স্ত্রী খুঁজতে না আসার জন্য চীনা নাগরিকদের সতর্ক করেছে ঢাকায় অবস্থিত চীনের দূতাবাস
বাংলাদেশে দালাল বা অবৈধ ঘটকালি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্ত্রী খুঁজতে না আসার জন্য চীনা নাগরিকদের সতর্ক করেছে ঢাকায় অবস্থিত চীনের দূতাবাস।
আন্তঃসীমান্ত বিয়ের নামে প্রতারণা ও মানবপাচারের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দূতাবাস জানায়, কোনো চীনা নাগরিক যদি দালাল বা এজেন্সির মাধ্যমে স্ত্রী খুঁজতে বাংলাদেশে আসেন, তাহলে মানবপাচারের সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী মানবপাচারের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বনিম্ন সাত বছরের কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডও দিতে পারেন। এ ছাড়া মানবপাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তুলনামূলক কম গুরুতর অপরাধ, যেমন অপরাধে উসকানি দেওয়ার ক্ষেত্রে তিন থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
দূতাবাস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে চীনা নাগরিকদের জড়িয়ে আন্তঃসীমান্ত বিয়ের নামে প্রতারণার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
দূতাবাস আরও বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক বিয়ে অবশ্যই পারস্পরিক সম্মতি এবং সত্যিকারের ভালোবাসার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।’
একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, ‘বউ কেনার চেষ্টা অনেক সময় আর্থিক চাঁদাবাজি ও শারীরিক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’
চীনে আন্তর্জাতিক ঘটকালি বা বাণিজ্যিক ম্যাচমেকিং কার্যক্রম আইনত নিষিদ্ধ। তবে দেশটিতে নারী-পুরুষের সংখ্যার বড় ব্যবধানের কারণে এই অবৈধ বাজার দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে।
২০২০ সালের জাতীয় আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, চীনে বিয়ে উপযোগী বয়সী নারীদের তুলনায় প্রায় এক কোটি ৭৫ লাখ বেশি পুরুষ রয়েছে। এই লিঙ্গ বৈষম্য অবৈধ কনে বাণিজ্য বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে একদিকে বিদেশি নাগরিকদের বৈবাহিক মানবপাচার থেকে রক্ষা করা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্রতারণার মাধ্যমে চীনা নাগরিকদের বিপুল অর্থ হারানো ঠেকাতে কাজ করছে বেইজিং।
গত কয়েক বছরে ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, লাওস, পাকিস্তান ও নেপালে অবস্থিত চীনের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোও বিয়ের নামে প্রতারণা সম্পর্কে একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে। নিজ দেশেও মানবপাচার ও প্রতারণামূলক ঘটকালি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে চীন।
দেশটির সুপ্রিম পিপলস প্রোকিউরেটরেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত মানবপাচার এবং প্রতারণামূলক ঘটকালির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক হাজার ৫৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অনেক ঘটনায় দেখা গেছে, স্ত্রী খুঁজে পেতে কয়েক হাজার ইউয়ান খরচ করার পর বিদেশি নববধূরা কোনো খোঁজ না রেখে উধাও হয়ে গেছেন। আবার কিছু ঘটনায় নারীদের অপহরণ করে জোরপূর্বক চীনা পুরুষদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের মার্চে মাদাগাস্কারে আটজন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে চাকরির মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীদের চীনে পাচারের অভিযোগ আনা হয়।
