অতিরিক্ত গরম ঘরে ঘুমানো হৃদযন্ত্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে
গরমের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে এসির ব্যবহারও।
কেউ স্বস্তির জন্য তাপমাত্রা নামিয়ে আনেন ১৯ ডিগ্রিতে, আবার কেউ ২৪ বা ২৭ ডিগ্রিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
তবে আরামটাই কি শেষ কথা? নাকি ঘরের তাপমাত্রা আপনার হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে?
সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, বিষয়টি মোটেই হালকাভাবে নেওয়ার মতো নয়।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে, রাতে শোওয়ার ঘরের তাপমাত্রা আমাদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও বেশি লক্ষ্য করা যায়।
গবেষণা অনুযায়ী, অতিরিক্ত গরম ঘরে ঘুমানো হৃদযন্ত্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৪৭ জন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে পরিচালিত এই সমীক্ষায় দেখা যায়, শোওয়ার ঘরের তাপমাত্রা যদি ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৭৫.২ ডিগ্রি ফারেনহাইট)-এর বেশি হয়, তাহলে তা হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এমনকি ঘুমের সময় হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়।
গবেষণার প্রধান লেখক ফার্গাস ও’কনর জানান, অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হৃদযন্ত্রকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। শরীর ঠান্ডা রাখতে ত্বকের দিকে বেশি রক্ত সঞ্চালন করতে হয়, যার ফলে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ বেড়ে যায়। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ রয়েছে বা যারা বয়সে প্রবীণ, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ সময় ধরে হৃদযন্ত্রকে অতিরিক্ত কাজ করতে হলে তা শরীরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে এবং আগের দিনের ক্লান্তি বা তাপজনিত প্রভাব থেকে পুনরুদ্ধারের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে প্রতি এক ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপও বাড়ে। ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে এই চাপ প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ২৬ থেকে ২৮ ডিগ্রির মধ্যে তা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায় এবং ২৮ ডিগ্রির বেশি হলে প্রায় ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
তাই গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন, শোওয়ার ঘরের তাপমাত্রা প্রায় ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখা হলে ঘুমের সময় শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো সম্ভব এবং হৃদযন্ত্রও স্বাভাবিক ভাবে কাজ করতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
সকালের ঘুম কাটাতে এক কাপ কফি, কাজের ফাঁকে আরেক কাপ এভাবেই অনেকের দিনে ৩-৪ কাপ কফি খাওয়া হয়ে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দিনে কতটা কফি খেলে তা নিরাপদ থাকে? কফির মূল উপাদান ক্যাফেইন অতিরিক্ত পরিমাণে শরীরে গেলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া কিংবা পেটের অস্বস্তির মতো সমস্যা হতে পারে। তাই শুধু কাপ গোনা নয়, দিনে মোট কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
জানুন দিনে কত কাপ কফি নিরাপদ?
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) বলছে, বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে দিনে ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন সাধারণত নেতিবাচক প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত নয়। এফডিএ-এর হিসাবে, এটি প্রায় ২ থেকে ৩ কাপ ১২ আউন্সের (প্রায় ৩৫৫ মিলিলিটার) কফির সমান।
তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সব কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ এক নয়। একই আকারের এক কাপ কফিতেও ব্র্যান্ড, তৈরির পদ্ধতি ও কফির ধরন অনুযায়ী ক্যাফেইনের পরিমাণ যথেষ্ট আলাদা হতে পারে। এফডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ১২ আউন্স সাধারণ তৈরি কফিতে প্রায় ১১৩ থেকে ২৪৭ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে। ফলে বড় কাপ বা বেশি ঘন কফি পান করলে কয়েক কাপেই ৪০০ মিলিগ্রামের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।
বেশি কফি খেলে কী হতে পারে?
ক্যাফেইন একটি স্টিমুলান্ট। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, হাত-পা কাঁপা, মাথাব্যথা, বমিভাব, পেটের অস্বস্তি এবং হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারও ক্ষেত্রে উদ্বেগও বাড়তে পারে। তাই রাতে ঘুমাতে সমস্যা হলে বিকেল বা সন্ধ্যার পর কফি খাওয়ার অভ্যাসটিও বিবেচনা করা দরকার। একই সঙ্গে চা, কোলা, এনার্জি ড্রিংক, চকোলেট এবং কিছু ওষুধেও ক্যাফেইন থাকতে পারে। ফলে শুধু কফির কাপ হিসাব করলেই হবে না সারাদিনে সব উৎস মিলিয়ে মোট ক্যাফেইনের পরিমাণ দেখতে হবে।
সবার জন্য কি ৪০০ মিলিগ্রাম একই?
