চুলের যত্ন
দূষণ, অস্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়া এবং পরিচর্যার অভাবে চুল নিষ্প্রাণ হওয়া স্বাভাবিক। এর ফলে চুলের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে যায়। খুশকি চুল পড়ার সমস্যা বাড়ায়। অনেকে চুলের যত্ন নিতে নামিদামি প্রসাধনী ব্যবহার করেন। কেউ কেউ চুলের হেয়ার স্পা, হেয়ার প্যাকও ব্যবহার করেন। এতে সাময়িক মুক্তি মিললেও চুলের যত্নে তেলের বিকল্প নেই।
তবে অনেক সময় বাজারে পাওয়া তেলে এমন অনেক রাসায়নিক পণ্য মেশানো থাকে; যা চুল ও মাথার ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এর চেয়ে ভরসা রাখতে পারেন ভেষজ তেলের ওপর। ভেষজ তেল চুলে পুষ্টি জোগায়, চুলের গোড়া মজবুত করার পাশাপাশি চুল নরম ও সিল্কি করে তোলে। দোকান থেকে না কিনে বাড়িতে বানিয়ে নিতে পারেন বিভিন্ন ভেষজ তেল। চুলের ধরন ও মাথার ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
আমলকী-নারকেল তেল
চুলের পরিচর্যায় আমলকীর ব্যবহার বেশ পুরোনো। আমলকীর সঙ্গে নারকেল তেল মিশিয়ে তৈরি করা যায় ভেষজ তেল। শুকনো আমলকী টুকরা করে নারকেল তেলে অল্প আঁচে গরম করে নিতে পারেন। ঠান্ডা হলে ছেঁকে পরিষ্কার বোতলে সংরক্ষণ করুন।
জবা ফুলের তেল
জবা ফুল চুলের অনেক ধরনের সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে। এতে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন-সি ও অন্যান্য খনিজ রয়েছে; যা চুলকে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। এই তেল তৈরি করতে ১০টি জবা ফুল এবং ১০টি জবা ফুলের পাতা নিন। এ দুটি উপকরণ বেটে নিন। এবার পরিমাণ মতো নারকেল তেল নিন। এতে জবা ফুল ও পাতা বাটার মিশ্রণটা নারকেল তেলে মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। তেলের রং লাল হতে শুরু করলে নামিয়ে নিন। ঠান্ডা করে জবা ফুলের তেল ব্যবহার করুন।
মেথির তেল
চুলের যত্নে মেথিও বেশ প্রচলিত। নারকেল বা তিলের তেলের সঙ্গে মেথি দিয়ে তৈরি করা যায় মেথির তেল। এক কাপ তেলে এক থেকে দুই চা চামচ মেথি দিয়ে অল্প আঁচে গরম করে নিন। ঠান্ডা করে ছেঁকে চুলে ব্যবহার করুন।
কালোজিরার তেল
কালোজিরা বাঙালির রান্নাঘরের পরিচিত মসলা। চুলের পরিচর্যাতেও এটি ব্যবহৃত হয়। অল্প পরিমাণ কালোজিরা নারকেল বা অন্য কোনো ক্যারিয়ার অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে হালকা গরম করা যায়। তেল ঠান্ডা হলে ছেঁকে ব্যবহার করতে হবে।
নিমের তেল
অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফ্যাঙ্গাল উপাদান থাকায় নিমের তেল মাথার ত্বক ও চুলের জন্য খুব উপকারী। এ তেল ব্যবহারে চুল নরম হয়, চুল ভেঙে যাওয়া রোধ হয়। নিমের তেল সাধারণ খুশকি সমস্যা, মাথার ত্বকের অস্বস্তি দূর করতে ব্যবহার করা হয়। এই তেল তৈরি করতে প্রথমে নিমের পাতা পরিষ্কার করে পেস্ট করে নিন। ভালো করে ফুটিয়ে নিন। ৫ মিনিট ফুটিয়ে দেখে নিন রং পরিবর্তন হচ্ছে কিনা। এবার ওই পেস্ট ছেঁকে নিন।
তবে নিম সবার মাথার ত্বকে একইভাবে কাজ করবে তা নয়। তাই প্রথমবার ব্যবহারের আগে অল্প পরিমাণ তেল ত্বকে লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
তেল ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
