় ঘাড়ের দিকে তাকান। গলার ওই অংশে কোনো ফোলা, পিণ্ড, উঁচু হয়ে থাকা জায়গা বা অস্বাভাবিক নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে কি না, খেয়াল করুন। কয়েকবার পানি পান করে একইভাবে দেখুন। কোনো অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


 থাইরয়েড কম কাজ করলে


থাইরয়েড কম সক্রিয় হলে শরীরের বিভিন্ন কাজ ধীর হয়ে যেতে পারে। তখন দেখা দিতে পারে—


> সবসময় ক্লান্ত বা দুর্বল লাগা


> কারণ ছাড়াই ওজন বেড়ে যাওয়া


> ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া


> চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা বেশি পড়া


> কোষ্ঠকাঠিন্য


> মন খারাপ বা বিষণ্নতা


> অন্যদের তুলনায় বেশি ঠান্ডা লাগা


> মাসিক অনিয়ম


> শরীরে শক্তি কমে যাওয়া


থাইরয়েড বেশি কাজ করলে


থাইরয়েড বেশি সক্রিয় হলে শরীরের অনেক কাজ দ্রুত হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে—


> কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া


> হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া


> অতিরিক্ত ঘাম হওয়া


> শরীর কাঁপা


> অস্থিরতা বা দুশ্চিন্তা


> ঘুমের সমস্যা


> গরম সহ্য না হওয়া


যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না


ঘাড়ে দৃশ্যমান ফোলা বা পিণ্ড দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। বিশেষ করে পিণ্ড দ্রুত বড় হতে থাকলে, খাবার বা পানি গিলতে সমস্যা হলে, গলায় চাপ বা ভার অনুভূত হলে, কণ্ঠস্বর বসে গেলে কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ঘাড়ে কোনো পিণ্ড দেখা গেলেই সেটি ক্যানসার—এমন নয়। থাইরয়েডের অনেক পিণ্ড ক্ষতিকর নয়। তবে পিণ্ডের ধরন জানতে চিকিৎসকের পরীক্ষা প্রয়োজন। প্রয়োজনে আল্ট্রাসনোগ্রাম ও কোষের পরীক্ষা করা হতে পারে।


কারা বেশি ঝুঁকিতে


থাইরয়েডের সমস্যা যে কারও হতে পারে। তবে নারীদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া ৬০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, পরিবারে থাইরয়েড রোগের ইতিহাস থাকা ব্যক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি এবং গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মের পরের সময়ে নারীদের ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে। শরীরে আয়োডিনের ঘাটতিও থাইরয়েড সমস্যার একটি কারণ হতে পারে।


কোন রক্ত পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়


শুধু ঘাড় দেখে বা লক্ষণ মিলিয়ে থাইরয়েডের সমস্যা নিশ্চিত করা যায় না। চিকিৎসকের পরামর্শে কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা করা হয়।


থাইরয়েড উদ্দীপক হরমোন পরীক্ষা: থাইরয়েড স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে কি না, তা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।


মুক্ত থাইরক্সিন পরীক্ষা: রক্তে সক্রিয় থাইরক্সিনের মাত্রা জানতে করা হয়।


মুক্ত ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন পরীক্ষা: বিশেষ করে থাইরয়েড বেশি সক্রিয় কি না, তা বুঝতে এই পরীক্ষা করা হতে পারে।


থাইরয়েড অ্যান্টিবডি পরীক্ষা: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাইরয়েডকে আক্রমণ করছে কি না, তা বোঝার জন্য করা হয়।


কোন পরীক্ষা প্রয়োজন এবং পরীক্ষার ফলাফলের অর্থ কী—তা চিকিৎসকই ঠিক করবেন।


ঘরে পরীক্ষা কেন যথেষ্ট নয়


ঘাড়ে কোনো ফোলা বা পিণ্ড না থাকলেও থাইরয়েডের সমস্যা থাকতে পারে। আবার ঘাড়ে সামান্য পরিবর্তন দেখা গেলেও সেটি থাইরয়েডের সমস্যা নাও হতে পারে। তাই ঘরে বসে করা পরীক্ষা শুধু প্রাথমিকভাবে সতর্ক হওয়ার একটি উপায়। কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্লান্তি, ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, মাসিকের অনিয়ম, চুল পড়া, হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পরিবারে থাইরয়েড রোগের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ।


শরীরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে সেটি দীর্ঘদিন অবহেলা না করাই ভালো। সময়মতো পরীক্ষা করলে থাইরয়েডের সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।

বিষয় : থাইরয়েড

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২৮ পিএম

বাঙালির খাবারের থালায় ধোঁয়া ওঠা এক বাটি ডাল ছাড়া যেন তৃপ্তি আসে না। সাধারণ ডাল-ভাত থেকে শুরু করে বিশেষ অনুষ্ঠানের জমকালো ‘ডাল মাখনি’; সবক্ষেত্রেই ডাল আমাদের খাবারের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সম্প্রতি এনডিটিভি ফুড-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে ডালকে আমাদের এই অঞ্চলের খাবারের ‘মেরুদণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। উদ্ভিদজাত আমিষ বা প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর জন্য এটি অন্যতম সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য উৎস।