না। এফডিএ-ও বলছে, ক্যাফেইনের প্রভাব ব্যক্তি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। শরীরের ওজন, কিছু শারীরিক সমস্যা, নিয়মিত খাওয়া ওষুধ এবং ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতার ওপর এর প্রভাব নির্ভর করতে পারে। কারও ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম ক্যাফেইনেও অস্বস্তি হতে পারে। গর্ভাবস্থা, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা বা স্তন্যদানকালীন সময়ে ক্যাফেইন কতটা গ্রহণ করা উচিত, তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা ভালো। একইভাবে হৃদ্স্পন্দন, উচ্চ রক্তচাপ বা ক্যাফেইনে অস্বস্তির মতো সমস্যা থাকলে নিজের জন্য উপযুক্ত সীমা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত।
কফি মানেই ক্ষতিকর নয়
কফিকে সম্পূর্ণ ক্ষতিকর খাবার হিসেবে দেখারও কারণ নেই। এফডিএ-এর মতে, অধিকাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ক্যাফেইন থাকতে পারে। মূল বিষয় হলো পরিমাণ এবং ব্যক্তিগত সহনশীলতা। আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি ডিক্যাফ কফি মানেই পুরোপুরি ক্যাফেইনমুক্ত নয়। এফডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ৮ আউন্স ডিক্যাফ কফিতেও সাধারণত ২ থেকে ১৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে।
তাই সুস্থ অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে ২-৩ কাপ সাধারণ কফি সাধারণত নিরাপদ সীমার মধ্যে থাকতে পারে, তবে কফির আকার ও ক্যাফেইনের ঘনত্ব বিবেচনা করতে হবে। শরীরে অস্বস্তির লক্ষণ দেখা দিলে পরিমাণ কমানোই ভালো। আর ক্যাফেইনযুক্ত পণ্য হিসেবে বিশুদ্ধ বা অতিমাত্রায় ঘন ক্যাফেইন পাউডার বা তরল এড়িয়ে চলা উচিত এগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
ব্যস্ত জীবন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার কারণে বাড়ছে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। সুস্থ থাকতে অনেকেই কঠিন ব্যায়ামের কথা ভাবেন, কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিদিন সকালে কিছুক্ষণ হাঁটা হতে পারে সুস্থ জীবনের সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর অভ্যাসগুলোর একটি। এটি শুধু শরীরকে সক্রিয় করে না, বরং মনকেও সতেজ রাখে এবং দিনের শুরুটা করে আরও প্রাণবন্ত।
হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখে
সকালে নিয়মিত হাঁটলে হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত হয়। হাঁটার ফলে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত গতিতে হাঁটা হৃদস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
ওজন কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাঁটার বিকল্প খুব কম। সকালে খালি পেটে বা হালকা নাশতার পর হাঁটলে শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ হয়। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) বাড়িয়ে দেয়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
মানসিক চাপ কমায়
সকালের নির্মল পরিবেশে হাঁটা মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। হাঁটার সময় শরীরে এন্ডোরফিন ও সেরোটোনিনের মতো ‘ফিল-গুড’ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা উদ্বেগ, মানসিক চাপ এবং বিষণ্ণতার অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়
নিয়মিত হাঁটার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত হাঁটেন তাদের সাধারণ সর্দি-কাশি ও মৌসুমি সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে।
হাড় ও পেশি মজবুত করে
হাঁটা একটি সহজ ও নিরাপদ ব্যায়াম। এটি হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং পেশিকে সক্রিয় রাখে। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় ক্ষয় ও জয়েন্টের সমস্যা কমাতে হাঁটার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
