ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৬:০১ এএম

ফ্রিজ যেন ঘরের সবচেয়ে ব্যস্ত যন্ত্র। খাবার ঠাণ্ডা রাখে, মাছ-মাংস সংরক্ষণ করা, পানি জমিয়ে বরফ দেওয়া আরও কত কাজ! তবে যখন ফ্রিজের ভেতরে বরফের স্তর জমতে শুরু করে, তখনই শুরু হয় ঝামেলা। 


ড্রয়ার আটকে যায়, খাবার ঠাণ্ডা হতে দেরি হয়, খাবারের গন্ধ আটকে থাকে, কম্প্রেসর অতিরিক্ত চাপে চলে- বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যায়। যাদের ফ্রিজে ‘অটো-ডিফ্রস্ট’ বা ‘ডিফ্রস্ট বাটন’ নেই, তাদের তো নিয়মিত বরফ পরিষ্কার করতেই হয়।


রাজধানী মোহাম্মদপুরের ‘হোলসেল ইলেকট্রনিক্স সিটি’র কর্ণধার ফয়সাল হোসেন বলেন, “ফ্রিজে বরফ জমার মূল কারণ বাইরের গরম-আর্দ্র বাতাস ভেতরে ঢোকা। দরজার সিল আলগা থাকলে, দরজা ঠিকমতো বন্ধ না হলে বা দীর্ঘ সময় খোলা রাখলে এই সমস্যা বাড়ে। তবে ঘরের সাধারণ জিনিস দিয়েই ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটে বরফ পরিষ্কার করা যায়।”


ফ্রিজ বন্ধ করে খাবার সরানো


প্রথমেই ফ্রিজের প্লাগ খুলে ফেলতে হবে। নিরাপত্তার জন্য এটি জরুরি। ভেতরের সব খাবার বের করে বরফ প্যাক বা কুলার ব্যাগে রাখুন, যাতে ঠাণ্ডা থাকে।


ফ্রিজের চারপাশে পুরু তোয়ালে বিছিয়ে দিতে হবে যাতে গলে যাওয়া পানি শুষে নেয়।


গরম পানির বাটি দিয়ে বাষ্পের কাজ


এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নিরাপদ উপায়। একটি ‘হিট-প্রুফ’ বাটিতে ফুটন্ত গরম পানি নিয়ে ফ্রিজের ভেতরে একটা তোয়ালের ওপর রাখতে হবে।


দরজা বন্ধ করে ১০-১৫ মিনিট রাখলে বরফ আলগা করে দেবে বাষ্প। নরম হয়ে গেলে প্লাস্টিকের চামচ দিয়ে চেঁছে তুলতে হবে বরফ।পুরু বরফ হলে দুয়েকবার গরম পানি বদলে দিতে হতে পারে।


প্লাস্টিক বা কাঠের চামচ দিয়ে চাঁছা


কখনও ধাতব ছুরি বা চামচ ব্যবহার করা যাবে না। করলে ফ্রিজের ভেতরের প্লাস্টিক লাইনিং বা কুলিং কয়েল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।


প্লাস্টিকের স্প্যাচুলা, আইস স্ক্র্যাপার বা কাঠের চামচ দিয়ে ধীরে ধীরে বরফ তুলতে হবে। জোরে চাপ দেওয়া যাবে না, আলতো করে তুলতে হবে বরফ গললে।


হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে গরম বাতাস


হেয়ার ড্রায়ার মাঝারি বা কম তাপে চালিয়ে বরফের ওপর দূর থেকে গরম বাতাস দিতে হবে। এক পর্যায়ে বরফ গলতে শুরু করলে প্লাস্টিকের চামচ দিয়ে তুলে ফেলতে হবে। সতর্ক সাথে কাজটি করতে হবে, পানি বা বরফের সংস্পর্শে হেয়ার ড্রায়ার যেন না আসে। এই পদ্ধতিতে বরফ দ্রুত গলে।


গরম ভেজা তোয়ালের কৌশল


পুরু তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে ভালো করে নিংড়ে বরফের ওপর রেখে ফ্রিজের দরজা বন্ধ করে রাখতে হবে। পাঁচ থেকে ১০ মিনিট পর দরজা খুললে দেখা যাবে, বরফ আলগা হয়ে গেছে। বরফ বেশি পুরু হলে দুতিনবার করতে হতে পারে।


