মশা তাড়ানোর স্প্রে
মশার যন্ত্রণায় প্রায় মানুষই অতিষ্ঠ। বিশেষ করে ডেঙ্গুর মতো মশাবাহী রোগের শঙ্কায় অধিকাংশ মানুষই সতর্ক থাকেন। এ কারণে বাসা-বাড়ি থেকে মশা দূর করার জন্য নানা উপায় অবলম্বন করা হয়। এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই প্রচলিত উপায়গুলোয় ভরসা রাখতে দেখা যায় মানুষজনকে। এর কিছু ওষুধ অবশ্য সত্যিই মশার কামড়ের ঝুঁকি কমায়।
মশার কামড়ের ঝুঁকি কমলেও সেসবের ব্যবহার এবং মানুষের ওপর প্রভাব কিন্তু এক হয় না। সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. চিরাগ ট্যান্ডন জানিয়েছেন, মশা তাড়ানোর যে কয়েল, ভেপোরাইজার ও স্প্রে, তাতে রাসায়নিক পদার্থ থাকে। যা মশা তাড়ায় বা মেরে ফেলে। তবে তা উপযুক্ত পরিস্থিতি ও নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োগ করা হলে সুস্থ মানুষদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয় না।
মশার কয়েল
মশা দূর করার জন্য জ্বালানো কয়েল থেকে ধোঁয়া ছড়ায়, যা চোখ, নাক ও গলার জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে। বিশেষ করে বদ্ধ বাসা-বাড়ি বা দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে এমন অস্বস্তিকর অনুভব হতে পারে।
তবে তা হাঁপানি রোগী, অ্যালার্জি বা ফুসফুস সম্পর্কিত অন্যান্য রোগীদের জন্য গুরুতর ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কিছুটা নিরাপদে ব্যবহারের জন্য ঘরে কিছুটা বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা উচিত। আর কয়েলটি যেন সরাসরি মাথার পাশে বা কোনো ছোট শিশুর কাছে রাখা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ চিকিৎসকের।
ভেপোরাইজার
ভেপোরাইজার থেকে পোকামাকড় তাড়ানোর রাসায়নিক ধীরে ধীরে বের হতে থাকে। ডা. চিরাগ ট্যান্ডন জানিয়েছেন, এসব বাসা-বাড়ির ভেতরে ব্যবহার করা যায়। তবে পণ্যের সঙ্গে থাকা নির্দেশনাবলী অনুসরণ করতে হবে এবং কক্ষটি যেন ভালোভাবে বায়ু চলাচলযুক্ত থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে ডাক্তার সতর্ক করে বলেন, ছোট শিশু ও পোষা প্রাণীদের ভেপোরাইজারের কাছে রাখা উচিত নয়।
মশা তাড়ানোর স্প্রে
ডা. চিরাগ ট্যান্ডন উল্লেখ করেছেন, ঘরে মশা তাড়ানোর স্প্রে ব্যবহার করা হলে তা স্বল্প সময়ের জন্য সহায়ক। তবে এর বাইরে থাকলে ব্যক্তিগত স্প্রে ব্যবহার করা উচিত। তার মতে-স্প্রে ব্যবহারের নির্দেশনা মানা না হলে বিপজ্জনক হতে পারে। চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত স্প্রে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হতে পারে।
তবে কোনো ক্ষত বা ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকে এমন পণ্য প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
যা মনে রাখা উচিত
ডা. চিরাগ ট্যান্ডনের মতে, মশা তাড়ানোর পণ্যগুলোর মূল সমস্যা হচ্ছে এর প্রয়োগ প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি। নির্দেশিত পরিমাণ প্রয়োগ করার পর, অতিরিক্ত ব্যবহার করা হলে কোনো বাড়তি উপকার পাওয়া যায় না। বরং রাসায়নিক সংস্পর্শ বেড়ে যাওয়ার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে।
তিনি আরও বলেন, অন্য কোনো বিকল্প উপায় না থাকলে বা নির্দেশাবলীতে বিকল্প উল্লেখ না থাকলে, অতিরিক্ত বা অন্যসব পণ্য মেশানো থেকে বিরত থাকুন। কোনো পণ্যের কারণে দীর্ঘ সময় শ্বাস নিতে সমস্যা হলে বায়ু চলাচলযুক্ত পরিবেশে থাকতে হবে। এরপরও সমস্যার প্রতিকার না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
শিশুদের কি বড়দের মতো চা-কফি পান করা উচিত
সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা বা কফি-অনেক পরিবারের কাছে এটাই দিনের শুরু। বড়রা যখন চায়ের কাপে চুমুক দেন, তখন শিশুদেরও কৌতূহল জাগে। কেউ স্বাদ নিতে চায়, কেউ আবার বড়দের মতো কাপ হাতে নিয়ে বসতে পছন্দ করে। কিন্তু এই পরিচিত অভ্যাস শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে ভাবেন কি?