সকালে হাঁটার ফলে শরীর ইনসুলিন আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত হাঁটার গুরুত্ব অনেক।
ঘুমের মান উন্নত করে
যারা অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য সকালে হাঁটা উপকারী হতে পারে। নিয়মিত হাঁটার ফলে শরীরের জৈবঘড়ি বা বডি ক্লক সঠিকভাবে কাজ করে, যা রাতে ভালো ঘুমে সহায়তা করে।
মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়
সকালের হাঁটা মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি করে। ফলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা উন্নত হয়। কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী।
ভিটামিন ডি পাওয়ার সুযোগ
সকালের কোমল রোদ শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি গ্রহণে সাহায্য করে। এই ভিটামিন হাড়ের স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
হাঁটার সময় যেসব বিষয় মনে রাখবেন
আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন। হাঁটার আগে ও পরে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। শুরুতে ধীরে হাঁটুন, পরে গতি বাড়ান। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার চেষ্টা করুন। খুব বেশি গরম বা দূষিত পরিবেশে হাঁটা এড়িয়ে চলুন।
সুস্থ থাকার জন্য সব সময় জিমে যাওয়া বা কঠিন ব্যায়াম করার প্রয়োজন হয় না। প্রতিদিন ভোরে বা সকালে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস শরীর ও মনের জন্য উপকারী। সামান্য এই অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে আপনাকে রাখতে পারে আরও কর্মক্ষম, প্রাণবন্ত ও সুস্থ।
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিদিন হাততালি দিলেই বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি মিলতে পারে। কারণ হাতে রয়েছে অসংখ্য স্নায়ু এবং রক্তনালীর প্রান্ত, যেগুলোকে বলা হয় আকুপ্রেশার পয়েন্ট। হাততালি দিলে সেই অংশগুলোতে ঘষা লাগে, চাপ পড়ে। তার ফলে স্নায়ু সক্রিয় হয়।
যেসব উপকার পাবেন
রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে: ছন্দ মেনে তালি বাজালে সারা শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে। এর ফলে দেহের প্রতিটি অংশ ও কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায়, যা হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
মনমেজাজ ভালো থাকে: এই অনুশীলনে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। তালি বাজালে শরীরে ‘এন্ডরফিন’ হরমোনের ক্ষরণ হয়, যা মন ভালো করে। মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমিয়ে মনকে শান্ত রাখতেও হাততালি দিতে পারেন।
শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি: হাতের তালুর নিয়মিত সঞ্চালন অস্থিসন্ধির জড়তা কাটায় এবং পেশি শিথিল রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে অস্থিসন্ধি সচল থাকে, শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি পায় এবং পেশির আঘাতের আশঙ্কা কমে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: তালি বাজানোর শারীরচর্চাতে অল্প হলেও ক্যালোরি ক্ষয় হয়। সহজ অভ্যাসটি মেদ ঝরাতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে পরোক্ষে সাহায্য করে।
শরীর ঝরঝরে রাখে: তালি দেওয়ার অভ্যাস লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ বা শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় বা দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। দূষিত পদার্থ বের হলে শরীর তো ভালো থাকবেই।
হাততালি দিতে হবে সঠিক নিয়ম মেনে