সম্প্রতি হুনান, আনহুই ও শানডং প্রদেশের পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। এর আগে মিয়ানমারের তিন নারী স্বীকার করেন, তারা মূলত বিয়ের নামে প্রতারণা চালানোর উদ্দেশ্যে চীনে গিয়েছিলেন। ওই অভিযানে ৬৩টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়, ৩৩টি প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হয় এবং ৫০ লাখ ইউয়ানের বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনের তথ্য অনুযায়ী, এই মানবপাচার ও প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম চীন, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারজুড়ে বিস্তৃত ছিল।
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিদিন হাততালি দিলেই বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি মিলতে পারে। কারণ হাতে রয়েছে অসংখ্য স্নায়ু এবং রক্তনালীর প্রান্ত, যেগুলোকে বলা হয় আকুপ্রেশার পয়েন্ট। হাততালি দিলে সেই অংশগুলোতে ঘষা লাগে, চাপ পড়ে। তার ফলে স্নায়ু সক্রিয় হয়।
যেসব উপকার পাবেন
রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে: ছন্দ মেনে তালি বাজালে সারা শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে। এর ফলে দেহের প্রতিটি অংশ ও কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায়, যা হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
মনমেজাজ ভালো থাকে: এই অনুশীলনে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। তালি বাজালে শরীরে ‘এন্ডরফিন’ হরমোনের ক্ষরণ হয়, যা মন ভালো করে। মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমিয়ে মনকে শান্ত রাখতেও হাততালি দিতে পারেন।
শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি: হাতের তালুর নিয়মিত সঞ্চালন অস্থিসন্ধির জড়তা কাটায় এবং পেশি শিথিল রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে অস্থিসন্ধি সচল থাকে, শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি পায় এবং পেশির আঘাতের আশঙ্কা কমে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: তালি বাজানোর শারীরচর্চাতে অল্প হলেও ক্যালোরি ক্ষয় হয়। সহজ অভ্যাসটি মেদ ঝরাতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে পরোক্ষে সাহায্য করে।
শরীর ঝরঝরে রাখে: তালি দেওয়ার অভ্যাস লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ বা শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় বা দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। দূষিত পদার্থ বের হলে শরীর তো ভালো থাকবেই।
হাততালি দিতে হবে সঠিক নিয়ম মেনে
আনন্দবাজার পত্রিকায় বলা হয়েছে, সকালের দিকেই হাততালির অভ্যাস করা ভালো। হাতে নারকেল তেল বা পছন্দের যেকোনো তেল হালকা মালিশ করে নিন। শিরদাঁড়া সোজা করে পদ্মাসন বা বজ্রাসনে বসে হাততালি দেওয়া অভ্যাস করুন। প্রথমে ২-৩ মিনিট। পরের সপ্তাহে ৫ মিনিট। এই ভাবে ১০-১৫ মিনিট হাততালির অভ্যাস করুন।
প্রতীকী ছবি
অ্যাবসেন্ট মাইন্ড বা ভুলে যাওয়ার প্রবণতা কাটানোর ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম বা কৌশল নেই। এ ক্ষেত্রে চাইলে আপনি নিজের জন্য আলাদা কোনো কৌশল খুঁজে বের করতে পারেন। চলুন, একজন অ্যাবসেন্ট মাইন্ডেড মানুষের মুখোমুখি হই, যিনি অবস্থার উন্নতির জন্য নানা সমস্যায় পড়েছেন–
আপনিও হতে পারেন সেই লোকটি