চা-কফি বড়দের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। এসব পানীয়তে থাকা ক্যাফেইন ঘুম, মনোযোগ ও আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ছোটদের হাতে চায়ের কাপ তুলে দেওয়ার আগে বয়স, পরিমাণ এবং পান করার সময়-সবকিছু বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
চা-কফিতে থাকা ক্যাফেইন কী করে?
ক্যাফেইন একটি প্রাকৃতিক উদ্দীপক উপাদান, যা চা ও কফির পাশাপাশি কোলা, চকলেট এবং কিছু এনার্জি ড্রিংকেও পাওয়া যায়। এটি সাময়িকভাবে ঘুমভাব কমিয়ে সতর্ক থাকতে সাহায্য করতে পারে। তবে শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য ক্যাফেইন অপরিহার্য কোনো পুষ্টি উপাদান নয়।
কিন্তু এটা কোনো খাবারের উপাদান নয়। ক্যালসিয়াম বা আয়রনের মতো শরীররে প্রয়োজন নেই। শিশুদের শরীরের ওজন কম হওয়ায় একই পরিমাণ ক্যাফেইন তাদের ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণে অস্থিরতা, হাত কাঁপা, বুক ধড়ফড়, মাথাব্যথা, পেটের অস্বস্তি এবং ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বয়স অনুযায়ী কতটা ক্যাফেইন?
শিশু-কিশোরদের জন্য ক্যাফেইন গ্রহণের বিষয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শে কিছু পার্থক্য রয়েছে। কানাডার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় চার থেকে ছয় বছর বয়সীদের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ৪৫ মিলিগ্রাম, সাত থেকে নয় বছর বয়সীদের জন্য ৬২ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম এবং ১০ থেকে ১২ বছর বয়সীদের জন্য ৮৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইনের সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই সংখ্যাগুলোকে শিশুদের জন্য নিরাপদে পান করার লক্ষ্য হিসেবে দেখা ঠিক নয়। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস শিশুদের ক্যাফেইন গ্রহণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। তাই বিশেষ করে ছোট শিশুদের নিয়মিত চা-কফি দেওয়ার অভ্যাস না করাই ভালো।
এক কাপেই কতটা ক্যাফেইন থাকে?