টেবিল ফ্যানের সাহায্য


হেয়ার ড্রায়ার না থাকলে ফ্রিজ খুলে একটা টেবিল ফ্যান চালিয়ে দিতে হবে। এতে বাইরের গরম বাতাস ফ্রিজের ভেতরে ঢুকবে। কোনো অতিরিক্ত তাপ ছাড়াই ধীরে ধীরে বরফ গলতে থাকবে।


বরফ গলার পর পরিষ্কার করা


বরফ গলে গেলে ফ্রিজের ভেতরটা হালকা গরম পানিতে ভেজানো সাবানযুক্ত কাপড় দিয়ে মুছে ফেলার পর ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। আর্দ্রতা থাকলে আবার বরফ জমবে। ফ্রিজ চালু করে ঠাণ্ডা হতে দিন, তারপর খাবার সাজিয়ে রাখতে হবে।


ভবিষ্যতে বরফ জমা ঠেকাতে


  • প্রতিবার ব্যবহারের পর দরজা ভালোভাবে বন্ধ করতে হবে।

  • দরজা বেশিক্ষণ খোলা রাখা যাবে না।

  • দরজার সিল পরখ করতে হবে। ফাঁক বা ফাটল থাকলে মেরামত করা জরুরি।

  • গরম খাবার ফ্রিজে রাখার আগে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে।

  • ফ্রিজ অতিরিক্ত বোঝাই করা যাবে না। বাতাস চলাচলের জন্য জায়গা রাখুন।




  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০৬ এএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে বিভিন্ন সৌন্দর্যচর্চার কৌশল ও ‘ডিআইওয়াই’ টিপসের বন্যা বয়ে যায়। তবে এসব ঘরোয়া টিপস বা হ্যাকস মুখের ত্বকের জন্য কতটা নিরাপদ, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় মুখের ত্বক অনেক বেশি সংবেদনশীল। বিশেষ করে চোখ ও ঠোঁটের চারপাশের ত্বক আরও অনেক বেশি পাতলা, ভঙ্গুর এবং সংবেদনশীল। তাই মুখে কোন ধরনের পণ্য বা উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ বিভাগ ‘ডক্টর এনডিটিভি’-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রখ্যাত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এবং ‘লুমিয়ার ডার্মাটোলজি’-র মেডিকেল ডিরেক্টর ড. কিরণ লোহিয়া এমন ৯টি উপাদানের কথা তুলে ধরেছেন, যা কখনোই মুখে ব্যবহার করা উচিত নয়। সেই ৯টি উপাদানের ক্ষতিকর দিক ও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:


১. বডি লোশন


শরীরের ত্বকের জন্য তৈরি বডি লোশনগুলো ফেসিয়াল ময়েশ্চারাইজারের তুলনায় বেশ ঘন হয় এবং এতে সুগন্ধির পরিমাণও বেশি থাকে। মুখের ত্বকে বডি লোশন ব্যবহার করলে ত্বকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে ব্রণ বের হতে পারে এবং অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই মুখের জন্য সবসময় সুগন্ধিহীন এবং তেলহীন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।


২. চিনি


শরীরের চামড়ার মরা কোষ দূর করতে চিনির স্ক্রাব চমৎকার এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করলেও মুখের ত্বকে চিনি ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। চিনির কণাগুলোর ধারালো আকৃতি মুখের অতিসংবেদনশীল ত্বককে ছিলে ফেলতে পারে এবং ত্বকে অনুবীক্ষণিক বা মাইক্রোস্কোপিক টিয়ার তৈরি করতে পারে।


৩. পেট্রোলিয়াম জেলি


শুষ্ক ত্বক কিংবা শীতকালে ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং পোকামাকড়ের কামড়ে পেট্রোলিয়াম জেলি কার্যকর ভূমিকা রাখে। কিন্তু ঠোঁটের বাইরের পুরো মুখের ত্বকে এটি ব্যবহার করলে তা আর্দ্রতার পাশাপাশি ধুলোবালি ও ময়লাও ত্বকের ওপর আটকে ফেলে। ফলে ত্বক অতিরিক্ত বাতাস ও আর্দ্রতার সংস্পর্শ থেকে বঞ্চিত হয় এবং সময়ের সাথে সাথে ত্বক আরও বেশি শুষ্ক হয়ে পড়ে।