আনন্দবাজার পত্রিকায় বলা হয়েছে, সকালের দিকেই হাততালির অভ্যাস করা ভালো। হাতে নারকেল তেল বা পছন্দের যেকোনো তেল হালকা মালিশ করে নিন। শিরদাঁড়া সোজা করে পদ্মাসন বা বজ্রাসনে বসে হাততালি দেওয়া অভ্যাস করুন। প্রথমে ২-৩ মিনিট। পরের সপ্তাহে ৫ মিনিট। এই ভাবে ১০-১৫ মিনিট হাততালির অভ্যাস করুন।
প্রতীকী ছবি
অ্যাবসেন্ট মাইন্ড বা ভুলে যাওয়ার প্রবণতা কাটানোর ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম বা কৌশল নেই। এ ক্ষেত্রে চাইলে আপনি নিজের জন্য আলাদা কোনো কৌশল খুঁজে বের করতে পারেন। চলুন, একজন অ্যাবসেন্ট মাইন্ডেড মানুষের মুখোমুখি হই, যিনি অবস্থার উন্নতির জন্য নানা সমস্যায় পড়েছেন–
আপনিও হতে পারেন সেই লোকটি
অস্বাভাবিক কিছু না। আপনিও হতে পারেন সেই লোকটি। তিনি নিজে আপনাকে বলে যাচ্ছেন, তিনি একসঙ্গে অনেক ব্যাপারে মাথা ঘামাতে অপছন্দ করেন। এ ছাড়া তিনি খুব অন্যমনস্ক। রিমাইন্ডার ছাড়া কোনো কাজ করতে পারেন না। তার যে কোনো কাজে দেরি করার অভ্যাস।
ক্লাসে দেরি
সময়ের ভুল হিসাব করি অনেকে। যেমন- আমার ক্লাস সকাল ৯টায়। তাহলে সময় তো আছেই–এই ভেবে আমি গাড়ি ধরি ৮টা ৪৫ মিনিটে। তখনই মনে হয় আমার প্রয়োজনীয় বই গোছানো হয়নি অথবা আমার প্রয়োজনীয় খাতাটা আনা হয়নি। ফলে ক্লাসে দেরি হয়ে যায়।
ভুলে গেলেন
ঘুরতে গিয়ে বা শপিংয়ে যাওয়ার পর বুঝতে পারলেন, পর্যাপ্ত টাকা নেই সঙ্গে। বা হুট করে সেলফোনের ব্যাটারির চার্জ ফুরিয়ে গেল। এমনও হতে পারে যে, ভালো প্রস্তুতির পরও ক্যালকুলেটর অথবা ঘড়ি নিতে ভুলে গেলেন।
কাজের পুনরাবৃত্তি
যে কোনো ধরনের কাজ পুনরাবৃত্তি অপছন্দ করি। যদিও আমি ওই কাজে পারদর্শী নই। ধরুন, আমি একটি রেস্টুরেন্টের কিচেনে কাজ করতাম। তখন আমি খুব বাজে সময় কাটিয়েছিলাম।
খেয়াল রাখতে পারেন
ওপরের প্রতিটি ঘটনার জন্য আলাদা সমাধান দেওয়া যেতে পারে। অনেকে বলতে পারেন, এসব ব্যাপার এড়ানো খুব সহজ। বাস্তবে এ ধরনের সমস্যা কাটিয়ে ওঠা খুব কঠিন। সঠিক কৌশল অবলম্বন করে আপনি এ ধরনের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেন। এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে পারেন–
দিনের শেষে এবং সকালে: রুটিন ও চেকলিস্ট ভুলে যাওয়ার অভ্যাস রোধে এ ব্যাপারটি অনুসরণ করতে পারেন। নিয়মিত দিনের শেষদিকে আপনার মোবাইল ফোনে চার্জ দিন ও সকালের দিকে মোবাইলটি চার্জার থেকে ডিসকানেক্ট করুন।
টাইমার: মোবাইল ফোন কিংবা হাতঘড়ির টাইমারটা ওপেন করে কাজ শুরু করুন। এতে ১০ মিনিট আধাঘণ্টা হবে না।
নির্ধারিত জায়গা: এটি একটি নির্ধারিত জায়গা, যেখানে আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখা থাকবে। যেন বাসা থেকে বের হওয়ার পথ সহজেই খুঁজে পান।
হাত বাড়িয়ে দিন: যে কাজে আপনার কম দক্ষতা, তার সমাধানে অভিজ্ঞ কাউকে খুঁজুন। তবে সব কাজে এটা সম্ভব নাও হতে পারে।
নেভার বি লেট এগেইন: ‘নেভার বি লেট এগেইন’–এ বইটি পড়তে পারেন। বইটি থেকে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন। এ ছাড়াও ভুলে যাওয়ার অভ্যাস রোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে–গুরুত্বপূর্ণ কাজ নির্দিষ্ট সাইটে সংরক্ষণ করে রাখা। সামনের জরুরি কাজ ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে রাখা। যে কাজ খুব জরুরি, যা আপনাকে করতে হবে, সেগুলোর জন্য ‘আইওয়ান্টসেন্ডি’ ব্যবহার করুন।
স্মার্ট টিভি
আধুনিক নাগরিক জীবনে বসার ঘরের প্রধান বিনোদন ও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হল হাই-ডেফিনিশন ‘স্মার্ট টিভি’।
তবে অনেকেই অলসতা বা অসচেতনতার কারণে চব্বিশ ঘণ্টা টিভি প্লাগ-ইন করে রাখেন বা ভুল পদ্ধতিতে এর সংবেদনশীল স্ক্রিন পরিষ্কার করেন, যা ‘ডিসপ্লে প্যানেলে’র স্থায়ী ক্ষতি করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