চা বা কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ নির্ভর করে পানীয়ের ধরন, পরিমাণ এবং তৈরির পদ্ধতির ওপর। এক কাপ চায়ে কয়েক দশ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে। অন্যদিকে এক কাপ কফিতে এর পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে। বড় মগের কফি বা ঘন করে তৈরি পানীয়তে ক্যাফেইনের মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
এনার্জি ড্রিংকের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। কোনো কোনো ক্যানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্যাফেইন থাকে। কোলা, চকলেট এবং ক্যাফেইনযুক্ত কিছু ওষুধ থেকেও শরীরে এই উপাদান প্রবেশ করতে পারে। ফলে শুধু চা বা কফির হিসাব রাখলেই সব সময় চলে না।
ঘুমের ওপর পড়ে বড় প্রভাব
শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাফেইন শরীরে কয়েক ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে পারে, এর প্রভাব অনেকের ক্ষেত্রে আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়। বিকেল বা সন্ধ্যায় চা-কফি পান করলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে কিংবা ঘুমের মান খারাপ হতে পারে।
ঘুম কম হলে পরদিন পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা, খেলাধুলা করা এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পরীক্ষার আগে জেগে থাকার জন্য কফি পান করাও ভালো কৌশল নয়। কারণ পর্যাপ্ত ঘুম স্মৃতি ও শেখার প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
চা-কফি সরাসরি উচ্চতা কমিয়ে দেয়-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কারণ নেই। তবে ক্যাফেইনের কারণে নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত হলে তা শিশুর সামগ্রিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিকল্প হিসেবে কী দেওয়া যায়?
ছোট শিশুদের নিয়মিত চা-কফি না দিয়ে পানি ও বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত দুধ দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। কিশোরদের ক্ষেত্রেও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়কে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত না করাই শ্রেয়। বিশেষ করে এনার্জি ড্রিংক শিশু-কিশোরদের দেওয়া উচিত নয়।
ভেষজ চায়ে সাধারণত ক্যাফেইন থাকে না, তবে সব পণ্যের উপাদান এক নয়। তাই লেবেল দেখে নেওয়া জরুরি। শিশুদের ক্ষেত্রে কোনো ভেষজ পানীয় নিয়মিত দেওয়ার আগে বয়স ও উপযোগিতা বিবেচনা করা উচিত।
শিশুদের সামনে বড়দের চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস দেখে তারা যেন সেটিকে বড় হওয়ার অপরিহার্য অংশ মনে না করে। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার, নিয়মিত খেলাধুলা এবং পর্যাপ্ত পানি-সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য এগুলোর গুরুত্ব অনেক বেশি। সকালের চায়ের সুবাস থাকুক ঘরে, তবে ছোটদের কাপে তা তুলে দেওয়ার আগে ভাবুন তাদের বয়স ও স্বাস্থ্যের কথা।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, টাইম ম্যাগাজিন
ছবি : সংগৃহীত
দই খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। এটি স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। দইয়ে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিগুণ শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটি হজমশক্তি বাড়াতেও সহায়তা করে। তবে দই সবার জন্য উপকারী নয়। কারও কারও দই খেলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। যেমন-
অ্যালার্জির সমস্যা
কারও যদি অ্যালার্জির সমস্যা থাকে তাহলে তার দই খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।
সাইনাসের সমস্যা
যাদের সাইনাসের সমস্যা আছে তাদের দই খাওয়া একদমই ঠিক নয়। এটি শরীরের কফ বাড়িয়ে কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ল্যাকটোজের প্রভাব
দইয়ে থাকা ল্যাকটোজ উপাদানটি অ্যালার্জি এবং হাঁপানির মতো সমস্যা আরও জটিল করে তুলতে পারে।
হাঁপানি বা অ্যাজমা
যাদের শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে তাদের দই এড়িয়ে চলাই ভালো। এটি হাঁপানির সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সূত্র: এশিয়াননেট
ছবি : সংগৃহীত
সুন্দর, ঝলমলে চুল কার না পছন্দ? কিন্তু প্রতিদিনের দূষণ, পুষ্টির অভাবে চুল পড়াসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। চুল দ্রুত বড় করতে এবং গোড়া থেকে মজবুত করতে খাদ্যতালিকায় বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। এমন কিছু খাবার আছে যা চুলের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। যেমন-
মটরশুঁটি, বিনস ও ডাল
মটরশুঁটি, বিনস এবং ডালে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার ও বিভিন্ন খনিজ পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলের বৃদ্ধি দ্রুত করতে সাহায্য করে।
মাশরুম
মাশরুমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি সেলেনিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান থাকে। এক কাপ তাজা মাশরুম থেকে ৫.৬ মাইক্রোগ্রাম বায়োটিন পাওয়া যায়।
মিষ্টি আলু
মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলকে ভেতরে থেকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে।
ডিম
ডিমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিামিন বি, প্রোটিন, আয়রন এবং ফসফরাস থাকে। ডিমের কুসুমে থাকা বায়োটিন চুলের জন্য খুবই উপকারী।
স্যামন মাছ
স্যামনের মতো চর্বিযুক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। এই উপাদান ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে।
ফ্ল্যাক্স সিড
ফ্ল্যাক্স সিডে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ভরপুর মাত্রায় থাকে। নিয়মিত এটি খেলে চুল মজবুত এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়।
কাঠবাদাম
কাঠবাদামে বায়োটিন পাওয়া যায় । চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত এটি খেতে পারেন।
প্রতীকী ছবি
সকালের নাশতায় অনেকেই কলা খেতে পছন্দ করেন। কেউ বা দিনের অন্য সময় কলা খান। এটির এমন একটি ফল, যা সহজেই পাওয়া যায় এবং পুষ্টিগুণেও ভরপুর। পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। এতে থাকা পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন সি শরীরের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে। নিয়মিত কলা খেলে শরীরে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-
হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে
কলায় থাকা ফাইবার, হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কলা রাখলে প্রয়োজনীয় ফাইবারের জোগান কিছুটা বাড়তে পারে। তবে হজমশক্তি ঠিক রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং অন্যান্য ফল ও শাকসবজি খাওয়াও জরুরি।
হৃৎপিণ্ড ও রক্তচাপের জন্য উপকারী
কলায় থাকা পটাশিয়াম শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে, পেশির সংকোচন এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজকর্ম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এর পাশাপাশি, পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃৎপিণ্ডও সুস্থ থাকে।
শরীরে শক্তি জোগায়
কলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট, শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এ কারণে কাজের ফাঁকে বা শরীরচর্চার আগে-পরে কলা খাওয়া অনেকের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে। কলায় থাকা ভিটামিন বি৬ শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
কলা খেলে কিছুটা সময় পেট ভরা থাকে। এর ফলে ঘন ঘন খিদে পাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে। তবে কলা খেলেই ওজন কমবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। ওজন ণিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন কলা খেলে কি কোনও ক্ষতি হয়
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি কলা খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যেমন-
ডায়াবেটিস থাকলে: কলায় প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট থাকায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের কলা খাওয়ার পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।
কিডনির সমস্যা থাকলে: কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে ক্ষেত্রে কতটা কলা খাওয়া যাবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা জরুরি।
কলায় বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকলেও শরীরের সব চাহিদা পূরণ করার মতো সব ভিটামিন ও খনিজ নেই। তাই ষুস্থ থাকতে অন্যান্য ফল, শাকসবজি, ডাল, শস্য এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও খেতে হবে।
ছবি : সংগৃহীত
কাঁটাচামচের সাহায্যে নুডলস কিংবা চাউমিন খাওয়ার সময় কি কখনো ভেবেছেন, এতে কেন চারটি কাঁটা থাকে? তিনটি কিংবা পাঁচটি নয় কেন? এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস।
প্রাচীন মিশর, গ্রিস ও রোমে কাঁটাচামচের মতো দেখতে বিভিন্ন সরঞ্জামের ব্যবহার ছিল। তবে সেগুলি মূলত রান্নার কাজে ব্যবহার করা হতো, খাবার খাওয়ার জন্য নয়। মধ্যযুগের ইউরোপে আবার অধিকাংশ মানুষ হাত অথবা ছুরি দিয়েই খাবার খেতেন। সেই সময় খাবার খাওয়ার জন্য কাঁটাচামচের ব্যবহার অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক কিংবা অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হতো।
প্রথমে ছিল দুইটি কাঁটা
প্রথম দিকের কাঁটাচামচে চারটির বদলে মাত্র দুইটি কাঁটা থাকত। মাংসের টুকরো গেঁথে খাওয়ার ক্ষেত্রে এই নকশা কার্যকর হলেও নুডলস, পাস্তা বা ভাতের মতো খাবার খেতে সমস্যা হতো। দুই কাঁটার মাঝখান দিয়ে খাবার পড়ে যেত। পরবর্তীতে ইটালিতে পাস্তার জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও তিন কাঁটার চামচের ব্যবহার শুরু হয়। তবে, তাও সব ধরনের খাবারের জন্য যথেষ্ট সুবিধাজনক ছিল না।
কীভাবে এল চার কাঁটার নকশা?