অস্বাভাবিক কিছু না। আপনিও হতে পারেন সেই লোকটি। তিনি নিজে আপনাকে বলে যাচ্ছেন, তিনি একসঙ্গে অনেক ব্যাপারে মাথা ঘামাতে অপছন্দ করেন। এ ছাড়া তিনি খুব অন্যমনস্ক। রিমাইন্ডার ছাড়া কোনো কাজ করতে পারেন না। তার যে কোনো কাজে দেরি করার অভ্যাস।
ক্লাসে দেরি
সময়ের ভুল হিসাব করি অনেকে। যেমন- আমার ক্লাস সকাল ৯টায়। তাহলে সময় তো আছেই–এই ভেবে আমি গাড়ি ধরি ৮টা ৪৫ মিনিটে। তখনই মনে হয় আমার প্রয়োজনীয় বই গোছানো হয়নি অথবা আমার প্রয়োজনীয় খাতাটা আনা হয়নি। ফলে ক্লাসে দেরি হয়ে যায়।
ভুলে গেলেন
ঘুরতে গিয়ে বা শপিংয়ে যাওয়ার পর বুঝতে পারলেন, পর্যাপ্ত টাকা নেই সঙ্গে। বা হুট করে সেলফোনের ব্যাটারির চার্জ ফুরিয়ে গেল। এমনও হতে পারে যে, ভালো প্রস্তুতির পরও ক্যালকুলেটর অথবা ঘড়ি নিতে ভুলে গেলেন।
কাজের পুনরাবৃত্তি
যে কোনো ধরনের কাজ পুনরাবৃত্তি অপছন্দ করি। যদিও আমি ওই কাজে পারদর্শী নই। ধরুন, আমি একটি রেস্টুরেন্টের কিচেনে কাজ করতাম। তখন আমি খুব বাজে সময় কাটিয়েছিলাম।
খেয়াল রাখতে পারেন
ওপরের প্রতিটি ঘটনার জন্য আলাদা সমাধান দেওয়া যেতে পারে। অনেকে বলতে পারেন, এসব ব্যাপার এড়ানো খুব সহজ। বাস্তবে এ ধরনের সমস্যা কাটিয়ে ওঠা খুব কঠিন। সঠিক কৌশল অবলম্বন করে আপনি এ ধরনের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেন। এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে পারেন–
দিনের শেষে এবং সকালে: রুটিন ও চেকলিস্ট ভুলে যাওয়ার অভ্যাস রোধে এ ব্যাপারটি অনুসরণ করতে পারেন। নিয়মিত দিনের শেষদিকে আপনার মোবাইল ফোনে চার্জ দিন ও সকালের দিকে মোবাইলটি চার্জার থেকে ডিসকানেক্ট করুন।
টাইমার: মোবাইল ফোন কিংবা হাতঘড়ির টাইমারটা ওপেন করে কাজ শুরু করুন। এতে ১০ মিনিট আধাঘণ্টা হবে না।
নির্ধারিত জায়গা: এটি একটি নির্ধারিত জায়গা, যেখানে আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখা থাকবে। যেন বাসা থেকে বের হওয়ার পথ সহজেই খুঁজে পান।
হাত বাড়িয়ে দিন: যে কাজে আপনার কম দক্ষতা, তার সমাধানে অভিজ্ঞ কাউকে খুঁজুন। তবে সব কাজে এটা সম্ভব নাও হতে পারে।
নেভার বি লেট এগেইন: ‘নেভার বি লেট এগেইন’–এ বইটি পড়তে পারেন। বইটি থেকে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন। এ ছাড়াও ভুলে যাওয়ার অভ্যাস রোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে–গুরুত্বপূর্ণ কাজ নির্দিষ্ট সাইটে সংরক্ষণ করে রাখা। সামনের জরুরি কাজ ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে রাখা। যে কাজ খুব জরুরি, যা আপনাকে করতে হবে, সেগুলোর জন্য ‘আইওয়ান্টসেন্ডি’ ব্যবহার করুন।
স্মার্ট টিভি
আধুনিক নাগরিক জীবনে বসার ঘরের প্রধান বিনোদন ও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হল হাই-ডেফিনিশন ‘স্মার্ট টিভি’।
তবে অনেকেই অলসতা বা অসচেতনতার কারণে চব্বিশ ঘণ্টা টিভি প্লাগ-ইন করে রাখেন বা ভুল পদ্ধতিতে এর সংবেদনশীল স্ক্রিন পরিষ্কার করেন, যা ‘ডিসপ্লে প্যানেলে’র স্থায়ী ক্ষতি করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
অনেকেই মনে করেন, যেকোনো প্রলেপ বা ভেজা কাপড় দিয়ে কাচের মতো স্ক্রিনটি মুছলেই হল- যা প্রযুক্তি বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিপজ্জনক ভুল ধারণা।
সঠিক নিয়মে যত্ন না নিলে এবং স্ক্রিনে সামান্যতম তরল বা আর্দ্রতা প্রবেশ করলে টিভির ভেতরের ‘লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে (এলসিডি)’ বা এলইডি প্যানেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
এনার্জি সেইভিং মোড’ ও ব্যাকলাইট কৌশল