অনেকেই মনে করেন, যেকোনো প্রলেপ বা ভেজা কাপড় দিয়ে কাচের মতো স্ক্রিনটি মুছলেই হল- যা প্রযুক্তি বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিপজ্জনক ভুল ধারণা।
সঠিক নিয়মে যত্ন না নিলে এবং স্ক্রিনে সামান্যতম তরল বা আর্দ্রতা প্রবেশ করলে টিভির ভেতরের ‘লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে (এলসিডি)’ বা এলইডি প্যানেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
এনার্জি সেইভিং মোড’ ও ব্যাকলাইট কৌশল
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি-বিষয়ক মাধ্যম ‘সিনেট’ এবং ‘কনজ্যুমার রিপোর্টস’-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্মার্ট টিভির বিদ্যুৎ বিল ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিয়ে আনার প্রধান চাবিকাঠি হল টিভির ‘এনার্জি সেইভিং মোড’ সচল রাখা।
অটো-ব্রাইটনেস ও স্লিপ টাইমার: রাতের অন্ধকারে টিভির ব্রাইটনেস বা উজ্জ্বলতা সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ দিয়ে রাখা ভুল। টিভির সেটিংসে গিয়ে ‘অটো-ব্রাইটনেস’ বা ‘অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সর’ ‘অন’ রাখলে ঘরের আলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টিভির ব্যাকলাইট প্রাকৃতিকভাবেই নিয়ন্ত্রিত হয়।
ফলে চোখের ওপর ক্ষতিকর চাপ কমে এবং কম্প্রেশনের ওপর লোড কম পড়ে বিদ্যুৎ বিল হ্রাস পায়। এছাড়া রাতে টিভি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে যাওয়ার অভ্যাস এড়াতে ‘স্লিপ টাইমার’ দিয়ে রাখাও উপকারী।
ভেজা কাপড় ব্যবহারে স্ক্রিনের ভেতরে ক্ষতিকর বাষ্প
স্যামসাং ও সনি ডিসপ্লে ল্যাবের প্রকৌশলীদের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্মার্ট টিভির স্ক্রিন পরিষ্কার করার সময় ভুলেও সরাসরি ভেজা কাপড় বা তরল স্প্রে ব্যবহার করা যাবে না।
লিকুইড ক্রিস্টাল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি: আধুনিক স্মার্ট টিভির স্ক্রিনের উপরিভাগটা কোনো সাধারণ জানালার শক্ত কাচ নয়; এটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম প্লাস্টিক বা ‘লিকুইড ক্রিস্টাল পলিমার’-এর পাতলা স্তর। ভেজা কাপড় দিয়ে জোরে চাপ দিয়ে মুছলে বা স্ক্রিনে সরাসরি পানি বা ‘লিকুইড ক্লিনার স্প্রে’ করলে, সেই তরলের সূক্ষ্ম কণা বা বাষ্প ‘বেজেল’ বা বর্ডারের ফাঁক গলে সরাসরি ডিসপ্লের অভ্যন্তরীণ সার্কিট ও প্যানেলের ভেতর ঢুকে পড়ে।
ফলে স্ক্রিনের ভেতরে স্থায়ী কালচে ভেজাভাব, জলীয় দাগ বা ডিসপ্লেতে আড়াআড়ি রঙিন রেখা পড়ে প্যানেল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
স্ক্রিন পরিষ্কারে মাইক্রোফাইবার কাপড়
টিভির ধুলা-ময়লা ঝাড়তে সাধারণ সুতি কাপড়, গামছা, টিস্যু পেপার বা খসখসে তোয়ালে ব্যবহার করা যাবে না। টিস্যু বা সাধারণ কাপড়ের সুক্ষ্ম আঁশ স্ক্রিনের ওপর চিরতরে হাজার হাজার সুক্ষ্ম স্ক্র্যাচ বা দাগ ফেলে দেয়, যা পরে টিভির ছবির স্পষ্টতা নষ্ট করে।
সমাধান: স্ক্রিন পরিষ্কারের হল চশমা মোছার নরম ‘মাইক্রোফাইবার কাপড়’ ব্যবহার করা। কোনো প্রকার তরল ছাড়া শুকনো অবস্থায় এই মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে একদম হালকা হাতে বৃত্তাকারে আলতো করে মুছলে সমস্ত ধূলিকণা কাপড়ের তন্তুর মধ্যে আটকে চলে আসে।
ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও গ্লাস ক্লিনার বর্জন
‘ডিজিটাল ট্রেন্ডস’ এই প্রযুক্তি-বিষয়ক পোর্টালে প্রকাশিত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বাজারে প্রচলিত গ্লাস ক্লিনার (যেমন উইন্ডেক্স বা কলিন), অ্যালকোহল, অ্যাসিটোন বা অ্যামোনিয়া যুক্ত রাসায়নিক তরল ভুলেও টিভির স্ক্রিনে ছোঁয়ানো যাবে না।
এই কড়া রাসায়নিকগুলো স্মার্ট টিভির স্ক্রিনের ওপর থাকা ক্ষতিকর আলোকরশ্মি প্রতিরোধী ‘অ্যান্টি-রিফ্লেক্টিভ কোটিং’ স্থায়ীভাবে গলিয়ে ফেলে।