অষ্টাদশ শতকে কাঁটাচামচের নকশায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। জানা গেছে, নেপলসের জেনারো স্পাডাসিনি চারটি কাঁটার নকশা চালু করেন। চারটি কাঁটা থাকায় খাবার খাওয়া আরও সহজ হয়। ধীরে ধীরে এই নকশাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
কেন চারটি কাঁটাই সুবিধাজনক?
চার কাঁটার চামচ সাধারণত খাবারকে তুলনামূলক বেশি সাপোর্ট ও গ্রিপ দেয়। ফলে পাস্তা বা নুডলসের মতো খাবার সহজে আটকে রাখা যায়। আবার মাংসের টুকরো গেঁথে নেওয়া থেকে নরম বা ছোট খাবার তুলে নেওয়া, সব ক্ষেত্রেই চার কাঁটার চামচের নকশা কার্যকর। চারটির বেশি কাঁটা দেওয়া সম্ভব হলেও তাতে কাঁটাচামচ চওড়া ও ভারী হয়ে যেতে পারে। ফলে দৈনন্দিন ব্যবহারে সেটি তুলনামূলক কম সুবিধাজনক। পাশাপাশি কাঁটাচামচের সামান্য বাঁকানো গঠনও খাবার ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন ব্যবহৃত সাধারণ কাঁটাচামচের চারটি ভাগ নিছক নকশা নয়। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বদলাতে বদলাতে চার কাঁটার নকশাই সবচেয়ে প্রচলিত হয়ে উঠেছে।
প্রতীকী ছবি
বয়স বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ওজন এবং পুষ্টি ও ভিটামিনের অভাবে হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। বেশি ব্যথা হলে হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়।
ভারতের সরকারি আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ ইমরান জানান, হাঁটুর ব্যথা উপশমের জন্য কিছু ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহার করা যেতে পারে। তাঁর মতে, হাঁটুর ব্যথার জন্য সর্ষের তেল দিয়ে হালকা মালিশ করা যেতে পারে। কেউ কেউ হালকা গরম তেল দিয়ে মালিশ করে আরাম পেতে পারেন। তবে, অতিরিক্ত চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। হাঁটু ফোলা থাকলে বা আঘাত পেলে মালিশ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
হাঁটুর ব্যথা উপশম করতে খাদ্যাভ্যাসের দিকেও মনোযোগ দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন ডা. মোহাম্মদ ইমরান। রাতে হলুদ মেশানো দুধ পান, মেথি ভিজিয়ে সকালে পান করলে উপকার পাওয়া যায় বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউজ১৮। আদা চা-ও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আরাম দিতে পারে। তবে, এই প্রতিকারগুলো হাঁটুর ব্যথা পুরোপুরি উপশম করবে বা এই অবস্থাকে নির্মূল করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
হাঁটুর ব্যথায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাদ্যাভ্যাসের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন এবং প্রোটিন, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর উপর চাপ বাড়াতে পারে, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
মনে রাখবেন, আর্থ্রাইটিস, আঘাত বা অন্যান্য রোগের কারণেও হাঁটুর ব্যথা হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে, ঘরোয়া প্রতিকারকে চিকিৎসার উপায় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। যদি ব্যথা অব্যাহত থাকে, হাঁটতে অসুবিধা হয়, বা হাঁটু অতিরিক্ত ফুলে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।