৪. ফুট ক্রিম


মুখের ময়শ্চারাইজার ফুরিয়ে গেলে কখনোই বিকল্প হিসেবে পায়ে দেওয়ার ফুট ক্রিম মুখে লাগানো যাবে না। ফুট ক্রিমে শক্তিশালী কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট থাকে, যা পায়ের শক্ত ও মোটা চামড়ার জন্য উপযোগী হলেও মুখের কোমল ত্বকের জন্য অত্যন্ত কঠোর ও ক্ষতিকর।


৫. গরম পানি


অনেকের ধারণা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুলে ত্বকের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়, যা একটি ভুল ধারণা। স্টিম নেওয়া উপকারী হতে পারে, তবে সরাসরি গরম পানি দিয়ে মুখ ধুলে তা ত্বকের সবচেয়ে বাইরের স্তরের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা পুরোপুরি কেড়ে নেয়।


৬. লেবুর রস


লেবুর মতো সাইট্রাস জাতীয় ফল ত্বকে তীব্র জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। লেবুতে ‘সোরালেন’ নামক একটি রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা ত্বককে সূর্যের আলোর প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তোলে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ড. কিরণ লোহিয়ার মতে, লেবুর রস মুখে লাগিয়ে রোদে গেলে ত্বকে র‍্যাশ ও ফোসকা পড়তে পারে এবং ত্বক পুড়ে যেতে পারে।


৭. রসুন


ব্রণ বা মুখের দাগ কমাতে কাঁচা রসুন লাগানোর ভুল অভ্যাস অনেকেরই আছে। ড. কিরণের মতে, মুখে রসুন লাগালে ত্বকে তীব্র ইরিটেশন বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। এর ফলে ত্বকে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ইরিট্যান্ট ডার্মাটাইটিস’ নামে পরিচিত।


৮. পারফিউম বা সুগন্ধি


সুগন্ধি স্প্রে করার সময় খেয়াল রাখা উচিত যেন তা কোনোভাবেই মুখে না লাগে। কিছু পারফিউমে এমন কিছু উপাদান থাকে যা সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে ত্বককে অতি-সংবেদনশীল করে তোলে। ড. কিরণ সতর্ক করে বলেন, এর ফলে বিরল চর্মরোগ হতে পারে এবং ত্বকে গাঢ় বেগুনি রঙের দাগ বা পিগমেন্টেশন তৈরি হতে পারে।


৯. টুথপেস্ট


মুখে ব্রণ হলে তাতে টুথপেস্ট লাগিয়ে রাখার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। তবে ড. কিরণ লোহিয়া একে পুরোপুরি নিষিদ্ধ বলেছেন। টুথপেস্ট ব্যবহারের ফলে ব্রণের স্থানে ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে এবং পোড়া দাগ বা বার্ন তৈরি হতে পারে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১৭ পিএম

সকালের ঘুম কাটাতে এক কাপ কফি, কাজের ফাঁকে আরেক কাপ এভাবেই অনেকের দিনে ৩-৪ কাপ কফি খাওয়া হয়ে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দিনে কতটা কফি খেলে তা নিরাপদ থাকে? কফির মূল উপাদান ক্যাফেইন অতিরিক্ত পরিমাণে শরীরে গেলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া কিংবা পেটের অস্বস্তির মতো সমস্যা হতে পারে। তাই শুধু কাপ গোনা নয়, দিনে মোট কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।


জানুন দিনে কত কাপ কফি নিরাপদ?


যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) বলছে, বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে দিনে ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন সাধারণত নেতিবাচক প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত নয়। এফডিএ-এর হিসাবে, এটি প্রায় ২ থেকে ৩ কাপ ১২ আউন্সের (প্রায় ৩৫৫ মিলিলিটার) কফির সমান।


তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সব কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ এক নয়। একই আকারের এক কাপ কফিতেও ব্র্যান্ড, তৈরির পদ্ধতি ও কফির ধরন অনুযায়ী ক্যাফেইনের পরিমাণ যথেষ্ট আলাদা হতে পারে। এফডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ১২ আউন্স সাধারণ তৈরি কফিতে প্রায় ১১৩ থেকে ২৪৭ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে। ফলে বড় কাপ বা বেশি ঘন কফি পান করলে কয়েক কাপেই ৪০০ মিলিগ্রামের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।


বেশি কফি খেলে কী হতে পারে?