তবে সব ধরনের ডালে পুষ্টির পরিমাণ এক নয়। ২০২৩ সালে ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন মাইক্রোবায়োলজি’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়েটে বড় কোনো পরিবর্তন না এনেই কেবল ডালের ধরনে সামান্য রদবদল করে শরীরের প্রোটিনের জোগান অনেকাংশে বাড়িয়ে তোলা সম্ভব।


শীর্ষ প্রোটিন সমৃদ্ধ ডালগুলোর তালিকা


গবেষণায় ১০০ গ্রাম কাঁচা ডালের পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণ করে একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী প্রোটিনের পরিমাণে এগিয়ে থাকা ডালগুলো হলো:


> মাষকলাই বা উরাদ ডাল: প্রোটিনের দৌড়ে এটি তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। এতে প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ২৫.২১ গ্রাম প্রোটিন থাকে।


> মসুর ডাল: প্রোটিনের পরিমাণে মাষকলাই ডালের প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে মসুর ডাল। এতে প্রতি ১০০ গ্রামে প্রোটিনের পরিমাণ ২৪.৬৩ গ্রাম। দ্রুত রান্না করা যায় বলে এটি দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় সবচেয়ে জনপ্রিয়।


> মুগ ডাল: এই ডালটিও প্রোটিনের চমৎকার উৎস, যাতে প্রতি ১০০ গ্রামে ২৩.৮৬ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়।


> রাজমা (কিডনি বিন): রাজমায় প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ২২.৫৩ গ্রাম।


> ছোলার ডাল: পুষ্টিবিদদের মতে এটিও অত্যন্ত পুষ্টিকর, যাতে ১০০ গ্রামে ২০.৪৭ গ্রাম প্রোটিন থাকে।


বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি: 



শরীরভেদে ডালের প্রভাব


পুষ্টি ও হরমোন বিশেষজ্ঞ ড. অলকা বিজয়ন মনে করেন, কেবল প্রোটিনের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ডাল নির্বাচন করা উচিত নয়। তার মতে, উরাদ ডাল এবং মসুর ডাল আমাদের শরীরে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে কাজ করে। এর মধ্যে মসুর ডাল লিভারের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং শরীরে পিত্তের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। এমনকি এটি নিয়মিত খেলে কিডনিতে পাথর এবং অনিয়মিত মাসিকের মতো সমস্যা সমাধানেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, উরাদ ডাল প্রাকৃতিকভাবে আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে। যারা হাড়ের সমস্যা যেমন অস্টিওপোরোসিস বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসে ভুগছেন, তাদের জন্য এই ডাল অত্যন্ত উপকারী। এটি রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতেও ভূমিকা রাখে।


পরিপূর্ণ প্রোটিন পেতে বিশেষ কৌশল


একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি যে, কোনো ডালই একা শরীরের জন্য ‘পরিপূর্ণ’ প্রোটিন সরবরাহ করতে পারে না। প্রোটিন তৈরি হয় ২০টি অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে, যার মধ্যে ৯টি আমাদের শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না। ডালের মধ্যে লাইসিন প্রচুর থাকলেও মেথিওনিন নামক প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিডের অভাব থাকে। অন্যদিকে ভাত বা আটার মতো শস্যে মেথিওনিন প্রচুর থাকলেও লাইসিন কম থাকে। এই অভাব দূর করতেই আমাদের চিরচেনা ডাল-ভাত বা ডাল-রুটি খাওয়ার চল তৈরি হয়েছে। যখন আমরা ডালের সাথে ভাত বা রুটি মিশিয়ে খাই, তখন সেই খাবারটি একটি ‘কমপ্লিট প্রোটিন’ বা পরিপূর্ণ আমিষে পরিণত হয়, যা শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৫৪ পিএম

ঘন ঘন ভুলে যাচ্ছেন? ডিমেনশিয়ার উপসর্গ মনে হলেও আদতে এটি ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি নয় তো? ভিটামিন বি১২ শরীরের একটি অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। কিন্তু মানবদেহ সরাসরি এই ভিটামিন উৎপাদন করতে না পারায় এর ঘাটতি দেখা দেওয়া খুবই স্বাভাবিক।


রক্তের গঠন ও স্নায়ুতন্ত্রকে সঠিকভাবে সচল রাখতে ভিটামিন বি১২ অপরিহার্য। যেহেতু মানবদেহ এটি নিজে তৈরি করতে পারে না, তাই আমাদের শরীরকে নির্ভর করতে হয় যথাযথ খাবার ও ফুড সাপ্লিমেন্টের ওপর। বিশেষ করে নিরামিষাশীদের মধ্যে এই ভিটামিনের ঘাটতি বেশি দেখা যায়; কারণ এটি ‘প্লান্টবেজড’ বা উদ্ভিদজাত উৎস থেকে সরাসরি পাওয়া যায় না। ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি শনাক্ত করতে অনেক সময় দেরি হয়ে যায়, কারণ এর প্রাথমিক উপসর্গগুলো ডিমেনশিয়ার লক্ষণের সঙ্গে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ।


কেন হয় এই সমস্যা?