তেল ব্যবহারের সময় শুধু চুলে নয়, মাথার ত্বকেও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। যে তেল ব্যবহার করবেন তা আঙুলের ডগা দিয়ে আলতোভাবে কয়েক মিনিট মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করতে পারেন। অনেকে তেল গরম করে চুলে লাগান। মনে রাখবেন, চুলে ব্যবহারের জন্য হালকা গরম তেল উপযোগী। বেশি গরম তেল ব্যবহার করবেন না। চুলে অনেকক্ষণ তেল রেখে দিলে বেশি উপকার হবে–এমন কোনো কথা নেই। চুলের ধরন ও মাথার ত্বকের অবস্থা অনুযায়ী এক থেকে দুই ঘণ্টা পর মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন।
কার্নিভাল মেকওভারের স্বত্বাধিকারী ও রূপ বিশেষজ্ঞ তাসলিমা পলাশী বলেন, পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের পরিবর্তন, বংশগত কারণ, মানসিক চাপ, মাথার ত্বকের সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে চুল পড়তে পারে। তাই কারও যদি দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক হারে চুল পড়ে তাহলে শুধু ভেষজ তেল ব্যবহার করলে কাজ হবে না। একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তাঁর মতে, চুলের নিয়মিত পরিচর্যায় তেল খুবই উপকারী।
তবে ভেষজ উপাদান প্রাকৃতিক বলে যে তা সবার জন্য নিরাপদ বা সব সমস্যার সমাধান করবে, তা নয়। নতুন কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো বলে পরামর্শ দেন এই রূপ বিশেষজ্ঞ।
ছবি : সংগৃহীত
সংসারে ভালোবাসা আছে, যত্ন আছে, দায়িত্ব আছে কিন্তু প্রশংসা? সেটাই যেন অনেক সময় ব্যস্ততার ভিড়ে হারিয়ে যায়। অথচ একটি ছোট্ট প্রশংসা, একটি আন্তরিক কথা কিংবা হঠাৎ বলা ‘তোমাকে আজ খুব সুন্দর লাগছে’ সম্পর্কে এনে দিতে পারে আলাদা উষ্ণতা। বিশেষ করে আজ যদি স্ত্রীর প্রশংসা করার একটা উপলক্ষই থাকে, তাহলে সুযোগটা হাতছাড়া করবেন কেন? তবে সাবধান! প্রশংসা করতে গিয়ে এমন কিছু বলে বসবেন না, যার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রাত কাবার হয়ে যায়।
যেমন, ‘আগের চেয়ে আজ তোমাকে অনেক রোগা লাগছে’ এটা প্রশংসা নাকি নতুন ঝামেলার সূচনা, সেটা নির্ভর করবে পরিস্থিতির ওপর! বরং সহজ, স্বাভাবিক এবং মন থেকে বলা কথাই সবচেয়ে বেশি কাজ করে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, স্ত্রীর প্রশংসা করার ১০ মজার ও সুন্দর উপায়-
১. আজ তোমাকে একটু বেশি সুন্দর লাগছে
প্রতিদিন দেখা হয় বলে সৌন্দর্য চোখে অভ্যাস হয়ে যায়। তাই হঠাৎ একদিন বলুন, ‘আজ তোমাকে বেশ সুন্দর লাগছে।’ চেনা মানুষটির মুখে নতুন করে মুগ্ধ হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করলে খারাপ লাগার কথা নয়।
তবে কথাটি যেন সত্যি হয়, মুখস্থ ডায়লগের মতো না শোনায়। কিন্তু এই ছোট্ট বাক্যটি কিছু খুব কাজের দাম্পত্য সুখের করতে। প্রতিদিন কথাটা বলুন।
২. তার রান্নার প্রশংসা করুন
স্ত্রীর রান্না খেয়ে যদি শুধু ‘হুম, ভালো’ বলে প্লেট পরিষ্কার করে উঠে যান, তাহলে কিন্তু বড় সুযোগ নষ্ট করছেন। আজ একটু বাড়িয়ে বলতেই পারেন, ‘এই রান্নাটা তো রেস্টুরেন্টেও পাওয়া যাবে না!’ তবে একেবারে একই কথা প্রতিদিন বলবেন না। নইলে পরদিন রান্না একটু অন্যরকম হলে প্রশ্ন আসতে পারে ‘কাল তাহলে মিথ্যা বলেছিলে?’