ক্যাফেইন একটি স্টিমুলান্ট। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, হাত-পা কাঁপা, মাথাব্যথা, বমিভাব, পেটের অস্বস্তি এবং হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারও ক্ষেত্রে উদ্বেগও বাড়তে পারে। তাই রাতে ঘুমাতে সমস্যা হলে বিকেল বা সন্ধ্যার পর কফি খাওয়ার অভ্যাসটিও বিবেচনা করা দরকার। একই সঙ্গে চা, কোলা, এনার্জি ড্রিংক, চকোলেট এবং কিছু ওষুধেও ক্যাফেইন থাকতে পারে। ফলে শুধু কফির কাপ হিসাব করলেই হবে না সারাদিনে সব উৎস মিলিয়ে মোট ক্যাফেইনের পরিমাণ দেখতে হবে।


সবার জন্য কি ৪০০ মিলিগ্রাম একই?


না। এফডিএ-ও বলছে, ক্যাফেইনের প্রভাব ব্যক্তি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। শরীরের ওজন, কিছু শারীরিক সমস্যা, নিয়মিত খাওয়া ওষুধ এবং ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতার ওপর এর প্রভাব নির্ভর করতে পারে। কারও ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম ক্যাফেইনেও অস্বস্তি হতে পারে। গর্ভাবস্থা, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা বা স্তন্যদানকালীন সময়ে ক্যাফেইন কতটা গ্রহণ করা উচিত, তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা ভালো। একইভাবে হৃদ্‌স্পন্দন, উচ্চ রক্তচাপ বা ক্যাফেইনে অস্বস্তির মতো সমস্যা থাকলে নিজের জন্য উপযুক্ত সীমা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত।


কফি মানেই ক্ষতিকর নয়


কফিকে সম্পূর্ণ ক্ষতিকর খাবার হিসেবে দেখারও কারণ নেই। এফডিএ-এর মতে, অধিকাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ক্যাফেইন থাকতে পারে। মূল বিষয় হলো পরিমাণ এবং ব্যক্তিগত সহনশীলতা। আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি ডিক্যাফ কফি মানেই পুরোপুরি ক্যাফেইনমুক্ত নয়। এফডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ৮ আউন্স ডিক্যাফ কফিতেও সাধারণত ২ থেকে ১৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে।


তাই সুস্থ অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে ২-৩ কাপ সাধারণ কফি সাধারণত নিরাপদ সীমার মধ্যে থাকতে পারে, তবে কফির আকার ও ক্যাফেইনের ঘনত্ব বিবেচনা করতে হবে। শরীরে অস্বস্তির লক্ষণ দেখা দিলে পরিমাণ কমানোই ভালো। আর ক্যাফেইনযুক্ত পণ্য হিসেবে বিশুদ্ধ বা অতিমাত্রায় ঘন ক্যাফেইন পাউডার বা তরল এড়িয়ে চলা উচিত এগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১৯ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১৯ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১৯ পিএম

ব্যস্ত জীবন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার কারণে বাড়ছে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। সুস্থ থাকতে অনেকেই কঠিন ব্যায়ামের কথা ভাবেন, কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিদিন সকালে কিছুক্ষণ হাঁটা হতে পারে সুস্থ জীবনের সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর অভ্যাসগুলোর একটি। এটি শুধু শরীরকে সক্রিয় করে না, বরং মনকেও সতেজ রাখে এবং দিনের শুরুটা করে আরও প্রাণবন্ত।


হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখে


সকালে নিয়মিত হাঁটলে হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত হয়। হাঁটার ফলে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত গতিতে হাঁটা হৃদস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।


ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে


ওজন কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাঁটার বিকল্প খুব কম। সকালে খালি পেটে বা হালকা নাশতার পর হাঁটলে শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ হয়। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) বাড়িয়ে দেয়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।


মানসিক চাপ কমায়


সকালের নির্মল পরিবেশে হাঁটা মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। হাঁটার সময় শরীরে এন্ডোরফিন ও সেরোটোনিনের মতো ‘ফিল-গুড’ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা উদ্বেগ, মানসিক চাপ এবং বিষণ্ণতার অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে।


রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়


নিয়মিত হাঁটার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত হাঁটেন তাদের সাধারণ সর্দি-কাশি ও মৌসুমি সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে।