ঘন ঘন সংশয়: কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বা মনোযোগ দিতে সংশয় তৈরি হওয়া ভিটামিন বি১২-এর অভাবের লক্ষণ। এই ভিটামিন সারা শরীরে অক্সিজেন সরবরাহকারী লোহিত রক্তকণিকাকে সক্রিয় রাখে। এর অভাবে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে বাধা পায়, ফলে মানসিক দ্বিধা বা সংশয় তৈরি হয়।


মুড সুইং বা বিষণ্নতা: যখন-তখন মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা মুড অফ হয়ে যাওয়া ভিটামিন বি১২-এর অভাবের সংকেত হতে পারে। দীর্ঘদিন এই ঘাটতি থাকলে তা থেকে বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন) হতে পারে। ভিটামিন বি১২-এর অভাবে শরীরে ‘হোমোসিস্টিন’-এর মাত্রা বেড়ে যায়, যা মস্তিষ্কের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।


মনোযোগের অভাব: কোনো কিছুতেই ঠিকমতো মন বসাতে না পারা, অথচ আগে এমন সমস্যা না থাকা–এটি শরীরে পুষ্টি উপাদানের অভাবের অন্যতম লক্ষণ। ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।


স্মৃতিভ্রংশ বা ভুলে যাওয়া: প্রায়ই কোনো জিনিস ভুলে যাওয়া বা কথা বলতে বলতে খেই হারিয়ে ফেলাকে শুরুতেই ডিমেনশিয়া বা বার্ধক্যজনিত রোগ ভেবে নেবেন না। ভিটামিন বি১২-এর অভাবও এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।



কী করবেন?


এই ধরনের উপসর্গগুলো দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এ ছাড়া ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, প্রচণ্ড দুর্বল লাগা বা আচমকা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব আপনার শরীরে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি আছে কিনা। 


চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুষম খাবার গ্রহণ বা ফুড সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে এই সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।। 

বিষয় : ভিটামিন

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:১১ এএম

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত নগরী কক্সবাজারে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে গ্লোবাল উইনার গ্রুপের অন্যতম সফল অঙ্গপ্রতিষ্ঠান “বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্ট” এর ৩ দিনব্যাপী ১ম বর্ষপূর্তি সম্মেলন ও উদযাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।


শুক্রবার কক্সবাজারের একটি ফাইভ স্টার হোটেল এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 


সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির সম্মানিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জনাব ইব্রাহিম খলিল এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) জনাব ফেরদৌসুর রহমান রুমী সহ মূল ৮ জন প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তাবৃন্দ, সম্মানিত পার্টনার এবং শেয়ারহোল্ডারগণ। 


অনুষ্ঠানটিকে আরও মহিমান্বিত করেন সম্মানিত অতিথিবৃন্দ; এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ‘নওরোজ’ পত্রিকার সম্পাদক এবং বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ডিআইজি।


৩ দিনব্যাপী এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণের মধ্যে ছিল প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের দক্ষতা বাড়াতে আয়োজিত স্পেশাল মার্কেটিং ট্রেনিং। 



বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন



আধুনিক বিপণন কৌশল ও পেশাগত দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে এই বিশেষ সেশনটি পরিচালনা করেন দেশের জনপ্রিয় লার্নিং প্ল্যাটফর্ম স্কিলস রাইডার’ (Skills Rider)-এর ফাউন্ডার ও এমডি রাশেদুল ইসলাম।


সম্মেলনে প্রজেক্টের ভবিষ্যৎ মেগা পরিকল্পনা তুলে ধরে উদ্যোক্তারা জানান, বর্তমানে ১৭ একর জমিতে বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। 


পর্যায়ক্রমে জমি বৃদ্ধির মাধ্যমে এই প্রজেক্টটিকে মোট ২০০০ একর জমিতে বিস্তৃত করার এক বিশাল মাস্টারপ্ল্যান হাতে নেওয়া হয়েছে, যা দেশের পরিবেশবান্ধব এগ্রো-ট্যুরিজমে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।


১ম বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকদের সুবিধার্থে অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কিছু শেয়ার প্যাকেজ উন্মোচন করা হয়। একই সাথে, যেসকল বিনিয়োগকারী সফলভাবে তাঁদের বিনিয়োগ সম্পন্ন করেছেন, অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় অসামান্য অবদান রাখায় সেরা পারফর্মকারী প্রতিনিধিদের বেস্ট মার্কেটার’ সম্মাননা ও বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।


সম্মেলনের সমাপনী দিনে সফল পার্টনারদের মাঝে সম্মাননা স্মারক বিতরণ এবং এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মধ্য দিয়ে ৩ দিনব্যাপী এই স্মরণীয় উদযাপনের সফল সমাপ্তি ঘটে।


 ‘বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের’ বর্ষপূর্তিতে কক্সবাজার সৈকতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, খেলাধুলা

সর্বশেষ সব খবর