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি-বিষয়ক মাধ্যম ‘সিনেট’ এবং ‘কনজ্যুমার রিপোর্টস’-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্মার্ট টিভির বিদ্যুৎ বিল ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিয়ে আনার প্রধান চাবিকাঠি হল টিভির ‘এনার্জি সেইভিং মোড’ সচল রাখা।
অটো-ব্রাইটনেস ও স্লিপ টাইমার: রাতের অন্ধকারে টিভির ব্রাইটনেস বা উজ্জ্বলতা সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ দিয়ে রাখা ভুল। টিভির সেটিংসে গিয়ে ‘অটো-ব্রাইটনেস’ বা ‘অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সর’ ‘অন’ রাখলে ঘরের আলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টিভির ব্যাকলাইট প্রাকৃতিকভাবেই নিয়ন্ত্রিত হয়।
ফলে চোখের ওপর ক্ষতিকর চাপ কমে এবং কম্প্রেশনের ওপর লোড কম পড়ে বিদ্যুৎ বিল হ্রাস পায়। এছাড়া রাতে টিভি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে যাওয়ার অভ্যাস এড়াতে ‘স্লিপ টাইমার’ দিয়ে রাখাও উপকারী।
ভেজা কাপড় ব্যবহারে স্ক্রিনের ভেতরে ক্ষতিকর বাষ্প
স্যামসাং ও সনি ডিসপ্লে ল্যাবের প্রকৌশলীদের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্মার্ট টিভির স্ক্রিন পরিষ্কার করার সময় ভুলেও সরাসরি ভেজা কাপড় বা তরল স্প্রে ব্যবহার করা যাবে না।
লিকুইড ক্রিস্টাল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি: আধুনিক স্মার্ট টিভির স্ক্রিনের উপরিভাগটা কোনো সাধারণ জানালার শক্ত কাচ নয়; এটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম প্লাস্টিক বা ‘লিকুইড ক্রিস্টাল পলিমার’-এর পাতলা স্তর। ভেজা কাপড় দিয়ে জোরে চাপ দিয়ে মুছলে বা স্ক্রিনে সরাসরি পানি বা ‘লিকুইড ক্লিনার স্প্রে’ করলে, সেই তরলের সূক্ষ্ম কণা বা বাষ্প ‘বেজেল’ বা বর্ডারের ফাঁক গলে সরাসরি ডিসপ্লের অভ্যন্তরীণ সার্কিট ও প্যানেলের ভেতর ঢুকে পড়ে।
ফলে স্ক্রিনের ভেতরে স্থায়ী কালচে ভেজাভাব, জলীয় দাগ বা ডিসপ্লেতে আড়াআড়ি রঙিন রেখা পড়ে প্যানেল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
স্ক্রিন পরিষ্কারে মাইক্রোফাইবার কাপড়
টিভির ধুলা-ময়লা ঝাড়তে সাধারণ সুতি কাপড়, গামছা, টিস্যু পেপার বা খসখসে তোয়ালে ব্যবহার করা যাবে না। টিস্যু বা সাধারণ কাপড়ের সুক্ষ্ম আঁশ স্ক্রিনের ওপর চিরতরে হাজার হাজার সুক্ষ্ম স্ক্র্যাচ বা দাগ ফেলে দেয়, যা পরে টিভির ছবির স্পষ্টতা নষ্ট করে।
সমাধান: স্ক্রিন পরিষ্কারের হল চশমা মোছার নরম ‘মাইক্রোফাইবার কাপড়’ ব্যবহার করা। কোনো প্রকার তরল ছাড়া শুকনো অবস্থায় এই মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে একদম হালকা হাতে বৃত্তাকারে আলতো করে মুছলে সমস্ত ধূলিকণা কাপড়ের তন্তুর মধ্যে আটকে চলে আসে।
ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও গ্লাস ক্লিনার বর্জন
‘ডিজিটাল ট্রেন্ডস’ এই প্রযুক্তি-বিষয়ক পোর্টালে প্রকাশিত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বাজারে প্রচলিত গ্লাস ক্লিনার (যেমন উইন্ডেক্স বা কলিন), অ্যালকোহল, অ্যাসিটোন বা অ্যামোনিয়া যুক্ত রাসায়নিক তরল ভুলেও টিভির স্ক্রিনে ছোঁয়ানো যাবে না।
এই কড়া রাসায়নিকগুলো স্মার্ট টিভির স্ক্রিনের ওপর থাকা ক্ষতিকর আলোকরশ্মি প্রতিরোধী ‘অ্যান্টি-রিফ্লেক্টিভ কোটিং’ স্থায়ীভাবে গলিয়ে ফেলে।
যদি স্ক্রিনে জেদি আঠালো দাগ থাকে, তবে মাইক্রোফাইবার কাপড়টি সামান্য একটু বিশুদ্ধ পানিতে আলতো ভিজিয়ে (যাতে কাপড় থেকে পানি না টপকায়) দাগের ওপর আলতো করে বুলিয়ে নিতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে অন্য একটি শুকনো মাইক্রোফাইবার দিয়ে সেই পানি মুছে শুকিয়ে ফেলতে হবে।