হাড় ও পেশি মজবুত করে


হাঁটা একটি সহজ ও নিরাপদ ব্যায়াম। এটি হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং পেশিকে সক্রিয় রাখে। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় ক্ষয় ও জয়েন্টের সমস্যা কমাতে হাঁটার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।


ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক


সকালে হাঁটার ফলে শরীর ইনসুলিন আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত হাঁটার গুরুত্ব অনেক।


ঘুমের মান উন্নত করে


যারা অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য সকালে হাঁটা উপকারী হতে পারে। নিয়মিত হাঁটার ফলে শরীরের জৈবঘড়ি বা বডি ক্লক সঠিকভাবে কাজ করে, যা রাতে ভালো ঘুমে সহায়তা করে।


মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়


সকালের হাঁটা মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি করে। ফলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা উন্নত হয়। কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী।


ভিটামিন ডি পাওয়ার সুযোগ


সকালের কোমল রোদ শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি গ্রহণে সাহায্য করে। এই ভিটামিন হাড়ের স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


হাঁটার সময় যেসব বিষয় মনে রাখবেন


আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন। হাঁটার আগে ও পরে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। শুরুতে ধীরে হাঁটুন, পরে গতি বাড়ান। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার চেষ্টা করুন। খুব বেশি গরম বা দূষিত পরিবেশে হাঁটা এড়িয়ে চলুন।


সুস্থ থাকার জন্য সব সময় জিমে যাওয়া বা কঠিন ব্যায়াম করার প্রয়োজন হয় না। প্রতিদিন ভোরে বা সকালে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস শরীর ও মনের জন্য উপকারী। সামান্য এই অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে আপনাকে রাখতে পারে আরও কর্মক্ষম, প্রাণবন্ত ও সুস্থ।

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৩ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৩ এএম


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৩ পিএম

প্রতিদিন হাততালি দিলেই বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি মিলতে পারে। কারণ হাতে রয়েছে অসংখ্য স্নায়ু এবং রক্তনালীর প্রান্ত, যেগুলোকে বলা হয় আকুপ্রেশার পয়েন্ট। হাততালি দিলে সেই অংশগুলোতে ঘষা লাগে, চাপ পড়ে। তার ফলে স্নায়ু সক্রিয় হয়।


যেসব উপকার পাবেন


রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে: ছন্দ মেনে তালি বাজালে সারা শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে। এর ফলে দেহের প্রতিটি অংশ ও কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায়, যা হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।


মনমেজাজ ভালো থাকে: এই অনুশীলনে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। তালি বাজালে শরীরে ‘এন্ডরফিন’ হরমোনের ক্ষরণ হয়, যা মন ভালো করে। মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমিয়ে মনকে শান্ত রাখতেও হাততালি দিতে পারেন। 


শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি: হাতের তালুর নিয়মিত সঞ্চালন অস্থিসন্ধির জড়তা কাটায় এবং পেশি শিথিল রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে অস্থিসন্ধি সচল থাকে, শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি পায় এবং পেশির আঘাতের আশঙ্কা কমে।


ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: তালি বাজানোর শারীরচর্চাতে অল্প হলেও ক্যালোরি ক্ষয় হয়। সহজ অভ্যাসটি মেদ ঝরাতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে পরোক্ষে সাহায্য করে।


শরীর ঝরঝরে রাখে: তালি দেওয়ার অভ্যাস লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ বা শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় বা দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। দূষিত পদার্থ বের হলে শরীর তো ভালো থাকবেই। 


হাততালি দিতে হবে সঠিক নিয়ম মেনে 


আনন্দবাজার পত্রিকায় বলা হয়েছে, সকালের দিকেই হাততালির অভ্যাস করা ভালো। হাতে নারকেল তেল বা পছন্দের যেকোনো তেল হালকা মালিশ করে নিন। শিরদাঁড়া সোজা করে পদ্মাসন বা বজ্রাসনে বসে হাততালি দেওয়া অভ্যাস করুন। প্রথমে ২-৩ মিনিট। পরের সপ্তাহে ৫ মিনিট। এই ভাবে ১০-১৫ মিনিট হাততালির অভ্যাস করুন। 

বিষয় :

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১৩ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১৩ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১৩ পিএম

