ছবি: সংগৃহীত।
কাচের বাসনপত্র দেখতে যতটা সুন্দর, ব্যবহার করতে ততটাই সাবধানতা দরকার। একটু অসতর্ক হলেই বা হাত ফসকে পড়লেই মুহূর্তে ভেঙে যায় শখের গ্লাস কিংবা বাটি।
কিন্তু আসল সমস্যা শুরু হয় ভাঙার পর গুঁড়া গুঁড়া কাচ পরিষ্কার করা। অনেক সময় তাড়াহুড়া করতে গিয়ে হাতে কেটে যাওয়ার ভয় থাকে। বিশেষ করে ছোট ছোট কাচের টুকরা হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তবে কিছু সহজ উপায় জানলে নিরাপদেই পরিষ্কার করা সম্ভব।
আসুন জেনে নেওয়া যাক মেঝে থেকে কীভাবে ভাঙা কাচ পরিষ্কার করবেন-
১. পাউরুটি দিয়ে
ভাঙা কাচ পরিষ্কার করতে পাউরুটি বেশ কার্যকর। প্রথমে হাতে গ্লাভস পরুন, আর পায়ে জুতা থাকলে আরও ভালো। এরপর যেখানে কাচ ভেঙেছে, সেখানে এক টুকরো পাউরুটি চেপে ধরুন। দেখবেন, কাচের গুঁড়া পাউরুটির সঙ্গে আটকে যাচ্ছে। চাইলে পাউরুটিটা সামান্য ভিজিয়ে নিতে পারেন। ফ্ল্যাশলাইট বা টর্চ জ্বালিয়ে ভালো করে দেখে নিন কোথায় কোথায় কাচ ছড়িয়ে আছে। এরপর ধীরে ধীরে পাউরুটি দিয়ে তুলে ফেলুন। সবশেষে ভেজা কাপড় দিয়ে জায়গাটা ভালোভাবে মুছে নিন।
২. টিস্যু পেপার দিয়ে
ভাঙা কাচের ছোট টুকরা বা গুঁড়ো পরিষ্কার করতে টিস্যু পেপারও কাজে দেয়। কয়েকটি টিস্যু পেপার পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে কাচের উপর আলতোভাবে বুলিয়ে নিন। ভেজা টিস্যুর সঙ্গে কাচের গুঁড়া আটকে যাবে। একবারে পুরোটা পরিষ্কার না হলে দুই-তিনবার একইভাবে করুন। চাইলে ফেশিয়াল টিস্যু বা ওয়েট টিস্যুও ব্যবহার করতে পারেন।
৩. ডাবল টেপ ব্যবহার করে
ডাবল টেপ দিয়েও সহজে কাচ পরিষ্কার করা যায়। একটি স্টিলের গ্লাস বা বাটির নিচে কয়েক টুকরা ডাবল টেপ লাগান। এবার সেটি ভাঙা কাচের ওপর আলতোভাবে ঘষে নিন। দেখবেন, কাচের গুঁড়া টেপে আটকে যাচ্ছে। পরে টেপ খুলে ফেলে দিন। এই পদ্ধতিতে খুব ছোট কাচের কণাও সহজে পরিষ্কার হয়ে যায়।
৪.আলু ব্যবহার করে
ঘরে পাউরুটি না থাকলে বড় আকারের আলু ব্যবহার করেও কাচের টুকরো পরিষ্কার করা যায়। এ জন্য একটি আলু অর্ধেক করে কাটতে হবে। সেই আলুর অর্ধেক কাটা অংশ কাচের ওপরে চেপে ধরতে হবে। এতে কাচগুলো আলুর সঙ্গে উঠে যাবে।
৫. ঝাড়ু বা ভ্যাকিউম ব্যবহার
ঝাড়ু দিয়ে ছোট ছোট দৃশ্যমান টুকরোগুলো এক জায়গায় জড়ো করে তুলে ফেলুন। এরপর ভ্যাকিউম ক্লিনার ব্যবহার করতে পারেন, তবে খেয়াল রাখবেন যেন কাঁচের বড় টুকরো মেশিনের পাইপে আটকে না যায়।
ছবি : সংগৃহীত
দেখতে খুব ছোট হলেও সূর্যমুখীর বীজে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফাইবার, অসম্পৃক্ত চর্বি, ভিটামিন-ই, ম্যাগনেশিয়াম এবং সেলেনিয়ামের ভালো উৎস এ বীজ। অর্থাৎ প্রায় ৩০ গ্রাম বা এক মুঠো সূর্যমুখীর বীজে ৫ গ্রাম প্রোটিন, প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার, ভিটামিন-ই, ম্যাগনেশিয়াম ও অসম্পৃক্ত চর্বি পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এটি রাখতে পারেন। পুষ্টিবিদরা বলেন, সূর্যমুখীর বীজে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের সমন্বয় হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
স্বাস্থ্য উপকারিতা
সূর্যমুখীর বীজে থাকা অসম্পৃক্ত চর্বি হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বিশেষ করে স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবারের পরিবর্তে এটি খেতে পারেন। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাই সুষম খাদ্যতালিকায় সূর্যমুখীর বীজ যুক্ত করা যেতে পারে।