প্লাগ-আউটের নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রের ‘কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স অ্যাসোসিয়েশন’এর টেকনিক্যাল ম্যাপ অনুযায়ী, টিভি রিমোট দিয়ে বন্ধ করলেই কিন্তু এর বিদ্যুৎ খরচ পুরোপুরি শূন্য হয় না। রিমোট দিয়ে বন্ধ করার পর টিভি মূলত ‘স্ট্যান্ডবাই মোড’-এ থাকে, যা অলক্ষ্যেই চব্বিশ ঘণ্টা ব্যাকগ্রাউন্ডে বিদ্যুৎ টানতে থাকে। তাই টিভি দেখা শেষে প্রধান সুইচের দেয়াল প্লাগ পুরোপুরি বন্ধ করা বা ‘প্লাগ-আউট’ করা নিরাপদ।
এছাড়া টিভির পেছনের ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচলের ছিদ্রগুলোতে ধূলিমলিন জঞ্জাল জমলে টিভির ভেতরের প্রসেসর অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। তাই প্রতি সপ্তাহে একটি শুকনো ডাস্টার দিয়ে টিভির পেছনের ধুলো ঝেড়ে সাফ করা উচিত, যা টিভির ভেতরের দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি হওয়া রোধ করে।
মনে রাখতে হবে
স্মার্ট টিভি কেবল একটি কাচের বাক্স নয়, এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক্সের সূক্ষ্ম মেলাটোনিন আর্ট। সপ্তাহে অন্তত একবার টিভির পেছনের কানেকশন সতর্কতার সঙ্গে পরখ করা দরকার।
যদি দেখা যায় টিভির স্ক্রিন অন করার পর অদ্ভুত কাঁপছে বা দীর্ঘক্ষণ অন থাকার পরও প্রথানুযায়ী ছবি আসছে না, তবে নিজে মিস্ত্রি না সেজে অবিলম্বে ‘অফিশিয়াল ব্র্যান্ডের রেজিস্টার্ড মেকানিক’-এর সরাসরি পেশাদার সাহায্য নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
ছবি : সংগৃহীত
গরমে অনেকের চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যায়। চুলের গোড়া ও স্ক্যাল্পের যত্নে নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত চুল পড়লে কারণ জানতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডিম ও অলিভ অয়েল
ডিমের সঙ্গে সামান্য অলিভ অয়েল মিশিয়ে চুলে লাগানো যেতে পারে। সপ্তাহে একবার এ ধরনের হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা যায়। কিছুক্ষণ রেখে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।
নারকেলের দুধ
নারকেলের দুধ চুল ও স্ক্যাল্পে ব্যবহার করা যায়। নারকেল কুচি সামান্য পানি দিয়ে ব্লেন্ড করে ছেঁকে দুধ বের করে নিতে হবে। এরপর চুল ও স্ক্যাল্পে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর শ্যাম্পু করে নিতে পারেন।
মেথি
মেথি হালকা ভেজে গুঁড়া করে নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন। এই তেল স্ক্যাল্পে হালকা হাতে ম্যাসাজ করে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন।
মেহেদি
চুলের পরিচর্যায় দীর্ঘদিন ধরে মেহেদি ব্যবহার হয়ে আসছে। মেহেদির পাতা বেটে তেলের সঙ্গে মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করা যায়। তবে ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
পেঁয়াজের রস
পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে সালফার থাকে। মাথায় পেঁয়াজের রস দিলে চুলের ফলিকলে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়। চুল হয় আরও মজবুত।
টক দই
টক দইয়ে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। টক দইয়ের হেয়ার মাস্ক চুলে লাগালে চুল মজবুত হয়। মাথার তালুর সুস্থতা বজায় রাখতেও টক দই কার্যকর।