অ্যাবসেন্ট মাইন্ড বা ভুলে যাওয়ার প্রবণতা কাটানোর ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম বা কৌশল নেই। এ ক্ষেত্রে চাইলে আপনি নিজের জন্য আলাদা কোনো কৌশল খুঁজে বের করতে পারেন। চলুন, একজন অ্যাবসেন্ট মাইন্ডেড মানুষের মুখোমুখি হই, যিনি অবস্থার উন্নতির জন্য নানা সমস্যায় পড়েছেন–


আপনিও হতে পারেন সেই লোকটি


অস্বাভাবিক কিছু না। আপনিও হতে পারেন সেই লোকটি। তিনি নিজে আপনাকে বলে যাচ্ছেন, তিনি একসঙ্গে অনেক ব্যাপারে মাথা ঘামাতে অপছন্দ করেন। এ ছাড়া তিনি খুব অন্যমনস্ক। রিমাইন্ডার ছাড়া কোনো কাজ করতে পারেন না। তার যে কোনো কাজে দেরি করার অভ্যাস।


ক্লাসে দেরি


সময়ের ভুল হিসাব করি অনেকে। যেমন- আমার ক্লাস সকাল ৯টায়। তাহলে সময় তো আছেই–এই ভেবে আমি গাড়ি ধরি ৮টা ৪৫ মিনিটে। তখনই মনে হয় আমার প্রয়োজনীয় বই গোছানো হয়নি অথবা আমার প্রয়োজনীয় খাতাটা আনা হয়নি। ফলে ক্লাসে দেরি হয়ে যায়। 


ভুলে গেলেন 


ঘুরতে গিয়ে বা শপিংয়ে যাওয়ার পর বুঝতে পারলেন, পর্যাপ্ত টাকা নেই সঙ্গে। বা হুট করে সেলফোনের ব্যাটারির চার্জ ফুরিয়ে গেল। এমনও হতে পারে যে, ভালো প্রস্তুতির পরও ক্যালকুলেটর অথবা ঘড়ি নিতে ভুলে গেলেন। 


কাজের পুনরাবৃত্তি


যে কোনো ধরনের কাজ পুনরাবৃত্তি অপছন্দ করি। যদিও আমি ওই কাজে পারদর্শী নই। ধরুন, আমি একটি রেস্টুরেন্টের কিচেনে কাজ করতাম। তখন আমি খুব বাজে সময় কাটিয়েছিলাম।  


খেয়াল রাখতে পারেন 


ওপরের প্রতিটি ঘটনার জন্য আলাদা সমাধান দেওয়া যেতে পারে। অনেকে বলতে পারেন, এসব ব্যাপার এড়ানো খুব সহজ। বাস্তবে এ ধরনের সমস্যা কাটিয়ে ওঠা খুব কঠিন। সঠিক কৌশল অবলম্বন করে আপনি এ ধরনের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেন। এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে পারেন– 


দিনের শেষে এবং সকালে: রুটিন ও চেকলিস্ট ভুলে যাওয়ার অভ্যাস রোধে এ ব্যাপারটি অনুসরণ করতে পারেন। নিয়মিত দিনের শেষদিকে আপনার মোবাইল ফোনে চার্জ দিন ও সকালের দিকে মোবাইলটি চার্জার থেকে ডিসকানেক্ট করুন। 


টাইমার: মোবাইল ফোন কিংবা হাতঘড়ির টাইমারটা ওপেন করে কাজ শুরু করুন। এতে ১০ মিনিট আধাঘণ্টা হবে না।  


নির্ধারিত জায়গা: এটি একটি নির্ধারিত জায়গা, যেখানে আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখা থাকবে। যেন বাসা থেকে বের হওয়ার পথ সহজেই খুঁজে পান।


হাত বাড়িয়ে দিন: যে কাজে আপনার কম দক্ষতা, তার সমাধানে অভিজ্ঞ কাউকে খুঁজুন। তবে সব কাজে এটা সম্ভব নাও হতে পারে। 


নেভার বি লেট এগেইন: ‘নেভার বি লেট এগেইন’–এ বইটি পড়তে পারেন। বইটি থেকে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন। এ ছাড়াও ভুলে যাওয়ার অভ্যাস রোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে–গুরুত্বপূর্ণ কাজ নির্দিষ্ট সাইটে সংরক্ষণ করে রাখা। সামনের জরুরি কাজ ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে রাখা। যে কাজ খুব জরুরি, যা আপনাকে করতে হবে, সেগুলোর জন্য ‘আইওয়ান্টসেন্ডি’ ব্যবহার করুন। 