সূর্যমুখীর বীজে ভিটামিন-ই, ম্যাগনেশিয়াম, অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ রয়েছে। এগুলো শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন প্রদাহ কমাতে সূর্যমুখীর বীজ খেতে পারেন। এতে থাকা অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন-ই, ম্যাগনেশিয়াম ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।
সূর্যমুখীর বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে ভিটামিন-ই ও সেলেনিয়াম, শরীরে তৈরি হওয়া ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সহায়তা করে। ফ্রি র্যাডিক্যাল কোষের ক্ষতি করতে পারে। তাই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মোকাবিলায় শরীরকে সহায়তা করা সম্ভব।
শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ম্যাগনেশিয়াম প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম অন্যতম। সূর্যমুখীর বীজ ম্যাগনেশিয়ামের দৈনিক চাহিদা পূরণে অবদান রাখে। আবার শরীরে শক্তি তৈরির প্রক্রিয়ায় ম্যাগনেশিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এটি খাবার থেকে পাওয়া পুষ্টি উপাদানকে শক্তিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। অবশ্য সূর্যমুখীর বীজ তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি বাড়িয়ে দেয় না। তবে এতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, ফাইবার ও ম্যাগনেশিয়ামের সমন্বয় এটিকে পুষ্টিকর ও শক্তিসমৃদ্ধ খাবারের অংশ করে তোলে।
কাঁচা নাকি ভাজা, কোনটি বেশি উপকারী?
সূর্যমুখীর বীজের উপকারিতা পেতে কাঁচা খেতেই হবে, তা নয়। কাঁচা কিংবা হালকা ভাজা, দুই ভাবেই এ বীজ খেতে পারেন। তবে বীজ কেনার সময় অতিরিক্ত লবণযুক্ত, অপ্রয়োজনীয় তেল কিংবা অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভযুক্ত কিনা তা দেখে কিনুন।
কফির ত্বকে ব্যবহার
মানসিক চাপ, রোদের তীব্রতা, রাস্তার ধুলাবালি, দূষণের কারণে ত্বক নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে অনেকেই পার্লারে যান। চাইলে বাড়িতেও ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে ত্বকের সজীবতা ফেরাতে পারেন। এক্ষেত্রে কফি হতে পারেন দারুন বিকল্প।
কফি খেলে শুধু শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া যায় তাই নয়, এটি ব্যবহারে ত্বকেরও উপকার হয়। কফি দিয়ে তৈরি স্ক্রাব ও ফেসপ্যাক ব্যবহারে ত্বক হয়ে উঠে উজ্জ্বল। যেমন-
কফি ও মধু
কফির গুঁড়োর সাথে মধু মিশিয়ে মুখে লাগান। কয়েক মিনিট পর ধুফে ফেলুন। এটি ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখে। সেই সঙ্গে ত্বকে সতেজ লুক দেয়।
কফি স্ক্রাব
কফির গুঁড়োর সঙ্গে মধু বা দই মিশিয়ে মুখে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন। এটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বককে নরম ও মসৃণ করতে সাহায্য করে।
কফি-দই প্যাক
কফির গুঁড়োর সঙ্গে দই মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। দইয়ে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে নরম করে। সেই সঙ্গে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
কফি ও অ্যালোভেরা
কফির গুঁড়োর সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে মুখে ব্যবহার করতে পারেন। অ্যালোভেরা ত্বককে ঠান্ডা রেখে ত্বকের আর্দ্রতা জোগায়। এতে ত্বক হয়ে উঠে সতেজ।