ঘরোয়া উপাদান ব্যবহারের পাশাপাশি চুল পরিষ্কার রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ছবি : সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা জেন-এআই প্রযুক্তির নোটিফিকেইশন, সোশ্যাল মিডিয়ার অবাস্তব এয়ারব্রাশড ফিল্টার এবং ক্লিনিকে গিয়ে কৃত্রিম ফিলার্স বা বোটক্স ইঞ্জেকশন নেওয়ার অন্ধ জোয়ারে মানুষ দিন দিন ক্লান্ত হয়ে উঠছেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এবং কসমেটিক ডার্মাটোলজির সাম্প্রতিক তথ্যানুসারে, কৃত্রিম উপায়ে রাতারাতি ফর্সা বা নিখুঁত ‘গ্লাস স্কিন’ বা চকচকে ত্বক পাওয়ার চটকদার ‘ইনফ্লুয়েন্সার’গুলো ২০২৬ সালের এই সময়ে এসে মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা পুরোপুরি হারাচ্ছে।
সাধারণ মানুষ এখন বুঝতে পেরেছেন যে, মেকি নিখুঁত সৌন্দর্য বা অবাস্তব নিখুঁত অবয়ব আসলে কোনো প্রকৃত সুস্থ ত্বকের লক্ষণ নয়; বরং এটি হল এক ধরনের ফাঁদ। এর পরিবর্তে বিশ্বজুড়ে এখন শুরু হয়েছে নতুন বৈজ্ঞানিক বিপ্লব, যাকে চিকিৎসকেরা বলছেন ‘বায়োলজিক্যাল বিউটি’ বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
চর্মরোগ ও প্রসাধনী বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসাধন সামগ্রীর মনগড়া চটকদার বিজ্ঞাপনে না ভুলে, উপাদানের ঘনত্ব এবং নিজস্ব ত্বকের মান বুঝে পরিচর্যা করাই হবে উপকারী।
অস্ট্রেলিয়ার ‘ডা. তানিয়া স্কিনকেয়ার’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চর্মরোগ গবেষক ডা. তানিয়া উন্নি এবং কসমোপলিটান ডার্মাটোলজি প্যানেলের রূপচর্চা বিশেষজ্ঞরা ২০২৬ সালের এই সুনির্দিষ্ট রূপান্তর এবং ৬টি প্রধান নিয়ম বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, ডা. তানিয়ার নিজস্ব ব্লগ সাইটে।
উপাদানের ঘনত্ব ও রাসায়নিক পরিচর্যা
ডা. তানিয়া উন্নি জানান, ২০২৬ সালের আধুনিক রূপচর্চায় চটকদার ব্র্যান্ডের লেবেল দেখে পণ্য কেনার অন্ধ বাতিক পুরোপুরি বর্জন করতে হবে।
যেকোনো সেরাম বা ক্রিম কেনার আগে বোতলের লেবেলে থাকা সুনির্দিষ্ট উপাদান এবং কনসেন্ট্রেশন বা ঘনত্বের মান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।
যেমন, উজ্জ্বলতা বাড়াতে ভিটামিন-সি সেরাম মাখা কার্যকর হলেও সংবেদনশীল ত্বকে ‘১০% এল-অ্যাসকরবিক অ্যাসিড’-এর কড়া ডোজ তীব্র প্রদাহ তৈরি করতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদী কোলাজেন ব্যাংকিং বনাম সাময়িক রূপচর্চা
গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ শতকের গোড়ার দিকে নারীদের মনে বার্ধক্যের অবান্তর আতঙ্ক তৈরি করে করপোরেট সংস্থাগুলো অ্যান্টি-এইজিং ক্রিম বিক্রি শুরু করেছিল, যা কেবল ত্বকের উপরিভাগে সাময়িক আস্তরণ তৈরি করত।
তবে ২০২৬ সালের আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, সাময়িক ‘ফিলার্স’ বা ‘বোটক্স’-এর ক্ষতিকর শর্টকাট বর্জন করে ত্বকের অভ্যন্তরীণ কোষের ভেতরের অবস্থা উন্নত করাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। একে বলা হয় ‘কোলাজেন ব্যাংকিং’ বা দীর্ঘমেয়াদী সেলুলার স্বাস্থ্য।
ল্যাবরেটরি টেস্টে প্রমাণিত যে, কড়া পেপটাইডস স্নায়ুতন্ত্রের কোষীয় যোগাযোগ বাড়িয়ে দেয় এবং প্রদাহ বা ইনফ্লেমেইশন নিয়ন্ত্রণে রেখে কোষের বার্ধক্যের গতি ধীর করতে জাদুকরী ভূমিকা রাখে।
‘বায়োলজিক্যাল বিউটি’ ও বাস্তব ত্বকের গঠন
ত্বক-বিজ্ঞানিদের মতে, “বাস্তব ও স্বাভাবিক ত্বকে প্রাকৃতিকভাবেই সুক্ষ্ম লোমকূপ, গঠন এবং ছোটখাটো খামতি থাকবেই। এটিই সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক লক্ষণ।”
রূপচর্চার চাবিকাঠি হল, কৃত্রিম প্লাস্টিক উজ্জ্বলতা বা ‘ফেইস লিফট’ বর্জন করে ত্বকের নিজস্ব রক্ষাকবচ বা স্কিন ব্যারিয়ারের যত্ন নেওয়া।
ত্বক যখন ভেতর থেকে সুস্থ থাকে, তখন কোষের আর্দ্রতা সচল হয়ে প্রাকৃতিকভাবেই মখমলে প্রাকৃতিক দীপ্তি ফুটে ওঠে।