যদি স্ক্রিনে জেদি আঠালো দাগ থাকে, তবে মাইক্রোফাইবার কাপড়টি সামান্য একটু বিশুদ্ধ পানিতে আলতো ভিজিয়ে (যাতে কাপড় থেকে পানি না টপকায়) দাগের ওপর আলতো করে বুলিয়ে নিতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে অন্য একটি শুকনো মাইক্রোফাইবার দিয়ে সেই পানি মুছে শুকিয়ে ফেলতে হবে।
প্লাগ-আউটের নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রের ‘কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স অ্যাসোসিয়েশন’এর টেকনিক্যাল ম্যাপ অনুযায়ী, টিভি রিমোট দিয়ে বন্ধ করলেই কিন্তু এর বিদ্যুৎ খরচ পুরোপুরি শূন্য হয় না। রিমোট দিয়ে বন্ধ করার পর টিভি মূলত ‘স্ট্যান্ডবাই মোড’-এ থাকে, যা অলক্ষ্যেই চব্বিশ ঘণ্টা ব্যাকগ্রাউন্ডে বিদ্যুৎ টানতে থাকে। তাই টিভি দেখা শেষে প্রধান সুইচের দেয়াল প্লাগ পুরোপুরি বন্ধ করা বা ‘প্লাগ-আউট’ করা নিরাপদ।
এছাড়া টিভির পেছনের ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচলের ছিদ্রগুলোতে ধূলিমলিন জঞ্জাল জমলে টিভির ভেতরের প্রসেসর অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। তাই প্রতি সপ্তাহে একটি শুকনো ডাস্টার দিয়ে টিভির পেছনের ধুলো ঝেড়ে সাফ করা উচিত, যা টিভির ভেতরের দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি হওয়া রোধ করে।
মনে রাখতে হবে
স্মার্ট টিভি কেবল একটি কাচের বাক্স নয়, এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক্সের সূক্ষ্ম মেলাটোনিন আর্ট। সপ্তাহে অন্তত একবার টিভির পেছনের কানেকশন সতর্কতার সঙ্গে পরখ করা দরকার।
যদি দেখা যায় টিভির স্ক্রিন অন করার পর অদ্ভুত কাঁপছে বা দীর্ঘক্ষণ অন থাকার পরও প্রথানুযায়ী ছবি আসছে না, তবে নিজে মিস্ত্রি না সেজে অবিলম্বে ‘অফিশিয়াল ব্র্যান্ডের রেজিস্টার্ড মেকানিক’-এর সরাসরি পেশাদার সাহায্য নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
ছবি : সংগৃহীত
গরমে অনেকের চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যায়। চুলের গোড়া ও স্ক্যাল্পের যত্নে নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত চুল পড়লে কারণ জানতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডিম ও অলিভ অয়েল
ডিমের সঙ্গে সামান্য অলিভ অয়েল মিশিয়ে চুলে লাগানো যেতে পারে। সপ্তাহে একবার এ ধরনের হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা যায়। কিছুক্ষণ রেখে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।
নারকেলের দুধ
নারকেলের দুধ চুল ও স্ক্যাল্পে ব্যবহার করা যায়। নারকেল কুচি সামান্য পানি দিয়ে ব্লেন্ড করে ছেঁকে দুধ বের করে নিতে হবে। এরপর চুল ও স্ক্যাল্পে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর শ্যাম্পু করে নিতে পারেন।
মেথি
মেথি হালকা ভেজে গুঁড়া করে নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন। এই তেল স্ক্যাল্পে হালকা হাতে ম্যাসাজ করে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন।
মেহেদি
চুলের পরিচর্যায় দীর্ঘদিন ধরে মেহেদি ব্যবহার হয়ে আসছে। মেহেদির পাতা বেটে তেলের সঙ্গে মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করা যায়। তবে ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
পেঁয়াজের রস
পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে সালফার থাকে। মাথায় পেঁয়াজের রস দিলে চুলের ফলিকলে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়। চুল হয় আরও মজবুত।
টক দই
টক দইয়ে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। টক দইয়ের হেয়ার মাস্ক চুলে লাগালে চুল মজবুত হয়। মাথার তালুর সুস্থতা বজায় রাখতেও টক দই কার্যকর।
ঘরোয়া উপাদান ব্যবহারের পাশাপাশি চুল পরিষ্কার রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।