বিষয় :

  • প্রকাশ : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৬ পিএম
  • আপডেট : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৬ এএম


স্মার্ট টিভি

  • প্রকাশ : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৬ পিএম

আধুনিক নাগরিক জীবনে বসার ঘরের প্রধান বিনোদন ও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হল হাই-ডেফিনিশন ‘স্মার্ট টিভি’। 


তবে অনেকেই অলসতা বা অসচেতনতার কারণে চব্বিশ ঘণ্টা টিভি প্লাগ-ইন করে রাখেন বা ভুল পদ্ধতিতে এর সংবেদনশীল স্ক্রিন পরিষ্কার করেন, যা ‘ডিসপ্লে প্যানেলে’র স্থায়ী ক্ষতি করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।


অনেকেই মনে করেন, যেকোনো প্রলেপ বা ভেজা কাপড় দিয়ে কাচের মতো স্ক্রিনটি মুছলেই হল- যা প্রযুক্তি বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিপজ্জনক ভুল ধারণা।


সঠিক নিয়মে যত্ন না নিলে এবং স্ক্রিনে সামান্যতম তরল বা আর্দ্রতা প্রবেশ করলে টিভির ভেতরের ‘লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে (এলসিডি)’ বা এলইডি প্যানেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।


এনার্জি সেইভিং মোড’ ও ব্যাকলাইট কৌশল


যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি-বিষয়ক মাধ্যম ‘সিনেট’ এবং ‘কনজ্যুমার রিপোর্টস’-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্মার্ট টিভির বিদ্যুৎ বিল ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিয়ে আনার প্রধান চাবিকাঠি হল টিভির ‘এনার্জি সেইভিং মোড’ সচল রাখা।


অটো-ব্রাইটনেস ও স্লিপ টাইমার: রাতের অন্ধকারে টিভির ব্রাইটনেস বা উজ্জ্বলতা সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ দিয়ে রাখা ভুল। টিভির সেটিংসে গিয়ে ‘অটো-ব্রাইটনেস’ বা ‘অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সর’ ‘অন’ রাখলে ঘরের আলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টিভির ব্যাকলাইট প্রাকৃতিকভাবেই নিয়ন্ত্রিত হয়।


ফলে চোখের ওপর ক্ষতিকর চাপ কমে এবং কম্প্রেশনের ওপর লোড কম পড়ে বিদ্যুৎ বিল হ্রাস পায়। এছাড়া রাতে টিভি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে যাওয়ার অভ্যাস এড়াতে ‘স্লিপ টাইমার’ দিয়ে রাখাও উপকারী।


ভেজা কাপড় ব্যবহারে স্ক্রিনের ভেতরে ক্ষতিকর বাষ্প


স্যামসাং ও সনি ডিসপ্লে ল্যাবের প্রকৌশলীদের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্মার্ট টিভির স্ক্রিন পরিষ্কার করার সময় ভুলেও সরাসরি ভেজা কাপড় বা তরল স্প্রে ব্যবহার করা যাবে না।


লিকুইড ক্রিস্টাল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি: আধুনিক স্মার্ট টিভির স্ক্রিনের উপরিভাগটা কোনো সাধারণ জানালার শক্ত কাচ নয়; এটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম প্লাস্টিক বা ‘লিকুইড ক্রিস্টাল পলিমার’-এর পাতলা স্তর। ভেজা কাপড় দিয়ে জোরে চাপ দিয়ে মুছলে বা স্ক্রিনে সরাসরি পানি বা ‘লিকুইড ক্লিনার স্প্রে’ করলে, সেই তরলের সূক্ষ্ম কণা বা বাষ্প ‘বেজেল’ বা বর্ডারের ফাঁক গলে সরাসরি ডিসপ্লের অভ্যন্তরীণ সার্কিট ও প্যানেলের ভেতর ঢুকে পড়ে।


ফলে স্ক্রিনের ভেতরে স্থায়ী কালচে ভেজাভাব, জলীয় দাগ বা ডিসপ্লেতে আড়াআড়ি রঙিন রেখা পড়ে প্যানেল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।