প্রসাধনী মাখার কৌশল
ডা. তানিয়া উন্নি পরামর্শ দেন, “অতিরিক্ত মিক্সড সেরাম মুখে মাখলেই ভালো ফল মেলে না; বরং এটি উল্টো ত্বকের রক্ষাকবচ পুড়িয়ে একজিমা বা মারাত্মক ডার্মাটাইটিসের সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য মাত্র দুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ সেরামের জোড় বা ‘স্মার্ট পেয়ারিং’ করা আসল নিয়ম।”
রূপচর্চার প্রধান কৌশল হল— সবচেয়ে পাতলা তরল আগে মাখতে হবে এবং ক্রমান্বয়ে ঘন ক্রিমের দিকে যেতে হবে।
> হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ও রেটিনল: আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি কোষের পুনর্নবীকরণ ঘটায়।
> ভিটামিন সি ও হায়ালুরোনিক অ্যাসিড: অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সুরক্ষা ও মুখের বলিরেখা হ্রাস করে।
> ভিটামিন বি৫ ও নিয়াসিনামাইড: স্কিন ব্যারিয়ার বা ত্বকের রক্ষাকবচ মেরামত ও লোমকূপের পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
প্রাচ্যের আয়ুর্বেদ প্রজ্ঞা ও প্রাশ্চাত্যের আধুনিক নিউরোসায়েন্স
রূপচর্চায় এই বছরের আলোচিত ধারা হল, প্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী আয়ুর্বেদিক ভেষজ প্রজ্ঞার সঙ্গে প্রাশ্চাত্যের আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মেলবন্ধন। শতাব্দী প্রাচীন আয়ুর্বেদে ব্যবহৃত ‘তুলসী’-কে আধুনিক রূপসজ্জার বিজ্ঞানে শক্তিশালী ‘অ্যাডাপ্টোজেন’ হিসেবে প্রামাণ্য স্বীকৃতি দিয়েছে।
তুলসী সমৃদ্ধ ক্রিম মানসিক চাপের কারণে ত্বকে তৈরি হওয়া কর্টিসল হরমোনের ক্ষতিকর দহন শান্ত করে এবং কোষের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করে দীর্ঘমেয়াদে সজীবতা ফিরিয়ে আনে।
ছবি : সংগৃহীত
সংসারে ভালোবাসা আছে, যত্ন আছে, দায়িত্ব আছে কিন্তু প্রশংসা? সেটাই যেন অনেক সময় ব্যস্ততার ভিড়ে হারিয়ে যায়। অথচ একটি ছোট্ট প্রশংসা, একটি আন্তরিক কথা কিংবা হঠাৎ বলা ‘তোমাকে আজ খুব সুন্দর লাগছে’ সম্পর্কে এনে দিতে পারে আলাদা উষ্ণতা। বিশেষ করে আজ যদি স্ত্রীর প্রশংসা করার একটা উপলক্ষই থাকে, তাহলে সুযোগটা হাতছাড়া করবেন কেন? তবে সাবধান! প্রশংসা করতে গিয়ে এমন কিছু বলে বসবেন না, যার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রাত কাবার হয়ে যায়।
যেমন, ‘আগের চেয়ে আজ তোমাকে অনেক রোগা লাগছে’ এটা প্রশংসা নাকি নতুন ঝামেলার সূচনা, সেটা নির্ভর করবে পরিস্থিতির ওপর! বরং সহজ, স্বাভাবিক এবং মন থেকে বলা কথাই সবচেয়ে বেশি কাজ করে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, স্ত্রীর প্রশংসা করার ১০ মজার ও সুন্দর উপায়-
১. আজ তোমাকে একটু বেশি সুন্দর লাগছে
প্রতিদিন দেখা হয় বলে সৌন্দর্য চোখে অভ্যাস হয়ে যায়। তাই হঠাৎ একদিন বলুন, ‘আজ তোমাকে বেশ সুন্দর লাগছে।’ চেনা মানুষটির মুখে নতুন করে মুগ্ধ হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করলে খারাপ লাগার কথা নয়।
তবে কথাটি যেন সত্যি হয়, মুখস্থ ডায়লগের মতো না শোনায়। কিন্তু এই ছোট্ট বাক্যটি কিছু খুব কাজের দাম্পত্য সুখের করতে। প্রতিদিন কথাটা বলুন।
২. তার রান্নার প্রশংসা করুন
স্ত্রীর রান্না খেয়ে যদি শুধু ‘হুম, ভালো’ বলে প্লেট পরিষ্কার করে উঠে যান, তাহলে কিন্তু বড় সুযোগ নষ্ট করছেন। আজ একটু বাড়িয়ে বলতেই পারেন, ‘এই রান্নাটা তো রেস্টুরেন্টেও পাওয়া যাবে না!’ তবে একেবারে একই কথা প্রতিদিন বলবেন না। নইলে পরদিন রান্না একটু অন্যরকম হলে প্রশ্ন আসতে পারে ‘কাল তাহলে মিথ্যা বলেছিলে?’