কফি আইস কিউব
ব্ল্যাক কফি তৈরি করে ঠান্ডা করে নিন। এরপর এটি আইস কিউব ট্রেতে জমিয়ে নিন। পরে কাপড়ে মুড়িয়ে আলতো করে মুখে ঘষুন। এটি ব্যবহারে ত্বক তাৎক্ষণিক সতেজ হয়।
ছবি : সংগৃহীত
যে হারে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ছে তাতে হিমশিম খাচ্ছেন সবাই। রান্না করা থেকে শুরু করে পানি গরম করা— প্রতিদিনের নানা কাজে গ্যাস সিলিন্ডার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সহজ কিছু কৌশল জানা থাকলে খরচ কমানো সম্ভব। যে সিলিন্ডার গ্যাস দিয়ে হয়তো ২০ দিন যেত তা দিয়ে ২৫ দিন চালানো যাবে। এতে কিছুটা সাশ্রয়ও হবে। যেমন-
ঢেকে রান্না করুন
রান্নার সময় পাত্রে ঢাকনা ব্যবহার করলে গ্যাস সাশ্রয় হতে পারে। ঢাকনা দিলে পাত্রের ভিতরের তাপ সহজে বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে না। এর ফলে খাবার দ্রুত সেদ্ধ বা রান্না হয়। তাতে গ্যাসের খরচও কমতে পারে। পানি ফোটানো থেকে শুরু করে ভাত বা তরকারি রান্নার সময় সম্ভব হলে পাত্র ঢেকে রাখুন।
পাত্রের আকার অনুযায়ী আঁচ
প্রয়োজনের তুলনায় বেশি আঁচ দিলে গ্যাস অপচয় হয়। রান্নার সময় আগুনের শিখা যেন পাত্রের তলার মধ্যেই থাকে এবং চারপাশ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে না আসে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। পাত্রের আকার অনুযায়ী উপযুক্ত বার্নার ও আঁচ ব্যবহার করলে তাপ সরাসরি পাত্রে পৌঁছয়, এতে অপচয় কম হয়।
বার্নার পরিষ্কার রাখুন
বার্নারের ছিদ্রে তেল, মসলা বা খাবারের কণা জমে গেলে আগুন ঠিক করে বেরোতে পারে না। এতে গ্যাসের খরচ বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার করুন এবং ছিদ্রগুলি পরীক্ষা করুন। আগুনের রং বা ধরন দীর্ঘদিন অস্বাভাবিক থাকলে বার্নার পরীক্ষা করানো ভালো।
সব রান্নায় বেশি আঁচ নয়
অনেকেই মনে করেন বেশি আঁচে রান্না করলে দ্রুত খাবার তৈরি হবে। সেই সঙ্গে গ্যাস বাঁচবে। বাস্তবে সব রান্নার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ঠিক নয়। ডাল,সবজির মতো কিছু পদ রান্নার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী মাঝারি বা কম আঁচ ব্যবহার করুন। যখন বেশি আঁচ সত্যিই প্রয়োজন,তখনই শুধু তা ব্যবহার করুন।
একসঙ্গে রান্নার প্রস্তুতি নিন
দিনে বার বার রান্না বা খাবার গরম করার বদলে সম্ভব হলে একসঙ্গে কিছুটা বেশি পরিমাণে রান্না করে রাখতে পারেন। এতে বার বার গ্যাস জ্বালানোর প্রয়োজন কমে। সেই সঙ্গে জ্বালানিও সাশ্রয় হতে পারে।
রান্না প্রায় হয়ে গেলে আঁচ বন্ধ করুন
কিছু খাবার গ্যাস বন্ধ করার পরও পাত্রের অবশিষ্ট তাপে কিছুক্ষণ রান্না হতে থাকে। তাই ভাত বা ধীর আঁচে রান্না হওয়া কিছু পদ প্রায় তৈরি হয়ে গেলে গ্যাস বন্ধ করে ঢেকে রাখুন। তবে খাবার পুরোপুরি সেদ্ধ বা নিরাপদ ভাবে রান্না হয়েছে কি না, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।
গ্যাস লিকেজকে অবহেলা নয়