৩. তার পরিশ্রমটা স্বীকার করুন
ঘরের কাজ, অফিস, সন্তান সামলানো কিংবা পরিবারের নানা দায়িত্ব অনেক কাজই চোখে পড়ে না। তাই শুধু চেহারা নয়, তার পরিশ্রমেরও প্রশংসা করুন। বলুন, ‘তুমি যেভাবে সবকিছু সামলে রাখো, সত্যিই সেটা সহজ নয়।’ এই ধরনের প্রশংসা অনেক বেশি অর্থবহ।
৪. তার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করুন
স্ত্রী কোনও সিদ্ধান্ত নিলে সেটি নিয়ে সবসময় নিজের মত চাপিয়ে দেওয়ার বদলে তার ভালো সিদ্ধান্তের কথাও বলুন। ‘তুমি যেভাবে ব্যাপারটা ভেবেছ, সেটা ভালো হয়েছে’ এমন একটি বাক্য সম্পর্কের পারস্পরিক সম্মান বাড়াতে পারে।
৫. তার পোশাক বা সাজের প্রশংসা করুন
নতুন পোশাক, চুলের স্টাইল কিংবা ছোট কোনো পরিবর্তন চোখে পড়লে সেটা বলুন। কারণ ‘কিছুই তো বদলায়নি’ বলে তাকিয়ে থাকা স্বামীদের তালিকায় থাকতে কে চায়? তবে প্রশংসা করতে গিয়ে অন্য কারো সঙ্গে তুলনা না করাই ভালো।
৬. তার হাসির প্রশংসা করুন
খুব সাধারণ একটি কথা, কিন্তু বেশ কার্যকর। ‘তোমার হাসিটা খুব সুন্দর’ এমন কথা শুনতে কে না ভালোবাসে? আর স্ত্রী যদি হাসেন, তাহলে বুঝবেন প্রশংসার ফলাফল ইতিমধ্যেই হাতে চলে এসেছে।
৭. তার রসবোধের প্রশংসা করুন
সংসারে হাসতে পারাটা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। স্ত্রী যদি আপনাকে হাসাতে পারেন, তার সেই গুণটিরও প্রশংসা করুন। বলতে পারেন, ‘তোমার সঙ্গে থাকলে জীবনটা অন্তত বোরিং হয় না।’ অবশ্য তিনি যদি পাল্টা বলেন, ‘তাই নাকি? তাহলে আজ বাসনগুলোও তুমি মাজো’ তখন কিন্তু প্রশংসার সঙ্গে কাজের অর্ডারও আসতে পারে!
৮. তার যত্ন নেওয়ার বিষয়টি বলুন
আপনি অসুস্থ হলে ওষুধ মনে করিয়ে দেওয়া, সময়মতো খেয়েছেন কি না জিজ্ঞেস করা কিংবা ছোটখাটো প্রয়োজনের কথা মনে রাখা এসবই ভালোবাসার প্রকাশ। তাই শুধু সুবিধা নেওয়া নয়, সেই যত্নের কথাও মুখে বলুন। ‘তুমি আমার এত যত্ন নাও, সেটা আমি সত্যিই অ্যাপ্রিসিয়েট করি’ এমন কথা সম্পর্ককে আরও উষ্ণ করতে পারে।
৯. সবার সামনে সম্মান করুন
একান্তে প্রশংসা ভালো, তবে পরিবার বা বন্ধুদের সামনে স্ত্রীর কোনো ভালো দিক তুলে ধরলে সেটার আলাদা গুরুত্ব আছে। তার কাজ, সাফল্য বা কোনো গুণের কথা অন্যদের সামনে বলুন। এতে তিনি বুঝবেন, আপনি শুধু সামনে নয়, অন্যদের কাছেও তাকে সম্মান করেন।
১০. শেষমেশ সরাসরি বলুন ‘তোমাকে পেয়ে আমি খুশি’
সব প্রশংসার মধ্যে সবচেয়ে সহজ এবং সম্ভবত সবচেয়ে গভীর কথাটি হতে পারে ‘তোমাকে আমার জীবনে পেয়ে আমি খুশি।’ এর সঙ্গে নিজের কোনো মজার স্মৃতিও যোগ করতে পারেন। যেমন, ‘তুমি না থাকলে আমার মোবাইল, চাবি আর চার্জার কোনোটাই ঠিক জায়গায় থাকত না!’ হাসির সঙ্গে কথাটাও পৌঁছে যাবে।
প্রশংসার জন্য বিশেষ কোনো দিন অবশ্যই প্রয়োজন নেই। তবে এমন একটি উপলক্ষ থাকলে সেটিকে কাজে লাগানো যায়। কারণ সংসারে বড় উপহার, দামি রেস্তোরাঁ বা চমকপ্রদ আয়োজনের পাশাপাশি কখনো কখনো কয়েকটি আন্তরিক কথাই সবচেয়ে বেশি মনে থাকে।
আর একটা কথা আজ স্ত্রীকে প্রশংসা করতে গিয়ে নিজের প্রশংসা চেয়ে বসবেন না। ‘আমি তো তোমারও অনেক প্রশংসা করি, আমারটা কোথায়?’ এই প্রশ্নটি আজ না করাই ভালো।
কারণ প্রশংসার দিনকে ‘পারস্পরিক হিসাব-নিকাশের দিন’ বানিয়ে ফেললে রোমান্সের বদলে সংসারে অডিট শুরু হয়ে যেতে পারে!