৩. তার পরিশ্রমটা স্বীকার করুন
ঘরের কাজ, অফিস, সন্তান সামলানো কিংবা পরিবারের নানা দায়িত্ব অনেক কাজই চোখে পড়ে না। তাই শুধু চেহারা নয়, তার পরিশ্রমেরও প্রশংসা করুন। বলুন, ‘তুমি যেভাবে সবকিছু সামলে রাখো, সত্যিই সেটা সহজ নয়।’ এই ধরনের প্রশংসা অনেক বেশি অর্থবহ।
৪. তার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করুন
স্ত্রী কোনও সিদ্ধান্ত নিলে সেটি নিয়ে সবসময় নিজের মত চাপিয়ে দেওয়ার বদলে তার ভালো সিদ্ধান্তের কথাও বলুন। ‘তুমি যেভাবে ব্যাপারটা ভেবেছ, সেটা ভালো হয়েছে’ এমন একটি বাক্য সম্পর্কের পারস্পরিক সম্মান বাড়াতে পারে।
৫. তার পোশাক বা সাজের প্রশংসা করুন
নতুন পোশাক, চুলের স্টাইল কিংবা ছোট কোনো পরিবর্তন চোখে পড়লে সেটা বলুন। কারণ ‘কিছুই তো বদলায়নি’ বলে তাকিয়ে থাকা স্বামীদের তালিকায় থাকতে কে চায়? তবে প্রশংসা করতে গিয়ে অন্য কারো সঙ্গে তুলনা না করাই ভালো।
৬. তার হাসির প্রশংসা করুন
খুব সাধারণ একটি কথা, কিন্তু বেশ কার্যকর। ‘তোমার হাসিটা খুব সুন্দর’ এমন কথা শুনতে কে না ভালোবাসে? আর স্ত্রী যদি হাসেন, তাহলে বুঝবেন প্রশংসার ফলাফল ইতিমধ্যেই হাতে চলে এসেছে।
৭. তার রসবোধের প্রশংসা করুন
সংসারে হাসতে পারাটা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। স্ত্রী যদি আপনাকে হাসাতে পারেন, তার সেই গুণটিরও প্রশংসা করুন। বলতে পারেন, ‘তোমার সঙ্গে থাকলে জীবনটা অন্তত বোরিং হয় না।’ অবশ্য তিনি যদি পাল্টা বলেন, ‘তাই নাকি? তাহলে আজ বাসনগুলোও তুমি মাজো’ তখন কিন্তু প্রশংসার সঙ্গে কাজের অর্ডারও আসতে পারে!
৮. তার যত্ন নেওয়ার বিষয়টি বলুন
আপনি অসুস্থ হলে ওষুধ মনে করিয়ে দেওয়া, সময়মতো খেয়েছেন কি না জিজ্ঞেস করা কিংবা ছোটখাটো প্রয়োজনের কথা মনে রাখা এসবই ভালোবাসার প্রকাশ। তাই শুধু সুবিধা নেওয়া নয়, সেই যত্নের কথাও মুখে বলুন। ‘তুমি আমার এত যত্ন নাও, সেটা আমি সত্যিই অ্যাপ্রিসিয়েট করি’ এমন কথা সম্পর্ককে আরও উষ্ণ করতে পারে।
৯. সবার সামনে সম্মান করুন
একান্তে প্রশংসা ভালো, তবে পরিবার বা বন্ধুদের সামনে স্ত্রীর কোনো ভালো দিক তুলে ধরলে সেটার আলাদা গুরুত্ব আছে। তার কাজ, সাফল্য বা কোনো গুণের কথা অন্যদের সামনে বলুন। এতে তিনি বুঝবেন, আপনি শুধু সামনে নয়, অন্যদের কাছেও তাকে সম্মান করেন।
১০. শেষমেশ সরাসরি বলুন ‘তোমাকে পেয়ে আমি খুশি’
সব প্রশংসার মধ্যে সবচেয়ে সহজ এবং সম্ভবত সবচেয়ে গভীর কথাটি হতে পারে ‘তোমাকে আমার জীবনে পেয়ে আমি খুশি।’ এর সঙ্গে নিজের কোনো মজার স্মৃতিও যোগ করতে পারেন। যেমন, ‘তুমি না থাকলে আমার মোবাইল, চাবি আর চার্জার কোনোটাই ঠিক জায়গায় থাকত না!’ হাসির সঙ্গে কথাটাও পৌঁছে যাবে।
প্রশংসার জন্য বিশেষ কোনো দিন অবশ্যই প্রয়োজন নেই। তবে এমন একটি উপলক্ষ থাকলে সেটিকে কাজে লাগানো যায়। কারণ সংসারে বড় উপহার, দামি রেস্তোরাঁ বা চমকপ্রদ আয়োজনের পাশাপাশি কখনো কখনো কয়েকটি আন্তরিক কথাই সবচেয়ে বেশি মনে থাকে।
আর একটা কথা আজ স্ত্রীকে প্রশংসা করতে গিয়ে নিজের প্রশংসা চেয়ে বসবেন না। ‘আমি তো তোমারও অনেক প্রশংসা করি, আমারটা কোথায়?’ এই প্রশ্নটি আজ না করাই ভালো।
কারণ প্রশংসার দিনকে ‘পারস্পরিক হিসাব-নিকাশের দিন’ বানিয়ে ফেললে রোমান্সের বদলে সংসারে অডিট শুরু হয়ে যেতে পারে!