সিলিন্ডার অস্বাভাবিক দ্রুত শেষ হলে শুধু রান্নার অভ্যাসকেই দায়ী করবেন না। পাইপ, রেগুলেটর বা সংযোগে লিকেজ থাকলেও গ্যাস কমে যেতে পারে। পাইপে ফাটল বা সংযোগে সমস্যা দেখলে প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ানের সাহায্য নিন। গ্যাসের গন্ধ পেলে আগুন, দেশলাই এবং বৈদ্যুতিক সুইচ থেকে দূরে থাকুন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে বিভিন্ন সৌন্দর্যচর্চার কৌশল ও ‘ডিআইওয়াই’ টিপসের বন্যা বয়ে যায়। তবে এসব ঘরোয়া টিপস বা হ্যাকস মুখের ত্বকের জন্য কতটা নিরাপদ, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় মুখের ত্বক অনেক বেশি সংবেদনশীল। বিশেষ করে চোখ ও ঠোঁটের চারপাশের ত্বক আরও অনেক বেশি পাতলা, ভঙ্গুর এবং সংবেদনশীল। তাই মুখে কোন ধরনের পণ্য বা উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ বিভাগ ‘ডক্টর এনডিটিভি’-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রখ্যাত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এবং ‘লুমিয়ার ডার্মাটোলজি’-র মেডিকেল ডিরেক্টর ড. কিরণ লোহিয়া এমন ৯টি উপাদানের কথা তুলে ধরেছেন, যা কখনোই মুখে ব্যবহার করা উচিত নয়। সেই ৯টি উপাদানের ক্ষতিকর দিক ও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:
১. বডি লোশন
শরীরের ত্বকের জন্য তৈরি বডি লোশনগুলো ফেসিয়াল ময়েশ্চারাইজারের তুলনায় বেশ ঘন হয় এবং এতে সুগন্ধির পরিমাণও বেশি থাকে। মুখের ত্বকে বডি লোশন ব্যবহার করলে ত্বকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে ব্রণ বের হতে পারে এবং অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই মুখের জন্য সবসময় সুগন্ধিহীন এবং তেলহীন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।
২. চিনি
শরীরের চামড়ার মরা কোষ দূর করতে চিনির স্ক্রাব চমৎকার এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করলেও মুখের ত্বকে চিনি ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। চিনির কণাগুলোর ধারালো আকৃতি মুখের অতিসংবেদনশীল ত্বককে ছিলে ফেলতে পারে এবং ত্বকে অনুবীক্ষণিক বা মাইক্রোস্কোপিক টিয়ার তৈরি করতে পারে।
৩. পেট্রোলিয়াম জেলি
শুষ্ক ত্বক কিংবা শীতকালে ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং পোকামাকড়ের কামড়ে পেট্রোলিয়াম জেলি কার্যকর ভূমিকা রাখে। কিন্তু ঠোঁটের বাইরের পুরো মুখের ত্বকে এটি ব্যবহার করলে তা আর্দ্রতার পাশাপাশি ধুলোবালি ও ময়লাও ত্বকের ওপর আটকে ফেলে। ফলে ত্বক অতিরিক্ত বাতাস ও আর্দ্রতার সংস্পর্শ থেকে বঞ্চিত হয় এবং সময়ের সাথে সাথে ত্বক আরও বেশি শুষ্ক হয়ে পড়ে।
৪. ফুট ক্রিম
মুখের ময়শ্চারাইজার ফুরিয়ে গেলে কখনোই বিকল্প হিসেবে পায়ে দেওয়ার ফুট ক্রিম মুখে লাগানো যাবে না। ফুট ক্রিমে শক্তিশালী কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট থাকে, যা পায়ের শক্ত ও মোটা চামড়ার জন্য উপযোগী হলেও মুখের কোমল ত্বকের জন্য অত্যন্ত কঠোর ও ক্ষতিকর।
৫. গরম পানি
অনেকের ধারণা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুলে ত্বকের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়, যা একটি ভুল ধারণা। স্টিম নেওয়া উপকারী হতে পারে, তবে সরাসরি গরম পানি দিয়ে মুখ ধুলে তা ত্বকের সবচেয়ে বাইরের স্তরের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা পুরোপুরি কেড়ে নেয়।
৬. লেবুর রস
লেবুর মতো সাইট্রাস জাতীয় ফল ত্বকে তীব্র জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। লেবুতে ‘সোরালেন’ নামক একটি রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা ত্বককে সূর্যের আলোর প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তোলে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ড. কিরণ লোহিয়ার মতে, লেবুর রস মুখে লাগিয়ে রোদে গেলে ত্বকে র্যাশ ও ফোসকা পড়তে পারে এবং ত্বক পুড়ে যেতে পারে।