প্রতীকী ছবি
উচ্চ কোলেস্টেরল প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত তেল-মসলা ও ফাস্টফুড এড়িয়ে শাকসবজি, ফলমূল, ওটস ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা উচিত। এর পাশাপাশি নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করা এবং ধূমপান থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন
কোলেস্টেরল মানবদেহের কোষ তৈরি ও হরমোন উৎপাদনের জন্য একটি অত্যন্ত জরুরি উপাদান। তবে রক্তে এর পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেড়ে গেলে তা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল অতিরিক্ত বেড়ে গেলে তা রক্তনালির দেয়ালে জমে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, শরীরে কোলেস্টেরল বাড়লেও প্রাথমিক অবস্থায় অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। এ কারণে চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে নীরব ঘাতক বলা হয়ে থাকে। তবে সতর্ক দৃষ্টি রাখলে এবং শরীরের কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করলে কোলেস্টেরল বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া সম্ভব।
হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কে প্রভাব
রক্তনালিতে চর্বি জমার কারণে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়, যার প্রথম প্রভাব পড়ে হৃদযন্ত্র ও রক্ত সংবহনতন্ত্রে। বুক ধড়ফড় করা, সামান্য পরিশ্রমে বা হাঁটাচলা করলে বুক চেপে আসা বা ব্যথা অনুভূত হওয়া উচ্চ কোলেস্টেরলের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না, ফলে সার্বক্ষণিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব হতে পারে। এছাড়া মস্তিষ্কে সঠিক মাত্রায় অক্সিজেন ও রক্ত না পৌঁছালে হঠাৎ করে মাথা ঘোরানো, মাথা ঝিমঝিম করা বা ঘন ঘন তীব্র মাথাব্যথা হতে পারে।
হাত ও পায়ে রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা
শরীরের প্রান্তিক অংশগুলোতে যেমন হাত ও পায়ে কোলেস্টেরল বাড়ার লক্ষণ তুলনামূলক বেশি স্পষ্ট হয়। রক্তনালিতে চর্বির আস্তরণ জমার ফলে হাত ও পায়ে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। এর ফলে হাত বা পা ঘন ঘন অবশ হয়ে যাওয়া, ঝিমঝিম করা কিংবা ঠান্ডা হয়ে থাকার অনুভূতি হতে পারে। অনেকে হাঁটার সময় পায়ে বা মাংসপেশিতে তীব্র টান ও ব্যথা অনুভব করেন, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ বলা হয়। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চোখ ও ত্বকের পরিবর্তন
উচ্চ কোলেস্টেরলের কিছু স্পষ্ট লক্ষণ চোখে ও ত্বকেও ফুটে ওঠে। চোখের পাতার ওপর বা চোখের চারপাশে নরম, হলুদ রঙের চর্বির ছোট ছোট দলা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় জান্থেলাস্মা। এটি রক্তে অতিরিক্ত চর্বি বা কোলেস্টেরলের একটি প্রত্যক্ষ ইঙ্গিত। অনেক সময় বয়স্কদের ক্ষেত্রে অথবা উচ্চ কোলেস্টেরলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চোখের মণির চারপাশে একটি ধূসর বা সাদা রঙের বলয় বা রিং তৈরি হতে দেখা যায়। এছাড়া কনুই, হাঁটু বা হাতের তালুর ত্বকের নিচে ছোট ছোট চর্বির গুটি বা গুটি দেখা দিতে পারে।
হজমপ্রক্রিয়া ও ঘুমের ব্যাঘাত
হজমপ্রক্রিয়া ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গের কাজের পরিবর্তন থেকেও কোলেস্টেরল বাড়ার আঁচ পাওয়া যায়। যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমলে বা রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হলে হজমে গোলযোগ দেখা দিতে পারে। সামান্য খাবার খেলেই পেট ভারী লাগা, গ্যাস বা অম্লতার সমস্যা বেড়ে যাওয়া এবং যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমার কারণে পেটের ডান দিকের উপরিভাগে এক ধরনের অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, রক্তে চর্বির মাত্রা অত্যধিক বাড়লে রাতে ঘুমের সময় শ্বাসকষ্ট হওয়া কিংবা পা কামড়ানোর মতো অস্বস্তি হতে পারে, যা ঘুমের গুণগত মান নষ্ট করে।
উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক ক্লান্তি