স্ক্রিন পরিষ্কারে মাইক্রোফাইবার কাপড়


টিভির ধুলা-ময়লা ঝাড়তে সাধারণ সুতি কাপড়, গামছা, টিস্যু পেপার বা খসখসে তোয়ালে ব্যবহার করা যাবে না। টিস্যু বা সাধারণ কাপড়ের সুক্ষ্ম আঁশ স্ক্রিনের ওপর চিরতরে হাজার হাজার সুক্ষ্ম স্ক্র্যাচ বা দাগ ফেলে দেয়, যা পরে টিভির ছবির স্পষ্টতা নষ্ট করে।


সমাধান: স্ক্রিন পরিষ্কারের হল চশমা মোছার নরম ‘মাইক্রোফাইবার কাপড়’ ব্যবহার করা। কোনো প্রকার তরল ছাড়া শুকনো অবস্থায় এই মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে একদম হালকা হাতে বৃত্তাকারে আলতো করে মুছলে সমস্ত ধূলিকণা কাপড়ের তন্তুর মধ্যে আটকে চলে আসে।


ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও গ্লাস ক্লিনার বর্জন


‘ডিজিটাল ট্রেন্ডস’ এই প্রযুক্তি-বিষয়ক পোর্টালে প্রকাশিত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বাজারে প্রচলিত গ্লাস ক্লিনার (যেমন উইন্ডেক্স বা কলিন), অ্যালকোহল, অ্যাসিটোন বা অ্যামোনিয়া যুক্ত রাসায়নিক তরল ভুলেও টিভির স্ক্রিনে ছোঁয়ানো যাবে না।


এই কড়া রাসায়নিকগুলো স্মার্ট টিভির স্ক্রিনের ওপর থাকা ক্ষতিকর আলোকরশ্মি প্রতিরোধী ‘অ্যান্টি-রিফ্লেক্টিভ কোটিং’ স্থায়ীভাবে গলিয়ে ফেলে।


যদি স্ক্রিনে জেদি আঠালো দাগ থাকে, তবে মাইক্রোফাইবার কাপড়টি সামান্য একটু বিশুদ্ধ পানিতে আলতো ভিজিয়ে (যাতে কাপড় থেকে পানি না টপকায়) দাগের ওপর আলতো করে বুলিয়ে নিতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে অন্য একটি শুকনো মাইক্রোফাইবার দিয়ে সেই পানি মুছে শুকিয়ে ফেলতে হবে।


প্লাগ-আউটের নিয়ম


যুক্তরাষ্ট্রের ‘কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স অ্যাসোসিয়েশন’এর টেকনিক্যাল ম্যাপ অনুযায়ী, টিভি রিমোট দিয়ে বন্ধ করলেই কিন্তু এর বিদ্যুৎ খরচ পুরোপুরি শূন্য হয় না। রিমোট দিয়ে বন্ধ করার পর টিভি মূলত ‘স্ট্যান্ডবাই মোড’-এ থাকে, যা অলক্ষ্যেই চব্বিশ ঘণ্টা ব্যাকগ্রাউন্ডে বিদ্যুৎ টানতে থাকে। তাই টিভি দেখা শেষে প্রধান সুইচের দেয়াল প্লাগ পুরোপুরি বন্ধ করা বা ‘প্লাগ-আউট’ করা নিরাপদ।


এছাড়া টিভির পেছনের ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচলের ছিদ্রগুলোতে ধূলিমলিন জঞ্জাল জমলে টিভির ভেতরের প্রসেসর অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। তাই প্রতি সপ্তাহে একটি শুকনো ডাস্টার দিয়ে টিভির পেছনের ধুলো ঝেড়ে সাফ করা উচিত, যা টিভির ভেতরের দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি হওয়া রোধ করে।


মনে রাখতে হবে


স্মার্ট টিভি কেবল একটি কাচের বাক্স নয়, এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক্সের সূক্ষ্ম মেলাটোনিন আর্ট। সপ্তাহে অন্তত একবার টিভির পেছনের কানেকশন সতর্কতার সঙ্গে পরখ করা দরকার।


যদি দেখা যায় টিভির স্ক্রিন অন করার পর অদ্ভুত কাঁপছে বা দীর্ঘক্ষণ অন থাকার পরও প্রথানুযায়ী ছবি আসছে না, তবে নিজে মিস্ত্রি না সেজে অবিলম্বে ‘অফিশিয়াল ব্র্যান্ডের রেজিস্টার্ড মেকানিক’-এর সরাসরি পেশাদার সাহায্য নেওয়াই হবে ‍বুদ্ধিমানের কাজ।