৭. রসুন
ব্রণ বা মুখের দাগ কমাতে কাঁচা রসুন লাগানোর ভুল অভ্যাস অনেকেরই আছে। ড. কিরণের মতে, মুখে রসুন লাগালে ত্বকে তীব্র ইরিটেশন বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। এর ফলে ত্বকে র্যাশ দেখা দিতে পারে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ইরিট্যান্ট ডার্মাটাইটিস’ নামে পরিচিত।
৮. পারফিউম বা সুগন্ধি
সুগন্ধি স্প্রে করার সময় খেয়াল রাখা উচিত যেন তা কোনোভাবেই মুখে না লাগে। কিছু পারফিউমে এমন কিছু উপাদান থাকে যা সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে ত্বককে অতি-সংবেদনশীল করে তোলে। ড. কিরণ সতর্ক করে বলেন, এর ফলে বিরল চর্মরোগ হতে পারে এবং ত্বকে গাঢ় বেগুনি রঙের দাগ বা পিগমেন্টেশন তৈরি হতে পারে।
৯. টুথপেস্ট
মুখে ব্রণ হলে তাতে টুথপেস্ট লাগিয়ে রাখার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। তবে ড. কিরণ লোহিয়া একে পুরোপুরি নিষিদ্ধ বলেছেন। টুথপেস্ট ব্যবহারের ফলে ব্রণের স্থানে ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে এবং পোড়া দাগ বা বার্ন তৈরি হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
সকালের ঘুম কাটাতে এক কাপ কফি, কাজের ফাঁকে আরেক কাপ এভাবেই অনেকের দিনে ৩-৪ কাপ কফি খাওয়া হয়ে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দিনে কতটা কফি খেলে তা নিরাপদ থাকে? কফির মূল উপাদান ক্যাফেইন অতিরিক্ত পরিমাণে শরীরে গেলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া কিংবা পেটের অস্বস্তির মতো সমস্যা হতে পারে। তাই শুধু কাপ গোনা নয়, দিনে মোট কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
জানুন দিনে কত কাপ কফি নিরাপদ?
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) বলছে, বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে দিনে ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন সাধারণত নেতিবাচক প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত নয়। এফডিএ-এর হিসাবে, এটি প্রায় ২ থেকে ৩ কাপ ১২ আউন্সের (প্রায় ৩৫৫ মিলিলিটার) কফির সমান।
তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সব কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ এক নয়। একই আকারের এক কাপ কফিতেও ব্র্যান্ড, তৈরির পদ্ধতি ও কফির ধরন অনুযায়ী ক্যাফেইনের পরিমাণ যথেষ্ট আলাদা হতে পারে। এফডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ১২ আউন্স সাধারণ তৈরি কফিতে প্রায় ১১৩ থেকে ২৪৭ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে। ফলে বড় কাপ বা বেশি ঘন কফি পান করলে কয়েক কাপেই ৪০০ মিলিগ্রামের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।
বেশি কফি খেলে কী হতে পারে?
ক্যাফেইন একটি স্টিমুলান্ট। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, হাত-পা কাঁপা, মাথাব্যথা, বমিভাব, পেটের অস্বস্তি এবং হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারও ক্ষেত্রে উদ্বেগও বাড়তে পারে। তাই রাতে ঘুমাতে সমস্যা হলে বিকেল বা সন্ধ্যার পর কফি খাওয়ার অভ্যাসটিও বিবেচনা করা দরকার। একই সঙ্গে চা, কোলা, এনার্জি ড্রিংক, চকোলেট এবং কিছু ওষুধেও ক্যাফেইন থাকতে পারে। ফলে শুধু কফির কাপ হিসাব করলেই হবে না সারাদিনে সব উৎস মিলিয়ে মোট ক্যাফেইনের পরিমাণ দেখতে হবে।
সবার জন্য কি ৪০০ মিলিগ্রাম একই?