উচ্চ কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তচাপ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। রক্তনালির ভেতর চর্বি জমে সরু হয়ে গেলে হৃদযন্ত্রকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিতে রক্ত পাম্প করতে হয়, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপের কারণে মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগে ঘাটতি এবং মানসিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
কোলেস্টেরল নির্ণয়ের উপায়
উচ্চ কোলেস্টেরল নির্ণয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট উপায় হলো রক্ত পরীক্ষা করা, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় লিপিড প্রোফাইল টেস্ট বলা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তে মোট কোলেস্টেরল, ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল, খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের সঠিক মাত্রা জানা যায়। কুড়ি বছর বয়সের পর থেকে প্রত্যেক মানুষেরই অন্তত প্রতি কয়েক বছরে একবার এই পরীক্ষা করানো উচিত। পরিবারে হৃদরোগ বা চর্বির সমস্যা থাকলে আরও অল্প বয়স থেকে নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
প্রতিরোধ ও প্রতিকার
উচ্চ কোলেস্টেরল প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত তেল-মসলা ও ফাস্টফুড এড়িয়ে শাকসবজি, ফলমূল, ওটস ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা উচিত। এর পাশাপাশি নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করা এবং ধূমপান থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে সুস্থ ও দীর্ঘজীবন বজায় রাখা সম্ভব।
ফাইবারযুক্ত খাবার
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মেজাজ ভালো রাখতে পরিপাকতন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া দারুণ কাজ করে। পরিপাকতন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য ঠিক রাখাকেই 'গাট হেলথ' বা পেটের স্বাস্থ্য বলা হয়। পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ফাইবারযুক্ত খাবার খুবই উপকারী। যেমন-
১. মসুর ডাল, ছোলা, কালো বিনস এবং কিডনি বিনসে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার থাকে। এই ফাইবারগুলো পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
২. ওটস, বার্লি এবং ব্রাউন রাইসের মতো গোটা শস্য পরিপাকতন্ত্রকে পুষ্টি জোগায়। এসব খাবার নিয়মিত পেট পরিষ্কার রাখতেও দারুণ সাহায্য করে।
৩, আপেল, খোসাসহ নাশপাতি, রাস্পবেরি এবং ব্ল্যাকবেরির মতো ফলগুলো পেটের জন্য খুব ভালো। এগুলো থেকে শরীর পেকটিন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়।
৪. ব্রকলি, সবুজ শাকসবজি এবং খোসাসহ আলু পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে পেট পরিষ্কার হওয়ার প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়।
৫.চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড এবং আমন্ডে প্রচুর পরিমাণে প্রিবায়োটিক ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে। এসব খাবার পেটে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে।
৬. মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, বিটা ক্যারোটিন, বি ভিটামিন এবং ফাইবার থাকে। একটি মাঝারি আকৃতির মিষ্টি আলুতে প্রায় ৪ গ্রাম ডায়েটারি ফাইবার পাওয়া যায়।
৭. গাজরে থাকা বিটা ক্যারোটিন শরীরে গিয়ে ভিটামিন এ-তে পরিণত হয়, যা পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এক কাপ কাটা গাজরে ৪.৬ গ্রাম ডায়েটারি ফাইবার পাওয়া যায়।
সূত্র: এশিয়াননেট
নদীর রূপালি ইলিশের চিরন্তন স্বাদ ফিরে পাবেন ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে
বাঙালির রসনা ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ ইলিশকে ঘিরে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট আয়োজন করছে ‘ইলিশ উৎসব’। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ উৎসব, যেখানে ইলিশের চিরচেনা স্বাদে অতিথিরা উপভোগ করবেন বাঙালিয়ানার এক অনন্য রসনাযাত্রা।