না। এফডিএ-ও বলছে, ক্যাফেইনের প্রভাব ব্যক্তি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। শরীরের ওজন, কিছু শারীরিক সমস্যা, নিয়মিত খাওয়া ওষুধ এবং ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতার ওপর এর প্রভাব নির্ভর করতে পারে। কারও ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম ক্যাফেইনেও অস্বস্তি হতে পারে। গর্ভাবস্থা, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা বা স্তন্যদানকালীন সময়ে ক্যাফেইন কতটা গ্রহণ করা উচিত, তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা ভালো। একইভাবে হৃদ্স্পন্দন, উচ্চ রক্তচাপ বা ক্যাফেইনে অস্বস্তির মতো সমস্যা থাকলে নিজের জন্য উপযুক্ত সীমা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত।
কফি মানেই ক্ষতিকর নয়
কফিকে সম্পূর্ণ ক্ষতিকর খাবার হিসেবে দেখারও কারণ নেই। এফডিএ-এর মতে, অধিকাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ক্যাফেইন থাকতে পারে। মূল বিষয় হলো পরিমাণ এবং ব্যক্তিগত সহনশীলতা। আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি ডিক্যাফ কফি মানেই পুরোপুরি ক্যাফেইনমুক্ত নয়। এফডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ৮ আউন্স ডিক্যাফ কফিতেও সাধারণত ২ থেকে ১৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে।
তাই সুস্থ অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে ২-৩ কাপ সাধারণ কফি সাধারণত নিরাপদ সীমার মধ্যে থাকতে পারে, তবে কফির আকার ও ক্যাফেইনের ঘনত্ব বিবেচনা করতে হবে। শরীরে অস্বস্তির লক্ষণ দেখা দিলে পরিমাণ কমানোই ভালো। আর ক্যাফেইনযুক্ত পণ্য হিসেবে বিশুদ্ধ বা অতিমাত্রায় ঘন ক্যাফেইন পাউডার বা তরল এড়িয়ে চলা উচিত এগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
ব্যস্ত জীবন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার কারণে বাড়ছে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। সুস্থ থাকতে অনেকেই কঠিন ব্যায়ামের কথা ভাবেন, কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিদিন সকালে কিছুক্ষণ হাঁটা হতে পারে সুস্থ জীবনের সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর অভ্যাসগুলোর একটি। এটি শুধু শরীরকে সক্রিয় করে না, বরং মনকেও সতেজ রাখে এবং দিনের শুরুটা করে আরও প্রাণবন্ত।
হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখে
সকালে নিয়মিত হাঁটলে হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত হয়। হাঁটার ফলে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত গতিতে হাঁটা হৃদস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
ওজন কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাঁটার বিকল্প খুব কম। সকালে খালি পেটে বা হালকা নাশতার পর হাঁটলে শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ হয়। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) বাড়িয়ে দেয়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
মানসিক চাপ কমায়
সকালের নির্মল পরিবেশে হাঁটা মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। হাঁটার সময় শরীরে এন্ডোরফিন ও সেরোটোনিনের মতো ‘ফিল-গুড’ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা উদ্বেগ, মানসিক চাপ এবং বিষণ্ণতার অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়
নিয়মিত হাঁটার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত হাঁটেন তাদের সাধারণ সর্দি-কাশি ও মৌসুমি সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে।
হাড় ও পেশি মজবুত করে
হাঁটা একটি সহজ ও নিরাপদ ব্যায়াম। এটি হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং পেশিকে সক্রিয় রাখে। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় ক্ষয় ও জয়েন্টের সমস্যা কমাতে হাঁটার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
সকালে হাঁটার ফলে শরীর ইনসুলিন আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত হাঁটার গুরুত্ব অনেক।
ঘুমের মান উন্নত করে
যারা অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য সকালে হাঁটা উপকারী হতে পারে। নিয়মিত হাঁটার ফলে শরীরের জৈবঘড়ি বা বডি ক্লক সঠিকভাবে কাজ করে, যা রাতে ভালো ঘুমে সহায়তা করে।
মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়
সকালের হাঁটা মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি করে। ফলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা উন্নত হয়। কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী।
ভিটামিন ডি পাওয়ার সুযোগ
সকালের কোমল রোদ শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি গ্রহণে সাহায্য করে। এই ভিটামিন হাড়ের স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
হাঁটার সময় যেসব বিষয় মনে রাখবেন
আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন। হাঁটার আগে ও পরে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। শুরুতে ধীরে হাঁটুন, পরে গতি বাড়ান। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার চেষ্টা করুন। খুব বেশি গরম বা দূষিত পরিবেশে হাঁটা এড়িয়ে চলুন।
সুস্থ থাকার জন্য সব সময় জিমে যাওয়া বা কঠিন ব্যায়াম করার প্রয়োজন হয় না। প্রতিদিন ভোরে বা সকালে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস শরীর ও মনের জন্য উপকারী। সামান্য এই অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে আপনাকে রাখতে পারে আরও কর্মক্ষম, প্রাণবন্ত ও সুস্থ।