উৎসব চলাকালীন প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত থাকছে বিশেষ ইলিশ মেনু। আয়োজনে থাকছে বাঙালির প্রিয় ইলিশ খিচুড়ি, সর্ষে ইলিশ, ইলিশ ভাজা, ইলিশ পোলাও ও দই ইলিশ, যেখানে প্রতিটি পদে ফুটে উঠবে দেশীয় মসলা, ঐতিহ্যবাহী রান্নার ঘ্রাণ এবং আধুনিক পরিবেশনের নান্দনিকতা।
সুগন্ধি ভুনা খিচুড়ির সঙ্গে মচমচে ইলিশ ভাজা, সর্ষের ঝাঁঝালো ঘ্রাণে সর্ষে ইলিশ, কিংবা বাঙালির চিরন্তন স্বাদের ইলিশ পোলাও, প্রতিটি পদই অতিথিদের নিয়ে যাবে বাংলার শিকড় ও স্মৃতিমাখা রান্নাঘরের স্বাদে।
নদীর রূপালি উপহার, বাঙালির হৃদয়ের ভালোবাসা এই ইলিশ উৎসবে একেকটি পদে ফিরে আসুক বাংলার চিরন্তন স্বাদ ও গল্প।
পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের সঙ্গে স্বাদ, ঐতিহ্য ও নস্টালজিয়ায় ভরা ইলিশের এই উৎসব উপভোগ করতে সকলকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে ঢাকা রিজেন্সি।
বিস্তারিত তথ্য ও বুকিং এর জন্য যোগাযোগ করুন 01713-332661 নম্বরে অথবা ভিজিট করুন- https://www.facebook.com/share/1C64roDE3a এই ঠিকানায়।
ছবি : সংগৃহীত
৩০-এর পর অনেকের চোখের পাশে সূক্ষ্ম রেখা, ত্বকের শুষ্কতা, ঔজ্জ্বল্য কমে যাওয়া বা কালচে দাগের মতো পরিবর্তন চোখে পড়তে শুরু করে। তবে বয়স বাড়া মানে ত্বকের তারুণ্য দ্রুত হারিয়ে যাওয়া নয়। ত্বকের বার্ধক্য একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। বয়সের পাশাপাশি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, ধূমপান, অনিয়মিত ঘুম, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও কম শারীরিক পরিশ্রম ত্বকের বার্ধক্যকে দ্রুত দৃশ্যমান করতে পারে। বিশেষ করে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি অকাল ত্বক বার্ধক্যের অন্যতম প্রধান কারণ।
ত্বকের বার্ধক্য মূলত দুই ধরনের- অভ্যন্তরীণ বার্ধক্য, যা বয়স ও জেনেটিক্সের স্বাভাবিক প্রভাব এবং বাহ্যিক বার্ধক্য, যা পরিবেশ ও জীবনযাপনের কারণে ত্বরান্বিত হয়। এর অনেক কারণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই ৩০-এর পর ত্বকের যত্ন শুধু প্রসাধনীতে সীমাবদ্ধ না রেখে শুরু করুন ভেতর থেকে-খাবারের প্লেট থেকে।
বার্ধক্য রোধে তারুণ্য ধরে ত্বকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান
পর্যাপ্ত প্রোটিন
ত্বকের কোলাজেন, ইলাস্টিনসহ বিভিন্ন গঠনগত প্রোটিন তৈরিতে অ্যামাইনো এসিড প্রয়োজন। তাই প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকা জরুরি।
উৎস: ডিম, মাছ, মুরগি, বিভিন্ন ডাল, ছোলা, টক দই, দুধ, ছানা, পনির, মাংস।
ভিটামিন-সি
ভিটামিন-সি কোলাজেন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করে।
উৎস: আমলকী, পেয়ারা, লেবু, কমলা, মাল্টা, জাম্বুরা, আমড়া, কাঁচামরিচ, টমেটো ও বিভিন্ন রঙের সবজি।
ভিটামিন-এ ও ক্যারোটিনয়েড
ত্বকের স্বাভাবিক কোষীয় কার্যক্রম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভিটামিন-এর উচ্চ ডোজ সাপ্লিমেন্ট নিজের ইচ্ছায় গ্রহণ করা উচিত নয়। খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।
উৎস: গাজর, মিষ্টিকুমড়া, পালংশাক, লালশাক, পাকা পেঁপে, মিষ্টি আলু ও কলিজা।
ভিটামিন-ই
শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
উৎস: বাদাম, চিনাবাদাম, তিল, সূর্যমুখীর বীজ ও উদ্ভিজ্জ তেল। তবে বাদাম ও বীজ পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত–এক দিনে ২৫ গ্রামের বেশি নয়।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড
ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা স্তর বা ব্যারিয়ার বজায় রাখতে সহায়ক। পাশাপাশি সামগ্রিক হৃৎস্বাস্থ্য ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
উৎস: ইলিশসহ তৈলাক্ত মাছ, সামুদ্রিক মাছ, পুঁটি ও পাবদা মাছ, আখরোট ও কিছু চিয়া সিড তিসি বীজ।
জিঙ্ক, সেলেনিয়ামসহ অন্যান্য খনিজ
ত্বকের স্বাভাবিক মেরামত ও বিভিন্ন এনজাইমেটিক প্রসেসের জৈবিক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয়।
উৎস: মাছ, ডিম, টক দই, দুধ, ছানা, পনির, মাংস, ডাল, বিভিন্ন বাদাম ও বীজ।
তাই কোনো একটি ‘সুপারফুড’-এর ওপর নির্ভর না করে বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাবার খাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কোন খাবারগুলো কমানো উচিত
একটি নির্দিষ্ট খাবার খেলে ত্বক দ্রুত বুড়িয়ে যায় না। তবে দীর্ঘদিন ধরে শরীরে ইনফ্লামেশন বাড়ায় অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি, কেক-পেস্ট্রি, মিষ্টি পানীয়, রিফাইন্ড শর্করা, কমার্শিয়ালি প্রোসেসড খাবার, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়, এতে ত্বক দ্রুত বুড়িয়ে যায়।
অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত শর্করা শরীরে এমন কিছু জৈবিক প্রক্রিয়াকে গ্লাইকেশন বাড়িয়ে দেয়; যা কোলাজেন ও অন্যান্য প্রোটিনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ও এতে ত্বক দ্রুত বুড়িয়ে যায়।
ত্বকের সবচেয়ে বড় শত্রু সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি
অকাল ত্বক বার্ধক্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ অতিরিক্ত অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শ। এটি কোলাজেন ও ইলাস্টিনের ক্ষতি করে বলিরেখা, কালচে দাগ ও অসম ত্বকের রং বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন, ছাতা, টুপি ও প্রয়োজন অনুযায়ী শরীর ঢেকে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
ঘুম, ব্যায়াম ও মানসিক চাপও গুরুত্বপূর্ণ
শুধু ভালো খাবার খেলে হবে না। রাত ১১টা থেকে গভীর ও পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান-মদপান থেকে দূরে থাকা সুস্থ ত্বক ও সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৩০-এর পর সহজ ‘ত্বকবান্ধব প্লেট’
অর্ধেক: বিভিন্ন রঙের শাকসবজি ও সালাদ।
এক-চতুর্থাংশ: মাছ, ডিম, মুরগি বা ডালজাতীয় প্রোটিন।
এক-চতুর্থাংশ: পরিমিত ভাত, লাল চাল বা আটার রুটি বা মিষ্টি ফল।
সঙ্গে: একটি মৌসুমি টক ফল এবং পরিমিত বাদাম বা বীজ।
ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার নির্দিষ্ট কোনো জাদুকরী খাবার নেই। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো-সুষম ও পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফল-সবজি, স্বাস্থ্যকর চর্বি, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত ব্যায়াম, ভালো ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত সূর্য সুরক্ষা।
ছবি : সংগৃহীত
মন খারাপ, মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তার সময় নিজেকে ভালো রাখতে অনেক সময় বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের কিছু সহজ অভ্যাসও মন ভালো করতে, চাপ কমাতে এবং কাজে মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এসব ছোট ছোট অভ্যাসকে বলা হয় ‘মাইক্রো-প্র্যাকটিস’। ‘মাইক্রো-প্র্যাকটিস’ বইয়ের লেখক এলি সাসম্যানের মতে, কিছু সহজ অনুশীলন করতে মাত্র ৩০ সেকেন্ডই যথেষ্ট।
হাসির ব্যায়াম
হাসির ব্যায়ামের মূল বিষয় হলো কোনো কৌতুক ছাড়াই হাসা। শুরুতে কৃত্রিমভাবে হাসা একটু অস্বস্তিকর লাগতে পারে। তবে কিছুক্ষণ পর সেই হাসি সত্যিকারের হাসিতে পরিণত হতে পারে।
নেদারল্যান্ডসের ডেলফ্ট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষক নাটালি ভ্যান ডার ওয়াল জানান, হাসির ব্যায়াম শুরু হয় শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার ব্যায়াম দিয়ে। এরপর কৃত্রিমভাবে হাসতে বলা হয়। কিছুক্ষণ পর তা সত্যিকারের হাসিতে পরিণত হয়। একটি বড় গবেষণা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মন খারাপ ও দুশ্চিন্তা কমাতে কৌতুক ছাড়া হাসি কৌতুকের মাধ্যমে হাসার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ কার্যকর হতে পারে।
যেভাবে করবেন:
প্রথমে তিনবার গভীর শ্বাস নিন। হাত পেটের ওপর রাখুন। এরপর কৃত্রিমভাবে হাসতে শুরু করুন। কঠিন মনে হলে ‘হি হি হি, হা হা হা’ বলে শুরু করতে পারেন। ধীরে ধীরে হাসির শব্দ বাড়ান। শেষে আবার গভীর শ্বাস নিয়ে এমন কোনো বিষয়ের কথা ভাবুন, যার জন্য আপনি কৃতজ্ঞ।
মাইক্রো যোগা
দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইলের সামনে বসে থাকলে শরীরে জড়তা আসে। অনেক সময় কুঁজো হয়ে বসার অভ্যাসও তৈরি হয়। সহজ কিছু স্ট্রেচিং বা শরীর টানটান করার ব্যায়াম এ সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে। সাসম্যান এটিকে ‘মাইক্রো যোগা’ বলেছেন। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১৫ মিনিট পরপর মাত্র ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড শরীর প্রসারিত করলে কাজের দক্ষতা প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে। গভীর শ্বাস নেওয়া ও মনোযোগ ধরে রাখার সঙ্গে এই ব্যায়াম করলে মানসিক চাপও কমতে পারে।
যেভাবে করবেন:
দুই হাত পিঠের পেছনে নিয়ে আঙুলগুলো জড়িয়ে ধরুন। শ্বাস নেওয়ার সময় হাত নিচের দিকে টানুন এবং বুক একটু ওপরে তুলুন। শ্বাস ছাড়ার সময় শরীর ঢিলে করুন। এভাবে দুই থেকে তিনবার ধীরে শ্বাস নিন। নতুন কোনো ব্যায়াম শুরু করার আগে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ধীরে শ্বাস নেওয়া
মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তার সময় ধীরে ও গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া শরীর ও মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে। এতে শরীরের ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ বা বিপদের সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর অবস্থা কমে আসে।সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, তিনবার ধীরে গভীর শ্বাস নিলে মস্তিষ্কের এমন কিছু তরঙ্গ বাড়ে, যা শান্ত থাকা ও মনোযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ইতালির ইউনিভার্সিটি অব নেপলস ফেদেরিকো ২-এর গবেষক অমিত কুমার বলেন, অফিসের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে কিংবা মন খুব অস্থির হয়ে পড়লে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়। নিয়মিত করলে মানসিক চাপ কম রাখতেও এটি সাহায্য করতে পারে।
যেভাবে করবেন:
আরাম করে বসে চোখ বন্ধ করুন। ধীরে তিনবার গভীর শ্বাস নিন। প্রতিবার প্রায় ১০ সেকেন্ড সময় নিন। শ্বাস নেওয়ার চেয়ে ছাড়ার সময় একটু বেশি রাখুন। বাতাস নাক দিয়ে ঢোকা ও বের হওয়ার দিকে মনোযোগ দিন।
নিজেকে শান্ত করার স্পর্শ
নিজেকে আলতো করে স্পর্শ করেও মন শান্ত করা যায়। সাসম্যান ও তাঁর সহকর্মীদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ২০ সেকেন্ডের এমন একটি অনুশীলন থেকেও উপকার পাওয়া যেতে পারে। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের প্রতি ভালো ও সদয় চিন্তা করার সময় বুক ও পেটের ওপর হাত রেখেছিলেন। মাত্র ২০ সেকেন্ডের এই অনুশীলনের পর তাদের শরীরে ‘কর্টিসল’ নামের স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা অন্য দলের তুলনায় কম ছিল।
পরবর্তী আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত এই অনুশীলন করলে ছয় মাস পর নিজের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতির অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।
যেভাবে করবেন:
বুক বা হাতের ওপর আলতো করে এক বা দুই হাত রাখুন। ধীরে শ্বাস নিন। নিজের সম্পর্কে ভালো কিছু ভাবুন এবং হাতের উষ্ণতা ও হালকা চাপের দিকে মনোযোগ দিন।
সবগুলো অভ্যাস একসঙ্গে করার দরকার নেই। নিজের জীবনযাত্রার সঙ্গে যেটি মানানসই, সেটিই বেছে নেওয়া যেতে পারে। ভ্যান ডার ওয়াল বলেন, একেকজনের ক্ষেত্রে একেক ধরনের অভ্যাস কাজ করতে পারে। তাই কয়েকটি পদ্ধতি চেষ্টা করে নিজের জন্য যেটি ভালো লাগে, সেটি চালিয়ে যেতে পারেন।
হাঁটা বা বাসন ধোয়ার মতো দৈনন্দিন কাজের মাঝেও কিছুক্ষণ গভীর শ্বাস নেওয়া বা মনোযোগ দিয়ে নিজের দিকে খেয়াল করা যায়। এতে মন ভালো রাখা এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য হতে পারে।